তারেক রহমান বলেন, আমরা যত ঐক্যবদ্ধ হব, যত সামনে এগিয়ে আসব, যেকোনো মূল্যে নির্বাচন হবে। এ পরিস্থিতি যত তাড়াতাড়ি আমরা তৈরি করব, ষড়যন্ত্রকারীরা তত পিছু হটতে বাধ্য হবে। ষড়যন্ত্রকারীদের পিছু হটানোর ক্ষমতা ও শক্তি একমাত্র বিএনপির আছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আমি আগেও বলেছিলাম, নির্বাচন অতো সহজ হবে না, ষড়যন্ত্র কিন্তু থেমে নেই। গত কয়েকদিনের ঘটনা, গতকালকের ঘটনা, চট্টগ্রামে আমাদের প্রার্থীর ওপর গুলিবর্ষণ- সবকিছুতেই প্রমাণ হচ্ছে, আমি যা বলেছি তা সত্য হচ্ছে ধীরে ধীরে। কাজেই আমরা যদি নিজেদের মধ্যে মতপার্থক্য কমিয়ে নিয়ে না আসি, আমরা যদি নিজেরা ঐক্যবদ্ধ না হই, এ দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপির 'দেশ গড়ার পরিকল্পনা' শীর্ষক কর্মশালায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি খাল খনন, স্বাস্থ্য কার্ড, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, শিক্ষা ব্যবস্থা, বেকার সমস্যা,তথ্য প্রযুক্তি, বায়ু ও পানি দূষণরোধ ইত্যাদি বিষয়ে বিএনপির প্রণীত পরিকল্পনাগুলো ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
প্রত্যেকবার দেশকে ধ্বংসের হাত থেকে বিএনপি উদ্ধার করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন সূত্রের খবর বলছে, এ ষড়যন্ত্রগুলো এখনই থেমে যাবে না। আরো খারাপও হতে পারে। আমাদের ভয় পেলে চলবে না, আতঙ্কগ্রস্ত হলে চলবে না। মানুষকে সাহস দিতে হবে, নিজেদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, আমরা যত ঐক্যবদ্ধ হব, যত সামনে এগিয়ে আসব, যেকোনো মূল্যে নির্বাচন হবে। এ পরিস্থিতি যত তাড়াতাড়ি আমরা তৈরি করব, ষড়যন্ত্রকারীরা তত পিছু হটতে বাধ্য হবে। ষড়যন্ত্রকারীদের পিছু হটানোর ক্ষমতা ও শক্তি একমাত্র বিএনপির আছে।
তিনি বলেন, এখন আমাদের সময় এসেছে, আমি কি পেলাম… এটা বাদ দিতে হবে। সময় এসেছে, আমি দেশ এবং জাতির জন্য কতটুকু করতে পারলাম। আজ সময় এসেছে, নিজে কী পেলাম, এটা ভুলে যাওয়ার।
তিনি বলেন, আজকে আপনি যদি দেশ এবং জাতির জন্য কিছু করেন কিংবা করতে পারেন, কি দিতে পারলাম, কি দিচ্ছি দেশ এবং জাতিকে…তাহলে আগামী দিনে আপনার সন্তান, আপনার নাতি-পুতি, এরা ভালো থাকবে। আপনার ভবিষ্যৎ বংশধর ভালো থাকবে। আসুন আমাদের লক্ষ্য হোক দেশে শান্তি, শৃঙ্খলা এবং আইনের শাসনকে প্রতিষ্ঠিত করা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেছেন, বর্তমান সরকার ক্রীড়া উন্নয়ন এবং ক্রীড়া কার্যক্রম সম্প্রসারণে খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠাকরণ, জাতীয় শিক্ষাক্রমে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির মাধ্যমে ১২ থেকে ১৪ বছরের প্রতিভাবান ক্রীড়া শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান ও দেশের সব উপজেলায় ক্রীড়া অফিসার ও ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ প্রদানসহ ক্রীড়াবান্ধব বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। আজ সংসদে বাগেরহাট-৪ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীমের টেবিলে উত্থাপিত তারকা চিহ্নিত লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী ৩০ এপ্রিলের পর থেকে সারাদেশে অনলাইন জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান চালানো হবে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে যুবসমাজকে সুরক্ষিত রাখতে অনলাইন জুয়া, মাদক এবং সিসা লাউঞ্জের বিরুদ্ধে এই অভিযান পরিচালনা করা হবে। তরুণ প্রজন্মকে রক্ষায় এ ধরনের উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন ফারুক রাজধানীর অভিজাত