খেলাধুলা

সহজ সমীকরণ কঠিন করে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ তখন সহজ জয়ের পথে। পাঁচ বলে প্রয়োজন চার রান। কিন্তু ব্র্যাড ইভান্সের ফুল টসে বোল্ড হয়ে গেলেন মোসাদ্দেক হোসেন। নতুন ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনের খায়েশ হলো ছক্কায় ম্যাচ শেষ করার। প্রথম বলেই উড়িয়ে মেরে তিনিও আউট। ধারাভাষ্যকক্ষে এড রাইন্সফোর্ডেরে চিৎকার, “ইজ দেয়ার আ টুইস্ট ইন দা টেইল?” হ্যাটট্রিক ডেলিভারিতে ফুল টস বল সোজা গিয়ে লাগল শেখ মেহেদি হাসানের প্যাডে। নিশ্চিত এলবিডব্লিউ!

 

কিন্তু আম্পায়ার সঙ্কেত দিলের ডেড বলের। কারণ কোনো এক ফিল্ডার মুভ করছিলেন! বড় বাঁচা বেঁচে গেল বাংলাদেশ। পরের বলটিও ফুল টস পেয়ে এক্সট্রা কাভার দিয়ে চার মেরে গর্জন করলেন মেহেদি। পরে তো বোলার ইভান্সের সঙ্গে বেশ এক চোট উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়ে গেল তার! যে ম্যাচ ছিল একদমই নিস্তরঙ্গ, বাংলাদেশ ছিল অনায়াস জয়ের পথে, শেষ সময়ে সেটিতে নাভিশ্বাস উঠে গেল বাংলাদেশের। মেহেদির ওই গর্জনে মিশে ছিল মূলত বড় এক পাথর নেমে যাওয়ার স্বস্তি।

 

তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষটিতে বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত জিততে পারল ৪ উইকেটে। পিছিয়ে পড়েও সিরিজ জিতে নিল তারা ২-১ ব্যবধানে।

 

আগের সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হোয়াইটওয়াশড হওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়ের নেতৃত্বে প্রথম সিরিজ জয় এটি।

 

বাংলাদেশের জয়ের ভিত গড়া হয়ে যায় ম্যাচের প্রথম ভাগে। এক পর্যায়ে মনে হচ্ছিল, ১৬০-১৭০ রান করবে জিম্বাবুয়ে। কিন্তু শেষ দিকে দুর্দান্ত বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে তাদেরকে ১৪৩ রানেই আটকে রাখে বাংলাদেশ।

 

ওপেনিংয়ে ব্রায়ান ব্রেনেট করেন ৪৭, তিনে নেমে ডিওন মায়ার্স ৭৩। দলের বাকি সাত ব্যাটসম্যান আর অতিরিক্ত মিলিয়ে রান আসে ২৩!

 

রান তাড়ায় বাংলাদেশ ঝড়ের গতিতে ছুটতে পারেনি। তবে শেষ ওভারের আগ পর্যন্ত পুরোটই ছিল নিয়ন্ত্রণে। এক প্রান্ত আগলে রেখে দলকে জয়ের দিকে নিয়ে যান তানজিদ হাসান। শেষে ওই নাটক জমিয়ে জয় আসে দুই বল বাকি রেখে।

 

চার ছক্কায় ৫৮ বলে ৬৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ম্যাচের সেরা তানজিদ। টানা দুটি ফিফটি করে সিরিজের সেরাও এই ওপেনার।

 

বাংলাদেশের ম্যাচ শুরুর ইঙ্গিত ছিল অশুভ। ম্যাচের প্রথম ওভারে তাসকিন আহমেদের বলে বেনেটের সহজ ক্যাচ ছাড়েন তানজিদ হাসান। পরের ওভারেই টাডিওয়ানাশে মারুমানিকে ফিরিয়ে প্রথম ব্রেক থ্রু এনে দেন শেখ মেহেদি হাসান।

 

