রাজধানীর মিরপুরে একটি ফ্ল্যাট থেকে নুরজাহান বেগম (৭৫) নামে এক বৃদ্ধার পচাগলা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মৃত্যুর অন্তত সাত থেকে আট দিন পর তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ফ্ল্যাটের পরিবেশ ও পরিস্থিতি দেখে বৃদ্ধার শেষ জীবন চরম অবহেলা ও অযত্নে কেটেছে বলে মনে করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
রোববার (৩১ মে) রাতে জাতীয় জরুরি সেবায় (৯৯৯) ফোন পেয়ে মিরপুর-৬ এর সি ব্লকের ১৩ নম্বর সড়কের ৮ নম্বর বাসার চতুর্থ তলার ফ্ল্যাটে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
সেখান থেকে নুরজাহান বেগমের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পল্লবী থানার ওসি মো. হাসান বাসির জানান, নুরজাহান বেগম তার মেয়ের সঙ্গে একই বাসায় থাকলেও আলাদা কক্ষে থাকতেন।
কয়েকদিন ধরে কোনো সাড়া না পেয়ে রোববার একজন নার্সকে ডেকে আনেন তার মেয়ে। পরে ওই কক্ষে গিয়ে বৃদ্ধাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান নার্স। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ওসি বলেন, বৃদ্ধার মেয়ের সঙ্গে কথা বলে মৃত্যুর সময় ও পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি মায়ের মৃত্যুর সঠিক সময়ও বলতে পারেননি। এ কারণে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, যে কক্ষে নুরজাহান বেগম বসবাস করতেন সেটি ছিল অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন ও অগোছালো। কক্ষজুড়ে ছিল আবর্জনা। এমন পরিবেশ দেখে ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি প্রয়োজনীয় পরিচর্যা ও যত্ন থেকে বঞ্চিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নুরজাহান বেগমের সন্তানরা সবাই উচ্চশিক্ষিত ও সমাজে প্রতিষ্ঠিত। তার ৩ ছেলে ও ১ মেয়ে । বড় ছেলে আনিসুর রহমান খুলনা সমুদ্র বন্দরের যুগ্ম সচিব, মেজো ছেলে আশিকুর রহমান বুয়েটের শিক্ষক ও ছোট ছেলে আতিকুর রহমান কানাডা প্রবাসি। তার মেয়ের নাম ফাতিমা নাসরিন সুলতানা। ফাতিমার স্বামীর নাম গোলাম সাকলাইন সাকি। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের প্রফেসর ছিলেন। ৫ বছর আগে তার স্বামী মারা গেলে তিনি মানসিকভাবে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। তাদের কোন সন্তান নেই।
মঙ্গলবার (২ জুন) সরেজমিনে মিরপুর ৬ নম্বরের ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় মেইন গেট ভেতর থেকে আটকানো। চারদিকে সুনশান নীরবতা। গেট নক করলে ভেতর থেকে জহির নামে এক ব্যক্তি বের হয়ে জানান, তিনি ৪ বছর এই বাড়িতে ভাড়া থাকেন। নুরজাহান বেগম এই বাড়ির ৪ তলায় তার মেয়ের সঙ্গে থাকতো। ৩১ মে সন্ধ্যায় জানতে পারেন ৪ তলার বৃদ্ধা ওই নারী (নুরজাহান) মারা গেছেন।
তিনি বলেন, প্রায় দেড় বছর আগে নুরজাহান তার মেয়ের বাসায় আসেন। সেই থেকে মা-মেয়ে এক সঙ্গে থাকতো। নুরজাহানের ৩ ছেলে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হলেও কখনো মায়ের খবর নিতে আসেনি। মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে বুয়েট শিক্ষক ছেলে আসলেও আসেননি সচিব ছেলে।
আরও পড়ুন
সড়কবাতি তৈরি দেখতে ফ্রান্স যাচ্ছেন রাসিক প্রশাসক
সড়কবাতি তৈরি দেখতে ফ্রান্স যাচ্ছেন রাসিক প্রশাসক
সরেজমিনে আরও জানা গেছে, প্রায় দেড় বছর আগে নুরজহান বেগম তার মেজো ছেলে বুয়েটের শিক্ষক আশিকুরের আজিমপুরের পলাশি এলাকার বাসায় ছিলেন। সেখানে লোকজনের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ার মিরপুরে এসে তার মেয়ের বাসায় আশ্রয় নেন।
এদিকে ঘটনার পর সোমবার (১ জুন) রাজধানীর পল্লবী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেন নিহতের মেয়ে ফাতিমা নাসরিন সুলতানা। মামলায় ফাতিমা উল্লেখ করেন, ৩১ মে সন্ধ্যায় তার মা নুরজাহান বেগম বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে মারা যান। তার মায়ের মৃত্যুর ব্যাপারে পরিবারের কারো প্রতি কোনো অভিযোগ বা সন্দেহ নাই বলে মামলায় উল্লেখ করেন ফাতিমা।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার এস আই শামছুর রহমান এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। তিনি বলেন, নুরজাহান বেগমের ৩ ছেলের মধ্যে একজন যুগ্ম সচিব, একজন বুয়েটের শিক্ষক ও একজন প্রবাসি। প্রতিষ্ঠিত সন্তানদের গর্ভধারিণী মায়ের কেন এতো অবহেলা হলো বিষয়টি দুঃখজনক।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
