খেলাধুলা

বিশ্বকাপে তৃতীয় হয়ে ৩৫৬ কোটি টাকা পেল ইংল্যান্ড

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১৯, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান অর্জনের পুরস্কার হিসেবে ২ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার পেয়েছে ইংল্যান্ড। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩৫৬ কোটি টাকা। ফিফার নির্ধারিত প্রাইজমানি কাঠামো অনুযায়ী, বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দল পাবে ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। চতুর্থ হওয়া দল পাবে ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার। অর্থাৎ তৃতীয় হয়ে চতুর্থ দলের চেয়ে ২০ লাখ ডলার বেশি পেয়েছে ইংল্যান্ড।

 

তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়ে ব্রোঞ্জ জিতেছে ইংল্যান্ড। এদিন প্রথমার্ধে ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগ ছিল দুর্দান্ত। মিয়ামি স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ইংল্যান্ড। মাত্র তৃতীয় মিনিটেই গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ডেকলান রাইস। ফ্রান্সের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে বল পেয়ে দূরপাল্লার শটে গোল করেন ইংলিশ মিডফিল্ডার।

 

এরপর ১৯তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এজরি কনসা। ডেকলান রাইসের নিখুঁত ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে বল জালে জড়ান তিনি। দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে আরও চাপে পড়ে যায় ফ্রান্স। সেই সুযোগে ৩৭তম মিনিটে তৃতীয় গোল পায় ইংল্যান্ড। মার্কাস র‍্যাশফোর্ডের তৈরি করা আক্রমণ থেকে গোল করেন বুকায়ো সাকা।

 

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আবারও গোল করেন সাকা। ফলে বিরতিতে ৪-০ গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। প্রথমার্ধেই ফ্রান্সের জালে চারবার বল পাঠিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় তারা। সাকার গতি ও দক্ষতা ফ্রান্সের রক্ষণকে বারবার বিপদে ফেলেছে। অন্যদিকে ফরাসি প্রথমার্ধে দলকে দেখা গেছে ছন্নছাড়া। কিলিয়ান এমবাপ্পে ও তার সতীর্থরা আক্রমণে তেমন কোনো ধার তৈরি করতে পারেননি।

 

তবে দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। প্রথমার্ধে দুর্দান্ত আধিপত্য দেখিয়ে ইংল্যান্ড ম্যাচটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিলেও দ্বিতীয়ার্ধে ফ্রান্সের প্রত্যাবর্তন ম্যাচটিকে রোমাঞ্চকর করে তোলে। আক্রমণের ধার বাড়িয়ে ইংল্যান্ডের রক্ষণে একের পর এক চাপ সৃষ্টি করে ফ্রান্স। সেই চাপ থেকেই ব্যবধান কমাতে শুরু করে তারা। ম্যাচের ৪৮ মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পে ফ্রান্সের হয়ে গোল করে ব্যবধান কমান। ম্যাচের ৫৪ মিনিটে ফ্রান্সের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন বারকোলা। এরপর ম্যাচের ৬৬ মিনিটে আরও একটি গোল করে ম্যাচে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনেন ফরাসি অধিনায়ক।

 

শেষ মুহূর্তে ম্যাচের ৮৭ মিনিটে পেনাল্টির সুযোগ পায় ইংল্যান্ড। পেনাল্টিতে ফ্রান্সে জালে আবারও বল জড়ান সাকা। এতে হ্যাট্রিকের দেখা পান ইংলিশ এই তারকা। ম্যাচের গোল ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ৫-৪ গোলে। এরপর অতিরিক্ত সময়ের ৮ মিনিটে ইংল্যন্ডের হয়ে ৬ নম্বর গোলটি করেন বেলিংহাম। এদিকে সমতায় ফেরার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাতে থাকে ফরাসিরা। এর ফল হিসেবে ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ের ৬ মিনিটের সময় আবারও ইংলেন্ডের জালে বল জড়ান ফ্রান্সের ডেম্বেলে।

 

তবে শেষ পর্যন্ত ৬-৪ গোলের নাটকীয় জয় নিয়ে বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড। অন্যদিকে সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচেও পরাজয় নিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করে ফ্রান্স।

 

সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে হেরে ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন শেষ হয়েছিল ইংল্যান্ডের। তবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপ শেষ করেছে তারা সান্ত্বনার জয় ও বড় অঙ্কের প্রাইজমানি নিয়ে। এছাড়া ১৯৬৬ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর এবারই নিজেদের সেরা ফল পেয়েছে ইংল্যান্ড। ৬০ বছর পর বিশ্বকাপে তৃতীয় হয়ে নতুন ইতিহাস গড়ার পাশাপাশি বড় আর্থিক পুরস্কারও ঘরে তুলল থ্রি লায়ন্সরা।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

