স্বাস্থ্য

শূকরের দুই কিডনি ও আস্ত লিভার মানুষের শরীরে: একসঙ্গে এত অঙ্গ বসানো প্রথমবার

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

২০২২ সালে আমেরিকার মেরিল্যান্ডে প্রথম শূকরের হৃদ্‌পিণ্ড প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল মানুষের শরীরে। আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালে ষাটোর্ধ্ব রিচার্ড স্লেম্যানের শরীরে শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল প্রথম বার। সেই কিডনি নিয়ে রিচার্ড বেঁচেও ছিলেন বেশ কিছু দিন। যদিও শেষ পর্যন্ত শূকরের কিডনি প্রাপকের মৃত্যু হয়েছিল অঙ্গ বিকল হয়ে। তবুও প্রচেষ্টা বন্ধ হয়নি। প্রাণীর শরীর থেকে নেওয়া অঙ্গ মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপনের যে চেষ্টা চলছে গত কয়েক বছর ধরে, তাতে আশার আলো দেখিয়েছ সাম্প্রতি এক গবেষণা। চিনে এক ব্যক্তির শরীরে একই সঙ্গে শূকরের দু’টি কিডনি ও আস্ত লিভার প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। সেই সব অঙ্গ টানা পাঁচ দিনের বেশি কাজও করেছে বলে দাবি।

চিনের গুয়াংশি মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা জিনগত ভাবে পরিবর্তিত শূকরের দু’টি কিডনি ব্রেন ডেড হওয়া এক ব্যক্তির শরীরে প্রতিস্থাপন করেন। সেই ব্যক্তি মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত রোগে ভুগছিলেন, তাঁর দুই কিডনিও বিকল হয়ে গিয়েছিল। গবেষকেরা দাবি করেছেন, শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপনের পরে সেই ব্যক্তির শরীর সাড়াও দেয়। তার পরে শূকরের লিভারও প্রতিস্থাপন করা হয় তাঁর শরীরে। এই প্রথম বার শূকরের শরীর থেকে নেওয়া একাধিক অঙ্গ একসঙ্গে একই মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপন করা হল এবং তা টানা কয়েক দিন কাজও করেছে বলে দাবি।

হার্ট, কিডনি বা লিভার প্রতিস্থাপন যথেষ্টই ঝুঁকিপূর্ণ। অস্ত্রোপচার ঠিকমতো না হলে তাৎক্ষণিক প্রত্যাখ্যান বা ‘হাইপারঅ্যাকিউট রিজ়েকশন’ হয়ে যায়। অথবা প্রতিস্থাপনের পরেই তরল জমা হতে শুরু শরীরের নানা অঙ্গে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তা হয়নি। প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচার এক বারেই সফল হয়। এই গবেষণা আগামী দিনে জ়েনোট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করবে বলেই দাবি চিনা গবেষকদের। সেই সঙ্গে অঙ্গদানের প্রতিবন্ধকতাও ঘুচবে।

 

‘জ়েনোট্রান্সপ্ল্যান্টেশন’ কী? কেন বেছে নেওয়া হচ্ছে শূকরকেই?

মানুষের দেহে কোনও পশুর অঙ্গ বা কোষ প্রতিস্থাপন করার পদ্ধতিকে ‘জ়েনোট্রান্সপ্ল্যান্ট’ বলা হয়। সাধারণত মানুষের শরীর অন্য কোনও প্রাণীর অঙ্গ সহজে গ্রহণ করতে চায় না। মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তা করতে দেয় না। সেই অঙ্গটিকে তৎক্ষণাৎ প্রত্যাখ্যান করে এবং নষ্টও করে দেয়। তাই পশুর অঙ্গ মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপন করতে হলে, তাতে জিনগত বদল ঘটানো প্রয়োজন হয়ে পড়ে। অঙ্গ সঙ্কটের সমস্যা দূর করতে গবেষকেরা শূকরকেই দাতা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। কারণ, শূকরের কিছু অঙ্গপ্রত্যঙ্গের আকার ও জিনের সঙ্গে মানুষের জিনগত মিল রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বানর, শিম্পাঞ্জির মতো প্রাইমেটদের সঙ্গে মানুষের মিল বেশি হলেও তাদের অঙ্গ নেওয়া বা তাদের নিয়ে গবেষণা করায় অনেক আইনত জটিলতা রয়েছে। তা ছাড়া প্রাইমেটদের থেকে ভাইরাস সহজেই মানুষের শরীরে ঢুকে পড়তে পারে, যা শূকরের ক্ষেত্রে হয় না।

