দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কৃষি বিকল্প নেই। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে প্রচলিত প্রবাদটি যথার্থই। কৃষিই পারে দেশের অর্থনৈতিক চাকা ঘুড়িয়ে দিতে। এ জন্য দরকার সঠিক পরিকল্পনা ও তদারকি। দেশের অর্থনৈতিক খাতের অন্যতম অংশীদার শিল্প ও সেবা খাত বাদে একমাত্র কৃষিখাতই নিরবচ্ছিন্নভাবে উৎপাদনমুখী খাত হিসেবে বিবেচিত হয়ে আছে এবং থাকবে।
২০২৪-২৫ সালে জিডিপিতে পৌনে ১৩ শতাংশ অবদান রেখেছে কৃষি খাত। চলতি শুষ্ক মৌসুমে দিনাজপুর-রংপুর অঞ্চল থেকে ন্যূনতম দশ হাজার কোটি টাকার বেশি ফসল উৎপাদিত হবে। যা সরাসরি দেশের অর্থনীতিতে যুক্ত হবে। আর কয়েকদিনের মধ্যেই জিআই স্বীকৃতিপ্রাপ্ত দিনাজপুরের প্রসিদ্ধ লিচু ও গোপালভোগ, মিশ্রিভোগ আম, জিআই স্বীকৃতিপ্রাপ্ত রংপুরের হাড়িভাঙ্গা আম, পঞ্চগড়ের তরমুজ, লাল শুকনো মরিচ, ঠাকুরগাঁওয়ের বৃন্দা বনি আম বাজার রাঙ্গাতে শুরু করবে। ইতোমধ্যেই আম-লিচু আর মৌসুমী ফল ব্যবসাকে ঘিরে কুরিয়ার, কোচসহ পরিবহন খাত ও খাচা বানানোর কাজে নিয়োজিত নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের খেটে খাওয়া নিম্নআয়ের নারী-পুরুষরা ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।
অপরদিকে একরের পর একর জুড়ে দোল খাচ্ছে ইরি-বোরো ধান, গম ও ভুট্টার শীষ ও দানাযুক্ত গাছ দেখে কৃষকের বছরের অর্থনৈতিক চাহিদাপত্রের খাতা সাজাতে শুরু করেছে। এর বাহিরেও দিনাজপুরের সাদা সোনা খ্যাত রসুনসহ শত শত ট্রাক বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছে। ক্রমাগতভাবে আলোকিত হচ্ছে বিভাগের পড়ে থাকা চরাঞ্চলের জমিসহ পতিত জমিসমূহ। যা আগামীতে কৃষিখাতের ভূমিকাকে আরো শক্তিশালী করে তুলবে। অপর একটি সূত্র মতে, উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এখন দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়েছে।
কৃষির পাশাপাশি শিল্পেও এগিয়ে যেতে শুরু করেছে উত্তরাঞ্চলের জেলাসমূহ নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডে একাধিক ইন্ডাস্ট্রির পাশাপাশি ইপিজেডের বাহিরে একাধিক পড়চুলা কারখানা, মিনি গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। যার ৮০ শতাংশই চায়না অংশীদারিত্ব ও সরাসরি অংশগ্রহণে কৃষির পাশাপাশি এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানের কারণে উন্নত ঢাকা চট্টগ্রামের পর তৃতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে আবির্ভূত হবে। যা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, এবার দিনাজপুর অঞ্চলে জিআই স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বেদেনাসহ দিনাজপুরে উৎপাদিত বিভিন্ন জাতের লিচু থেকেই আয় হবে এক হাজার কোটি টাকা। জেলায় ৫ হাজার ৪৮৪ হেক্টর জমি থেকে লিচু উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ৩৬ হাজার মেট্রিক টন লিচু। যদিও বেসরকারি হিসাবে আবাদ, উৎপাদন এবং বিক্রির পরিমাণ আরো অনেক বেশি হবে। ১৫ মে থেকে দিনাজপুর অঞ্চলে মাদ্রাজী জাতের লিচু বাজারে উঠতে শুরু করেছে। এরপরই ক্রমান্বয়ে আসবে বেদানা, বোম্বাই, চায়না-থ্রি কাঁঠালি জাতের লিচু। এদিকে জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পাওয়ায় চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি বিদেশেও রফতানির পথ সুগম হয়েছে। লিচু মৌসুমে কেবলমাত্র বাগান রক্ষণাবেক্ষণ, ভাঙা, প্যাকেজিং এবং পরিবহনে ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়ে থাকে বলে কৃষি বিভাগের সূত্রে জানা গেছে।
