শিক্ষা

শিক্ষা উন্নয়ন ও জনসেবায় নেতাকর্মীদের এগিয়ে আসার আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষার উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কাজে নেতাকর্মীদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। 

 

তিনি আরও বলেছেন, কাউকে খুশি করার জন্য নয়, বরং জনগণের জন্য যা প্রয়োজন ও কল্যাণকর মনে করি, সেটিই বাস্তবায়নে কাজ করছি। শুক্রবার (৭ আগস্ট) চাঁদপুরের কচুয়া সরকারি ডিগ্রি কলেজে উপজেলা বিএনপির আয়োজনে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

মতবিনিময় সভায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরলে মন্ত্রী সেগুলো শোনেন এবং সমাধানের বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

 

এসময় উপস্থিত ছিলেন কচুয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল আবেদিন স্বপন, কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আজিজুল ইসলাম, কচুয়া বিএনপি ও পৌর বিএনপির প্রধান সমন্বয়ক শাহজালাল প্রধান, পৌর বিএনপির সভাপতি বিল্লাল হোসেন মজুমদার, উত্তরাঞ্চল বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মিয়াজিসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

 

এর আগে, শিক্ষামন্ত্রী কচুয়ায় সরকারের কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা খাতের আওতায় মিনি কোল্ড স্টোরেজ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, বিগত সরকারের সময়ে মানুষের ওপর যে নির্যাতন হয়েছে, তা স্মরণে রাখতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় নির্বিচারে মানুষ হত্যার ঘটনাগুলো অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এসব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বর্তমান সরকারের কার্যক্রম মূল্যায়ন করতে হবে।

 

তিনি বলেন, সরকার মডেল হিসেবে এই কোল্ড স্টোরেজ কার্যক্রম চালু করছে। এর মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন। বাজার সমিতিগুলোতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে সবার অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

 

অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তপু আহমেদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান রাসেল, কচুয়ার সাচার বাজারের নেতৃবৃন্দ ও ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

শিক্ষা

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষা উন্নয়ন ও জনসেবায় নেতাকর্মীদের এগিয়ে আসার আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর

শিক্ষার উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কাজে নেতাকর্মীদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।    তিনি আরও বলেছেন, কাউকে খুশি করার জন্য নয়, বরং জনগণের জন্য যা প্রয়োজন ও কল্যাণকর মনে করি, সেটিই বাস্তবায়নে কাজ করছি। শুক্রবার (৭ আগস্ট) চাঁদপুরের কচুয়া সরকারি ডিগ্রি কলেজে উপজেলা বিএনপির আয়োজনে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   মতবিনিময় সভায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরলে মন্ত্রী সেগুলো শোনেন এবং সমাধানের বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।   এসময় উপস্থিত ছিলেন কচুয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল আবেদিন স্বপন, কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আজিজুল ইসলাম, কচুয়া বিএনপি ও পৌর বিএনপির প্রধান সমন্বয়ক শাহজালাল প্রধান, পৌর বিএনপির সভাপতি বিল্লাল হোসেন মজুমদার, উত্তরাঞ্চল বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মিয়াজিসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।   এর আগে, শিক্ষামন্ত্রী কচুয়ায় সরকারের কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা খাতের আওতায় মিনি কোল্ড স্টোরেজ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।   উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, বিগত সরকারের সময়ে মানুষের ওপর যে নির্যাতন হয়েছে, তা স্মরণে রাখতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় নির্বিচারে মানুষ হত্যার ঘটনাগুলো অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এসব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বর্তমান সরকারের কার্যক্রম মূল্যায়ন করতে হবে।   তিনি বলেন, সরকার মডেল হিসেবে এই কোল্ড স্টোরেজ কার্যক্রম চালু করছে। এর মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন। বাজার সমিতিগুলোতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে সবার অংশগ্রহণ প্রয়োজন।   অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তপু আহমেদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান রাসেল, কচুয়ার সাচার বাজারের নেতৃবৃন্দ ও ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৮, ২০২৬