তবে শূকরকে দাতা হিসেবে বেছেও সন্তুষ্ট থাকেননি গবেষকেরা। তাঁরা মানুষের শরীর থেকে কিছু জিন বাছাই করে তা শূকরের শরীরে ঢুকিয়েছেন। তার পর কঠোর পর্যবেক্ষণে রেখে সেই শূকরকে গবেষণাগারে বড় করেছেন। তার পর সেই শূকরের অঙ্গ মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপন করে দেখেছেন তা মোটামুটি ভালই কাজ করছে। যদিও অঙ্গগুলির কার্যকারিতা দীর্ঘ সময়ে স্থায়ী হয়নি এখনও। তবে আগামী দিনে জিনে আরও কিছু বদল ঘটিয়ে তা সম্ভব হবে বলেও দাবি করা হয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

স্বাস্থ্য

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
শূকরের দুই কিডনি ও আস্ত লিভার মানুষের শরীরে: একসঙ্গে এত অঙ্গ বসানো প্রথমবার

২০২২ সালে আমেরিকার মেরিল্যান্ডে প্রথম শূকরের হৃদ্‌পিণ্ড প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল মানুষের শরীরে। আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালে ষাটোর্ধ্ব রিচার্ড স্লেম্যানের শরীরে শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল প্রথম বার। সেই কিডনি নিয়ে রিচার্ড বেঁচেও ছিলেন বেশ কিছু দিন। যদিও শেষ পর্যন্ত শূকরের কিডনি প্রাপকের মৃত্যু হয়েছিল অঙ্গ বিকল হয়ে। তবুও প্রচেষ্টা বন্ধ হয়নি। প্রাণীর শরীর থেকে নেওয়া অঙ্গ মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপনের যে চেষ্টা চলছে গত কয়েক বছর ধরে, তাতে আশার আলো দেখিয়েছ সাম্প্রতি এক গবেষণা। চিনে এক ব্যক্তির শরীরে একই সঙ্গে শূকরের দু’টি কিডনি ও আস্ত লিভার প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। সেই সব অঙ্গ টানা পাঁচ দিনের বেশি কাজও করেছে বলে দাবি। চিনের গুয়াংশি মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা জিনগত ভাবে পরিবর্তিত শূকরের দু’টি কিডনি ব্রেন ডেড হওয়া এক ব্যক্তির শরীরে প্রতিস্থাপন করেন। সেই ব্যক্তি মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত রোগে ভুগছিলেন, তাঁর দুই কিডনিও বিকল হয়ে গিয়েছিল। গবেষকেরা দাবি করেছেন, শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপনের পরে সেই ব্যক্তির শরীর সাড়াও দেয়। তার পরে শূকরের লিভারও প্রতিস্থাপন করা হয় তাঁর শরীরে। এই প্রথম বার শূকরের শরীর থেকে নেওয়া একাধিক অঙ্গ একসঙ্গে একই মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপন করা হল এবং তা টানা কয়েক দিন