সর্বশেষ

এবার এসএসসি-সমমান পরীক্ষায় ফেল ৬ লাখ ৯০ হাজার শিক্ষার্থী

  চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে পাশ করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ শিক্ষার্থী। আর ফেল করেছে ছয় লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন। জিপিএ পেয়েছে এক লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের চেয়ে এবার পাসের হারও কমেছে।   গত বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাশের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। সেই হিসাবে এবার পাসের হার কমেছে ৬.২ শতাংশ।   প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেন মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে পাশ করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন এবং ফেল করেছে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন।   সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ ফল ঘোষণা করেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ১০, ২০২৬
এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী।   সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান শিক্ষামন্ত্রীর কাছে পরীক্ষার ফল হস্তান্তর করেন।   গত বছর ২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে সারাদেশে গড় পাসের হার ছিল ৬৮.৪৫ শতাংশ এবং মোট জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন শিক্ষার্থী। আগের তুলনায় জিপিএ-৫ এর পরিমান কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬।   এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিতে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছে। এর মধ্যে সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন দাখিল পরীক্ষায় ফরম পূরণ করে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন শিক্ষার্থী।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ১০, ২০২৬
এসএসসির ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬২.২৫

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। আজ সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় একযোগে দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের ফল প্রকাশ করা হয়। এ বছর পাসের হার ৬২.২৫।   শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফলাফল উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।   পরীক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট ও মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল জানতে পারছেন। ফল দেখা যাচ্ছে ‘eduboardresults.gov.bd’ (https://eduboardresults.gov.bd) এবং ‘educationboardresults.gov.bd’ (https://educationboardresults.gov.bd) ওয়েবসাইটে।   এসএমএসের মাধ্যমে এসএসসির ফল জানতে মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে SSC লিখে স্পেস দিয়ে ইংরেজিতে বোর্ডের প্রথম তিন অক্ষর, এরপর স্পেস দিয়ে রোল নম্বর ও পরীক্ষার বছর লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হচ্ছে। উদাহরণ, SSC DHA 123456 2026। এ ছাড়া ১৬২২২ নম্বরেও এসএমএস পাঠিয়ে ফল জানা যাচ্ছে।   মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিল পরীক্ষার্থীরা ‘Dakhil MAD 123456 2026’ লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে ফল জানতে পারছেন। আর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার্থীদের ‘SSC TEC 123456 2026’ লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হচ্ছে।   এবার পরীক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেও ফল সংগ্রহ করতে পারবেন। প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল শিট পেতে শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটের রেজাল্ট কর্নারে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের EIIN নম্বর দিতে হবে।   চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২১ এপ্রিল। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে। আর দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২৪ মে।   এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিতে ১৮ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছিল। এর মধ্যে সাধারণ নয়টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ শিক্ষার্থী।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ১০, ২০২৬
চীনে শক্তিশালী টাইফুন, ঘর ছাড়লেন ১০ লাখের বেশি মানুষ

  শক্তিশালী টাইফুন ডলফিনের আঘাতে চীনের পূর্বাঞ্চলে ১০ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সাংহাইয়ের বাসিন্দারাও রয়েছেন। খবর বিবিসির।   রোববার সন্ধ্যায় ঝেজিয়াং প্রদেশের ইউহুয়ানে আঘাত হানে টাইফুনটি। তখন এর বাতাসের সর্বোচ্চ গতি ছিল ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার। প্রায় এক ঘণ্টা পর ওয়েনঝৌ শহরের কাছেও আঘাত হানে ঝড়টি।   টাইফুনের কারণে পূর্ব চীনের যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। শুধু সাংহাইয়েই প্রায় ১ হাজার ৪০০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।   ঝড়ের কারণে চীনা কর্তৃপক্ষ এর আগে সর্বোচ্চ মাত্রার রেড অ্যালার্ট জারি করেছিল। তবে সোমবার সকালে টাইফুনটি দুর্বল হয়ে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়ে পরিণত হয়।   তবে ঝড়টি এখনো স্থলভাগের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বুধবার পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টি, ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।   সোমবার শানডং, হেনান, হুবেই, আনহুই, জিয়াংসু ও ঝেজিয়াং প্রদেশ এবং সাংহাইয়ে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।   ঝুঁকি এড়াতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ মানুষকে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রও। সাংহাইয়ের ডিজনিল্যান্ড ও লেগোল্যান্ডের কিছু অংশ এবং দ্য বান্ড এলাকার কয়েকটি পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্মও বন্ধ রয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ১০, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধে ৫৫ বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন

  ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের কারণে এখন পর্যন্ত ৫৫টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। খবর শাফাক নিউজের।   সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, ৯ আগস্ট পর্যন্ত দুটি জাহাজ অচল করে দেওয়া হয়েছে এবং আরও দুটি জাহাজে মার্কিন বাহিনী উঠে তল্লাশি চালিয়েছে।   ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ কার্যকর করতে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ২০টিরও বেশি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। এসব জাহাজ বিভিন্ন সামরিক অভিযানের পাশাপাশি অবরোধ কার্যকর করার কাজেও অংশ নিচ্ছে।   তবে এর মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর বদলে অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আপাতত ইরানের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং দেশটির অর্থনৈতিক সংকট ও মূল্যস্ফীতির ওপর নজর রাখছে।   এদিকে হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ওমানের মধ্যে একটি সমঝোতার চেষ্টা চলছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচলে ইরানকে আংশিক নিয়ন্ত্রণ দেওয়ার কথা রয়েছে।   তবে প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ার আগে কয়েকটি শর্ত দিয়েছে ইরান। এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন নৌ অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরানের আশপাশ থেকে মার্কিন বাহিনী সরিয়ে নেওয়া, ইরান ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ করা, জব্দ করা ইরানি অর্থ ছাড় করা এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দেওয়া।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ১০, ২০২৬
গ্রিনল্যান্ডে তেল অনুসন্ধানে গেছে ট্রাম্প-সংশ্লিষ্ট কোম্পানি