খেলাধুলা

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
৫ রানে ৭ উইকেট, হ্যাটট্রিক করে লঙ্কান ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস আতাপাত্তুর

ব্যাট হাতে বহুবার রেকর্ড গড়া চামারি আতাপাত্তু এবার বল হাতে গড়লেন অনন্য কীর্তি। নারী এশিয়া কাপে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে মাত্র ৫ রান দিয়ে ৭ উইকেট নিয়ে শ্রীলঙ্কার নারী টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন দেশটির অধিনায়ক। দুর্দান্ত এই বোলিংয়ের পথে হ্যাটট্রিকও করেছেন তিনি।   বুধবার ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে মাত্র ৩.৩ ওভার বল করে ৫ রান খরচায় ৭ উইকেট নেন আতাপাত্তু। তার এই বিধ্বংসী বোলিংয়ে একসঙ্গে তিনটি জাতীয় রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন তিনি।   শ্রীলঙ্কার নারী টি-টোয়েন্টিতে প্রথমবারের মতো পাঁচ উইকেট নেওয়া বোলার এখন আতাপাত্তু। একই সঙ্গে তিনিই দেশটির নারী টি-টোয়েন্টিতে প্রথম হ্যাটট্রিকের মালিক। এক ইনিংসে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের রেকর্ডও এবার তার দখলে।   আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি আতাপাত্তু। তবে এর আগে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে কোনো ম্যাচে পাঁচ উইকেটও নিতে পারেননি তিনি। এক ম্যাচে ৭ উইকেট নিয়ে এবার নিজের ক্যারিয়ারের বোলিং রেকর্ডও অনেক দূর এগিয়ে নিলেন এই লঙ্কান তারকা।   তবে বিশ্ব রেকর্ডের তালিকায় আতাপাত্তুর বোলিং ফিগার সেরা নয়। আইসিসির সব সদস্য দেশ টি-টোয়েন্টি মর্যাদা পাওয়ার পর নারী ক্রিকেটে তার চেয়েও দুর্দান্ত বোলিংয়ের নজির রয়েছে আরও চারজনের।   এই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন ব্রাজিলের লরা কার্দোসো। গত এপ্রিলে লেসেথোর বিপক্ষে মাত্র ৪ রান খরচ করে ৯ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।   এ ছাড়া ২০২৪ সালে মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক অভিষেকেই ইন্দোনেশিয়ার রহমিলা শূন্য রানে ৭ উইকেট নেওয়ার অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়েন। ২০২১ সালে ফ্রান্সের বিপক্ষে নেদারল্যান্ডসের ফ্রেডেরিক ওভারডাইক ৩ রান দিয়ে ৭ উইকেট এবং পরের বছর পেরুর বিপক্ষে আর্জেন্টিনার আলিসন স্টকসও ৩ রান দিয়ে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন।   এই তালিকায় ৫ রান দিয়ে ৭ উইকেট নিয়ে আতাপাত্তুর অবস্থান পঞ্চম। তবে পরিসংখ্যানের বিচারে পঞ্চম হলেও ম্যাচের গুরুত্ব ও পারফরম্যান্সের বিচারে তার কীর্তি ছিল অসাধারণ। ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার দাপুটে জয়ের অন্যতম প্রধান কারিগর ছিলেন অধিনায়ক আতাপাত্তু।   ব্যাটিং, নেতৃত্ব ও এবার বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স—সব মিলিয়ে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটে চামারি আতাপাত্তুর অবস্থান যে আরও উঁচুতে উঠল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

শ্রীলঙ্কার বদলে ভারত, বদলে গেল নারী চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আয়োজক

খেলোয়াড় বিক্রি করে ইংলিশ ক্লাব চেলসির বিশ্বরেকর্ড

ভারতের পর আবারও এশিয়া সফর করবে ব্রাজিল

সিরি ‘আ’-র বর্ষসেরা কোচের পুরস্কার হাতে সেস্ক ফাব্রেগাস। ছবি: এএফফি
কোমোকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তুলে সিরি ‘আ’-র বর্ষসেরা কোচ ফাব্রেগাস

