নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের (ভিক্টোরিয়া) সদ্যবিদায়ী ও নবাগত সিভিল সার্জনের বিদায় ও যোগদান অনুষ্ঠান আয়োজনকে কেন্দ্র করে নার্সদের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অনুষ্ঠানের উপহার ও খাবারের খরচের জন্য নার্সদের কাছ থেকে জনপ্রতি এক হাজার টাকা করে নেওয়ার উদ্যোগ করা হয়। এ পর্যন্ত নার্সদের কাছ থেকে ৭০ হাজার এবং চিকিৎসকদের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। চিকিৎসক ও নার্সদের উদ্যোগে সোমবার অনুষ্ঠানটি আয়োজনের কথা ছিল। তবে চাঁদা সংগ্রহের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর বিদায়ী সিভিল সার্জন মশিউর রহমান এবং নবাগত সিভিল সার্জন এস এম সাখাওয়াত হোসেন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন না বলে জানিয়েছেন। এ কারণে অনুষ্ঠানটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) নাজমুল হাসান। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে প্রায় ১২০ জন নার্স কর্মরত। তাঁদের প্রত্যেকের কাছ থেকে এক হাজার টাকা করে নেওয়ার কথা ছিল। রোববার বিকেল পর্যন্ত ৭০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। চাঁদা সংগ্রহের বিষয়ে হাসপাতালের নার্সদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কয়েকজন নার্স নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তাঁদের প্রত্যেককে এক হাজার টাকা করে দিতে বলা হয়েছিল। তবে অনেকেই এ অর্থ দিতে আগ্রহী ছিলেন না। তাঁদের প্রশ্ন, সিভিল সার্জনের বিদায় বা যোগদান অনুষ্ঠান হাসপাতালের নিয়মিত দায়িত্বের অংশ নয়; তাহলে এ আয়োজনের জন্য নার্সদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হবে কেন? এ বিষয়ে হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার শিখা রাণী মণ্ডল বলেন, চিকিৎসক ও নার্সদের উদ্যোগেই অনুষ্ঠানটি আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। হাসপাতালের সেবায় যাতে কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই ছোট পরিসরে অনুষ্ঠান করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। জনপ্রতি এক হাজার টাকা চাওয়া হলেও সামর্থ্য অনুযায়ী যে কেউ দিতে পারেন বলে দাবি করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে কাউকে জোর করা হয়নি বলেও জানান তিনি। আরএমও নাজমুল হাসান বলেন, অনুষ্ঠানের উপহার ও খাবারের জন্যই চাঁদা সংগ্রহ করা হচ্ছিল। হাসপাতালের নিজস্ব কোনো ফান্ড না থাকায় চিকিৎসক ও নার্সরা নিজেদের উদ্যোগে আয়োজনটি করছিলেন। তবে চাঁদা নেওয়ার বিষয়টি সামনে আসার পর অনুষ্ঠানটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। বিদায়ী সিভিল সার্জন মশিউর রহমান বলেন, তিনি কোনো বিদায়ী সংবর্ধনার আয়োজন করতে বলেননি। তাঁর মতে, বিদায় উপলক্ষে এভাবে চাঁদা তোলা অনৈতিক। তাই তিনি অনুষ্ঠানটিতে অংশ নেবেন না বলে জানান। যাঁদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে, তাঁদের অর্থ ফেরত দেওয়ার কথাও বলেন তিনি। অন্যদিকে নবাগত সিভিল সার্জন ও হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এস এম সাখাওয়াত হোসেন জানান, নার্সদের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়ার বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। তাঁর ভাষ্য, ঘরোয়া একটি অনুষ্ঠানের কথা হয়েছিল। কিন্তু চাঁদা আদায়ের বিষয়টি জানার পর তিনি বিব্রত হয়েছেন এবং এমন পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া তাঁর জন্য সমীচীন হবে না। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের শুরু থেকে নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জনের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন মশিউর রহমান। গত ২০ আগস্ট তাঁকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়। পরে তাঁর স্থলে নতুন সিভিল সার্জন হিসেবে এস এম সাখাওয়াত হোসেনকে পদায়ন করা হয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার সময় হেলমেট, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হ্যান্ডকাফ পরানোর কারণ জানতে চেয়েছেন জুলাইয়ের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার আসামি সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। রোববার ট্রাইব্যুনাল-১-এর এজলাসে বক্তব্য দেওয়ার সময় পলক বলেন, তাকে হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে আদালতে আনা হয়েছে। এ ছাড়া দুই হাত পেছনে নিয়ে হ্যান্ডকাফ পরানো হয়েছিল। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী মাথায় ভারী কোনো কিছু না দেওয়ার কথা থাকলেও তাকে এভাবে আনা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। পলকের ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়ি থেকে নামানোর পর ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় নেওয়ার সময়ও তাকে একই নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও হ্যান্ডকাফ পরানো ছিল। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল একটি নিরাপদ স্থান। সেখানে স্বল্প সময়ের জন্য প্রবেশের ক্ষেত্রেও কেন তাকে হেলমেট, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট এবং পেছনে হাত নিয়ে হ্যান্ডকাফ পরানো হচ্ছে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে এ বক্তব্য দেন পলক। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও পলকের বিরুদ্ধে করা মামলায় ওইদিন নবম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষীর জবানবন্দি শেষ হওয়ার পর কাঠগড়ায় থাকা পলক ট্রাইব্যুনালের অনুমতি নিয়ে কথা বলার সুযোগ পান। তখন তিনি নিজের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এ সময় ট্রাইব্যুনাল-১-এর এজলাসে ব্যবহৃত কম্পিউটারের উইন্ডোজ সফটওয়্যার নিয়েও আপত্তি জানান পলক। তিনি সফটওয়্যারটিকে ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ দাবি করে ট্রাইব্যুনালে লাইসেন্স করা উইন্ডোজ ব্যবহারের অনুরোধ করেন। পলকের বক্তব্যের পর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রসিকিউশনের অবস্থান জানতে চান ট্রাইব্যুনাল। জবাবে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, আসামিকে যে নিরাপত্তাব্যবস্থার মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়েছে, সেটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিষয়। এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল বা প্রসিকিউশনের সরাসরি কিছু করার নেই। কম্পিউটারে ব্যবহৃত উইন্ডোজ সফটওয়্যার প্রসঙ্গে প্রসিকিউটর বলেন, বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখবেন। প্রয়োজনে আইটি বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করা হবে। পরে ট্রাইব্যুনাল নির্দেশনা দেন, কম্পিউটারে যাতে পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার না করা হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
ব্রিকসের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করতে পাঁচটি নতুন উদ্যোগের প্রস্তাব দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ভারতের নয়াদিল্লিতে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন তিনি। রোববার সকালে ‘ব্রিকস সহযোগিতার ভিত্তি সুদৃঢ় করা, গ্লোবাল সাউথের শক্তি বাড়ানো’ শীর্ষক অধিবেশনে বক্তব্য দেন শি। সেখানে তিনি আন্তর্জাতিক আইন ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের পাশাপাশি উন্নয়ন, নিরাপত্তা, জলবায়ু ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। শি জিনপিং বলেন, গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্তর্জাতিক আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে হবে। সার্বভৌম সমতা, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির মতো মৌলিক নীতিগুলো মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। আন্তর্জাতিক আইন ও নিয়ম সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর করার আহ্বান জানিয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দ্বৈত মানদণ্ড গ্রহণ করা উচিত নয়। একই সঙ্গে বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার ও কার্যকারিতা বাড়ানোর উদ্যোগে সমর্থন এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কার প্রক্রিয়া সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়ার কথাও বলেন তিনি। মানুষকেন্দ্রিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শি জাতিসংঘের ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন এজেন্ডা বাস্তবায়নে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেন। পাশাপাশি ঐতিহ্যগত ও অপ্রচলিত—দুই ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর কথা বলেন তিনি। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা উন্নত করার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য দ্রুত একটি বৈশ্বিক শাসন কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন শি। যে পাঁচ উদ্যোগের প্রস্তাব: এআই সহযোগিতা: ব্রিকস সদস্যদের জন্য একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ওপেন-সোর্স জোন প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন শি। বৃহৎ ভাষা মডেল উন্নয়ন ও ব্যবহারে সহযোগিতা, এআই বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা আয়োজন এবং একটি উন্মুক্ত এআই পরিবেশ তৈরির প্রস্তাব দেন তিনি। