সর্বশেষ

মোসাদ প্রধানের পূর্বাভাস নিয়ে ইসরাইলে তোলপাড়

ইরানে হামলার বিষয়ে মূল্যায়ন জানতে ইসরাইলি মন্ত্রিসভা মোসাদের কাছে জানতে চেয়েছিল। সংস্থাটির প্রধান ডেভিড বার্নিয়া যুদ্ধের আগে একটি পূর্বাভাসে বলেছিলেন, ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন হতে সম্ভবত এক বছর সময় লাগবে। তবে কয়েক মাসের মতো বিকল্প সময়সীমার কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল। এক বছরই ছিল সবচেয়ে সম্ভাব্য প্রাক্কলন।   সাম্প্রতিক দিনগুলোতে নামহীন কিছু সূত্র বার্নিয়ার বিরুদ্ধে পরোক্ষ আক্রমণ চালাচ্ছে। তারা অভিযোগ তুলছেন, তিনি ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের সম্ভাব্যতা নিয়ে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় সরকারকে বিভ্রান্ত করেছেন। এই বেনামী তথ্য ফাঁসের ঘটনাগুলো বার্নিয়ার জটিল অবস্থানকে আড়াল করছে বলে জানা গেছে। শাসনব্যবস্থা পতনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার ক্রমবর্ধমান সম্ভাবনার দায় বার্নিয়া এবং মোসাদের ওপর চাপিয়ে তাদের কলঙ্কিত করার উদ্দেশ্যেই এটি করা হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। চ্যানেল ১২-এর 'উভদা' রিপোর্ট এবং নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনের পেছনে থাকা সূত্রগুলো প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠজনদের মধ্য থেকে হতে পারে। দায় এড়াতে কেউ কেউ ইসরাইলি সামরিক বাহিনীরও হতে পারে। এই তিনটি কার্যালয়ই এখন প্রতিদিন একই প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছে—কেন তারা ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু করতে এখনও সফল হননি।   বার্নিয়ার সতর্কতামূলক পূর্বাভাস প্রকৃতপক্ষে, গত কয়েক বছরের যুদ্ধে বার্নিয়া এবং তার নেওয়া প্রধান সিদ্ধান্তগুলো সম্পর্কে অবগতরা জানেন, তিনি সবসময়ই অনেক শর্ত জুড়ে দিয়ে পূর্বাভাস দেন। আমূল পরিবর্তনকারী কোনো ঘটনা অনিবার্য—এমন কথা তিনি খুব কমই বলেন। বার্নিয়া সৃজনশীল চিন্তাবিদ হলেও প্রতিষ্ঠানের অনুগত ব্যক্তি। তিনি নেতানিয়াহুর নির্দেশ অনুযায়ী নীতি তৈরি করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে বেশি আক্রমণাত্মক যুদ্ধের পথে তাকে ঠেলে দেন না। জানুয়ারির মাঝামাঝি যুক্তরাষ্ট্রে বার্নিয়ার বহুল আলোচিত সফরের সময় বা অন্যান্য আলোচনায় ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে তিনি যা উপস্থাপন করেছিলেন, তাও ছিল নেতানিয়াহুর কঠোর নিয়ন্ত্রণে। এটি বার্নিয়ার কোনো স্বতন্ত্র অভিযান ছিল না।   বার্নিয়ার মেয়াদের আগের বছরগুলোতে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ছিল যখন নেতানিয়াহু চেয়েছিলেন মোসাদ কোনো একটি অভিযান পরিচালনা করুক, কিন্তু বার্নিয়া অনুমোদনের চাপ থাকা সত্ত্বেও ব্যাখ্যা করেছিলেন যে সেটি ছিল অবাস্তব। 'উভদা' রিপোর্টে যুদ্ধের প্রাক্কালে বার্নিয়া নেতানিয়াহুর সামনে ইরানি শাসনব্যবস্থা পতনের সম্ভাবনার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করা হলেও, নিবন্ধটির পরের দিকে বার্নিয়া এই পূর্বাভাসের সঙ্গে যেসব শর্ত জুড়ে দিয়েছিলেন তার বিস্তারিত উল্লেখ ছিল। প্রতিবেদনে অস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, মোসাদ প্রধানের তৎকালীন উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং এটি সম্পন্ন হতে সম্ভাব্য সময়কাল নিয়ে কিছু দ্বিধা ছিল। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, বার্নিয়া নেতানিয়াহুকে বলেছিলেন যুদ্ধ শুরুর কয়েক দিনের মধ্যেই তার সংস্থা সম্ভবত ইরানি বিরোধী দলকে চাঙ্গা করতে সক্ষম হবে। দাঙ্গা ও বিদ্রোহের অন্যান্য কর্মকাণ্ড উসকে দিয়ে এমনকি ইরান সরকারের পতনও ঘটাতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই গোয়েন্দা প্রধান গত জানুয়ারির মাঝামাঝি ট্রাম্প প্রশাসনের কাছেও একই প্রস্তাব পেশ করেছিলেন। প্রতিবেদনে ইরান যুদ্ধের ক্ষেত্রে অতিমাত্রায় আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করার জন্য নেতানিয়াহু এবং ট্রাম্পকে দায়ী করা হয়েছে, যা মার্কিন কর্মকর্তা ও ইসরাইলি অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের পূর্বাভাসের বিপরীতে গিয়ে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের পথে পরিচালিত করেছে। এরপর প্রতিবেদনে নেতানিয়াহুকে এমনভাবে চিত্রিত করা হয়েছে যে, তিনি যুদ্ধের শুরুর দিনগুলোতে মোসাদ শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনে ব্যর্থ হওয়ায় ধৈর্য হারিয়ে ফেলছিলেন, যার ফলে ট্রাম্পের সমর্থন হারানোর ঝুঁকি তৈরি হচ্ছিল। