বাংলাদেশ তখন সহজ জয়ের পথে। পাঁচ বলে প্রয়োজন চার রান। কিন্তু ব্র্যাড ইভান্সের ফুল টসে বোল্ড হয়ে গেলেন মোসাদ্দেক হোসেন। নতুন ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনের খায়েশ হলো ছক্কায় ম্যাচ শেষ করার। প্রথম বলেই উড়িয়ে মেরে তিনিও আউট। ধারাভাষ্যকক্ষে এড রাইন্সফোর্ডেরে চিৎকার, “ইজ দেয়ার আ টুইস্ট ইন দা টেইল?” হ্যাটট্রিক ডেলিভারিতে ফুল টস বল সোজা গিয়ে লাগল শেখ মেহেদি হাসানের প্যাডে। নিশ্চিত এলবিডব্লিউ!
কিন্তু আম্পায়ার সঙ্কেত দিলের ডেড বলের। কারণ কোনো এক ফিল্ডার মুভ করছিলেন! বড় বাঁচা বেঁচে গেল বাংলাদেশ। পরের বলটিও ফুল টস পেয়ে এক্সট্রা কাভার দিয়ে চার মেরে গর্জন করলেন মেহেদি। পরে তো বোলার ইভান্সের সঙ্গে বেশ এক চোট উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়ে গেল তার! যে ম্যাচ ছিল একদমই নিস্তরঙ্গ, বাংলাদেশ ছিল অনায়াস জয়ের পথে, শেষ সময়ে সেটিতে নাভিশ্বাস উঠে গেল বাংলাদেশের। মেহেদির ওই গর্জনে মিশে ছিল মূলত বড় এক পাথর নেমে যাওয়ার স্বস্তি।
তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষটিতে বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত জিততে পারল ৪ উইকেটে। পিছিয়ে পড়েও সিরিজ জিতে নিল তারা ২-১ ব্যবধানে।
আগের সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হোয়াইটওয়াশড হওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়ের নেতৃত্বে প্রথম সিরিজ জয় এটি।
বাংলাদেশের জয়ের ভিত গড়া হয়ে যায় ম্যাচের প্রথম ভাগে। এক পর্যায়ে মনে হচ্ছিল, ১৬০-১৭০ রান করবে জিম্বাবুয়ে। কিন্তু শেষ দিকে দুর্দান্ত বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে তাদেরকে ১৪৩ রানেই আটকে রাখে বাংলাদেশ।
ওপেনিংয়ে ব্রায়ান ব্রেনেট করেন ৪৭, তিনে নেমে ডিওন মায়ার্স ৭৩। দলের বাকি সাত ব্যাটসম্যান আর অতিরিক্ত মিলিয়ে রান আসে ২৩!
রান তাড়ায় বাংলাদেশ ঝড়ের গতিতে ছুটতে পারেনি। তবে শেষ ওভারের আগ পর্যন্ত পুরোটই ছিল নিয়ন্ত্রণে। এক প্রান্ত আগলে রেখে দলকে জয়ের দিকে নিয়ে যান তানজিদ হাসান। শেষে ওই নাটক জমিয়ে জয় আসে দুই বল বাকি রেখে।
চার ছক্কায় ৫৮ বলে ৬৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ম্যাচের সেরা তানজিদ। টানা দুটি ফিফটি করে সিরিজের সেরাও এই ওপেনার।
বাংলাদেশের ম্যাচ শুরুর ইঙ্গিত ছিল অশুভ। ম্যাচের প্রথম ওভারে তাসকিন আহমেদের বলে বেনেটের সহজ ক্যাচ ছাড়েন তানজিদ হাসান। পরের ওভারেই টাডিওয়ানাশে মারুমানিকে ফিরিয়ে প্রথম ব্রেক থ্রু এনে দেন শেখ মেহেদি হাসান।
মেহেদির পরের ওভারে বেনেটের তিন বাউন্ডারিসহ ১৫ রান এলেও, পাওয়ার প্লেতে জিম্বাবুয়ে তোলে ৪০ রান।
পরের উইকেটের জন্য অবশ্য অনেকটা সময় অপেক্ষা করতে হয় বাংলাদেশকে। জুটি গড়ে তোলেন বেনেট ও মায়ার্স। তবে রানের গতি খুব আদর্শ ছিল না।
৫৫ বলে ৯১ রানের জুটি ভাঙেন মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন। লো ফুল টস ডেলিভারি স্টাম্পে টেনে আনেন বেনেট (৩৮ বলে ৪৭)।
১২ ওভার শেষ মায়ার্সের রান ছিল ২৬ বলে ২৬। এরপর কিছু শট তিনি খেলেন। তবে আরেকপ্রান্তে ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়া চলতে থকে।
হ্যামিল্টন মাসাকাদজার ৩১৩ ম্যাচ ছাড়িয়ে জিম্বাবুয়ের হয়ে সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার রেকর্ডের দিনে সিকান্দার রাজা ফেরেন ৩ রানে।
আব্দুল গাফফার সাকলাইনের বল আকাশে তুলে বিদায় নেন রায়ান বার্ল। আগের ম্যাচগুলোয় বাংলাদেশকে ভোগানো ব্র্যাড ইভান্স রান আউট হন ১ রানে। ওই ওভারেই কিপারের কাছে ধরা পড়েন ক্লাইভ মাডান্ডে।
৫৩ বলে ৭৩ করে শেষ ওভারে রান আউট হন মায়ার্স।
শেষ ৫ ওভারে মাত্র ৩৪ রান তুলতে পারে জিম্বাবুয়ে।