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল: ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর মধ্যে অংশীদারত্ব গড়ে তোলার উদ্যোগের কথা জানান চীনের প্রেসিডেন্ট। বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা: একটি স্মার্ট পোর্টাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নীতিগত সমন্বয় বাড়ানো এবং উন্মুক্ত উন্নয়নের নতুন কেন্দ্র তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগামী বছর চীনে ব্রিকস দেশগুলোর সেবা বাণিজ্য ফোরাম আয়োজনের কথাও জানান শি। ডিজিটাল শিল্প: ব্রিকস দেশগুলোর জন্য একটি ডিজিটাল শিল্প ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন তিনি। এর মাধ্যমে ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তি বিনিময় ও শিল্প খাতগুলোর মধ্যে সংযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। দক্ষতা ও স্মার্ট উৎপাদন: ব্রিকস দেশগুলোকে স্মার্ট কারখানা গড়ে তুলতে সহায়তা এবং অভিন্ন মানদণ্ড ও নিয়মকাঠামো তৈরির আগ্রহ প্রকাশ করেন শি। একই সঙ্গে সদস্য দেশগুলোর জন্য একটি প্রকৌশলী প্রশিক্ষণ জোট গঠনের প্রস্তাবও দেন তিনি। শি জিনপিং আরও বলেন, চলতি বছর চীনের ‘পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের সূচনা হয়েছে। তার ভাষায়, এই পরিকল্পনা কেবল চীনের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন পরিকল্পনা নয়; বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে উন্মুক্ত সহযোগিতার সুযোগও এতে রাখা হয়েছে। সূত্র: সিএমজি
সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেই বড় দরপতনের মুখে পড়েছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার। রোববারের লেনদেন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫ হাজার ৫০০ পয়েন্টের নিচে নেমে গেছে। দিন শেষে ডিএসইএক্স ৯৭ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪১৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। শতাংশের হিসাবে সূচকটির পতন হয়েছে প্রায় পৌনে দুই শতাংশ। গত সাড়ে তিন মাসের মধ্যে এটিই সূচকটির সর্বনিম্ন অবস্থান। এর আগে ২ জুন ডিএসইএক্স ৫ হাজার ৪০৬ পয়েন্টে নেমেছিল। শেয়ারবাজারে ৫ হাজার ৫০০ পয়েন্টকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক সীমা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে সূচকটি এ সীমার নিচে নেমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাজার নিয়ে উদ্বেগ ও আস্থার সংকট আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাজারসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের মতে, বর্তমানে বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউস ও বড় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তদন্ত নিয়ে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) পক্ষ থেকে বেশ কিছু ব্রোকারেজ হাউস এবং শেয়ার লেনদেনের বিষয়ে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে চিঠিও পাঠানো হয়েছে। তদন্তের এই পরিস্থিতিতে অনেক বড় ও মাঝারি বিনিয়োগকারী নতুন করে বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়ে বাজার থেকে নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কেউ কেউ হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে নগদ অর্থ ধরে রাখছেন। এতে ভালো মৌলভিত্তির অনেক কোম্পানির শেয়ারেও বিক্রির চাপ তৈরি হয়েছে। রোববার ডিএসইতে মোট ৩৮৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩৬টির দাম কমেছে। বিপরীতে দাম বেড়েছে মাত্র ২৭টি প্রতিষ্ঠানের এবং ২১টির দর অপরিবর্তিত ছিল। তবে সূচকের বড় পতনের দিনেও লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। দিন শেষে ডিএসইতে মোট ৫৭১ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় ২৭ কোটি টাকা বেশি। বাজারসংশ্লিষ্টরা লেনদেন বৃদ্ধিকে আপাতত ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, সাম্প্রতিক দরপতনে বেশ কিছু শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় কিছু বিনিয়োগকারী কম দামে শেয়ার কেনার সুযোগ নিয়েছেন। ফলে বাজারে বিক্রির চাপের পাশাপাশি কিছুটা ক্রয়চাহিদাও তৈরি হয়েছে।
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের পোষা ছাগল চুরির ঘটনা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেছেন, আসিফ নজরুলের একটি নয়, দুটি ছাগলই খাওয়া উচিত ছিল। সম্প্রতি এক বক্তব্যে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, আসিফ নজরুলের দুটি ছাগলের মধ্যে একটি খাওয়া হয়েছে। তার দাবি, দুটিই খাওয়া উচিত ছিল। একটি ছাগল বাদ দেওয়ায় সংশ্লিষ্টদের তিনি ধিক্কার জানান। একই বক্তব্যে আসিফ নজরুলকে ‘খুব ভালো মানুষ নন’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নাসীরুদ্দীন আরও দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আসিফ নজরুল গরু, ছাগল ও মুরগি পালন শুরু করেছিলেন। এসব প্রাণী রাখার স্থানে পুলিশের নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করা হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য, যারা একটি ছাগল খাওয়ার সঙ্গে জড়িত, সুযোগ পেলে তারা অন্য ছাগলটিও খেতে পারেন। এর আগে একটি টকশোতে নিজের ছোট মেয়ের পোষা ছাগল চুরির ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন আসিফ নজরুল। তিনি ঘটনাটিকে তার জীবনের অন্যতম কষ্টদায়ক অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেন। আসিফ নজরুল জানান, হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবনে তিনি একা থাকতেন। সেখানে তার সাড়ে ৯ বছর বয়সী ছোট মেয়ের সঙ্গী হিসেবে ছাগলটি কিনে দেওয়া হয়েছিল। অল্প সময়ের মধ্যেই শিশুটির সঙ্গে ছাগলটির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। তিনি বলেন, মেয়ের স্কুলে যাওয়া ও বাসায় ফেরার সময় ছাগলটির সঙ্গে তার এক ধরনের সখ্য গড়ে উঠেছিল। এমনকি মেয়েটি নিজের মোবাইল ফোনের ওয়ালপেপারে মায়ের ছবির বদলে ছাগলটির সঙ্গে তোলা ছবি ব্যবহার করত। ছাগলটি চুরি হয়ে যাওয়ার পর মেয়েটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল বলেও জানান আসিফ নজরুল। কান্নার সময় বমি করে ফেলা এবং প্রায় দেড় দিন খাবার না খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। আসিফ নজরুলের ভাষ্য, ঘটনাটিকে রাজনৈতিক প্রতিশোধের অংশ হিসেবে প্রচার করা হলেও প্রকৃতপক্ষে মজা করার উদ্দেশ্যেই ছাগলটি নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তবে একটি শিশুর পোষা প্রাণী চুরি করে সেটি খেয়ে ফেলার ঘটনাকে তিনি অত্যন্ত নির্মম ও অমানবিক বলে উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, ছাত্রনেতাদের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধ বা প্রতিবাদের অংশ হিসেবে ছাগলটি চুরি করে খাওয়া হয়েছিল—এমন বক্তব্য সঠিক নয়। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের শেষ দিকে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবন থেকে আসিফ নজরুলের ছোট মেয়ের পোষা ছাগল নিখোঁজের ঘটনা ব্যাপক আলোচনায় আসে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার পর আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের চার স্বতন্ত্র পরিচালক পদত্যাগ করেছেন। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্যাংকটির আগের পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে নতুন পর্ষদ গঠন করেছিল, ওই চারজন সেই পর্ষদের সদস্য ছিলেন। পদত্যাগ করা চার পরিচালক হলেন—বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মো. শাহীন উল ইসলাম, এনআরবি ব্যাংকের সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) মো. আব্দুল ওয়াদুদ, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট মোহাম্মদ আশরাফুল হাসান (এফসিএ) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম আবু ইউসুফ। ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক খাজা শাহরিয়ারকে চেয়ারম্যান করে পাঁচ স্বতন্ত্র পরিচালকের সমন্বয়ে ব্যাংকটির নতুন পর্ষদ গঠন করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। বর্তমানে ওই পাঁচজনের মধ্যে খাজা শাহরিয়ারই শুধু স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগেই ওই স্বতন্ত্র পরিচালকদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পুরোনো মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের ফিরিয়ে আনা হলে আগের স্বতন্ত্র পরিচালকদের পদত্যাগের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়। ওই কর্মকর্তা আরও জানান, চলতি বছরের ১৫ জুলাই পুরোনো মালিকপক্ষের সংশ্লিষ্টদের নিয়ে নতুন পর্ষদ গঠনের পর স্বতন্ত্র পরিচালকেরা বিভিন্ন বিষয়ে অস্বস্তির মধ্যে ছিলেন। গত ১৫ জুলাই আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের জন্য ১৩ সদস্যের নতুন পরিচালনা পর্ষদ অনুমোদন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন পরিচালকদের মধ্যে পাঁচজন চট্টগ্রামভিত্তিক কেডিএস গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে জানা গেছে। এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদের ভাই আব্দুস সামাদ লাবু। নতুন পর্ষদে যুক্ত হওয়া কয়েকজন পরিচালক আগের পর্ষদেও ছিলেন। নতুন পর্ষদে বদিউর রহমানকে চেয়ারম্যান এবং লিয়াকত আলী চৌধুরীকে ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়েছে। পরিচালক হিসেবে রয়েছেন কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান, তাঁর ছেলে সেলিম রহমান, কেডিএস গার্মেন্টসের প্রতিনিধি মাহবুব আহমেদ, মোহাম্মদ আব্দুস সালাম, নাজমুল আহসান খালেদ, মো. এনায়েত উল্লা, আহামেদুল হক, মোহাম্মদ ইমাদুর রহমান, মো. রফিকুল ইসলাম, আনোয়ার হোসাইন ও মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ। এনায়েত উল্লা সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠনের পর চার স্বতন্ত্র পরিচালকের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে ব্যাংকটির পরিচালনা কাঠামোয় আরও একটি পরিবর্তন এলো।
