শিক্ষা

চলতি শিক্ষাবর্ষেই প্রাথমিকে চালু হচ্ছে ‘নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি’
চলতি শিক্ষাবর্ষেই প্রাথমিকে চালু হচ্ছে ‘নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি’

চলতি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পরিমার্জিত মূল্যায়ন কাঠামো কার্যকরের লক্ষ্যে মূল্যায়নবিষয়ক পরিমার্জিত অনুচ্ছেদ অনুমোদন করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি (এনসিসিসি)। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানার সভাপতিত্বে গত ২৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত এনসিসিসির সভায় এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। এসময় জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি), প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভা সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও শিক্ষার্থীবান্ধব ও দক্ষতাভিত্তিক করতে ধারাবাহিক মূল্যায়ন (Continuous Assessment) এবং সামষ্টিক মূল্যায়ন (Summative Assessment)-এর মধ্যে যৌক্তিক সমন্বয় আনা হয়েছে। এ কাঠামোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বিত মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হবে। সভায় জানানো হয়, কার্যকর হতে যাওয়া নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি অনুযায়ী প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে সব বিষয়ে ধারাবাহিক ও সামষ্টিক মূল্যায়নের অনুপাত থাকবে ৫০:৫০। তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষক সহায়িকার ভিত্তিতে ধারাবাহিক মূল্যায়ন ৩০ শতাংশ এবং সামষ্টিক মূল্যায়ন ৭০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শ্রেণিতে কেবল ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমেও শিক্ষার্থীর অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হবে। এতে আরও জানানো হয়, মূল্যায়নবিষয়ক পরিমার্জিত অনুচ্ছেদটি প্রচার এবং সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে। পাশাপাশি জাতীয় শিক্ষাক্রম কাঠামো (NCF) সংরক্ষণ এবং মূল্যায়ন নির্দেশিকার প্রশাসনিক অনুমোদনের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নতুন এই মূল্যায়ন ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের মুখস্থনির্ভরতা কমিয়ে বাস্তবভিত্তিক শেখার অভিজ্ঞতা জোরদার করবে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয়ের জন্য মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর ও সহজ করবে। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, জাতীয় শিক্ষাক্রম ২০২১ বাস্তবায়নে এ সিদ্ধান্ত প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে।

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
জবিতে হিস্টোরি অলিম্পিয়াডের উদ্বোধন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)-এর উদ্যোগে হিস্টোরি অলিম্পিয়াডের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শিক্ষক সমিতির লাউঞ্জে (শহীদ সাজিদ ভবনের নিচতলায়) উদ্বোধন করা হয়। আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে হিস্টোরি অলিম্পিয়াডের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও জকসু সভাপতি অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম। এ সময় উপাচার্য এ ধরনের উদ্ভাবনী উদ্যোগের জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য একাডেমিক ও গবেষণাভিত্তিক কার্যক্রমকে অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। একাডেমিক উৎকর্ষতা তুলে ধরতে পারলে নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে জকসু’র সহ-সভাপতি (ভিপি) মো. রিয়াজুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম আরিফসহ জকসু’র নির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
জবির প্রথম কেন্দ্রীয় ও গ্লোবাল অ্যালামনাই প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)-এর আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদকের উদ্যোগে এবং জবি আইটি সোসাইটি ও সিএসই ক্লাবের যৌথ সহযোগিতায় প্রথমবারের মতো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ও গ্লোবাল অ্যালামনাই প্ল্যাটফর্ম (জেএনইউজিএএন)-এর ওয়েবসাইটের উদ্বোধন করা হয়েছে।  আজ রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির লাউঞ্জে (শহিদ সাজিদ ভবনের নিচতলায়) এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।  উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্ল্যাটফর্মটির ওয়েবসাইটের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও জকসু সভাপতি অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম।  এ সময় তিনি এ ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সংশ্লিষ্টদের অভিনন্দন জানান এবং প্ল্যাটফর্মটির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শিক্ষার্থীবান্ধব এমন উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন উপাচার্য। জকসু’র সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম আরিফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নওশিন নওয়ার জয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে ওয়েবসাইটটি উপস্থাপন করেন।  তিনি উল্লেখ করেন, দেশ ও বিদেশে অবস্থানরত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির লক্ষ্যে এই প্ল্যাটফর্ম কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। এর মাধ্যমে অ্যালামনাইদের মধ্যে শক্তিশালী নেটওয়ার্কিং গড়ে উঠবে এবং ক্যারিয়ার উন্নয়ন ও ইন্টার্নশিপসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। অনুষ্ঠানে জকসু’র সহ-সভাপতি (ভিপি) মো. রিয়াজুল ইসলাম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই সংগঠন গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় জকসু’র নির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বিশ্বমঞ্চে একীভূত করার লক্ষ্যে এই ওয়েবসাইটটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আগ্রহীরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম কেন্দ্রীয় ও গ্লোবাল অ্যালামনাই প্ল্যাটফর্মের ওয়েবসাইট (jnugan.jnucsu.com) লিংকে প্রবেশ করে নিবন্ধন করতে পারবেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বকেয়া বিল সাবমিটের নির্দেশ মাউশির

দেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের ডিসেম্বর-২০২৪ থেকে জুলাই-২০২৫ পর্যন্ত বকেয়া বেতন-ভাতা ইএফটি’র মাধ্যমে বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানদের আগামী ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই বকেয়া বিল অনলাইনে সাবমিট করার নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। আজ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর বি. এম. আব্দুল হান্নান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যেসব শিক্ষক-কর্মচারীর তথ্য এনআইডি বা ব্যাংকসংক্রান্ত জটিলতায় আগে ‘ইনভ্যালিড’ ছিল কিন্তু বর্তমানে সঠিক হওয়ায় বেতন সচল হয়েছে, তাদের বকেয়া প্রদানের জন্য ইএমআইএস সিস্টেমের বিল সাবমিট অপশনে যুক্ত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠান প্রধানরা তাদের নির্ধারিত আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ইএমআইএস সিস্টেমের ‘এমপিও-ইএফটি’ মডিউলে লগইন করে বকেয়া মাসের বিল আলাদা আলাদাভাবে সাবমিট করবেন। প্রতিষ্ঠান প্রধানের দাখিলকৃত তথ্যেও ভিত্তিতে শিক্ষক-কর্মচারীদের বকেয়া অর্থ প্রেরণ করা হবে। এতে বলা হয়, ইএফটি চালুর পর ইতোমধ্যে যারা অনলাইন আবেদনের মাধ্যমে বকেয়া গ্রহণ করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে ‘পেমেন্ট নেই’ অপশন সিলেক্ট করতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, মৃত, পদত্যাগকারী বা সাময়িক বরখাস্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বিধিমোতাবেক প্রাপ্যতা নির্ধারণ করে বিল দিতে হবে। কোনো ভুল তথ্য বা অতিরিক্ত অর্থ প্রেরিত হলে তার দায়ভার প্রতিষ্ঠান প্রধানের ওপর বর্তাবে। প্রতিষ্ঠান প্রধান কর্তৃক দাখিলকৃত তথ্যের ভিত্তিতেই শিক্ষক-কর্মচারীদের স্ব-স্ব ব্যাংক হিসাবে ইএফটি-র মাধ্যমে সরাসরি বকেয়া অর্থ প্রেরণ করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপনে চীন-বাংলাদেশ যৌথ প্রকল্প: নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের তথ্য চাইল মাউশি

বাংলাদেশ ও চীন সরকারের যৌথ উদ্যোগে দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ স্থাপনের লক্ষ্যে নির্বাচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অফিসসমূহের তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। এরই অংশ হিসেবে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনলাইনে তথ্য প্রদানের জন্য মাউশির পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার সহকারী পরিচালক মিনহাজউদ্দীন আহম্মদ স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি বিজ্ঞপ্তিতে আজ রোববার এই নির্দেশনা সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়েছে।  বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে,‘এস্টাবলিস্টমেন্ট অব স্মার্ট ক্লাসরুম ইন সিলেক্টেড সেকেন্ডারি স্কুলস অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে ৩০০টি স্মার্ট ক্লাসরুম, ৩০টি কনফারেন্স/মিটিং রুম এবং ১০টি রেকর্ডিং রুম স্থাপন করা হবে। চীনা কারিগরি দল ‘অ্যারোস্পেস প্ল্যানিং অ্যান্ড ডিজাইন গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড’ ইতোমধ্যে প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি সম্পন্ন করেছে। এতে বলা হয়, প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আঞ্চলিক পরিচালকের কার্যালয় এবং সরকারি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজসমূহকে নির্ধারিত গুগল ফর্মে তথ্য প্রদান করতে হবে। রেকর্ডিং ও কনফারেন্স রুমের জন্য প্রতিষ্ঠানের অপেক্ষাকৃত নতুন ভবন এবং উঁচু তলার কক্ষগুলোকে প্রাধান্য দিতে বলা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা শিক্ষা অফিসার এবং বিদ্যালয় ও কলেজের প্রধানদের নির্ভুল তথ্য জমা নিশ্চিত করতে হবে। প্রকল্পের চূড়ান্ত কারিগরি সমাধান এবং বাস্তব অবস্থা যাচাইয়ের জন্য চীনা কারিগরি দলের সরবরাহকৃত প্রশ্নমালার আলোকে এই তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে প্রকল্পের ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তার (মোবাইল নম্বর ০১৫১৫৬৭৮৯০৪) সাথে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেশনাল স্নাতক ভর্তি আবেদনের সময় বৃদ্ধি

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ১ম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) প্রফেশনাল ভর্তি কার্যক্রমের অনলাইনে প্রাথমিক আবেদনের সময় বাড়ানো হয়েছে।  সংশোধিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকপূর্ব শিক্ষা বিষয়ক স্কুলের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. মো. আবুদ্দারদা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ রোববার এ তথ্য জানানো হয়েছে। ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভর্তিচ্ছু প্রার্থীদের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ওয়েবসাইট (www.nu.ac.bd/admissions) থেকে প্রাথমিক আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। আবেদন ফি বাবদ ১ হাজার টাকা সংশ্লিষ্ট কলেজ কর্তৃক নির্ধারিত মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অথবা সরাসরি ২৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে জমা দিতে হবে। সংশোধিত গুরুত্বপূর্ণ সময়সূচি অনুযায়ী, অনলাইনে প্রাথমিক আবেদন ও ফরম সংগ্রহের শেষ তারিখ ২২ ফেব্রুয়ারি, আবেদন ফি (১ হাজার টাকা) জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৩ ফেব্রুয়ারি, কলেজ কর্তৃক অনলাইনে আবেদন নিশ্চয়ন করার শেষ তারিখ ২৪ ফেব্রুয়ারি, কলেজ কর্তৃক আবেদন ফি’র নির্ধারিত অংশ সোনালী ব্যাংকে জমা দেওয়ার তারিখ ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ৪ মার্চ পর্যন্ত। ভর্তি সংক্রান্ত বিস্তারিত শর্ত ও নির্দেশিকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের প্রফেশনাল (Professional) অপশনে এডমিশন গাইডলাইন (Admission Guideline) লিংকে পাওয়া যাবে।  এর আগে গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর প্রকাশিত ভর্তি বিজ্ঞপ্তির অন্যান্য সকল শর্ত ও নিয়মাবলী অপরিবর্তিত থাকবে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ঢাবি ক্যাম্পাসে ভাষা পদযাত্রা

মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক ভাষা পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে এ পদযাত্রার আয়োজন করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা প্রধান অতিথি হিসেবে এই ভাষা পদযাত্রার উদ্বোধন করেন। পদযাত্রাটি কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান ভাষা শহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান, প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ, ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারপার্সন ড. মনিরা বেগম এবং পদযাত্রা উপ-কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক গুলশান আরাসহ বিভাগীয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ ভাষা পদযাত্রায় অংশ নেন। মহান ভাষা আন্দোলনে শহিদ ও ভাষা সৈনিকদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে প্রতিবছর এই পদযাত্রার আয়োজন করা হয়ে থাকে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স ভর্তি আবেদনের সময় ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ল

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ১ম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) ভর্তি কার্যক্রমের অনলাইনে প্রাথমিক আবেদনের সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, আগ্রহী শিক্ষার্থীরা আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকপূর্ব শিক্ষা বিষয়ক স্কুলের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. মো. আবুদ্দারদা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে আজ রোববার এ তথ্য জানানো হয়েছে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভর্তিচ্ছু প্রার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ওয়েবসাইট (www.nu.ac.bd/admissions) থেকে অনলাইনে প্রাথমিক আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। আবেদন ফি সংশ্লিষ্ট কলেজ কর্তৃক নির্ধারিত মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অথবা সরাসরি ২৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অবশ্যই জমা দিতে হবে। অনার্স ভর্তির সংশোধিত সময়সূচি অনুযায়ী, অনলাইনে প্রাথমিক আবেদন ও ফরম সংগ্রহের শেষ তারিখ ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, আবেদন ফি (১ হাজার টাকা) জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৩ ফেব্রুয়ারি,  কলেজ কর্তৃক অনলাইনে আবেদন নিশ্চয়ন করার শেষ তারিখ ২৪ ফেব্রুয়ারি, সোনালী ব্যাংকে ফি’র বিশ্ববিদ্যালয় কপি জমা দেওয়ার তারিখ ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ৪ মার্চ পর্যন্ত। উল্লেখ্য, ভর্তি পরীক্ষার তারিখ, সময় ও কেন্দ্র তালিকা পরবর্তীতে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে। আবেদনের শর্তাবলী ও অন্যান্য বিস্তারিত নির্দেশিকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের অনার্স (Honours) অপশনে অনার্স ভর্তি গাইডলাইন (Honours Admission Guideline) লিংকে পাওয়া যাবে।  গত বছরের ২০ নভেম্বর প্রকাশিত মূল বিজ্ঞপ্তির অন্যান্য শর্ত ও নিয়মাবলী অপরিবর্তিত থাকবে বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
কারিগরি বোর্ডের পরীক্ষক সম্মানী বাবদ প্রায় ৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা ছাড়