বাংলাদেশের রান তাড়ার প্রথম পাঁচ বলেই অনেক কিছু দেখিয়ে দেন সাইফ। ইনিংসের প্রথম বলেই তেড়েফুঁড়ে মেরে ব্যাটে-বলে করতে পারেননি। পরের বলে লেগ স্টাম্পের বাইরে শর্ট বল পেয়ে মারেন বাউন্ডারি।
ওভারের চতুর্থ বলে স্কুপ করার চেষ্টায় বল লাগে তার হেলমেটে। মাঠে তাকে পরীক্ষা করে দেখেন ফিজিও। পরের বলেই বাজে শটে বিলিয়ে দেন উইকেট।
ওই উইকেটের পর বাংলাদেশের দুই ব্যাটসম্যানকে চেপে ধরেন জিম্বাবুয়ের পেসাররা। তানজিদ ও পারভেজ একটি করে ছক্কা মারলেও, পাওয়ার প্লেতে রান ওঠে মাত্র ৩০।
পাওয়ার প্লের পর একটু হাত খোলেন দুজন। সিকান্দার রাজাকে মাথার ওপর দিয়ে উড়িয়ে দেন পারভেজ। টিনোটেন্ডা মাপোসাকে ছক্কায় স্বাগত জানান তানজিদ। ওই ওভারেই দুটি চার আসে তার সঙ্গীর ব্যাট থেকে।
৫৫ রানের জুটি থামে রাজার বলে পারভেজের (২২ বলে ২৫) বিদায়ে।
বাংলাদেশকে তাতে বিপাকে পড়তে হয়নি। বরং পরের জুটিতে আরও গতিময় হয় ইনিংস। তানজিদ ও হৃদয় যোগ করেন ৪৪ বলে ৬৩ রান। দুজনের যেমন ভালো কিছু শট খেলেন, তেমনি আলগা ফিল্ডিংয়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয় জিম্বাবুয়েও।
হৃদয় ফেরেন ১৯ বলে ২৪ রান করে। জয়ের কাছে গিয়ে আউট হয়ে যান আগের দুই ম্যাচে দারুণ খেলা ইয়াসির আলি।
সাড়ে তিন বছর পর দেশের হয়ে টি-টোয়েন্টি খেলতে নামা মোসাদ্দেক হোসেনের সামনে সুযোগ ছিল দলের জয় নিয়ে ফেরার। কিন্তু সেই সুযোগ হেলায় হারান তিনি।
সাড়ে তিন বছর পর দেশের হয়ে টি-টোয়েন্টি খেলতে নামা মোসাদ্দেক হোসেনের সামনে সুযোগ ছিল দলের জয় নিয়ে ফেরার। কিন্তু সেই সুযোগ হেলায় হারান তিনি।
শেষ ওভারে প্রয়োজন পড়ে ছয় রানের। মন্থর ওভার রেটের কারণে একজন ফিল্ডার বৃত্তের ভেতরে বাড়তি রাখতে হয় জিম্বাবুয়েকে। প্রথম বলে সিঙ্গল নেন তানজিদ। পরের বলে লো ফুল টসে জায়গা বানিয়ে খেলার চেষ্টায় লাইন মিস করে বোল্ড মোসাদ্দেক।
নতুন ব্যাটসম্যান সাইফ উদ্দিন আগেই শাফল করে বড় শট খেলার পজিশনে চলে যান। বোলার সেটা বুঝেই বল করেন। সাইফ তবু ব্যাট চালিয়ে দেন। ধরা পড়েন মিড উইকেটে।
পরের বলে ইভান্সের হ্যাটট্রিক হয়েই যেত। তবে তিনি বল ডেলিভারি করার সামান্য আগেই ডেড বলের সঙ্কেত দিতে শুরু করেন আম্পায়ার। সেটি নিয়ে বেশ সংশয়ের তৈরি হয়। জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটাররা প্রতিবাদ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে তাদেরকে বোঝাতে পারেন আম্পায়ার।
পরের বলটি আবার ফুল টস করেন ইভান্স। এবার টাইমিং ঠিকঠাক করতে পারেন মেহেদি। শেষ ওভারের ঘটনাপ্রবাহ আরেকপ্রান্ত থেকে দেখা ছাড়া উপায় ছিল না তানজিদের। শেষ পর্যন্ত বিফলে যায়নি তার ইনিংস।
এই সফরে একমাত্র টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হারার পর, ওয়ানডে সিরিজও হেরেছে বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ে শেষটা অন্তত স্বস্তিতে হলো।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
জিম্বাবুয়ে: ২০ ওভারে ১৪৩/৭ (বেনেট ৪৭, মারুমানি ৪, মায়ার্স ৭৩, রাজা ৩, বার্ল ৭, ইভান্স ১, মাডান্ডে ০, শুমা ৪*, মাপোসা ০*; তাসকিন ৪-০-১৬-০, মেহেদি ৪-০-৩১-১, সাইফ উদ্দিন ৪-০-৩৫-২, রিশাদ ৪-০-২৮-১, সাকলাইন ৪-০-৩১-১)
বাংলাদেশ: ১৯.৪ ওভারে ১৪৪/৬ (সাইফ হাসান ৪, তানজিদ ৬৬*, পারভেজ ২২, হৃদয় ২৪, ইয়াসির ১০, মোসাদ্দেক ১, সাইফ উদ্দিন ০, শেখ মেহেদি ৪*; এনগারাভা ৪-০-২০-২, মুজারাবানি ৪-০-১৭-০, ইভান্স ৩.৪-০-২৬-২, রাজা ৪-০-৩৮-২, মাপোসা ২-০-২১-০, বার্ল ১-০-৮-০, বেনেট ১-০-১১-০)।
ফল: বাংলাদেশ ৪ উইকেটে জয়ী।
সিরিজ: তিন ম্যাচ বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যাচ: তানজিদ হাসান।