মেহেদির পরের ওভারে বেনেটের তিন বাউন্ডারিসহ ১৫ রান এলেও, পাওয়ার প্লেতে জিম্বাবুয়ে তোলে ৪০ রান।

 

পরের উইকেটের জন্য অবশ্য অনেকটা সময় অপেক্ষা করতে হয় বাংলাদেশকে। জুটি গড়ে তোলেন বেনেট ও মায়ার্স। তবে রানের গতি খুব আদর্শ ছিল না।

 

৫৫ বলে ৯১ রানের জুটি ভাঙেন মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন। লো ফুল টস ডেলিভারি স্টাম্পে টেনে আনেন বেনেট (৩৮ বলে ৪৭)।

 

১২ ওভার শেষ মায়ার্সের রান ছিল ২৬ বলে ২৬। এরপর কিছু শট তিনি খেলেন। তবে আরেকপ্রান্তে ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়া চলতে থকে।

 

হ্যামিল্টন মাসাকাদজার ৩১৩ ম্যাচ ছাড়িয়ে জিম্বাবুয়ের হয়ে সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার রেকর্ডের দিনে সিকান্দার রাজা ফেরেন ৩ রানে।

 

আব্দুল গাফফার সাকলাইনের বল আকাশে তুলে বিদায় নেন রায়ান বার্ল। আগের ম্যাচগুলোয় বাংলাদেশকে ভোগানো ব্র্যাড ইভান্স রান আউট হন ১ রানে। ওই ওভারেই কিপারের কাছে ধরা পড়েন ক্লাইভ মাডান্ডে।

 

৫৩ বলে ৭৩ করে শেষ ওভারে রান আউট হন মায়ার্স।

 

শেষ ৫ ওভারে মাত্র ৩৪ রান তুলতে পারে জিম্বাবুয়ে।

 

বাংলাদেশের রান তাড়ার প্রথম পাঁচ বলেই অনেক কিছু দেখিয়ে দেন সাইফ। ইনিংসের প্রথম বলেই তেড়েফুঁড়ে মেরে ব্যাটে-বলে করতে পারেননি। পরের বলে লেগ স্টাম্পের বাইরে শর্ট বল পেয়ে মারেন বাউন্ডারি।

 

ওভারের চতুর্থ বলে স্কুপ করার চেষ্টায় বল লাগে তার হেলমেটে। মাঠে তাকে পরীক্ষা করে দেখেন ফিজিও। পরের বলেই বাজে শটে বিলিয়ে দেন উইকেট।

 

ওই উইকেটের পর বাংলাদেশের দুই ব্যাটসম্যানকে চেপে ধরেন জিম্বাবুয়ের পেসাররা। তানজিদ ও পারভেজ একটি করে ছক্কা মারলেও, পাওয়ার প্লেতে রান ওঠে মাত্র ৩০।

 

পাওয়ার প্লের পর একটু হাত খোলেন দুজন। সিকান্দার রাজাকে মাথার ওপর দিয়ে উড়িয়ে দেন পারভেজ। টিনোটেন্ডা মাপোসাকে ছক্কায় স্বাগত জানান তানজিদ। ওই ওভারেই দুটি চার আসে তার সঙ্গীর ব্যাট থেকে।

 

৫৫ রানের জুটি থামে রাজার বলে পারভেজের (২২ বলে ২৫) বিদায়ে।

 

বাংলাদেশকে তাতে বিপাকে পড়তে হয়নি। বরং পরের জুটিতে আরও গতিময় হয় ইনিংস। তানজিদ ও হৃদয় যোগ করেন ৪৪ বলে ৬৩ রান। দুজনের যেমন ভালো কিছু শট খেলেন, তেমনি আলগা ফিল্ডিংয়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয় জিম্বাবুয়েও।

 

হৃদয় ফেরেন ১৯ বলে ২৪ রান করে। জয়ের কাছে গিয়ে আউট হয়ে যান আগের দুই ম্যাচে দারুণ খেলা ইয়াসির আলি।

 

