সর্বশেষ

সীমান্তে ‘পুশ-ইন’ ও চোরাচালান ঠেকাতে প্রযুক্তি ব্যবহারে কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ?

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের সাথে চার হাজার কিলোমিটারের বেশি সীমান্তে ভারত তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। কাঁটাতারের বেড়া বসানোসহ নানা ব্যবস্থা নিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন রয়েছে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে।

 

ভারতের সাথে বাংলাদেশের এই সীমান্তের বিভিন্ন জায়গায় বছরের পর বছর ধরে চোরাচালান, মানবপাচারের মতো অপরাধের নানা ইস্যু নিয়ে আলোচনায় আছে।

 

সীমান্তে বিভিন্ন সময় মানুষ হত্যাও বাংলাদেশের দিক থেকে বড় উদ্বেগের বিষয়। এছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের পক্ষ থেকে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে 'পুশইন' করা বা লোক ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

 

ফলে সীমান্তে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

 

ভারত তাদের সীমান্তের বড় অংশেই কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছে। সেইসাথে, তারা সেখানে ফ্লাডলাইট, আধুনিক নজরদারি ক্যামেরা, এমনকি সীমান্ত ঘেঁষা সড়কও নির্মাণ করেছে।

 

সেই তুলনায় বাংলাদেশের নজরদারি ব্যবস্থা খুবই এখনো অপ্রতুল। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি'র বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের সাথে এ প্রসঙ্গে কথা বলে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা মূলত আজও বিজিবির টহল ও স্থানীয় জনগণের সতর্কতার ওপর নির্ভরশীল।

 

তবে পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন কি না এবং এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা নিয়ে কৌতুহল রয়েছে।

 

সীমান্ত পাহারায় বাংলাদেশের ভরসা কী?

 

বাংলাদেশের সীমান্ত পাহারার দায়িত্ব পালন করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), যা আগে বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) নামে পরিচিত ছিল।

 

বিজিবি'র বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে বাংলাদেশের সীমান্তজুড়ে বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি), পর্যবেক্ষণ টাওয়ার ও নিয়মিত টহলের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। সীমান্তের নদীবেষ্টিত এলাকাগুলোয় জলপথেও টহল পরিচালনা করা হয়।

এদিকে, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের উল্লেখযোগ্য অংশ নদী, চর, পাহাড় ও বনাঞ্চলের মধ্য দিয়ে গেছে। ফলে সব এলাকায় একই ধরনের অবকাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি এখনো।

 

জাতীয় নিরাপত্তা ও অপারেশনাল কারণে নজরদারি সরঞ্জামের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ না করলেও বিজিবি সদর দপ্তর জানিয়েছে, সীমান্তে সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য ওয়াচ টাওয়ার, পর্যবেক্ষণ পোস্ট, সিসিটিভি ক্যামেরাসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর অবকাঠামো ব্যবহার করা হচ্ছে।

 

বিশেষ করে, যশোর, সাতক্ষীরা, জয়পুরহাট ও টেকনাফ সীমান্তে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের জন্য আধুনিক বর্ডার সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম (বিএসএস) স্থাপন করা হয়েছে।

 

বিএসএস হলো সীমান্তে সন্দেহজনক চলাচল বা কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণের জন্য ক্যামেরা, সেন্সর ও অন্যান্য নজরদারি প্রযুক্তির সমন্বয়ে গঠিত একটি আধুনিক ব্যবস্থা।

 

এছাড়া, কক্সবাজার অঞ্চলের টেকনাফ, রামু, উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ি এলাকায় থার্মাল ইমেজিং সিস্টেম ব্যবহারের মাধ্যমে দিন-রাত নজরদারির ব্যবস্থা রয়েছে।

 

থার্মাল ইমেজিং সিস্টেম এমন একটি প্রযুক্তি, যা মানুষ, প্রাণী বা বস্তুর শরীর থেকে নির্গত তাপ শনাক্ত করে অন্ধকার, কুয়াশা বা কম আলোতেও তাদের উপস্থিতি শনাক্ত করতে পারে।

 

সীমান্ত নিরাপত্তায় ঘাটতি কোথায়

 

সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার নানা ধরনের ঘাটতির কথাও জানিয়েছেন বিজিবি কর্মকর্তারা।

 

বিশেষ করে, সীমান্ত লাগোয়া সড়কের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছেন তারা।

 

বিজিবির এক কর্মকর্তা বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, এখনো তারা অনেক পুরোনো কায়দায় পায়ে হেঁটে বর্ডার পাহারা দেন, কারণ সীমান্ত এলাকায় বলতে গেলে কোনো সড়কই নেই।

 

যদি বর্ডার রোড থাকতো, তাহলে হয়তো মোটরসাইকেল বা গাড়ি করে ডিউটি করতে পারতাম আমরা। এমনকি, বিএসএফও কিন্তু পায়ে হেঁটে ডিউটি করে না," বলছিলেন তিনি।

 

তবে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নের অংশ হিসেবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সীমান্ত সড়ক নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্প হাতে নিয়েছে। প্রকল্পটি রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবান এই তিন পার্বত্য জেলায় চলমান রয়েছে, যার দৈর্ঘ্য এক হাজার ৩৬ কিলোমিটার।

 

এর বাইরে ফ্লাডলাইট, সিসি ক্যামেরা ইত্যাদিরও অপ্রতুলতা রয়েছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

 

ওপাড়ে কাঁটাতার, ফ্লাডলাইট আছে। ওরাই দেখে, আমরা কিছু দেখতে পারি না। যেসব এলাকা চোরাচালান প্রবণ, সেগুলোতে অল্প কিছু ক্যামেরা আছে। ওদের (ভারতের বিএসএফ) তুলনায় কিছু নাই। ওদের ১০টা ক্যামেরা থাকলে বিজিবির আছে দুইটা," বিজিবির এক কর্মকর্তা জানান বিবিসি বাংলাকে।

 

আরেক বিজিবি কর্মকর্তা জানান, "বিজিবির যে পোস্টগুলো আছে, সেখানে ফ্লাডলাইট আছে। এর বাইরে যেগুলো স্পর্শকাতর জায়গা, সেসব জায়গায় আছে। অন্য জায়গায় নাই।"

 

প্রযুক্তির ঘাটতি যেসব চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে

 

এক সময়ের বিডিআর এবং বর্তমানের বিজিবি, দু'টো সংস্থাতেই কর্মরত ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান। তিনি ২০১৮ সালে অবসরে যান।

 

সাবেক এই বিজিবি কর্মকর্তা তার অভিজ্ঞতা থেকে বলছিলেন, "আমি ভারতের সঙ্গে সীমান্তের উত্তর অংশের প্রায় পুরোটা হয় পায়ে হেঁটে গিয়েছি বা নৌকায় গিয়েছি বা গাড়িতে গিয়েছি।"

 

আমাদের সময়ে মানুষনির্ভর প্যাট্রলিং ছিল, আর সরঞ্জাম বলতে ছিল বাইনোকুলার। মুভমেন্ট ডিটেকশনের জন্য এখন অনেক আধুনিক ইলেকট্রনিক প্রযুক্তি বের হয়েছে। উন্নত দেশগুলো সেগুলো তাদের বর্ডারে রাখে, তবে আমরা করতে পারিনি। অথচ এগুলো জরুরি।"

 

কারণ, সীমান্ত সড়ক থাকলে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় সহজে যাওয়া যায় এবং তখন চোরাচালান, মাদকপাচার বা মানবপাচার, সবকিছু সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এছাড়া, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জন করাটা এখন সময়ের দাবি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 

সীমান্ত সড়ক প্রসঙ্গে বিজিবি'র অবসরপ্রাপ্ত আরেক কর্মকর্তা ডেল এইচ খানও বলছিলেন যে, সীমান্তের কয়েকশো কিলোমিটার বাদে বাকি অংশজুড়েই কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছে ভারত।

 