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন ২০২৫ সালের বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, পরিশোধন এবং উত্তরপত্র মূল্যায়নের পারিশ্রমিক বা সম্মানী বাবদ প্রায় ৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা ছাড় করেছে সরকার। সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, প্রধান পরীক্ষক, পরীক্ষক ও নিরীক্ষকগণের পাওনা পারিশ্রমিক ইতোমধ্যে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে স্ব স্ব ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হয়েছে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সচিব মো. আল মাসুদ করিম স্বাক্ষরিত পৃথক চারটি স্মারকে এই অর্থ ছাড়ের আদেশ আজ রোববার বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। কারিগরি বোর্ড জানায়, পৃথক চারটি আদেশের মাধ্যমে মোট ৫ হাজার ৪৮৪টি বিলের বিপরীতে ৬ কোটি ৩৯ লাখ ৭ হাজার ৪৩৩ টাকা ৬৭ পয়সা ছাড় করা হয়েছে। বোর্ডের আদেশে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের এইচএসসি (বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) ও ডিপ্লোমা-ইন-কমার্স ২য় বর্ষ পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য ২ হাজার ৮২১টি বিল বাবদ সবচেয়ে বেশি ৩ কোটি ৮৭ লাখ ৫৩ হাজার ৮১৫ টাকা ১০ পয়সার বিল ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে।  আর ডিপ্লোমা ইন এগ্রিকালচার, ফিসারিজ, লাইভস্টক, ফরেস্ট্রি এবং টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষাক্রমের উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য ১ হাজার ৭৬টি বিল বাবদ ১ কোটি ১১ লাখ ৫৫ হাজার ৫৭ টাকা ৭৫ পয়সা ছাড় করা হয়েছে। আদেশে বলা হয়, ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং সমাপনী ২০২২ প্রবিধান ও সার্টিফিকেট ইন মেরিন ট্রেড এবং ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত এসএসসি, দাখিল, ভোকেশনাল এবং ১ বছর মেয়াদি অ্যাডভান্স সার্টিফিকেট কোর্স শিক্ষক্রম পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও পরিশোধনের ১ হাজার ৩৯০টি বিল বাবদ ২৫ লাখ ২২ হাজার ২০৫ টাকা ছাড় করা হয়েছে। অন্যদিকে জাতীয় দক্ষতামান বেসিক (৩৬০ ঘণ্টা) শিক্ষাক্রমের উত্তরপত্র মূল্যায়নের ১৯৭টি বিল বাবদ ১৫ লাখ ৭৬ হাজার ৩৫৫ টাকা ৮২ পয়সা ছাড় করা হয়েছে।  সোনালী ব্যাংক পিএলসি, আগারগাঁও শাখাকে প্রেরিত চিঠিতে বোর্ড থেকে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রাপকদের সঞ্চয়ী হিসাবে সরাসরি এই অর্থ স্থানান্তর করা হবে। তবে অনলাইন ব্যাংক চার্জ প্রাপকের প্রাপ্য টাকা থেকে কর্তন করা হবে। বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যদি কোনো পরীক্ষক বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব নম্বরে ভুল বা গরমিল থাকে, তবে সেই অর্থ বোর্ডের ‘সান্ড্রি’ হিসাবে জমা থাকবে। পরবর্তীতে সংশোধিত আবেদন সাপেক্ষে ওই অর্থ পুনরায় প্রেরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
২৭তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের তথ্য চেয়েছে মাউশি

২৭তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের নবনিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্স আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। সম্প্রতি নিয়োগপ্রাপ্ত যে সকল কর্মকর্তা এখনও এই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেননি, জরুরি ভিত্তিতে তাদের তথ্য পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ শাখা থেকে গতকাল প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।  সহকারী পরিচালক এস.এম. সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে জানানো হয়, ২০০৫ সালের ২৭তম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে গত ১৮ ডিসেম্বর নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জন্য বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য আগামীকাল ১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টার মধ্যে নির্ধারিত গুগল ফর্মে (https://forms.gle/JJnN9RjCPITAL5xB7 পাঠাতে হবে। এতে আরও বলা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গত ১৮ ডিসেম্বর ৬৩৭ সংখ্যক প্রজ্ঞাপনমূলে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে ১ম পর্যায়ে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, যারা এখনো বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ পাননি। দেশের সকল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষদের তাদের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য যথাসময়ে প্রেরণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। মাউশি জানিয়েছে, ক্যাডার কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও সরকারি কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা দিতেই এই বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের আয়োজন।  উল্লেখ্য, দীর্ঘ আইনি জটিলতা নিরসন শেষে সম্প্রতি ২৭তম বিসিএস-এর এই সংখ্যক প্রার্থীর নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। 

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
বিসিআইয়ের উদ্যোগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল আর্থিক সাক্ষরতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ

বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) আয়োজনে আজ সকালে বিসিআই বোর্ডরুমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও ডিজিটাল আর্থিক সাক্ষরতা বিষয়ক এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ)। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসা পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। শিল্প ও ব্যবসা খাতকে টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক করতে উদ্যোক্তা ও পেশাজীবীদের ডিজিটাল আর্থিক জ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা অর্জন জরুরি। অনুষ্ঠানে বিসিআই সেক্রেটারি জেনারেল ড. মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, বর্তমানে বিশ্বে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে এবং ভবিষ্যতে এর ব্যবহার আরও বিস্তৃত হবে। কর্মশালায় আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন নেটকম লার্নিং বাংলাদেশের সিনিয়র ব্যবস্থাপক মো. ইমদাদুল ইসলাম এবং সীমান্ত ব্যাংক পিএলসি’র সিনিয়র ব্যবস্থাপক ও আর্থিক সাক্ষরতা শাখার প্রধান সঞ্জয় পাল।  কর্মশালায় বিসিআইয়ের সদস্যসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালার শেষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করা হয়। 

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২ হাজার ৮৪১ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয় সম্বলিত ঢাবি’র বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রমসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান এসব প্রকল্পের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে- আর্থ এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদ এবং ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি অনুষদের জন্য ২১ তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন নির্মাণ, ৩য় শ্রেণি কর্মচারীদের আবাসিক ভবন, ১৫ তলা আইটি হাব ভবন নির্মাণ, ৯টি হল (ছাত্র-৪, ছাত্রী-৫), ছয়টি একাডেমিক ভবন, কেন্দ্রীয় মসজিদ, ডাকসু ভবন, মেডিকেল সেন্টার, প্রশাসনিক ভবন, খেলার মাঠ উন্নয়নসহ জিমনেসিয়াম নির্মাণ, জলাধার সংস্কার এবং সৌন্দর্যবর্ধণ, রোড নেটওয়ার্ক এবং পাবলিক টয়লেট নির্মাণ। অনুষ্ঠানে উপাচার্য ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ৪১টি উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম ও অর্জন সম্পর্কে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী’র সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা, প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ, সব অনুষদের ডিন, সব হলের প্রভোস্ট এবং ডাকসু ও হল সংসদ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অফিসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ জাবেদ আলম মৃধা বিভিন্ন প্রকল্পের কার্যক্রম তুলে ধরেন। ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
জুবাইদা ইসলাম ইতি। সংগৃহীত ছবি
রাবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