সাড়ে তিন বছর পর দেশের হয়ে টি-টোয়েন্টি খেলতে নামা মোসাদ্দেক হোসেনের সামনে সুযোগ ছিল দলের জয় নিয়ে ফেরার। কিন্তু সেই সুযোগ হেলায় হারান তিনি।

 

সাড়ে তিন বছর পর দেশের হয়ে টি-টোয়েন্টি খেলতে নামা মোসাদ্দেক হোসেনের সামনে সুযোগ ছিল দলের জয় নিয়ে ফেরার। কিন্তু সেই সুযোগ হেলায় হারান তিনি।

 

শেষ ওভারে প্রয়োজন পড়ে ছয় রানের। মন্থর ওভার রেটের কারণে একজন ফিল্ডার বৃত্তের ভেতরে বাড়তি রাখতে হয় জিম্বাবুয়েকে। প্রথম বলে সিঙ্গল নেন তানজিদ। পরের বলে লো ফুল টসে জায়গা বানিয়ে খেলার চেষ্টায় লাইন মিস করে বোল্ড মোসাদ্দেক।

 

নতুন ব্যাটসম্যান সাইফ উদ্দিন আগেই শাফল করে বড় শট খেলার পজিশনে চলে যান। বোলার সেটা বুঝেই বল করেন। সাইফ তবু ব্যাট চালিয়ে দেন। ধরা পড়েন মিড উইকেটে।

 

পরের বলে ইভান্সের হ্যাটট্রিক হয়েই যেত। তবে তিনি বল ডেলিভারি করার সামান্য আগেই ডেড বলের সঙ্কেত দিতে শুরু করেন আম্পায়ার। সেটি নিয়ে বেশ সংশয়ের তৈরি হয়। জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটাররা প্রতিবাদ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে তাদেরকে বোঝাতে পারেন আম্পায়ার।

 

পরের বলটি আবার ফুল টস করেন ইভান্স। এবার টাইমিং ঠিকঠাক করতে পারেন মেহেদি। শেষ ওভারের ঘটনাপ্রবাহ আরেকপ্রান্ত থেকে দেখা ছাড়া উপায় ছিল না তানজিদের। শেষ পর্যন্ত বিফলে যায়নি তার ইনিংস।

 

এই সফরে একমাত্র টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হারার পর, ওয়ানডে সিরিজও হেরেছে বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ে শেষটা অন্তত স্বস্তিতে হলো।

 

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

জিম্বাবুয়ে: ২০ ওভারে ১৪৩/৭ (বেনেট ৪৭, মারুমানি ৪, মায়ার্স ৭৩, রাজা ৩, বার্ল ৭, ইভান্স ১, মাডান্ডে ০, শুমা ৪*, মাপোসা ০*; তাসকিন ৪-০-১৬-০, মেহেদি ৪-০-৩১-১, সাইফ উদ্দিন ৪-০-৩৫-২, রিশাদ ৪-০-২৮-১, সাকলাইন ৪-০-৩১-১)

 

বাংলাদেশ: ১৯.৪ ওভারে ১৪৪/৬ (সাইফ হাসান ৪, তানজিদ ৬৬*, পারভেজ ২২, হৃদয় ২৪, ইয়াসির ১০, মোসাদ্দেক ১, সাইফ উদ্দিন ০, শেখ মেহেদি ৪*; এনগারাভা ৪-০-২০-২, মুজারাবানি ৪-০-১৭-০, ইভান্স ৩.৪-০-২৬-২, রাজা ৪-০-৩৮-২, মাপোসা ২-০-২১-০, বার্ল ১-০-৮-০, বেনেট ১-০-১১-০)।

 

ফল: বাংলাদেশ ৪ উইকেটে জয়ী।

সিরিজ: তিন ম্যাচ বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে জয়ী।

ম্যান অব দা ম্যাচ: তানজিদ হাসান।

ম্যান অব দা সিরিজ: তানজিদ হাসান।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

