মামলাটি তদন্ত শেষে একই বছরের ১০ মার্চ তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া তদন্তে সংশ্লিষ্ট আরও চারজনকে যুক্ত করে মোট ১২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরবর্তীতে চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি তিনি বাদী হয়ে পুতুলসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে নতুন একটি মামলা করেন। ওই মামলার তদন্ত শেষে ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
এ ছাড়া চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি দুদকের আরেক সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসান সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, সরকারের সর্বোচ্চ পদে থাকার সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর পরিবারের প্রতি অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছে। যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও অসৎ উদ্দেশ্যে পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নম্বর সড়কের ছয়টি প্লট তাঁদের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ১৬১/১৬৩/১৬৪/৪০৯/১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
এর আগে গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ছয়টি প্লট বরাদ্দে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।
দুদকের অনুসন্ধানে জানা যায়, পূর্বাচল নতুন শহরের ২৭ নম্বর সেক্টরের কূটনৈতিক জোনের ২০৩ নম্বর সড়কসংলগ্ন এলাকায় শেখ হাসিনা, তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, ছোট বোন শেখ রেহানা, এবং তাঁর দুই সন্তান রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিকের নামে ছয়টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে শেখ হাসিনার নামে ১০ কাঠার একটি প্লট (নম্বর ০০৯) ২০২২ সালের ৩ আগস্ট বরাদ্দ দেওয়া হয়। সজীব ওয়াজেদ জয় ১০ কাঠার প্লট (নম্বর ০১৫) পান ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর, এবং ১০ নভেম্বর মালিকানার রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয়। সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ১০ কাঠার প্লট (নম্বর ০১৭) পান ২০২২ সালের ২ নভেম্বর।
শেখ রেহানার নামে প্লট নম্বর ০১৩ বরাদ্দ দেওয়া হয়, আর তাঁর ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক (নম্বর ০১১) এবং মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক (নম্বর ০১৯)–এর নামেও একই পরিমাণ জমির প্লট বরাদ্দ করা হয়।
পরে চলতি বছরের ১২, ১৩ ও ১৪ জানুয়ারি প্লট বরাদ্দ–সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে দুদক তাঁদের বিরুদ্ধে পৃথক ছয়টি মামলা করে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা, সংঘর্ষ, ধাওয়া-পালটাধাওয়া হয়েছে। নির্বাচনি ক্যাম্প, মাইক, অফিস, গাড়ি, ভোটকেন্দ্রের সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর লুটপাট করা হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। কুমিল্লা ও হোমনা : কুমিল্লা-২ আসনের হোমনা উপজেলায় বিএনপির প্রার্থী মো. সেলিম ভূইয়ার সমর্থক ও খালেদা জিয়ার সাবেক এপিএস ও বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল মতিনের সমর্থকদের ওপর ধাওয়া-পালটাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। হোমনা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জহিরুল হক জহর চেয়ারম্যানের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এ সময় উভয়পক্ষের ১০ জন আহত হয়েছে। হোমনা ওভার ব্রিজের নিচে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল আলম চৌধুরী বলেন, বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। লক্ষ্মীপুর : ফেস্টুন টানানোকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয়পক্ষের চারজন আহত হন। লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের পশ্চিম চরমনসা গ্রামের রিফুজি মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রাম : প্রার্থীর গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। নগরীর কোতোয়ালি থানার সিরাজউদ্দৌল্লা রোডের সাব-এরিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় বৃহত্তর সুন্নি জোট সমর্থিত ও ইসলামিক ফ্রন্ট মনোনীত চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি) আসনের প্রার্থী ওয়াহেদ মুরাদকে (চেয়ার প্রতীক) বহনকারী জিপের সামনের কাচ ভেঙে যায়। তবে কারা এ হামলা করেছে সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি প্রার্থী। বরিশাল ও পিরোজপুর : পিরোজপুর-২ (কাউখালী, ভান্ডারিয়া, নেছারাবাদ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত মাহমুদ হোসেন ভিপি মাহমুদের নির্বাচনি প্রচারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্বরূপকাঠি পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ভিপি মাহমুদের (ঘোড়া প্রতীক) নির্বাচনি ক্যাম্পে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ভিপি মাহমুদ বলেন, হামলাকারীরা তার নির্বাচনি অফিসে ঢুকে চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করে ও ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলে। এ সময় তার কয়েকজন কর্মীকেও মারধর করা হয়। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন। কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) : কালীগঞ্জে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের নির্বাচনি জনসভায় আসার পথে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় দুজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বিএনপি কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন প্রার্থী ফিরোজ। উপজেলার রামচন্দ্রপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। ঝিনাইদহ-৪ আসনের (কালীগঞ্জ-সদর আংশিক) ধানের শীষের প্রার্থী রাশেদ খাঁন বলেন, হামলার ঘটনা ঘটেছে কিনা জানা নেই। আমার কোনো কর্মী এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত কিনা সেটিও নিশ্চিত নই। মুন্সীগঞ্জ : টঙ্গিবাড়ী উপজেলায় নির্বাচনি প্রচারে নেতাদের নাম ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুপক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। উপজেলার দিঘিরপাড় ইউনিয়নের দিঘিরপাড় বাজার ও কামারখাড়া বাজারে দুই দফা এ সংঘর্ষ হয়। চাটমোহর (পাবনা) : চাটমোহরে পাবনা-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী কেএম আনোয়ারুল ইসলামের প্রচার কাজে ব্যবহৃত মাইক ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের রেলবাজার (অমৃতকুণ্ডা) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়ির থাকার অভিযোগে উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি লিটন বিশ্বাস, তার ছেলে লোটাস বিশ্বাসসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুসা নাসের চৌধুরী ও চাটমোহর থানার ওসি গোলাম সরওয়ার হোসেনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভাই মোজাম্মেল হক। মাগুরা : মাগুরা সদর উপজেলার পৌর এলাকার একটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। মাগুরা-১ নির্বাচনি এলাকার ছোটফালিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে মঙ্গলবার এ ঘটনা ঘটে। মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশিকুর রহমান বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ধামরাই (ঢাকা) : ঢাকা-২০ ধামরাই আসনের ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা ইয়াসমিন এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনি অফিস লুটপাট করার অভিযোগ করেছেন। উপজেলার কালামপুর বাজারে ১০ দলীয় জোটের নির্বাচনি অফিসে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের সময় মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) অপব্যবহার রোধ ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিকাশ ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) যৌথ উদ্যোগে দিনব্যাপী একটি বিশেষ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় ডিজিটাল লেনদেনভিত্তিক অপরাধ শনাক্ত করা, এর প্রতিরোধ ও অপরাধী চক্র সম্পর্কে প্রাপ্ত তথ্য কাজে লাগিয়ে আইনের আওতায় আনা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সম্প্রতি এপিবিএন হেডকোয়ার্টার্সের ট্রেনিং সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের ৪০ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের প্রধান ও অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি ও বিকাশের উপদেষ্টা ড. মো. নজিবুর রহমান, এনডিসি। এ ছাড়া উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (প্রশাসন) মো. নজরুল ইসলাম, এনডিসি, উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন্স) ড. মো. আল মামুনুল আনছারী, বিকাশের ইভিপি ও হেড অব এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স মেজর এ কে এম মনিরুল করিমসহ (অব.) আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও বিকাশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালায় এমএফএস প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহারের মাধ্যমে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের প্যাটার্ন, প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে অপরাধী চক্র শনাক্তকরণ এবং ডিজিটাল লেনদেন মনিটরিংয়ের কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের প্রযুক্তিগত পদ্ধতিতে গ্রাহকের অর্থ উদ্ধার, অপহরণ ও প্রতারণামূলক লেনদেন প্রতিরোধের উপায় এবং জরুরি ভিত্তিতে বিকাশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয়ের প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। তদন্ত কার্যক্রমে দ্রুত ও কার্যকর সহযোগিতা নিশ্চিত করতে বিকাশের সঙ্গে যোগাযোগের প্রাতিষ্ঠানিক চ্যানেলসমূহও কর্মশালায় তুলে ধরা হয়। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের ডিজিটাল আর্থিক অপরাধ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি দু-পক্ষের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ও তথ্য বিনিময় প্রক্রিয়া আরও সুদৃঢ় হয়েছে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের সময় ডিজিটাল লেনদেনভিত্তিক সম্ভাব্য অপরাধ প্রতিরোধে এ ধরনের প্রস্তুতিমূলক উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে কর্মশালায় প্রধান অতিথি অভিমত ব্যক্ত করেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৭৬ জন নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। আজ রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে নিজ কার্যালয়ের সামনে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান। ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১২ আসনে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ আসনে ১৫ জন প্রার্থী প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন। আর সবচেয়ে কম প্রার্থী রয়েছেন পিরোজপুর-১ আসনে মাত্র ২ জন। তিনি জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ১,৯৮১ জন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৪৯ জন, নারী প্রার্থী ৭৬ জন। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। তাদের প্রার্থী সংখ্যা ২৮৮ জন। নিবন্ধিত ৯টি রাজনৈতিক দল কোনো প্রার্থী দেয়নি। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে কি না- এ প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, আদালতের নির্দেশে শেষ মুহূর্তে কয়েকজন প্রার্থী অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। আদালত যেভাবে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটির ওপরই বিষয়টি নির্ভর করছে। তিনি আরও বলেন, আমার টেবিলে এখনো পর্যন্ত আদালতের নির্দেশনা রয়েছে। যদি আরও কিছু নির্দেশনা আসে, তাহলে প্রার্থীর সংখ্যা বাড়তে পারে। প্রার্থীর অন্তর্ভুক্তি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত হতে পারে। মাননীয় আদালত তাঁদের বিবেচনায় যতটুকু নির্দেশ দেবেন, আমরা তা অনুসরণ করব।