জাতীয়

দেশের ৬৫ শতাংশ জ্বালানিই এখন আমদানি নির্ভর, হাঁটতে হবে বিকল্প পথে

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১১, ২০২৫

বাংলাদেশের প্রাথমিক জ্বালানির ৬৫ শতাংশই এখন আমদানি করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের (আইইউবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. ম. তামিম। তিনি বলেন, তেল, কয়লা ও গ্যাস—সব ক্ষেত্রেই বাড়ছে বিদেশনির্ভরতা, অথচ স্থানীয় উৎপাদন কমে যাওয়ায় জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি প্রকট হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি টিকিয়ে রাখতে বিকল্প জ্বালানি উৎসের দিকে অগ্রসর হওয়া জরুরি।

 

শনিবার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে দৈনিক বণিক বার্তা আয়োজিত ‘বাংলাদেশে এলপিজি : অর্থনীতি, পরিবেশ ও নিরাপত্তা’ শীর্ষক পলিসি কনক্লেভে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

 

ড. তামিম বলেন, স্বল্পমেয়াদে জ্বালানি ঘাটতি মোকাবিলায় এলপিজি কার্যকর সমাধান হতে পারে, আর দীর্ঘমেয়াদে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোই হবে টেকসই পথ।

 

তিনি জানান, গত ১০ বছরে দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ প্রতিবছর গড়ে ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট করে কমেছে; বর্তমানে তা বছরে প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট হারে হ্রাস পাচ্ছে। এখন দুটি এফএসআরইউ (ভাসমান গ্যাস টার্মিনাল) থেকে সর্বোচ্চ ১১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আমদানি করা সম্ভব, যা মোট চাহিদার তুলনায় খুবই সীমিত।

 

অধ্যাপক তামিম আরও বলেন, বর্তমানে দৈনিক চাহিদা প্রায় ৪০০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস, অথচ সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২৫০০–২৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে প্রতিদিন প্রায় ১৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। এই ঘাটতি পূরণে এলপিজি শিল্প, বাণিজ্যিক ও গৃহস্থালি খাতে প্রাকৃতিক গ্যাসের বিকল্প হিসেবে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

 

তিনি উল্লেখ করেন, এলপিজি হচ্ছে বাংলাদেশের একমাত্র জ্বালানি যা কখনোই সরকারিভাবে ভর্তুকি পায়নি, তবুও বাজারচালিতভাবে এই খাত দ্রুত বেড়েছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ২২টি কোম্পানি এলপিজি সরবরাহ করছে, যার মধ্যে বসুন্ধরা, প্রিমিয়ার, যমুনা, ফ্রেশসহ বেশ কয়েকটি কোম্পানি বড় বাজার অংশীদার। বর্তমানে দেশে বছরে প্রায় ১৫–১৬ লাখ টন এলপিজি ব্যবহৃত হচ্ছে, যা সাত বছর আগে এক লাখ টনেরও কম ছিল।

 

ড. তামিম বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, ক্যাপটিভ পাওয়ার ও শিল্প খাতে গ্যাসের বর্তমান ঘাটতির প্রায় ৩০ শতাংশই এলপিজি দিয়ে পূরণ করা সম্ভব। বর্তমান অবকাঠামো দিয়েই প্রতিদিন প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সমমানের এলপিজি সরবরাহ করা সম্ভব।

 

তিনি আরও জানান, নতুন এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে অন্তত পাঁচ বছর সময় লাগবে; তবে এলপিজি খাতে দ্রুত বিনিয়োগ ও নীতিগত সহায়তা দিলে এক বছরের মধ্যেই সরবরাহ সক্ষমতা দ্বিগুণ করা সম্ভব হবে।