খেলাধুলা

আরও দেখুন
মেসির সঙ্গে ‘প্রতারণা’ করেছে আর্জেন্টিনা

লিওনেল মেসির সঙ্গে প্রতারণা করেছে আর্জেন্টিনা। দেশটির কিংবদন্তি এই ফুটবলারকে আনুষ্ঠানিক বিদায়ী সংবর্ধণা জানায়নি দলটি। যে দলকে তিনি গত বিশ্বকাপে শিরোপা উপহার দিয়েছেন। সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপে রানার্স আপ করেছেন। যে দলের জন্য ক্যারিয়ারের শুরু থেকে উজার করে দিয়ে লড়াই করেছেন। সে দল তাকে বিদায় বেলায় বিশেষ সম্মান জানায়নি।   গতরাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে জড়ো হওয়া আর্জেন্টিনা সমর্থকেরা যখন মেসির নাম ধরে গান গাইছিল, মেসি তখন গভীর দৃষ্টিতে তাদের দিকে দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে ছিলেন। হয়তো তখন তার মনে হচ্ছিল, বিশ্বকাপে এমন ভালোবাসা পাওয়ার এটাই শেষ মুহূর্ত।   আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি, মেসির মতো টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের চেষ্টা করছিলেন, টুর্নামেন্টে কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড মেসির এটাই শেষ ম্যাচ কী না, সে প্রশ্নে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।   একই সঙ্গে ডিসেম্বর মাসে মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও ভাবছিলেন তিনি। স্কালোনি বলেন, তিনি মেসির সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেননি। এরপর তিনি নিজেই কাঁদতে শুরু করেন এবং সংবাদ সম্মেলন ছেড়ে চলে যান।   ১৬ বছর বয়সে বার্সেলোনায় অভিষেকের পর থেকে মেসি অন্তত পাঁচবার নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তুলেছেন। আজকের আর্জেন্টিনা এবং ইন্টার মায়ামির মেসি সেই দীর্ঘ পরিবর্তনেরই ফসল।   ৩৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপ খেলতে নেমে তিনি তার পায়ের জাদু দেখিয়ে মুগ্ধ করেছেন বিশ্বের ফুটবল প্রেমীদের।   গতরাতে ফাইনালে মেসির অবিস্মরণীয় বিশ্বকাপ যুগের অবসান ঘটে। তার পক্ষে আগামী ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ খেলা অসম্ভব। সেই পর্যন্ত ফিটনেস ধরে রেখে পারফর্ম করে যাওয়া মোটেও সহজ নয়।   ম্যাচের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনার আক্রমণাত্মক মনোভাবের মাশুল গুনেছেন মেসি ও তার দল। ফল হিসেবে শিরোপা ছাড়াই বিশ্বমঞ্চে নিজের সম্ভাব্য শেষ ম্যাচটি খেলেছেন আর্জেন্টাইন মহানায়ক।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ২০, ২০২৬

নিকো পাজের আবেগঘন পোস্ট, ‘বিশ্বকাপ আবার আর্জেন্টিনায় ফিরিয়ে আনবো’

ছবি: সংগৃহীত

মেসির অবসর জল্পনা নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন স্কালোনি

লামিনে ইয়ামাল, লিওনেল মেসি ও বাবা ভাঙ্গা। ছবি : সংগৃহীত

স্পেনের বিশ্বজয়ের পর ফের আলোচনায় ‘বাবা ভাঙ্গা’, কতটা মিলল কথিত ভবিষ্যদ্বাণী?