ম্যান অব দা সিরিজ: তানজিদ হাসান।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ফ্রান্সের নতুন কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের প্রথম দল ঘোষণা করেছেন জিনেদিন জিদান। প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন পাঁচ ফুটবলার। যেখানে মূল আকর্ষণ লিভারপুলের সেন্টার-ব্যাক জুরেমি জেকে, যিনি অ্যানফিল্ডে অভিষেক মৌসুমে শুরুতেই দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়ে নজর কেড়েছেন। এই বছরই লিভারপুলে যোগ দেন জেকে। গত ২৩ অগাস্ট প্রিমিয়ার লিগে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের বিপক্ষে ২–২ ড্র ম্যাচ দিয়ে ইংলিশ ক্লাবটির হয়ে অভিষেক হয় ২১ বছর বয়সি এই ফুটবলারের। মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এখন পর্যন্ত দলের ছয় ম্যাচের সবকটিতে খেলেছেন তিনি। উয়েফা নেশন্স লিগের আসন্ন চারটি ম্যাচের জন্য শুক্রবার জিদানের ঘোষিত ২৩ সদস্যের দলে নতুন মুখ অন্য চার জন হলেন গোলরক্ষক রেস্তেস, ডিফেন্ডার দিউফ, মিডফিল্ডার দা কুইয়া ও ফরোয়ার্ড লাপল। অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে, উসমান দেম্বেলে, বাহডলে বাহকোলাসহ নিয়মিতদের প্রায় সবাই দলে আছেন। দলে জায়গা না পাওয়াদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন রেয়াল মাদ্রিদের মিডফিল্ডার অহেলিয়া চুয়ামেনি। দলে ফিরেছেন রেয়াল মাদ্রিদের আরেক মিডফিল্ডার এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা। গত বিশ্বকাপের দলে ছিলেন না তিনি। গত জুলাইয়ে দিদিয়ে দেশোঁর উত্তরসূরি হিসেবে ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ফ্রান্সের কোচ নিযুক্ত হন জিদান। তার অসাধারণ নৈপুণ্যে ১৯৯৮ সালে ঘরের মাঠে ফ্রান্স জিতেছিল তাদের প্রথম বিশ্বকাপ। সাবেক ক্লাব রেয়াল মাদ্রিদের কোচ হিসেবে দারুণ উজ্জ্বল এক অধ্যায় পার করেন জিদান। তার কোচিংয়ে টানা তিনবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের স্বাদ পায় স্প্যানিশ ক্লাবটি। ফ্রান্সের ডাগআউটেও তাকে ঘিরে প্রত্যাশা অনেক। দেশোঁর কোচিংয়ে ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জেতে ফ্রান্স, ২০২২ সালের আসরে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে রানার্সআপ হয় তারা। আর এই বছরের আসরে সেমি-ফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয় তাদের। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর তুরস্কের বিপক্ষে নেশন্স লিগের ম্যাচ দিয়ে ফ্রান্সের কোচ হিসেবে অভিষেক হবে জিদানের। এরপর দলটি যাবে বেলজিয়াম সফরে এবং অক্টোবরে ইতালি ও বেলজিয়ামের বিপক্ষে ঘরের মাঠে খেলবে।
এশিয়া কাপের পর এবার এশিয়ান গেমসের নারী ক্রিকেটের সেমিফাইনালেও ভারতের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। শুক্রবার জাপানকে ৮ উইকেটে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে ভারত। ফলে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর সেমিফাইনালে নিগার সুলতানা জ্যোতির নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হচ্ছে হরমনপ্রীত কৌরের দল। এর আগে প্রায় এক সপ্তাহ আগে নারী এশিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষে খেলেছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে ৪২ রানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় জ্যোতির দল। এবার এশিয়ান গেমসে আবারও একই প্রতিপক্ষের সামনে পড়ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ আগেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছিল। চীনের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে মাঠে গড়াতে পারেনি। পরে র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে বাংলাদেশকে সেমিফাইনালের টিকিট দেওয়া হয়। অন্যদিকে ভারত-জাপান ম্যাচের ফলাফলই নির্ধারণ করেছে শেষ চারে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ কে হবে। শুক্রবার করোগি স্পোর্টস পার্কে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ১৯.