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান এবং সম্মানিত অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
জুলাই শহীদদের স্বপ্ন পূরণে নাগরিকদের দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দেশের প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   তিনি বলেছেন, ‘৭১ ও ২৪-এ যারা দেশের জন্য আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের লক্ষ্য ছিল মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য লড়াই করা, যেখানে মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ হবে এবং সবাই শান্তিতে বসবাস করতে পারবে।’   সোমবার (১১ আগস্ট) বিকেলে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশ স্কাউটসের শহীদদের পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।   প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ এ তথ্য জানান।   অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য ছিল দেশে একটি পরিবর্তন আনা। এমন একটি পরিবর্তন, যার মধ্য দিয়ে মানুষের মৌলিক চাহিদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং মানুষ অন্তত শান্তিতে বসবাস করতে পারবে।’   শহীদদের আত্মত্যাগের ঋণ শোধ করার ক্ষমতা কারও নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যারা শহীদ হয়েছেন, তারা একটি মহৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য লড়াই করতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন। তাদের আত্মত্যাগের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করতে হলে শুধু তাদের স্মরণ করলেই হবে না। আমরা যারা বেঁচে আছি, আমাদের প্রত্যেককেই নিজ নিজ জায়গা থেকে দেশের জন্য কাজ করতে হবে।’   বাংলাদেশ স্কাউটসের সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের সবাইকে দেশের জন্য এবং দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে হবে।’   তিনি বলেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি প্রাণ-প্রকৃতির পাশে থাকার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করার পাশাপাশি অন্যদেরও এ কাজে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।   অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশ স্কাউটসের ১০ শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে আর্থিক অনুদানের চেক ও সম্মাননা পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।   প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জানান, অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ স্কাউটসের সভাপতি নাসিমুল গণি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের অবদান ও আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে জাতীয় পাঠ্যক্রমে তাদের ভূমিকা অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।   অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিনসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : কৃষিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

জনগণের আয় না বাড়িয়ে ব্যয় বাড়ানো হচ্ছে : জামায়াত আমির

ছবি: সংগৃহীত

ছবি আঁকা নিয়ে ঢাবির হলে শিক্ষার্থীকে হুমকির অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত
ফেনী-বিলোনিয়া সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, স্থানীয়দের প্রতিবাদে কাজ বন্ধ

ফেনী-বিলোনিয়া স্ট্যান্ডার্ড টু লেন সড়ক সম্প্রসারণ ও নির্মাণকাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার ও নকশা অনুযায়ী কাজ না করার অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিবাদের মুখে কাজ বন্ধ হয়ে গেছে।   সোমবার (১০ আগস্ট) পরশুরাম উপজেলার সলিয়া থেকে চিথলিয়া পর্যন্ত এলাকায় স্থানীয় কয়েক ডজন বাসিন্দা নির্মাণকাজে বাধা দেন। এতে সড়কের ওই অংশের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।   স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট, পাথর, রড ও সিমেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও নকশা অনুযায়ী গাইডওয়াল বা গার্ডওয়াল নির্মাণ ছাড়াই কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া পুরোনো সড়কের পিচ সম্পূর্ণ অপসারণ না করা, বৈদ্যুতিক খুঁটি ও গাছপালা সরানো ছাড়া কাজ চালানো এবং একাধিক স্থানে একসঙ্গে খোঁড়াখুঁড়ির কারণে যানজট ও জনদুর্ভোগ তৈরি হয়েছে।   সলিয়া গ্রামের বাসিন্দা গাজী ইউসুফ বাপ্পি বলেন, নকশা অনুযায়ী সড়কের দুই পাশে গাইডওয়াল থাকার কথা থাকলেও অনেক স্থানে তা নির্মাণ করা হচ্ছে না। এতে বর্ষা মৌসুমে সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।   আরেক বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী অভিযোগ করেন, নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ে স্থানীয়রা বারবার আপত্তি জানালেও তা গুরুত্ব পায়নি। এ কারণে বাধ্য হয়ে তারা কাজ বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছেন।   স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঠপর্যায়ে সরকারি তদারকি খুব কম দেখা যায়। তাদের দাবি, নিয়মিত নজরদারি না থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইচ্ছেমতো কাজ করছে।   সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফেনী সদর থেকে ফুলগাজী হয়ে পরশুরাম-বিলোনিয়া স্থলবন্দর পর্যন্ত প্রায় ২৮ কিলোমিটার সড়ক আধুনিক ও নিরাপদ আঞ্চলিক মহাসড়কে উন্নীত করার কাজ চলছে। বর্তমানে সড়কটির প্রস্থ ১৮ ফুট হলেও সম্প্রসারণ শেষে তা প্রায় ৩৪ ফুট বা ১০ দশমিক ৩০ মিটার করার পরিকল্পনা রয়েছে।   প্রকল্পটি তিনটি কার্যাদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে পরশুরাম অংশের একটি কার্যাদেশের আওতায় প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং।   সড়কটি কাজীরবাগ, মজিদ মিয়ার বাজার, বন্দুয়া, আনন্দপুর, মুন্সীরহাট, ফুলগাজী ও পরশুরামসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বাজার এবং বিলোনিয়া স্থলবন্দরের প্রধান যোগাযোগপথ হওয়ায় দ্রুত মানসম্মত কাজ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।   অভিযোগের বিষয়ে ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।   তবে ফেনী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীতি চাকমা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যেসব ইট নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে সেগুলো মূল নির্মাণকাজে ব্যবহারের জন্য নয়; পানি কিউরিংয়ের কাজে সাময়িকভাবে আনা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।   পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অতনু বড়ুয়া বলেন, নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ ও স্থানীয়দের প্রতিবাদের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি তারা দেখছেন।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে বিএনপিতে নতুন আলোচনা, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব পদে আলোচনায় রিজভী