ছবি: সংগৃহীত
আর্জেন্টিনার কোচের দায়িত্ব ছাড়তে পারেন স্কালোনি

বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে স্পেন। এতে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা ছোঁয়া হলো আলবিসেলেস্তেদের। ফাইনাল হারের পর আর্জেন্টিনার দায়িত্ব ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি।   ২০১৮ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর আর্জেন্টিনার দীর্ঘ শিরোপা খরা কাটিয়েছেন স্কালোনি। তার অধীনেই কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা ও ২০২২ বিশ্বকাপ জেতে আলবিসেলেস্তেরা। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে স্কালোনির চুক্তি শেষ হবে আগামী ডিসেম্বরে।    সংবাদ সম্মেলনে নিজের ভবিষৎ নিয়ে স্কালোনি বলেন, ‘আমি সভাপতির সঙ্গে কথা বলব। কী করতে চাই, সে বিষয়ে একটি ধারণা আমার আছে। চুক্তির মেয়াদ পূর্ণ করব, এরপর দেখা যাবে। সত্যি বলতে, আমার ভাবার প্রয়োজন আছে। কারণ, জানি না এর চেয়ে বড় কিছু আর অর্জন করতে পারব কি না।’   এ সময় আবেগ ধরে রাখতে পারেননি স্কালোনি। অশ্রুসিক্ত চোখে তিনি বলেন, ‘এই জায়গায় থাকা আমার এবং সবার জন্যই স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো। কোচিং স্টাফ ও খেলোয়াড় হিসেবে আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজেদের সবটুকু দিয়েছি। তাই ভাবার জন্য কিছুটা সময় নেওয়া আমার প্রাপ্য।’   আগামী বিশ্বকাপে কোচিং করালেও মেসিসহ আরও কয়েকজন খেলোয়াড়কে না পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। যা নিয়ে চিন্তিত স্কালোনি। তিনি বলেন, ‘দায়িত্ব চালিয়ে যেতে হলে অনেক কিছু প্রয়োজন। সবকিছু নতুন করে শুরু করতে হবে, দলটিকেও পুনর্গঠন করতে হবে। এমন একটি দল আবার তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। বিষয়টি আমাকে ভেতর থেকে কষ্ট দিচ্ছে।’

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

নেইমারের প্রতি শ্রদ্ধা, বিশ্বকাপ ট্রফি উৎসর্গ করলেন নিকো উইলিয়ামস

ছবি: সংগৃহীত

প্রথম ম্যাচে হার, যে মন্ত্রে ঘুরে দাঁড়াল টাইগাররা

লিওনেল মেসির। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের পর যা বললেন মেসি

ছবি: সংগৃহীত
এই কান্নাতেই কি শেষ হলো আকাশি-নীল জার্সিতে মেসির অধ্যায়?

