সারাদেশ

‘ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হলে জাতি দায়মুক্ত হতে পারে না’

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ২৬, ২০২৬ 0
চট্টগ্রাম মহানগরী ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সমন্বয় সভায় নেতারা।
চট্টগ্রাম মহানগরী ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সমন্বয় সভায় নেতারা।


চট্টগ্রাম মহানগরী ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের উদ্যোগে সমন্বয় সভা হয়েছে।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় দেওয়ানবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ে এ সভা হয়।

এতে সভাপতির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম।

সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, শহীদ শরিফ ওসমান হাদিসহ জুলাই আন্দোলনের সব শহীদের হত্যাকারীরা আজও বিচারের বাইরে রয়ে গেছে। এই নির্মম হত্যাকাণ্ড জাতির ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। অবিলম্বে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করে খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর করতে হবে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হলে শহীদদের আত্মা শান্তি পাবে না এবং জাতি কখনো দায়মুক্ত হতে পারবে না।

সভায় ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের নেতারা বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হলে জাতি দায়মুক্ত হতে পারে না। চট্টগ্রাম মহানগরীর সব আসনের ১১ দলের প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। এই দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। ৫ আগস্ট জুলাই আন্দোলনের শহীদের আকাঙ্ক্ষা ছিল চাঁদা-সন্ত্রাস-দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গঠন।

সভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য, চট্টগ্রাম মহানগরীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সমন্বয়ক মোহাম্মদ উল্লাহর সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা এমদাদ উল্লাহ সোহাইল, খেলাফত মজলিসের মহানগর সভাপতি অধ্যাপক খুরশীদ আলম, বাংলাদেশ নেজাম ইসলাম পার্টির মহানগরী আমির মাওলানা জিয়াউল হোসাইন জিয়া।

আরও বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মহানগর যুগ্ম সমন্বয়ক জোবায়ের হোসাইন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির মহানগর সভাপতি সৈয়দ গিয়াস উদ্দিন আলম, আমার বাংলাদেশ পার্টির মহানগর আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট গোলাম ফারুক, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মহানগর সভাপতি আবু মোজাফফর মুহাম্মদ আনাস, বাংলাদেশ লেবার পার্টির মহানগর সভাপতি আলা উদ্দিন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুস, চট্টগ্রাম মহানগরীর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর শ্রমিককল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি এসএম লুৎফর রহমান, খেলাফত মজলিস মহানগরের সহসভাপতি মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
রাকিব হত্যায় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার সাগর রিমান্ডে

রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় বোরহানুদ্দীন কলেজের শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে (২৫) গুলি ও কুপিয়ে হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার সালাউদ্দিন ওরফে সাগরকে চার দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।    বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার এই আদেশ দেন।  মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার এসআই মো. মিঠু সরকার আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই জিন্নাত আলী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে উল্লেখ করেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাগর তার সহযোগী গোলাম রসুল শিহাব, রাফিন শেখ, শাহরিয়ার নাজিম জয় ও সাগর ফকিরসহ অন্যদের সহায়তায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করেছে। তবে হত্যার মূল কারণ এবং নেপথ্যের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে তথ্য প্রদানে সে বিরত থাকছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের স্বার্থে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।  এর আগে বুধবার (১৮ মার্চ) রাত সাড়ে ৩টার দিকে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী সদরের একটি ভাড়া বাসা থেকে পিস্তল ও গুলিসহ সালাউদ্দিন সাগরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া অন্য দুই আসামি শিহাব ও সাগর (ফকির) গত বুধবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া রাফিন ও জয়ের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। গত রবিবার (১৫ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে শেখ বোরহানুদ্দীন কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাকিবুল ইসলাম রাকিব মোটরসাইকেলে করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যান। সেখানে পৌঁছানো মাত্রই ওত পেতে থাকা ৫-৬ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়। পরে পথচারীরা উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।  এই ঘটনায় নিহত রাকিবের বাবা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী তরিকুল ইসলাম খোকন বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ব্যক্তিগত ও নারীঘটিত আক্রোশ থেকে খুলনার এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর নির্দেশে এই ‘কিলিং মিশন’ পরিচালিত হয়েছিল।

মোঃ ইমরান হোসেন মার্চ ২০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের কারাগারে মৃত্যু, ৩৮ দিন পর ফিরল খাইরুজ্জামালের লাশ

সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের টেরিবাজারে বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ড, নিহত ২