২০২৫-২৬ মৌসুমে কোমোর হয়ে এক ঐতিহাসিক অভিযানের পর আনুষ্ঠানিকভাবে সিরি 'আ'-র বর্ষসেরা কোচের খেতাব জিতে নিয়েছেন সেস্ক ফাব্রেগাস। দলটিকে প্রথমবারের মতো উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তোলার স্বীকৃতিস্বরূপ 'গ্রান গালা দেল কালচিও এআইসি' অনুষ্ঠানে আর্সেনাল ও বার্সেলোনার সাবেক এই মিডফিল্ডারের হাতে ইতালিয়ান ফুটবলের অন্যতম সম্মানজনক এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। ক্রীড়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গোলডটকম জানিয়েছে, ঐতিহাসিক এই অর্জন ইউরোপের তরুণ ও প্রতিশ্রুতিশীল ম্যানেজারদের কাতারে নিজের অবস্থান আরও মজবুত করলেন ফাব্রেগাস। ইতালিয়ান ফুটবলের সেরা পারফর্মারদের পুরস্কৃত করার বার্ষিক এই আয়োজনে মঞ্চটি যেন তিনি নিজেই আলো করে রাখলেন। স্তাদিও জিউসেপে সিনিগাগলিয়ায় নিজের কৌশলী দর্শনের যে অনন্য প্রদর্শন ফাব্রেগাস দেখিয়েছেন, এই পুরস্কার তারই অফিসিয়াল স্বীকৃতি। ২০২৩ সালের গ্রীষ্মে কোমোর হয়েই ফুটবলার হিসেবে বুট জোড়া তুলে রাখেন তিনি। এরপর অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে ক্লাবটিকে সিরি 'বি' থেকে প্রমোশন পেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে পূর্ণাঙ্গ কোচের দায়িত্ব পেয়ে তো মোড়ই ঘুরিয়ে দেন পুরো দৃশ্যপটের। অতীতে নিচের সারির ফুটবল নিয়ে সংগ্রাম করা কোমোকে ইতালিয়ান ফুটবলের অন্যতম অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে রূপান্তর করেছেন তিনি। এই পুরস্কারের জয়ের পেছনে মূল চালিকাশক্তি ছিল গত মৌসুমে কোমোর সেই অবিশ্বাস্য দৌড়, যেখানে তারা পয়েন্ট টেবিলের চার নম্বরে থেকে মৌসুম শেষ করে টিকিট কাটে স্বপ্নের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের। ফাব্রেগাসের অধীনে শীর্ষ লিগে নিজেদের প্রথম মৌসুমে দশম হওয়ার পর, দ্বিতীয় মৌসুমেই ট্র্যাডিশনাল বড় দলগুলোকে চমকে দেয় লম্বার্ডির এই ক্লাবটি। সাবেক এই স্প্যানিশ তারকার দূরদর্শী দর্শনে ভেঙে পড়ে ইতালির ফুটবলের দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত পাওয়ার হাউসগুলোর দেয়াল। নতুন মৌসুমেও সেই একই গতি ধরে রেখেছে কোমো। নিজেদের প্রথম ম্যাচে উদিনেসের মাঠ থেকে ১-১ ব্যবধানের সমতায় ফেরেন তারা। এরপরই নাপোলির মতো পরাশক্তিকে ২-১ গোলে হারিয়ে নিজেদের শক্তিমত্তার স্পষ্ট জানান দেয় ফাব্রেগাসের শিষ্যরা। ফাব্রেগাসের কোচিং দর্শনের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ ছিল তরুণদের ওপর ভরসা রাখা। এই প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে তিনি রাখেন তরুণ প্লে-মেকার নিকো পাজকে, ফাব্রেগাসের হাত ধরে যিনি যেন পুরোপুরি ডানা মেলেছেন। গত মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪০টি ম্যাচে মাঠে নেমে ১৩টি গোল করার পাশাপাশি ৮টি অ্যাসিস্ট করে নজর কেড়েছেন এই উদীয়মান তারকা। তবে ফাব্রেগাসও কোমোর জন্য আসল পুরস্কারটি অপেক্ষা করছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে, যেখানে নতুন ফরম্যাটের লিগ পর্বে ৮টি রুদ্ধশ্বাস ম্যাচের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে তারা। ঘরের মাঠ স্তাদিও জিউসেপে সিনিগাগলিয়ায় তারা আতিথ্য দেবে প্যারিস সেইন্ট জার্মেই, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, লাইপজিগ এবং এইকে এথেন্সকে। অন্যদিকে বার্সেলোনা, রিয়াল বেতিস, ফেইনুর্দ ও লেন্সের মাঠে কঠিন সব অ্যাওয়ে ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে ক্লাবটি।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
ফাইল ছবি