৫ ওভারে মাত্র ৫৭ রানে অলআউট হয় জাপান। ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারত মাত্র ৫ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে। ৮ উইকেটের এই জয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় তারা। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টায় করোগি স্পোর্টস পার্কে অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ-ভারত সেমিফাইনাল। একই দিন প্রথম সেমিফাইনালে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা। এশিয়ান গেমসের নারী ক্রিকেটে ২২ সেপ্টেম্বর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ ও ফাইনাল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ১২৭ রানের বড় জয় পেয়েছে ভারত। ব্যাট হাতে অভিষেক শর্মার বিধ্বংসী সেঞ্চুরির পর বল হাতে ভারতীয় বোলারদের দাপটে মাত্র ৯৪ রানেই গুটিয়ে যায় আফগানিস্তান। বড় জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে আফগানিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করল শ্রেয়াস আইয়ারের দল। ম্যাচের প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে শুরু করেন অভিষেক শর্মা। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি বাঁহাতি এই ব্যাটারকে। একের পর এক চার-ছক্কায় আফগান বোলারদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে মাত্র ৩০ বলেই তুলে নেন ক্যারিয়ারের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি। অভিষেক এই বিধ্বংসী শতকের সঙ্গে গড়েছেন বিশ্বরেকর্ডও। টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর ক্রিকেটারদের মধ্যে টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম সেঞ্চুরির মালিক এখন ভারতের এই ওপেনার। এর আগে এই রেকর্ডের অধিকারী ছিলেন নিউজিল্যান্ডের ফিন অ্যালেন। চলতি বছর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৩৩ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। একই গতিতে ৩৩ বলে শতক রয়েছে জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজারও। তবে সেই ইনিংসটি তিনি খেলেছিলেন গাম্বিয়ার বিপক্ষে। গাম্বিয়া আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশ নয়। অ্যাসোসিয়েট বা সহযোগী দেশগুলোকেও হিসাবের মধ্যে ধরলে অভিষেকের ৩০ বলে সেঞ্চুরি বিশ্বে তৃতীয় দ্রুততম। এই তালিকার শীর্ষে আছেন এস্তোনিয়ার সাহিল চৌহান। সাইপ্রাসের বিপক্ষে মাত্র ২৭ বলে শতক করেছিলেন তিনি। দ্বিতীয় স্থানে থাকা তুরস্কের মুহাম্মদ ফাহাদ বুলগেরিয়ার বিপক্ষে ২৯ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন। তবে দ্রুততম শতক তুলে নেওয়ার পর ইনিংসটাকে খুব বেশি দূর এগিয়ে নিতে পারেননি অভিষেক। সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর মাত্র চার বল ব্যাট করেছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৩৪ বলে ১০৮ রান করে আউট হন ভারতীয় এই ওপেনার। তার বিস্ফোরক ইনিংসে ছিল ৯টি চার ও ১১টি ছক্কা। প্রসঙ্গত, টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২২১ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে ভারত। ২২২ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে আফগানিস্তান। ভারতীয় বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে তারা। শেষ পর্যন্ত ১৪.১ ওভারে মাত্র ৯৪ রানেই অলআউট হয়ে যায় আফগানরা।