দেশের প্রতিটি সংসদীয় আসনে ক্যাডেট কলেজের আদলে দুটি করে মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন নরসিংদী-১ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন। এ হিসাবে সারা দেশে মোট ৬০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নরসিংদীর ঘোড়াদিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে প্রাথমিক বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সদর উপজেলার ৪০০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে বৃত্তির সনদ ও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। খায়রুল কবির খোকন বলেন, প্রতিটি সংসদীয় আসনে ক্যাডেট কলেজের মতো মানসম্পন্ন দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা হলে সাধারণ পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত শিক্ষার সুযোগ তৈরি হবে। এসব প্রতিষ্ঠানে নামমাত্র খরচে পড়াশোনার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, নরসিংদী সদর এলাকাতেও দুটি এমন প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হবে। এতে এলাকার মেধাবী শিক্ষার্থীরা আধুনিক ও মানসম্মত পরিবেশে পড়াশোনা করার সুযোগ পাবে এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জন করতে পারবে। শিক্ষাব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একসময় শিক্ষকদের পেনশন কিংবা বদলি সংক্রান্ত কাজে দীর্ঘদিন ধরে দাপ্তরিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হতো। অনেক ক্ষেত্রে আর্থিক হয়রানিরও অভিযোগ ছিল। বর্তমানে অনলাইনভিত্তিক কার্যক্রম চালু হওয়ায় এসব জটিলতা অনেকটাই কমেছে। তিনি আরও বলেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পেনশনের অর্থের জন্য এখন আর বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরতে হবে না। ডিজিটাল ব্যবস্থায় তাঁদের প্রাপ্য অর্থ সরাসরি ব্যাংক হিসাবে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শিক্ষকদের বদলি ও পদায়ন নিয়েও বক্তব্য দেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, আগের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা ভিআইপির সুপারিশে শিক্ষক বদলির সুযোগ থাকবে না। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী যৌক্তিক ও মানবিক কারণ থাকলেই বদলির আবেদন বিবেচনা করা হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা জাহান সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিরঞ্জন কুমার রায়, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এবং স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।
ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহী ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে নতুন করে সরাসরি সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র লড়াইয়ের পাশাপাশি সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধ আরও জটিল হয়ে ওঠার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। লোহিত সাগরের উপকূলীয় বন্দরনগরী মোখা হুতিদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের তাইজ শহরের কাছে কাধা এলাকায় সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তাদের সরাসরি সংঘর্ষ শুরু হয়। দুই পক্ষই ওই এলাকায় অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে বলে জানা গেছে। সরকারি বাহিনী হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলাও চালাচ্ছে। অন্যদিকে, উত্তরাঞ্চলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মারিব শহরের পশ্চিমাঞ্চলেও হুতিদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর সংঘর্ষ হয়েছে। আল-মাশজাহ ও আল-জোর এলাকায় হুতিদের বড় ধরনের হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে সরকারি বাহিনী। মাস ক্যাম্পের আশপাশেও ব্যাপক গোলাগুলির খবর পাওয়া গেছে। মারিব ইয়েমেন সরকারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল। সেখানে তেল ও গ্যাসকেন্দ্রের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা রয়েছে। উত্তরাঞ্চলে সরকারি বাহিনীর অন্যতম প্রধান সরবরাহকেন্দ্র হওয়ায় শহরটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। নতুন করে বাস্তুচ্যুত প্রায় ৭৬ হাজার ইয়েমেনে সংঘাত আবার বাড়ায় মানবিক পরিস্থিতিও অবনতির দিকে যাচ্ছে। জাতিসংঘের অভিবাসনবিষয়ক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাতের কারণে প্রায় ৭৬ হাজার মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। সংস্থাটি জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহেই দুই হাজারের বেশি মানুষ ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূল থেকে পালিয়ে আফ্রিকার দেশ জিবুতিতে আশ্রয় নিয়েছেন। ২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। ওই বছর হুতিরা রাজধানী সানা দখল করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে থাকে। পরের বছর সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেন সরকারের সমর্থনে সামরিক অভিযান শুরু করে। ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতির পর সংঘাত কিছুটা কমলেও সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে আবারও বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সৌদি সীমান্তেও হামলা ইয়েমেনে হুতিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সৌদি আরবও বিমান হামলা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে হুতি-সংশ্লিষ্ট সূত্র। হুতিদের দাবি, শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৪৮ ঘণ্টায় তাদের নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন এলাকায় সৌদি বাহিনী ১২৯টি বিমান হামলা চালিয়েছে। তাইজ ও মারিবের আশপাশেও এসব হামলা হয়েছে বলে তাদের দাবি। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইয়েমেন সীমান্তসংলগ্ন জাজান প্রদেশের আল-তুওয়াল এলাকায় একটি হামলার ঘটনায় কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ এ হামলার জন্য হুতিদের দায়ী করেছে। হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের শারুরাহ সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। সেখানে অস্ত্রের গুদাম, কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র লক্ষ্য করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ এ দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। এদিকে হুতিদের ড্রোন হামলার কারণে সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, লোহিত সাগরের উপকূলীয় ইয়ানবু বন্দরে কয়েক দিনের চাহিদা পূরণের মতো তেল মজুত রয়েছে। পাইপলাইন দ্রুত চালু করা সম্ভব না হলে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি থেকে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল কমে যেতে পারে। বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশের সমান এই ঘাটতি আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। হরমুজ ঘিরেও বাড়ছে উত্তেজনা ইয়েমেনের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিকে ঘিরেও নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। রোববার হরমুজের কাছাকাছি কাসেম দ্বীপের কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। এতে একজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য সোমবার ওমানে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে ইরানের। তবে বাহরাইন জানিয়েছে, তারা ওই বৈঠকে অংশ নেবে না। এদিকে আয়ারল্যান্ডে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর বৈঠক নিয়ে তাঁর আপত্তি নেই। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নিজেদের ব্যাপার বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ইয়েমেনে হুতি ও সরকারি বাহিনীর নতুন করে সরাসরি সংঘর্ষ, সৌদি ভূখণ্ডে হামলা এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠছে।