রূপকথার শেষ পাতাটা তো সব সময় আনন্দের রঙে আঁকা থাকে। কিন্তু নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের বিকেলটা লিওনেল মেসির জন্য কোনো রূপকথা আনেনি। এনেছে এক বুকভাঙা হাহাকার। ট্রফি মঞ্চের ঝলমলে আলোয় যখন তিনি রানার্সআপ মেডেলটা গলায় নিচ্ছেন, তখন ক্যামেরা জুম করল তাঁর মুখে। সেই চেনা চোখ, যা দিয়ে তিনি মাঠের সব ডিফেন্ডারের ফাঁকফোকর গলে বল বাড়িয়ে দেন, সেখানে কিছুক্ষণ পর শুধুই নোনা জলের ধারা।   ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনাল। স্পেনের লাল ঝড়ের সামনে নীল-সাদা স্বপ্নগুলো তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল। আর্জেন্টিনাকে নাকানিচুবানি খাইয়ে স্পেন ম্যাচটা জিতে নিল ১-০ গোলে। কিন্তু মেসির চোখের জল কি শুধু একটি হারানো ট্রফির জন্য? নাকি এক মহাকাব্যের বিষাদময় শেষও?   মাঠের ওপাশে যখন স্প্যানিশ তরুণদের উল্লাস, ফক্স স্পোর্টসের স্টুডিওতে বসে জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ আর থিয়েরি অঁরিরা তখন কথা বলছিলেন মেসির শেষটা নিয়ে। ইব্রা বললেন, ‘এই বিশ্বকাপে আমরা ওকে মন ভরে উপভোগ করেছি। আমি জানি বিশ্বকাপটা জিততে না পেরে ও ভীষণ দুঃখী। কিন্তু ও একটা অবিশ্বাস্য বিশ্বকাপ কাটিয়েছে। একা হাতে এই দলটাকে টেনে নিয়ে গেছে। ও যা করেছে, তা স্রেফ জাদুকরি।’   ৬ নম্বর বিশ্বকাপ খেলতে নেমেছিলেন মেসি। বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের পরিসংখ্যানে হয়তো এটাই তাঁর জীবনের সেরা বিশ্বকাপ। টুর্নামেন্টে ৮টি গোল আর ৪টি অ্যাসিস্ট! তবে পরিসংখ্যান তো স্রেফ সংখ্যার খেলা, মাঠে যা করেছেন, তা ছিল চোখের আরাম। প্রথম পাঁচ ম্যাচেই গোল। কোয়ার্টার ফাইনাল আর সেমিফাইনালে গোল না পেলেও বানিয়ে দিলেন ৩টি গোল। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নাটকীয় কামব্যাকের ম্যাচে তাঁর বাড়ানো পাস দুটি তো ফুটবল ইতিহাসে জাদুঘরে রাখার মতো।   ইব্রাহিমোভিচ মেসির এই রূপটাকেই ব্যাখ্যা করলেন দারুণভাবে, ‘এই টুর্নামেন্টে কখনো মনে হয়েছে ও এই গ্রহেরই কেউ না, আবার কখনো একদম আমাদের মতো রক্তমাংসের মানুষ হয়ে উঠেছে!’   এই ৮ গোল মিলিয়ে বিশ্বকাপে মেসির মোট গোল এখন ২১টি। গ্রুপ পর্ব শেষেই বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড নিজের করে নিয়েছিলেন। টুর্নামেন্টের সিংহভাগ সময় রেকর্ডটা তাঁর নামের পাশেই ছিল। কিন্তু বাদ সাধলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। গত শনিবার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে ফ্রান্সের এই তারকা মেসির কাছ থেকে রেকর্ডটা ছিনিয়ে নেন।   ফাইনালে রেকর্ডটা আর উদ্ধার করা হয়নি মেসির। আসলে স্পেনের কাছে পাত্তাই পায়নি আর্জেন্টিনা। পুরো ম্যাচে আর্জেন্টিনা শট নিতে পেরেছে মাত্র দুটি, যার একটিও অন-টার্গেট ছিল না। মেসি নিজে একটা শট নিয়েছিলেন বটে, কিন্তু তার বাড়ানো পাঁচটি ক্রসের মধ্যে মাত্র একটি ঠিকঠাক জায়গায় পৌঁছাতে পেরেছে। স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের কৌশলে বন্দী হয়ে মেসিকে বড্ড একাকী লেগেছে।   কিন্তু থিয়েরি অঁরি মোটেও মেসির কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে দিতে রাজি নন। আর্সেনাল ও বার্সেলোনার এই কিংবদন্তি কৃতিত্ব দিচ্ছেন স্পেনের ট্যাকটিকসকে, ‘আপনি মেসির বিপক্ষে বাজি ধরতে পারেন না। আর্জেন্টিনাকে হারাতে হলে স্পেনের মতো একটা দলই লাগত।’   