নিজেদের সুবিধার জন্য সেই বেড়ার পাশ দিয়ে তারা রাস্তা নির্মাণ করেছে। সেখানে বিভিন্ন ধরনের লাইটিং, ক্যামেরা বসিয়েছে। কাঁটাতারের বেড়ায় গেটও তৈরি করেছে। কিন্তু বিজিবির সম্পদ ও অবকাঠামো সীমিত, এখনো তাদের প্রচলিত পদ্ধতিতে সীমান্ত পাহারা দিতে হয়।

 

বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি থেকে আরেকটি বিওপি প্রায় পাঁচ থেকে সাত কিলোমিটারের দূরে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেও দুই বিওপির মাঝে সড়কসংযোগ নেই। ফলে বিজিবি সদস্যদের পায়ে হেঁটে টহল দিতে হয়।

 

"পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় যতটুকু সে দেখতে পাচ্ছে, ততটুকুই তার ইনফরমেশন। এখানে সমস্যা হলো, পায়ে হেঁটে টহল দেওয়ার সময় এই পাঁচ থেকে সাত কিলোমিটারের সব পয়েন্টে একই সময় উপস্থিত থাকা সম্ভব হয় না। অনেক সময় টহল দল একটি নির্দিষ্ট অংশ অতিক্রম করার পরই গরু পাচার বা মানুষকে সীমান্ত পেরিয়ে ঠেলে দেওয়ার ঘটনা ঘটে," বলেন মি. খান।

 

দরকার স্মার্ট পরিকল্পনা

সীমান্তে মাদক, অস্ত্র, স্বর্ণ, মানবপাচারসহ বিভিন্ন আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে মতো ঘটনা প্রতিরোধে শুধু জনবল নয়, প্রয়োজন আধুনিক প্রযুক্তি ও কৌশলগত পরিকল্পনাও।

 

মি. রহমান বলছিলেন, "এই ধরনের ঘটনা প্রতিহত করতে "মুভমেন্ট ট্র্যাক করতে হবে, সেটা হোক ব্যক্তির বা বস্তুর।

 

"মুভমেন্ট না থাকলে আপনার বর্ডার সিকিউরড। আর মুভমেন্ট শনাক্ত করার জন্য ড্রোন, লং ডিসট্যান্স ক্যামেরা, ইনফ্রারেড ক্যামেরা, গ্রাউন্ড সার্ভেইল্যান্স রাডারসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি রয়েছে। তবে কোন প্রযুক্তি কোন জায়গায় লাগবে, তা গ্রাউন্ড রিয়েলিটি বলে দেবে"।

 

অর্থাৎ, যেখানে দৃষ্টিসীমা খোলা ও পরিষ্কার, সেখানে এক ধরনের নজরদারি ব্যবস্থা কার্যকর হবে। যেমন, নদী। অন্যদিকে বনাঞ্চল, পাহাড় বা দৃষ্টিসীমা বাধাগ্রস্ত হয়, এমন এলাকায় ড্রোন, সেন্সর বা অন্যান্য বিশেষায়িত প্রযুক্তি ব্যবস্থা প্রয়োজন হতে পারে।

 

একই বিষয়ে অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি কর্মকর্তা ডেল এইচ খান বলেন, বান্দরবানের এক পাহাড় থেকে আরেক পাহাড়ের দূরত্ব দেখে কম মনে হলেও একটি থেকে আরেকটিতে যেতে চার ঘণ্টা বা তারও বেশি লেগে যায়। ফলে সব এলাকায় একই ধরনের নজরদারি ব্যবস্থা কার্যকর নয়।

 

পুশইনের মতো ঘটনা প্রতিহত করতে ধারাবাহিক নজরদারি (কন্টিনিউয়াস সার্ভেইল্যান্স) প্রয়োজন এবং এটি করার জন্য বিজিবির প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

 

ভারত যদি তাদের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ করে কাউকে সীমান্ত দিয়ে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করে, তাহলে "পুরো প্রক্রিয়ার প্রমাণ সংরক্ষণ করাটা তো জরুরি। সেক্ষেত্রে বিজিবির কাছে তো পর্যাপ্ত ভিডিও ফুটেজ ধারনের ব্যবস্থা থাকা উচিত এবং কাদের সীমান্ত দিয়ে পাঠানো হচ্ছে, তাদের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে নথিভুক্ত করার সক্ষমতা থাকা উচিত," বলেন ডেল এইচ খান।