  গ্রিনল্যান্ডের পূর্ব উপকূলে সরকারি অনুমতি ছাড়া তেল অনুসন্ধানের সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি তেল কোম্পানিকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে গ্রিনল্যান্ড কর্তৃপক্ষ। খবর আনাদোলু এজেন্সির।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসে তেল অনুসন্ধানের জন্য গ্রিনল্যান্ডের পূর্ব উপকূলে কিছু ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে যায় কোম্পানিটি। তবে এ ধরনের সরঞ্জাম নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন তাদের ছিল না।   গ্রিনল্যান্ডের শিল্প ও খনিজ বিভাগ জানিয়েছে, কোম্পানিটিকে এ বিষয়ে ‘কঠোর সতর্কবার্তা’ দেওয়া হবে। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া সেখানে তেল অনুসন্ধানের জন্য খননকাজ শুরু করা যাবে না।   প্রকল্পটির অর্থায়ন করছে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসভিত্তিক কোম্পানি গ্রিনল্যান্ড এনার্জি। গত বছর প্রতিষ্ঠিত এই কোম্পানির দাবি, গ্রিনল্যান্ডের জেমসন ল্যান্ড এলাকায় মাটির নিচে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অপরিশোধিত তেল থাকতে পারে। অর্থায়নের বিনিময়ে তারা প্রকল্পটির অধিকাংশ মালিকানা নিয়েছে।   তবে সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে কোম্পানিটির সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গ্রিনল্যান্ডের বাসিন্দারা সরঞ্জাম আনার বিষয়টি জানানোর কয়েক দিন পর ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে গ্রিনল্যান্ডের একটি গ্রামে নিজের ছবি যুক্ত করে ‘হ্যালো, গ্রিনল্যান্ড!’ লিখে পোস্ট করেন।   গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ অবশ্য নতুন নয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণে নিতে প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করেননি। তখন তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য দ্বীপটি প্রয়োজন।   পরে ট্রাম্পের বক্তব্যের সুর কিছুটা নরম হলেও তিনি তার প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য গ্রিনল্যান্ডকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন।   ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড। ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই ন্যাটোর সদস্য।   এদিকে গ্রিনল্যান্ড এনার্জির চেয়ারম্যান ল্যারি সুয়েটস স্বীকার করেছেন, কোম্পানির এক প্রতিনিধি স্থানীয় বাসিন্দাদের ভুলভাবে জানিয়েছিলেন যে সরঞ্জাম নিয়ে আসার অনুমতি ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে।   তিনি বলেন, প্রকল্পটি নিয়ে কোম্পানির অতিরিক্ত উৎসাহের কারণে এমন বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল।   তবে কোম্পানিটি জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে এবং তেল অনুসন্ধানের প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার বিষয়ে তারা আশাবাদী।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ১০, ২০২৬
কেপটাউনে পৃথক তিনটি বন্দুক হামলায় নিহত ১১

  দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন মহানগর এলাকায় পৃথক তিনটি বন্দুক হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন। খবর আনাদোলু এজেন্সির।   রোববার দেশটির পুলিশ জানায়, কায়েলিতশা, লাঙ্গা ও গুগুলেথু এলাকায় হামলাগুলো ঘটে। ঘটনাগুলোর তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কায়েলিতশার লিঙ্গেলেথু ওয়েস্ট এলাকায় হামলায় ২৫, ৩১ ও ৩৫ বছর বয়সী তিন ব্যক্তি নিহত হন।   লাঙ্গার কোয়ালাঙ্গা এলাকায় উইনি ম্যান্ডেলা স্ট্রিটে দ্বিতীয় হামলায় চার পুরুষ ও এক নারী নিহত হন।   গুগুলেথুর বার্সেলোনা এলাকায় তৃতীয় হামলায় দুই পুরুষ ও এক নারী নিহত হন। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন।   হামলার কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে পশ্চিম কেপ প্রদেশে গ্যাং সহিংসতা ও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রকে বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে দেখছে পুলিশ।   হামলার পর ঘটনাস্থলসহ কেপটাউনের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।   পশ্চিম কেপ প্রদেশের পুলিশ কমিশনার লেফটেন্যান্ট জেনারেল সিজাকেলে দিয়ান্তি হামলার বিষয়ে তথ্য দিতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে সহায়ক তথ্যের জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেছেন তিনি।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ১০, ২০২৬
দক্ষিণ লেবাননকে নিজেদের অংশ করা মানচিত্র সরাল ইসরায়েল

