জাতীয়

হাদির হামলাকারীদের অবস্থান নিয়ে সবশেষ যা জানা গেল

মোঃ ইমরান হোসেন ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫ 0
শরিফ ওসমান হাদি। ছবি : সংগৃহীত
শরিফ ওসমান হাদি। ছবি : সংগৃহীত

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তদের শনাক্ত করার পর রাজধানীর অন্তত পাঁচটি স্থানে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। তবে সন্ত্রাসীরা বারবার অবস্থান পরিবর্তন ও সিমকার্ড বদল করায় তাদের গ্রেপ্তারে বেগ পেতে হচ্ছে।

 

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকেলে এসব তথ্য জানান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। তিনি বলেন, গুলিবিদ্ধ হাদির পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে। মামলায় মোটরসাইকেল চালক ও তার পেছনে বসে গুলি চালানো ব্যক্তিকে আসামি করা হবে।

এদিকে ডিএমপির মতিঝিল জোনের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, ঘটনার তদন্তে এখন পর্যন্ত ‘বিশেষ অগ্রগতি’ হয়েছে। তবে অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন—এমন কোনো তথ্য নেই বলে তিনি স্পষ্ট করেন।

ওই কর্মকর্তা জানান, অভিযুক্ত রাহুল এখনো দেশের ভেতরেই রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার বাসাসহ অন্তত পাঁচটি সম্ভাব্য অবস্থান শনাক্ত করে সেখানে অভিযান চালানো হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত একাধিক মোবাইল ফোন ও নম্বর ব্যবহার করছিলেন এবং নিয়মিত নম্বর পরিবর্তন করতেন, যা তদন্তকে জটিল করে তুলছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান চালানো হলেও এখন পর্যন্ত তার নিশ্চিত অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। শনিবারও নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

তদন্ত কার্যক্রমে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ের কথা উল্লেখ করে ওই কর্মকর্তা বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। র‌্যাব, ডিবিসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ইউনিটের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

রাজধানীর মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি কলোনি মাঠে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষে অনুষ্ঠান।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি : উদ্বোধনের আগেই অর্থ পেলেন সুবিধাভোগীরা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে চালু হওয়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগেই অনেক সুবিধাভোগীর মোবাইল অ্যাকাউন্টে সরকারি সহায়তার টাকা পৌঁছে গেছে। এতে রাজধানীর কড়াইল বস্তিসহ আশপাশের নিম্নআয়ের মানুষের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে রাজধানীর মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি কলোনি মাঠে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে হাজারো মানুষ জড়ো হন। সেখানে উপস্থিত অনেকেই জানান, কার্ড হাতে পাওয়ার আগেই তাদের মোবাইল অ্যাকাউন্টে সরকারি সহায়তার ২ হাজার ৫০০ টাকা জমা হয়েছে। মুঠোফোনে অর্থ পাওয়ার বার্তা পেয়ে অনেক সুবিধাভোগী আনন্দ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, ঈদের আগে এই অর্থ তাদের পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে এবং কেনাকাটায় বড় সহায়তা করবে। জানা গেছে, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় নারীপ্রধান পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এবারের চূড়ান্ত তালিকায় দেশের বিভিন্ন এলাকার মোট ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পরীক্ষামূলক (পাইলট) প্রকল্প হিসেবে দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি করপোরেশন এবং নির্দিষ্ট কিছু ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে এই ডিজিটাল সেবা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। সরকারি সূত্র জানায়, এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রকৃত দুস্থ ও নিম্নআয়ের মানুষের কাছে সরাসরি সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিতে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে। এজন্য সহায়তার অর্থ সরাসরি সুবিধাভোগীদের মোবাইল অ্যাকাউন্টে পাঠানো হচ্ছে, যাতে কোনো ধরনের মধ্যস্বত্বভোগী বা অনিয়মের সুযোগ না থাকে। এদিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধাপে ধাপে দেশের আরও বেশি পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

মারিয়া রহমান মার্চ ১০, ২০২৬ 0

বিএনপি নির্বাচিত না হলে মহিলাদের বিপদ ছিল : নায়াব ইউসুফ এমপি

ছবি : সংগৃহীত

টাঙ্গাইলে মধুপুর বনের লেকের সংস্কার শুরু

ছবি : সংগৃহীত

রাইড শেয়ারের মোটরসাইকেলের জন্যে দৈনিক সর্বোচ্চ ৫ লিটার জ্বালানি তেল নির্ধারণ

ছবি : সংগৃহীত
নাটোরে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস পালন

‘দুর্যোগ প্রস্তুতিতে লড়ব, তারুণ্যের বাংলাদেশ গড়ব’-প্রতিপাদ্য বিষয়ে জেলায় জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস পালন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার সকাল দশটায় নাটোর মহারাজা জগদিন্দ্র নাথ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ চত্বরে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন। সভায় বক্তারা বলেন, দুর্যোগপ্রবণ দেশের পরিচয়ে বাংলাদেশ আর এখন পরিচিত নয়। সতর্ক ব্যবস্থার উন্নয়ন, আধুনিক উদ্ধারকর্মী দলের সক্রিয় অবস্থান, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ ইত্যাদি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে আমাদের দেশ প্রাতিষ্ঠানিক দুর্যোগ মোকাবেলার সক্ষমতা অর্জন করেছে। যে কোন দুর্যোগের প্রাথমিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় জনসাধারণকে সচেতন ও সক্ষম হতে হবে।   অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এবং কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. আবুল হায়াতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এ কে এম শাহা আলম মোল্লা। পরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স দলের সদস্যবৃন্দ ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ডে আত্নরক্ষার কৌশল সম্পর্কে মহড়া প্রদর্শন করেন। এছাড়া কলেজ চত্বরে শোভাযাত্রা বের করা হয়। জেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর যৌথভাবে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মার্চ ১০, ২০২৬ 0

বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থাপনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই ইলেকট্রিশিয়ানের মৃত্যু

ছবি : সার্ক কৃষি কেন্দ্র

দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু সহনশীল কৃষিতে আগ্রোফরেস্ট্রির সম্ভাবনা নিয়ে গ্রন্থ প্রকাশ

ভারতের ভিডিওকে চাঁদার দাবিতে যুবদলের হামলা বলে অপপ্রচার : বাংলাফ্যাক্ট

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। ফাইল ছবি
নিরাপদ ও সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেছেন, আগামীর বাংলাদেশকে নিরাপদ, আধুনিক ও সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থার আওতায় আনতে সরকার কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটে বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগে ঘোষিত ৩১ দফা পরিকল্পনার আলোকে ভবিষ্যৎ উপযোগী বাংলাদেশ গড়তে কাজ শুরু করেছেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য এমন একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে প্রতিটি মানুষ সমান অধিকার ভোগ করবে এবং নিজেদেরকে এই দেশের প্রকৃত মালিক মনে করবে। মানুষের বাকস্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ নিশ্চিত করতেও কাজ করছে সরকার। আজ (মঙ্গলবার) সচিবালয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা- বাসসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। হাবিবুর রশিদ জানান, প্রধানমন্ত্রী সব মন্ত্রণালয়কে আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১৮০ দিনের বা ছয় মাসের পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। সে অনুযায়ী সড়ক পরিবহন ও রেলপথ খাতেও বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সড়ক পরিবহন খাতে সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে দুর্ঘটনামুক্ত নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা। সড়কখাতে দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে পরিবহন ব্যবস্থাকে বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে মানুষের জন্য সহজলভ্য করা হবে। একই সঙ্গে সড়ক, রেল ও নৌপথ—এই তিন ধরনের পরিবহন ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় তৈরির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেখানে সড়কপথে যাতায়াত সহজ সেখানে সড়ককে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে; যেখানে রেলপথে যাতায়াত দ্রুত ও সুবিধাজনক সেখানে রেলকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং আর যেখানে বিকল্প নেই সেখানে নৌপথকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে একটি নিরাপদ ও কার্যকর পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। ঢাকার বাসস্টেশনগুলোকে আরও আধুনিক ও যাত্রীবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। প্রয়োজনে কিছু বাসস্টেশন বিকল্প স্থানে স্থানান্তরের বিষয়েও চিন্তাভাবনা চলছে। এছাড়া বিআরটিএ নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন বাস কোম্পানির মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং ছোট-বড় পরিবহন ব্যবস্থাকে একটি কাঠামোর মধ্যে আনার কাজ চলছে। পাশাপাশি ব্যাটারিচালিত যানবাহনসহ অন্যান্য ছোট যানবাহনকেও আইনের আওতায় এনে নির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে মহাসড়ক ও প্রধান সড়কে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় এবং দুর্ঘটনা কমানো যায়। বিআরটিসি বাস সেবা পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগের কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিআরটিসিকে জনপ্রিয় করতে যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নারীদের বিআরটিসি বাসচালক ও কন্ডাক্টর হিসেবে কাজ করার সুযোগ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। এ লক্ষ্যে নারীদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে। আসন্ন ঈদযাত্রা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঈদকে সামনে রেখে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়, বাস মালিক সমিতি, শ্রমিক ফেডারেশন, পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে একাধিক সমন্বয় সভা করেছে। যাতে যাত্রীরা নির্ধারিত ভাড়ায় নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন এবং সড়কে যানজট কম থাকে। তিনি জানান, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সড়কের নির্মাণকাজের জন্য পড়ে থাকা মালামাল দ্রুত সরিয়ে নেওয়া এবং ভাঙাচোরা সড়ক অস্থায়ীভাবে সংস্কার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঈদের আগে রেলস্টেশন ও বাস টার্মিনালসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সরেজমিনে তদারকি করবেন। গার্মেন্টস ছুটির কারণে ঈদযাত্রায় চাপ বাড়ার বিষয়েও সরকার সচেতন রয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। এ বিষয়ে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং তারা ধাপে ধাপে গার্মেন্টস ছুটি দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগে এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ হবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মার্চ ১০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

নারীদের হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ছবি: সংগৃহীত

এক বছরে ধর্ষণ মামলা বেড়েছে ২৭ শতাংশ: পুলিশ সদর দপ্তর

ছবি : সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধের প্রভাব ঠেকাতে পাকিস্তানের বড় সিদ্ধান্ত

0 Comments