 

তবে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জনের পাশাপাশি কৌশলগতভাবেও বিজিবিকে এগোতে হবে। প্রয়োজনে জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে স্যাটেলাইট চিত্র সংগ্রহ করে ঘটনাগুলোর তথ্য-প্রমাণ সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলে মত তার।

 

এছাড়া, ভারতের সম্ভাব্য হোল্ডিং ক্যাম্প বা লোকজনকে জড়ো করার স্থানগুলোর সম্পর্কে আগাম তথ্য থাকলে সীমান্তমুখী চলাচল আগে থেকেই নজরদারিতে আনা সহজ হবে। তবে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু সীমান্তরক্ষী বাহিনী নয়, পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র, আইন ও তথ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।

 

সরকারের পরিকল্পনা কী?

 

বাংলাদেশের দিক থেকে এখন পর্যন্ত সীমান্তে কোনো কাঁটাতারের বেড়া নেই। তবে সম্প্রতি বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে বলেছেন, আন্তঃসীমান্ত বিভিন্ন অপরাধ দমনের লক্ষ্যে মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা হবে। ভারতের সাথে সীমান্তের বিভিন্ন স্থানেও কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম বিবেচনাধীন।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তখন জানান, সীমান্ত এলাকায় সব ধরনের অপরাধ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ (আইস), ফেনসিডিলসহ সব ধরনের মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ প্রবেশ বন্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি অনুসরণ করছে বিজিবি। সেইসাথে, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির মাধ্যমে সীমান্ত অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

 

এছাড়া, দুর্গম ও স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকাগুলোতে নতুন বিওপি ও টিওবি নির্মাণ করা হয়েছে এবং আরো নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে করে বিজিবির বিওপিসমূহের মধ্যবর্তী দূরত্ব কমিয়ে আনা এবং টহলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়েছে বলেও জানান তিনি।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বেশ কিছু পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন। সেগুলো হলো:

 

  • দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্তের অতি সংবেদনশীল এলাকায় ইতোমধ্যে 'স্মার্ট বর্ডার সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম' স্থাপন করা হয়েছে।
  • দুর্গম পার্বত্য সীমান্তে সীমান্ত সড়ক নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে, যার ফলে বিজিবির টহল দল অত্যন্ত দ্রুততার সাথে যেকোনো সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে সক্ষম হচ্ছে।
  • সীমান্ত এলাকায় বসবাসরতদের চোরাচালান ও অপরাধের কুফল সম্পর্কে সচেতন করতে এবং অপরাধীদের তথ্য দিয়ে বিজিবিকে সহায়তার জন্য নিয়মিত 'জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম' পরিচালনা করা হচ্ছে।

 

গত ২৬শে এপ্রিল বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে দ্বিতীয় পর্যায়ের সীমান্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি - একনেক, যার মোট অনুমোদিত প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে তিন হাজার ৬৬৬ কোটি ৩৬ লাখ ৭৩ হাজার টাকা।

 

সীমান্ত সড়ক নির্মাণের কাজ শেষ হয়ে এলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

তবে বাংলাদেশ অংশে কাঁটাতারের বেড়া স্থাপন প্রসঙ্গে সাবেক বিজিবি কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, "কাঁটাতারের বেড়া একটা থাকলেই হয়। আর এখানে অনেক অর্থ বিনিয়োগের বিষয় আছে"।

 

সেইসাথে, কাঁটাতারের বেড়া দিলে সীমান্ত রেখা থেকে ১৫০ গজ ভেতরে দিতে হবে। কিন্তু ওই যে ১৫০ গজ জায়গা মাঝখানে থেকে গেল, ওটা ম্যানেজ করার জন্য নতুন সিস্টেম দাঁড় করাতে হবে। কারণ কৃষক তো সেখানে যাবেই চাষাবাদ করার জন্য। তাকে সেই অ্যাক্সেস দিতে হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সর্বশেষ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
গাজীপুরে ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৩ ইউনিট

