অন্যান্য

বিএনপির প্রতিশ্রুত ‘জাতীয় সরকার’ কোথায়? প্রশ্ন শরিকদের

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচনে জয়ী হলে যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের নিয়ে ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিএনপি। তবে ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠন করলেও সেই প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন খুব সীমিত। সরকারে জায়গা পেয়েছেন মাত্র তিনটি শরিক দলের তিনজন নেতা। এতে শরিকদের একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাঁরা বলছেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে এটা তো বিএনপি সরকার।

 

তখন ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ সরকার। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে। ২০২২ সালে ২৮ মার্চ, লন্ডনে সেখানে স্বাধীনতা দিবসের এক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি প্রথম ঘোষণা দেন, সরকারবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত দলগুলোকে নিয়ে একসঙ্গে আন্দোলন, একসঙ্গে নির্বাচন করবেন। নির্বাচনে জয়ী অথবা পরাজিত সবাইকে নিয়ে জাতীয় সরকার গঠন করবে বিএনপি। এরপর ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আগপর্যন্ত বিএনপির নেতারা জাতীয় সরকারের কথা প্রায়ই বলতেন।

নির্বাচনের ঠিক আগে, ৪ জানুয়ারি, সিলেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বিষয়টির উল্লেখ করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘বিএনপি জনমতের ওপর বিশ্বাসী। নির্বাচনে জয়লাভ করলে আমরা একা সরকার গঠন করব না; বরং যারা দীর্ঘ সময় আমাদের সঙ্গে রাজপথে যুগপৎ আন্দোলন করেছে, তাদের নিয়েই একটি জাতীয় সরকার গঠন করা হবে। তবে এটি কোনো সর্বদলীয় সরকার হবে না।’

জাতীয় সংসদের ৩০০টি আসনের মধ্যে বিএনপি যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলের নেতাদের ১৫টি আসন ছেড়ে দিয়েছিল। এর মধ্যে মিত্র পাঁচটি দলকে ছাড়া হয়েছিল আটটি আসন, যারা তাদের দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে। মিত্র পাঁচটি দলের মধ্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশকে (খেজুরগাছ) চারটি এবং গণসংহতি আন্দোলন (মাথাল), বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি (কোদাল), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি (গরুর গাড়ি) ও গণ অধিকার পরিষদকে (ট্রাক) একটি করে আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে জয়ী হন মাত্র তিনজন। তাঁরা হলেন গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, বিজেপির আন্দালিভ রহমান পার্থ ও গণ অধিকার পরিষদের মো. নুরুল হক নূর।

এ ছাড়া আরও পাঁচটি শরিক দলের প্রধানসহ সাতজন নেতা নিজস্ব দল ভেঙে দিয়ে কিংবা বিএনপিতে যোগ দিয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হন। তাঁরা নিয়েছিলেন ধানের শীষ প্রতীক। তাঁরা হলেন বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ, গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের (একাংশ) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব মুফতি রশীদ বিন ওয়াক্কাস। এর মধ্যে কেবল শাহাদাত হোসেন সেলিম ও ববি হাজ্জাজ জয়ী হন।

নির্বাচনী ফলাফল দেখা যায়, শরিকদের ছেড়ে দেওয়া আসনে বিএনপি কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি। শরিক দলগুলোকে ছেড়ে দেওয়া ১৫টি আসনের মধ্যে মাত্র পাঁচটি আসনে জয় আসে। এই পাঁচ বিজয়ীর মধ্যে সরকারে ঠাঁই পান তিনজন। এর মধ্যে জোনায়েদ সাকি পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী, নুরুল হক প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ও ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। বাদ থাকেন শাহাদাত হোসেন সেলিম ও আন্দালিভ রহমান পার্থ।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বাদ পড়া দুজনেই বিএনপির সঙ্গে বহু বছর ধরে আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন। এর মধ্যে শাহাদাত হোসেন সেলিম বিগত যুগপৎ আন্দোলন ছাড়াও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংস্কারের আলোচনায় বিএনপির পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকারের যাত্রা শুরু হয় ১৭ ফেব্রুয়ারি। ৫ জুন সরকারের ১০৯ দিন অতিবাহিত হয়। নির্বাচনের আগের প্রতিশ্রুত ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের বিষয়ে কথা হয় যুগপৎ আন্দোলনের একাধিক শরিক নেতার সঙ্গে।

 

‘কোকাকোলা ভোটের আগে ফস করে’

যুগপৎ আন্দোলনে বিএনপির অন্যতম শরিক জোটের একটি হচ্ছে গণতন্ত্র মঞ্চ। সে জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না, তাঁর দল নাগরিক ঐক্য। বিএনপি তাঁকে প্রার্থী করেনি। এ নিয়ে নির্বাচনের আগমুহূর্তে কিছুটা তিক্ততাও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু পরে কোনো পক্ষই বিষয়টি নিয়ে আগ বাড়ায়নি। এখনো বিএনপির সঙ্গে মাহমুদুর রহমান মান্নার সম্পর্ক অনেকটা সে অবস্থাতেই রয়ে গেছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