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বেনামী সূত্রগুলোর আক্রমণ সত্ত্বেও বলা প্রয়োজন যে, এর কোনো প্রমাণ নেই যে মোসাদ আইডিএফের জনসমক্ষে দেওয়া বক্তব্যের বাইরে ভিন্ন কোনো মত প্রকাশ করেছিল। আইডিএফের অবস্থান ছিল—সামরিক শক্তি বড়জোর যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের প্রক্রিয়ার জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। প্রতিবেদনে মোসাদের পরিকল্পনার একটি উপাদান হিসেবে উত্তর ইরাকে অবস্থিত ইরানি কুর্দি মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর আক্রমণকে সমর্থন দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যাইহোক, ট্রাম্প নিজে এ ধরনের পদক্ষেপের বিষয়ে জনসমক্ষে অনীহা প্রকাশ করেছেন, যদিও প্রতিবেদনগুলো দাবি করছে বার্নিয়া তাকে এটি করতে রাজি করিয়েছিলেন। জানুয়ারির মাঝামাঝি বার্নিয়ার মার্কিন সফর কতটা প্রভাবশালী ছিল তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। সুযোগ ও ঝুঁকির তুলনামূলক সূক্ষ্ম উপস্থাপনার ক্ষেত্রে বার্নিয়া বেশ প্রভাবশালী ছিলেন কিনা তা সম্ভবত। কিন্তু প্রায় এক মাস পর ১১ ফেব্রুয়ারি নেতানিয়াহুর জরুরি ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র সফর এবং যুদ্ধ শুরুর মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগ পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে ট্রাম্পের আলোচনা অব্যাহত রাখার বিষয়টি বিবেচনা করলে এটি দাবি করা কঠিন যে, জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই বার্নিয়া পুরো এজেন্ডা নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন।   আক্রমণাত্মক মেজাজ নিয়ন্ত্রণের ইতিহাস ইরানের ব্যাপারে বার্নিয়ার নিজের আক্রমণাত্মক মেজাজকে ধৈর্যের সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করার একটি দীর্ঘ ইতিহাসও রয়েছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে নেতানিয়াহুর বর্তমান মেয়াদের আগে বার্নিয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের অধীনে কাজ করেছিলেন। এই দুই কর্মকর্তা দীর্ঘ সময় ধরে ইসলামি শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানোর জন্য 'ডেথ বাই অ্যা থাউজেন্ড কাটস' নামক একটি কৌশল যৌথভাবে প্রণয়ন করেছিলেন। জানুয়ারির শুরুতে ইরানের রিয়াল মুদ্রার ধস, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং দেশব্যাপী পানি সরবরাহের সংকট নিয়ে বিক্ষোভ চরম আকার ধারণ করলে মোসাদের নামে কিছু টুইটার বিবৃতি দেওয়া হয়েছিল। পানি সরবরাহ প্রসঙ্গে ২০২২ সালে প্রকাশিত 'টার্গেট তেহরান' বইয়ে এক সাক্ষাৎকারে নাফতালি বেনেট বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তার নেওয়া একটি ব্যাপক নীতি পর্যালোচনায় তিনি দেখেন যে, ইরানি শাসনব্যবস্থা বর্তমানে চরম দুর্নীতিগ্রস্ত এবং বেশ অযোগ্য। দেশের বিশাল এলাকায় পানি পৌঁছায় না। কল ছাড়লে কাদা বের হয়। সব জায়গায় বিক্ষোভ হচ্ছে এবং মানুষ আইআরজিসির ওপর অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। বেনেট মনে করতেন শাসনব্যবস্থার এই দুর্বলতার সুযোগ নেওয়ার অবকাশ রয়েছে। একটি বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি বার্নিয়াকে এই বলে প্রভাবিত করেছিলেন যে, সংস্থাটিকে আরও আক্রমণাত্মক হওয়ার ক্ষেত্রে আরও সৃজনশীল হতে হবে। বেনেট তার নতুন দপ্তরে নিজের ছাপ রাখতে চেয়েছিলেন এবং বার্নিয়ার আক্রমণাত্মক সহজাত প্রবৃত্তিকে উৎসাহিত করতেন। সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের স্নায়ুযুদ্ধের কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেনেট প্রথাগত সামরিক সংঘাতের বাইরে গিয়ে 'সহস্র ক্ষত দিয়ে মৃত্যু' কৌশলে ইরান সরকারের পতন ঘটানোর বিষয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। একটি সমান্তরাল বর্ণনা অনুযায়ী, এই প্রবৃত্তিগুলো শুধু বিকশিতই ছিল না, বরং বার্নিয়াই বেনেটকে আরও সাহসী হতে এবং ইরানের সঙ্গে 'খেলার নিয়ম' ইসরাইলের অনুকূলে বদলে দেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছিলেন। প্রকৃতপক্ষে, বার্নিয়া বেনেটকে পিটার শোয়াইজার-এর লেখা 'ভিক্টরি: দ্য রিগান অ্যাডমিনিস্ট্রেশনস সিক্রেট স্ট্র্যাটেজি দ্যাট হাসেন্ড দ্য কোলাপস অব দ্য সোভিয়েট ইউনিয়ন' বইটি উপহার দিয়েছিলেন। এতে একটি স্বৈরাচারী শাসনের সহজাত দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ঘটানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ডিজাইন করা ডজনখানেক অ-সামরিক কৌশলের বর্ণনা ছিল।   গুরুত্বপূর্ণভাবে, কোনো প্রতিবেদনে ৮-৯ জানুয়ারি নির্যাতিত হওয়া ১০ লাখ ইরানি বিক্ষোভকারীকে রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ব্যর্থতার প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়নি, যেখানে ৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছিলেন। এছাড়া ১৪ জানুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্টের 'সহায়তা আসছে' টুইটের কাছাকাছি সময়ে ট্রাম্পকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু না করার জন্য নেতানিয়াহুর করা কথিত ফোনালাপের বিষয়টিও কোনো প্রতিবেদনে উঠে আসেনি। তবে সংবাদটি প্রকাশের সময় পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা মোসাদ কেউই এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