মেসিকে বিদায়ী সম্মাননা জানাতে আর্জেন্টিনার বিশেষ উদ্যোগ

সংগৃহীত

১৬ মাস পর টি-টোয়েন্টিতে ফিরলেন নাজমুল হোসেন শান্ত

ছবি: সংগৃহীত

জয় দিয়ে প্রত্যাবর্তনের পর যা বললেন হামজা

রেকর্ডময় ইনিংসে তামিমকে ছাড়িয়ে ৩৫০ রানে ইনিংস ছাড়লেন হৃদয়

টেপো এনটুলির বল মিড উইকেটে ঠেলে সিঙ্গল নিয়ে তাওহিদ হৃদয় পূর্ণ করলেন ৩৫০ রান। এবার আর কোনো উদযাপন নয়, বরং আম্পায়ারে দিকে ‘থামস আপ’ দেখালেন। সঙ্কেত দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন, ম্যারাথন ব্যাটিংয়ের এখানেই সমাপ্তি। ইনিংস ঘোষণা করলেন বাংলাদেশ ‘এ’ দলের অধিনায়ক।   রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়া ইনিংসটিতে শেষ পর্যন্ত আউট হলেন না হৃদয়। অপরাজিত রয়ে গেলেন ৪৮১ বলে ৩৫০ রানে। মাঠের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিপক্ষ ফিল্ডাররা এসে অভিনন্দন জানালেন তাকে, পিঠ চাপড়ে দিলেন, হাত মেলালেন হাতে। মাঠ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সতীর্থদের সবাই ড্রেসিং রুমের সামনে এসে বরণ করে নিলেন তাকে। পচেফস্ট্রুমের এই মাঠেই ২০২০ যুব বিশ্বকাপজয়ী দলে ছিলেন হৃদয়। সেখানেই এবার রচিত হলো তার ক্যারিয়ারের আরেকটি গৌরবময় অধ্যায়। অধিনায়কের কীর্তিময় ব্যাটিংয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে দ্বিতীয় আনঅফিসিয়াল টেস্টে ৮ উইকেটে ৬৭৬ রানে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। হৃদয়ের ৩৫০ রানের ইনিংসে চার ২৭টি, ছক্কা ১০টি। এই প্রথম বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যান প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সাড়ে তিনশ ছুঁতে পারলেন। পেছনে পড়ে গেল তামিম ইকবালের ৩৩৪ রান। দেশের বাইরে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের ২২০ রানও ছিল না আগে। ২০৪ রান নিয়ে ম্যাচের শেষ দিনটি শুরু করা হৃদয় একের পর এক রেকর্ডে নাম লিখিয়েছেন সকাল থেকেই। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার আগের সেরা ২১৭ ছাড়িয়ে গেছেন। পরে তিনি ছাড়িয়ে গেছেন শাহরিয়ার হোসেনকে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের দেশের বাইরে সর্বোচ্চ ছিল সাবেক এই ওপেনারের। ২০০৩ সালে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে করাচিতে ডিফেন্স হাউজিং অথোরিটির বিপক্ষে ২১৮ রান করেছিলেন তিনি। অপর প্রান্তে নাঈম হাসান ও হাসান মুরাদ বিদায় নেন অল্প রানে। বাংলাদেশ ‘এ’ দলের অষ্টম উইকেট পতনের সময় হৃদয়ের রান ২২৫। কিন্তু দশে নামা রেজাউর রহমান রাজা দারুণ ব্যাটিংয়ে ভরসা জোগান সঙ্গীকে। ব্যস, রেকর্ডের পথচলা চলতে থাকে। ২৫০ পূর্ণ করেন তিনি ৩৮১ বলে। লাঞ্চে যান ২৭৪ রান নিয়ে। জুটি ভাঙতে তৃতীয় নতুন বল নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে লাভ হয়নি তাতেও। ৪৫০ বল খেলে হৃদয় পৌঁছে যান তিনশতে। সেখানেই না থেমে বরং ছুটতে থাকেন তিনি আরও গতিময়তায়। চা বিরতিতে যান ৩৩৩ রান নিয়ে। দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক মার্কের আকারম্যান তার কাছে গিয়ে জানতে চাইলেন, ইনিংস ঘোষণা করা হবে কি না। কিন্তু হৃদয় জানিয়ে দিলেন, ব্যাটিং চালিয়ে যাবেন বিরতির পরও। সেটির কারণ বোঝা গেল বিরতির একটু পরই। ৩৫০ ছোঁয়ার জন্যই ছিল অপেক্ষা। তিনশ থেকে সাড়ে তিনশতে যান তিনি স্রেফ ৩১ বলেই। এই পরিক্রমায় পেছনে ফেলেন তিনি রকিবুল হাসানের ৩১৩ আর তামিমের ৩৩৪ রানকে। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ট্রিপল সেঞ্চুরি ছিল এতদিন এই দুজনেরই। দক্ষিণ আফ্রিকায় বিদেশি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ট্রিপল সেঞ্চুরি ছিল এতদিন শুধু ডেনিস কম্পটনের। সেই ১৯৪৮ সালে এমসিসির হয়ে ৩০০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন ইংলিশ গ্রেট। তিনশ ছুঁয়ে সামনে এগিয়ে হৃদয় ছাড়িয়ে গেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার অনেক ব্যাটসম্যানকেও। শেষ পর্যন্ত যেখানে থেমেছেন, সেখানে তার ওপরে আছেন কেবল একজন। দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ইনিংসটি হৃদয়ের। তার ওপরে আছেন কেবল স্টিভেন কুক। ১১ টেস্ট খেলা ওপেনার ২০০৯ সালে লায়ন্সের হয়ে ৩৯০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন ৬৪৮ বল খেলে। বাংলাদেশ ‘এ’ দলের ইনিংস ঘোষণার সময় হৃদয়ের সঙ্গে অষ্টম উইকেটে রেজাউরের অবিচ্ছিন্ন জুটির রান ছিল ১৫৭। চারটি চার ও দুই ছক্কায় ১১০ বলে ৩১ রানে অপরাজিত থাকেন রেজাউর। ১৬৪ রানে এগিয়ে থেকে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। প্রোটিয়াদের বাঁহাতি স্পিনার কাইল সিমন্ডস চারটি উইকেট নিলেও রান দেওয়ার প্রায় ট্রিপল সেঞ্চুরি করে ফেলেন। অফ স্পিনার টেপো এনটুলিও রান দেওয়ার ডাবল সেঞ্চুরি করেন। দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল দ্বিতীয় ইনিংসে ১২ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ১৮ রান তোলার পর ড্র মেনে নেয় দুই দল। প্রিটোরিয়ায় প্রথম আনঅফিসয়াল টেস্টে ইনিংস ও ৪১৩ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ ‘এ’ দল। সেখান থেকে এই ম্যাচকে বলা হয় অভাবনীয় পরিবর্তন। ম্যান অব দা ম্যাচ অনুমিতভাবেই হৃদয়। আগের ম্যাচে ডাবল সেঞ্চুরি ও এই ম্যাচে সেঞ্চুরি করে ম্যান অব দা সিরিজ সিনেথেম্বা কেশিলে। দুই দল এখন খেলতে একদিনের ম্যাচের সিরিজ। রোববার ব্লুমফন্টেইনে শুরু তিন ম্যাচের সিরিজটিতে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবেন এই হৃদয়ই।   সংক্ষিপ্ত স্কোর: দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল ১ম ইনিংস: ৫১২ বাংলাদেশ ‘এ’ দল ১ম ইনিংস: ১৯১.২ ওভারে ৬৭৬/৮ (ডি.) (আগের দিন ৪৭১/৬) (হৃদয় ৩৫০*, নাঈম ১৬, মুরাদ ১১, রেজাউর ৩১*; মোরেকি ২৫-৬-৬৩-২, বোস্ট ২৫-২-৯২-১, সিমন্ডস ৫৯-৩-২৯৩-৪, পটগিটার ২০-৮-৪৬-০, এনটুলি ৫৪.২-৭-২১৪-১, আকারম্যান ৮-১-২১-০)।   দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল ২য় ইনিংস: ১২ ওভারে ১৮/০ ফল: ম্যাচ ড্র। সিরিজ: ২ ম্যাচের সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল ১-০ ব্যবধানে জয়ী। ম্যান অব দা ম্যাচ: তাওহিদ হৃদয়। ম্যান অব দা সিরিজ: সিনেথেম্বা কেশিলে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকাকে পেছনে ফেলে নারী চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আয়োজক ভারত

ছবি: সংগৃহীত

অসাধারণ ট্রিপল সেঞ্চুরিতে অনন্য হৃদয়

ছবি: সংগৃহীত

দলবদলের বাজার শেষ, এখনো ক্লাবহীন পগবা-স্টার্লিং-স্যাঞ্চো

0 Comments