দক্ষিণ লেবাননের কিছু এলাকা ইসরায়েলের সীমানার মধ্যে দেখানো একটি বিতর্কিত মানচিত্র সরিয়ে নিয়েছে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। খবর শাফাক নিউজের।   রোববার শিশুদের মধ্যে গাজায় তীব্র অপুষ্টির হার নিয়ে একটি পোস্ট প্রকাশের সময় মানচিত্রটি ব্যবহার করা হয়েছিল। এতে দক্ষিণ লেবাননের কিছু অংশকে ইসরায়েলের ভূখণ্ডের মধ্যে দেখানো হয়। বিষয়টি নিয়ে লেবাননে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।   পরে লেবাননের কূটনৈতিক তৎপরতার পর ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইংরেজি ভাষার এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে মানচিত্রটি মুছে ফেলে। তবে ইসরায়েলের আরবি ভাষার অ্যাকাউন্টে মানচিত্রটি রাখা হয়েছে।   এ নিয়ে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।   এর আগে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধের পর গত এপ্রিলে ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছিল, দেশটির সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননের ভেতরে একটি নির্দিষ্ট সামরিক এলাকা তৈরি করেছে। ওই এলাকায় দক্ষিণ লেবাননের ৫৫টি গ্রামের বাসিন্দাদের ফিরে যেতে নিষেধ করা হয়েছিল।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ১০, ২০২৬
গাজা চুক্তি বাস্তবায়নে স্পষ্ট সময়সূচি নির্ধারণের দাবি হামাসের

গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নে স্পষ্ট সময়সূচি নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে হামাস। একই সঙ্গে চুক্তিতে সম্মত ১৫টি শর্ত দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে ফিলিস্তিনি এই গোষ্ঠী।   রোববার এক বিবৃতিতে হামাস জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে হওয়া গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্তগুলো বাস্তবায়নই এখন সবচেয়ে জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, সীমান্ত খুলে দেওয়া, ত্রাণ ও আশ্রয় সামগ্রী প্রবেশের সুযোগ দেওয়া এবং পুনর্গঠন শুরু করা।   চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নের জন্য একটি জাতীয় কমিটি গঠনেরও দাবি জানিয়েছে হামাস। গাজা পরিচালনায় এই কমিটি কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে।   হামাস বলেছে, গাজার মানুষের দুর্ভোগ বন্ধ এবং তাদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় যেকোনো উদ্যোগে তারা ইতিবাচক ও দায়িত্বশীলভাবে অংশ নিতে প্রস্তুত।   তবে যুদ্ধবিরতি চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে হামাসের মতপার্থক্য এখনো রয়ে গেছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এর আগে জানিয়েছেন, হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্র না হওয়া এবং তাদের সামরিক অবকাঠামো ভেঙে না দেওয়া পর্যন্ত গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে না।   ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরও প্রস্তাবিত পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছেন। তিনি গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।   সূত্র: শাফাক নিউজ

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ১০, ২০২৬
কসোভোর সংসদে প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ, ভিডিও ভাইরাল

কসোভোর সংসদে বিরোধী দলের এক আইনপ্রণেতা দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী আলবিন কুর্তিকে লক্ষ্য করে একের পর এক ডিম ছুড়ে মেরেছেন। এ ঘটনার পর অধিবেশন স্থগিত করা হয়।   শনিবার (৮ আগস্ট) সংসদে কুর্তির বক্তব্যের সময় রক্ষণশীল বিরোধী দল অ্যালায়েন্স ফর দ্য ফিউচার অব কসোভোর (এএকে) আইনপ্রণেতা টাইমা কাদরিজাই তাকে উদ্দেশ করে ‘আপনার জন্য লজ্জা!’ বলে চিৎকার করেন। এরপর তিনি কুর্তির দিকে একাধিক ডিম ছুড়ে মারেন।   ঘটনার পর কুর্তি বলেন, সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার মূল্য যদি এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া হয়, তাহলে তিনি সেই মূল্য দিতে প্রস্তুত।       কুর্তির নেতৃত্বাধীন বামপন্থী ভেতেভেনদোসজে (ভিভি) দলও অতীতে সংসদে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য আলোচিত হয়েছে। ২০১৮ সালে দলটির সংসদ সদস্যরা অধিবেশন কক্ষে কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছিলেন। এর আগে ২০১৫ সালেও একাধিকবার একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল।   কসোভোর চলমান রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেই সংসদে এ ঘটনা ঘটল। নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় বিরোধী দলের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন কুর্তি। এ নিয়ে কয়েক দিন ধরে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা চললেও কোনো সমঝোতা হয়নি।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ১০, ২০২৬
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: রয়টার্স
রাশিয়া থেকে ভারত পর্যন্ত রেলপথ! মস্কোর অভিনব প্রস্তাব