আবরার আল মামুন সাহাফ মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
যুক্তরাষ্ট্রে ভরসা নেই, ইরানের কাছেই নিরাপত্তা চাইল মার্কিন মিত্র

ইসরাইলের সঙ্গে মিলে ইরানে আগ্রাসন চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলা শুরু করার পর সাধ্য অনুযায়ী সমুচিত জবাব দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্ব জ্বালানি করিডোর হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় তেহরান। এতে টালমাটাল হয়ে যায় তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের বাজার।   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন মিত্র দেশের কাছে যুদ্ধজাহাজ চেয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প, যেন হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা যায়। তার ডাকে সাড়া দেয়নি কেউ। পরে তিনি নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ওই সমুদ্রপথ দিয়ে জ্বালানিবাহী জাহাজ চালানোর আহ্বান জানান, তাতেও কেউ আস্থা রাখতে পারছে না। উলটো ইরানের সঙ্গে আলোচনা করে বিভিন্ন দেশ নিজ নিজ জ্বালানি সংকট মেটানোর চেষ্টা করছে। এবার এই কাতারে যুক্ত হলো আরেক মার্কিন মিত্র দক্ষিণ কোরিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের এই বন্ধু যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ভরসা করতে না পেরে হরমুজে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তেহরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।   দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন ইরানকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়েছেন। ক্রমবর্ধমান এই সংঘাতের কারণে অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় তিনি এ আহ্বান জানান। ইরান ও মার্কিন-ইসরাইলি বাহিনীর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ এবং গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথে ক্রমাগত বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় এশীয় শেয়ারবাজারে ধস নেমেছে। এরই মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার মুদ্রা 'ওন'-এর মান গত ১৭ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে, যার প্রেক্ষাপটে এ কূটনীতিক এমন মন্তব্য করেন।

আবরার আল মামুন সাহাফ মার্চ ২৩, ২০২৬ 0
ইরানে আগ্রাসন নিয়ে নতুন সতর্কতা চীনের

ইরানে ২৪ দিন ধরে আগ্রাসন চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। এর মধ্যে বিশ্বস্ত বন্ধু তেহরানের প্রতি বেশ কয়েকবার সহযোগিতার বার্তা দিয়েছে বেইজিং। একের পর এক দিয়ে যাচ্ছে সতর্কতা। এবার নতুন হুঁশিয়ারি দিল চীন। আজ সোমবার (২৩ মার্চ) হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের সঙ্গে জড়িত সব পক্ষকে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে চীন। একটি 'বিপজ্জনক চক্র' রোধ করতে এবং পুনরায় আলোচনায় ফিরে আসার জন্য তারা এ অনুরোধ জানায়। হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর যে চাপ সৃষ্টি করছেন, সে সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, 'যদি এই শত্রুতা বাড়তেই থাকে এবং পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়, তবে সমগ্র অঞ্চল বিশৃঙ্খলার মধ্যে নিমজ্জিত হবে।' তিনি আরও বলেন, 'শক্তির ব্যবহার কেবল একটি বিপজ্জনক চক্রেরই জন্ম দেবে।' এই যুদ্ধ শুরু হওয়া উচিত ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আবরার আল মামুন সাহাফ মার্চ ২৩, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালির পর এবার পুরো পারস্য উপসাগর অবরুদ্ধ: হুঁশিয়ারি ইরানের

ইরানের প্রতিরক্ষা কাউন্সিল এক কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, দেশটির উপকূল বা দ্বীপপুঞ্জে কোনো ধরনের হামলা চালানো হলে তারা পুরো পারস্য উপসাগর জুড়ে মাইন বিছিয়ে সব ধরনের নৌ-চলাচল বন্ধ করে দেবে। ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা গেছে, শত্রু পক্ষ যদি ইরানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের চেষ্টা করে, তবে সামরিক কৌশল অনুযায়ী পারস্য উপসাগরের সমস্ত প্রবেশপথ এবং যোগাযোগ লাইনে বিভিন্ন ধরনের নৌ-মাইন, এমনকি উপকূল থেকে ভাসমান মাইনও ছড়িয়ে দেওয়া হবে।   বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে এমন পরিস্থিতিতে দীর্ঘ সময়ের জন্য পুরো পারস্য উপসাগরই হরমুজ প্রণালির মতো অবরুদ্ধ অবস্থায় পড়বে এবং এর সমস্ত দায়ভার আক্রমণকারী পক্ষকেই বহন করতে হবে। বর্তমানে ইরান চীন, ভারত ও পাকিস্তানের মতো বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর জাহাজের জন্য নিরাপদ যাতায়াতের অনুমতি দিলেও অন্যদের জন্য এই জলপথ কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। এই অচলাবস্থার কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ইতোমধ্যেই বড় ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং তেহরানকে জলপথ খুলে দিতে বাধ্য করতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ 'খারগ দ্বীপ' দখল বা অবরোধ করার পরিকল্পনা বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে। এটি বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল বনাম ইরান যুদ্ধ এক ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।   এদিকে, বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় অভ্যন্তরীণ চাপে থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প শনিবার (২১ মার্চ) গভীর রাতে এক চরম আল্টিমেটাম দিয়েছেন। তিনি তার ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে জানিয়েছেন, সোমবার (২৩ মার্চ) গ্রিনিচ মান সময় ২৩:৪৪ মিনিটের মধ্যে (৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা) হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া না হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো 'নিশ্চিহ্ন' করে দেবে। ট্রাম্পের এই হুমকির মুখে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে আছে।

আবরার আল মামুন সাহাফ মার্চ ২৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ঈদ শেষে ঢাকামুখী মানুষের ভিড়, ভোগান্তি এড়াতে আগেভাগেই ফেরা শুরু

ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে রাজধানীতে কর্মস্থলে ফেরার পালা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য ভোগান্তি এড়াতে অনেকেই আগেভাগেই ঢাকায় ফিরছেন।   সোমবার (২৩ মার্চ) রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা বিভিন্ন রুটের বাসে যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে। অধিকাংশ বাসই ছিল যাত্রীপূর্ণ, তবে এখনো কিছু যাত্রী গ্রামমুখী যাত্রাও করছেন।   ঢাকায় আগেভাগে ফেরা যাত্রীদের মধ্যে আলমগীর হোসেন বলেন, তিনি একটি বেসরকারি কোম্পানিতে কর্মরত। আগামীকাল ফেরার পরিকল্পনা থাকলেও ভিড় ও ভোগান্তির আশঙ্কায় একদিন আগেই খুলনা থেকে ঢাকায় ফিরে এসেছেন।   তিনি জানান, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি ভাড়া গুনতে হয়েছে, তবে ভিড় এড়াতে আগেভাগে ফেরা ছাড়া উপায় ছিল না।   এদিকে বিভিন্ন পরিবহন কাউন্টার সূত্রে জানা গেছে, ঈদের ছুটি শেষে রাজধানীমুখী যাত্রীর চাপ ধীরে ধীরে বাড়ছে।   সোহাগ পরিবহনের কাউন্টার কর্মী মেহেদী বলেন, সকালে থেকেই ঢাকামুখী যাত্রীদের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। বেশিরভাগ বাসই পূর্ণ যাত্রী নিয়ে ঢাকায় ফিরছে, তবে ঢাকাগামী যাত্রার ক্ষেত্রে এখনো কিছু আসন ফাঁকা থাকছে।   অন্যদিকে বরিশাল–বাগেরহাট রুটের দিগন্ত পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার শাহজাহান জানান, বর্তমানে ফিরতি যাত্রী তুলনামূলক কম থাকলেও আগামীকাল থেকে চাপ আরও বাড়বে। তিনি বলেন, ঢাকামুখী যাত্রার ক্ষেত্রে নির্ধারিত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে, তবে ঈদের পর যাত্রী সংকট রয়েছে।   সবমিলিয়ে গাবতলী বাস টার্মিনালে ঢাকামুখী যাত্রীর চাপ ধীরে ধীরে বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী কয়েকদিনে এ চাপ আরও তীব্র হতে পারে।

আক্তারুজ্জামান মার্চ ২৩, ২০২৬ 0
ঈদের দ্বিতীয় দিনেও গাবতলীতে যাত্রীচাপ, ২০ মিনিটেই শেষ বাসের টিকিট

পবিত্র ঈদুল ফিতর-এর দ্বিতীয় দিনেও রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল এলাকায় বাড়ি ফেরা মানুষের ভিড় কমেনি। সকাল থেকেই টার্মিনালে ঘরমুখো যাত্রীদের চাপ লক্ষ্য করা গেছে, আর চাহিদা বেশি থাকায় অল্প সময়ের মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে বাসের টিকিট।   রোববার (২২ মার্চ) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে—রংপুর, খুলনা, রাজশাহী, বরিশালসহ দূরপাল্লার গন্তব্যে যেতে যাত্রীরা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করছেন।   অনেকেই কর্মস্থল থেকে দেরিতে ছুটি পাওয়ায় ঈদের দ্বিতীয় দিনেও পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটাতে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছেন। পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মতে, ঈদের প্রথম দিনের তুলনায় দ্বিতীয় দিনে যাত্রীচাপ আরও বেড়েছে।   রংপুরের পীরগঞ্জে যাওয়ার উদ্দেশ্যে আসা এক যাত্রী জানান, তিনি সহজেই টিকিট পেয়েছেন, তবে ভাড়া কিছুটা বেশি নেওয়া হয়েছে।   পরিবহন কাউন্টারের এক কর্মী জানান, যাত্রীচাপ বেশি থাকায় মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যেই একটি বাসের সব টিকিট বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে যশোর, মাগুরা, সাতক্ষীরা হয়ে খুলনাগামী যাত্রীদের চাপ বেশি।   এদিকে, যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে টার্মিনাল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি জোরদার করা হয়েছে। তবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক যাত্রী।

আক্তারুজ্জামান মার্চ ২২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
তিন জেলায় সড়ক দুর্ঘটনা: ঝরল ১৯ প্রাণ

দেশের তিন জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে কুমিল্লায় ট্রেনের সঙ্গে বাসের সংঘর্ষে ১২ জন, ফেনীতে ত্রিমুখী সংঘর্ষে ৩ জন এবং হবিগঞ্জে বাস-পিকআপের দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত হয়েছেন।   কুমিল্লা: ট্রেন-বাস সংঘর্ষে নিহত ১২ কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসকে মেইল ট্রেন ধাক্কা দিলে ১২ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে পুরুষ, নারী ও শিশুও রয়েছে, তবে তাদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি ট্রেন মামুন পরিবহনের বাসটিকে ধাক্কা দিলে ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর ট্রেনটি বাসটিকে প্রায় আধা কিলোমিটার পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়। প্রথমে ৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও পরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১২ জনে দাঁড়ায়। দুর্ঘটনার পর সাময়িকভাবে রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়, তবে উদ্ধার কাজ শেষে সকাল ৮টার দিকে তা স্বাভাবিক হয়। ঘটনার তদন্তে তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং রেলক্রসিংয়ের দুই গেটম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জেলা প্রশাসন।   হবিগঞ্জ: বাস-পিকআপ সংঘর্ষে নিহত ৪ হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় বাস ও পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। শনিবার গভীর রাতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আন্দিউড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে তিনজন পুরুষ ও একজন নারী রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর পিকআপটি সড়কের পাশের পুকুরে পড়ে যায়। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।   ফেনী: ত্রিমুখী সংঘর্ষে প্রাণ গেল ৩ জনের ফেনীর রামপুর এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে তিনজন নিহত এবং অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। রোববার ভোর ৪টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। জানা যায়, সড়কের একটি লেনে কাজ চলার কারণে একটি অ্যাম্বুলেন্স ধীরগতিতে চলছিল। এ সময় একটি বাস পেছন থেকে ধাক্কা দিলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে আরেকটি দ্রুতগামী বাস এসে জটলার মধ্যে ঢুকে পড়লে ত্রিমুখী সংঘর্ষ ঘটে। এতে মোটরসাইকেল আরোহী, বাসের এক সুপারভাইজার ও একজন যাত্রী নিহত হন।

আক্তারুজ্জামান মার্চ ২২, ২০২৬ 0
নাতানজ পরমাণু কেন্দ্রে হামলা স্বীকার করল ইরান, বিকিরণ নির্গত হয়নি বলে দাবি

ইরানের পরমাণু সংস্থা একটি বিবৃতি জারি করে নাতানজ পরমাণু কেন্দ্রে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তারা হামলা কীভাবে হয়েছে এবং কী ধরনের বোমা ব্যবহার করা হয়েছিল তা বলেননি। তবে তারা আশ্বস্ত করেছেন যে এই হামলার ফলে কোনো পরমাণু বিকিরণ ঘটেনি, ফলে স্থাপনাটির আশেপাশের বেসামরিক জনগণের জন্য কোনো বিপদ নেই। আমরা জানি নাতানজ ইরানের অন্যতম প্রধান পরমাণু স্থাপনা, দেশের মধ্যভাগে অবস্থিত, ইসফাহান পরমাণু স্থাপনার পাশাপাশি। এবং আমরা জানি মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর এই যুদ্ধের একটি প্রধান লক্ষ্য ছিল ইরানের পরমাণু কর্মসূচি, কীভাবে তা ধ্বংস করা যায় এবং ইরানকে পরমাণু বোমা তৈরি করতে বাধা দেওয়া।   দিনের পর দিন আমরা শুনে আসছি যে এই পরমাণু স্থাপনাগুলোর কাছাকাছি হামলা চলছে, বিশেষ করে ইসফাহানের স্থাপনাগুলোতে। কিন্তু নাতানজে এ ধরনের বড় হামলার কথা এবারই প্রথম শোনা গেল। ইসরায়েলি গণমাধ্যম মার্কিন সূত্রের বরাত দিয়ে বলছে, এই হামলার পেছনে মার্কিনিরা ছিল এবং তারা এই যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো এই স্থাপনায় বাংকার বাস্টার বোমা ব্যবহার করেছে।

আবরার আল মামুন সাহাফ মার্চ ২১, ২০২৬ 0
ইইউতে 'একমতের অভাব' নিয়ে নেতাদের বৈঠক

ইসরাইল-মার্কিন যুদ্ধের প্রভাব, বিশেষ করে জ্বালানি বাজারে এর পরিণতি নিয়ে ব্রাসেলসে বৈঠক করছেন ইউরোপীয় সরকারপ্রধানরা। ইউরোপীয় ইউনিয়ন পুরো সংস্থা হিসেবে নেওয়ার জন্য কোনো পদক্ষেপ নিয়ে আসলে কোনো একমতে পৌঁছাতে পারেনি। এদিকে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঘোষণা করেছে যে, প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে আনা হবে এবং আগামী মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস বাড়ানো হয়েছে। তাই আমরা যা আশা করতে পারি, বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নে, তা হলো খুব বেশি জ্বালানি খরচ। নেতারা দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেছেন তথাকথিত জ্বালানি বাণিজ্য ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে, যা জ্বালানি রূপান্তর দ্রুত করতে ব্যয়বহুল একটি ব্যবস্থা। কিন্তু সাধারণ একমত ছিল যে, কোনো একমত নেই। সন্ধ্যার শেষে দেশগুলোকে তাদের নিজস্ব পদক্ষেপ নিতে বলা হয়।

আবরার আল মামুন সাহাফ মার্চ ২০, ২০২৬ 0
খারগ দ্বীপ দখলের পরিকল্পনা করছেন ট্রাম্প: প্রতিবেদন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি খুলতে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টিতে দেশটির খারগ দ্বীপ দখল বা অবরোধের পরিকল্পনা করছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিয়োস। চারজন অজ্ঞাত সূত্রের বরাত দিয়ে এই খবর প্রকাশ করা হয়। এক সূত্র অ্যাক্সিয়োসকে বলেন, 'ইরানিদের আরও হামলা দিয়ে দুর্বল করতে, দ্বীপটি দখল করতে এবং তাদের শক্তিশালী অবস্থানে আনতে আমাদের প্রায় এক মাস সময় লাগবে, তারপর এটি আলোচনার জন্য ব্যবহার করা যাবে।' ইরানের ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানির কেন্দ্রবিন্দু এই দ্বীপে মার্কিন ও ইসরাইলি হামলা সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করেছিল; তবে একটি স্থল আক্রমণ মার্কিন সেনাদের ইরানি আঘাতের নাগালে নিয়ে আসবে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের মধ্যে ইতোমধ্যে অঞ্চলটিতে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। একজন সিনিয়র ট্রাম্প প্রশাসন কর্মকর্তা অ্যাক্সিয়োসকে হরমুজ প্রণালি খোলার পরিকল্পনা সম্পর্কে বলেন, 'যদি [ট্রাম্প] উপকূলীয় আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেন, তা হবে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি।'

আবরার আল মামুন সাহাফ মার্চ ২০, ২০২৬ 0
ইরান যুদ্ধের 'দীর্ঘমেয়াদী পরিণতি' নিয়ে সতর্ক জ্বালানি বিশেষজ্ঞ

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল চেঞ্জ ইনস্টিটিউটের জ্যান রোজেনো সতর্ক করেছেন যে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বিঘ্ন স্বল্পমেয়াদী হবে না। আল জাজিরাকে তিনি বলেন, 'এ অঞ্চলের তেল ও গ্যাস উৎপাদন ক্ষেত্রগুলোতে যে ক্ষতি হয়েছে, তার কিছু কিছু মেরামতে বছরের পর বছর লাগবে। এটি দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ফেলবে, কেবল কয়েক সপ্তাহ নয়।'   রোজেনো বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলার কাঠামোগত দুর্বলতার দিকে ইঙ্গিত করেছেন, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতার কথা উল্লেখ করেন। তিনি লক্ষ্য করেন, 'এই প্রণালি না দিয়ে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বের করা বেশ কঠিন।' রোজেনো বলেন, 'এটি একটি প্রধান সংকীর্ণ স্থান... এবং আমরা এই প্রভাবগুলো সত্যিই অর্থনীতিতে তরঙ্গের মতো অনুভব করছি।' তিনি আরও যোগ করেন, 'আমি মনে করি, আমরা আরও দাম বৃদ্ধি দেখতে যাচ্ছি, দুঃখজনকভাবে।'