কাজও করেছে বলে দাবি। হার্ট, কিডনি বা লিভার প্রতিস্থাপন যথেষ্টই ঝুঁকিপূর্ণ। অস্ত্রোপচার ঠিকমতো না হলে তাৎক্ষণিক প্রত্যাখ্যান বা ‘হাইপারঅ্যাকিউট রিজ়েকশন’ হয়ে যায়। অথবা প্রতিস্থাপনের পরেই তরল জমা হতে শুরু শরীরের নানা অঙ্গে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তা হয়নি। প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচার এক বারেই সফল হয়। এই গবেষণা আগামী দিনে জ়েনোট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করবে বলেই দাবি চিনা গবেষকদের। সেই সঙ্গে অঙ্গদানের প্রতিবন্ধকতাও ঘুচবে।   ‘জ়েনোট্রান্সপ্ল্যান্টেশন’ কী? কেন বেছে নেওয়া হচ্ছে শূকরকেই? মানুষের দেহে কোনও পশুর অঙ্গ বা কোষ প্রতিস্থাপন করার পদ্ধতিকে ‘জ়েনোট্রান্সপ্ল্যান্ট’ বলা হয়। সাধারণত মানুষের শরীর অন্য কোনও প্রাণীর অঙ্গ সহজে গ্রহণ করতে চায় না। মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তা করতে দেয় না। সেই অঙ্গটিকে তৎক্ষণাৎ প্রত্যাখ্যান করে এবং নষ্টও করে দেয়। তাই পশুর অঙ্গ মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপন করতে হলে, তাতে জিনগত বদল ঘটানো প্রয়োজন হয়ে পড়ে। অঙ্গ সঙ্কটের সমস্যা দূর করতে গবেষকেরা শূকরকেই দাতা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। কারণ, শূকরের কিছু অঙ্গপ্রত্যঙ্গের আকার ও জিনের সঙ্গে মানুষের জিনগত মিল রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বানর, শিম্পাঞ্জির মতো প্রাইমেটদের সঙ্গে মানুষের মিল বেশি হলেও তাদের অঙ্গ নেওয়া বা তাদের নিয়ে গবেষণা করায় অনেক আইনত জটিলতা রয়েছে। তা ছাড়া প্রাইমেটদের থেকে ভাইরাস সহজেই মানুষের শরীরে ঢুকে পড়তে পারে, যা শূকরের ক্ষেত্রে হয় না। তবে শূকরকে দাতা হিসেবে বেছেও সন্তুষ্ট থাকেননি গবেষকেরা। তাঁরা মানুষের শরীর থেকে কিছু জিন বাছাই করে তা শূকরের শরীরে ঢুকিয়েছেন। তার পর কঠোর পর্যবেক্ষণে রেখে সেই শূকরকে গবেষণাগারে বড় করেছেন। তার পর সেই শূকরের অঙ্গ মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপন করে দেখেছেন তা মোটামুটি ভালই কাজ করছে। যদিও অঙ্গগুলির কার্যকারিতা দীর্ঘ সময়ে স্থায়ী হয়নি এখনও। তবে আগামী দিনে জিনে আরও কিছু বদল ঘটিয়ে তা সম্ভব হবে বলেও দাবি করা হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রতিটি নাগরিককে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

