নির্বাচনে জয়ী হলে যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের নিয়ে ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিএনপি। তবে ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠন করলেও সেই প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন খুব সীমিত। সরকারে জায়গা পেয়েছেন মাত্র তিনটি শরিক দলের তিনজন নেতা। এতে শরিকদের একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাঁরা বলছেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে এটা তো বিএনপি সরকার।
তখন ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ সরকার। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে। ২০২২ সালে ২৮ মার্চ, লন্ডনে সেখানে স্বাধীনতা দিবসের এক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি প্রথম ঘোষণা দেন, সরকারবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত দলগুলোকে নিয়ে একসঙ্গে আন্দোলন, একসঙ্গে নির্বাচন করবেন। নির্বাচনে জয়ী অথবা পরাজিত সবাইকে নিয়ে জাতীয় সরকার গঠন করবে বিএনপি। এরপর ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আগপর্যন্ত বিএনপির নেতারা জাতীয় সরকারের কথা প্রায়ই বলতেন।
নির্বাচনের ঠিক আগে, ৪ জানুয়ারি, সিলেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বিষয়টির উল্লেখ করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘বিএনপি জনমতের ওপর বিশ্বাসী। নির্বাচনে জয়লাভ করলে আমরা একা সরকার গঠন করব না; বরং যারা দীর্ঘ সময় আমাদের সঙ্গে রাজপথে যুগপৎ আন্দোলন করেছে, তাদের নিয়েই একটি জাতীয় সরকার গঠন করা হবে। তবে এটি কোনো সর্বদলীয় সরকার হবে না।’
জাতীয় সংসদের ৩০০টি আসনের মধ্যে বিএনপি যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলের নেতাদের ১৫টি আসন ছেড়ে দিয়েছিল। এর মধ্যে মিত্র পাঁচটি দলকে ছাড়া হয়েছিল আটটি আসন, যারা তাদের দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে। মিত্র পাঁচটি দলের মধ্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশকে (খেজুরগাছ) চারটি এবং গণসংহতি আন্দোলন (মাথাল), বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি (কোদাল), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি (গরুর গাড়ি) ও গণ অধিকার পরিষদকে (ট্রাক) একটি করে আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে জয়ী হন মাত্র তিনজন। তাঁরা হলেন গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, বিজেপির আন্দালিভ রহমান পার্থ ও গণ অধিকার পরিষদের মো. নুরুল হক নূর।
এ ছাড়া আরও পাঁচটি শরিক দলের প্রধানসহ সাতজন নেতা নিজস্ব দল ভেঙে দিয়ে কিংবা বিএনপিতে যোগ দিয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হন। তাঁরা নিয়েছিলেন ধানের শীষ প্রতীক। তাঁরা হলেন বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ, গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের (একাংশ) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব মুফতি রশীদ বিন ওয়াক্কাস। এর মধ্যে কেবল শাহাদাত হোসেন সেলিম ও ববি হাজ্জাজ জয়ী হন।
নির্বাচনী ফলাফল দেখা যায়, শরিকদের ছেড়ে দেওয়া আসনে বিএনপি কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি। শরিক দলগুলোকে ছেড়ে দেওয়া ১৫টি আসনের মধ্যে মাত্র পাঁচটি আসনে জয় আসে। এই পাঁচ বিজয়ীর মধ্যে সরকারে ঠাঁই পান তিনজন। এর মধ্যে জোনায়েদ সাকি পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী, নুরুল হক প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ও ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। বাদ থাকেন শাহাদাত হোসেন সেলিম ও আন্দালিভ রহমান পার্থ।