সারাদেশ

নান্দাইলে সিএনজিচালককে কুপিয়ে হত্যা

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ২৬, ২০২৬ 0
আবুল কালাম
আবুল কালাম


ময়মনসিংহের নান্দাইলের পল্লীতে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে আবুল কালাম (৩৫) নামের এক সিএনজিচালককে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিবেশীরা। এ সময় বাধা দিতে গেলে আরো পাঁচজনকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। এ ঘটনা ঘটে উপজেলার গাঙাইল ইউনিয়নের অরণ্যপাশা গ্রামে। নিহত কালাম মৃত আরজ আলীর ছেলে।


পুলিশ বলেছে, নিহত কালামের মাথা, দুই হাত, বুক ও পায়ে কোপানোর জখম ছিল। একটি তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, পুলিশ পুরো ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে। শত শত লোকজন ছুটে আসছেন।


রক্তাক্ত মরদেহ বাড়ির পাশেই সড়কের ওপর পড়ে রয়েছে। যে সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি ঘিরে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে তা পাশেই রয়েছে। 
নিহত কালামের ভাতিজি শিমু আক্তার (১৮) জানান, তাঁর চাচা একজন সিএনজিচালক। পাশের মৃত হাবিবুর রহমানের বাড়ির সামনে নিজের সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি দাঁড় করিয়ে দুপুরের খাবার খেতে বাড়িতে প্রবেশ করেন।


ওই সময় হাবিবের ছেলে আল-আমীন ক্ষিপ্ত হয়ে চাচা কালামের কাছে গিয়ে জানতে চায় কেন প্রতিদিন তাদের বাড়ির সামনে সিএনজিটি রাখে। এতে তাদের অসুবিধা হয়।
এসময় দুজনের মধ্যে তর্কের সৃষ্টি হলে আল-আমীন বসতঘর থেকে রামদা বের করে এনে আচমকা কালামকে কোপাতে থাকে। এ ঘটনা দেখে কালামের পাঁচ ভাই প্রতিহত করার চেষ্টা করলে তাদেরকে রামদা দিয়ে হামলা চালায়। এ সময় আল-আমীনের তিন ভাইসহ আরো বেশ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদেরকে কোপাতে থাকে।


কালাম মাটিতে পড়ে গেলে সেখানে আল-আমীন, তার ভাই ও স্বজনরা মিলে উপর্যুপরি কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে চলে যায়। পরে আহত অবস্থায় নিহত কালামের ভাই ফারুক, তাহের, ভাতিজা সুমন ও রুনাসহ পাঁচজনকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ আধুনিক হাসপাতাল ও ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সেখানে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নান্দাইল থানার ওসি আল-আমীন জানান, অভিযুক্তদের ধরতে পুালিশ তৎপর রয়েছে। লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সারাদেশ

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
চট্টগ্রামের টেরিবাজারে বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ড, নিহত ২

চট্টগ্রাম নগরীর ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকা টেরিবাজারে একটি ১০তলা ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন এবং আরো একজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে কে বি অর্কিড প্লাজা নামের ওই ভবনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডে নিহতরা হলেন- চট্টগ্রামের পটিয়ার বধুপুর মির্জাবাড়ি এলাকার মোহাম্মদ ইয়াসিন খালিফার ছেলে মোহাম্মদ ইউনুস (৫২)। চট্টগ্রামের পটিয়া থানাধীন বোয়ালখালী ইউনিয়নের পাচুরিয়া এলাকার মামুনুল কাদেরের ছেলে মো. সোলাইমান। এছাড়া, মোহাম্মদ মামুন (২৮) নামে একজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কে বি অর্কিড প্লাজার চতুর্থ তলায় অবস্থিত একটি টেইলার্স দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলায় ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার রাফিয়াল ফারুক জানান, সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে সংবাদ পাওয়ার পরপরই তাদের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। প্রায় এক ঘণ্টার প্রাণপণ চেষ্টায় সকাল ১০টা ৫৩ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সাহরির পর থেকে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না; সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিদ্যুৎ আসার পরপরই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতি জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যে টেইলার্সের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত, সেখানে কর্মচারীদের বেতন-বোনাস দেওয়ার জন্য আনুমানিক ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা নগদ গচ্ছিত ছিল, যা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ১০ তলা বিশিষ্ট কে বি অর্কিড প্লাজার নিচের পাঁচতলায় শপিংমল, ব্যাংকের শাখা, জুয়েলারি ও টেইলার্স দোকান রয়েছে এবং ওপরের পাঁচতলায় আবাসিক ফ্ল্যাট অবস্থিত।

মারিয়া রহমান মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
লঞ্চঘাট।

পদ্মায় জাহাজ-লঞ্চ সংঘর্ষে আহত ১০

সদরঘাটে সংঘটিত লঞ্চ দুর্ঘটনা

দুর্ঘটনার দায়ে দুটি লঞ্চের রুট পারমিট বাতিল

ছবি : সংগৃহীত

শিশুকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে বাবা-ছেলে গ্রেপ্তার

বিএসএফ সদস্য। ছবি : সংগৃহীত
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক আহত