ছবি : সংগৃহীত

আম খাওয়ার পর ভুলেও খাবেন না এই ৫ খাবার

ছবি : সংগৃহীত

গোসলের পানিতে এক চিমটি লবণ মেশালে মিলবে যেসব উপকারিতা

ছবি: সংগৃহীত
হেমোরেজিক ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়তে পারে, সতর্ক করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশে চলতি মৌসুমে হেমোরেজিক ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, চিকিৎসকদের মতে এবারের ডেঙ্গু আগের তুলনায় আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, যেখানে আক্রান্তদের মধ্যে রক্তক্ষরণের ঝুঁকিও দেখা দিতে পারে। তাই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখন থেকেই সর্বোচ্চ সতর্কতা ও প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।   শনিবার (৬ জুন) সকালে রাজধানীর রবীন্দ্র সরোবর-এ ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসব্যাপী বিশেষ অভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।   তিনি বলেন, “চিকিৎসকরা আশঙ্কা করছেন, এবারের ডেঙ্গুর ধরন হতে পারে হেমোরেজিক ডেঙ্গু, যা রোগীর জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি শরীরে রক্তক্ষরণও দেখা দিতে পারে। তাই রোগটি নিয়ে কোনো ধরনের অবহেলার সুযোগ নেই। ব্যক্তি, পরিবার এবং সমাজ—সবাইকে এখন থেকেই সচেতন হতে হবে।”   ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা শুরু হবে। কোনো বাসাবাড়ি, প্রতিষ্ঠান, নির্মাণাধীন ভবন বা বাণিজ্যিক স্থাপনায় এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জরিমানা করা হবে।   তিনি আরও বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়। যদি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সচেতনতার ঘাটতি দেখায় কিংবা অভিযানে অসহযোগিতা করে, তাহলে আইন প্রয়োগ ছাড়া সরকারের আর কোনো বিকল্প থাকবে না।”   অনুষ্ঠানে উপস্থিত আব্দুস সালাম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনগণের সচেতনতা সবচেয়ে বড় অস্ত্র। সিটি করপোরেশনের জরিপ অনুযায়ী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৬৩টি ওয়ার্ড ডেঙ্গু ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, যার মধ্যে ২৮টি ওয়ার্ডকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।   তিনি বলেন, “ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জনগণ ও সিটি করপোরেশনকে সমানভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। জনগণের দায়িত্ব ৫০ শতাংশ এবং সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব ৫০ শতাংশ। এই সমন্বয় নিশ্চিত করা গেলেই ডেঙ্গুর বিস্তার কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।”   স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা মৌসুমে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার দ্রুত বৃদ্ধি পায়। তাই বাসাবাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, নির্মাণাধীন ভবন এবং আশপাশের যেকোনো স্থানে পানি জমতে না দেওয়ার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।   ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার যখন বিশেষ অভিযান শুরু করেছে, তখন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন—জনসচেতনতা, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং কঠোর নজরদারির সমন্বিত প্রয়াসই সম্ভাব্য হেমোরেজিক ডেঙ্গুর ঝুঁকি মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হতে পারে।

মোঃ নাহিদ হোসেন জুন ০৬, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

শজনের ডাঁটা নাকি পাতা—পুষ্টিগুণে এগিয়ে কোনটি?

ছবি: সংগৃহীত

ডায়াবেটিস রোগীদের কী আম খাওয়া ঠিক?

ছবি: সংগৃহীত

৬ নবজাতকের মৃত্যুর দায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
ভোরে ঘুম থেকে ওঠার উপকারিতা