আন্দোলনের সময় বিএনপির ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে মাহমুদুর রহমান মান্না শ্লেষ প্রকাশ করেই প্রথম আলোকে বলেন, ‘কথায় আছে না, কোকাকোলা ভোটের আগে ফস করে, ভোটের পরে করে না।’

ভোটের পরে বিএনপি যে জাতীয় সরকারের ধারণা থেকে সরে গেছে, সেটির উল্লেখ করে মান্না বলেন, ‘বিএনপি যা বলেছিল, সেটা তারা করেনি। বলতে পারেন, দুজনকে (মন্ত্রী) তো করা হয়েছে। কিন্তু এটা যে জোটের সরকার, সেটা তো বিএনপিও বলছে না। আমি বলব, যেটা হয়েছে সেটা বিএনপি সরকার। আর অন্য দল থেকে যে এক-দুজনকে প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে, এটা আমাদের দেশে একটা সিস্টেম হয়ে গেছে।’

 

‘রেইনবো সরকার না হলে রেইনবো নেশন কীভাবে হবে’

নির্বাচনে ঢাকা-১২ আসনে বিএনপির সমর্থন পেয়েছিলেন গণতন্ত্র মঞ্চের আরেক শীর্ষ নেতা ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি দলের ‘কোদাল’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামায়াতের প্রার্থীর কাছে বড় ব্যবধানে হেরে এখন কিছুটা নিষ্প্রভ।

বিএনপির জাতীয় সরকারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে সাইফুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিএনপির নেতারাই তো জাতীয় সরকারের কথা বলে আসছিলেন ২০২২ সাল থেকে। শরিক দলের কেউ কিন্তু বলেনি। বিএনপিই তার নির্বাচনী অঙ্গীকারে ‘রেইনবো নেশন’ গঠনের কথা বলেছে। রেইনবো সরকার না হলে রেইনবো নেশন কীভাবে হবে? এখন তো জাতীয় সরকারের কোনো আলোচনাই নেই। কেউ কেউ মনে করতে পারে, সরকারে দুই শরিক দল তো আছে। কিন্তু এর কি কোনো বহিঃপ্রকাশ আছে?’

 

‘আস্থা রাখছি, প্রধানমন্ত্রী আমাদের কাজে লাগাবেন’

গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নিজের দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করে জয়ী হন। কিন্তু তাঁর দলের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রাশেদ খান বিএনপিতে যোগ দিয়ে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ঝিনাইদহ-৪ আসনে নির্বাচন করেন। তিনি ৫৬ হাজার ২২৪ ভোট পেয়ে তাঁর আসনে তৃতীয় স্থানে ছিলেন। সেখানে জামায়াতের আবু তালিব ১ লাখ ৫৯ হাজার ৯৯ ভোট পেয়ে ১ লাখ ২ হাজার ৮৭৫ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। বিএনপির বিদ্রোহী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ ৭৭ হাজার ১০৪ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন।

রাশেদ খান প্রথম আলোকে জানান, ৩ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছে এবং দীর্ঘ সময় বিভিন্ন বিষয়ে তাঁদের কথা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি আস্থা রাখছি, আমরা যারা বিএনপিতে যোগ দিয়েছি, প্রধানমন্ত্রী তাদের যথাযথভাবে কাজে লাগাবেন।’

জাতীয় সরকারের আশা এখনো ছাড়ছেন না রাশেদ খান। তিনি বলেন, ‘জাতীয় সরকার গঠন করাসহ রাষ্ট্রকাঠামোর ৩১ দফা সংস্কারের যে প্রতিশ্রুতি বিএনপির ছিল, সেটি প্রধানমন্ত্রী ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করবেন বলে আমার মনে হয়েছে।’

 

‘বিএনপি ভুগবে’

গত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ধর্মভিত্তিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে চারটি আসন ছাড় দিয়েছিল। শরিক দলগুলোর মধ্যে তাদেরই সবচেয়ে বেশি আসন ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে দলটির সভাপতি-মহাসচিবসহ কোনো প্রার্থীই জয়ী হননি। এসব আসনে বিএনপি প্রার্থী দেয়নি। নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, এই চার আসনের একটি গেছে খেলাফত মজলিসের দখলে, একটি বিএনপির বিদ্রোহীর দখলে, একটি জামায়াতে ইসলামীর দখলে এবং একটি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দখলে।

জমিয়তের সভাপতি উবায়দুল্লাহ ফারুক সিলেট-৫ আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আবুল হাসানের কাছে হেরে যান। উবায়দুল্লাহ ফারুক ৬৯ হাজার ৭৭৪ ভোট পান। আর বিজয়ী আবুল হাসান পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৩৫৫ ভোট। সেখানে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ছিল।

