জাতীয়

রাজনীতির নামে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে একটি মহল, সতর্ক থাকার আহ্বান : প্রধানমন্ত্রী

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশে একটি মহল রাজনীতির নামে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, সতর্ক থাকুন।

 

শনিবার (১৬ মে) বিকালে চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান।

 

বিএনপির দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের রাজনীতি করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির রাজনীতি মানে খাল খনন, কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন মিল কারখানা তৈরি, মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা, স্বাস্থ্যের ব্যবস্থা করা, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

 

উপস্থিত জন সাধারণের উদ্দেশ্য প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতির নামে যদি কেউ বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চায়, রাজনীতির নামে যদি কেউ অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায় আপনারা কি বসে থাকবেন? আমরা কেউ বসে থাকবো না। শক্ত হাতে প্রতিহত করবো।

 

সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের এই অনুষ্ঠান হয়।

 

চাঁদপুর ছাড়াও আরও ২০টি জেলায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলওয়াত, জাতীয় সঙ্গীত ও পরে দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়।

 

অনুষ্ঠানে ১০ জন নারী- হাসিনা খাতুন, সোহাগী আখতার, ফাতেমা খাতুন, আমেনা খাতুন, মোসেদা বেগম, মনোয়ারা বেগম,মাহমুদা খাতুন, রুমা আখতার, নাজমা বেগম এবং তাসলিমার হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

 

এরপর ল্যাপটপের বাটন টিপের সাথে সাথে চাঁদপুরসহ আরও ২০টি জেলার সুবিধাভোগী (১৫ হাজার নারী) প্রত্যেকের কাছে নগদ অর্থ (আড়াই হাজার টাকা) চলে যায়।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি যে সকল কর্মসূচি গ্রহণ করেছে এর প্রত্যেকটি কর্মসূচি হচ্ছে এই দেশের খেটে খাওয়া মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের স্বার্থে। আর এ লক্ষ্যেই আমরা আন্দোলনের মাধ্যমে এ দেশ থেকে স্বৈরাচার হটিয়েছি। দেশের মানুষ এখন নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছে। এখন হচ্ছে আমাদের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের পালা।

 

প্রধানমন্ত্রী সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এখন সময় কাজ করার, এখন সময় দেশ গড়ার। তাই আসুন দেশ গড়ার কাজে নেমে পড়ি। এই জনসভায় আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হই যাতে আমাদের দেশ গড়ার পথে কেউ বাধাগ্রস্ত না করতে পারে। এ জন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

 

তিনি বলেন, আসুন আমরা এই শর্তে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই, ‘করবো কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’

 

এ সময় চাঁদপুরে ইপিজেড স্থাপন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সহ বিভিন্ন দাবির পক্ষে প্রধানমন্ত্রী ইতিবাচক সমর্থনের কথা জানান।

 

দেশের মানুষ শান্তি চায়, স্থিতিশীলতা চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু মানুষ একটি মহল বিভিন্ন বিতর্কের সৃষ্টি করছে। আজকে আপনাদেরকে সামনে রেখে আমি পরিষ্কার ভাবে বলে দিতে চাই, ‘১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে আমরা দেশের মানুষকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম দেশের মানুষ তার পক্ষে রায় দিয়েছে। কাজেই আমরা দেশের মানুষকে সাথে নিয়ে সেই সকল প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজে হাত দিয়েছি। এই সকল প্রতিশ্রুতি পর্যায়ক্রমিকভাবে যদি আমরা বাস্তবায়ন করতে পারি, তাহলে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।

 

ফ্যামিলি কার্ডের এই অনুষ্ঠানে হাজার হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

 

সমাজ কল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আনম এহছানুল হক মিলন, সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, চাঁদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য জেলা সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য জালাল আহমেদ,সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রাশেদ বেগম হীরা, চাঁদপুরের জেলা পরিষদের প্রশাসক সলিম উল্যা সেলিম এবং সমাজ কল্যাণ সচিব মোহাম্মদ আবু ইউসুফ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

 

ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া রুমা আখতার ও মনোয়ারা বেগম প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বক্তব্য রাখেন।

 

অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এর নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন (আশিক চৌধুরী) সহ জেলা নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি: সংগৃহীত
রাজনীতির নামে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে একটি মহল, সতর্ক থাকার আহ্বান : প্রধানমন্ত্রী

জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশে একটি মহল রাজনীতির নামে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, সতর্ক থাকুন।   শনিবার (১৬ মে) বিকালে চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান।   বিএনপির দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের রাজনীতি করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির রাজনীতি মানে খাল খনন, কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন মিল কারখানা তৈরি, মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা, স্বাস্থ্যের ব্যবস্থা করা, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।   উপস্থিত জন সাধারণের উদ্দেশ্য প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতির নামে যদি কেউ বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চায়, রাজনীতির নামে যদি কেউ অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায় আপনারা কি বসে থাকবেন? আমরা কেউ বসে থাকবো না। শক্ত হাতে প্রতিহত করবো।   সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের এই অনুষ্ঠান হয়।   চাঁদপুর ছাড়াও আরও ২০টি জেলায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলওয়াত, জাতীয় সঙ্গীত ও পরে দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়।   অনুষ্ঠানে ১০ জন নারী- হাসিনা খাতুন, সোহাগী আখতার, ফাতেমা খাতুন, আমেনা খাতুন, মোসেদা বেগম, মনোয়ারা বেগম,মাহমুদা খাতুন, রুমা আখতার, নাজমা বেগম এবং তাসলিমার হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।   এরপর ল্যাপটপের বাটন টিপের সাথে সাথে চাঁদপুরসহ আরও ২০টি জেলার সুবিধাভোগী (১৫ হাজার নারী) প্রত্যেকের কাছে নগদ অর্থ (আড়াই হাজার টাকা) চলে যায়।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি যে সকল কর্মসূচি গ্রহণ করেছে এর প্রত্যেকটি কর্মসূচি হচ্ছে এই দেশের খেটে খাওয়া মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের স্বার্থে। আর এ লক্ষ্যেই আমরা আন্দোলনের মাধ্যমে এ দেশ থেকে স্বৈরাচার হটিয়েছি। দেশের মানুষ এখন নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছে। এখন হচ্ছে আমাদের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের পালা।   প্রধানমন্ত্রী সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এখন সময় কাজ করার, এখন সময় দেশ গড়ার। তাই আসুন দেশ গড়ার কাজে নেমে পড়ি। এই জনসভায় আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হই যাতে আমাদের দেশ গড়ার পথে কেউ বাধাগ্রস্ত না করতে পারে। এ জন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।   তিনি বলেন, আসুন আমরা এই শর্তে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই, ‘করবো কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’   এ সময় চাঁদপুরে ইপিজেড স্থাপন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সহ বিভিন্ন দাবির পক্ষে প্রধানমন্ত্রী ইতিবাচক সমর্থনের কথা জানান।   দেশের মানুষ শান্তি চায়, স্থিতিশীলতা চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু মানুষ একটি মহল বিভিন্ন বিতর্কের সৃষ্টি করছে। আজকে আপনাদেরকে সামনে রেখে আমি পরিষ্কার ভাবে বলে দিতে চাই, ‘১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে আমরা দেশের মানুষকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম দেশের মানুষ তার পক্ষে রায় দিয়েছে। কাজেই আমরা দেশের মানুষকে সাথে নিয়ে সেই সকল প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজে হাত দিয়েছি। এই সকল প্রতিশ্রুতি পর্যায়ক্রমিকভাবে যদি আমরা বাস্তবায়ন করতে পারি, তাহলে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।   ফ্যামিলি কার্ডের এই অনুষ্ঠানে হাজার হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে জনসমুদ্রে পরিণত হয়।   সমাজ কল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আনম এহছানুল হক মিলন, সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, চাঁদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য জেলা সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য জালাল আহমেদ,সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রাশেদ বেগম হীরা, চাঁদপুরের জেলা পরিষদের প্রশাসক সলিম উল্যা সেলিম এবং সমাজ কল্যাণ সচিব মোহাম্মদ আবু ইউসুফ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।   ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া রুমা আখতার ও মনোয়ারা বেগম প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বক্তব্য রাখেন।   অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এর নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন (আশিক চৌধুরী) সহ জেলা নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় বিভাগ হতে যাচ্ছে কুমিল্লা