ফাইনালে মেসির পা থেকে চেনা জাদু বের হয়নি সত্যি, কিন্তু তাতে কি তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব এক বিন্দু কমে যায়? ডেনমার্কের সাবেক গোলকিপার ক্যাসপার স্মাইকেল তো পরিষ্কার বলে দিলেন, বিশ্বকাপের ট্রফি দিয়ে মেসির মতো ফুটবলারকে মাপাটাই বোকামি।   স্মাইকেলের কথা, ‘হ্যাঁ, ও বিশ্বকাপে জেতার চেয়ে ফাইনাল হেরেছে বেশি। কিন্তু তা সত্ত্বেও ও-ই ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়। যেকোনো বাচ্চা যখন ওর দিকে তাকাবে, সে বুঝতে পারবে ফুটবল মানে শুধু জেতা নয়। ফুটবল মানে আপনি খেলাটাকে কী দিয়ে গেলেন। আর মেসি এই খেলাটাকে যা দিয়েছে, তার কোনো তুলনা হয় না।’   একই সুরে সুর মেলালেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক তারকা অ্যালেক্সি লালাস, ইংল্যান্ডের সাবেক স্ট্রাইকার পিটার ক্রাউচও। লালাস যেমন বলছিলেন, ‘ও একজন চ্যাম্পিয়ন। আর চ্যাম্পিয়নরা সব সময় সবকিছু জিততে চায়। ও তো ক্যারিয়ারে সবকিছুই জিতেছে, তাই আজকের হারটায় ও হতাশ হবেই। কিন্তু আমার মনে হয়, আজকের ম্যাচের স্কোরলাইন ভুলে আমাদের এখনই আলোচনা করা উচিত ও কতটা আইকনিক, কতটা গুরুত্বপূর্ণ আর কতটা অবিশ্বাস্য এক ফুটবলার।’   পিটার ক্রাউচ আবার স্পেনের বর্তমান দলটার উদাহরণ টেনে অন্য এক সত্য সামনে আনলেন, ‘আজ স্পেনের যে ছেলেরা চ্যাম্পিয়ন হলো, তাদের প্রায় সবাই ছোটবেলায় মেসিকে দেখে বড় হয়েছে, ওর খেলায় অনুপ্রাণিত হয়েছে। এই মানুষটা একটা জিনিয়াস। আর এটাই যদি ওর শেষ বিদায় হয়, তবে মনে রাখতে হবে আমরা ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ফুটবলারটিকে বিদায় জানালাম।’   ফাইনালের পর পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে মেসির কান্নার ছবিটা এখন নেট দুনিয়ায় ভাইরাল। রুপালি মেডেলটা যখন তাঁর গলায় ঝুলছিল, মেসির চোখ বেয়ে জল পড়ছিল। থিয়েরি অঁরি সেটা দেখে আবেগাপ্লুত, ‘দেখো, এই হারটা ওর কাছে কী ভীষণ কষ্টের! তোমাদের মনে যদি বিন্দুমাত্র সন্দেহ থাকে যে এই বয়সেও ওর পেটে জেতার ক্ষুধা আছে কি না, তবে ওর মুখের দিকে তাকাও। দেখো এই কান্না কী অর্থ বহন করে। ও তো জীবনে সব জিতেছে। তাও এই কান্না কেন? কারণ, দেশের প্রতি ওর ভালোবাসা, ওর প্যাশন আর ও নিজের সবটুকু উজাড় করে দেয় মাঠে।’   এখন ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন: রানার্সআপ মেডেল গলায় নিয়ে এই কান্নাই কি আর্জেন্টিনার আকাশি-নীল জার্সিতে মেসির শেষ দৃশ্য? ইব্রাহিমোভিচ চান না মেসির এই রূপকথা এখানেই শেষ হয়ে যাক। জ্লাতান শেষ করলেন একবুক আশা নিয়ে, ‘আমি আশা করি ও যত দিন সম্ভব খেলা চালিয়ে যাবে, যাতে আমরা ওকে আরও বেশি উপভোগ করতে পারি। ও কি পরের বিশ্বকাপে থাকবে? আমি জানি না, ফুটবলে নিশ্চিত করে কিছু বলা যায় না। তবে ও খেলছে, এটাই আমাদের আনন্দ। যেদিন ও খেলা ছেড়ে দেবে, সেদিন আমাদের সবার মন খারাপ হবে।’

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

চোখের জলে বিশ্বকাপকে বিদায় বললেন মেসি

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ জয়ের পর ব্যক্তিগত অর্জনেও স্পেনের একচ্ছত্র আধিপত্য

ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে স্পেনের উল্লাস। ছবি-বিবিসি

অতিরিক্ত সময়ের গোলে মেসিদের হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

0 Comments