পর্যটক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তার স্বার্থে বাগেরহাটের ঐতিহ্যবাহী খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার শরীফ-সংলগ্ন দিঘির (মাজার দিঘি) কুমিরটিকে আপাতত অপসারণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (২) রাতে জেলা প্রশাসকের দপ্তরে এক বিশেষ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠক সূত্রে জানা যায়, পরবর্তীতে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে কুমিরটি আবার এখানে ফিরিয়ে আনা হবে।
বিএনপি সরকার কারিনা কায়সারের মরদেহ শহীদ মিনারে নিতে দিলেও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক তোফায়েল আহমেদকে একই সম্মান দেবে কি না, সেটাই এখন পরীক্ষার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হল সংসদের সাবেক ভিপি শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি। সোমবার (১ জুন) রাতে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ প্রশ্ন তুলে বলেন, এটাই হবে বিএনপির 'লিটমাস টেস্ট' বা অগ্নিপরীক্ষা। ওই পোস্টে ইমি নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, 'বিএনপি সরকার আমাকে বিনা কারণে ৬০ দিন জেল খাটিয়েছে। আমার জীবন থেকে অনেক মূল্যবান সময় কেড়ে নিয়েছে। আমার পরিবারের একজন সদস্যকে আমি শেষ দেখাও দেখতে পারিনি জেলে থাকার কারণে।' তবে এত কিছুর পরেও তিনি সরকারের বিরুদ্ধে শত্রুতার পথে যাননি বলে জানান ইমি। তার ভাষায়, 'তার পরও আমি ওদের সঙ্গে শত্রুতা করিনি এখন পর্যন্ত। একজন নাগরিকের জায়গা থেকে সরকারকে ট্রিট করতেছি যেভাবে করার দরকার।' তোফায়েল আহমেদের প্রসঙ্গ টেনে ইমি স্পষ্ট করেন যে মুক্তিযুদ্ধ কিংবা তোফায়েল আহমেদ—কোনোটিই শুধু আওয়ামী লীগের একার সম্পদ নয়। তিনি লেখেন, 'মুক্তিযুদ্ধ আওয়ামী লীগের একার সম্পত্তি নয়। তোফায়েল আহমেদ আওয়ামী লীগের একার সম্পত্তি নয়। 'জয় বাংলা' স্লোগানও আওয়ামী লীগের একার সম্পত্তি নয়।' এর পাশাপাশি সরকারের প্রতি সরাসরি হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। ইমি লেখেন, 'কোনটা দলীয়, কোনটা সর্বজনীন—এইটুকু বিবেচনা করার মতো সততা যদি সরকার না দেখাতে পারে তাহলে তারা প্রতিবাদ না, প্রতিঘাত ডিজার্ভ করে।'
বাগেরহাটের হজরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজারের দিঘিতে রাতের বেলা গোসল করার সময় ফাতেমা (৭) নামে এক শিশুকে কুমির ধরে নিয়ে গেছে। সোমবার (১ জুন) দিনগত রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ শিশুটিকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তৎপরতা চালাচ্ছেন। এ ঘটনার পর মাজার এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের মাঝে আতঙ্ক দেখা গেছে। ঘটনার খবর পেয়ে বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন অর্থ) মো. মহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ সুপার জানান, শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে শিশুটি মায়ের সঙ্গে মাজারের দিঘির ঘাটে গোসল করতে নামে। হঠাৎ কুমির আক্রমণ করে শিশুটিকে টেনে নিয়ে যায়। খানজাহান আলী (রহ.) মাজারের খাদেম ফকির তরিকুল ইসলাম জানান, শিশুটি দিঘির পানিতে নামার পরপরই কুমিরের আক্রমণের শিকার হয়। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, রাতের অন্ধকারের কারণে উদ্ধার অভিযানে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। তবে নিখোঁজ শিশুটিকে খুঁজে বের করতে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও উদ্ধারকর্মীরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিশু ফাতেমার মা মানসিক প্রতিবন্ধী। তারা মাজার এলাকায় তিন দিন ধরে ঘোরাঘুরি করছে। রাতে মায়ের সঙ্গে গোসল করতে শিশুটি ঘাটে নামে। সে সময় দিঘিতে থাকা কুমির তাকে কামড় দিয়ে টেনে নিয়ে যায়। ফাতেমার চিৎকারে মাজারে থাকা স্থানীয়রা দ্রুত এসে নৌকা নিয়ে দিঘিতে নেমে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। বর্তমানে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত আছে। উল্লেখ্য, গত ৮ এপ্রিল বিকালে একটি অসুস্থ কুকুর মাজার এলাকায় কয়েকজনকে কামড় দেয়। এ অবস্থায় স্থানীয়রা কুকুরটিকে তাড়া দেয়, লাঠি ছুড়ে মারে। এর ফলে কুকুরটি দৌড়ে নারীদের ঘাট থেকে বের হয়ে প্রধান ঘাটের চলে যায়। সেখানে কুকুরকে তাড়া দিতে এগিয়ে আসেন মাজারের নিরাপত্তাকর্মী মো. ফোরকান হাওলাদার। তার পায়েও কুকুরটি আঁচড় দেয়। এ সময় ফোরকান পা ঝাড়া দেন। এতে কুকুরটি পানিতে পড়ে যায়। ঠিক সেই মুহূর্তে দিঘির ঘাটে পানির নিচে থাকা কুমিরটি কুকুর ধরে নিয়ে যায়। এর কয়েক ঘণ্টা পর কুকুরের মরদেহ দিঘিতে ভেসে ওঠে।