নারীকে জড়িয়ে সমাজমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে শুরু করে দেশের অখ্যাত বিভিন্ন অনলাইন মিডিয়াতে ছড়িয়ে পড়ছে ভয়ংকর অপতথ্যের জাল।
আগে সাধারণ নারীরা অপতথ্যের ভুক্তভোগী ছিলেন। কিন্তু এখন আধুনিক প্রযুক্তি যেমন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে অন্তর্বর্তী সরকারের নারী উপদেষ্টা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ব্যক্তি, জুলাই আন্দোলনের নারী সমন্বয়ক এবং নারী তারকাদের মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর ছবি-ভিডিও তৈরি করে তাদের বিব্রত করা হচ্ছে। ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানারের বিশ্লেষণে জানা যায়, চলতি বছরের ৯ মাসে শনাক্ত হওয়া ভুয়া তথ্যের ২১ শতাংশ ক্ষেত্রে জড়ানো হয়েছে নারীদের।
এ সময়ে ২৭৬ জন নারীকে জড়িয়ে ৫৬৭টি অপতথ্য শনাক্ত হয়। ২৫ জন নারী রাজনীতিবিদকে জড়িয়ে ছড়ানো হয় ২৩৭টি অপতথ্য। এর মধ্যে দুই নারী উপদেষ্টাকে জড়িয়েও ছড়িয়েছে অপতথ্য।
বিনোদন জগতের ২৯ জন নারী তারকাকে জড়িয়ে ৬৮টি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে। আর সমন্বয়কের ভুয়া পরিচয় দিয়ে ক্রমাগত ভিন্ন নারীর ভুয়া ভিডিও-ছবি প্রচার করা হয়েছে। নারীকে জড়িয়ে ধর্ষণ সংক্রান্ত ৪৪টি ঘটনায় অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনেক সময় নারীদের নামে ভুয়া কনটেন্ট তৈরি করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
যার উদ্দেশ্য কখনো চরিত্রহনন, কখনো তাকে হেয়প্রতিপন্ন করা, কখনো বা জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করা। এসব অপতথ্য শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতিই করে না, নারীর সামাজিক অবস্থান, নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণকেও প্রশ্নের মুখে ফেলে।
গত ৯ মাসে দেশের অন্তত সাতটি রাজনৈতিক দল ও তাদের অঙ্গ সংগঠনের ২৫ জন নারী নেতা-কর্মীকে জড়িয়ে ২৩৭টি অপতথ্য প্রচার করা হয়েছে। এর মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট নারীদের জড়িয়ে সবচেয়ে বেশি ১৮৮টি অপতথ্যের প্রচার দেখা যায়।
সবচেয়ে বেশি গুজব ছড়ানো হয়েছে দলটির সভাপতি শেখ হাসিনাকে জড়িয়ে। এসব অপতথ্যের প্রায় ৮৮ শতাংশ ক্ষেত্রেই শেখ হাসিনাকে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। শেখ হাসিনা ছাড়াও তার পরিবারের আরও তিন নারী সদস্যকে (মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বোন শেখ রেহানা, বোনের মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক) জড়িয়ে আরও ২১টি অপতথ্যের প্রচার ছিল এই ৯ মাসে।
এ ছাড়া দলটির নেত্রী দীপু মনি, মমতাজ বেগম, সেলিনা হায়াৎ আইভী এবং জান্নাত আরা হেনরীকে জড়িয়ে প্রচার হওয়া অপতথ্য শনাক্ত করা হয়েছে।
বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের অন্তত আটজন নারী নেতা-কর্মীকে জড়িয়ে গত ৯ মাসে ২৩টি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে। দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক রুমিন ফারহানাকে জড়িয়ে প্রচার হয়েছে ৯টি অপতথ্য। এ ছাড়া বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে ৮টি, ডা. জুবাইদা রহমান ও তার মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে একটি করে অপতথ্যসহ আরও বেশ কয়েকটি অপতথ্য ছড়ানো হয়।
নতুন আত্মপ্রকাশ করা রাজনৈতিক দল এনসিপির নারী নেত্রীদের জড়িয়ে নিয়মিত অপপ্রচার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর ভুক্তভোগী দলটির নেতৃস্থানীয় পর্যায়ের একাধিক নারী সদস্য। এনসিপি ও এর অঙ্গসংগঠনের সাত নারী নেত্রীকে জড়িয়ে ৯ মাসে অন্তত ৩২টি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারাকে জড়িয়েই প্রচার হয়েছে ১৯টি অপতথ্য।
অন্তর্বর্তী সরকারের দুজন নারী উপদেষ্টাকে জড়িয়ে গত ৯ মাসে ১০টি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে একজন সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে নিয়ে ৯টি আর ফরিদা আখতারকে জড়িয়ে একটি অপতথ্য প্রচারের প্রমাণ মিলেছে।