ভোটের পর এ নিয়ে জমিয়তের নেতাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। ৪ জুন নির্বাচনী এলাকা সিলেটের কানাইঘাটে দলীয় এক অনুষ্ঠানে জমিয়তের সভাপতি উবায়দুল্লাহ ফারুকের বক্তব্যে এর প্রকাশ ঘটে। দীর্ঘ বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপি আমার সঙ্গে যে আচরণ করছে, এর ভোগান্তি বিএনপি ভুগবে।’

উবায়দুল্লাহ ফারুক দাবি করেন, জমিয়তের কারণে জামায়াতে ইসলামীর ‘কোমর ভেঙে পড়েছে’ বা ক্ষমতায় যাওয়া ঠেকানো গেছে। এই ভূমিকার মধ্য দিয়ে তিনি দেশ বাঁচিয়েছেন, কওমি মাদ্রাসা বাঁচিয়েছেন এবং আজাদির সঙ্গে বিচরণ করার পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন।

উবায়দুল্লাহ ফারুকের ওই বক্তব্যের কিছু অংশ ইতিমধ্যে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে এর পক্ষে–বিপক্ষে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন।

সব মিলিয়ে নির্বাচনের আগে দেওয়া ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের প্রতিশ্রুতি ও নির্বাচনের পর বাস্তব চিত্রের মধ্যে একটি স্পষ্ট ফারাক দেখা যাচ্ছে। এতে শরিক দলগুলোর অংশগ্রহণ, জোট রাজনীতির ভবিষ্যৎ এবং বিএনপির রাজনৈতিক কৌশল—সবকিছু নিয়েই নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

শরিক দলের নেতাদের বড় একটি অংশ মনে করছে, নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে বিজয় বিএনপিকে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের জায়গায় ঠেলে দিচ্ছে। যে কারণে দুঃসময়ের রাজনৈতিক মিত্রদের সঙ্গে বিএনপির কোনো যোগাযোগ-সম্পর্ক নেই। এটা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

শরিকরা হতাশ হলেও জাতীয় সরকার নিয়ে প্রতিশ্রুতিও পূরণের আশা দিচ্ছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

চিকিৎসার জন্য চীনে অবস্থানরত রুহুল কবির রিজভী আজ সোমবার মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘নিশ্চয়ই বিএনপির নির্বাচন প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জাতীয় সরকারের বিষয়ে যে প্রতিশ্রুতি ছিল, তাও পূরণ করবে। এর আলামত দেখা যাচ্ছে, কারণ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু  করেছেন। এটাও নিশ্চয়ই করবেন।’

 

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অন্যান্য

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
আজ সারা দেশে এনসিপির বিক্ষোভ সমাবেশ

হবিগঞ্জে পদযাত্রা কর্মসূচিতে হামলার অভিযোগের প্রতিবাদে সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।    বুধবার (২৯ জুলাই) এ কর্মসূচি পালন করা হবে। এনসিপির দপ্তর সেলের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।   এতে বলা হয়, হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা কর্মসূচিতে মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িবহরে বিএনপির সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ২৯ জুলাই (বুধবার) সারা দেশে দলীয় প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।   এতে আরও বলা হয়, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সব মহানগর, জেলা, উপজেলা ও থানা শাখাকে নিজ নিজ এলাকায় প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজনের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো।   সংশ্লিষ্ট সব সাংগঠনিক ইউনিটকে কর্মসূচি সফল ও সুশৃঙ্খলভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ এবং দলীয় নেতাকর্মীদের যথাসময়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।   এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের টাউন হলের সামনে পদযাত্রা শেষে ফেরার পথে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমের গাড়িতে স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠে। এ সময় সাংবাদিক ও এনসিপি নেতাকর্মীরা আহত হন। পরে তাদের পুলিশ উদ্ধার করে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ২৯, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রাশেদ খাঁন। ফাইল ছবি

নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারীকে নিয়ে কড়া মন্তব্য রাশেদ খাঁনের

ছবি : সংগৃহীত

মিরপুরে কলেজে দেয়াল ধসে ১ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

ছবি : সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মনোনয়ন দেওয়া হবে: মির্জা ফখরুল

ছবি : সংগৃহীত
আগামী নির্বাচন ঘিরে তারেক রহমানের ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ শুরু: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

