সর্বশেষ

জুলাই সনদ স্বাক্ষরে প্রস্তুত বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১১, ২০২৫ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

 

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি ও গণভোটের সময়সূচি নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও আসন্ন ‘জুলাই জাতীয় সনদ–২০২৫’-এ স্বাক্ষরের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সংশ্লিষ্ট দলগুলো ইতিমধ্যে নিজেদের স্বাক্ষরকারীর নাম চূড়ান্ত করেছে। তবে দলীয় নেতাদের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তাঁরা সনদের চূড়ান্ত কপি হাতে পাওয়ার পরই স্বাক্ষরের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করবেন।

 

 বিএনপির দুই শীর্ষ নেতার স্বাক্ষর

 

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, দলটির পক্ষে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সনদে স্বাক্ষর করবেন। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় বিএনপির প্রতিনিধিত্ব করেছেন সালাহউদ্দিন আহমদ।
দলটির নেতাদের মতে, জুলাই সনদ রাষ্ট্র ও সংবিধান সংস্কারের নতুন ভিত্তি গড়ে তুলবে। তাঁরা মনে করেন, জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজন হলে সময় ও ব্যয় কমবে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে।

 

 সতর্ক অবস্থানে জামায়াত:

 

জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও দুজন শীর্ষ নেতার নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে—নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ও সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।


জামায়াত জানিয়েছে, জুলাই ঘোষণাপত্রে দাবিগুলো উপেক্ষিত হওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে এবার তারা আরও সতর্ক। দলটি জানতে চায়, সনদে তাদের প্রস্তাবনা কীভাবে প্রতিফলিত হয়েছে এবং গণভোটের রূপরেখা কেমন। বিশেষ করে সংসদের উভয় কক্ষে সংখ্যানুপাতিক (পিআর) প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি অন্তর্ভুক্তির দাবিও তারা পুনর্ব্যক্ত করেছে।

 

 এনসিপিরও প্রস্তুতি 

 

জুলাই অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) স্বাক্ষরের জন্য আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নাম নির্ধারণ করেছে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সনদের চূড়ান্ত কপি হাতে পাওয়ার পর তারা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানাবে।
এনসিপির পাশাপাশি নাগরিক ঐক্য, গণসংহতি আন্দোলন ও এবি পার্টিও সনদে স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিয়েছে। নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতির প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি এবং এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু নিজ নিজ দলের পক্ষে স্বাক্ষর করবেন বলে জানা গেছে।

 

 ১৫ অক্টোবর সনদ স্বাক্ষর 

 

১৫ অক্টোবর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ–২০২৫’-এর স্বাক্ষর অনুষ্ঠান। সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। অনুষ্ঠানের নেতৃত্ব দেবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।

 

তবে সনদ স্বাক্ষরের তারিখ নির্ধারিত হলেও বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া ও গণভোটের সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বিএনপি ও তার মিত্ররা জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের পক্ষে, অন্যদিকে জামায়াত ও এনসিপি মনে করে—নির্বাচনের আগে গণভোট হলে জনসম্পৃক্ততা বাড়বে।

 

রাজনৈতিক মহলে এখন আলোচনার বিষয় একটাই—গণভোটের সময় ও পদ্ধতি নিয়ে সমঝোতা কতটা সম্ভব হবে। কারণ, এই ঐকমত্যই ঠিক করবে জুলাই সনদ সত্যিকার অর্থে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করতে পারবে কি না।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সর্বশেষ

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
আরও ৪৪ নেতাকে বহিষ্কার করল বিএনপি

বিএনপি ৩১ জানুয়ারি দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য এবং সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ময়মনসিংহ, সিলেট ও গাইবান্ধার বিভিন্ন উপজেলা ও ওয়ার্ডের ৪৪ নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করেছে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত পৃথক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মতলেবুর রহমান রেজা, মো. আবুল কালাম আজাদ, মো. এনামুল হক শিল্পী এবং সদস্য মোছা. মুনমুন রহমানকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন সেলিম, যুগ্ম সম্পাদক মাসুক আহমদ, সদস্য রিপন আহমদ, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান আহমদ, কানাইঘাট উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ওয়েছ আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক খছরুজ্জামান পারভেজ, কোষাধ্যক্ষ আবুল বাশার, ২নং লক্ষ্মীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম এবং ৯নং রাজাগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল হোসেন নিমারকেও প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া ময়মনসিংহ উত্তর জেলার হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কবী মোজাম্মেল হোসেন খান, সাজ্জাদ হোসেন খান হীরা, আ.ন.ম সাদেকুর রহমান নঈম, উপজেলা বিএনপির সদস্য মো. নুরুল আলম, মো. সুজারুল ইসলাম ফকির, এখলাস উদ্দিন বিএসসি এবং হাবিবুর রহমানকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। হালুয়াঘাট পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ দেলোয়ার হোসেন বিপ্লব, মোল্লা মো. আলী সাবরী মনি, ডা. আবুল কাশেম মেম্বার এবং পৌর বিএনপির সদস্য মো. মতিউর রহমান মতি, মো. শরিফুল আলম ও মো. হাবিবুর রহমানকেও প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ধোবাউড়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. কাছিম উদ্দিন বিশ্বাস, মো. নজরুল ইসলাম দুলাল, মো. মঞ্জুরুল হক মুঞ্জু, মো. মেজবাহ উদ্দিন মামুন ও মো. আব্দুস শহিদ মিয়া, এছাড়া ধোবাউড়া উপজেলা বিএনপির সদস্য মো. ওয়াজেদ আলী মাস্টার, মো. আজিজুল হক, মো. আব্দুর রশিদ, মো. কবিরুল ইসলাম টিটুল, খন্দকার আক্কাছ আলী, মো. শাখাওয়াত হোসেন, মো. আব্দুল হামিদ, মো. শামীম মিয়া, মো. মাসুদ সরকার, মো. মোশারফ হোসেন, মো. মারফত আলী ও মো. কামাল সরকারকেও একইভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপি নেতাদের কাছে সতর্ক বার্তা দেয়া হয়েছে যে, দলীয় নীতি এবং সিদ্ধান্ত অমান্য করা হলে ভবিষ্যতেও পদহীন করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শাহ মোঃ সিজু মিয়া জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