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার শ্যামকুড় সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে এক বাংলাদেশি যুবক আহত হয়েছেন। বুধবার (১৮ মার্চ) মহেশপুর ৫৮ বিজিবির অধীনস্ত শ্যামকুড় বিওপির মেইন পিলার থেকে প্রায় ৫০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে ফটিককারী নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।‎আহত উজ্জ্বল হোসেন (৩৫) মহেশপুর উপজেলার মাইলবাড়িয়া বসতিপাড়া গ্রামের তোতা মিয়ার ছেলে। ‎এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বুধবার ভোরে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে উজ্জ্বল। এসময় ১৯৪ বিএসএফ ব্যাটেলিয়নের অধীন ফটিকারি ক্যাম্পের টহল দল তাকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এতে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। ‎গুলিবিদ্ধ উজ্জ্বল হোসেন সীমান্তে মাদক চোরাচালান ও মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ‎জানা গেছে, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বুধবার দুপুরে উজ্জ্বলকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে যশোরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ‎মহেশপুর উপজেলার নেপা ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মাহবুর রহমান বলেন, সীমান্তে মাদক ও মানব পাচারের সঙ্গে উজ্জ্বল হোসেন জড়িত ছিল বলে আমরা জানি। ঘটনার দিন সীমান্ত পার হয়ে ভারতে পারাপারের সময় সে গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। মহেশপুর থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, উজ্জল হোসেন নামে একজন চোরাকারবারি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে আহত হয়েছে বলে পুলিশ জানতে পরেছে। বর্তমানে আহত যুবক যশোরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হলেও আশঙ্কামুক্ত রয়েছে বলেও তিনি জানান। ‎এ বিষয়ে মহেশপুর ৫৮ বিজিবি ব্যাটেলিয়নের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মারিয়া রহমান মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

যমুনা সেতুতে ২৪ ঘণ্টায় সাড়ে ৩ কোটি টোল আদায়

আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র।

ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের বরণে প্রস্তুত খাগড়াছড়ি

ছবি : সংগৃহীত

ঈদযাত্রার চাপে ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কে ২০ কি.মি যানবাহনের ধীরগতি

ছবি : সংগৃহীত
অরক্ষিত বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকছে, ঝুঁকিতে ৯ হাজার হেক্টর জমি

টানা তিন দিনের ভারি বর্ষণে বৌলাই ও পাটলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওরের অরক্ষিত নজরখালী বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ শুরু হয়েছে। এতে তাহিরপুর ও মধ্যনগর উপজেলার অন্তত ৮২টি গ্রামের কৃষকদের প্রায় ৯ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।   স্থানীয়দের ভাষ্য, মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ভোর থেকে নজরখালী বাঁধের দুর্বল অংশ দিয়ে হাওরে পানি ঢুকতে শুরু করে। এতে দ্রুত ফসলহানির শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাঁধসংলগ্ন গোলাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দারা জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এই বাঁধে কোনো কাজ করেনি। ফলে কৃষকদের নিজ উদ্যোগেই বাঁধ রক্ষায় এগিয়ে আসতে হচ্ছে। জানা গেছে, টাঙ্গুয়ার হাওর একটি আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি (রামসার সাইট) হওয়ায় নজরখালী বাঁধটি এখনো পাউবোর তালিকাভুক্ত হয়নি। এর ফলে সরকারি কোনো বরাদ্দ বা প্রকল্পের আওতায় না আসায় বছরের পর বছর অবহেলিত রয়েছে বাঁধটি। নজরখালী বাঁধের আওতায় রয়েছে সোনাডুবি, তেকুনিয়া, লামারবিল, বালর ডোবা, গইন্যাকুড়ি, হানিয়া কলমা, হাতিরগাতা, খাউজ্যাউরি, সামসাগর, চটাইন্না, রউয়্যা, রুপাভূই, মুক্তারখলা ও বাগমারা হাওরসহ বিস্তীর্ণ এলাকা। এ অঞ্চলে তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিয়ন এবং মধ্যনগর উপজেলার উত্তর ও দক্ষিণ বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের প্রায় ৯ হাজার হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, প্রতি বছর ফসল রক্ষায় তাদেরই চাঁদা তুলে বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার করতে হয়। এবারও প্রতি কিয়ার জমির জন্য ৩০০ টাকা হারে প্রায় ১০ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। এই অর্থ দিয়ে বাঁশ, চাটাই ও বস্তা কিনে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ নির্মাণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। রূপনগর, রংচী, খিদিরপুর, আমানীপুর ও আন্তরপুরসহ আশপাশের গ্রামের কৃষকরা জানান, দ্রুত বাঁধ নির্মাণ না হলে গনিয়াকুড়ি, নান্দিয়া, রাঙামাটিয়া ও সামসাগরসহ বিস্তীর্ণ হাওর এলাকার ফসল তলিয়ে যাবে। এতে পুরো অঞ্চলের খাদ্য নিরাপত্তা ও স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, কৃষকরা স্বেচ্ছাশ্রমে প্রতি বছর বাঁধ নির্মাণ করলেও প্রশাসনের কাছে বহুবার আবেদন জানিয়েও নজরখালী বাঁধটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। এতে কৃষকদের দুর্ভোগ কমছে না। এদিকে, চলতি অর্থবছরে তাহিরপুর উপজেলায় হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে ৮৮টি প্রকল্পে প্রায় ১৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও নজরখালী বাঁধটি অনুমোদিত তালিকায় স্থান পায়নি। এতে চারটি ইউনিয়নের কৃষকদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।   সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নজরখালী বাঁধটি তালিকাভুক্ত না থাকায় এটি নির্মাণ বা সংস্কারে সরকারি উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান।

আবারও ইতিহাস গড়বে শোলাকিয়া, আধ্যাত্মিক মহাসমুদ্রে ভাসবে লাখো প্রাণ

পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া চারজন

‘ডাকাতির উদ্দেশ্যে’ যাচ্ছিলেন মা-ছেলেসহ ২ পরিবারের ৪ জন, গ্রেপ্তার করল পুলিশ

অটোরিকশাযোগে সরকারি বই নিয়ে যাচ্ছে।

গোপনে সরকারি বই বিক্রি

0 Comments