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বাদ পড়া দুজনেই বিএনপির সঙ্গে বহু বছর ধরে আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন। এর মধ্যে শাহাদাত হোসেন সেলিম বিগত যুগপৎ আন্দোলন ছাড়াও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংস্কারের আলোচনায় বিএনপির পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকারের যাত্রা শুরু হয় ১৭ ফেব্রুয়ারি। ৫ জুন সরকারের ১০৯ দিন অতিবাহিত হয়। নির্বাচনের আগের প্রতিশ্রুত ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের বিষয়ে কথা হয় যুগপৎ আন্দোলনের একাধিক শরিক নেতার সঙ্গে।
‘কোকাকোলা ভোটের আগে ফস করে’
যুগপৎ আন্দোলনে বিএনপির অন্যতম শরিক জোটের একটি হচ্ছে গণতন্ত্র মঞ্চ। সে জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না, তাঁর দল নাগরিক ঐক্য। বিএনপি তাঁকে প্রার্থী করেনি। এ নিয়ে নির্বাচনের আগমুহূর্তে কিছুটা তিক্ততাও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু পরে কোনো পক্ষই বিষয়টি নিয়ে আগ বাড়ায়নি। এখনো বিএনপির সঙ্গে মাহমুদুর রহমান মান্নার সম্পর্ক অনেকটা সে অবস্থাতেই রয়ে গেছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
আন্দোলনের সময় বিএনপির ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে মাহমুদুর রহমান মান্না শ্লেষ প্রকাশ করেই প্রথম আলোকে বলেন, ‘কথায় আছে না, কোকাকোলা ভোটের আগে ফস করে, ভোটের পরে করে না।’
ভোটের পরে বিএনপি যে জাতীয় সরকারের ধারণা থেকে সরে গেছে, সেটির উল্লেখ করে মান্না বলেন, ‘বিএনপি যা বলেছিল, সেটা তারা করেনি। বলতে পারেন, দুজনকে (মন্ত্রী) তো করা হয়েছে। কিন্তু এটা যে জোটের সরকার, সেটা তো বিএনপিও বলছে না। আমি বলব, যেটা হয়েছে সেটা বিএনপি সরকার। আর অন্য দল থেকে যে এক-দুজনকে প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে, এটা আমাদের দেশে একটা সিস্টেম হয়ে গেছে।’
‘রেইনবো সরকার না হলে রেইনবো নেশন কীভাবে হবে’
নির্বাচনে ঢাকা-১২ আসনে বিএনপির সমর্থন পেয়েছিলেন গণতন্ত্র মঞ্চের আরেক শীর্ষ নেতা ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি দলের ‘কোদাল’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামায়াতের প্রার্থীর কাছে বড় ব্যবধানে হেরে এখন কিছুটা নিষ্প্রভ।
বিএনপির জাতীয় সরকারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে সাইফুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিএনপির নেতারাই তো জাতীয় সরকারের কথা বলে আসছিলেন ২০২২ সাল থেকে। শরিক দলের কেউ কিন্তু বলেনি। বিএনপিই তার নির্বাচনী অঙ্গীকারে ‘রেইনবো নেশন’ গঠনের কথা বলেছে। রেইনবো সরকার না হলে রেইনবো নেশন কীভাবে হবে? এখন তো জাতীয় সরকারের কোনো আলোচনাই নেই। কেউ কেউ মনে করতে পারে, সরকারে দুই শরিক দল তো আছে। কিন্তু এর কি কোনো বহিঃপ্রকাশ আছে?’
‘আস্থা রাখছি, প্রধানমন্ত্রী আমাদের কাজে লাগাবেন’
গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নিজের দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করে জয়ী হন। কিন্তু তাঁর দলের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রাশেদ খান বিএনপিতে যোগ দিয়ে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ঝিনাইদহ-৪ আসনে নির্বাচন করেন। তিনি ৫৬ হাজার ২২৪ ভোট পেয়ে তাঁর আসনে তৃতীয় স্থানে ছিলেন। সেখানে জামায়াতের আবু তালিব ১ লাখ ৫৯ হাজার ৯৯ ভোট পেয়ে ১ লাখ ২ হাজার ৮৭৫ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। বিএনপির বিদ্রোহী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ ৭৭ হাজার ১০৪ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন।
রাশেদ খান প্রথম আলোকে জানান, ৩ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছে এবং দীর্ঘ সময় বিভিন্ন বিষয়ে তাঁদের কথা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি আস্থা রাখছি, আমরা যারা বিএনপিতে যোগ দিয়েছি, প্রধানমন্ত্রী তাদের যথাযথভাবে কাজে লাগাবেন।’