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের একটি কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট।   শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর এলাকায় অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির কারখানার হারবাল সেকশনে আগুনের সূত্রপাত হয়।   কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা ইফতেখার হোসেন রায়হান চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।   তিনি জানান, শনিবার বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের কারখানার একটি ভবনে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। খবর পাওয়ার পরপরই কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।   ফায়ার সার্ভিসের ওই কর্মকর্তা আরও জানান, তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ জানা যায়নি। এ ছাড়া এ ঘটনায় কোনো হতাহতের তথ্যও পাওয়া যায়নি।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১৭, ২০২৬
আলজেরিয়া দূতাবাস

ঢাকায় ১৯৬১ সালের প্যারিস গণহত্যার ৬৫তম বার্ষিকী পালন করল আলজেরিয়া দূতাবাস

৩০০ মিলিয়ন ডলারে পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক ‘এভিয়েশন হাব’ হবে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর

ছবি: সংগৃহীত

ইনানীর রিসোর্টে ভয়াবহ আগুন, ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত
প্রতিদ্বন্দ্বী তুরস্কের বাজারেও সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলছে বাংলাদেশের পোশাক

ইউরোপের পোশাক বাজারে বাংলাদেশকে টেক্কা দিতে চাইছে যে দেশটি, সেই তুরস্কের বাজারেই বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি নতুন করে বাড়তে শুরু করেছে।   রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) দেশভিত্তিক রপ্তানির হিসাব বলছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে, অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে তুরস্কে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১৪ কোটি ৬৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার।   গত অর্থবছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ৬ কোটি ৫৭ লাখ ১০ হাজার ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পোশাক রপ্তানি থেকে আয় বেড়েছে ১২৩ দশমিক ১৪ শতাংশ।   শুধু পোশাক নয়, তুরস্কে বাংলাদেশের সব ধরনের পণ্য রপ্তানিও এই সময়ে বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে।   চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশটিতে মোট রপ্তানি হয়েছে ২১ কোটি ৫ লাখ ৪০ হাজার ডলারের পণ্য। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ অঙ্ক ছিল ১০ কোটি ৫২ লাখ ১০ হাজার ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০০ দশমিক ১১ শতাংশ।   তুরস্কে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ার এ হার জাতীয় রপ্তানি প্রবৃদ্ধির তুলনায় অনেক বেশি।   ইপিবির হিসাবে, এই সময়ে বাংলাদেশের সামগ্রিক পণ্য রপ্তানি থেকে আয় বেড়েছে ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ। জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে আয় হয়েছে ১ হাজার ৩০৯ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ১ হাজার ২৩১ কোটি ডলার ছিল।   রপ্তানিকারকদের মতে, তুরস্কের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা কাজে লাগানো গেলে রপ্তানি আরও বাড়ানো সম্ভব।   তাদের প্রত্যাশা, চলতি অর্থবছরেই তুরস্কে বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানি ১০০ কোটি ডলারে উন্নীত হতে পারে। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে পোশাকের পাশাপাশি অন্যান্য পণ্যের রপ্তানিও বাড়াতে হবে।   শুল্কের ধাক্কায় হারানো বাজার ফিরে পাওয়ার সুযোগ তুরস্ক বাংলাদেশের জন্য নতুন কোনো বাজার নয়। দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে আসছে বাংলাদেশ।   একসময় শুল্কমুক্ত সুবিধার কারণে তুরস্ক বাংলাদেশের পোশাকের গুরুত্বপূর্ণ বাজার ছিল। তবে শুল্কনীতিতে পরিবর্তনের পর সেখানে বাংলাদেশের রপ্তানি বড় ধাক্কা খায়।   ইপিবির পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে তুরস্কে পণ্য রপ্তানি করে প্রায় ৮৬ কোটি ডলার আয় করেছিল বাংলাদেশ। এর মধ্যে তৈরি পোশাক থেকে এসেছিল ৬২ কোটি ২০ লাখ ডলার। পণ্য ও পোশাক–দুই ক্ষেত্রেই সেটি ছিল তুরস্কে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রপ্তানি আয়।   