করব্যবস্থায় অনিয়ম, দুর্নীতি ও করদাতাদের হয়রানি কমাতে নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় করদাতাদের সঙ্গে কর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সরাসরি যোগাযোগের প্রয়োজন হবে না। ঘরে বসেই রিটার্ন দাখিল, নিরীক্ষার জবাবসহ করসংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পন্ন করা যাবে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি ভবনে ঢাকা ট্যাকসেস বার অ্যাসোসিয়েশনের ২০২৬-২৭ মেয়াদের নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আহসান হাবিব। এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, এমন একটি করব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ চলছে, যেখানে করদাতাকে কর অফিসে গিয়ে কর্মকর্তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে হবে না। অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার পাশাপাশি নিরীক্ষা সংক্রান্ত কোনো প্রশ্ন বা আপত্তির জবাবও অনলাইনে দেওয়া যাবে। কোনো ভুল বা অসঙ্গতি থাকলে তার ব্যাখ্যাও ডিজিটাল মাধ্যমেই দেওয়ার সুযোগ থাকবে। তিনি বলেন, এ ধরনের ব্যবস্থা চালু হলে করদাতাদের হয়রানি এবং অনিয়মের সুযোগ অনেকাংশে কমে আসবে। একই সঙ্গে কর প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে। অনুষ্ঠানে এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, চলতি বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। এ লক্ষ্য অর্জনে এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি কর আইনজীবীদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। এখনো দেশের অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান করজালের বাইরে রয়েছে। তাদের করব্যবস্থার আওতায় আনার পাশাপাশি নিয়ম অনুযায়ী রাজস্ব আদায়ে সহযোগিতা প্রয়োজন। রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও জনসেবার সঙ্গে কর প্রদানের সম্পর্ক তুলে ধরে তিনি বলেন, জনগণের করের অর্থেই সড়ক, সেতু, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তাই রাষ্ট্রীয় সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি নাগরিকদেরও যথাযথভাবে কর পরিশোধ করা দায়িত্ব। করদাতা ও ব্যবসায়ীদের কোনো ধরনের ঘুষ না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আহসান হাবিব বলেন, কর আদায় বা প্রশাসনিক কাজে কোনো কর্মকর্তা কিংবা জনপ্রতিনিধিকে ঘুষ দেওয়া উচিত নয়। করব্যবস্থার অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে করদাতা, আইনজীবী ও কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, রাষ্ট্র পুনর্গঠনে কর আইনজীবীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট বাস্তবায়নে রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। দেশের প্রায় ৪২ হাজার কর আইনজীবী সম্মিলিতভাবে কাজ করলে রাজস্ব আয় আরও বাড়ানো সম্ভব। তিনি করজালের বাইরে থাকা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে করব্যবস্থার আওতায় আনার পাশাপাশি করদাতাদের হয়রানি বন্ধ এবং কর প্রশাসনে দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রতিরোধে কর আইনজীবীদের সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরসহ এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কর আইনজীবী এবং ঢাকা ট্যাকসেস বার অ্যাসোসিয়েশনের নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা ট্যাকসেস বার অ্যাসোসিয়েশনের ২০২৬-২৭ মেয়াদের নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কর আইনজীবী ফোরামের (নীল প্যানেল) প্রার্থীরা পূর্ণ বিজয় অর্জন করেন। সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মো. মিজানুর রহমান (দুলাল)। সিনিয়র সহসভাপতি হয়েছেন এ কে এম শহীদুল ইসলাম, সহসভাপতি মো. আবুল কালাম মজুমদার এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন অ্যাডভোকেট আশরাফ হোসেন খান। নবনির্বাচিত সভাপতি মো. মিজানুর রহমান বলেন, জাতীয় রাজস্ব সংগ্রহে কর আইনজীবীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তবে তাঁদের কাজের পরিবেশ উন্নত করা প্রয়োজন। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ৪২ জন কর আইনজীবীর জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নেই। বর্তমানে মাত্র ১০ বাই ১২ ফুটের একটি কক্ষে তাঁদের কাজ করতে হচ্ছে। কর আইনজীবীদের জন্য আলাদা ও নির্ধারিত কক্ষ বরাদ্দের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, উপযুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে তাঁদের পেশাগত কার্যক্রম আরও কার্যকর ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে।
সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল-২০২৬ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটির দাবি, বিলের কিছু বিধান কোরআন ও সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাই আইনটি পুনর্বিবেচনা ও প্রয়োজনীয় সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছে তারা। রোববার সকালে রাজধানীতে হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়। সভা শেষে সংগঠনটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মুসলিমদের হেবা বা দানসংক্রান্ত বিষয়ে নতুন আইনি জটিলতা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। ইসলামি শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যথাযথ পরামর্শ ছাড়াই বিলটি দ্রুত পাস করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে হেফাজত। সংগঠনটির নেতারা বলেন, মুসলিমপ্রধান দেশে মুসলিম নাগরিকদের ব্যক্তিগত আইন ও ধর্মীয় বিধানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইন প্রণয়ন বা সংশোধনের ক্ষেত্রে আলেম-ওলামা, ইসলামি আইন বিশেষজ্ঞ ও আইনজ্ঞদের মতামত নেওয়া প্রয়োজন। রাষ্ট্রের আইন প্রণয়নের ক্ষমতাকে তারা অস্বীকার করেন না; তবে ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত আইনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের পরামর্শকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। হেফাজতের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, মুসলিম নাগরিকদের ব্যক্তিগত আইন এবং শরিয়তসম্মত সম্পত্তি বণ্টনব্যবস্থার প্রতি রাষ্ট্রের যথাযথ সম্মান দেখানো প্রয়োজন। এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপের সাম্প্রতিক বক্তব্যেরও সমালোচনা করেছে সংগঠনটি। বিলটি সংশোধনের দাবিতে শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত কর্মসূচি অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। একই সঙ্গে সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির গ্রহণযোগ্য সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে তারা। সংগঠনটির ভাষ্য, মুসলিমদের প্রচলিত হেবা প্রথা ও উত্তরাধিকারীদের অধিকার সুরক্ষায় বিতর্কিত বিধানগুলো পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। এ জন্য সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় সংশোধনের দাবি জানানো হয়েছে। এদিকে বিলটি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। সংগঠনের আমিরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল এ সাক্ষাৎ করবে। ওই দলে হেফাজতের নেতাদের পাশাপাশি ইসলামি ফিকাহ বিশেষজ্ঞদেরও রাখা হবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ৬ সেপ্টেম্বর সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল-২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস হয়। বিলে সম্পত্তি দান বা হস্তান্তরের পরও দাতার জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তি ভোগের অধিকার রাখার সুযোগ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে আনীত দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে তীব্র কটাক্ষ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খাঁন। তার দাবি, নানা দুর্নীতির অভিযোগ ও রাজনৈতিক চাপ থেকে দায়মুক্তি পেতে এবং নিজেকে সুরক্ষার স্বার্থেই আসিফ মাহমুদ জামায়াত জোটে যোগ দিয়েছেন। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন লেখেন, আসিফ মাহমুদ যখন জামায়াতবিরোধী অবস্থান নিয়েছিলেন, আসিফ মাহমুদ যেসময় জামায়াত বিরোধী ছিলেন, সেসময় তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ সত্য ছিলো! এবং সেসময় দুর্নীতির অভিযোগে ড. মুহাম্মাদ ইউনূসের অনুরোধ সত্ত্বেও জামায়াতের আমির তাকে ঢাকা-১০ আসনের নমিনেশন পর্যন্ত দেননি। এখন যেহেতু তিনি জামায়াত জোটের রাজনীতির চর্চা করেন, সুতরাং তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ ভিত্তিহীন! একজন ব্যক্তি অপরাধী নাকি নিরপরাধ, তা বর্তমানে তিনি জামায়াতের সঙ্গে আছেন কি না তার ওপর নির্ভর করছে বলে মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, একজন ব্যক্তি অপরাধী নাকি নিরপরাধ ,সেটি নির্ভর করে সে জামায়াতের লোক কি না! জামায়াত করলে বা জামায়াতকে সমর্থন করলে, একজন ব্যক্তির সমস্ত অপরাধ ধুয়েমুছে যায় এবং তিনি পুরোদস্তুর ফেরেস্তা হয়ে যান! আর তাই আসিফ মাহমুদও তার অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি পেতে জামায়াত জোটে যোগদান করেছেন! তিনি আরও বলেন, এখন আসিফ মাহমুদ পুরোপুরি নিষ্পাপ ,একদম কলঙ্কমুক্ত! আবার যদি কখনো এনসিপি জামায়াত জোট ছাড়ে, তখন আর দুদক লাগবে না, জামায়াত শিবিরই তার দুর্নীতির বিচারের রায় দিয়ে দিবে! দেখা যাক, আসিফ মাহমুদ আর কতোদিন জমায়াত জোটের রাজনীতি করে নিজেকে সেইফ করতে পারেন! তবে এতোটুকু জানতে পারলাম, বাঁচার জন্য তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন থেকে সেইফ এক্সিট নিয়েছেন! জামায়াত তাকে ঢাকা দক্ষিণ ছাড়বে না, সাফ জানিয়ে দেওয়ার পর তিনি উত্তরে গেছেন! পরবর্তীতে জামায়াত নেতা সেলিম উদ্দিনকে সমর্থন দিয়ে তিনি বসে পড়বেন! গণঅভ্যুত্থানের একজন গুরুত্বপূর্ণ মুখপাত্রকে জামায়াতের সমর্থনে দুর্নীতি থেকে বাঁচতে এতো বড় ত্যাগ স্বীকার করতে হচ্ছে... খুবই দুঃখজনক , খুবই দুঃখজনক!
