সর্বশেষ

ফরিদপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় স্কুলছাত্রসহ নিহত ৩

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরে পৃথক তিনটি সড়ক দুর্ঘটনায় এক স্কুলছাত্র, এক নারী ও এক পুরুষ নিহত হয়েছেন। সোমবার (৩ আগস্ট) জেলার বিভিন্ন স্থানে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

 

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় স্কুলছাত্র নিহত: বিকেলে ফরিদপুর সদরের কানাইপুর ইউনিয়নের আখ সেন্টারের সামনে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সোয়াদ মোল্লা (১৫) নামে এক স্কুলছাত্র নিহত হয়। এ ঘটনায় আহত হয়েছে তার দুই সহপাঠী তামিম ও শাওন।

 

সোয়াদ হাটগোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মিজানুর রহমান মোল্লার ছেলে এবং কানাইপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

 

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, স্কুল ছুটির পর তিন বন্ধু মোটরসাইকেলে বের হয়। শহর থেকে ফেরার পথে একটি ফিলিং স্টেশন থেকে তেল নিয়ে মহাসড়কে ওঠার সময় মোটরসাইকেলটি একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে সোয়াদ ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

 

আহত দুজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, তারা আশঙ্কামুক্ত।

 

করিমপুর হাইওয়ে থানার ওসি মো. জহিরুল ইসলাম দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

অজ্ঞাত গাড়ির চাপায় বৃদ্ধার মৃত্যু

 

একই মহাসড়কের মধুখালী উপজেলার মাঝকান্দি এলাকায় অজ্ঞাত একটি গাড়ির চাপায় আমেনা বেগম (৭০) নিহত হন। তিনি মাঝকান্দি এলাকার মৃত এলাহি শেখের স্ত্রী।

 

হাইওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক মো. আব্দুস সালাম জানান, অজ্ঞাত গাড়ির চাপায় ঘটনাস্থলেই ওই নারীর মৃত্যু হয়।

 

অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেল পথচারীর

 

ফরিদপুর শহরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় আনোয়ার মিয়া (৬০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। সকাল ১১টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল ইনস্টিটিউটের প্রধান ফটকের সামনে সড়ক পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি অটোরিকশা তাকে ধাক্কা দেয়।

 

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে তার মৃত্যু হয়।

 

আনোয়ার মিয়া আলফাডাঙ্গা উপজেলার চানড়া গ্রামের মৃত জব্বার মিয়ার ছেলে।

 

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মাহমুদুল হাসান জানান, তিনটি দুর্ঘটনার ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সর্বশেষ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
চুরির অভিযোগে খুলনায় যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

খুলনা মহানগরীতে চুরির অভিযোগ তুলে আজমল ওরফে আযম (২৩) নামে এক যুবককে মারধর করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে হরিণটানা থানার ইসলামনগর মসজিদ গলিতে এ ঘটনা ঘটে।   নিহত আজমল চুয়াডাঙ্গা জেলা সদরের কুতুবের ছেলে। তিনি খুলনা মহানগরীর একটি মেসে ভাড়া থাকতেন বলে জানা গেছে।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে কয়েকজন যুবক আজমলকে চুরির অভিযোগে আটক করে মারধর করেন। এ সময় তাকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।   হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত দেড়টার দিকে আজমলের মৃত্যু হয়।   হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন বলেন, গভীর রাতে কয়েকজন যুবক চুরির অভিযোগ তুলে আজমলকে মারধর করেন। পরে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।   ওসি আরও জানান, ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। নিহত যুবক নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন বলেও জানা গেছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে তদন্ত চলছে।   ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি দল কাজ করছে। নিহতের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দেওয়া হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে গ্রেপ্তার ৫৬৪, ৫৮ মামলা

ছবি: সংগৃহীত

ত্রিশালে বাসের ধাক্কায় মাহিন্দ্রা-সিএনজি উল্টে নিহত ২, আহত ৬

ছবি: সংগৃহীত

দুর্নীতি মামলায় ঢাকা ব্যাংকের চার কর্মকর্তার বিদেশযাত্রায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা

ছবি: সংগৃহীত
পুতুলের পদে নির্বাচন: মালদ্বীপের প্রার্থীকে সমর্থন দিচ্ছে ঢাকা

জালিয়াতির অভিযোগ ওঠার পর সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের ছেড়ে দেওয়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদের নির্বাচনে মালদ্বীপের প্রার্থীকে সমর্থন দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার।   সরকারের এ সিদ্ধান্তের কথা রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন জ্যেষ্ঠ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।   পুতুলের পদত্যাগের প্রেক্ষাপটে ওই পদে পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে সরকারের অবস্থান সম্পর্কে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, “মালদ্বীপের প্রার্থী, যার ভালো যোগ্যতা রয়েছে। আশা করি, অদূর ভবিষ্যতে এটি (ডব্লিউএইচও’র আঞ্চলিক কার্যালয়) ভালো একজনের হাতে যাবে।”   ডব্লিউএইচও এবং বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জালিয়াতির তদন্তের মুখে গত বুধবার সংস্থার মহাপরিচালক বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল।   শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় ২০২৩ সালের নভেম্বরে পুতুল ডব্লিউএইচও’র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি পাঁচ বছরের জন্য ওই দায়িত্ব নেন।   চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানে হাসিনা সরকারের পতনের পর আসা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অভিযোগে মুখে ২০২৫ সালের ১১ জুলাই থেকে তাকে অনির্দিষ্টকালের ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল।   এভাবে অনির্দিষ্টকালের ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্তের বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত চেয়ে গত ২০ অগাস্ট সংস্থার মহাপরিচালক বরাবর চিঠিও দিয়েছিলেন তিনি। এরপর তার পদত্যাগের খবর আসে।   সেই খবর দিয়ে ৯ সেপ্টেম্বর দুই কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতিসংঘের সংস্থাটি পুতুলকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরখাস্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।   নাম প্রকাশ না করে তারা বলেন, আগামী ১২ অক্টোবর নতুন মনোনয়নের ঘোষণা দেওয়া হবে। এরপর ডিসেম্বরে আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে আগামী ২৪ জানুয়ারি নতুন আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচন করা হতে পারে।   ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক পরিচালকরা বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী স্বাস্থ্য নীতি নির্ধারক হিসেবে বিবেচিত হন। বাংলাদেশ ও ভারতসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ভোটে পাঁচ বছরের জন্য এ পদে প্রতিনিধি নির্বাচন করা হয়।   ২০২৩ সালের নির্বাচনে ১০ ভোটের মধ্যে ভারতের ভোটসহ আটটি ভোট পেয়েছিলেন পুতুল। তাকে ঘিরে আলোচনা ও বিতর্কের মধ্যে নতুন নির্বাচনের প্রক্রিয়াও চলছিল, তার তথ্য মিলল পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুনের কথায়।   ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক পরিচালক পদে পুতুলের নিয়োগকে ‘দুঃখজনক ও লজ্জাজনক’ হিসাবে বর্ণনা করেন তিনি।   হুমায়ুন কবির বলেন, “এমন একটি উচ্চপর্যায়ের পদের জন্য তার প্রয়োজনীয় বিশ্বাসযোগ্য যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা বা দক্ষতা সেভাবে ছিল না। যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাতে ভুলভাবে উপস্থাপন করেছেন তিনি।”   পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “প্রতারক সরকার প্রতারকদের সামনে এগিয়ে দিয়েছে। এদেরতো আপনি জানেন, পরিবারের সবাই এখন চুরিতে ধরা খাচ্ছে। তার ব্যাপারেতো এটা বিস্ময়কর কিছু নয়।   “নিয়োগটাই ত্রুটিপূর্ণ ছিল, ওখানে গিয়ে চাপাবাজি করে কোনোভাবে বের হয়ে আসছে। সুতরাং, এগুলোতো বের হয়ে আসবেই। যখন আপনি দুর্নীতিগ্রস্ত, তখন দুর্নীতির গন্ধ বের হয়ে আসবেই। দুর্নীতির গন্ধ কখনো চেপে রাখা যায় না; এটি প্রকাশ পাবেই।”   হুমায়ুন কবির বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর উচিত তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও কঠোর করা। যারা এমন দুর্নীতি ও বিতর্কের সাথে জড়িত, তাদের এসব সংস্থায় রাখা উচিত নয়, কারণ এতে সংস্থাগুলোর সম্মান নষ্ট হয়।   “এসব সংস্থায় এমন যোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের আনা উচিত যারা সঠিকভাবে নেতৃত্ব দিতে পারেন। অযোগ্য ও অসৎ ব্যক্তিদের দায়িত্ব দিলে বিশ্ব বা এই অঞ্চলের জন্য শুভ কিছু হবে না। এ কারণে এসব নিয়োগ নিয়ে আমাদের খুবই সতর্ক থাকা দরকার।”   মালদ্বীপের প্রার্থী কে? ডব্লিউএইচও আঞ্চলিক পরিচালক পদের নির্বাচনে এখন পর্যন্ত মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কার প্রার্থী থাকার তথ্য দিয়েছেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি।   তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসা আহমেদ জামসিদ মোহাম্মদকে মালদ্বীপের প্রার্থী করার কথা জেনেছেন তিনি।   পেশায় চিকিৎসক জামসিদ এক সময় মালদ্বীপের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। সে সময় মালদ্বীপের স্বাস্থ্য খাতে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম চালান তিনি। মালদ্বীপের সেন্টার ফর কমিউনিটি হেলথ অ্যান্ড ডিজিজ কন্ট্রোল বিভাগের প্রধানও ছিলেন এক সময়।   ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর থেকে ঢাকায় ডব্লিউেএইচও’র প্রধিনিধির দায়িত্ব পালন করে আসছেন জামসিদ মোহাম্মদ। স্বাস্থ্য খাতে ৩০ বছর কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।   এর মধ্যে এক যুগের বেশি সময় ডব্লিউএইচওতে কাজ করা জামসিদ বাংলাদেশে সংস্থার উপ-প্রতিনিধি এবং উত্তর কোরিয়ায় ডব্লিউএইচও প্রতিনিধি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।   ভারতের নাগপুরে ইন্দিরা গান্ধী মেডিকেল কলেজ থেকে চিকিৎসায় ডিগ্রি নিয়ে যুক্তরাজ্যের লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন থেকে জনস্বাস্থ্যে মাস্টার্স করেছেন জামসিদ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় ছাত্রশক্তির কাউন্সিলে দুই পক্ষের হাতাহাতি

ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীতে চেকপোস্টে পুলিশকে ধাক্কা, মোটরসাইকেল নিয়ে পালাল দুই আরোহী

হংকংয়ের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বহুমুখী রফতানিতে জোর

ছবি: সংগৃহীত
গঙ্গা-পদ্মায় বাড়তে পারে পানি, সতর্কসীমায় প্রবাহের আশঙ্কা

আগামী পাঁচ দিনে গঙ্গা ও পদ্মা নদীর পানি বাড়তে পারে। একই সময়ে দেশের কয়েকটি নদীর পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের কয়েকটি এলাকায় গঙ্গা এবং ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও মাগুরার কিছু এলাকায় গড়াই নদীর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে।   মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র প্রকাশিত বৃষ্টিপাত, নদ-নদীর পরিস্থিতি ও পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।   পূর্বাভাসে বলা হয়, আগামী তিন দিন দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং এর কাছাকাছি ভারতের উজান এলাকায় মাঝারি থেকে মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে বর্তমানে দেশের সব প্রধান নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।   গত ২৪ ঘণ্টায় গঙ্গা নদীর পানি বেড়েছে। অন্যদিকে পদ্মার পানি রয়েছে স্থিতিশীল। পূর্বাভাস অনুযায়ী, গঙ্গার পানি আগামী দুই দিন আরও বাড়তে পারে। এরপর টানা তিন দিন তা স্থিতিশীল থাকতে পারে। পদ্মার পানি আগামী পাঁচ দিন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় গড়াই ও মাথাভাঙা নদীর পানিও বেড়েছে। আগামী তিন দিন এ দুই নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। এ সময় গড়াই নদীর পানি ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও মাগুরার কয়েকটি এলাকায় সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে।   উত্তরাঞ্চলের নদীতেও বাড়ছে পানি: ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে। তবে যমুনার পানি রয়েছে স্থিতিশীল। আগামী পাঁচ দিন ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার পানি মোটামুটি স্থিতিশীল থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানিও গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে। তবে আগামী তিন দিন ধরলা ও দুধকুমারের পানি স্থিতিশীল থাকতে পারে। একই সময়ে তিস্তার পানি কমার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় কমেছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী তিন দিন সুরমার পানি আরও কমতে পারে, আর কুশিয়ারার পানি স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬

মধ্যরাতে ফেসবুকে বিদায়ী পোস্ট লিখে ফের আত্মহত্যার চেষ্টা মেঘমল্লার বসুর

ছবি: সংগৃহীত

সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ দম্পতির সম্পদ বিবরণী যাচাই করছে দুদক

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বসুন্দরীর মুকুট জিতলেন ডমিনিকান রিপাবলিকের জোহেইরি মোলা

0 Comments