ডিজিটাল মাধ্যমে অপতথ্যের বড় শিকার বিনোদন জগতের নারীরা। অভিনেত্রী, মডেল, উপস্থাপক ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের নাম পরিচয় ও ছবি ব্যবহার করে ছড়ানো হচ্ছে বিভ্রান্তিকর তথ্য। এর মধ্যে আছে ভুয়া ভিডিও, এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট ও মৃত্যুর গুজব। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে বিনোদন জগতের ২৯ জন নারী তারকাকে জড়িয়ে অন্তত ৬৮টি অপতথ্য শনাক্ত করে রিউমর স্ক্যানার।
জুলাই আন্দোলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া নারী নেত্রীদের মধ্যে অন্তত আটজনকে জড়িয়ে চলতি বছর ৩২টি অপতথ্য প্রচার করা হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক তানজিনা তাম্মিম খবর ৭১ কে বলেন, আগের চেয়ে নারীদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা বাড়লেও দুঃখজনকভাবে আন্দোলন পরবর্তী সময়ে এসে নারীরা সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছে। তারা নানাভাবে হেনস্তার শিকার।
এ ছাড়া চলতি বছর নারীদের জড়িয়ে ছড়ানো ভুয়া তথ্যগুলোর মধ্যে ৪৪টি ঘটনায় ধর্ষণের বিষয় ছিল। এসব অপতথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায় ৪৮ শতাংশ ক্ষেত্রেই ধর্ষণের কোনো আলামত ছিল না। তবু ধর্ষণের ঘটনা হিসেবে দাবিগুলো ছড়িয়ে দেওয়া হয়। রিউমর স্ক্যানারের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও ডেপুটি এডিটর মো. ছাকিউজ্জামান বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে নারীরাই বিভিন্ন ইস্যুতে ভাইরাল হচ্ছেন তাদের এআই প্রযুক্তির কারণে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। এআই প্রযুুক্তি প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হওয়ার কারণে সাধারণ মানুষদের কাছে এআই দিয়ে তৈরি করা কনটেন্ট শনাক্ত করা কিছুটা কঠিন। প্রয়োজনে তারা ফ্যাক্ট চেকিং ওয়েবসাইট ও ফ্যাক্ট চেকারদের সহায়তা নিতে পারেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট কাভার করতে চাওয়া প্রায় ১৪ হাজার সাংবাদিকের তথ্য ফাঁস হয়ে গেছে। গতকাল শনিবার নির্বাচন কমিশনের অনলাইন সিস্টেম থেকে সাংবাদিকদের এনআইডি নম্বর, মোবাইল নম্বরসহ আবেদনের কপি উন্মুক্ত হয়ে যায়। তবে এর সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা দিতে পারেনি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, এবারের নির্বাচন সামনে রেখে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের কার্ড দেওয়ার নিয়মে বড় পরিবর্তন আনে ইসি। এবারই প্রথম সাংবাদিকদের কার্ড ও গাড়ির স্টিকার পেতে অনলাইনে আবেদন বাধ্যতামূলক করা হয়। তবে সাংবাদিকদের তোপের মুখে এই সিদ্ধান্ত থেকে গত বৃহস্পতিবার সরে এসে আগের মতোই ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে কার্ড প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয় নাসির উদ্দীন কমিশন। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের আগে প্রায় ১৪ হাজার সাংবাদিক কার্ড ও স্টিকার পেতে ইসির অনলাইন সিস্টেমে আবেদন করেন। তবে এই ১৪ হাজার সাংবাদিকের সব তথ্য ইসির ওই নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট থেকে উন্মুক্ত হয়ে যায়। গতকাল বিকেল ৪টার দিকে ইসির ওয়েবসাইটে ১৪ হাজার সাংবাদিকের তথ্য নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ওয়েবসাইট pr.ecs.gov.bd-এর মাধ্যমে উন্মুক্ত হয়ে যায়। ইসির নির্ধারিত এই ওয়েবসাইটে দেখা যায়, বিকেল ৪টার পর কেউ লগইন করে ওয়েবসাইটে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গেই ১৪ হাজার সাংবাদিকের আবেদনের তালিকা হোম পেজে চলে আসছে। ওয়েবসাইটের হোম পেজে তালিকা আসার পাশাপাশি আবেদনকারীর নাম, এনআইডি নম্বর, মোবাইল নম্বর এবং সম্পূর্ণ আবেদন ওপেন করার অপশন চলে আসে। তবে কিছু সময় পর আর ওয়েবসাইটটিতে প্রবেশ করা যায়নি। নির্বাচন কমিশন বিটের সাংবাদিকরা জানান, তাদের সঙ্গে কোনোরকম আলোচনা না করেই নির্বাচন করতে অনলাইন সিস্টেম চালু করে নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ শাখা। পরে গত বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের সঙ্গে সাংবাদিকরা বৈঠক করে আলটিমেটাম দিলে ইসি অনলাইন সিস্টেম থেকে সরে এসে আগের পদ্ধতিতে কার্ড ও গাড়ির স্টিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তার আগেই উল্লিখিত সংখ্যক সাংবাদিক অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রাখেন। এসব সাংবাদিকের তথ্য উন্মুক্ত হওয়ার স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেনি নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউ। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ শাখার পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক সাংবাদিকদের বলেন, আমরা অনলাইন সিস্টেম শুক্রবার বন্ধ করে দিয়েছি। গতকাল বিকেলে ওয়েবসাইটের অ্যাডমিনের দায়িত্বে যিনি ছিলেন, তিনি ওপেন করেছিলেন। এ সময় কারিগরি ত্রুটির কারণে হয়তো তথ্যগুলো উন্মুক্ত হয়ে থাকতে পারে। তবে এখন ওয়েবসাইট বন্ধ আছে।
বাংলাদেশে প্রস্তাবিত এয়ারলাইন ভাড়া নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইএটিএ-আয়াটা)। সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, ভাড়া নিয়ন্ত্রণ চালু হলে যাত্রীদের পছন্দ, আকাশযাত্রার সুযোগ এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে অনাকাঙ্ক্ষিত নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সম্প্রতি বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরিন জাহানের কাছে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক চিঠিতে প্রস্তাবিত ‘বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ–২০২৬’ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এ সংস্থাটি। চিঠিতে বলা হয়, অধ্যাদেশের ৪৩এ ধারায় এয়ারলাইন ভাড়া নিয়ন্ত্রণের যে প্রস্তাব রাখা হয়েছে, তা মুক্তবাজার অর্থনীতির মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আয়াটার মতে, ১৯৭০-এর দশকের শেষ দিকে বৈশ্বিক এভিয়েশন খাত উদারীকরণের পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে এয়ারলাইন ভাড়া অর্ধেকেরও বেশি কমেছে, যা যাত্রীদের জন্য সুফল বয়ে এনেছে। সংস্থাটি সতর্ক করে জানায়, সরকার যদি সর্বোচ্চ ভাড়ার সীমা নির্ধারণ করে দেয়, তাহলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে পারে। এতে নতুন বিনিয়োগে এয়ারলাইনগুলো নিরুৎসাহিত হবে এবং পর্যাপ্ত আসন সক্ষমতা না থাকায় উল্টো ন্যূনতম টিকিট ভাড়া বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। চিঠিতে আরো বলা হয়, বাণিজ্যিক নমনীয়তা না থাকলে অনেক এয়ারলাইন কম গুরুত্বপূর্ণ বা প্রান্তিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ করতে বাধ্য হতে পারে। এর ফলে সেবার মান ও যোগাযোগ ব্যবস্থা উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আয়াটা উল্লেখ করে, বিশ্বব্যাপী অধিকাংশ দেশ বর্তমানে এয়ারলাইনের ভাড়া নির্ধারণে পূর্ণ বাণিজ্যিক স্বাধীনতা দিয়ে থাকে, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত উত্তম চর্চা হিসেবে বিবেচিত। প্রস্তাবিত অধ্যাদেশে ভাড়া জমা দেওয়ার বা ‘ফেয়ার ফাইলিং’ বিধান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সংস্থাটি। আয়াটার মতে, এই বিধান কেবল তথ্য সংগ্রহের জন্য না কি প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ আরোপের উদ্দেশ্যে—তা স্পষ্ট নয়। যদি উদ্দেশ্য নিয়ন্ত্রণ হয়, তাহলে স্বাভাবিক বাজার ব্যবস্থাই ব্যাহত হবে। এ ছাড়া প্রস্তাবিত উপদেষ্টা বোর্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন লেভি ও চার্জ আরোপের বিষয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে আয়াটা। সংস্থাটি বলেছে, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চার্জ নির্ধারণ প্রক্রিয়াটি অবশ্যই স্বচ্ছ, ব্যয়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন হতে হবে। চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত ‘ওপেন স্কাই’ চুক্তিতেও এয়ারলাইন ভাড়া নির্ধারণে বাণিজ্যিক স্বাধীনতার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। আয়াটা বাংলাদেশ সরকারকে প্রস্তাবিত বিধানগুলো পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, এয়ারলাইন ভাড়ায় স্বাধীনতা বজায় রাখা হলে দেশের এভিয়েশন খাত আরো শক্তিশালী ও টেকসই হয়ে উঠবে। আয়াটা বিশ্বব্যাপী প্রায় ৩৬০টি এয়ারলাইনের প্রতিনিধিত্ব করে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। পাশাপাশি বেসরকারি এয়ারলাইনের মধ্যে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ও এয়ার অ্যাস্ট্রাও এর সদস্য।