লঞ্চঘাট।

পদ্মায় জাহাজ-লঞ্চ সংঘর্ষে আহত ১০

সদরঘাটে সংঘটিত লঞ্চ দুর্ঘটনা
দুর্ঘটনার দায়ে দুটি লঞ্চের রুট পারমিট বাতিল

রাজধানীর সদরঘাটে সংঘটিত লঞ্চ দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান। গতকাল বুধবার রাতে তিনি সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে পৌঁছে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রতিমন্ত্রী বলেন, মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হবে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দুইটি লঞ্চের রুট পারমিট বাতিল করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং বিআইডব্লিউটিএ পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। তিনি বলেন, একটি তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সংস্থা) আবুল ইসলামকে এবং অপর কমিটির প্রধান করা হয়েছে বিআইডব্লিউটিএ’র পরিচালক (প্রশাসন) সাইফুল ইসলামকে। মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটিতে বিআইডব্লিউটিএ, নৌপরিবহন অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশের প্রতিনিধি রাখা হয়েছে।  প্রতিমন্ত্রী বলেন, তদন্তে যাদের দোষ প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নৌপথে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা এলাউ করা হবে না।  রাজিব আহসান এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং জানান, আহতরা একই পরিবারের সদস্য এবং তারা বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা। আহতদের মধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বাও রয়েছেন। তাদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নিহতের পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদান করা হবে। পরিদর্শনকালে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

মারিয়া রহমান মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

শিশুকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে বাবা-ছেলে গ্রেপ্তার

বিএসএফ সদস্য। ছবি : সংগৃহীত

সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক আহত

ছবি: সংগৃহীত

যমুনা সেতুতে ২৪ ঘণ্টায় সাড়ে ৩ কোটি টোল আদায়

আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র।
ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের বরণে প্রস্তুত খাগড়াছড়ি

পবিত্র ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটিতে পর্যটকদের বরণে প্রস্তুত পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি। পাহাড়, মেঘ, ঝরনা আর সবুজে ঘেরা এই জনপদে প্রতি বছরের মতো এবারও পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়ের প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। জেলার অন্যতম আকর্ষণ আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র, যেখানে পাহাড়চূড়া থেকে বিস্তীর্ণ সবুজ প্রকৃতি মুগ্ধ করে ভ্রমণপিপাসুদের। এখানকার রহস্যময় গুহার অন্ধকার সুড়ঙ্গ পথ পেরিয়ে ভেতরের শীতল পরিবেশ পর্যটকদের দেয় ভিন্নরকম রোমাঞ্চ। এছাড়া স্বচ্ছ জলধারার রিছাং ঝর্ণা, জেলা পরিষদ পার্ক ও মায়াবিনী লেকসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পট ঈদের ছুটিতে হয়ে উঠবে প্রাণবন্ত। বাংলাদেশের জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য সাজেক ভ্যালিতে যাতায়াতের প্রধান পথ খাগড়াছড়ি হওয়ায় এখানেও পর্যটকদের চাপ বাড়ছে। ইতিমধ্যে সাজেক ভ্রমণের জন্য আগ্রহীদের অগ্রিম বুকিং হয়েছে। পর্যটকদের নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের সংস্কার কাজ চলছে এবং সাজেকগামী যানবাহন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। খাগড়াছড়ির অর্থনীতি অনেকটাই পর্যটননির্ভর। পর্যটকদের আগমনে হোটেল, রেস্টুরেন্ট, পরিবহনসহ নানা খাতে ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসে। তাই এ উপলক্ষে হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলোও ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। অধিকাংশ স্থানে আগাম বুকিং চলছে এবং সেবার মান উন্নয়নে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। খাগড়াছড়ি হোটেল মালিক সমিতির সেক্রেটারি অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা জানান, পর্যটকদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় টুরিস্ট পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি খাগড়াছড়ি গেইট এলাকা থেকে সাফারি ও চাঁদের গাড়িসহ বিভিন্ন যানবাহনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যা পর্যটকদের ভ্রমণকে আরো সহজ করবে। এছাড়া শহরের ভেতরে চলাচলের জন্য সহজেই পাওয়া যায় মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার ও সিএনজি চালিত অটোরিকশা। ঢাকা থেকে সরাসরি বাসযোগে এবং চট্টগ্রাম হয়ে সড়কপথেও সহজে খাগড়াছড়ি পৌঁছানো যায়। এদিকে, পরিবেশ সচেতন মহল পর্যটকদের দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছে। পরিবেশ ও উন্নয়ন সংগঠক বিনোদন ত্রিপুরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষায় প্লাস্টিকসহ যেকোনো বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে ফেলা এবং পাহাড়ের পরিবেশ ও সংস্কৃতির ক্ষতি হয়- এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন।  অন্যদিকে জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বাত্মক ব্যবস্থা নিয়েছে এবং পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।’

মারিয়া রহমান মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

ঈদযাত্রার চাপে ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কে ২০ কি.মি যানবাহনের ধীরগতি

ছবি : সংগৃহীত

অরক্ষিত বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকছে, ঝুঁকিতে ৯ হাজার হেক্টর জমি

শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান।

আবারও ইতিহাস গড়বে শোলাকিয়া, আধ্যাত্মিক মহাসমুদ্রে ভাসবে লাখো প্রাণ

0 Comments