টেংরাটিলা বিস্ফোরণ : বাংলাদেশ পাচ্ছে ৪ কোটি ২০ লাখ ডলার

ছবি : সংগৃহীত

হিন্দু-মুসলমানকে ভাগ করলে দেশের উন্নয়ন থেমে যাবে : ফখরুল

ছবি : সংগৃহীত

ক্ষমতায় এলে ‘জুলাই গণহত্যা’ ও হাদি হত্যার বিচার অগ্রাধিকার পাবে : নাহিদ ইসলাম

ছবি : সংগৃহীত
মাদারীপুরে কিশোর গ্যাং সংঘর্ষে শহরে আতঙ্ক, ৫০ ককটেল বিস্ফোরণ

মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তার ও দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে কিশোরদের দুই পক্ষের মধ্যে দেড় ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাত ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত মাদারীপুর পৌরসভার বটতলা ও জেলা পরিষদ এলাকায় সংঘর্ষ চলার সময় প্রায় ৫০টি ককটেল বিস্ফোরণের মাধ্যমে পুরো শহরে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। সংঘর্ষের সময় কয়েকটি দোকানপাটও ভাঙচুরের শিকার হয়। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, দুই মাস আগে মাদারীপুর পৌর ঈদগাহ মাঠে সবুজবাগ এবং কুলপদ্বী এলাকার কিশোরদের মধ্যে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে প্রথম দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়েছিল। এ ঘটনার জেরে শুক্রবার বিকেলে সবুজবাগ এলাকার ফাহিম জমাদ্দারকে মারধর করে আহত করে জিলান, আরমান, মুবিন ও সাফিনসহ তাদের পক্ষের কিশোরেরা। রাত ৮টার দিকে আহত ফাহিমের পক্ষের অনিক ও সাঈমের সঙ্গে জিলান গ্রুপের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র এবং ককটেল নিয়ে সরাসরি সংঘর্ষে জড়ায়। এই সংঘর্ষে প্রায় ৫০টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে এবং বটতলা এলাকার অন্তত তিনটি দোকানপাট ভাঙচুর হয়। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং র‍্যাব-৮ রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুই সপ্তাহ আগে একই স্থানে এই দুই পক্ষ আবারও সংঘর্ষে জড়িয়েছিল বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী সিয়াম হাসান জানান, রাত ৮টার পর দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সড়কে মহড়া শুরু করে এবং ককটেল ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের মাধ্যমে একে অপরকে ধাওয়া করে। এই সময় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি নিজেও দুই ঘণ্টা আটকা পড়েন। বটতলা এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী জাহিদ আকন বলেন, এই ঘটনার নিন্দা জানাচ্ছেন এবং দোষীদের বিচার দাবি করছেন। মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, “কিশোর গ্যাংয়ের দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়েছে। খবর পেয়ে থানা-পুলিশ, সেনাবাহিনী ও র‍্যাব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। যারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শাহ মোঃ সিজু মিয়া জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

বগুড়া বিএনপির ঘাঁটি, দায়িত্ব আপনাদের হাতে দিলাম : তারেক রহমান

ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দরে নিউমুরিং ইজারার প্রতিবাদে সর্বাত্মক ধর্মঘট

ছবি : সংগৃহীত

ধানের শীষে ভোটের পাশাপাশি ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে বললেন তারেক রহমান

ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর আবাসিক ভবনে ভয়াবহ আগুন

রাজধানীর বনানী চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকায় একটি পাঁচতলা ভবনের গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকার ওই পাঁচতলা ভবনের পঞ্চম তলায় কর্কশিট ও হার্ডবোর্ডের একটি গোডাউনে রাত ৭টা ৫ মিনিটের দিকে হঠাৎ আগুন লাগে। খবর পেয়ে ৭টা ৭ মিনিটে কুর্মিটোলা ও বারিধারা ফায়ার স্টেশনের ৪টি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়। রাস্তার যানজট ঠেলে ৭টা ২২ মিনিটে ফায়ার কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ ও আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভবনের একটি তলা থেকে হঠাৎ ধোঁয়া ও আগুনের শিখা দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই তা ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়লে ভবনের বাসিন্দা ও আশপাশের মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। অনেকেই তাড়াহুড়ো করে ভবন থেকে নিচে নেমে আসেন। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ভেতরে কেউ আটকা পড়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ৩০, ২০২৬ 0

নোয়াখালীতে পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিয়ে বিএনপি-এনসিপির সংঘর্ষ, আহত ১২

ছবি : সংগৃহীত

সিউল ও টোকিও থে‌কে ঢাকা কী‌ শিক্ষা নি‌তে পা‌রে

ছবি: সংগৃহীত

তারেক রহমানের সমাবেশস্থল ঘুরে দেখলেন সিএমপি কমিশনার

0 Comments