সরাসরি রেলপথে এবার ভারতের সঙ্গে জুড়তে চাইছে রাশিয়া। খোদ রাশিয়ার সংবাদ সংস্থা তাসকে এ নিয়ে আশার কথা শুনিয়েছেন রুশ উপ-প্রধানমন্ত্রী মারাত খুশনুলিন। 'তাস'-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে খুশনুলিন বলেছেন, বসফরাস প্রণালি ও হরমুজ প্রণালিতে যাতায়াতের ঝুঁকি কমাতে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত সরাসরি রেল সংযোগ স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা রাশিয়ার জন্য জরুরি। সম্ভাব্য এই করিডোরের বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনা করতে গিয়ে খুশনুলিন বলেন, এই রেলপথ নির্মাণ হলে তা তুর্কমেনিস্তান, ইরান, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে ভারতে পৌঁছবে। ভারতের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনকারী যে কোনও পথকে কার্যকর হিসেবে বিবেচনা করা হবে। প্রস্তাবিত এই নেটওয়ার্ক বাস্তবায়িত হলে রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে সরাসরি স্থলপথে রেল-পণ্য পরিবহনের সুযোগ তৈরি হবে। খুশনুলিন বলেন, “ভারত মহাসাগর পর্যন্ত একটি রেলপথ করা যায় কি না, ভেবে দেখা উচিত। বসফরাস ও হরমুজ প্রণালিতে ঝুঁকির কারণে বিকল্প পথের প্রয়োজন হতে পারে—যেমন তুর্কমেনিস্তান, ইরান, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে যাওয়া পথ। ভারতের সঙ্গে সংযোগ তৈরি হয় এমন যে কোনও বিকল্পই গ্রহণযোগ্য।" ইরান যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন বাড়ায় বাণিজ্য পথের এই বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া। গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতে ইরানে একযোগে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসারায়েল। এর জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ইসরায়েল, বাহরাইন, জর্ডন, ইরাক, কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতেও ইরান অবরোধ ঘোষণা করে। জলপথটি দিয়ে বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের প্রায় ২৫ শতাংশ এবং বিশ্বব্যাপী তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ সম্পন্ন হয়। ব্যস্ততম এই জ্বালানি রুটে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় আটে যায় বহু তেলবাহী জাহাজ। যার বড় ফল ভুগতে হয়েছে ভারতকে। রাশিয়া থেকে তেল আমদানির ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়েছে ভারত ও রাশিয়া দুই দেশই। এবার সেই সমস্যার সমাধানেই ওই বড় বিকল্পের কথা ভাবছে রাশিয়া। সূত্র: এনডিটিভি

মারিয়া রহমান আগস্ট ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সৌদিতে সোফা কারখানায় আগুন, নিহত ১৬ জনই বাংলাদেশি

সৌদি আরবের রিয়াদের শিফা থানাধীন মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঘটনাস্থলে ১৬ জন মারা গেছেন।  স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে বাংলাদেশ দূতাবাস, রিয়াদের কাউন্সেলর (শ্রম) মোহাম্মদ রেজায়ে রাব্বী জানিয়েছেন, মৃত ব্যক্তিদের সবাই বাংলাদেশি। রোববার (৯ আগস্ট) দিবাগত রাতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় মোহাম্মদ রেজায়ে রাব্বীর বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে।  মোহাম্মদ রেজায়ে রাব্বী জানান, রোববার দুপুর আনুমানিক ২টায় রিয়াদের শিফা থানাধীন মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঘটনাস্থলে ১৬ জন মারা গেছেন বলে সেখানে কর্মরত ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন নিহতদের সবাই বাংলাদেশি। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস এখনো উদ্ধারকাজ পরিচালনা করছে। অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়ায় মৃতদেহগুলো শনাক্ত করা দুরূহ হয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস গভীর শোক জানিয়েছে। এছাড়া দূতাবাসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে মৃত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় শনাক্তকরণে স্থানীয় সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন বলে জানা গেছে।  এর আগে, রোববার রাতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এক শোকবার্তায় জানায়, সৌদি আরবের একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। শোকবার্তায় মন্ত্রী বলেন, জীবিকার তাগিদে সুদূর সৌদি আরবে কর্মরত আমাদের এই প্রবাসী ভাইদের এমন অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। দেশের অর্থনীতিতে তাদের অবদান অপরিসীম। তাদের এই আকস্মিক প্রয়াণে আমি গভীর শোকাহত এবং নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি। তিনি জানান, সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে দুর্ঘটনাস্থল ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। নিহত প্রবাসী ভাইদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং তাদের পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী মরহুমদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোকে এই অসীম কষ্ট সহ্য করার শক্তি দানের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেন।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১০, ২০২৬
ফাইল ছবি
এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ আজ

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আজ সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশ করা হবে। সকাল ১০টার পর থেকে মোবাইল ফোনে এসএমএস, শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট এবং নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এই ফলাফল জানতে পারবে শিক্ষার্থীরা। এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ফলাফলের বিস্তারিত তুলে ধরবেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এর মাধ্যমে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রায় সাড়ে ১৮ লাখ শিক্ষার্থীর অপেক্ষার অবসান হচ্ছে। যেকোনো মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ফলাফল জানতে এসএসসি স্পেস বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর স্পেস রোল নম্বর স্পেস পরীক্ষার বছর লিখে ১৬১৪০ অথবা ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফলাফল জানিয়ে দেওয়া হবে। ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১০ আগস্ট সকাল ১০টায় এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬-এর ফলাফল নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে এবং অনলাইনে একযোগে প্রকাশিত হবে। সংশ্লিষ্ট সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ফলাফল সংগ্রহ সংগ্রহ করতে হবে। এ জন্য ওয়েবসাইটের রেজাল্ট কর্নারে ক্লিক করে বোর্ড ও প্রতিষ্ঠানের ইআইআইএনের মাধ্যমে ফলাফল ডাউনলোড করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা মোবাইল ফোনে এসএমএসের পাশাপাশি নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেও ফলাফল সংগ্রহ করতে পারবে। তারা শিক্ষা বোর্ডগুলোর অভিন্ন ওয়েবসাইট বা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে রোল নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে ফলাফল সংগ্রহ করতে পারবে। ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিতে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছে। এর মধ্যে সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন। মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন দাখিল পরীক্ষায় ফরম পূরণ করে তিন লাখ চার হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নেয় এক লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন শিক্ষার্থী। রেওয়াজ অনুযায়ী, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল সাধারণত লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে প্রকাশ করা হয়। এ বছর এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয় ২১ এপ্রিল। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে। আর দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার লিখিত অংশ শেষ হয় ২৪ মে। সেই হিসাবে এ বছর ফলাফল প্রকাশে কিছুদিন বেশি সময় লাগল। যদিও আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে গত ২০ জুলাই ফলাফল প্রকাশের সম্ভাব্য সময় জানানো হয়েছিল; কিন্তু অনিবার্য কারণে সেই সময় ফলাফল প্রকাশ না করে নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১০, ২০২৬
রাজধানীর হাজারীবাগে থানা সংলগ্ন টি জে কর্পোরেশনের একটি ডাইং কারখানায় অভিযান চালিয়ে দুটি অবৈধ গ্যাস সংযোগ শনাক্ত
হাজারীবাগে কারখানার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন, ২ লাখ টাকা জরিমানা