আবরার আল মামুন সাহাফ মার্চ ২০, ২০২৬ 0
খোররামশহর (ক্ষেপণাস্ত্র)
নেতানিয়াহুর দাবি 'ইরান ধ্বংস', অথচ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন যে ইরান 'ধ্বংস' হয়ে গেছে, যদিও ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র এখনো ইসরাইলের মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলে আঘাত হানছে।   ইসরাইলি হিসাব অনুযায়ী, একটি রকেট আটকানো হয়েছে, একটি ক্ষেপণাস্ত্র খোলা এলাকায় পড়েছে এবং আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্রে ক্লাস্টার ওয়ারহেড ছিল। সাধারণভাবে নেতানিয়াহু তার শ্রোতাদের বোঝানোর চেষ্টা করছেন যে ইরান নতুন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারছে না, তবে বর্তমানে ইরানিদের এবং হিজবুল্লাহর কাছে যেসব ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, সেগুলো এখনো কোটি কোটি ইসরাইলিকে আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠাচ্ছে। আজ রাতটি বিশেষভাবে ইসরাইলিদের জন্য সবচেয়ে কঠিন রাতগুলোর একটি ছিল, কারণ সাইরেন কমপক্ষে ছয়বার বেজে ওঠে।   মনে রাখা উচিত, নেতানিয়াহু এই যুদ্ধ শুরু করেছিলেন স্পষ্ট লক্ষ্য নিয়ে—রেজিম পরিবর্তন, একে উৎখাত করা এবং ইরানি সরকারকে দুর্বল করা। তারপর দিনগুলো অতিবাহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ইসরাইলি রাজনীতিবিদদের মন্তব্য শুনতে শুরু করি যে, একটি রেজিমকে বোমা মেরে পতন ঘটানো কঠিন হয়ে পড়ছে, এই হামলাগুলো শুধু বায়ুশক্তি দিয়ে সম্ভব হবে না এবং এর জন্য ইরানি জনগণকে রাস্তায় নামতে হবে।

আবরার আল মামুন সাহাফ মার্চ ২০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ঈদের আগের দিন ফাঁকা কমলাপুর স্টেশন, অর্ধেক যাত্রী নিয়েই ছাড়ছে ট্রেন

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের চাপ কমে যাওয়ায় রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। শুক্রবার সকাল থেকে স্টেশনজুড়ে যাত্রী উপস্থিতি ছিল অনেকটাই কম, ফলে বেশিরভাগ ট্রেনই অর্ধেক যাত্রী নিয়ে ঢাকা ছেড়ে যাচ্ছে।   সকালে স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, আগের দিনের তুলনায় যাত্রী সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। টিকিট কাউন্টারেও নেই তেমন ভিড় বা জটলা। তবে যাত্রী কম থাকলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল জোরদার। প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের সময় টিকিট পরীক্ষা করতে দেখা গেছে টিটিইদের।   বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, সাধারণত ২৯ রমজান ধরে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হয়। সেই অনুযায়ী এবারও ১৯ মার্চ পর্যন্ত টিকিট বিক্রি করা হয়েছিল। পরে চাঁদ দেখার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০ মার্চ এবং ঈদের পরদিন ২২ মার্চের টিকিট অনলাইনে ছাড়ে কর্তৃপক্ষ। তবে ঈদের দিন ২১ মার্চ আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় ওই দিনের টিকিট বিক্রি হয়নি।   স্টেশন সূত্র জানায়, হঠাৎ করে শেষ মুহূর্তে টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ায় যাত্রী সংখ্যা কম দেখা যাচ্ছে। এর ফলে বেশিরভাগ ট্রেন নির্ধারিত সময়েই ছাড়তে পারছে।   এদিকে যাত্রী সংকট ও দীর্ঘ বিলম্বের কারণে চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেসের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে।   জামালপুরগামী এক যাত্রী জানান, আগে ভিড়ের কারণে ভ্রমণে অনীহা থাকলেও শেষ মুহূর্তে টিকিট পেয়ে স্বস্তিতে যাত্রা শুরু করেছেন। ট্রেনে ভিড় কম থাকায় যাত্রাও আরামদায়ক হচ্ছে বলে তিনি জানান।   আরেক যাত্রী বলেন, ঈদের আগের দিন এমন ফাঁকা স্টেশন আগে দেখেননি। নির্ধারিত সময়ে ট্রেন ছাড়ায় যাত্রা আরও স্বস্তিদায়ক হয়েছে।   রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, ঈদের তারিখ ২৯ বা ৩০ রমজানের ওপর নির্ভর করায় টিকিট ব্যবস্থাপনাও সেই অনুযায়ী করা হয়। এ কারণে শেষ মুহূর্তে টিকিট ছাড়ায় যাত্রী উপস্থিতি কম দেখা যাচ্ছে।

আক্তারুজ্জামান মার্চ ২০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে স্বস্তি, কমেছে যানজট

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঘরমুখী মানুষের চাপ কমে যাওয়ায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে ফিরেছে স্বাভাবিক গতি। গত কয়েকদিনের তুলনায় এখন যানজট নেই বললেই চলে, ফলে স্বস্তিতে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছেন যাত্রীরা।   সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতু দিয়ে প্রায় ৪৫ হাজার ৬১০টি যানবাহন চলাচল করেছে। এতে টোল আদায় হয়েছে প্রায় ৩ কোটি ২৭ লাখ টাকার বেশি।   এর মধ্যে ঢাকামুখী যানবাহনের সংখ্যা ছিল ১৩ হাজার ৭১৫টি, আর উত্তরবঙ্গমুখী ছিল ৩১ হাজার ৮৯৫টি। উত্তরবঙ্গগামী যানবাহন থেকেই বেশি টোল আদায় হয়েছে বলে জানানো হয়।   গত পাঁচ দিনে সেতু দিয়ে মোট ২ লাখ ৫ হাজারের বেশি যানবাহন পারাপার হয়েছে এবং টোল আদায় হয়েছে ১৫ কোটিরও বেশি টাকা।   হাইওয়ে পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাতের পর থেকে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কমতে শুরু করে। বর্তমানে গাজীপুর থেকে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা পর্যন্ত চারলেন সড়ক ব্যবহার করায় যাত্রীরা নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারছেন।   যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, গতকাল কিছু যানবাহন বিকল হওয়ায় সাময়িক যানজট তৈরি হয়েছিল। তবে দ্রুত তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বর্তমানে সেতুর দুই পাশে ১৮টি টোল বুথ চালু রয়েছে, যার মধ্যে মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা বুথও রাখা হয়েছে।   এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মুহাম্মদ শরীফ বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে মহাসড়কে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক।