ভোরের নরম আলো, পাখির ডাক আর নির্মল বাতাসে দিনের শুরুটাকে করে তোলে অন্যরকম প্রাণবন্ত। আধুনিক জীবনের ব্যস্ততায় অনেকেই দেরি করে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাসে অভ্যস্ত হলেও, ভোরে জেগে ওঠার রয়েছে নানা শারীরিক ও মানসিক উপকারিতা। যারা নিয়মিত সকালে ওঠেন তারা সাধারণত বেশি কর্মক্ষম, মনোযোগী এবং স্বাস্থ্যসচেতন হন। সুস্থ ও সুশৃঙ্খল জীবনযাপনের জন্য তাই ভোরে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস হতে পারে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা।   মানসিক সতেজতা বাড়ে ভোরে ঘুম থেকে উঠলে মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে দিনের কাজের জন্য প্রস্তুত হওয়ার সুযোগ পায়। সকালে তুলনামূলক শান্ত পরিবেশ মনোযোগ ও চিন্তাশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে দিনের কাজ আরও গুছিয়ে করা সহজ হয়।   উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায় অনেক সফল ব্যক্তি দিনের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সকালেই সম্পন্ন করার চেষ্টা করেন। কারণ এই সময় মনোযোগ বিচ্যুত হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। ভোরে ওঠার ফলে অতিরিক্ত কিছু সময় পাওয়া যায়, যা পড়াশোনা, পরিকল্পনা বা ব্যক্তিগত উন্নয়নের কাজে ব্যয় করা যায়।   শরীরচর্চার জন্য সময় পাওয়া যায় নিয়মিত ব্যায়াম সুস্থ জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভোরে ঘুম থেকে উঠলে হাঁটা, দৌড়ানো, যোগব্যায়াম বা হালকা শরীরচর্চার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়। এতে শরীর সক্রিয় থাকে এবং বিভিন্ন রোগের ঝুঁকিও কমে।   ঘুমের মান উন্নত হয় যারা নিয়মিত ভোরে ওঠেন, তাদের বেশিরভাগই রাতেও তুলনামূলক দ্রুত ঘুমিয়ে পড়েন। এতে শরীরের জৈবিক ঘড়ি বা বডি ক্লক সঠিকভাবে কাজ করে এবং ঘুমের মান ভালো হয়।   সূর্যের আলো থেকে উপকার পাওয়া যায় সকালের সূর্যের আলো শরীরে ভিটামিন ডি তৈরিতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি শরীরের সার্কাডিয়ান রিদম ঠিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, যা ঘুম, হরমোন নিঃসরণ এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে জড়িত।   মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে ভোরবেলার শান্ত পরিবেশ ধ্যান, প্রার্থনা বা নিজের সঙ্গে কিছু সময় কাটানোর সুযোগ দেয়। এতে মানসিক চাপ কমে এবং মন ভালো থাকে। দিন শুরু হয় ইতিবাচক অনুভূতি নিয়ে।   স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে ওঠে দেরিতে ঘুম থেকে উঠলে অনেকেই সকালের নাশতা এড়িয়ে যান। কিন্তু ভোরে ওঠার ফলে সময়মতো পুষ্টিকর নাশতা খাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়, যা শরীরকে প্রয়োজনীয় শক্তি যোগায় এবং বিপাকক্রিয়া সচল রাখতে সহায়তা করে।   সময় ব্যবস্থাপনা সহজ হয় সকালে কিছু অতিরিক্ত সময় হাতে থাকলে দিনের কাজের তালিকা তৈরি করা এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করা সহজ হয়। এতে তাড়াহুড়া কমে এবং দৈনন্দিন জীবনে শৃঙ্খলা আসে।   ভোরে ওঠার অভ্যাস গড়বেন যেভাবে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যান। রাতে মোবাইল বা অন্যান্য স্ক্রিনের ব্যবহার কমান। ঘুমানোর আগে ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলুন। ধীরে ধীরে অ্যালার্মের সময় ১৫–২০ মিনিট করে এগিয়ে আনুন। সকালে উঠে পর্দা খুলে সূর্যের আলো গ্রহণ করুন।   ভোরে ঘুম থেকে ওঠা শুধু একটি অভ্যাস নয়, এটি সুস্থ ও সুশৃঙ্খল জীবনযাপনের একটি কার্যকর উপায়। নিয়মিত ভোরে ওঠার মাধ্যমে শারীরিক সুস্থতা, মানসিক প্রশান্তি এবং কর্মক্ষমতা সবকিছুতেই ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। তাই স্বাস্থ্যকর জীবনের জন্য ধীরে ধীরে ভোরে ওঠার অভ্যাস গড়ে তোলার চেষ্টা করা যেতে পারে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মাশরুম খেলে আপনার মৃত্যুও হতে পারে

ছবি: সংগৃহীত

ডেঙ্গু মোকাবিলায় দেশব্যাপী প্রশিক্ষণ, বিনামূল্যে বেড ও বিশেষ অভিযান শুরু

ছবি: সংগৃহীত

হাম ও হামসদৃশ উপসর্গে শিশুমৃত্যু বেড়ে ৫৮৮

0 Comments