উচ্চশিক্ষায় সার্কের সহযোগিতার আশ্বাস

ফাইল ছবি

সোমবার প্রকাশ হচ্ছে এসএসসি ও সমমানের ফল, জানবেন যেভাবে

ছবি: সংগৃহীত

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ সোমবার

ছয় মাসের মধ্যে অস্থায়ী আবাসন নির্মাণসহ ৫ দফা দাবি জবি ছাত্রশক্তির

  জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ছয় মাসের মধ্যে অস্থায়ী আবাসন নির্মাণ, দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত বাস্তবায়নসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তি।   বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীনের কাছে দেয়া এক স্মারকলিপিতে এ দাবি জানানো হয়।   স্মারকলিপিতে বলা হয়, শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে আবাসন সংকট, নিরাপত্তাহীনতা, দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের বাস্তবায়নে ধীরগতি এবং ক্যাম্পাসে বহিরাগত ও অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডের কারণে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এর সঙ্গে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যৌক্তিক অধিকার বাস্তবায়ন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করা হয়।   জাতীয় ছাত্রশক্তির পাঁচ দফা দাবিগুলো হলো:   ১. হামলায় জড়িতদের বিচার ও বহিষ্কার: শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী দোষীদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে।   ২. ছয় মাসের মধ্যে ১ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থীর আবাসন: বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ একর জমিতে আগামী ছয় মাসের মধ্যে অস্থায়ী আবাসন নির্মাণ করে অন্তত ১ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। আবাসন সংকট নিরসনে কোনো অজুহাত বা দীর্ঘসূত্রতা মেনে নেওয়া হবে না।   ৩. দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বাস্তবায়ন: দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ দ্রুত সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কাজ হস্তান্তর করতে হবে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজ সম্পন্নের কার্যকর রোডম্যাপ প্রকাশেরও দাবি জানানো হয়েছে।   ৪. বহিরাগতদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ: বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অছাত্রদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে এবং কেবল নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসভিত্তিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।   ৫. সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত: শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর, দৃশ্যমান ও স্থায়ী নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ নিয়ন্ত্রণসহ শিক্ষার্থীদের নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।   এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহিন মিয়া বলেন, ‘আমাদের এই পাঁচ দফা দাবি কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের স্বার্থের জন্য নয়, বরং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, আবাসন ও শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য। আমরা আশা করি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। অন্যথায় শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি আদায়ে আমরা নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আড়িয়াল বিলের দেশীয় পাঁচ প্রজাতির মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত

ছবি: সংগৃহীত

‘শেখ হাসিনাকে ফেরাতে গোপন তৎপরতা’: কুবিতে ৪ সদস্যের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি

ছবি : সংগৃহীত

জবিতে সংঘর্ষের পর ভিপি-জিএসকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দিল ছাত্রদল

ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্রাঞ্চ ক্যাম্পাস স্থাপনে আলোচনা শুরু

বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়ার স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ব্রাঞ্চ ক্যাম্পাস বা স্টাডি সেন্টার প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নিয়ে নীতিগত আলোচনা শুরু হয়েছে। উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীরা বিদেশে না গিয়েও তুলনামূলক কম খরচে অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পেতে পারেন।   সোমবার বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইউজিসির সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাসিস্ট্যান্ট মিনিস্টার ফর সিটিজেনশিপ, কাস্টমস অ্যান্ড মাল্টিকালচারাল অ্যাফেয়ার্স জুলিয়ান হিলের নেতৃত্বাধীন উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল অংশ নেয়।   বৈঠকে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ উচ্চশিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, গবেষণা, আন্তর্জাতিকীকরণ এবং বাংলাদেশকে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় শিক্ষা গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে খ্যাতনামা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।   অস্ট্রেলীয় প্রতিনিধি দল জানায়, বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৩২ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। বাংলাদেশে ব্রাঞ্চ ক্যাম্পাস বা স্টাডি সেন্টার চালু করা গেলে শিক্ষার্থীদের বিদেশে পড়তে যাওয়ার ব্যয় অনেকটাই কমে আসতে পারে।   প্রতিনিধি দলের সদস্যরা আরও জানান, অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিল্পখাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্বের কারণে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি কর্মমুখী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পান। এই মডেল বাংলাদেশে চালু হলে কর্মসংস্থান সক্ষমতা বাড়তে পারে বলে তারা মত দেন।   ড. মামুন আহমেদ বলেন, উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণ, গবেষণার মানোন্নয়ন এবং বৈশ্বিক কর্মবাজার উপযোগী মানবসম্পদ তৈরি করা ইউজিসির অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি জানান, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্রাঞ্চ ক্যাম্পাস, স্টাডি সেন্টার বা অন্যান্য অ্যাকাডেমিক সহযোগিতামূলক উদ্যোগকে ইউজিসি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে।   তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে মূল ক্যাম্পাসের সমমানের পাঠ্যক্রম, শিক্ষা, গবেষণা ও অ্যাকাডেমিক মান নিশ্চিত করতে হবে এবং উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষক মূল ক্যাম্পাস থেকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।   অস্ট্রেলীয় প্রতিনিধি দল আশ্বস্ত করেছে যে, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও মূল ক্যাম্পাসের সমমানের শিক্ষা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।   বৈঠকে দুই পক্ষ উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, অ্যাকাডেমিক বিনিময় ও সক্ষমতা উন্নয়ন বিষয়ে সহযোগিতা সম্প্রসারণে একটি জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পরীক্ষা নয়, এবারও ফলের ভিত্তিতে একাদশে ভর্তি

ছবি: সংগৃহীত

আগস্টে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১২ দিনের ছুটি, সেপ্টেম্বরে কত দিন?

ফাইল ছবি

সরকারি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা জোরদারে নতুন নির্দেশনা

0 Comments