রাজধানীর হাজারীবাগে থানা সংলগ্ন টি জে কর্পোরেশনের একটি ডাইং কারখানায় অভিযান চালিয়ে দুটি অবৈধ গ্যাস সংযোগ শনাক্ত করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। এ সময় প্রতিষ্ঠানটিকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।       রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযান পরিচালনা করেন।      তিতাস কর্তৃপক্ষ জানায়, কারখানাটিতে ৩ টন ধারণক্ষমতার একটি বয়লার এবং ৫০০ কেজি ধারণক্ষমতার আরেকটি বয়লার রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে ১৪টি ড্রায়ার মেশিন। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবহার করে আসছিল। এতে বছরে প্রায় ৪ কোটি টাকার গ্যাস অবৈধভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।       অভিযান চলাকালে প্রায় আড়াই ঘণ্টা তল্লাশি চালিয়ে কারখানাটিতে দুটি অবৈধ গ্যাস সংযোগের লাইন শনাক্ত করা হয়। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিষ্ঠানটিকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করেন।      ধানমন্ডি জোনের তিতাস গ্যাসের ম্যানেজার প্রকৌশলী লুৎফরনেসা লতা বলেন, এর আগেও ২০২০-২১ সালে টি জে কর্পোরেশনে অভিযান চালানো হয়েছিল। সে সময় অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে জরিমানা করা হয়। এরপরও প্রতিষ্ঠানটি অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহার করে আসছিল। এবার প্রায় আড়াই ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে দুটি অবৈধ গ্যাস সংযোগ শনাক্ত করা হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটিকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।     তিনি আরও বলেন, অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে তিতাস গ্যাসের অভিযান ধারাবাহিকভাবে চলবে।     হাজারীবাগ থানার ওসি মোশাররফ হোসেন বলেন, তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের অভিযানে পুলিশ সদস্যরা সার্বিক সহযোগিতা করেছেন। অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে সিসিআরএসবিডির সেমিনার

বিশিষ্টজনেরা বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামকে শুধু একটি প্রশাসনিক অঞ্চল হিসেবে দেখলে হবে না। ইতিহাস, জাতিগত বৈচিত্র্য, সীমান্ত, নিরাপত্তা, উন্নয়ন, প্রাকৃতিক সম্পদ ও ভূরাজনীতির নানা বিষয় এ অঞ্চলকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল এলাকায় পরিণত করেছে।     প্রতিবেশী দেশগুলোর কৌশলগত স্বার্থ, রোহিঙ্গা সংকট এবং বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক ভূরাজনীতিও এর সঙ্গে যুক্ত। রবিবার (৯ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম : ইতিহাস, পরিচয় রাজনীতি, রাষ্ট্রের সাংবিধানিক অবস্থান ও বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে চট্টগ্রাম সেন্টার ফর রিজিয়নাল স্টাডিজ, বাংলাদেশ (সিসিআরএসবিডি)। দুপুর ১২টায় শুরু হওয়া সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী চৌধুরী।     প্রভাষক আবদুল্লাহ আল মামুনের সঞ্চালনায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিসিআরএসবিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. মাহফুজ পারভেজ। মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক ড. মাহফুজ পারভেজ বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিচ্ছিন্নভাবে বোঝার সুযোগ নেই। মিয়ানমারের রাখাইন সংকট, রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুতি, চীন-ভারত প্রতিযোগিতা, বঙ্গোপসাগরের ভূরাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক এনজিওগুলোর কর্মকাণ্ড—সবকিছু মিলিয়ে এ অঞ্চল দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সংবেদনশীল ভূরাজনৈতিক এলাকায় পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে আন্তঃগোষ্ঠী সংঘাত, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র, সীমান্তপাড়ের যোগাযোগ, মাদক ও মানবপাচারের মতো নানা সমস্যা রয়েছে।   এর সঙ্গে তথ্যযুদ্ধ, বিদেশি প্রভাব ও করিডর রাজনীতির মতো বিষয়ও যুক্ত হয়েছে। সেমিনারে প্যানেল আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ওসমানী সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের গবেষণা পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) স. ম. মাহবুব-উল-আলম, খাগড়াছড়ির কমিউনিটি লিডার কুমার সুই চিং প্রু সাইন, সাংবাদিক ও গবেষক মেহেদী হাসান পলাশ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম ও রোহিঙ্গা বিশেষজ্ঞ নাজমুল ইসলাম চৌধুরী।     বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস, পরিচয় রাজনীতি, সাংবিধানিক অবস্থান ও বর্তমান বাস্তবতা নিয়ে আলোচনা করেন। একই সঙ্গে অঞ্চলটির নিরাপত্তা, উন্নয়ন, সামাজিক সম্প্রীতি এবং বিদ্যমান সংকট মোকাবেলায় রাষ্ট্রীয় নীতি ও কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১০, ২০২৬
হাসান মাসুদ। ছবি: সংগৃহীত
১২০০ বই বিক্রি ও হজ পালন: নিজের পরিবর্তন জানালেন হাসান মাসুদ