এলাকায় আবাসিক ভবন ও রেস্টুরেন্টের আড়ালে অবৈধ ‘সিসা লাউঞ্জ’ পরিচালনার বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করেন। এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী দেশে মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, আগামী ৩০ এপ্রিল সংসদ অধিবেশন শেষ হওয়ার পর সারাদেশে একটি সমন্বিত অভিযান চালানো হবে। যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে এই উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সহায়তায় রাজধানীর গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি এবং উত্তরাতে অবৈধ সিসা বার ও মাদককেন্দ্র গড়ে ওঠে। তিনি জানান, বর্তমানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও পুলিশ এসব স্থানে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। গত ১৬ ও ২০ এপ্রিল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত অভিযানে বিপুল সিসা ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
গত শনিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হকারদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। ওইদিন দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি এ নির্দেশ দেন। বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগ, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে দ্রুত বিকল্প স্থান নির্ধারণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, উচ্ছেদ হওয়া হকারদের এমন জায়গায় পুনর্বাসন করতে হবে যেখানে তারা স্বাচ্ছন্দ্য ও উৎসাহের সঙ্গে ব্যবসা করতে পারবেন। সম্প্রতি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মিরপুর-১ এলাকা এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মতিঝিল, বায়তুল মোকাররম, পল্টন ও গুলিস্তানসহ কয়েকটি এলাকার সড়ক থেকে কয়েক শতাধিক দোকান উচ্ছেদ করা হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, উচ্ছেদ হওয়া হকারদের বিকল্প জায়গার ব্যবস্থা করে দেবে সরকার। উল্লেখ্য, ১০ এপ্রিল ‘প্রধানমন্ত্রী সমীপে’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন বাংলাদেশ প্রতিদিনে প্রকাশিত হয়েছিল। যাতে বিকল্প ব্যবস্থা না করে হকার উচ্ছেদ করার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী স্বীয় বিবেচনায় এবং তাঁর বিচক্ষণতার কারণে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। হকার উচ্ছেদ কোনো সমাধান নয়। এমনিতেই দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা সংকটাপন্ন। সরকারের হিসাব অনুযায়ী সারা দেশে হকারের সংখ্যা ছয় লাখের বেশি। এর মধ্যে ঢাকা শহরেই হকারের সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ। এর মধ্যে মাত্র ১ লাখ ৩০ হাজার হকার সমিতির সদস্য। বাকি ২ লাখ ৭০ হাজার হকার ভ্রাম্যমাণ। কিন্তু আমাদের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে হকারের সংখ্যা ২০ লাখের কম নয়। এই বিপুলসংখ্যক মানুষকে উচ্ছেদ করলে মুহূর্তের মধ্যেই তারা কর্মহীন হয়ে পড়বেন। এদের পরিবার এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা অন্তত ১ কোটি। হকার উচ্ছেদের ফলে এই বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠী গভীর আর্থিক সংকটে পড়বে। তাছাড়া এই হকারদের কারণে দেশে শতাধিক বিভিন্ন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এদের পণ্যের প্রধান বিক্রেতা হলো হকাররা। হকার উচ্ছেদ করলে এরকম শতাধিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এসব বন্ধ হয়ে যাবে। এটি দেশের অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এটি বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। জীবন জীবিকার জন্য এরা বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তে পারে। এর ফলে সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। তাই এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ খুবই জরুরি ছিল। তিনি সঠিকভাবেই সমস্যার সমাধানের পথ বলে দিয়েছেন। হকার উচ্ছেদ না করে অন্যান্য দেশের মতো তাদের একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে আনতে পারলে একদিকে যেমন হকারদের নিয়ে চলমান সমস্যার সমাধান হবে অন্যদিকে রাষ্ট্রের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে। যুক্তরাজ্য, সিংগাপুর, থাইল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশের মতো হকার নিয়ে সমস্যায় ছিল। কিন্তু তারা উচ্ছেদের মাধ্যমে তাদের ব্যবসা বন্ধ করেনি বরং হকারদের একটি সঠিক শৃঙ্খলা এবং ব্যবস্থাপনার আওতায় এনে সমস্যার সমাধান করেছে। হকার নিয়ে সবচেয়ে বেশি কাজ করেছে থাইল্যান্ড। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক একসময় হকারদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ ছিল। শহরে প্রতিদিন তীব্র যানজট সৃষ্টি হতো। টুরিস্ট নির্ভর এই দেশটির পর্যটন ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল হকারদের কারণে। হকাররা পুলিশ এবং স্থানীয় প্রভাবশালীদের ঘুষ দিয়ে যেখানে সেখানে পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসত। পর্যটকদের নানানরকম হয়রানি করা হতো। এমনকি অপরাধের ঘটনাও ঘটত। কিন্তু যেহেতু তাদের কোনো নিবন্ধন ছিল না তাই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এক জায়গায় অপরাধ করে তারা অন্য জায়গায় গিয়ে বসত। এটি থাইল্যান্ডের পর্যটনের জন্য রীতিমতো হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। এরকম অবস্থায় সরকার হকারদের নিয়ে কাজ শুরু করে। ব?্যাংককের সব হকারের তালিকা তৈরির কাজ করা হয় সবার আগে। এরপর হকারদের জন্য নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়। ১০০ বাথ দিয়ে নিবন্ধন করার কাজ চলে প্রায় এক মাস ধরে। এরপর সরকার থেকে সব হকারের জন্য কার্ড চালু করে। নিবন্ধিত হকারদের জন্য এলাকা এবং বসার জায়গা সরকারিভাবে নির্ধারিত করে দেওয়া হয়। সরকারের পক্ষ থেকে হকারদের বসার সময়সূচি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। প্রতি মাসে হকারদের ১০০ বাথ করে সরকারি ফি নির্ধারণ করা হয়, (যা এখন মাসিক দেড় হাজার বাথ।) এভাবেই থাইল্যান্ড একদিকে যেমন হকারদের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় এনেছে তেমনি তাদের আয় বৃদ্ধি করার সুযোগ করে দিয়েছে। তাদের বসার সুনির্দিষ্ট সময়সূচি থাকায় সেখানে যানজটের সমস্যা দূর হয়েছে। এখন থাইল্যান্ডের স্ট্রিট মার্কেটগুলো পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় স্থান। আর অনেকেই এখন হকারিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে। একটি সঠিক পরিকল্পনা এবং তার সঠিক বাস্তবায়ন যে একটি সমস্যাকে সম্ভাবনাময় খাতে পরিণত করতে পারে থাইল্যান্ডের হকার পুনর্বাসন কর্মসূচি তার একটি উদাহরণ। এখন অনেক দেশেই পর্যটকদের আকৃষ্ট করার জন্য স্ট্রিট ফুড এবং মার্কেট চালু করেছে। সিঙ্গাপুরের নাইট মার্কেট এখন পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। হকার নিয়ে বড় ধরনের সমস্যায় পড়েছিল লন্ডন। ইস্ট লন্ডনে বাংলাদেশি, ভারতীয় এবং পাকিস্তানি নাগরিকদের বসতি একসময় বাড়তে থাকে। জীবিকার তাগিদে এদের অনেকেই বিভিন্ন পণ্য নিয়ে হোয়াইট চ্যাপেলের ফুটপাতে বসতে শুরু করেন। প্রথম দিকে