রাজধানীর শাহবাগে ফের তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত জাতিসংঘের অধীনে করার দাবিতে এবং ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে আন্দোলনরতদের ওপর হামলার প্রতিবাদে চলা বিক্ষোভকে ঘিরে সেখানে উত্তেজনা বিরাজ করছে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল ছুড়েছে পুলিশ।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ৮টা নাগাদ এই ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাদি হত্যার তদন্ত জাতিসংঘের তদন্ত সংস্থার কাছে হস্তান্তরের দাবিতে এবং আন্দোলনরতদের ওপর হামলার প্রতিবাদে শাহবাগে বিক্ষোভ চলছিল। আন্দোলনকারীদের একটি অংশ শাহবাগ থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার দিকে যেতে চাইলে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। পুলিশের ধাওয়ায় আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে কাঁটাবন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের দিকে চলে যায়। পুলিশ অবস্থান নেয় শাহবাগ থানার সামনে।
বর্তমানে শাহবাগ ও এর আশপাশের এলাকায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজমান রয়েছে।
এর আগে বিকেলে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে ইনকিলাব মঞ্চের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষ হয়। এতে সরকারি ভাষ্যে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ অনেকে আহত হন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় থেকে আন্দোলনকারীরা যমুনা অভিমুখে যাওয়ার সময় পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগোতে চাইলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে গোটা এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, যমুনা ও এর আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রথমে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বলপ্রয়োগ করেনি।
শুক্রবার বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার অভিমুখে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে এবং একপর্যায়ে জলকামানের ওপর উঠে গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে। সরকার স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে যে, এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো ধরনের গুলি ছোড়েনি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে মেঘনা নদীতে ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোঁজের একদিনেও সন্ধান পাওয়া যায়নি একই পরিবারের চারজনের; যারা কুমিল্লার হোমনা উপজেলার বাসিন্দা। নিখোঁজদের উদ্ধারে নদীতে তল্লাশি চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), কোস্ট গার্ড ও নৌ পুলিশ। শুক্রবার রাত ১০টার পর্যন্ত কারো সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজদের উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন হোমনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শহিদুল ইসলাম। আত্মীয়ের বিয়েতে যাওয়ার পথে বৃহস্পতিবার বিকাল পৌনে ৫টার দিকে ঝোড়ো বাতাসে সোনারগাঁওয়ের বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের সোনাময়ী এলাকায় আমান সিমেন্ট কারখানা সামনে নদীতে ১৩ যাত্রী নিয়ে একটি ট্রলারটি ডুবে যায়। এ ঘটনায় রায়সা খাতুন (৪০) নামের এক নারীকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া একই পরিবারের চারজন নিখোঁজ হন; যারা সম্পর্কে বাবা-মেয়ে ও দুই ছেলে। নিখোঁজরা হলেন- হোমনা পৌরসভার শ্রীমদ্ধী গ্রামের অটোরিকশা চালক হেলাল উদ্দিন (৫৪), তার ছেলে সজীব হোসেন (২৪), ছেলে সামিন হোসেন (৫) ও মেয়ে সামিয়া আক্তার (১৭)। লাশ উদ্ধার হওয়া রায়সা খাতুন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের উজানপর ইউনিয়নের কাইলকাপুর গ্রামের জাকির হোসেনের স্ত্রী। তিনি নিখোঁজ হেলালের ফুফু। সোনারগাঁ থানার ওসি আব্দুল মালেক বলেন, যেখানে ট্রলারডুবি হয়েছে সেখানে প্রচণ্ড স্রোত। ঘটনার রাতেই স্থগিত করা উদ্ধার অভিযান শুক্রবার সকাল থেকে আবার শুরু