আক্তারুজ্জামান মার্চ ২০, ২০২৬ 0
শান্তি আনতে ট্রাম্পই পারবেন: জাপানের প্রধানমন্ত্রী

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বলেছেন, তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারেন।   ওভাল অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জাপানি নেত্রী বলেন, গোটা বিশ্ব ভয়াবহ নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং বিশ্ব অর্থনীতি "বিপর্যয়ের মুখে" পড়তে যাচ্ছে। তিনি বলেন, "কিন্তু আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারেন কেবল আপনিই"। তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এই বার্তা সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে পৌঁছে দিতেই তার হোয়াইট হাউস সফর।   তাকাইচি জানান, জাপান ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছে এবং তিনি উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের হামলা এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনার নিন্দা জানাচ্ছেন।

আবরার আল মামুন সাহাফ মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ 'বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে': ডব্লিউটিও

মার্কিন-ইসরাইলি যুদ্ধ বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করেছে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার প্রধান। আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খল খোলা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। জেনেভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এনগোজি ওকোনজো-ইউয়ালা বলেন, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত "বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে, কেননা নৌপরিবহন বিঘ্নিত হওয়া এবং জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি সারের সরবরাহ কমিয়ে দিচ্ছে এবং এর দাম বাড়াচ্ছে"।   বিশ্বের নাইট্রোজেন সার সরবরাহের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।   ওকোনজো-ইউয়ালা বলেন, "সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদী বিঘ্ন ঘটলে তা খাদ্য ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করতে পারে, যা কৃষকদের সার কম ব্যবহার এবং কম পুষ্টি-নির্ভর ফসল চাষ করতে উৎসাহিত করতে পারে"। তিনি জোর দিয়ে বলেন, "যেখানে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সেখানে খাদ্য সরবরাহ প্রবাহিত হতে পারে, এজন্য বিশ্ব খাদ্য বাণিজ্যের চ্যানেলগুলো খোলা ও অনুমানযোগ্য রাখা অত্যন্ত জরুরি"।

আবরার আল মামুন সাহাফ মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে না দেওয়ার পরামর্শ তুরস্কের

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ আরো বিস্তৃত না করতে ইরানকে বন্ধুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছে তুরস্ক। দোহায় কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান বিন জাসিম আল থানির সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। ফিদান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের অবস্থান বোঝার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে তুরস্ক। দ্বন্দ্ব সমাপ্তিতে তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও জানান, আঞ্চলিক দেশগুলোতে ইরানের হামলা "গ্রহণযোগ্য নয়"। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রধান উসকানিদাতা ইসরাইল হলেও প্রতিবেশী দেশগুলোতে আঘাত না হানার "ঐতিহাসিক দায়িত্ব" ইরানের রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আবরার আল মামুন সাহাফ মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ঈদযাত্রায় স্বস্তি: ফাঁকা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশ

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছেন মানুষ। তবে ঈদযাত্রার তৃতীয় দিনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক-এর কুমিল্লা অংশে দেখা গেছে ব্যতিক্রমী চিত্র—প্রায় ফাঁকা সড়ক।   বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে মহাসড়কের কুমিল্লার প্রায় ১০৯ কিলোমিটার এলাকায় খোঁজ নিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।   সকাল ১০টার দিকে সদর দক্ষিণ উপজেলা-এর চৌয়ারা এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই মহাসড়ক প্রায় যানবাহনশূন্য। চট্টগ্রামমুখী লেনে মাঝেমধ্যে দু-একটি গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল করলেও ঢাকামুখী লেনে গাড়ির উপস্থিতি ছিল খুবই কম।   এবারের ঈদযাত্রায় এই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে বড় ধরনের যানজট বা ভোগান্তির খবর পাওয়া যায়নি। তবে দ্বিতীয় দিন বুধবার (১৮ মার্চ) দুটি ছোট দুর্ঘটনা ঘটে।   দুপুরে মাধাইয়া এলাকায় চট্টগ্রামমুখী একটি মাইক্রোবাসকে পেছন থেকে একটি যাত্রীবাহী বাস ধাক্কা দিলে কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনায় সাময়িকভাবে প্রায় ৩ কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হলেও পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।   এদিকে একই দিন রাত সোয়া ১১টার দিকে বুড়িচং উপজেলা-এর কাবিলা এলাকায় একুশে এক্সপ্রেস নামের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক বিভাজকের ওপর উল্টে যায়। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন, যার মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।   দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় ৫ কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হলেও রাত সাড়ে ১২টার দিকে উদ্ধার কাজ শেষ হলে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। রাত ১টার পর থেকে পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে আসে পরিস্থিতি।   এই দুটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া বড় কোনো দুর্ঘটনা বা ভোগান্তির খবর পাওয়া যায়নি, যা এবারের ঈদযাত্রাকে অনেকটাই স্বস্তিদায়ক করেছে। কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় কথা হয় যাত্রী জাবেদ হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, “ঢাকার ভেতরে কিছুটা যানজট থাকলেও মহাসড়ক প্রায় ফাঁকা ছিল। আড়াই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যেই কুমিল্লায় পৌঁছে গেছি।”   একই স্থানে চট্টগ্রাম থেকে আসা দিদারুল আলম বলেন, “এবারের ঈদযাত্রা সত্যিই ব্যতিক্রম। খুব কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরেছি, রাস্তায় গাড়িও ছিল কম।”   হাইওয়ে পুলিশের কুমিল্লা অঞ্চলের পুলিশ সুপার শাহিনুর আলম খান জানান, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

আক্তারুজ্জামান মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
সান্তাহার ট্রেন দুর্ঘটনা: ২১ ঘণ্টা পর উত্তর অঞ্চলের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