বাংলা নাটক ও চলচ্চিত্রের একসময়ের দর্শকপ্রিয় অভিনেতা, পরিচালক ও লেখক হাসান মাসুদ। এখন মাঝেমধ্যে বিজ্ঞাপনে দেখা গেলেও অভিনয়ে তাকে দেখা যায় না বললেই চলে। ক্যারিয়ারে অসংখ্য স্মরণীয় কাজ উপহার দেওয়া এই অভিনেতা কেন নিজেকে অভিনয় থেকে গুটিয়ে নিয়েছেন? সম্প্রতি নিজেই বিষয়টি খোলাসা করেছেন।       সম্প্রতি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের বর্তমান জীবনযাপন ও অভিনয় থেকে দূরে থাকার কারণ নিয়ে কথা বলেছেন মাসুদ। কেন অভিনয় থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন এবং বর্তমানে কী করছেন- সম্প্রতি গণমাধ্যমের মুখোমুখি কথাগুলো জানিয়েছেন তিনি।      এক সাক্ষাৎকারে হাসান মাসুদ বলেন, ‘আমি নিজেকে আসলে একটু গুটিয়ে নিয়েছি। আমি এখন আর অভিনয় করি না। একটা পরিবর্তন এসেছে আমার জীবনে। সেই কারণেই এখন শুধুমাত্র বিজ্ঞাপনের কাজ পেলে করি, না হলে করি না। একটু ভাববাদী হয়ে গিয়েছি। মানে ধার্মিক হয়ে গিয়েছি।’      তিনি নিজের সাম্প্রতিক ধর্মীয় জীবনের প্রসঙ্গ টেনে আরও বলেন, ‘আমি এবার হজ করেছি। যে কারণে ৪১ দিন ছিলাম ওখানে-মক্কা-মদিনায়। তবে আসলে আমার পরিবর্তনটা এসেছে আরও আগে থেকে। এখন পুরোপুরিই আমি পরিবর্তিত, সেটা বলতে পারেন।’      পাশাপাশি বই পড়ার অভ্যাসেও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে বলে জানান একসময়ের জনপ্রিয় এ অভিনেতা। একটা সময় প্রচুর বই পড়লেও এখন আর বই পড়েন না তিনি।      কেন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সে প্রসঙ্গে হাসান মাসুদ বলেন, ‘আসলে বই পড়ার অধ্যায়টা আমার অনেক আগে শেষ হয়ে গেছে। আমি এত বেশি পড়েছি, এত বেশি পড়েছি যে শেষের দিকে আমি যন্ত্রের মতো হয়ে গিয়েছিলাম। আমার ভেতরে কোনো ভাবাবেগ কাজ করত না। আমার সামনে যদি একটা ট্রাকে চাপা পড়ে একজন মারা যেত, তখন আমি ভাবতাম-লোকটার ভুলেই তো লোকটা মারা গেছে। এরকম যন্ত্রের মতো হয়ে গিয়েছিলাম। কোনো সেন্টিমেন্ট আমার ভেতরে কাজ করত না।’      পরবর্তীতে নিজের সংগ্রহে থাকা প্রায় ১২০০ বই বিক্রি করে দেন জানিয়ে হাসান মাসুদ বলেন, ‘এরপর আমি প্রায় ১২০০ বই নীলক্ষেতে বিক্রি করে দিয়েছি, একেবারে পানির দামে। এরপর থেকে আমি আর বই পড়ি না।’      উল্লেখ্য, ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ক্যাডেট হিসেবে যোগ দেন হাসান মাসুদ। সাত বছর পর ১৯৯২ সালে ক্যাপ্টেন পদে অবসর নেন তিনি। এরপর সাংবাদিকতায় যুক্ত হন। ‘দ্য নিউ নেশন’-এ কাজ করার পর ১৯৯৫ সালে ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এ ক্রীড়া প্রতিবেদক হিসেবে যোগ দেন। ২০০৪ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বিবিসি বাংলার সংবাদদাতা হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।     মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘ব্যাচেলর’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ২০০৩ সালে অভিনয়ে অভিষেক হয় হাসান মাসুদের। সিনেমাটির ‘আজকে না হয় ভালোবাসো’ গানেও কণ্ঠ দেন তিনি। ২০০৬ সালের ভালোবাসা দিবসে প্রকাশিত হয় তার প্রথম গানের অ্যালবাম ‘হৃদয়ঘটিত’।      এ ছাড়াও ‘মেড ইন বাংলাদেশ’সহ বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র ও অসংখ্য নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। ‘হাউসফুল’, ‘ট্যাক্সি ড্রাইভার’, ‘এফডিসি’, ‘বউ’, ‘খুনসুটি’, ‘গ্র্যাজুয়েট’, ‘রঙের দুনিয়া’, ‘আমাদের সংসার’, ‘গণি সাহেবের শেষ কিছুদিন’ ও ‘বাতাসের ঘর’সহ বেশ কিছু নাটকে তার অভিনয় তুমুল দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে। 

মারিয়া রহমান আগস্ট ১০, ২০২৬
সড়ক দুর্ঘটনায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ করেন সহপাঠীরা
সড়ক দুর্ঘটনায় ববি শিক্ষার্থীর মৃত্যু, বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ

বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও তিন চাকার যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। রোববার (৯ আগস্ট) রাত পৌনে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের মহাসড়ক দ্বিতীয় দফায় তারা সড়ক অবরোধ শুরু করেন।     নিহত শিক্ষার্থীর নাম ইয়াসির আরাফাত। তিনি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মামুন আর রশিদ আরাফাতের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।     জানা গেছে, রোববার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন দপদপিয়া সেতুর ওপর যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে এক তিন চাকার যানের সংঘর্ষে ইয়াসির আরাফাতসহ ৬ জন গুরুতর আহত হন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় নেওয়ার পথে রাতে ইয়াসির আরাফাতের মৃত্যু হয়।     দুর্ঘটনার পর রাত আটটায় শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের মহাসড়ক অবরোধ করে চার দফা দাবি জানান। উপাচার্যের আশ্বাসে সাময়িক প্রত্যাহার করা হলেও মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত পৌনে ১১টায় পুনরায় বরিশাল-পটুয়াখালী ও বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে অবরোধ শুরু করেন। এতে সড়কের দুই পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়ে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও শ্রমিকরা।     আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রোববার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়–সংলগ্ন দপদপিয়া সেতুর ওপর যাত্রীবাহী বাস ও একটি তিন চাকার যানের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে একজন নিহত ও পাঁচজন আহত হন। এ ঘটনার পর চার দফা দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।     আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দাবি জানান। এগুলোর মধ্যে রয়েছে দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের মহাসড়কে পিচঢালাই করতে হবে, বিশেষ করে দপদপিয়া সেতুর সড়ক সংস্কার করতে হবে; বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই পাশে দ্রুত ফুটপাত নির্মাণ করতে হবে; বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রূপাতলী পর্যন্ত সার্বক্ষণিক বাস সার্ভিস চালু করতে হবে।     আন্দোলনরত শিক্ষার্থী মো. রাজিব বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের মহাসড়ক বেহাল। বিভিন্ন মাধ্যমে সড়ক সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। এরই কারণে আজ সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। আমরা যে চারটি দাবি জানিয়েছি, সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। না হলে আমাদের আন্দোলন চলতে থাকবে।’       এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মামুন আর রশিদ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেন। এ বিষয়ে উপাচার্য বলেন, শিক্ষার্থীদের সব দাবি শোনা হয়েছে। পাশাপাশি রূপাতলী থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১০, ২০২৬
হরমুজ প্রণালি। ছবি: সংগৃহীত
যে কোনো মূল্যে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ রাখার ঘোষণা ইরানের

ইরান হরমুজ প্রণালি থেকে পিছিয়ে যাবে না প্রয়োজনে যে কোনো মূল্যে গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক রুটটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার কথা জানিয়েছেন দেশটির সাবেক প্রধান বিচারপতি আয়াতুল্লাহ আমোলি লারিজানি।     রোববার (৯ আগস্ট) বার্তাসংস্থা আইআরআইবি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, সাবেক প্রধান বিচারপতি বলেছেন, ইরান যেকোনো মূল্যে গুরুত্বপূর্ণ এ সামুদ্রিক রুটটির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রাখবেন।     আয়াতুল্লাহ আমোলি লারিজানি বর্তমানে ইরানের ‘এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিল’-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এটি সুপিম লিডারের কর্তৃক সরাসরি গঠিত একটি সংস্থা। যা গুরুত্বপূর্ণ বিরোধ নিষ্পত্তি ও পরামর্শক হিসেবে কাজ করে।       গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরায়েল। এর সঙ্গে সঙ্গেই হরমুজে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয় তেহরান। যা এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক হয়নি।     এরমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরে নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে। এতে করে হরমুজ দিয়ে ইরানে যাওয়া-আসা করা কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারছে না।     হরমুজে ইরানের নিয়ন্ত্রণ মেনে নেওয়া ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কোনো পথ নেই     হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ মেনে নেওয়া ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দ্বিতীয় কোনো পথ নেই বলে জানিয়েছেন ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আমির আকরামিনিয়া। তিনি বলেছেন, ইরান হরমুজে নতুন যে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে এটি অপরিবর্তনযোগ্য। যদিও যুক্তরাষ্ট্র এটি পরিবর্তন করতে চায়। কিন্তু এতে কাজ হবে না।     তিনি সতর্কতা দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি এ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কিছু করার চেষ্টা করে তাহলে বর্তমানে যে ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে সেটি আরও বাড়বে।     হুমকির সুরে এ সেনা কর্মকর্তা বলেছেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি মেনে নেওয়া ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সামনে আর কোনো উপায় নেই; অন্যথায় অতীতে তারা যে ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছিল, এবার মূল্য চুকাতে হবে তার চেয়েও অনেক বেশি।’   সূত্র: আল-জাজিরা  

মারিয়া রহমান আগস্ট ১০, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
‘গুপ্তবাহিনী’ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

