ঢাকা-৯ সংসদীয় আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও এনসিপির সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। শনিবার (৩ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জারার মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে তাসনিম জারা বলেন, আমি আপিল করব, আপিলের প্রক্রিয়া আমরা ইতোমধ্যে শুরু করে দিয়েছি।
তাসনিম জারা বলেন, নির্বাচন কমিশন মনোনয়ন বাতিলের কারণ হিসাবে জানিয়েছেন- স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ওই আসনের মোট ভোটারের ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর নিতে হয়। এই এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরের চেয়েও আমি প্রায় ২০০ বেশি স্বাক্ষর জমা দিয়েছি। সেখান থেকে নির্বাচন কমিশন ১০ জনের তথ্য যাচাই করতে গিয়েছিলেন, তার মধ্যে ৮ জনের তথ্য সঠিক পেয়েছেন, বাকি ২ জনের সত্যতা পাওয়া গেছে তবে ওই দুইজন ঢাকা-৯ এর ভোটার না, ওই দুইজন জানতেন ঢাকা-৯ এর ভোটার তারা। তাদের ঠিকানা খিলগাঁও হলেও এলাকার কিছু অংশ ঢাকার আরেকটি আসনের সঙ্গে যুক্ত।
তাসনিম জারা অভিযোগ করে বলেন, ওই দুই জনের জানার কোনো সুযোগ ছিল না যে তারা ঢাকা-৯ এর ভোটার না। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে এ ধরনের কোনো তথ্য তারা নিতে পারেননি, ভোটার নাম্বার সংগ্রহ করতে পারেননি, তারা জানতেন ঢাকা ৯-এর ভোটার, সেজন্য স্বাক্ষর করেন। এর মধ্যে একজনের ব্যতিক্রম এসেছে, তার কাছে যে জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি রয়েছে, তাতে তিনি ঢাকা-৯ এর ভোটার। কিন্তু নির্বাচন কমিশন বলছে তিনি এই আসনের ভোটার নন।
গত শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা। ওইদিন সন্ধ্যায় ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, কোনো নির্দিষ্ট দল বা জোটের প্রার্থী হিসাবে নয়, স্বতন্ত্রপ্রার্থী হিসাবে ঢাকা-৯ থেকে নির্বাচনে অংশ নেবেন তিনি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ডিনার শেষ করে আধা ঘণ্টা পর অনেকেই এক-দুই গ্লাস পানি খেয়ে নেন। ভাবেন, সকালে ঘুম থেকে উঠে যেন শরীর ডিহাইড্রেটেড না লাগে। আবার কেউ কেউ রাতে পায়ের পেশিতে টান ধরা এড়াতেও বেশি পানি পান করেন। শারীরবৃত্তীয় স্বাভাবিক কাজের জন্যও শরীরে পর্যাপ্ত পানির প্রয়োজন, এ কথা নতুন নয়। তবে প্রশ্ন হলো, ঘুমাতে যাওয়ার ঠিক কতক্ষণ আগে এবং কতটা পানি খাওয়া উচিত? এ বিষয়ে সচেতন না হলে উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি হতে পারে বলে সতর্ক করছেন চিকিৎসকরা। রাতে ঘুমের সময়েও পানির প্রয়োজন হাইড্রেটেড থাকা আর শুধু পিপাসা মেটানো; দুটি কিন্তু এক বিষয় নয়। আমাদের শরীরের ভেতরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সঠিকভাবে কাজ করতে নিয়মিত পানি দরকার। ঘুমের মধ্যেও শ্বাস-প্রশ্বাস ও ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে কিছুটা পানি বেরিয়ে যায়। তাই ঘুমাতে যাওয়ার আগে সামান্য পানি পান করাটা অপ্রয়োজনীয় নয়। পানি শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে এটি শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের করে দেয়। ফলে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে এবং প্রতিটি কোষে যথাযথভাবে অক্সিজেন পৌঁছাতে পারে। ২০২৫ সালে PubMed Central-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, ঘুমানোর আগে অল্প পরিমাণ পানি পান করলে পরদিন সকালে মন তুলনামূলকভাবে সতেজ থাকে। অর্থাৎ, অবসাদ কাটাতেও পানির ভূমিকা রয়েছে। বেশি পানি মানেই কি ভালো ঘুম? সমস্যা শুরু হয় তখনই, যখন রাতে ঘুমের মধ্যে বারবার প্রস্রাবের বেগ আসে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় Nocturia। চিকিৎসকরা বলছেন, সন্ধ্যার পর থেকে অতিরিক্ত তরল গ্রহণ করলে এই সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে। মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেলে নিরবচ্ছিন্ন বিশ্রাম ব্যাহত হয়। ফলে পরদিন ক্লান্তি, ঝিমুনি এবং কাজে অমনোযোগিতা দেখা দিতে পারে। ২০২৬ সালে রিসার্চ গ্যাজেটে প্রকাশিত একটি গবেষণায় ‘ডোজ-রেসপন্স’ সম্পর্কের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। অর্থাৎ, সন্ধ্যার পর তরল গ্রহণের পরিমাণ যত বাড়ে, ঘুমের মানের ওপর তার প্রভাব তত স্পষ্ট হয়। তাহলে কখন, কতটা পানি পান করবেন? বিশেষজ্ঞদের সাধারণ পরামর্শ হলো, ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত এক থেকে দুই ঘণ্টা আগে পানি পান সেরে নেওয়া ভালো। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পরিমাণ। গ্লাসের পর গ্লাস পানি খেয়ে ফেললে সমস্যার সমাধান হবে না, বরং ঘন ঘন বাথরুমে যাওয়ার ঝামেলা বাড়বে। বিশেষ করে যাদের বয়স ৬০ বছরের বেশি, তাদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও সতর্কতার দাবি রাখে। আবার যাদের ঘুমের মধ্যে মুখ শুকিয়ে যায় বা পায়ের পেশিতে টান ধরে, তারা অল্প পরিমাণ পানি পান করতে পারেন। তবে নিয়মিত এমন সমস্যা হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। শেষ কথা পানি আমাদের শরীরের জন্য অপরিহার্য, এ নিয়ে সন্দেহ নেই। কিন্তু সঠিক সময় ও সঠিক পরিমাণে পানি পান করাই হলো সুস্থ ঘুমের চাবিকাঠি। তাই রাতের ঘুম যেন নিরবচ্ছিন্ন ও প্রশান্ত হয়, সে জন্য পানির অভ্যাসে আনুন ছোট্ট সচেতনতা। সূত্র : এই সময়
বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সংযত ও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, এমন কোনো কর্মকাণ্ড করা যাবে না যাতে দলের বদনাম হয় বা জনগণের মনে কষ্ট তৈরি হয়। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ইশরাক হোসেন বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠন করেছে এবং দলের নেতা তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। দীর্ঘ ১৭ বছর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন-সংগ্রামের পর একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপে পৌঁছানো গেছে। বিগত সময়কে ‘ফ্যাসিবাদী শাসন’ উল্লেখ করে ইশরাক হোসেন বলেন, সে সময়ে জনগণের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে, অর্থ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে এবং দুঃশাসনের কারণে মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল। এখন জনগণ ভোট দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। তাই জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করতে হবে। দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যে দলই হোক সন্ত্রাস, দুর্নীতি, মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ভবিষ্যতেও এই অবস্থান অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, নেতাকর্মীদের আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ড এমন হতে হবে যাতে জনগণের মনে কোনো নেতিবাচক ধারণা তৈরি না হয় এবং দলের সুনাম অক্ষুণ্ন থাকে। ‘আমরা ক্ষমতায় বসে গেছি’ এমন মানসিকতা পরিহার করতে হবে। পুরান ঢাকার মানুষের দুঃখ-দুর্দশার কথা তুলে ধরে ইশরাক হোসেন বলেন, জলাবদ্ধতা, যানজট ও দূষণসহ নানা সমস্যা সমাধানে কাজ করতে হবে। আগামী নির্বাচনে আবারও জনগণের সমর্থন পেতে হলে এখন থেকেই পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অসহায় ও দুস্থ পরিবারের নারী সদস্যদের ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। ঢাকার যানজট নিরসনে বড় পরিবহন, মেট্রোরেল ও বাসসহ সব ধরনের যান চলাচল সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া বর্ষা মৌসুমের আগে মশার প্রজনন রোধ ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সিটি কর্পোরেশনের নতুন প্রশাসকের নেতৃত্বে কাজ শুরু হয়েছে এবং সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ এলাকায় এ বিষয়ে সক্রিয় আছেন। জনগণ যে দায়িত্ব দিয়েছেন, তা সঠিকভাবে পালন করতে হবে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাইদুর রহমান মিন্টু, বংশাল থানা বিএনপির আহ্বায়ক তাজ উদ্দিন আহমেদ, ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মামুন আহমেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক হাজী মো. আদিল, ৩৪নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি নাজিম উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মো. ডালিম হোসেন প্রমুখ। এএসএস/এএমকে
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবন সংলগ্ন প্যারিস রোডে সমাজকর্ম বিভাগের উদ্যোগে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। আসমা সাদিয়া রুনা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। মানববন্ধনে বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা রুনার হত্যাকারী, এ হত্যার পেছনে কুশীলবদের চিহ্নিত করে তাদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং তার সন্তানদের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় সরকার ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বানসহ তিন দফা দাবি জানান। সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক ড. তানজিমা জোহরা হাবিব বলেন, এমন হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা মেনে নেওয়া কষ্টকর। তিনি সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর নিয়মতান্ত্রিকভাবে তার বিভাগকে পরিচালনার চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার চাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক ড. আখতার হোসেন মজুমদার বলেন, আমরা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার দায়িত্বে যারা আছেন, তাদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। অবিলম্বে অপরাধীদেরকে চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা হোক। বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক গোলাম কিবরিয়া ফেরদৌস বলেন, তার তিনজন সন্তান রয়েছে। তিনি শুধু একজন মা নন, বিভাগের সভাপতি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অংশ এবং আমাদের শিক্ষক সমাজের একজন প্রতিনিধি। আমরা এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি দেখতে চাইনা। রাবি সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের বিচার এমনভাবে হোক, যেন তার শাস্তি দেখে মানুষ শিক্ষা পায়। উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ বেতন নিয়ে ঝামেলা ও অন্য বিভাগে বদলির জেরে নিজ বিভাগের কর্মচারীর ছুরিকাঘাতে নিহত হন ইবি শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া রুনা।