এর পরের কয়েক বছরে রপ্তানি কমতে থাকে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তুরস্কে বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানি নেমে আসে ৬৬ কোটি ১৮ লাখ ডলারে। তৈরি পোশাক থেকে আয় কমে দাঁড়ায় প্রায় ৪৬ কোটি ডলারে।   পরের বছরগুলোতে রপ্তানি আয়ে কিছুটা ওঠানামা থাকলেও আগের সর্বোচ্চ অবস্থানে ফিরতে পারেনি বাংলাদেশ।   সাম্প্রতিক বছরগুলোর পরিসংখ্যানেও সেই চিত্র দেখা যায়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তুরস্কে পণ্য রপ্তানি থেকে বাংলাদেশ আয় করেছে ৫৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ কম।   ওই অর্থবছরে তৈরি পোশাক থেকে আয় হয়েছিল ৪০ কোটি ১৭ লাখ ডলার। পাট ও পাটজাত পণ্য থেকে এসেছিল ১৬ কোটি ১৬ লাখ ডলার।   এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তুরস্ক থেকে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয় ছিল ৬৩ কোটি ৪৫ লাখ ডলার। সে বছর প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৯ দশমিক ২৩ শতাংশ।   সেবার তৈরি পোশাক থেকে আয় হয়েছিল প্রায় ৪৫ কোটি ডলার এবং পাট ও পাটজাত পণ্য থেকে ১৪ কোটি ৪৫ লাখ ডলার।   এ পরিসংখ্যান বলছে, তুরস্কে রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ থাকলেও প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে বাংলাদেশের জন্য। ফলে সাম্প্রতিক উল্লম্ফনকে টেকসই রপ্তানি বৃদ্ধিতে রূপ দেওয়াই এখন গুরুত্বপূর্ণ।   স্থানীয় উৎপাদনে ঘাটতি, বিদেশি পোশাকে সুযোগ   তুরস্কে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বাড়ার সম্ভাবনা কীভবে তৈরি হল, তার একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান।   তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তুরস্কে জীবনযাত্রার মান ও আয় বেড়ে যাওয়ায় দেশটির শ্রমিকরা ধীরে ধীরে তৈরি পোশাকশিল্প থেকে সরে আসছেন। ফলে স্থানীয় উৎপাদনে এক ধরনের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। সেই ঘাটতি পূরণে বিদেশি পোশাকের চাহিদা বাড়ছে।   “বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির জন্য তুরস্ক এখন সম্ভাবনাময় বাজার হিসেবে সামনে এসেছে। বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা, পণ্যের মান, প্রতিযোগিতামূলক দাম ও সময়মত সরবরাহের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে এ বাজারে আরও বেশি প্রবেশের সুযোগ রয়েছে।”   তবে এ সুযোগ কাজে লাগাতে শুধু প্রচলিত পোশাক রপ্তানির ওপর নির্ভর করে থাকলে চলবে না বলে মনে করেন ফজলে শামীম।   তার মতে, উচ্চমূল্যের পোশাক, কৃত্রিম তন্তু ও কারিগরি বস্ত্রের মত পণ্যের উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়ানোর পাশাপাশি পণ্যের বৈচিত্র্য এবং মূল্য সংযোজনেও গুরুত্ব দিতে হবে।   ফজলে শামীম বলেন, “পাশাপাশি পাট ও পাটজাত পণ্য, জুতা এবং অন্যান্য সম্ভাবনাময় পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। তুরস্কের সঙ্গে যোগাযোগ আরও বাড়াতে হবে।”   বাজার সম্প্রসারণে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয়ের ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি। তার মতে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা, ক্রেতা-বিক্রেতা বৈঠক এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে তুরস্কের বাজারে বাংলাদেশের উপস্থিতি আরও জোরদার করা সম্ভব।   ফজলে শামীম বলেন, “নতুন করে যে সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, সেটা কাজে লাগাতে পারলে চলতি অর্থবছরেই তুরস্কে আমাদের মোট রপ্তানি এক বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। এজন্য সরকার ও বেসরকারি খাত একযোগে কাজ করতে হবে।”   গত অর্থবছরে তুরস্কে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি যেখানে ছিল ৫৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার, সেখানে চলতি অর্থবছরে ১০০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে হলে রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়াতে হবে।   প্রথম তিন মাসের প্রবৃদ্ধি সেই সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিলেও বাকি সময়ের রপ্তানি পরিস্থিতিই শেষ পর্যন্ত লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে।   বাণিজ্য বাড়াতে যৌথ বিনিয়োগের উদ্যোগ তুরস্কের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর পাশাপাশি দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদার করার উদ্যোগ নিচ্ছে বর্তমান বিএনপি সরকার।   বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সঙ্গে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেনের বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি বস্ত্র খাতে কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদারের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।   