রাজশাহী নগরীর চন্দ্রিমা থানার মেহেরচণ্ডী এলাকা থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ওই এলাকার একটি আবাসিক বাসা থেকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত শিক্ষার্থীর নাম জুবাইদা ইসলাম ইতি। তিনি রাবি সমাজকর্ম বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাবা ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজে (আইবিএস) পিয়ন হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ইতি মেহেরচণ্ডী এলাকার ওই বাসায় তার মায়ের সঙ্গে বসবাস করতেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মেহেরচণ্ডী এলাকার একটি আবাসিক বাসা থেকে ওই শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রকৃত কারণ উদঘাটনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক শঙ্কর কুমার বিশ্বাস জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে শিক্ষার্থীটিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে সমাজকর্ম বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক গোলাম কিবরিয়া ফেরদৌস বলেন, শিক্ষার্থীর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, মানসিক অবসাদ বা বিষণ্নতা থেকে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে তিনি জানান। ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া ফেলেছে। সহপাঠী ও শিক্ষকরা নিহত শিক্ষার্থীর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ১৩তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত।
ড্যাফোডিলের ১৩তম সমাবর্তনে চার হাজার শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি প্রদান

শিক্ষাজীবনের দীর্ঘ পথচলার ইতি টেনে নতুন জীবনের পথে পা রাখলেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির হাজারো শিক্ষার্থী। আনন্দ, আবেগ আর স্মৃতির মিশেলে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ড্যাফোডিল স্মার্ট সিটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির ১৩তম সমাবর্তন। ঢাকার সাভার উপজেলার বিরুলিয়ায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের প্রতিনিধি হিসেবে সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক এসএম ফয়েজ। সমাবর্তন বক্তা ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও ব্র্যাকের চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান। সমাবর্তনে স্বাগত বক্তব্য দেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. সবুর খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এমআর কবির। অনুষ্ঠানে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক এসএম ফয়েজ বলেন, শিক্ষার্থীরা এমন এক বাস্তবতায় প্রবেশ করছে, যেখানে জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ একসঙ্গে ধারণ করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। শুধু ডিগ্রি নয়, বিবেকবান মানুষ হওয়াটাই শিক্ষার আসল সাফল্য। সমাবর্তন বক্তা হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, দেশের উন্নয়নের এই সময়ে তরুণদের কেবল চাকরিপ্রার্থী হলে চলবে না। তিনি বলেন, মধ্য-আয়ের ফাঁদ এড়াতে হলে উদ্ভাবনী চিন্তা, জ্ঞানভিত্তিক কাজ ও নৈতিক শক্তিকে সামনে আনতে হবে। এই দায়িত্ব এখন তরুণ প্রজন্মের। ড্যাফোডিলের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. সবুর খান বলেন, আজকের সমাবর্তন শিক্ষার্থীদের জীবনে একটি দায়িত্বশীল অধ্যায়ের সূচনা। তিনি বলেন, আজ থেকে গ্র্যাজুয়েটরা আর কেবল শিক্ষার্থী নয়, তারা সমাজ ও রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ রূপকার। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এমআর কবির বলেন, ড্যাফোডিলে অর্জিত শিক্ষা ও দক্ষতা শিক্ষার্থীদের চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত করেছে। সমাবর্তনের আনন্দের মাঝেই ছিল বিদায়ের আবেশ। গ্র্যাজুয়েট মিশকাতুর রহমান মুমু বলেন, এই ক্যাম্পাস, বন্ধু আর হোস্টেলের দিনগুলো খুব দ্রুত শেষ হয়ে গেল। আরও কিছুদিন থাকলে হয়তো বিদায়টা এত কঠিন লাগত না। এবারের সমাবর্তনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের মোট ৪ হাজার ২০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে পাঁচজন কৃতী শিক্ষার্থী পেয়েছেন চ্যান্সেলরস গোল্ড মেডেল, চারজন চেয়ারম্যান গোল্ড মেডেল এবং তিনজন ভাইস চ্যান্সেলরস গোল্ড মেডেল। মোট গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে ৩ হাজার ৩৯১ জন স্নাতক এবং ৬২৯ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ২৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ইসলামনগরে অগ্নিকাণ্ডে জাবির দুই শিক্ষার্থীসহ দগ্ধ ৪ জন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) পার্শ্ববর্তী এলাকা ইসলামনগরের একটি বাসার দ্বিতীয় তলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে জাবির দুই শিক্ষার্থীসহ চারজন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।   মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। দগ্ধরা হলেন—জাবির নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. সাইফুল ইসলাম রনি, আব্দুস সোবহান রায়, হাসিনুর এবং রাহাত।   ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জাকসুর কার্যকরী পরিষদের এক সদস্য জানান, বাড়িটিতে দুই ভাইয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। বিরোধ মীমাংসার উদ্দেশ্যে রনি তার সঙ্গী হাসিনুরকে নিয়ে সেখানে যান। একপর্যায়ে ছোট ভাই রায়হান আগে থেকেই আশপাশে ছড়িয়ে রাখা পেট্রোলে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটে এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত চারজনই দগ্ধ হন।   পরে গুরুতর আহত রনি ও হাসিনুরকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। অন্য দুইজনকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দগ্ধ শিক্ষার্থী রনির পিঠ, হাত এবং একটি চোখ মারাত্মকভাবে পুড়ে গেছে।   এদিকে, পুলিশ জানিয়েছে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত রয়েছেন এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ নিয়োগের ক্ষমতা এনটিআরসিএর হাতে