দেশের তরুণ সমাজকে স্বাবলম্বী উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে, আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে একটি নতুন অর্থায়ন কর্মসূচি চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্ট থেকে ‘উদ্যোগ: উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি’ শীর্ষক এই নতুন নীতিমালা জারি করা হয়। দেশের সকল তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো এই নীতিমালার আওতায় নির্বাচিত তরুণ উদ্যোক্তারা সম্পূর্ণ বিনা জামানতে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন সুবিধা লাভ করবেন। নীতিমালা অনুযায়ী, এই তহবিলের সুফল পেতে হলে আবেদনকারীর বয়স আবেদনের শেষ তারিখে সর্বোচ্চ ২৮ বছর হতে হবে এবং তাকে সংশ্লিষ্ট উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা ও বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে। তবে ঋণখেলাপি ব্যক্তি, পূর্বে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যবসায়িক ঋণ গ্রহণকারী এবং সরকারি, আধাসরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এই কর্মসূচির আওতাভুক্ত হবেন না। কারিগরি স্টার্টআপ, কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হালকা প্রকৌশল, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও হস্তশিল্পসহ যেকোনো বৈধ নতুন বা বিদ্যমান ব্যবসায়িক উদ্যোগ এই অর্থায়নের জন্য বিবেচিত হবে। ব্লেন্ডেড ফাইন্যান্স: অর্ধেক ঋণ ও অর্ধেক অনুদান: ব্যবসায়ের প্রকৃত প্রয়োজন ও সম্ভাব্য ব্যয় মূল্যায়ন করে একজন উদ্যোক্তাকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ‘ব্লেন্ডেড ফাইন্যান্স’ প্রদান করা হবে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ব্যাংকঋণ এবং বাকি ১০ লাখ টাকা ম্যাচিং গ্র্যান্ট বা অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে। উদাহরণস্বরূপ—কোনো উদ্যোক্তার ব্যবসায় ১২ লাখ টাকার প্রয়োজন হলে তিনি ৬ লাখ টাকা ঋণ এবং ৬ লাখ টাকা অনুদান পাবেন, যা একই সময়ে তার ব্যাংক হিসাবে জমা হবে। তবে শর্ত রয়েছে যে, ঋণের অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে কিংবা অর্থের কোনো অপব্যবহার করা হলে অনুদানের অংশটিও সুদমুক্ত ঋণে রূপান্তরিত হবে এবং পরবর্তী সময়ে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তা আদায় করা হবে। উদ্যোক্তা বাছাই প্রক্রিয়া ও অতিরিক্ত সহায়তা: স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় যোগ্য উদ্যোক্তা বাছাইয়ের জন্য প্রতিটি উপজেলায় একটি করে লিড ব্যাংক নির্ধারণ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখা থেকে আবেদন ফরম সংগ্রহ ও জমা দেওয়া যাবে। পরবর্তীতে উপজেলা ও জেলা লিড ব্যাংকের মাধ্যমে আবেদনগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হবে। ব্যবসায়িক পরিকল্পনা, বাজার সম্ভাবনা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক, তফসিলি ব্যাংক, সফল উদ্যোক্তা, শিল্প খাত ও শিক্ষাবিদদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ প্যানেল কাজ করবে। চূড়ান্ত বাছাইয়ের পর মনোনীত উদ্যোক্তাদের ১৭ কার্যদিবসের মধ্যে ঋণ অনুমোদনের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া, শুধু অর্থায়ন প্রদানই নয়, বরং অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলো উদ্যোক্তাদের আর্থিক সাক্ষরতা প্রশিক্ষণ, মেন্টরিং, বাজার সংযোগ এবং ট্রেড লাইসেন্স বা ব্যবসা নিবন্ধনের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে।
সম্ভবত স্নায়ুযুদ্ধের সমাপ্তির পর থেকে এখন সবচেয়ে বিপজ্জনক সময়ে। বর্তমানে দুটি বড় ২৯ চলছে-একটি ইউরোপের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে, অন্যটি বিশ্ব জুড়ে জ্বালানি সরবরাহকে। পূর্ব এশিয়ায় চীন ক্রমাগত তাইওয়ানকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। রাশিয়ার সহায়তায় উত্তর কোরিয়া তাদের সামরিক প্রযুক্তির আধুনিকায়ন করছে। সহজ কথায়, আগ্রাসী শক্তিগুলো এখন সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা নিজেদের শাসনব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা, ক্ষতিকর অভ্যন্তরীণ এজেন্ডা বাস্তবায়ন এবং যতটা সম্ভব আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে লড়াই করছে। ইউক্রেন ও ইরান কেন্দ্রিক যুদ্ধ দুটি এখন পর্যন্ত আলাদাভাবেই চলছে। তবু সম্প্রতি এদের মধ্যে কিন্তু সংযোগ বা পারস্পরিক প্রভাব লক্ষ করা গেছে। সেসঙ্গে একটি গভীর আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে, এই সংঘাতগুলো হয়তো শেষ পর্যন্ত বৈশ্বিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। যদিও সেই ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্ভাবন' এখনো ক্ষীণ, তবু প্রকৃত বিপদ বিদাম'ন; কারণ এই দুটি যুদ্ধে লিপ্ত পক্ষগুলোর মধ্যে পারস্পরিক যোগসত্র রয়েছে। তবে আশার কথাও শোনা যাচ্ছে। জানা যাচ্ছে, রাশিয়াও ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসতে চায়। আবার যুক্তরাষ্ট্র ইরান যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে। তবে কেউই তার নিজস্ব শর্তে ছাড় দিচ্ছে না। তাই বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলে ইরান যুদ্ধের সমাপ্তিতে ভূমিকা রাখতে পারে। ইউক্রেন ও ইরান যুদ্ধের সংযোগ ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ইউক্রেন্থণর প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনন্সি এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর বৈঠকের মধ্য দিয়ে সেই সংযোগটি আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। ইউক্রেনের ড্রোন বিশেষজ্ঞরা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে গিয়ে তাদের অর্জিত অভিজ্ঞতা ও কৌশল বিনিময় করেছেন-যা এই সম্পর্কেরই অরেকটি প্রমাণ। এছাড়া কাস্পিয়ান সাগরে রাশিয়া ও ইরানের মধ্যকর একটি সমরিক চালান ধ্বংস করার ঘটনাটিও এই সংগ্রহণকে সামনে নিয়ে এসেছে। ইরান হয়তো পালটা আঘাত করতে চেয়েছিল। কিন্তু তাদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে কারণ ইউক্রেনে হামলা চালাতে হলে সম্ভবত তুরস্কের আকাশসীমা অতিক্রম করতে হবে; আর তুরস্ক এর কঠোর জবাব দেবে মৃত্যু ও ধ্বংসযজ্ঞের বাইরেও ইরান কেন্দ্রিক সংঘাতের তীব্রতা আরো একটি বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকলে তা বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মম্পর ঝুঁকি তৈরি করবে ক্রমবর্ধমান এসব সংকটের মধ্যে একমাত্র ভালো খবর হলো, উল্লান ও ইউক্রেনের যুদ্ধ দুটি একে অন্যের সঙ্গে মিশে যায়নি এবং আমেরিকর মনোযে অন্যদিকে নিবন্ধ থাকার সুযোগ নিয়ে চীন তাইওয়ানে অক্রমণ চালায়নি। চলমান এসব উত্তপ্ত যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে অবশ্য এটুকু স্বস্তি খুব একটা বড় কিছু নয়। যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসতে চায় সবাই সাড়ে চার বছরের বেশি সময় ধরে চলছে ইউক্রেন যুদ্ধ। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথা অনুযায়ী, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত রাশিয়ার প্রায় ৫ লক্ষ সেনা নিহত এবং মোট হতাহতের সংখ্যা ১৫ লাখের কাছাকাছি। যদিও মস্কো এই তথ্য স্বীকার করছে না। তেল শোধনাগার ও জ্বালানি অবকাঠামোতে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় রাশিয়ার জ্বালানি খাত ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়ে পড়েছে। তাছাড়া পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির বাণিজ্য ও বিনিয়োগ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাজার হাজার টাংক ও বর্মযুক্ত সামরিক যান ধ্বংসে রাশিয়ার সামরিক আধুনিকায়ন দীর্ঘ পেছনের দিকে চলে গেছে। ইউক্রেনের অন্তত ৫ লাখ ২৫ হাজার থেকে ৬ লাখ ২৫ হাজার সেনা হতাহত বা নিখোঁজ হয়েছেন। এর মধ্যে নিহতের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার থেকে দেড় লাখের মতো রুশ হামলায় হয়রেনের শহরগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, চিকিৎসাকেন্দ্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লাখ লাখ ইউক্রেনীয় নাগরিক দেশত্যাগী হয়ে শরণার্থী জীবন কাটাচ্ছে, যা দেশটির জনমিতি ও সামগ্রিক সক্ষমতার ওপর অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে এনেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতে চারটি পক্ষ সামরিক, অর্থনৈতিক মানবিকভাবে তীব্র ক্ষতির মুখে পড়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে থাকা অন্তত ১৭টি মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্কিন সেনাসদস্যরা নিহত ও আহত হয়েছেন। হরমুজ প্রণালিতে তেল ট্যাংকার হামলা ও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার করণে বৈশ্বিক কাণিজ্যে ও স্বর্কিন প্রভাবের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিমান হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব, বিপ্লবী গার্ডের কমান্ডার এবং পরমাণু ও সামরিক স্থাপনাগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটিতে হাজারো মানুষ নিহত, আহত ও কস্তুচ্যুত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় অর্থনীতি চরম বিপর্যয়ের মধ্যে। ইরানের ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্তের আঘাতে ইসরাইলের একাধিক সামরিক ও গোয়েন্দা স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লেবানন, ইরাক, পারস্য উপসাগরীয় দেশ এবং জর্ডান পর্যন্ত এই যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ায় পুরো মধ্যপ্রাচ্যে প্রাণহানি ও অবকাঠামোখাত ধ্বংস হয়েছে হরমুজ প্রণালি ও তেলবাহী জাজে হামলার কারণে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতি অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের প্রভাব ইরানে! রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় দেশই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসতে চায়। মস্কো হয়তো মনে করেছিল, অল্প দিনের মধ্যেই কিয়োত পরা ক্ষয় স্বীকার করবে। প্রেসিডেন্ট পুতিন এখনো তার দেশে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বঙ্গয় রেখেছেন এবং আশঙ্কা করছেন, সমঝোতা বা আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটলে তিনি হয়তো ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেন না। ইউক্রেন যেহেতু তাদের কোনো ভূখণ্ডই (যা এখনো রাশিয়ার দখলে যায়নি) ছেড়ে দিতে রাজি নয়, তাই সম্ভাব্য সমঝোতা হলে পুতিনের হাতে দেখানোর মতো তেমন কোনো অর্জনই থাকবে না আবার ইউক্রেনের প্রেসিটে জেলেনস্কিও জানেন, রাশিয়াকে ভূখণ্ড ছেড়ে দিয়ে সমঝোতা হলে তার ক্ষমতাও টিকে থাকবে না। কারণ তিনি দিন দিন দেশে অজনপ্রিয় হয়ে উঠছেন। কেবল ইউক্রেন নয়, রাশিয়ার সঙ্গে এ ধরনের সমঝোতা হলে তা ইউরোপের জন্য পর জয় স্বীকার করা হবে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র আটকে গেছে ইরান যুদ্ধে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসন হয়তো মনে করেছিল যে, প্রথম হামলাতেই ইরানে সরকার পরিবর্তন হবে। কিন্তু সেটা হয়নি, বরং মার্কিন ও ইসরাইলি হামলায় বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ায় সাধারণ জনগণ এখন সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছে। আবার তেহরানের হামলায় ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে বিশ্বের পর শক্তি যুক্তরাষ্ট্রের। তাই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চান দ্রুত যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসতে এই সুযোগই নিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন তার পরামর্শ, যুক্তরাষ্ট্র যদি তার মিত্র এবং তার ওপর নির্ভরশীল ইউক্রেনকে বাগে এনে যুদ্ধ থামাতে পারে, তাহলে তিনিও ইরানকে চাপ দিয়ে যুদ্ধ থামাতে জোর প্রচেষ্টা চালাবেন। ইরানও রাশিয়ার অন্যতম মিত্র এবং সামরিক সহায়তার মুখাপেক্ষী। যুদ্ধ থামাতে প্রথম বার ব্যর্থ যুক্তরাষ্ট্র এবার দ্বিতীয় বারের মতো চেষ্টা চালাচ্ছে। মার্কিন প্রতিনিধিদল রাশিয়া ও ইউক্রেন সফর করেছে এবং দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তবে এখনো আশার বাণী তারা শেনতে পারেননি। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, দ্রুত যুদ্ধ শেষ হবে। আবার ইউক্রেনেও রুশ হামলার মাত্রা বাড়ছে। প্রেসিডেন্ট জেলেনন্সি এখন প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে বৈঠকেরও প্রস্তাব দিয়েছেন তাই পুতিনের আহ্বান শেষ ট্রাম্প কস্তবায়ন করতে পারবেন কিনা তার ওপরই নির্ভর করছে বিশ্বের আরেকটি ভয়াবহ যুদ্ধ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা
মাদকের বিষয়ে কাউকে ন্যূনতম ছাড় দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) এস এ জিন্নাহ কবির। তিনি বলেন, দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা কিংবা মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত থাকার সুযোগ নেই। দলের কেউ মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাকেও আইনের আওতায় আনতে হবে। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে শিবালয় উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এমপি জিন্নাহ কবির বলেন, প্রতিটি এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের বিষয়ে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে। মাদক নির্মূল করা গেলে চাঁদাবাজি ও সামাজিক অপরাধও কমে আসবে। তিনি আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্বিতীয় বিপ্লবকে সফল করতে হলে সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করতে হবে। স্বয়ংসম্পূর্ণ আগামীর সোনার বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশ আমাদের সবাইকে মেনে চলতে হবে। মাদকের বিষয়ে কাউকে ন্যূনতম ছাড় দেওয়া হবে না। জিন্নাহ কবির বলেন, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে আমার সংসদীয় এলাকা শিবালয়, ঘিওর ও দৌলতপুর উপজেলায় অর্ধশতাধিক মাদকবিরোধী সমাবেশ করেছি। বর্তমানেও এ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সংসদ অধিবেশন ছাড়া অন্য সময়ে প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো এলাকায় গিয়ে মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরে মানুষকে সচেতন করছি। মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পুলিশ প্রশাসনকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দীপু, শিবালয় উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রহমত আলী লাভলু, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান লিটন, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এস এম বাবুল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক নাসিরুদ্দিন, কৃষক দলের সভাপতি আনিসুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন বাদলসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ইব্রাহিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু মুছাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টায় উপজেলার ইব্রাহিমপুর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নবীনগর থানা-পুলিশের একটি দল ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের জাফরপুর গ্রামে অভিযান চালায়। এ সময় গ্রামের বাবুল মিয়ার চায়ের দোকান থেকে ইউপি চেয়ারম্যান আবু মুছাকে গ্রেফতার করা হয়। এদিকে আবু মুছাকে গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে তার পরিবার। পরিবারের সদস্যদের দাবি, বেশ কিছুদিন যাবৎ নবীনগরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক মামলায় নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। আবু মুছাকেও সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। নবীনগর থানার ওসি মোর্শেদ আলম চৌধুরী বলেন, ‘ইউপি চেয়ারম্যান আবু মুছার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। রোববার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে রাজনৈতিক মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে সোমবার সকালে আসামিকে আদালতে পাঠানো হবে।’