কর্মসংস্থান হয় ব্যবসায়ী, শ্রমিক এবং পরিবহন খাতের সাথে জড়িত হাজার হাজার শ্রমিক ও পরিবারের। দিনাজপুরে চলতি ২০২৬ মৌসুমে দিনাজপুরে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে, যেখানে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৭০ হাজার ৫০ মেট্রিক টন। বেসরকারিভাবে এর পরিমাণ ৮.৫ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের আশা প্রকাশ করা হয়েছে। বছরের প্রধান অর্থকরী ফসল হিসেবে বিবেচিত ইরি-বোরো ধান থেকেই আয় হবে দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি। ইরি-বোরো ধানের ওপর নির্ভরশীল শত শত অটো রাইস মিল, রাইস মিল এবং এর সাথে জড়িত হাজার হাজার পরিবারের বাৎসরিক খরচ যোগান হয়ে থাকে এই আবাদ থেকেই। হালে কৃষি ক্ষেত্রে যোগ হয়েছে ভুট্টার আবাদ। এই আবাদ শুধু দিনাজপুর নয় রংপুর, পঞ্চগড়, নীলফামারী, গাইবান্ধা লালমনিরহাটসহ উত্তরের প্রতিটি জেলায় এর আবাদ বিস্তার লাভ করেছে। ভুট্টার ব্যাপক আবাদকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বড় বড় ফিড মিল।
একইভাবে হাড়িভাঙা আম পাল্টে দিয়েছে রংপুরের কৃষি অর্থনীতি। গত কয়েকবছর ধরে এই আম রংপুরের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। ইতোমধ্যে এই আম জিআই পণ্য (ভৌগোলিক নির্দেশক) হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয় এই আম রংপুরের ঐতিহ্য হিসেবে পরিচিত। চলতি মৌসুমে হাঁড়িভাঙা আম বিক্রি করে রংপুর অঞ্চলে ৩শ’ কোটি টাকারও বেশি বাণিজ্যের সম্ভাবনা দেখছেন আম চাষিরা। এক সময় রংপুর অঞ্চলের মানুষ কাজের অভাবে অলস সময় কাটাতো। কাজ ও খাদ্যাভাবের কারণে বছরের বেশির ভাগ সময় এখানে মঙ্গা বিরাজ করতো। এখন সেই মঙ্গাকে জয় করেছে এ অঞ্চলের মানুষ ও প্রকৃতি। এক ফসলা জমি এখন তিন অবস্থান ভেদে চার ফসলা জমিতে পরিণত হয়েছে। বাড়ির উঠান কিংবা আশপাশের পরিত্যক্ত জমিগুলো এখন আমের বাগানে ভরে গেছে। এতটুকু জমিও এখন আর পরিত্যক্ত নেই।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, এ বছর ২৫০ কোটিরও বেশি টাকার বাণিজ্য হবে হাঁড়িভাঙা আম বিক্রি করে। এবার হাঁড়িভাঙা আমের গাছে প্রচুর আম ধরেছে। গত বছরের চেয়ে বেশি জমিতে হাঁড়িভাঙা ও অন্যান্য আরো বেশ কয়েক জাতের আম চাষ হয়েছে। ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি হাঁড়িভাঙা আম রংপুরের নিজস্ব জিআই পণ্য হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ করেছে। প্রতি হেক্টরে গড় ফলন ১০-১২ টন হিসাবে মোট বাজারমূল্য ৩শ’ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর হাঁড়িভাঙার ‘ব্র্যান্ড ভ্যালু’ বেড়েছে। দেশের ভেতরে সরাসরি বাগান থেকে আম সরবরাহ বেড়েছে। বিদেশেও রফতানি হচ্ছে। তবে হিমাগার বা আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবে চাষিদের কিছুটা দুশ্চিন্তা রয়েছে। হিমাগার থাকলে চাষিরা আম সংরক্ষণ করে তা বিক্রি করতে পারতেন। এতে লাভ বেশি হতো।
এদিকে, আম ছাড়াও ভুট্টার বাম্পার ফলন রংপুর অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করেছে। জেলার বিভিন্ন এলাকার উঁচু জমি ছাড়াও তিস্তা, ধরলা, দুধকুমোর ও যমুনেশ্বরী নদীর রূপালী চরগুলোতে এখন ভুট্টা, কাউন, বাদাম, মিষ্টি আলু, মিষ্টি কুমড়ার ব্যাপক ফলন হচ্ছে। এক সময়কার পরিত্যক্ত রূপালী চর এখন এ অঞ্চলে সোনার খনিতে পরিণত হয়েছে। চরাঞ্চলের মানুষ ছাড়াও নদী তীরবর্তী মানুষ এসব চরে উল্লেখিত ফসলের পাশাপাশি রবিশস্য চাষ করে নিজেদের ভাগ্য বদলে দিয়েছেন এবং এ অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে বিরাট ভূমিকা রাখছেন। তাছাড়া গত কয়েক বছর ধরে এ অঞ্চলের সর্বত্রই আলুর বাম্পার ফলন হচ্ছে। রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলার বিভিন্ন নদীর চরে বিশেষ করে রংপুরের গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া, পীরগাছাসহ গাইবান্ধা জেলার সাতটি উপজেলায় ভুট্টা চাষ হলেও সদর, সাঘাটা, সুন্দরগঞ্জ ও ফুলছড়ি উপজেলার ১৬৫টি ছোট-বড় চরে সবচেয়ে বেশি ভুট্টা চাষ হচ্ছে। একইভাবে কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী জেলার প্রায় আড়াই শতাধিক নদীর চরে ভুট্টা চাষ করছেন কৃষকরা।