জাতীয় সরকারের আশা এখনো ছাড়ছেন না রাশেদ খান। তিনি বলেন, ‘জাতীয় সরকার গঠন করাসহ রাষ্ট্রকাঠামোর ৩১ দফা সংস্কারের যে প্রতিশ্রুতি বিএনপির ছিল, সেটি প্রধানমন্ত্রী ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করবেন বলে আমার মনে হয়েছে।’
‘বিএনপি ভুগবে’
গত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ধর্মভিত্তিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে চারটি আসন ছাড় দিয়েছিল। শরিক দলগুলোর মধ্যে তাদেরই সবচেয়ে বেশি আসন ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে দলটির সভাপতি-মহাসচিবসহ কোনো প্রার্থীই জয়ী হননি। এসব আসনে বিএনপি প্রার্থী দেয়নি। নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, এই চার আসনের একটি গেছে খেলাফত মজলিসের দখলে, একটি বিএনপির বিদ্রোহীর দখলে, একটি জামায়াতে ইসলামীর দখলে এবং একটি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দখলে।
জমিয়তের সভাপতি উবায়দুল্লাহ ফারুক সিলেট-৫ আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আবুল হাসানের কাছে হেরে যান। উবায়দুল্লাহ ফারুক ৬৯ হাজার ৭৭৪ ভোট পান। আর বিজয়ী আবুল হাসান পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৩৫৫ ভোট। সেখানে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ছিল।
ভোটের পর এ নিয়ে জমিয়তের নেতাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। ৪ জুন নির্বাচনী এলাকা সিলেটের কানাইঘাটে দলীয় এক অনুষ্ঠানে জমিয়তের সভাপতি উবায়দুল্লাহ ফারুকের বক্তব্যে এর প্রকাশ ঘটে। দীর্ঘ বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপি আমার সঙ্গে যে আচরণ করছে, এর ভোগান্তি বিএনপি ভুগবে।’
উবায়দুল্লাহ ফারুক দাবি করেন, জমিয়তের কারণে জামায়াতে ইসলামীর ‘কোমর ভেঙে পড়েছে’ বা ক্ষমতায় যাওয়া ঠেকানো গেছে। এই ভূমিকার মধ্য দিয়ে তিনি দেশ বাঁচিয়েছেন, কওমি মাদ্রাসা বাঁচিয়েছেন এবং আজাদির সঙ্গে বিচরণ করার পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন।
উবায়দুল্লাহ ফারুকের ওই বক্তব্যের কিছু অংশ ইতিমধ্যে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে এর পক্ষে–বিপক্ষে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন।
সব মিলিয়ে নির্বাচনের আগে দেওয়া ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের প্রতিশ্রুতি ও নির্বাচনের পর বাস্তব চিত্রের মধ্যে একটি স্পষ্ট ফারাক দেখা যাচ্ছে। এতে শরিক দলগুলোর অংশগ্রহণ, জোট রাজনীতির ভবিষ্যৎ এবং বিএনপির রাজনৈতিক কৌশল—সবকিছু নিয়েই নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
শরিক দলের নেতাদের বড় একটি অংশ মনে করছে, নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে বিজয় বিএনপিকে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের জায়গায় ঠেলে দিচ্ছে। যে কারণে দুঃসময়ের রাজনৈতিক মিত্রদের সঙ্গে বিএনপির কোনো যোগাযোগ-সম্পর্ক নেই। এটা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
শরিকরা হতাশ হলেও জাতীয় সরকার নিয়ে প্রতিশ্রুতিও পূরণের আশা দিচ্ছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।