বৈঠকে বাংলাদেশে কৃত্রিম তন্তু ও কারিগরি বস্ত্র খাতে যৌথ বিনিয়োগ, তুরস্ক থেকে কাঁচামাল ও আধুনিক বস্ত্রযন্ত্র আমদানি এবং দ্রুত পণ্য পরিবহনে টার্কিশ এয়ারলাইনস ও ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরের সরবরাহব্যবস্থা ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।   এ ধরনের সহযোগিতা বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি উচ্চমূল্যের পণ্য তৈরির সুযোগও তৈরি করতে পারে।   একই সঙ্গে পাট ও পাটজাত পণ্যসহ অন্যান্য রপ্তানি পণ্যের জন্য তুরস্কের বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ খোঁজার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।   গত জুনে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের বাংলাদেশ সফরের সময় দুই দেশের বাণিজ্য ১৩০ কোটি ডলার থেকে ২০০ কোটি ডলারে নিয়ে যাওয়ার আগ্রহের কথা আলোচনা হয়। বাণিজ্য সম্প্রসারণে আরও অনুকূল কাঠামো তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয় সে সময়।   পোশাকের পাশাপাশি পাটেও নজর তুরস্কের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর ক্ষেত্রে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি পাট ও পাটজাত পণ্যের সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন পাটকল উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএসএ) সভাপতি তাপস প্রামাণিক।   তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের পাট ও পাটজাত পণ্যেরও বড় বাজার কিন্তু তুরস্ক। এ বিষয়টি সরকারের নীতিনির্ধারকদের বিবেচনায় রাখতে হবে। শুধু আরএমজি নিয়ে বসে থাকলে চলবে না।”   তার মতে, তুরস্কের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর পরিকল্পনায় তৈরি পোশাকের পাশাপাশি পাটসহ অন্য পণ্যকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।   তাপস প্রামাণিক বলেন, “সত্যিকার অর্থেই যদি আমরা তুরস্কের বাজার নতুন করে ধরতে চাই, তাহলে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি পাটসহ অন্য পণ্যের দিকে সমান নজর দিতে হবে।”   পাট খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে না পারার বিষয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “বছরের পর পর পাট নিয়ে আমরা আশাবাদের কথা শুনছি। কিন্তু কিছুই তো হচ্ছে না। স্বাধীনতার পর মোট রপ্তানির ৯০ শতাংশের বেশি বিদেশি মুদ্রা আসত যে খাত থেকে; সেই খাত পথ হারিয়ে ফেলল। আমরা সবাই চেয়ে চেয়ে দেখলাম; পরে রইলাম সবাই তৈরি পোশাক নিয়ে।”   তাপস প্রামাণিকের মতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে তুরস্কে বাংলাদেশের রপ্তানি দ্বিগুণের বেশি বেড়ে যাওয়ার প্রবণতাকে কাজে লাগাতে পারলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার সুযোগ রয়েছে। সেজন্য তৈরি পোশাকের পাশাপাশি অন্যান্য পণ্যের রপ্তানি, বিনিয়োগ ও যৌথ উদ্যোগ বাড়াতে হবে।   ১০০ কোটি ডলারের লক্ষ্য পূরণে যা গুরুত্বপূর্ণ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তুরস্কে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর সম্ভাবনা থাকলেও এ লক্ষ্য অর্জনে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।   প্রথমত, তৈরি পোশাকের বাজারে প্রতিযোগিতামূলক দাম ও মান বজায় রাখার পাশাপাশি সময়মতো পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।   দ্বিতীয়ত, উচ্চমূল্যের পোশাক ও কারিগরি বস্ত্রের মত পণ্যে সক্ষমতা বাড়াতে হবে।   তৃতীয়ত, পাট ও পাটজাত পণ্যসহ অন্যান্য পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।   ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফও তুরস্কে রপ্তানি বৃদ্ধির প্রবণতাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।   তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এটা আমাদের জন্য খুবই খুশির খবর যে, তুরস্কে আমাদের রপ্তানিতে নতুন করে আশার আলো দেখা দিয়েছে। রপ্তানি বাড়ার এই প্রবণতা ধরে রাখতে পণ্যভিত্তিক রপ্তানি সক্ষমতা ও ক্রেতাদের চাহিদা বিশ্লেষণ করে নতুন সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।”   প্রচলিত পণ্যের পাশাপাশি পাট ও পাটজাত পণ্য, জুতা এবং অপটিক্যালস, চিকিৎসা ও বস্ত্রশিল্পের সরঞ্জামের মত সম্ভাবনাময় পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন তিনি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সৌদিগামী ১০৭ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে সাড়ে ১৬ হাজার যাত্রী