ছবি: সংগৃহীত

সুনামগঞ্জে এমপির সম্পত্তি লিখে নেওয়ার অভিযোগে আদালতে মামলা

ছবি: সংগৃহীত

ই-গভর্নেন্স ও ডিজিটাল রূপান্তরে বাংলাদেশের পাশে থাকতে চায় এস্তোনিয়া

ছবি: সংগৃহীত
উত্তরা থেকে ব্যাংকে নেওয়ার পথে ফিলিং স্টেশনের ১ কোটি ২১ লাখ টাকা ছিনতাই

রাজধানীর বিমানবন্দর থানাধীন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে একটি ফিলিং স্টেশনের ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য নেওয়া ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় টাকার দায়িত্বে থাকা ফিলিং স্টেশনের সহকারী ম্যানেজার মোহাম্মদ আল আমিন চাপাতির আঘাতে আহত হন।   ঘটনাটি ঘটে রোববার (৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ক্রাউন প্লাজার সামনে বিআরটিএ লেনের কাছে।   পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, উত্তরার ডিএল ফিলিং স্টেশন থেকে ব্যাংকে জমা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ওই টাকা নিয়ে রওনা হয় একটি কাভার্ডভ্যান। ভ্যানে ছিলেন সহকারী ম্যানেজার আল আমিন, সিএনজি অপারেটর সেলিমুজ্জামান এবং চালক মো. খোরশেদ।   ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. আব্দুল করিম বিমানবন্দর থানায় দায়ের করা মামলায় উল্লেখ করেন, সকাল আনুমানিক ১০টা ২৫ মিনিটে তারা টাকা নিয়ে বের হন। ক্রাউন প্লাজার সামনে পৌঁছালে তিনটি মোটরসাইকেলে করে আসা ৬-৭ জন ব্যক্তি তাদের পথরোধ করে।   এজাহারে বলা হয়, ছিনতাইকারীরা পিস্তল ও চাপাতি প্রদর্শন করে কাভার্ডভ্যান থামাতে বাধ্য করে। পরে তারা আল আমিনের কাছে থাকা টাকার ব্যাগ দাবি করে। তিনি ব্যাগ দিতে অস্বীকৃতি জানালে একজন তার বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে দেয় এবং আরেকজন চাপাতি দিয়ে হামলা চালায়।   হামলায় আল আমিনের বাম হাতের কনুই, হাতের তালু ও বাম পায়ে গুরুতর জখম হয়। এরপর ছিনতাইকারীরা খাকি রঙের ব্যাগে থাকা ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।   চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে ছিনতাইকারীরা মোটরসাইকেলে করে আব্দুল্লাপুরের দিকে পালিয়ে যায় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।   পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত আল আমিনকে কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।   এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ৬-৭ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।   বিমানবন্দর থানার পরিদর্শক (অপারেশনস) শরীফ হোসেন বলেন, “ঘটনায় মামলা হয়েছে। জড়িতদের শনাক্তে একাধিক টিম কাজ করছে। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।”   পুলিশ ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পল্লবী থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় এমপি গাজী নজরুলের আগাম জামিন

ছবি: সংগৃহীত

১৭ বছর পর বই হাতে, ছেলের সঙ্গে এসএসসি দিয়ে জিপিএ-৫ পেলেন মা

ছবি: সংগৃহীত

থানার ভেতরে হাতকড়া পরা যুবকের টিকটক, পুলিশের গাফিলতির অভিযোগ

0 Comments