চিকিৎসার জন্য চীনে অবস্থানরত রুহুল কবির রিজভী আজ সোমবার মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘নিশ্চয়ই বিএনপির নির্বাচন প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জাতীয় সরকারের বিষয়ে যে প্রতিশ্রুতি ছিল, তাও পূরণ করবে। এর আলামত দেখা যাচ্ছে, কারণ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছেন। এটাও নিশ্চয়ই করবেন।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী ও সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু সংসদে দৈনন্দিন যাতায়াত ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে একটি ফেসবুক পোস্ট দিয়েছেন। সেখানে তিনি সংসদ সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা, যাতায়াত ব্যয় এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন। মঙ্গলবার (৯ জুন) বেলা ১১টায় সেই পোস্টে তিনি লিখেছেন, রাত ৭.০৪ বাজে, অধিবেশন শেষে বাসায় যাচ্ছি। বাসায় যেতে যেতে প্রায় প্রতিদিনই আমার জজ বান্ধবীর কথা মনে পড়ে। বলছিল, জজ হইছি এখন আর লোকাল বাসে পরিবার নিয়ে বাড়ি যাইতে পারি না। তার ওপর সবার ধারণা— বিরাট বড় জজ কত না জানি টাকা, যা আয় করি যা জমাই বছরে দুবার বাড়ি গেলেই অনেক খানি শেষ হয়ে যায়। যাতায়াত খরচ নিয়ে ডা. মিতু বলেন, গত ৫ দিনে আমার উবার /পাঠাও খরচ অলমোস্ট ৮ হাজার টাকা। বলা ভালো, আমি গরমের কষ্ট থেকে বাঁচতে প্রিমিয়াম সার্ভিস নেই। কারণ অধিকাংশ কারের এসি ভালো না। প্রতিদিন এক্সট্রা প্রোগ্রাম থাকে ৩/৪টা। অধিকাংশ ফিরিয়ে দিই। এ ছাড়া আত্মীয়ের বাসা, কারও অসুস্থতা সব মিলিয়ে। পোস্টে তিনি বলেন, সংসদ ভবনের গেটে ঢোকার সময় উবার নিয়ে ঢোকা গেলেও বের হওয়ার সময় উবার ঢুকতে দেয় না। প্রায় এক কিমি রাস্তা (নেটে দেখলাম) হেঁটে বের হতে হয় যদি ঘুরে বের হন। গতকাল আমি এক হাতে ৩টা বই অন্য হাতে ব্যাগ, মোবাইল, কাগজপত্র নিয়ে বের হতে গিয়ে মনে হচ্ছিল রাস্তার মধ্যে বসে পড়ি এত কষ্ট লাগছিল। তিনি আরও জানান, সংসদের গেটে দাঁড়িয়ে সিএনজি পাই না। তার চেয়েও মজার হলো— লোকজন আমাকে সিএনজি খুঁজতে দেখে এমন ভাবে দেখছে, যেন নতুন কিছু দেখছে। কানে ফিসফাস করছিল। পরে ধুম করে প্রিয় ব্যাটারির গাড়িতে উঠে পড়লাম। সংসদের অনেক নতুন রীতির ভিড়ে বোধহয় এটাও নতুন সংসদ সদস্যরা অধিবেশন শেষে ব্যাটারিরচালিত রিকশা করে বাড়ি ফিরছে। ফেসবুক পোস্টে সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার বিষয়ও তুলে ধরেন ডা. মিতু। তিনি বলেন, লিখতে লিখতেই মনে হলো ট্যাক্স ফ্রি গাড়িসহ সংসদ সদস্যদের অনেক সুযোগ-সুবিধা থাকত। যেগুলো হয়তো আমাদের মতো এমপিদের জন্যই ছিল। কিন্তু সমস্যা হলো— গত কয়েক যুগেও আমাদের মতো এমপি সংসদে ঢুকেনি। যারা ঢুকেছে তাদের আগে থেকেই ৪/৫টা গাড়ি থাকত। এখনো তাই। এসব সুবিধা বাতিল হওয়ায় ভালো হয়েছে অবশ্যই দুর্নীতিবাজ ধনী এমপিরা আরও ধনী হতো। তবে আমার মতো যারা আছেন, যেমন— মানসুরা, মারদিয়া আপা, হাসনাত, আতিক ভাই এদের এখন সব খরচ সামলে জীবন যায় যায় অবস্থা। পুরো সংসদে ২-৩ শতাংশ মানুষ হবে যাদের আমাদের মতো দশা। ঘেঁটেঘুটে দেখলাম সংসদ সদস্যদের বিশেষ সুবিধার কোনো লোন নেই। পোস্টের একপর্যায়ে ডা. মিতু জানান, যাই হোক এর মধ্যে খুশির খবর হলো— গতরাতেও বসে বসে রেগুলার অধিবেশনের জন্য কমদামি শাড়ি খুঁজেছি অনলাইনে। কারণ সারাদিন ধরে পড়ে থেকে সব জামদানি নষ্ট হচ্ছে। স্ট্যাটাস লিখতে লিখতে বাসায় কলিংবেল। মাশাআল্লাহ দেখি বড় আপা মানে আমার হাজবেন্ডের বোন ৪টা শাড়ি পাঠিয়েছেন। যদিও আমার দামি, কমদামি সব (শাড়ি) বড় আপার দেওয়া। বড় আপা সবসময়ই কীভাবে যেন আমার মনের কথা বুঝে যায়। যখন যা লাগে না চাইতেই হাজির করে। আমার সারাজীবনের স্বপ্ন ছিল একটা বড় বোনের, আল্লাহ আমাকে আমার হাজবেন্ডের বোন দিয়ে সেটা পূরণ করছে, আলহামদুলিল্লাহ। পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, তবে এই টেসলায় যাতায়াতেরও মজা আছে। দূর থেকে মানুষ ডাক দেয় এই মিতু আপু, এই মিতু আপু। আপনি মিতু আপু না? তখন সব কষ্ট মুছে যায়।
নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ১০ নেতা জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশে যোগদান করেছেন। রোববার (৭ জুন) সন্ধ্যায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ কেন্দুয়া উপজেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যোগ দেন। এ সময় নবাগত নেতাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। এরআগে বিকেলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে তারা পদত্যাগ করেন। সদ্য যোগদানকারীদের মধ্যে রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কেন্দুয়া উপজেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ কেন্দুয়া উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা রুহুল আমিন, ইসলামী আন্দোলনের আইনবিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মুফতি জামালুদ্দীন মাহমুদ, মহিলা ও পরিবারবিষয়ক সম্পাদক, পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কারী আব্দুল কাদির। এছাড়াও হাফেজ এমদাদুল হক, হাফেজ আসাদুজ্জামান মারুফ, হাফেজ ফয়জুর রহমান, হাফেজ উসমান গনি, মোহাম্মদ সুধীন মিয়া, হাফেজ শাহ আলম এবং মাওলানা আনসারুল হক জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশে যোগদান করেন। এসময় জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ কেন্দুয়া উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ও অপসারিত ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা হারুনুর রশীদ তালুকদার ফারুকী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মোহাম্মদ আলী হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি হাবিবুল্লাহ সিদ্দিকী, কৃষিবিষয়ক সম্পাদক মাওলানা আলমগীর হোসেন ও যুব জমিয়ত কেন্দুয়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আমিনুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। যোগদানকারী মাওলানা রুহুল আমিন বলেন, দলের দায়িত্বশীলদের আচার-আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে দল ত্যাগ করেছি। ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক সমাজ গঠনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের পতাকা তলে থেকে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ কেন্দুয়া উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা নজরুল ইসলাম জানান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম একটি প্রাচীন সংগঠন। তারা স্বেচ্ছায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে পদত্যাগ করে আমাদের দলে যোগদান করায় তাদেরকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই। আমরা তাদের নিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রমসহ ইসলামের খেদমতে কাজ করে যাব।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে সাংবাদিক পরিচয়ে যারা গণহত্যা, ভোট চুরি, গুম, খুন, ব্যাংক ডাকাতির বৈধতা এবং সম্মতি উৎপাদন করেছেন, সেসব সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা জাতীয় সংসদে জানতে চান এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। রোববার (৭ জুন) সংসদে এক সম্পূরক প্রশ্নে তিনি বিষয়টি উত্থাপন করেন। জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী বলেন, সাংবাদিক, রাজনীতিক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী—কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন। কেউ আইনের বিপক্ষে কাজ করলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সম্পূরক প্রশ্ন করতে গিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা অবশ্যই প্রয়োজন। দীর্ঘ ১৭ বছরের বেশি সময় সাংবাদিকতা করা খুবই কঠিন ছিল। সেই সময়েও অনেক পেশাদার সাংবাদিক পেশাদারি দায়িত্ব পালন করে গেছেন। হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সময় সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে যারা গণহত্যা, যারা ভোট চুরি, গুম, খুন, ব্যাংক ডাকাতি—সেগুলোর বৈধতা এবং সম্মতি উৎপাদন করেছে মিডিয়াগুলোতে এবং যারা আজকে সরকার দলে আছে বিএনপি, বিএনপির সর্বোচ্চ নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী উনাকেও বিভিন্ন ষড়যন্ত্রকারী, দেশদ্রোহী হিসেবে...