অতীতের মতো আবারও ‘গুপ্তবাহিনী’ বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে এবং জনগণের কাছে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   রোববার (৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের হাটহাজারী কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।     প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ দেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নের জন্য কোনো দল রাজনীতি করে থাকলে সেই দলটির নাম বিএনপি। কিন্তু কিছু সংখ্যক রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তি ছড়িয়ে এই উন্নয়নকর্মে বাধা দেয়ার চেষ্টা করছে।     তিনি বলেন, যারা রাজপথ বন্ধ করতে চায়, মানুষকে বিভ্রান্ত করতে যায়, তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া যায়, তা নির্ধারণ করবে দেশের জনগণ।     প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মানুষের ভাগ্য নিয়ে আর ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া যাবে না। দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে।     উন্নয়নের জন্য চট্টগ্রামে যা যা প্রয়োজন, পর্যায়ক্রমে তা বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান তারেক রহমান।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
শাহজালাল বিমানবন্দরে অভিযান: ৫৫ লাখ টাকার পণ্য আটক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক অভিযান চালিয়ে ৯৯ গ্রাম স্বর্ণালংকার, ১৮১ কার্টন সিগারেট, ১১৩ কেজি গৌরি ক্রিম ও পাঁচটি মোবাইল ফোন জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) সি-শিফট।       রোববার (৯ আগস্ট) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানবন্দরে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। জব্দ করা পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ৫৫ লাখ ৭৪ হাজার ৫০০ টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।       সিআইআইডি সূত্রে জানা যায়, দুবাই থেকে আসা এমিরেটসের ইকে-০৫৮২ ফ্লাইটের যাত্রী মেহেদী হাসানের ব্যাগেজ তল্লাশি করে ১৪৯ কার্টন সিগারেট ও ৪০ কেজি গৌরি ক্রিম উদ্ধার করা হয়।     একই ফ্লাইটের অপর যাত্রী মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুমের ব্যাগেজ তল্লাশি করে ৯৯ গ্রাম স্বর্ণালংকার, ১০ কার্টন সিগারেট ও ৩ কেজি গৌরি ক্রিম পাওয়া যায়।       অন্যদিকে, দিল্লি থেকে আসা এয়ার ইন্ডিয়ার এআই-২৩৭ ফ্লাইটের যাত্রী মোহাম্মদ নওয়াজ শরীফের ব্যাগেজ তল্লাশি করে ৭০ কেজি গৌরি ক্রিম ও চারটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়।       সব মিলিয়ে সিআইআইডির সি-শিফটের অভিযানে ৯৯ গ্রাম স্বর্ণালংকার, ১৮১ কার্টন সিগারেট, ১১৩ কেজি গৌরি ক্রিম এবং পাঁচটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। এসব পণ্যের সম্মিলিত আনুমানিক বাজারমূল্য ৫৫ লাখ ৭৪ হাজার ৫০০ টাকা।       সিআইআইডি জানায়, বিমানবন্দরকেন্দ্রিক চোরাচালান প্রতিরোধে ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে এসব পণ্য জব্দ করা হয়েছে। গোপন তথ্য সংগ্রহ, যাত্রী প্রোফাইলিং ও নিবিড় নজরদারির মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ ফ্লাইট ও যাত্রী শনাক্ত করে চোরাচালান প্রতিরোধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১০, ২০২৬
গ্রিসের একটি বনাঞ্চল। ছবি: সংগৃহীত
গ্রিসে তীব্র তাপপ্রবাহ, দেশজুড়ে দাবানলের চরম ঝুঁকি

চলমান তাপপ্রবাহের মধ্যে গ্রিসের বিভিন্ন অঞ্চলে দাবানলের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় সোমবারের জন্য ‘অতি উচ্চ’ সতর্কতা জারি করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।       রোববার গ্রিসের জলবায়ু সংকট ও নাগরিক সুরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, অ্যাটিকা, পেলোপনিসের কিছু অংশ, এজিয়ান দ্বীপপুঞ্জ এবং ক্রিটে দাবানলের ঝুঁকি ‘লেভেল ৪’ বা ‘অতি উচ্চ’ পর্যায়ে রয়েছে। এটি সর্বোচ্চ ‘লাল’ জরুরি অবস্থার এক ধাপ নিচের সতর্কতা। খবর আনাদোলু এজেন্সির।       দাবানল সৃষ্টি করতে পারে এমন যেকোনো কর্মকাণ্ড থেকে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে শুকনো ঘাস, ডালপালা বা অন্যান্য বর্জ্য পোড়ানো থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।     এদিকে রোববার অ্যাটিকার কোরোপি এলাকায় একটি দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের পাশাপাশি বিমান ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। চলমান তাপপ্রবাহের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা।     দাবানল প্রতিরোধের বর্তমান মৌসুমে খোলা জায়গায় জমি বা ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বলেও জনগণকে মনে করিয়ে দিয়েছে মন্ত্রণালয়।       ন্যাশনাল অবজারভেটরি অব অ্যাথেন্সের তথ্য অনুযায়ী, তাপপ্রবাহের মধ্যে ৩১ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত গ্রিসের অ্যাটিকা অঞ্চলে দাবানলে ১ লাখ ১০ হাজার একরের বেশি, অর্থাৎ প্রায় ৪৪ হাজার ৫০০ হেক্টর জমি পুড়ে গেছে।       ইউরোপজুড়ে চলমান তাপপ্রবাহের মধ্যেই গ্রিসসহ বিভিন্ন দেশে দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে মহাদেশজুড়ে দাবানলে প্রায় ১২ লাখ ৩৭ হাজার ৬৪৫ একর বা ৫ লাখ ৮৫২ হেক্টর জমি পুড়ে গেছে।       ইউরোপিয়ান ফরেস্ট ফায়ার্স ইনফরমেশন সিস্টেমের তথ্য বলছে, ৬ আগস্ট পর্যন্ত চলতি বছরে ইউরোপজুড়ে মোট ১ হাজার ৫২৮টি দাবানল শনাক্ত হয়েছে।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

মারিয়া রহমান আগস্ট ১০, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সপ্তাহের সেরা

আন্তর্জাতিক

যুদ্ধ ও রাজনৈতিক সংকটে বাড়ছে ইসরায়েলিদের দেশত্যাগ

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৪, ২০২৬