আগামী সংসদ নির্বাচনের জন্য তারেক রহমান ইতোমধ্যে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ শুরু করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।   তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিকে নিয়োগ দিয়েছেন। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দলীয় পরিচয়ের ব্যক্তিকে বসানো হলে নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হবে।   রোববার (২৬ জুলাই) রাতে ময়মনসিংহের ভালুকায় এনসিপির 'জুলাই পদযাত্রা' কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আমরা খুব ভালো করেই বুঝে গিয়েছি, তারেক রহমানকে দিয়ে বাংলাদেশের পরিবর্তন কোনোভাবেই সম্ভব নয়। আমি আপনাদের লিখে দিয়ে গেলাম। আজকে এই কথা ছয় মাস পরে আপনারা আমাদেরকে খুঁজবেন।   তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করে এনসিপির এই শীর্ষ নেতা দাবি করেন, বিএনপির ছত্রছায়ায় অসংখ্য বিভিন্ন ‘খারাপ লোক’ বিভিন্ন সুবিধা বাগিয়ে নিচ্ছে। এমন সব ব্যক্তিদের উপজেলা প্রশাসনের মতো স্পর্শকাতর জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হচ্ছে, যার ফলে স্থানীয় সাধারণ মানুষরা উপজেলা প্রশাসনে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না।   ভালুকার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের প্রসঙ্গে নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, কোনো রাজনৈতিক নেতার স্থানীয় মানুষের ভবিষ্যৎ ওপর ছেড়ে দেওয়া যাবে না। আপনার সন্তানের ভাগ্য পরিবর্তন আপনাকেই করতে হবে।   এ সময় এলাকা থেকে সব ধরনের সামাজিক অনাচার দূর করতে আহ্বান জানিয়ে তিনি ভালুকায় স্থানীয়ভাবে মাদক, জুয়া, চোরাচালান ও বেপরোয়া চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলার তাগিদ দেন।   আওয়ামী লীগের বিচার ও রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিও জানান এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, যদি সংস্কার বাস্তবায়িত না হয়, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের বিচার সুসম্পন্ন না হয় এবং জুলাই বিপ্লবে শহীদ ১৪শ আত্মদানকারীর রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করা হয়—তবে রাজপথে এনসিপি এক সেকেন্ডও অপেক্ষা করব না তারেক রহমানের সরকারকে পালাইতে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ২৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

জনদাবি মেনে সাবেক রাষ্ট্রপতির বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে: আইনমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে: মির্জা ফখরুল

মার্কেটপ্লেসে বিক্রেতাদের জন্য চমক নিয়ে আসছে ফেসবুক

সংগৃহীত ছবি
এসএসসির ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ জানা গেল

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের অপেক্ষায় থাকা প্রায় ১৮ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য আসতে পারে স্বস্তির খবর। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, আগামী ২৭ থেকে ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে ফল প্রস্তুত করে ৩০ জুলাই ফল প্রকাশ করা হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বারবার পরীক্ষার তারিখ পেছানোয় সেই উদ্বেগ আরও বাড়ছে। তবে আগামী ২৭ থেকে ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে ফলাফল প্রস্তুত করে ৩০ জুলাই ফল প্রকাশ করা হতে পারে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে। মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, পরীক্ষার্থীদের এ অপেক্ষা ও অভিভাবকদের উদ্বেগ খুব বেশি দীর্ঘ হবে না। চলতি মাসেই এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করবে শিক্ষা বোর্ডগুলো। তবে ঠিক কবে ফল প্রকাশ করা হবে, তার দিনক্ষণ এখনো ঠিক হয়নি। শিক্ষা বোর্ড কর্মকর্তারা বলছেন, তারা ২৭ থেকে ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে ফলাফল প্রস্তুত করতে কাজ করছেন। আর শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, ৩০ জুলাই বৃহস্পতিবার এসএসসির ফল প্রকাশের তারিখ নির্ধারণ করা হতে পারে। বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘আমরা ২০ তারিখের (জুলাই) মধ্যে ফল প্রকাশের চেষ্টা করেছিলাম। সেটা সম্ভব হয়নি। এখন ২৭ থেকে ২৮ তারিখের মধ্যে ফল রেডি করে ফেলব। এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয় যেদিন বলবে, সেদিন ফল প্রকাশ করা হবে।’ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, বোর্ড যদি ২৮ তারিখের মধ্যে ফল প্রস্তুত করে তাহলে চলতি মাসেই ফল প্রকাশ করা সম্ভব। সেটা হতে পারে ৩০ জুলাই। চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় গত ২০ মে। নিয়মানুযায়ী পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশের কথা। সে হিসাবে ২০ জুলাইয়ের মধ্যে পরীক্ষার ফল প্রকাশ করার কথা ছিল; কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এবার ফল প্রকাশ করতে পারেনি শিক্ষা বোর্ড।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ২৬, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার জালিয়াতি: সাবেক রাষ্ট্রপতি চুপ্পুর বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত

মো. সাহাবুদ্দিন: চমক জাগানো উত্থান, করুণ প্রস্থান

ছবি: সংগৃহীত

সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি কে? রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় যেসব নাম

0 Comments