আমরা দেখেছি বসুন্ধরার ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া বিভিন্ন সময় নিউজ করেছে এবং আজকে যারা বিএনপি এবং জামায়াত আছে আমাদের এই সংসদে, তাদেরকেও বিভিন্ন সময় হত্যা করার সম্মতি উৎপাদন করেছে কিছু মিডিয়া এবং কিছু নামধারী সাংবাদিক।’ এই সাংবাদিকদের এখন আবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে পুনর্বাসন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘এখন টিভি’ থেকে জুলাইয়ের পক্ষের যারা সাংবাদিক ছিলেন তাদের বের করে দেওয়া হয়েছে। সময় টিভিকে দখল করা হয়েছে। ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া অর্থাৎ বসুন্ধরা গ্রুপের যে মিডিয়াগুলো রয়েছে তারা প্রতিনিয়ত আওয়ামী লীগের পক্ষে সম্মতি উৎপাদন করে যাচ্ছে। গতকাল নোয়াখালীতে মাইকে ঘোষণা দিয়ে ছাত্রলীগ ছাত্রদলকে পিটিয়েছে, সেটাকে উদ্যাপন করতে দেখা গেছে বসুন্ধরার ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়াকে এবং কিছু ‘টক-শোজীবী’কে। হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘মাননীয় মন্ত্রীর কাছে প্রশ্নটি হচ্ছে, যারা এই গুম–খুনের বৈধতা উৎপাদন করেছে, ভোট চুরির বৈধতা উৎপাদন করেছে; গণতন্ত্রের পক্ষে যারা ছিল, তাদের হত্যাযোগ্য করে তোলা হয়েছে—এই সব নামধারী সাংবাদিক এবং এই মিডিয়াদের বিপক্ষে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে? আইনি ব্যবস্থা আদৌ নেওয়া হয়েছে কি না? কেন তাদের আবার পুনর্বাসন করা হচ্ছে? সেটির আইনগত ব্যাখ্যাটি কী?’ জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী বলেন, ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রয়েছে। তবে যারা গণতন্ত্র সমুন্নত রাখার বিপক্ষে কাজ করবে, গণতন্ত্র ধূলিসাৎ করার কাজ করবে, কোনো সন্ত্রাসের কাজ করবে; সে যে–ই হোক, সে আইনের ঊর্ধ্বে নয়। তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ সরকারি দলের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিন ফারুক সম্পূরক প্রশ্নে বলেন, ‘এখন উপজেলায় ইউনিয়ন পর্যন্ত সাংবাদিকের কার্ড পাওয়া যায়। সে রিপোর্টারও না, ম্যাট্রিক পাসও না। ইউটিউবের মাধ্যমে যা ইচ্ছা তা প্রচার করছে।’ তিনি জানতে চান, ‘এ ধরনের ব্যক্তিদের কে সাংবাদিকের কার্ড দেয়, এসব বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় কি না।’ জবাবে প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী বলেন, সরকার মিসইনফরমেশন (ভুল তথ্য) এবং ডিসইনফরমেশন (অপতথ্য) নিয়ে কাজ করছে। যারা সাংবাদিক হিসেবে নিবন্ধিত নন, তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন রকম মিসইনফরমেশন, ডিসইনফরমেশন উপস্থাপন করেন। এ বিষয়ে একটি টিম করা হয়েছে। মনিটরিং করে তাদের আইনের আওতায় আনা যায় কি না, সে বিষয়ে কাজ চলছে। কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন অনলাইন পোর্টাল ও ডিজিটাল গণমাধ্যমের অনুমোদনের জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। এই নীতিমালার আলোকেই ভবিষ্যতে সব অনলাইন মিডিয়া ও অনলাইন পোর্টালকে অনুমতি দেওয়া হবে। সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার মনির লিখিত প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানান, ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকা ৫৮৫টি, সাপ্তাহিক পত্রিকা ৩৬৩টি এবং মাসিক পত্রিকা ২৯৬টি। এর মধ্যে মিডিয়া তালিকাভুক্ত দৈনিক ২৮৮টি, সাপ্তাহিক ৫৬টি ও মাসিক ২৩টি পত্রিকা প্রকাশিত হয়।