সংগৃহীত ছবি

জনগণই ক্ষমতার উৎস—দেশ গঠনে ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ছবি: পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাওয়া

জাবিতে ধর্ষণচেষ্টা: সিসিটিভির ব্যক্তির তথ্য দিলে পুরস্কার ঘোষণা পুলিশের

রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবসের আলোচনায় বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
ফারাক্কা বাংলাদেশের মানুষের কাছে প্রতিরোধের প্রতীক: মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ফারাক্কা এখন বাংলাদেশের মানুষের কাছে প্রতিরোধের প্রতীক। তিনি বলেন, গঙ্গা বা পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত না হলে দেশের মানুষ, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে। আজ শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ-এ ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, মাওলানা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী সারাজীবন সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে সংগ্রাম করেছেন। তিনি কখনো ক্ষমতার কাছে মাথা নত করেননি। ফারাক্কা লংমার্চের মাধ্যমে তিনি দেশের মানুষকে সংগঠিত করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। তিনি বলেন, ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের ফলে দেশের প্রায় এক কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ে। তখনই মাওলানা ভাসানী বিষয়টি উপলব্ধি করে আন্দোলন শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন এবং একটি কার্যকর চুক্তি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১৯৭৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান ফারাক্কা প্রকল্প চালুর অনুমতি দেওয়ার পর থেকেই দেশের ক্ষতি শুরু হয়। পরে বিভিন্ন সময়ে চুক্তি হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। তিনি দাবি করেন, বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত রয়েছে। এর পর নতুন চুক্তি করতে হলে তা দীর্ঘমেয়াদি ও জনগণের স্বার্থ রক্ষাকারী হতে হবে। ফখরুল বলেন, পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত না হলে দেশের স্বার্থ রক্ষায় বিকল্প উদ্যোগ নিতে হবে। এ সময় তিনি সরকারের গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণ উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, জাতীয় স্বার্থে সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারবিরোধী অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারকে অস্থিতিশীল করার জন্য একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে। দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রে বিশ্বাসী মানুষকে এ বিষয়ে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি। ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আলোচনার মাধ্যমে অবিলম্বে ফারাক্কা চুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সমাধানে পৌঁছাতে হবে। অন্যথায় দুই দেশের সুসম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটি সদস্য আব্দুল মইন খান এমপি, বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালি প্রমুখ।

মারিয়া রহমান মে ১৬, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

জনগণের দাবি হলে কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

মাদক কারবার নিয়ে দ্বন্দ্বে বাবাকে হত্যার অভিযোগ, ছেলে গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত

ফ্যামিলি কার্ডের জন্য বাজেটে বড় বরাদ্দ থাকবে: তারেক রহমান

ছবি: সংগৃহীত
ঈদে টানা ৭ দিনের ছুটি ঘোষণা, ২৩ মে খোলা থাকবে অফিস

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা সাত দিনের ছুটির প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত দেশের সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। তবে ছুটির সমন্বয়ের অংশ হিসেবে ২৩ মে শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২৪ মে রোববার অফিস খোলা থাকবে বলে জানানো হয়েছে। এরপর ২৫ মে থেকে শুরু হবে ঈদের ছুটি। এর আগে মন্ত্রিপরিষদ সভায় ঈদুল আজহার ছুটি নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ফায়ার সার্ভিস, বন্দর, টেলিযোগাযোগ, ডাকসেবা ও হাসপাতালসহ জরুরি সেবাসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো এ ছুটির আওতার বাইরে থাকবে। ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানী ছাড়ার প্রস্তুতি শুরু করেছেন অনেক চাকরিজীবী। একই সঙ্গে সড়ক, রেল ও নৌপথে নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো প্রস্তুতি জোরদার করছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সিনিয়র সহকারী সচিব জান্নাতুল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এ প্রজ্ঞাপন সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১৬, ২০২৬

সরাসরি জনগণের কাছ থেকে ঋণ নেবে সরকার

ছবি: সংগৃহীত

রাউজানে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার, পরিবারের দাবি হত্যা

ছবি: সংগৃহীত

এক্সপ্রেসওয়েতে ট্রাকচালক ও সহকারীর মর্মান্তিক মৃত্যু

0 Comments