লন্ডন পুলিশ অসহায় এবং দুস্থ ভেবে তাদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে। কিন্তু আস্তে আস্তে গোটা হোয়াইট চ্যাপেলের দুই পাশ হকারে ভরে যায়। লন্ডন পুলিশ একসময় কঠোর হয়। তাদের উচ্ছেদের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু বাদ সাধেন টাওয়ার হ্যামলেটের মেয়র। তিনি পুলিশ প্রশাসন এবং সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে উচ্ছেদের বদলে তাদের শৃঙ্খলা ও ব্যবস্থাপনার আওতায় নিয়ে আসেন। এখন এই এলাকার ফুটপাতে হকার আছে কিন্তু তাতে ফুটপাতে চলাচলে সমস্যা হচ্ছে না। তাদের কাছ থেকে সরকার ট্যাক্স পাচ্ছে। কাজেই হকার সমস্যা বাংলাদেশের জন্য একক কোনো সমস্যা নয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এই সমস্যা সমাধানে সফল হয়েছে। কেউই হকারদের নির্মূল করেনি বরং তাদের কাঠামোর মধ্যে এনেছে। বাংলাদেশে হকাররা অবহেলিত। সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ আত্মকর্মসংস্থানের জন্য এ ধরনের কাজ বেছে নেন। বিশেষ করে যারা নিজে কিছু একটা করতে চান, কিন্তু পুঁজি নেই তারাই হকার হয়ে নিজেদের ব্যবসা শুরু করতে চেষ্টা করেন। কিন্তু এই পেশার কোনো সরকারি স্বীকৃতি নেই। এটিকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক খাত হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। বিভিন্ন জায়গায় হকাররা নিজেদের খেয়ালখুশি এবং সুবিধা অনুযায়ী বসেন। তাদের ওপর প্রথম নজর পড়ে পুলিশের। গুলিস্তানে একাধিক হকারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পুলিশকে সপ্তাহে পাঁচ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হয় তাদের। এরপর এই হকাররা ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাদের দৃষ্টিতে পড়েন। বিভিন্ন স্থানে হকারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকায় সপ্তাহে অন্তত ১০ হাজার টাকা চাঁদা দিয়ে তাদের ব্যবসা করতে হয়। অর্থাৎ মাসে শুধু চাঁদাই দিতে হয় অন্তত ৪০ হাজার টাকা। এই টাকা সরকার পায় না, পায় পুলিশ ও স্থানীয় নেতারা। তারপরও তারা জীবিকার তাগিদে তাদের ব্যবসা করতে বাধ্য হন। আর এখানেই সরকারের নজরদারি দরকার। সরকার যদি হকারদের একটি নিবন্ধনের আওতায় নিয়ে আসেন, তাহলে তাদের প্রকৃত তালিকা তৈরি করা সম্ভব। সিটি করপোরেশন হকারদের নিবন্ধন ফি ধার্য করতে পারে। ১ হাজার টাকা এককালীন নিবন্ধন ফি হলে কোনো হকার তাতে আপত্তি করবে না। সরকার ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থান তাদের জন্য নির্ধারণ করে দিতে পারে। যেখানে তাদের বসার একটি নির্দিষ্ট সময় এবং স্থান নির্দিষ্ট করা থাকবে। এর বিনিময়ে সরকার বা সিটি করপোরেশন তাদের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা বা একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি নিতে পারে সার্ভিস চার্জ হিসেবে। হকাররা আনন্দচিত্তে এই ফি দেবে। তবে শর্ত হলো- এর বিনিময়ে পুলিশ এবং প্রভাবশালীদের চাঁদাবাজি বন্ধ করবে সরকার। এভাবেই হকারদের উচ্ছেদ না করে তাদের একটি সুশৃঙ্খল কর্মসংস্থানের আওতায় আনা সম্ভব। এতে একদিকে যেমন কর্মসংস্থান বাড়বে, তেমনি সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কারা কোন উদ্দেশ্যে হকার উচ্ছেদের এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তা খতিয়ে দেখা দরকার। প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন অনুযায়ী দ্রুত হকার পুনর্বাসনের পরিকল্পিত এবং আধুনিক উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত। এতে লাভ হবে বাংলাদেশের। সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন