ডোনাল্ড ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের এক সুপ্ত আকাঙ্ক্ষা ছিল নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া। বিভিন্ন সময়ে তিনি প্রকাশ্যেই সেই ইচ্ছার কথা বলেছেন। অবশেষে এক নাটকীয় ঘটনার মধ্য দিয়ে যেন সেই স্বপ্ন পূরণের প্রতীকী মুহূর্ত এলো। ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো নিজের নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদকটি উপহার হিসেবে তুলে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে।
বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে একান্ত বৈঠক শেষে মাচাদো নিজেই সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এই বৈঠক এমন এক সময় অনুষ্ঠিত হলো, যখন কয়েক সপ্তাহ আগে মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে কারাকাস থেকে আটক করে। মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং বর্তমানে নিউইয়র্কের একটি বন্দিশিবিরে তাকে রাখা হয়েছে। মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলমান।
ট্রাম্পের সঙ্গে প্রথমবারের মতো সরাসরি সাক্ষাতের পর মাচাদো দিনটিকে ভেনেজুয়েলাবাসীর জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন হিসেবে বর্ণনা করেন। বৈঠক শেষে হোয়াইট হাউসের গেটে জড়ো হওয়া সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর ভরসা করতে পারি। পরে সাংবাদিকদের তিনি জানান, স্বাধীনতার প্রতি ট্রাম্পের অনন্য অঙ্গীকারের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি নিজের নোবেল পদকটি তাকে উপহার দিয়েছেন।
এই উপহারকে মাচাদো ঐতিহাসিক এক ঘটনার সঙ্গে তুলনা করেন। তার ভাষায়, মার্কিন স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর মার্কেস দে লাফায়েত যেভাবে সিমন বলিভারকে পদক উপহার দিয়েছিলেন, এটি তেমনই এক প্রতীকী সম্মান।
ডোনাল্ড ট্রাম্প এই উপহার গ্রহণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি একে পারস্পরিক সম্মানের এক চমৎকার নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করেন এবং মাচাদোকে একজন অসাধারণ নারী বলে আখ্যা দেন। তবে ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে মাচাদো বিজয়ের দাবি করলেও যুক্তরাষ্ট্র এখনো তাকে ভেনেজুয়েলার নতুন নেতা হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি। বরং মাদুরোর আমলে ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে থাকা ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন ট্রাম্প, যিনি বর্তমানে দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি মনে করেন ভেনেজুয়েলায় মাচাদোর পর্যাপ্ত জনসমর্থন নেই।
নোবেল কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মারিয়া কোরিনা মাচাদো ট্রাম্পকে পদক উপহার দিলেও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এর কোনো বৈধতা নেই। এর আগে মাচাদো যখন পুরস্কারটি ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তখনই নোবেল কমিটি স্পষ্ট করে জানায়, নোবেল শান্তি পুরস্কার হস্তান্তরযোগ্য নয়।
গত সপ্তাহে দেওয়া এক বিবৃতিতে নোবেল কমিটি জানায়, নোবেল পুরস্কার একবার ঘোষণা করা হয়ে গেলে তা প্রত্যাহার, ভাগাভাগি বা অন্য কারও কাছে হস্তান্তর করা যায় না। এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত এবং চিরস্থায়ী। বৃহস্পতিবার মাচাদোর মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে নোবেল কমিটি বিবিসিকে তাদের আগের অবস্থানই পুনর্ব্যক্ত করে। একই দিনে হোয়াইট হাউসে বৈঠকের আগে নোবেল পিস সেন্টার সামাজিক মাধ্যম এক্সে পোস্ট করে জানায়, একটি পদকের মালিকানা বদলাতে পারে, কিন্তু নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর উপাধি বদলায় না।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ইসরায়েলের ক্ষমতাসীন জোটের কট্টর ডানপন্থী সদস্যরা রবিবার গাজায় যুদ্ধ-পরবর্তী শাসনব্যবস্থা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত একটি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডটি সংযুক্ত না করা এবং সেখানে নতুন ইসরায়েলি বসতি স্থাপন না করার জন্য প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সমালোচনা করেন। হোয়াইট হাউস তথাকথিত গাজা ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগ দিতে যেসব বিশ্বনেতাকে বেছে নিয়েছে, তাদের নাম ঘোষণার পর—যার মধ্যে তুরস্ক ও কাতারের প্রতিনিধিরাও রয়েছেন এবং এই দুই দেশই গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের সমালোচক—ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ নেতানিয়াহুর ‘গাজার দায়িত্ব নিতে অনিচ্ছা’-কে ‘মূল পাপ’ বলে আখ্যা দেন। নিজে ইসরায়েল-অধিকৃত পশ্চিম তীরে একজন বসতি স্থাপনকারী স্মোটরিচ বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে বরং সেখানে ‘একটি সামরিক সরকার প্রতিষ্ঠা করা, অভিবাসন ও বসতি স্থাপনে উৎসাহ দেওয়া এবং এভাবেই বহু বছরের জন্য ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা’ উচিত। এই সপ্তাহে হোয়াইট হাউস ‘গাজা এক্সিকিউটিভ বোর্ড’ গঠনের ঘোষণা দেয়, যা যুদ্ধ শেষ করতে ঘোষিত ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তার সভাপতিত্বে বৃহত্তর ‘বোর্ড অব পিস’-এর অধীনে কাজ করবে। পরামর্শমূলক ভূমিকা রয়েছে বলে বর্ণিত এক্সিকিউটিভ বোর্ডে অন্যান্য আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এবং কাতারের কূটনীতিক আলি আল-থাওয়াদি অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। কাতার ও তুরস্কের প্রতি ইঙ্গিত করে স্মোটরিচ এক্সে লেখেন, ‘যে দেশগুলো হামাসকে অনুপ্রাণিত করেছে, তারাই তাকে প্রতিস্থাপন করতে পারে না। যারা এটিকে সমর্থন করে এবং এখনো আশ্রয় দেয়, তাদের গাজায় কোনো অবস্থান দেওয়া হবে না। শেষ কথা।’ তিনি আরো লেখেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে এ বিষয়ে দৃঢ় থাকতে হবে, এমনকি যদি এতে আমাদের মহান বন্ধু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দূতদের সঙ্গে বিরোধও সামলাতে হয়।’ উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা ও পরবর্তী পদক্ষেপ মূল্যায়নের লক্ষ্যে নেতানিয়াহু জোটসঙ্গীদের সঙ্গে রবিবার একটি বৈঠক আহ্বান করেন। প্রধানমন্ত্রীর কেন্দ্রীয় চ্যালেঞ্জ হলো তার কট্টর ডানপন্থী মিত্রদের সামাল দেওয়া। তাদের সরকারে থাকা তার রাজনৈতিক টিকে থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, এবং তারা গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতিতেও কখনো সম্মত হননি। নেতানিয়াহু নিজেও শনিবার পরিকল্পনাটির বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, কিছু নিয়োগ ‘ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়নি এবং তার নীতির পরিপন্থী’, তবে কারা তা নির্দিষ্ট করেননি। তিনি তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সারকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। ইসরায়েল এর আগেও যুদ্ধ-পরবর্তী গাজায় তুরস্কের কোনো ভূমিকার কড়া বিরোধিতা করেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক তীব্রভাবে অবনতি ঘটেছে।
ইরানে আংশিকভাবে ইন্টারনেট চালু হয়েছে। আজ থেকে দেশটিতে এ সেবা চালু হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) নিজেদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে এক ঘোষণায় এ তথ্য জানিয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিবিসি জানিয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে বিভ্রাটের পর আনুষ্ঠানিকভাবে ইন্টারনেট সেবা পুনরায় চালুর ঘোষণা দিল ইরান সরকার। একই সঙ্গে বৈশ্বিক ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকসও শনিবার সকালে ইরানে ইন্টারনেট ট্রাফিকে কিছুটা উন্নতির তথ্য নিশ্চিত করেছে। নেটব্লকসের তথ্যমতে, ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট শুরুর ৩৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। সংস্থাটি জানায়, ২০০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা বড় ধরনের ব্যাঘাতের পর শনিবার সকালে ইন্টারনেট সংযোগে খুবই সামান্য বৃদ্ধি লক্ষ করা গেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, বর্তমানে ইরানে সামগ্রিক ইন্টারনেট সংযোগ স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে মাত্র প্রায় ২ শতাংশে রয়েছে। কার্যকরভাবে ইন্টারনেট সেবা পুরোপুরি পুনরুদ্ধারের কোনো স্পষ্ট লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। এদিকে, ইন্টারনেট সেবার দীর্ঘস্থায়ী বিভ্রাটে সাধারণ মানুষ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যম চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি কবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি। উল্লেখ্য, গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। প্রথমে দোকানদার, ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত লোকজন ধর্মঘট ও বিক্ষোভে নামেন। তাদের অভিযোগ ছিল লাগামহীন মূল্যস্ফীতি, দেশটির মুদ্রা রিয়ালের ব্যাপক অবমূল্যায়ন এবং ক্রমাগত অবনতি হওয়া অর্থনৈতিক পরিস্থিতি। পরবর্তী সময়ে এই আন্দোলন তেহরান ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। এতে শ্রমিক, শিক্ষার্থীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ অংশ নিতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক দাবির পাশাপাশি এই বিক্ষোভ সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। বিক্ষোভ দমনে গত ৭ জানুয়ারি থেকে ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেয় ইরান সরকার। একই সঙ্গে দেশজুড়ে পুলিশ, নিরাপত্তা বাহিনী ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সংঘর্ষে ইতোমধ্যে আড়াই হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া গ্রেপ্তার হয়েছেন হাজার হাজার বিক্ষোভকারী।
ইরানি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের সময় দেশব্যাপী ইন্টারনেট বন্ধ থাকার ২০০ ঘন্টারও বেশি সময় পর, ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ ‘খুব সামান্য’ উন্নতি হয়েছে। ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা নেটব্লকস শনিবার এ তথ্য জানিয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। নেটব্লকস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এক বার্তায় জানিয়েছে, ‘২০০ ঘন্টারও বেশি সময় পর, আজ সকালে ইরানে ইন্টারনেট সংযোগে খুব সামান্য বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে।’ তারা আরও জানায় যে, সংযোগ স্বাভাবিক স্তরের মাত্র ২ শতাংশ এবং ‘উল্লেখযোগ্য’ কোনও লক্ষণ নেই। পর্যবেক্ষকরা গতকাল শুক্রবার জানিয়েছেন, ইরানের ধর্মভিত্তিক সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ কঠোর দমন-পীড়নের পর শান্ত হয়েছে, যেখানে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং এটি দেশের সবচেয়ে বড় প্রতিবাদের এক সপ্তাহ পরে ঘটেছে। ইরানে অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকে বিক্ষোভ গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের বাজার বন্ধের মাধ্যমে শুরু হয়, যা ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে ক্ষমতায় থাকা ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা অপসারণের দাবিতে গণআন্দোলনে রূপ নেয়।