ছবি: সংগৃহীত

দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকিরকে গুলি করে হত্যা

সাতক্ষীরার বস্তিতে জরিপকৃত বাস্তুচ্যুত পরিবারের ৭৪.৯ শতাংশ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীন; খানি বাংলাদেশ এর গবেষণা

চুরি হওয়া সেই ল্যাপটপ ফিরে পেলেন জার্মান পর্যটক

জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডার-ওয়েবারের হারিয়ে যাওয়া ল্যাপটপ উদ্ধার করে তার কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে পুলিশ সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে ল্যাপটপটি হস্তান্তর করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। এ সময় পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।   পুলিশ জানায়, বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান পরিদর্শনের উদ্দেশে গত ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আসেন ক্রিল। বুধবার নাটোর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাওয়ার জন্য তিনি স্টেশনের অপেক্ষাকক্ষে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় ল্যাপটপ ও ক্যামেরা সেখানে রেখে পাশের একটি এটিএম বুথে টাকা তুলতে যান। ফিরে এসে সেগুলো খুঁজে না পেয়ে নাটোর থানায় গিয়ে পুলিশের সহযোগিতা চান।   হারিয়ে যাওয়া ল্যাপটপে তার গত ছয় মাসের কার্যক্রমের তথ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ নথি ছিল। তার লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নাটোর সদর থানা, নাটোর জেলা পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশের সমন্বয়ে একাধিক দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে।   পুলিশের নিরলস প্রচেষ্টায় রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নাটোর সদর থানার কাপুড়িয়াপট্টি এলাকার নূর ক্লোথিং স্টোর থেকে ল্যাপটপটি (ম্যাকবুক) উদ্ধার করা হয়।   ক্রিল বাংলাদেশ পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ ভ্রমণের সময় তার ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন।   বিদেশি পর্যটকের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি, ল্যাপটপ উদ্ধার এবং বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদারত্ব ও ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আইজিপি নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনসুর রহমান ও উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেনকে আর্থিক পুরস্কার দেন।   আইজিপি এ কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের কর্মদক্ষতা, আন্তরিকতা, দায়িত্ববোধ ও দলগত সাফল্যের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ পুলিশের সব ইউনিটকে দ্রুত ও পেশাদার সেবা দেওয়া, দেশি-বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা ও আস্থা নিশ্চিত করা, পর্যটনবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং জনমুখী পুলিশিংয়ের ক্ষেত্রে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনের নির্দেশনা দেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

২১ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ চুয়েট ভিসিসহ ১১ জন

গত ৩ দিনে বাংলাদেশ-রিয়াদের ১০টি ফ্লাইট বাতিল

ছবি: সংগৃহীত

মন্ত্রীর হুঁশিয়ারির প্রতিবাদে মোহাম্মদপুরে অটোরিকশাচালকদের সড়ক অবরোধ

0 Comments