বগুড়ার সান্তাহার রেলওয়ে জংশন সংলগ্ন বাগবাড়ী এলাকায় নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার প্রায় ২১ ঘণ্টা পর উদ্ধার অভিযান শেষ করে উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে।   বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বেলা ১১টা ২০ মিনিটে সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচলের মাধ্যমে এ রুটে পুনরায় ট্রেন চলাচল শুরু হয়। ট্রেনটি চিলাহাটি থেকে ছেড়ে খুলনার উদ্দেশে যাত্রা করে।   এর আগে বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুর ২টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি সান্তাহারের বাগবাড়ী এলাকায় লাইনচ্যুত হয়।   রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আহমদ হোসেন মাসুম জানান, দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। সন্ধ্যায় ঈশ্বরদী এবং পার্বতীপুর থেকে দুটি রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। সারারাত অভিযান চালিয়ে লাইনচ্যুত বগিগুলো সরিয়ে ফেলা হয়।   তিনি আরও জানান, রেললাইন মেরামতের কাজ চলমান রয়েছে। বর্তমানে ট্রেন চলাচল শুরু হলেও দুর্ঘটনাস্থলে ট্রেনগুলো ধীরগতিতে চলাচল করছে। ঈদের আগ মুহূর্তে এ ধরনের দুর্ঘটনার জন্য তিনি দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।   প্রসঙ্গত, ঈদযাত্রার সময় বুধবার সান্তাহার রেলওয়ে জংশন ছাড়ার কিছুক্ষণ পরই নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে ট্রেনটির ৯টি কোচ লাইনচ্যুত হয়। সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে।   ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সহকারী স্টেশন মাস্টার শহিদুল ইসলাম রঞ্জুকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে চার সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

আক্তারুজ্জামান মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ট্রেনের অপেক্ষায় প্লাটফর্মজুড়ে হাজারো যাত্রী, ঈদযাত্রায় ভোগান্তি

ঈদ সামনে রেখে দেশের প্রধান রেলওয়ে স্টেশনগুলোতে যাত্রীচাপ বেড়েছে কয়েকগুণ। এর মধ্যে সান্তাহার রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন দুর্ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এতে উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর রেল যোগাযোগে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে এবং ঈদযাত্রায় পড়েছে বড় ধরনের প্রভাব।   বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, প্লাটফর্মজুড়ে উপচে পড়া ভিড়। হাজার হাজার যাত্রী ট্রেনের অপেক্ষায় সময় কাটাচ্ছেন। কেউ দাঁড়িয়ে, কেউ বেঞ্চে বসে, আবার কেউ ব্যাগপত্রে ভর দিয়ে অপেক্ষা করছেন। অনেকেই সময় কাটাতে গল্পে মেতে উঠলেও, অনেকে অনিশ্চয়তায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।   স্টেশনে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের মধ্যে কেউ বিলম্বিত ট্রেনের যাত্রী, আবার কেউ নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই এসে অবস্থান নিয়েছেন, যাতে কোনোভাবেই ট্রেন মিস না হয়। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভিড় আরও বাড়ছে।   স্টেশনে উপস্থিত বেশিরভাগ যাত্রী নীলসাগর এক্সপ্রেস ও একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী। এছাড়াও অন্যান্য ট্রেনের যাত্রীরাও রয়েছেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যায়।   অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী জাহিদুল ইসলাম বলেন, “ভিড় এড়াতে আমরা আগেভাগেই স্টেশনে এসেছি। কিন্তু এসে দেখি অসংখ্য মানুষ। শুনলাম কয়েকটি ট্রেন দেরি করছে, তাই যাত্রীসংখ্যা বেড়ে গেছে।”   একতা এক্সপ্রেসের যাত্রী ফরিদুর রহমান বলেন, “সকালে নির্ধারিত সময়ে ট্রেন ছাড়ার কথা থাকলেও এখন শুনছি বিকেলে যাবে। এত দীর্ঘ সময় স্টেশনে অপেক্ষা করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে।”   এদিকে স্টেশনের ৬ নম্বর প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস ট্রেনের ছাদে যাত্রীদের উঠতে দেখা গেছে। শুধু এই ট্রেনই নয়, আরও কয়েকটি ট্রেন ছাদে যাত্রী নিয়ে ঢাকা ছেড়ে গেছে, যা নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

আক্তারুজ্জামান মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ঈদযাত্রায় ঝুঁকি নিয়েই খোলা ট্রাক-পিকআপে বাড়ি ফিরছেন নিম্নআয়ের মানুষ

ঈদ সামনে রেখে প্রিয়জনদের কাছে ফিরতে রাজধানী ছাড়ছেন নিম্নআয়ের মানুষ ও পোশাক শ্রমিকরা। তবে বাড়তি ভাড়ার চাপে অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে মালবাহী ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানে করেই গ্রামের পথে রওনা দিচ্ছেন।   বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় এমন দৃশ্য দেখা গেছে। নবীনগরগামী লেনে খোলা ট্রাক ও পিকআপে গাদাগাদি করে বাড়ি ফিরছেন অসংখ্য মানুষ।   রিতা আক্তার নামের এক পোশাক শ্রমিক জানান, স্বল্প আয়ে সংসার চালাতে হয় তাকে। বাসের ভাড়া বেশি হওয়ায় কম খরচে ট্রাকে করেই রংপুরে যাচ্ছেন তিনি, যাতে পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে পারেন।   একই ট্রাকে থাকা আলম হোসেন বলেন, বাসে ভাড়া প্রায় ১৪০০ টাকা, যা তার পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। তাই বাধ্য হয়ে ৪০০ টাকায় ট্রাকে করেই গ্রামের পথে রওনা হয়েছেন।   অন্যদিকে ফরিদুল ইসলাম নামের আরেক শ্রমিক জানান, তিনি পিকআপ ভ্যানে করে গাইবান্ধায় যাচ্ছেন। তার পরিবার গ্রামে থাকায় ঈদে তাদের কাছে ফিরতেই এই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা বেছে নিতে হয়েছে।   যাত্রীরা স্বীকার করছেন, এ ধরনের যাত্রায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে। তবে তাদের মতে, পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটানোর আনন্দই বড়—সাময়িক কষ্ট বা ঝুঁকিকে তারা সেভাবেই মেনে নিচ্ছেন।

আক্তারুজ্জামান মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সপ্তাহের সেরা

ছবি : সংগৃহীত
প্রবাসী

যুদ্ধের প্রভাবে কুয়েতে ঈদ ম্লান, চরম অনিশ্চয়তায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ১৯, ২০২৬ 0