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বরণ করতে খুলনায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপির উদ্যোগে নির্বাচনী জনসভার প্রস্তুতি ও প্রচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চলছে মাইকিং, গঠন করা হয়েছে ছয়টি উপ-কমিটি। আগামী ২ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) নগরীর খালিশপুর প্রভাতী স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান। দীর্ঘ ২২ বছর পর খুলনার মাটিতে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমনের খবরে নগরজুড়ে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও আবেগ সৃষ্টি হয়েছে। প্রত্যাশা ও উদ্দীপনায় ভরপুর পরিবেশ বিরাজ করছে। খুলনা মহানগর বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, মহানগর ও জেলা বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য এই জনসভাকে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ নির্বাচনী সমাবেশে পরিণত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে খুলনা মহানগর, জেলা এবং পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলার বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন জানান, শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে খুলনা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তারেক রহমানের নির্বাচনী জনসভার বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় খালিশপুর প্রভাতী স্কুল মাঠে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন খুলনা-২ আসনের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা-৩ আসনের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল, কেন্দ্রীয় তথ্য সম্পাদক ও খুলনা-৪ আসনের প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা-৫ আসনের প্রার্থী আলি আসগর লবিসহ মহানগর ও জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জনসভা সফল করতে সমন্বয়, আবাসন, শৃঙ্খলা, মিডিয়া ব্যবস্থাপনাসহ ছয়টি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঢাকা থেকে মঞ্চ ও আধুনিক সাউন্ড সিস্টেম আনা হবে। মাঠের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা রক্ষা, মিডিয়া ব্যবস্থাপনা ও প্রচারণা কার্যক্রম ঘিরে দলীয় কার্যালয়ে একের পর এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে নগরী ও জেলায় ব্যাপক মাইকিং শুরু হয়েছে। খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি এডভোকেট শফিকুল আলম মনা বলেন, তারেক রহমানের খুলনা আগমন কেবল একটি নির্বাচনী কর্মসূচি নয়, এটি দলের নেতাকর্মীদের জন্য সাহস, আত্মবিশ্বাস ও মনোবল ফিরে পাওয়ার একটি বিশেষ মুহূর্ত। দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা নেতাকর্মীদের জন্য এই সফর হবে নতুন প্রেরণার উৎস। তিনি আরও বলেন, ২২ বছর পর প্রিয় নেতাকে নিজের শহরে দেখতে পাওয়া নেতাকর্মীদের কাছে এটি আবেগ, গর্ব ও সম্মানের বিষয়। খুলনা ঐতিহাসিকভাবে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি। নির্বাচনের প্রাক্কালে তারেক রহমানের এই সফর বিএনপির রাজনৈতিক কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দক্ষিণাঞ্চলে দলের সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন এবং ভোটারদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে এই জনসভা একটি মাইলফলক হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এদিকে, জনসভাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।