কৃষি বিভাগের দেয়া তথ্য মতে, এবার ভুট্টা চাষের জন্য রংপুর কৃষি অঞ্চলে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১ লাখ ১৫ হাজার হেক্টর জমি। সে হিসাব ছাড়িয়ে কৃষকরা অতিরিক্ত ১২ হাজার হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ করেছেন। ভুট্টা বর্তমানে হাজারো কৃষকের প্রধান জীবিকা হয়ে উঠেছে। হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত মহানন্দা নদীর ভাটিতে অবস্থিত ভেসে আসা নূড়ী পাথরের কারণে সেরকম কোনো আবাদই হতো না। সেই পঞ্চগড় এখন দেশের দ্বিতীয় চা উৎপাদনকারী জেলায় নাম লিখিয়েছে। হাজার হাজার একর জুড়ে পঞ্চগড়ের চা বাগান এখন ভারতের দার্জিলিং ও শিলিগুড়িতে চোখ রাঙ্গাচ্ছে। আবাদ হচ্ছে ইরি-বোরো ধানের পাশাপাশি মরিচ। মৌসুমের শুরুতে এখন পঞ্চগড়ের যত্র-তত্র শুকোতে দেয়া লাল মরিচের গালিচা শোভা পাচ্ছে। চলতি মৌসুমে বোরো ধান রোপণ হয়েছে ৩২ হাজার ৭৩২ হেক্টর, উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৭৪৩ মেট্রিকটন। এছাড়াও বাদাম, গম, আলু, মরিচসহ বিভিন্ন জাতের ফসল উৎপাদন হচ্ছে। দুই যুগ আগে ২ হাজার টাকা মূল্যের এক একর জমি এক কোটি টাকাতেও পাওয়া মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। চা বাদে কেবলমাত্র মৌসুম ভিত্তিক ফসল শুকনা মরিচ থেকে ৭০০ কোটি, গম থেকে ২০০ কোটি, ভুট্টা থেকে ৭০০ কোটি, আলু থেকে ৩০০ কোটি টাকাসহ অন্যান্য মওসুমি ফসল থেকেই দেড় হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য হবে।
একইভাবে গমের জন্য বিখ্যাত ঠাকুরগাঁও জেলার বৃন্দাবনি আম ব্যাপক জনপ্রিয়, ঠাকুরগাঁওতে গড়ে উঠেছে দেশের সর্ববৃহৎ কমলা ও মাল্টার বাগান। জেলার পীরগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত এই বাগানের কমলা ও মাল্টা বিদেশি ফলগুলোকেও হার মানিয়েছে। চাহিদাও ব্যাপক। বাগান থেকেই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে এখানকার মাল্টা ও কমলা। দীর্ঘদিনের অবহেলা ও বঞ্চনা থেকে ঠাকুরগাঁও জেলা কৃষি থেকে এখন বাণিজ্যিক ও শিক্ষা নগরীতে উন্নীত হতে যাচ্ছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের কৃতি সন্তান বিএনপির মহাসচিব এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মাত্র আড়াই মাসে ঠাকুরগাঁও জন্য যা এনে দিয়েছেন সম্ভবত অন্য কোনো সরকারের সময় একেবারে অবহেলিত একটি জেলা পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আস্থাভাজন মির্জা ফখরুল আজিবন কাজ করেছেন ঠাকুরগাঁওবাসীর জন্য। ইতোমধ্যে একটি বিশ্ববিদ্যালয়, একটি মেডিক্যাল কলেজ পেয়েছে ঠাকুরগাঁওবাসী। পেতে যাচ্ছে পরিত্যক্ত বিমানবন্দরের মর্যাদা, নার্সিং কলেজসহ আরো অনেক কিছু। ফলে ঠাকুরগাঁও জেলা শিক্ষার পাশাপাশি কৃষিতেও আরো বেশি ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ইসলামী ব্যাংকের প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নিযুক্ত কর্মকর্তারা। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে মো. আবেদুর রহমান সিকদার দায়িত্ব নেওয়ার পর পর্যায়ক্রমে প্রশাসকদের প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। তাঁরা এখন নিজেদের মূল কর্মস্থল বাংলাদেশ ব্যাংকে ফিরে গেছেন। আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থতার প্রেক্ষাপটে গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংককে একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বর্তমান সরকারও এ প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে। একীভূতকরণ কার্যক্রম শুরুর পর প্রথমে স্বতন্ত্র পরিচালক এবং পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের এসব ব্যাংকের প্রশাসনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। গত ১৬ জুলাই সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের এমডি হিসেবে আবেদুর রহমান সিকদার দায়িত্ব নেওয়ার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। পাঁচ ব্যাংকের মধ্যে বর্তমানে শুধু এক্সিম ব্যাংকে একজন উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) রয়েছেন। অন্য চার ব্যাংকে এ পর্যায়ের শীর্ষ নির্বাহী নেই। নতুন এমডি এক্সিম ব্যাংকের কার্যালয়কে কেন্দ্র করে কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি অন্য ব্যাংকগুলোর বিষয়ও দেখভাল করছেন। তবে পাঁচ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় রাজধানীর মতিঝিল, গুলশান ও মহাখালীর বিভিন্ন এলাকায় হওয়ায় একজন এমডির পক্ষে সবগুলো কার্যালয়ের কার্যক্রম একসঙ্গে সরাসরি তদারক করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এ বিষয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী শাইরুল হাসান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক এখন আর পাঁচ ব্যাংকের সরাসরি ব্যবসায়িক পরিচালনায় থাকবে না। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে ব্যাংকগুলোর ওপর পূর্ণ তদারকি বজায় রাখবে। দ্রুত জ্যেষ্ঠ পর্যায়ে চার থেকে পাঁচজন কর্মকর্তা নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে। তিনি জানান, আপাতত এমডি নিজেই পাঁচ ব্যাংকের কার্যক্রম তদারক করছেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন কার্যালয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে পুরোনো কর্মকর্তাদের সক্রিয় করে কার্যক্রম সচল রাখার চেষ্টা চলছে। একীভূতকরণের সময়সীমা প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান বলেন, প্রক্রিয়াটি ইতোমধ্যে পুরোদমে শুরু হয়েছে। আগামী ১ ডিসেম্বরের মধ্যে পাঁচটি ব্যাংককে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি একক ও শক্তিশালী ব্যাংকে রূপান্তর করার লক্ষ্য রয়েছে। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অনুমোদিত ও পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের দেওয়া মূলধন ২০ হাজার কোটি টাকা। অবশিষ্ট ১৫ হাজার কোটি টাকার শেয়ার আমানতকারীদের মধ্যে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাঁচ ব্যাংকে আমানতকারীদের মোট জমার পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। বিপরীতে ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চে পাঁচ ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ৬৫ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা, যা ব্যাংকগুলোর মোট বিতরণ করা ঋণের ৮৪ দশমিক ২২ শতাংশ। একীভূত হতে যাওয়া পাঁচ ব্যাংকের দেশজুড়ে মোট ৭৬০টি শাখা, ৬৯৮টি উপশাখা, ৫১১টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট এবং ৯৭৫টি এটিএম বুথ রয়েছে। ফলে নতুন ব্যাংকটির কার্যক্রমের পরিধি ও গ্রাহকসংখ্যা বড় হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। ব্যাংক খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, একীভূতকরণ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোতে কঠোর ও নিবিড় নজরদারি প্রয়োজন। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই বড় ধরনের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের প্রশাসনিক দুর্বলতা বা অনিয়ম দেখা দিলে পুরো উদ্যোগটি বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং ব্যাংক খাতে নতুন করে আস্থার সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মোস্তফা কে মুজেরী মনে করেন, একীভূতকরণ যেহেতু শুরু হয়েছে, তাই এটি সফলভাবে শেষ করা জরুরি। নতুন চেয়ারম্যান ও এমডির নেতৃত্বে দ্রুত যোগ্য জনবল নিয়োগ করে রূপান্তর প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে হবে, যাতে কোনো পক্ষ বিশৃঙ্খলা তৈরির সুযোগ না পায়।
কয়েক দিনের তীব্র গ্যাসসংকট কাটিয়ে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চলের উৎপাদন কার্যক্রম। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল থেকে জেলার ৮১টি শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ পুনরায় চালু হওয়ায় বন্ধ ও সীমিত উৎপাদনে থাকা কারখানাগুলো আবার সচল হতে শুরু করেছে। এতে কাজে ফিরেছেন হাজারো শ্রমিক, আর উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যেও স্বস্তি ফিরে এসেছে। জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডের (জেজিটিডিএসএল) শাহজীবাজার কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মো. খালেদ গণি জানান, শনিবার সকাল থেকে হবিগঞ্জের ছোট-বড় সব মিলিয়ে ৮১টি শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। বর্তমানে গ্যাসের চাপ সন্তোষজনক থাকায় শিল্পকারখানাগুলো ধাপে ধাপে পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনে ফিরছে। উৎপাদনে ফিরছে কারখানাগুলো তেলিয়াপাড়ার ফার ইস্ট স্পিনিং মিলের জেনারেল ম্যানেজার সুমন আহমেদ বলেন, সকাল থেকেই পূর্ণমাত্রায় গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। ফলে উৎপাদন স্বাভাবিক গতিতে শুরু হয়েছে এবং যন্ত্রপাতি আগের মতো সচল রয়েছে। একইভাবে যমুনা শিল্পকারখানার জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী আবুল হোসেন জানান, গ্যাসের চাপ বাড়ায় উৎপাদন কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক হচ্ছে এবং শ্রমিকেরা নিয়মিতভাবে কাজে যোগ দিয়েছেন। কয়েক দিনের সংকটে বিপাকে ছিল শিল্পাঞ্চল গত বুধবার বিকেল থেকে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় মাধবপুরের ২৪টি ভারী শিল্পকারখানাসহ জেলার মোট ৮১টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে উৎপাদন বন্ধ বা সীমিত হয়ে পড়ে। এতে প্রায় দেড় লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে রপ্তানিমুখী পোশাক ও টেক্সটাইল কারখানাগুলো বিদেশি ক্রেতাদের নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ করতে না পারার আশঙ্কায় বড় ধরনের চাপের মুখে পড়ে। এলএনজি সরবরাহে বিঘ্নেই তৈরি হয়েছিল সংকট সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চট্টগ্রামের ভাসমান এলএনজি (LNG) টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে সংকট তৈরি হয়েছিল। ওই পরিস্থিতিতে সিলেট অঞ্চলের গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরিয়ে নেওয়ায় হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। তবে সামিট এলএনজি টার্মিনাল থেকে পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমেছে। এর ফলে হবিগঞ্জের শিল্পকারখানাগুলো আবার পর্যাপ্ত গ্যাস পেতে শুরু করেছে। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সময় লাগবে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় উৎপাদন আবার শুরু হলেও উদ্যোক্তারা বলছেন, কয়েক দিনের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ক্ষতি দ্রুত কাটিয়ে ওঠা সহজ হবে না। তাদের মতে, বিশেষ করে রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্ডার সরবরাহ নিশ্চিত করতে এখন অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হতে পারে। তাই উৎপাদন স্বাভাবিক হলেও সাম্প্রতিক সংকটের প্রভাব পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে আরও কিছু সময় লাগবে।
দেশের বাজারে আবারও সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি ভরি স্বর্ণালঙ্কারের দাম সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬৩৩ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে সোনার নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। এর আগে সকাল ৯টায় বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাজুসের নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে এই মানের প্রতি ভরি সোনার দাম ছিল ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ টাকা। অর্থাৎ দাম বেড়েছে ১ হাজার ৬৩৩ টাকা। এ ছাড়া নতুন তালিকায় ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২৬ হাজার ১৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ২০৬ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ টাকা। অপরিবর্তিত রুপার দাম সোনার দাম বাড়লেও দেশের বাজারে রুপার দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বাজুসের নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৭৪ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৮৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ২০০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ১৪৯ টাকা অপরিবর্তিত রয়েছে। বাজুসের নতুন সিদ্ধান্তের ফলে দেশের বাজারে স্বর্ণালঙ্কারের দাম আরও এক দফা বেড়েছে। নতুন এই মূল্য কার্যকর হওয়ার পর ক্রেতাদের স্বর্ণ কিনতে আগের তুলনায় আরও বেশি অর্থ ব্যয় করতে হবে।