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে সরকার। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে পরীক্ষা নিয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ করা হবে। এতে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুপারিনটেনডেন্ট ও সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট পদে নিয়োগ পুরোপুরি মেধাভিত্তিক ও কেন্দ্রীয় পরীক্ষার আওতায় এলো। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটে এ-সংক্রান্ত পরিপত্র প্রকাশ করা হয়। পরিপত্র অনুযায়ী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন মোট ১৩ হাজার ৫৯৯টি শূন্যপদে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগের জন্য শিগগিরই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, পরীক্ষার কাঠামো ও নম্বর বণ্টন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের তিন ধাপে পরীক্ষা দিতে হবে। মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। এরমধ্যে লিখিত পরীক্ষা হবে ৮০, শিক্ষাগত সনদ ১২ নম্বর ও মৌখিক পরীক্ষা হবে ৮ নম্বরে। পাস নম্বর ধরা হয়েছে ৪০। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্য থেকে শূন্যপদের সর্বোচ্চ তিন গুণ প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হবেন। সব ধাপের মোট নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম অনুযায়ী ১:১ অনুপাতে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। নির্বাচিত প্রার্থীরা সর্বোচ্চ ৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পছন্দক্রম দিতে পারবেন। প্রয়োজনে ‘Other Option’-এ সম্মতি দিয়ে পছন্দের বাইরে নিয়োগের সুযোগও রাখা হয়েছে। এনটিআরসিএ নিয়োগ সুপারিশ প্রদান করবে ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডি এক মাসের মধ্যে নিয়োগপত্র দিতে বাধ্য থাকবে। তবে, ফৌজদারি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত অথবা বিভাগীয় মামলায় শাস্তিপ্রাপ্ত প্রার্থীরা এই নিয়োগে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। পরিপত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক সব বিধিমালা জরুরি ভিত্তিতে সংশোধনের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। এ ক্ষেত্রে শিক্ষা বোর্ড, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এই পরিপত্র বাস্তবায়িত হলে প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগে অনিয়ম কমবে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্ব নিশ্চিত হবে বলে মনে করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ২৭, ২০২৬ 0
ঢাবির বিজ্ঞান ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের বিজ্ঞান ইউনিটের স্নাতক (আন্ডারগ্র্যাজুয়েট) প্রোগ্রামে ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এ ফল প্রকাশ করা হয়। এ বছর বিজ্ঞান ইউনিটে মোট ১ হাজার ৮৯১টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেন ১ লাখ ১৪ হাজার ১১৪ জন। ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন ১ লাখ ২ হাজার ৯৩ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৭ হাজার ৬২১ শিক্ষার্থী। পাসের হার ৭ দশমিক ৪৬ শতাংশ। গত ২৭ ডিসেম্বর বিজ্ঞান ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। উত্তীর্ণদের মধ্যে বিজ্ঞান শাখা থেকে ৭ হাজার ২১২ জন, মানবিক শাখা থেকে ৩০০ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে ১০৯ জন রয়েছেন। এছাড়া অনিয়মের কারণে ৪ হাজার ২৭৮ পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। ভর্তি পরীক্ষায় রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের নাফিম ফুয়াদ ফাতিন প্রথম স্থান অর্জন করেছেন। দ্বিতীয় হয়েছেন নটর ডেম কলেজের মাহির আহমেদ এবং তৃতীয় হয়েছেন নটর ডেম কলেজের নাবিদ হাসান। ভর্তি পরীক্ষার বিস্তারিত ফলাফল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি সংক্রান্ত ওয়েবসাইট admission.eis.du.ac.bd-এ পাওয়া যাবে। এছাড়া গ্রামীণফোন, বাংলালিংক বা টেলিটক মোবাইল নম্বর থেকে DU SCI লিখে ১৬৩২১ নম্বরে পাঠিয়ে ফিরতি এসএমএসের মাধ্যমে জানা যাবে ফল। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা আগামী ২৭ জানুয়ারি বিকেল ৩টা থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৩টা পর্যন্ত বিস্তারিত ফরম ও বিষয় পছন্দক্রমের ফরম পূরণ করতে পারবেন। বিভিন্ন কোটায় আবেদনকারীদের আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অফিস থেকে সংশ্লিষ্ট কোটার ফরম সংগ্রহ করে যথাযথভাবে পূরণ করে ওই সময়ের মধ্যেই জমা দিতে হবে। ফলাফল পুনঃনিরীক্ষণের জন্য নির্ধারিত ফি প্রদান সাপেক্ষে আগামী ২৭ জানুয়ারি থেকে ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অফিসে আবেদন করা যাবে। পুনঃনিরীক্ষণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জানানো হবে।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ২৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য কঠোর নির্দেশনা

দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট অফিসগুলোতে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ এবং তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে সরকার।   সোমবার (২৬ জানুয়ারি) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) পরিচালক (মাধ্যমিক) প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল এ তথ্য জানান। এর আগে রোববার (২৫ জানুয়ারি) এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষা অফিস ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত পণ্য বিক্রি, ব্যবহার ও প্রচার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মাউশির পরিচালক (মাধ্যমিক) স্বাক্ষরিত আদেশে সরকারের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের ‘যৌথ ঘোষণা’ বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ আদেশে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও দপ্তরকে ‘তামাকমুক্ত’ ঘোষণা করে প্রয়োজনীয় সাইনেজ প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল (এফসিটিসি) অনুযায়ী, তামাক শিল্পের যেকোনো ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা বা প্রচারণা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। নির্দেশনায় শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অস্বাস্থ্যকর খাদ্য ও উচ্চ চিনিযুক্ত পানীয়ের বিপণন সীমিত করার কথা বলা হয়েছে। এর পরিবর্তে স্বাস্থ্যসম্মত বিকল্পসহ ‘হেলদি ক্যান্টিন’ স্থাপনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, ক্যান্টিন বা সরবরাহকৃত খাবারে স্বল্প লবণ, স্বল্প চিনি ও ট্রান্স-ফ্যাটমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি সভা ও অনুষ্ঠানে ক্যাটারিংয়ের ক্ষেত্রে তাজা ফল, বাদাম ও স্বাস্থ্যকর স্ন্যাক্স পরিবেশনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট মাঝারি থেকে উচ্চমাত্রার শারীরিক কার্যক্রম নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠানে খেলার মাঠ নেই, সেখানে ইনডোর কার্যক্রমের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিশুদের জন্য সাঁতার শেখানোর উদ্যোগ এবং কর্মীদের জন্য প্রতি ঘণ্টায় ডেস্কভিত্তিক স্ট্রেচিং ব্যায়াম চালুর কথাও উল্লেখ রয়েছে। নির্দেশনায় সরকারি অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও বয়স্কবান্ধব অবকাঠামো নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সিঁড়ি ও র‌্যাম্পসহ উপযোগী নকশা বাস্তবায়ন, লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি ব্যবহার, সাইক্লিং এবং দীর্ঘক্ষণ বসে না থাকার মতো স্বাস্থ্যবান্ধব জীবনাচার উৎসাহিত করতে সচেতনতা বৃদ্ধির তাগিদ দেওয়া হয়েছে। মাউশি জানিয়েছে, এসব নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে গৃহীত কার্যক্রমের বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়মিতভাবে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের বিশেষ শিক্ষা শাখায় প্রতিবেদন আকারে পাঠাতে বলা হয়েছে।   এ বিষয়ে মাউশির পরিচালক (মাধ্যমিক) প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, এ উদ্যোগের ফলে নতুন প্রজন্মের মধ্যে অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমবে এবং একটি সুস্থ ও কর্মক্ষম জাতি গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২৬, ২০২৬ 0
জবির প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে উপাচার্য-কোষাধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
জবির প্রশাসনিক ভবনে তালা, টানা ৮ ঘণ্টা অবরুদ্ধ উপাচার্য-কোষাধ্যক্ষ

জবির প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে উপাচার্য-কোষাধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। ছবি : কালবেলা বিশেষ বৃত্তির দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২০তম ব্যাচের (২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শারমীন প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত টানা ৮ ঘণ্টা অবরুদ্ধ রয়েছেন তারা। রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন। দুপুর ১২টার দিকে আন্দোলনকারীরা ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। এদিন বিকেল ৩টার দিকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন। তিনি বলেন, ২০ ব্যাচ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম একটি গৌরবান্বিত ব্যাচ। প্রথম বর্ষে পুরান ঢাকার গিঞ্জি পরিবেশে নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। নীতিমালা অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের প্রথম কিস্তিতে যুক্ত করলে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা বৃত্তি থেকে বঞ্চিত হবে। কারণ চলমান পাঁচটি ব্যাচ অনুযায়ী তারা (১৫ ব্যাচ) বৃত্তি পাবে না। কিন্তু যমুনার আন্দোলনে তাদের ভূমিকা অগ্রগণ্য ছিল। তিনি আরও বলেন, আমার একার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোনো কিছু হবে না। এটা ১ মিনিটে নেওয়ার মতো সিদ্ধান্তও নয়। আমরা কমিটির সবার সঙ্গে আলোচনা করে যতদ্রুত সম্ভব এটা সমাধানের চেষ্টা করব। জবির প্রশাসনিক ভবনে তালা, টানা ৮ ঘণ্টা অবরুদ্ধ উপাচার্য-কোষাধ্যক্ষ বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা যাবে না : আদালত এর আগে সকালে আবাসন ভাতার দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ভবনের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি কলাভবন, শহীদ সাজিদ ভবন ও বিজ্ঞান অনুষদের সামনে দিয়ে প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। কর্মসূচি চলাকালে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেন। এর মধ্যে ছিল ‘২০ ব্যাচের অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত, মানি না মানব না’, ‘বৈষম্যের সিদ্ধান্ত, মানি না মানব না’, ‘১, ২, ৩, ৪ বৃত্তি মোদের অধিকার’, ‘বৃত্তি মোদের অধিকার, বৈষম্যের সাধ্য কার’, ‘বৃত্তি আমার অধিকার, না দেওয়ার সাধ্য কার?’ এবং ‘জকসু ও প্রশাসন, দুই দেহ এক মন’। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ২০ ব্যাচের একটি প্রতিনিধিদল বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছে বলে জানা যায়। এ বিষয়ে ইনস্টিটিউট অব মডার্ন ল্যাংগুয়েজ বিভাগের শিক্ষার্থী রাব্বি জানান, আমাদের একটি প্রতিনিধিদল কোষাধ্যক্ষ ম্যাডামের সঙ্গে আলোচনা করছে। লিখিত ছাড়া আমরা এখান থেকে যাব না।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ২৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মাদরাসা শিক্ষকদের পেশাগত মানোন্নয়নে বিএমএড ও এমএমএড কোর্স চালু হচ্ছে

 ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইআবি) অধিভুক্ত সারাদেশের ফাজিল ও কামিল মাদরাসার শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে এক বছর মেয়াদি প্রফেশনাল বিএমএড (ব্যাচেলর অব মাদরাসা এডুকেশন) এবং এমএমএড (মাস্টার্স অব মাদরাসা এডুকেশন) কোর্স চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। আজ রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও পরামর্শ দফতরের পরিচালক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২০ জানুয়ারি বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. শামছুল আলম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ৪০তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় প্রফেসর শামছুল আলম বলেন, ‘পেশাগত উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। মাদরাসা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পেশাগত দক্ষতা, যোগ্যতা বৃদ্ধি ও শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যেই এই প্রফেশনাল কোর্স দুটি চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে মাদরাসা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্রে নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হবেন।’ সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম ও প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান, ট্রেজারার এ এস এম মামুনুর রহমান খলিলী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব খোদেজা খাতুন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবুল বাশার মুহাম্মদ আমীর উদ্দিন, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মিঞা মো. নুরুল হক এবং বাংলাদেশ মাদরাসা টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট-এর অধ্যক্ষ প্রফেসর মাহমুদুল হকসহ সিন্ডিকেটের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বর্তমানে সাতটি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন বিষয়ে তিন বছর মেয়াদি ফাজিল (পাস কোর্স), চার বিষয়ে দুই বছর মেয়াদি কামিল (মাস্টার্স) এবং সাত বিষয়ে এক বছর মেয়াদি কামিল (মাস্টার্স) কোর্স পরিচালিত হচ্ছে। নতুন এই প্রফেশনাল কোর্স দুটি চালুর মাধ্যমে মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় বিশেষায়িত উচ্চতর প্রশিক্ষণের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ২৫, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি
আন্দোলনে জুতা নিক্ষেপ, জাককানইবি শিক্ষার্থী বহিষ্কার

তা নিক্ষেপের ঘটনায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) ব্যবস্থাপনা বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে দুই বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে আজীবনের জন্য তার হলের আবাসিক সুবিধাও বাতিল করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে গত ১৪ জানুয়ারি জারিকৃত এক চিঠিতে জানানো হয়, ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাসনিম আহমেদকে এ শাস্তি দেওয়া হয়েছে।   রেজিস্ট্রার দপ্তর সূত্রে জানা যায়, গতবছরের ২০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সভার সিদ্ধান্ত নং–০৩(ক) অনুযায়ী এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৯০তম সিন্ডিকেট সভার তারিখ থেকে পরবর্তী দুই বছর তাসনিম আহমেদ সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম, ক্লাসে উপস্থিতি ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ থেকে বহিষ্কৃত থাকবেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলাবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না এই মর্মে তাকে মুচলেকা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী তাসনিম আহমেদ দৈনিক কালের কণ্ঠকে বলেন, গত বছর ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য কেন্দ্রীয় ইফতারের টোকেন দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে আমাদের হলের শিক্ষার্থীরা যৌক্তিক দাবি জানিয়ে আন্দোলনে অংশ নিই। আন্দোলনের এক পর্যায়ে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে কিছু ছোড়াছুড়ি হয়। সেসময় আমি জুতা নিক্ষেপ করি, তবে তা কাউকে লক্ষ্য করে ছিল না। তিনি আরো বলেন, পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শৃঙ্খলা কমিটি গঠন করে এবং আমাকে সেখানে ডাকা হয়। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে উপস্থিত হয়ে আমি ক্ষমা প্রার্থনাও করি। আমার উদ্দেশ্য কাউকে আঘাত করা ছিল না। তবু প্রশাসনের সিদ্ধান্তের প্রতি আমি সম্মান প্রদর্শন করছি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মো. মিজানুর রহমান কালের কণ্ঠকে জানান, আমি কেবল শাস্তিসংক্রান্ত চিঠির বিষয়েই বলতে পারব। ঘটনার বিস্তারিত প্রক্টর জানাতে পারবেন, কারণ তিনি শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যসচিব ও তদন্ত কমিটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এ বিষয়ে প্রক্টর মো. মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। প্রসঙ্গত, গত বছরের ১২ মার্চ হলের ইফতারে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের টোকেন না দেওয়াকে কেন্দ্র করে হল প্রভোস্টের বিরুদ্ধে অশোভন আচরণের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ইফতার বয়কটের ডাক দিয়ে প্রভোস্টের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনে নামেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ২৪, ২০২৬ 0
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

Top week

ছবি : সংগৃহীত
জাতীয়

মেট্রোরেলের পর মনোরেল ঢাকার গণপরিবহনে নতুন ভাবনা

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২৭, ২০২৬ 0