ম্যানচেস্টার ডার্বিতে বিতর্ক, ভিএআর নাটক আর লাল কার্ডের মধ্যেও শেষ হাসি হাসল ম্যানচেস্টার সিটি। ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ১-০ গোলে হারিয়েছে পেপ গার্দিওলার দল। ম্যাচের ২৩তম মিনিটেই ঘটে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা। বল দখলের লড়াইয়ে ম্যানইউ অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেস ও সিটির ফিল ফোডেন দুজনই মাটিতে পড়ে যান। একপর্যায়ে বলের ওপর পড়ে থাকা ফোডেনকে সরাতে গিয়ে ফার্নান্দেস বল লাথি মারেন, যা গিয়ে লাগে ইংলিশ মিডফিল্ডারের পিঠে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ফোডেন পাল্টা ফার্নান্দেসের পেটে লাথি মারেন। ঘটনাটি পর্যালোচনা করে রেফারি মাইকেল অলিভার সরাসরি লাল কার্ড দেখান ফোডেনকে। একজন কম নিয়ে খেললেও ম্যাচের ৬০তম মিনিটে এগিয়ে যায় সিটি। জোসকো গাভার্দিওলের দিক পরিবর্তন করা ক্রস থেকে পেছনের পোস্টে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে জাল খুঁজে নেন আর্লিং হালান্ড। প্রথমে অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করা হলেও দীর্ঘ ভিএআর পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত বদলানো হয়। রিপ্লেতে দেখা যায়, ইউনাইটেডের প্যাট্রিক ডরগুর বাড়িয়ে দেওয়া পায়ের কারণে অল্পের জন্য অনসাইডে ছিলেন হালান্ড। এদিকে অফসাইড অবস্থানে থাকা এঞ্জো ফার্নান্দেস বলের দিকে হেড করার চেষ্টা করলেও সেটি স্পর্শ করতে পারেননি। ভিএআর কর্মকর্তারা মনে করেন, তিনি খেলায় সরাসরি কোনো প্রভাব ফেলেননি। ফলে গোলটি বৈধ ঘোষণা করা হয়। গোল হজমের পর ম্যাচের শেষ দিকে একের পর এক আক্রমণ চালায় ইউনাইটেড। তবে সিটির রক্ষণ ভাঙতে ব্যর্থ হয় স্বাগতিকরা। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে গার্দিওলার শিষ্যরা। এই জয়ে চার ম্যাচে পূর্ণ ১২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে ম্যানচেস্টার সিটি। সমান ম্যাচে এক ড্র ও দুই হারে মাত্র ৪ পয়েন্ট নিয়ে ১৩তম স্থানে রয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।
ব্যাট হাতে শিরোপার মঞ্চ তৈরি করে দিয়েছিলেন শেফালি ভার্মা ও স্মৃতি মান্ধানা। এরপর বল হাতে সেই মঞ্চে জয়গান গাইলেন ভারতের বোলাররা। ব্যাটিং-বোলিংয়ে দাপট দেখিয়ে ২০২৬ নারী এশিয়া কাপের শিরোপা নিজেদের করে নিল ভারত। দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে হারিয়েছে ভারত। তাদের ছুড়ে দেওয়া ১৮৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১১১ রানেই গুটিয়ে যায় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। এ জয়ের মধ্য দিয়ে টি-টোয়েন্টি সংস্করণের এশিয়া কাপে ভারতের ট্রফি সংখ্যা দাঁড়াল ৪-এ। এর আগে ওয়ানডে ফরম্যাটের চারটি আসরেই—২০০৪, ২০০৫/০৬, ২০০৬ ও ২০০৮ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত। এদিন টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। শুরু থেকেই আগ্রাসী ব্যাটিং করেন দুই ওপেনার শেফালি ভার্মা ও স্মৃতি মান্ধানা। পাওয়ার প্লে তে লঙ্কান বোলারদের ওপর ছড়ি ঘুরিয়ে ৫৭ রান তুলে নেন এই দুই ব্যাটার। এই ম্যাচ দিয়ে টুর্নামেন্টে প্রথমবার পাওয়ার প্লেতে পঞ্চাশ রান পেরোয় ভারত। এরপরও চলতে থাকে ভারতের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং। মাত্র ২৪ বলে ক্যারিয়ারের ২১তম টি-টোয়েন্টি ফিফটি তুলে নেন শেফালি। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের নারী এশিয়া কাপ ইতিহাসে এটি সবচেয়ে দ্রুততম ফিফটি। শেফালি ও স্মৃতির মারমুখী ব্যাটিংয়ে মাত্র ১০.৩ ওভারেই দলীয় এক শ পেরিয়ে যায় ভারত। নারীদের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০০ বা তার বেশি রানের জুটি গড়ার সংখ্যায় যৌথভাবে শীর্ষে উঠেছেন এই দুজন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের এশা ওজা ও থির্থা সতীশের গড়া ছয়টি শতরানের জুটিকে স্পর্শ করেছেন তারা। শেফালির পর ফিফটি তুলে নেন আরেক ওপেনার স্মৃতি মান্ধানা। ৩৫ বলে ক্যারিয়ারের ৩৬তম টি-টোয়েন্টি ফিফটি তুলে নেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। চামুদি প্রভোদার বলে শেফালি ফিরলে ভাঙে ১২৯ রানের জুটি। আউট হওয়ার আগে পাঁচটি চার ও তিন ছক্কায় ৩৯ বলে ৫৯ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। শেফালি ও স্মৃতির ১২৯ রানের জুটি নারী টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপে যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে, কমপক্ষে পাঁচ দল অংশ নেওয়া নারী টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের ফাইনালে এটি সর্বোচ্চ রানের জুটিও। শেফালি ফেরার পরের ওভারেই ফিরে যান স্মৃতি। হারমানপ্রীত কৌরের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে রানআউট হয়ে ফেরেন এই ওপেনার। চলতি টুর্নামেন্টে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো রানআউটের শিকার স্মৃতি। ৪টি চার ও তিনটি ছক্কায় সাহায্যে ৩৯ বলে ৫৯ রান করেন তিনি। দুই ওপেনার ফেরার পর ভারতের রান তোলার গতিতে কিছুটা লাগাম টানেন লঙ্কান বোলাররা। দলীয় ১৬০ রানের মাথায় ১৪ বলে ১৪ রান করে আউট হন হারমানপ্রীত। রিচি ঘোষের ব্যাট থেকে আসে ১৩ বলে ১৭ রান। রানআউট হয়ে ফেরার আগে দিপ্তি শার্মা করেন ৭ বলে ৫ রান। শেষদিকে গুণালন কমলিনীর পাঁচ বলে ১৫ রানের ঝোড়ো ক্যামিওতে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৮৩ রানের সংগ্রহ পায় ভারত। নারীদের টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের ফাইনালের ইতিহাসে এটি সর্বোচ্চ সংগ্রহ। শ্রীলঙ্কার হয়ে চামারি আতাপাত্তু, মিথালি আয়োধ্যা ও নীলাক্ষিকা সিলভা একটি করে উইকেট নেন। ১৮৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে শ্রীলঙ্কা। দলীয় চার রানে প্রথম উইকেট হারায় তারা। দ্বিতীয় উইকেটে ৫৮ রানের জুটি গড়ে শুরুর ধাক্কা সামাল দেন বিশমি গুনারত্নে ও চামারি আতাপাত্তু। ৩৬ রান করে আতাপাত্তু ফেরার পরই কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় শ্রীলঙ্কা। পরের ওভারেই ২০ রান করা গুনারত্নেও আউট হন। এরপর একের পর এক উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে লঙ্কান ব্যাটিং লাইনআপ। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ১১১ রানে অলআউট হয় লঙ্কানরা। ভারতের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেছেন শ্রী চরণী। চার ওভারে ২০ রান খরচায় ৪ উইকেট শিকার করেন তিনি। দীপ্তি শর্মা ৪ ওভারে ১৯ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট।
বাংলাদেশের সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণার প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনও প্রজ্ঞাপন (গেজেট) জারি হয়নি। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। অনেকের আশঙ্কা, প্রক্রিয়াটি আবারও কোনো জটিলতায় আটকে গেল কি না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, ‘এক সপ্তাহের মধ্যে গেজেট হওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। এ কারণে সবাই চিন্তিত।’ গত ৩১ আগস্ট নতুন জাতীয় বেতন কাঠামোর অনুমোদন দেয় সরকার। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। তবে এখন পর্যন্ত সেটি প্রকাশ না হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে সাবেক আমলারা বলছেন, বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদারের মতে, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর গেজেট প্রকাশের আগে একাধিক প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। এসব কাজ শেষ হতে অনেক সময় কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কয়েক মাসও লেগে যেতে পারে। কেন সময় লাগছে? সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, নতুন বেতন কাঠামোর অনুমোদনের পর অর্থ মন্ত্রণালয়কে বিস্তারিত প্রজ্ঞাপনের খসড়া প্রস্তুত করতে হয়। এতে বিভিন্ন গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা কীভাবে বাস্তবায়ন হবে, তার বিস্তারিত নির্দেশনা যুক্ত করা হয়। সাবেক সচিব ড. মো. আনোয়ার উল্ল্যাহ বলেন, শুধু জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী নন, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, সরকারি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার কর্মীদের ক্ষেত্রেও নতুন কাঠামো কীভাবে কার্যকর হবে, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হয়। এসব বিষয় প্রস্তুত করতেই অনেক সময় লাগে। খসড়া প্রস্তুত হওয়ার পর তা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। সেখানে সংবিধান বা বিদ্যমান আইন-কানুনের সঙ্গে কোনো সাংঘর্ষিক বিষয় রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা হয়। পাশাপাশি আইনি ভাষা ও পরিভাষার যথার্থতাও নিশ্চিত করা হয়, যাতে ভবিষ্যতে কোনো জটিলতা না তৈরি হয়। এখনও আইন মন্ত্রণালয়ে যায়নি খসড়া যদিও বিভিন্ন গণমাধ্যমে খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর খবর প্রকাশিত হয়েছে, সেটি এখনও অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছেই রয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, গত সপ্তাহে দুই-এক দিনের মধ্যে খসড়াটি ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে বলে জানানো হয়েছিল। কিন্তু রোববার পর্যন্ত সেটি তাদের কাছে পৌঁছায়নি। অন্যদিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, এটি আটকে থাকার বিষয় নয়। গেজেট প্রকাশের আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও কারিগরি কাজ শেষ করতে কিছুটা সময় লাগছে। বর্তমানে বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা বাস্তবায়নের বিস্তারিত নির্দেশনা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। খুব শিগগিরই খসড়াটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। অতীতে কত সময় লেগেছিল? সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বশেষ জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে। সে সময় ৭ সেপ্টেম্বর অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেলেও চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হতে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল। অর্থাৎ অনুমোদন থেকে গেজেট প্রকাশ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন মাস সময় লেগেছিল। সাবেক কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতেও একই ধরনের প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হচ্ছে। তাই কিছুটা বিলম্ব অস্বাভাবিক নয়। কার কত বেতন বাড়ছে? নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ১ম থেকে ১১তম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বেড়েছে প্রায় ১৪২ শতাংশ। সর্বনিম্ন মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। সর্বোচ্চ মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। সরকার জানিয়েছে, নতুন পে-স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে এবং এটি ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হবে। ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জুলাই মাস থেকেই বর্ধিত বেতনের সুবিধা পাবেন। প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে। এর আগে জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫ সরকারি কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। সেই সুপারিশ এবং পরবর্তী পর্যালোচনা কমিটির মতামতের ভিত্তিতেই বর্তমান সরকার নতুন বেতন কাঠামোর অনুমোদন দিয়েছে।
লেভান্তেকে হারাতে খুব বেশি বেগ পেতে হলো না বার্সেলোনার। তবে শেষ দিকে কিছুটা চাপে পড়েছিল তারা। লামিনে ইয়ামালের জোড়া গোলের সঙ্গে জাভি এসপার্ত ও করিম আদেয়েমির গোলে লেভান্তেকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়েছে বার্সেলোনা। লা লিগায় টানা পাঁচ ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে শীর্ষস্থান আরো মজবুত করেছে হান্সি ফ্লিকের দল। লেভান্তের মাঠে ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল বার্সেলোনার কাছে। ৫ মিনিটেই রাফিনিয়ার পাস থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন এসপার্ত। ১৯ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ইয়ামাল। রাফিনিয়ার তৈরি করে দেওয়া আক্রমণ থেকে বাঁ পায়ের শটে গোলটি করেন এই স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড। বিরতির পরও বার্সেলোনার দাপট অব্যাহত থাকে। ৪৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ইয়ামাল। তিন গোলে এগিয়ে গিয়ে তখন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিয়ে নেয় বার্সা। তবে শেষ ১৫ মিনিটে ম্যাচ কিছুটা জমে ওঠে। ৭৯ মিনিটে লেভান্তের ইভান রোমেরো ব্যবধান কমান। ৮৮ মিনিটে রজার ব্রুগে গোল করলে ব্যবধান নেমে আসে ৩-২ এ। শেষ মুহূর্তে সমতা ফেরানোর শঙ্কা তৈরি হলেও তা দূর করেন আদেয়েমি। যোগ করা সময়ে গোল করে বার্সেলোনার জয় নিশ্চিত করেন তিনি। এই জয়ে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার শীর্ষে বার্সেলোনা। পাঁচ ম্যাচেই ২১ গোল করে ফেলেছে তারা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে পাঁচ হাজার পিস ইয়াবাসহ পাঁচ মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) উপজেলার হরষপুর ইউনিয়নের দেওয়ান বাজার এলাকা থেকে একটি অটোরিকশায় তল্লাশি চালিয়ে ইয়াবা জব্দ করা হয়। এ সময় ইয়াবা বহনকারী অটোরিকশাটিও জব্দ করা হয়েছে। গ্রেফতার মাদক কারবারিরা হলেন, উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের মো. আজগর আলীর ছেলে মো. কবির হোসেন, একই গ্রামের মো. তাজুল ইসলামের ছেলে জাহিদুল ইসলাম, কাজী আবুল ফায়েজের ছেলে হান্নান কাজী (রুবেল), মৃত সেলিম মিয়ার ছেলে আব্দুল্লাহ এবং মৃত নুরুল হক ভূঁইয়ার ছেলে শহিদ ভূঁইয়া। বিজয়নগর থানার ওসি আহসান উল্লাহ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অটোরিকশাটি আটক করে তল্লাশি চালিয়ে পাঁচ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে। এ সময় পাঁচ মাদক কারবারি যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য আইনে মামলা রুজু করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
শুরুতেই ধাক্কা, ৪৩ রানেই পাঁচ উইকেট নেই! সেখান থেকে আজমতউল্লাহ ওমরজাই ও মোহাম্মদ নবি মিলে আফগানিস্তানকে টেনে তুললেন। দুজনের ব্যাটে ১৫৬ রানের লড়াকু সংগ্রহ পেল দলটি। কিন্তু সেই পুঁজি নিয়ে ভারতের ব্যাটিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারল না আফগান বোলাররা। দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে আফগানিস্তানকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে ভারত। ১৫৭ রানের লক্ষ্য মাত্র ১৩.৪ ওভারে পেরিয়ে গেছে স্বাগতিকরা। ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত। টস জিতে আফগানিস্তানকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিলেন ভারতের অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার। নতুন বলে আর্শদীপ সিংয়ের দাপটে শুরুতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ভারত। একের পর এক উইকেট হারিয়ে ৪৩ রানেই পাঁচ ব্যাটারকে হারায় আফগানরা। পরে ওমরজাই-নবির জুটিতে ঘুরে দাঁড়ালেও ভারতের সামনে সেটি যথেষ্ট হয়নি। ওমরজাই ও নবি মিলে ৫৬ বলে ৮৩ রানের জুটি গড়েন। নবি ২৭ বলে ৩৩ রান করেন, আর ওমরজাই ৪৪ বলে ৬৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৫৬ রান সংগ্রহ করে আফগানিস্তান। ভারতের হয়ে আর্শদীপ সিং ১৯ রানে ৩ উইকেট নেন। জাসপ্রিত বুমরাহ, অক্ষর প্যাটেল ও বরুণ চক্রবর্তী নেন একটি করে উইকেট। জবাবে ১৮ রানে সঞ্জু স্যামসানকে হারায় ভারত। তবে এতে থেমে থাকেনি ভারতের আগ্রাসী ব্যাটিং। আরেক ওপেনার অভিষেক শর্মা ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ২২ বলে তুলে নেন ফিফটি। আউট হওয়ার আগে ৩২ বলে ৮২ রান করেন অভিষেক। তার ইনিংসে ছিল সমান ৭টি ছক্কা ও চার। অভিষেকের বিদায়ের পর জয়ের পথে কোনো সমস্যা হয়নি ভারতের। ইশান কিশান ৩৩ বলে ৪২ রান করে ভারতের জয়কে সহজ করে দেন। তার আউটের পর বাকি কাজটুকু সারেন শ্রেয়াস আইয়ার ও তিলক ভার্মা। ৩৮ বল হাতে রেখেই লক্ষ্য পেরিয়ে ভারত। এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত। একই মাঠে মঙ্গলবার সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।