হয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযানে ট্রলারটি উদ্ধার করা গেলেও চারজন মানুষকে এখনো খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। নৌ-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, হোমনা উপজেলার শ্রীমুদ্দি গ্রাম থেকে আত্মীয় সাজিয়া আক্তারের বিয়েতে যোগ দিতে ১৩ জন একটি ট্রলারে করে সোনারগাঁয়ের হাড়িয়া বৈদ্যেপাড়া গ্রামের উদ্দেশে রওনা হন। তাদের সঙ্গে বিয়ের জন্য দুটি গরু ও একটি খাসিও ছিল। পথে হঠাৎ মেঘনা নদীতে ঝোড়ো বাতাস শুরু হয়। এতে প্রবল ঢেউ সৃষ্টি হয়ে ট্রলারে পানি উঠতে থাকে। এক পর্যায়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। দুর্ঘটনার পর কাছাকাছি থাকা আমান সিমেন্ট কারখানার একটি ট্রলার দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তারা নয়জনকে জীবিত উদ্ধার করেন। প্রায় আধা ঘণ্টা পর নদী থেকে রাশিদা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া শিরিন বেগম বলেন, বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে তারা ট্রলারে করে রওনা হয়েছিলেন। পথে ট্রলারটি ডুবে যায়। পরে সিমেন্ট কারখানার একটি ট্রলার এসে নয়জনকে উদ্ধার করে। নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, নিখোঁজদের সন্ধানে দিনভর অভিযান চালিয়েও কারো দেহ উদ্ধার সম্ভব হয়নি। বৈদ্যেরবাজার নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক শাহ কামাল বলেন, নিখোঁজদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস, নৌ-পুলিশ ও থানা পুলিশের সদস্যরা কাজ করেছেন।
গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি এ কে এম ফজলুল হক মিলন বলেছেন, ‘এ দেশের সাধারণ মানুষ কোনো ধরনের অরাজকতা, সহিংসতা ও নাশকতা চায় না। দেশের শান্তি, শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা বজায় রাখতে বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথে রয়েছেন। আগামী দিনেও দেশের স্বার্থে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে তারা রাজপথে থাকবেন।’ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা ও পৌরসভাসহ সব ইউনিয়ন, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল শেষে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ফজলুল হক মিলন বলেন, দেশ যখন উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন ধরনের অরাজকতা সৃষ্টি করে দেশের মানুষকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল, চোরাপথে যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং দেশের স্বাভাবিক পরিস্থিতি ব্যাহত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বিকালে কালীগঞ্জ উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে একটি বর্ণাঢ্য বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সোনালী ব্যাংক সংলগ্ন খোদেজা কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। কালীগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ হোসেন আরমান মাস্টারের সভাপতিত্বে ও পৌর বিএনপির সদস্য সচিব ইব্রাহিম প্রধানের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. হুমায়ুন কবির মাস্টার, সদস্য সচিব খালেকুজ্জামান বাবলু, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সোলেমান আলম, আশরাফী হাবিবুল্লাহ, মো. খায়রুল আহসান মিন্টু, কালীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. লুৎফুর রহমান প্রমুখ। এ ছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রহিম সরকার, মো. জয়নাল আবেদীন, মো. সিরাজ উদ্দিন, জাঙ্গালীয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নেছার আহমেদ নুহু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আশরাফ নেওয়াজ চৌধুরী শাওন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মোল্লাসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে চীন, ভারত ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, সাময়িক অর্থসহায়তায় রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান হবে না। তাদের সম্মান ও নিরাপত্তার সঙ্গে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার পরিবেশ তৈরি করাই এর চূড়ান্ত সমাধান। বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিলেট সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গা বিষয় একটা আন্তর্জাতিক বিষয়। আমরা এখন ১৮ লাখ মানুষকে আমাদের মাটিতে ধারণ করছি, কিন্তু তাদের কাছে আমরা মানবিক, পূর্ণ সহায়তা দিতে পারছি এটা আমরা বলতে পারব না। রোহিঙ্গা শিবিরগুলো আমার বারবার পরিদর্শন করার সুযোগ হয়েছে, তাদের জীবনের কান্না এবং করুণ কাহিনি দেখার সুযোগ হয়েছে। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে চূড়ান্ত সমাধান হচ্ছে তাদেরকে তাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়া, সম্মান, এবং নিরাপত্তার সাথে। কিন্তু এই জায়গাটা এখনো তৈরি হয়নি। তিনি বলেন, এই লোকেরা মূলত স্থানান্তরিত হয়েছেন দুটো দেশে, আর বাকিগুলো অল্প। একটা বাংলাদেশ, আরেকটা মালয়েশিয়া। মালয়েশিয়া তাদেরকে প্রত্যর্পণের কিছু ব্যবস্থা ইদানীং নিয়েছে, এখনো পুরোপুরি শুরু হয়নি। বাংলাদেশ কিছুই করতে পারে নাই। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আমরা অনেক আশার বাণী শুনেছিলাম, কিন্তু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান হয়নি। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে যখনই আমাদের বসা হয়, মতবিনিময় হয়, তখন আমরা তাদেরকে বলি, সাময়িক অর্থসহায়তায় তাদের সমাধান হবে না। চূড়ান্তভাবে তাদেরকে তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে। এটা একা বাংলাদেশ পারবে না। তবে এখানে দুইটা দেশকে অবশ্যই এগিয়ে আসতে হবে। একটা হচ্ছে চীন, আরেকটা হচ্ছে ভারত। তাদের সহযোগিতা লাগবেই। আর মায়ানমার তো আছেই। মিয়ানমারের পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মায়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি খুব একটা ভালো না। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে গৃহযুদ্ধ চলছে, নামকরা একটা সরকার আছে, কিন্তু কার্যত যুদ্ধে লিপ্ত গোষ্ঠীগুলো এক এক এলাকা দখল করে রেখেছে। রাজধানী ছাড়া বাকি এলাকার উপরে তেমন নিয়ন্ত্রণ নেই বর্তমান সরকারের। এটা একটা সংকট। কার সাথে এই আলোচনাটা অনুষ্ঠিত হবে? কার সাথে আলোচনা? এটা বাংলাদেশ পারবে না। কিন্তু ওই দুইটা দেশ যে দুই দেশের কথা বললাম (ভারত ও চীন) আর আন্তর্জাতিক মহল। জাতিসংঘ যদি এই ব্যাপারে উদ্যোগী হয়, তাহলে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। তিনি বলেন, আমরা জানি, ভাষানচরে ২ লাখ মানুষকে স্থানান্তর করা হয়েছে। তাদের জীবন অনেকটা বলতে পারেন যে আসলে তাদেরকে ওখানে বন্দি দশায় রাখা হয়েছে। তারা বাংলাদেশে অপরাপর সকল এলাকার সাথে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। ওখানেও মাঝে মাঝে অমানবিক অনেক ঘটনা ঘটে। কিন্তু এটা বাইরে আসার কোনো সুযোগ নেই। একটা বন্দিশিবিরের মতো তারা সেখানে অবস্থান করছে। সাময়িক সমাধানের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা সাময়িক সমাধানের মধ্যে মনে করি যে আন্তর্জাতিক মহল যদি মানবিক সহায়তাটা বাড়ায়। যদি তাদেরকে উৎপাদন সহায়ক কোনো কিছুতে প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়, তারাই তাদের রুজি-রোজগার করল। বাজারজাতকরণটা বাংলাদেশ সরকার করল। ওখানে রেখেও এটা সম্ভব, সীমিত পরিসরে তাদেরকে চলাচলের সুবিধা দিয়েও সম্ভব। মালয়েশিয়া ও তুরস্কের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় তাদেরকে বন্দিশিবিরে রাখা হয়নি। তুরস্কে ৬০ লাখ শরণার্থী ছিল এক সময়। সেখানেও তাদেরকে বন্দিশিবিরে রাখা হয়নি। তাদেরকে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। নাগরিকত্ব দেওয়া হয়নি। কিন্তু তাদেরকে বেঁচে থাকার জন্য সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি লেখাপড়ারও সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। এখানে কিন্তু তাদের বাচ্চাদের লেখাপড়ারও সুযোগ নেই। শুধু তাদের ভাষায়, প্রাথমিক স্তর পর্যন্ত কিছু শিক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা আছে। এর বাইরে নয়।