সারাদেশ

দীর্ঘ ২৬ বছর পর আদালতে নুর মুহাম্মদ, আত্মসমর্পণের নেপথ্যে যে কারণ

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বয়স ১০৪ বছর। শরীর ভেঙে পড়েছে, স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলাও করতে পারেন না। নিয়মিত ওষুধ ও চিকিৎসা লাগে। জীবনের এই শেষ প্রান্তে এসে নুর মুহাম্মদের চাওয়া ছিল খুব সন্তানদের কাছে ফিরে তাদের সঙ্গে বাকি দিনগুলো কাটানো। সেই আশাতেই ২৬ বছর আত্মগোপনে থাকার পর আদালতে আত্মসমর্পণ করেছিলেন তিনি।

 

 

পরিবারের আশা ছিল, বয়স ও অসুস্থতা বিবেচনায় জামিন পাবেন। তাহলে জীবনের শেষ কটা দিন সন্তানদের সঙ্গে কাটাতে পারবেন। কিন্তু সেই আশা পূরণ হয়নি। ২৬ বছর আগের ডাকাতি ও জোড়া খুনের মামলায় আত্মসমর্পণের পর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

 

গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক ফারজানা ইয়াসমিনের আদালতে আত্মসমর্পণ করেন নুর মুহাম্মদ। আপিলের শর্তে জামিনের আবেদন করেছিলেন তিনি। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

 

নুর মুহাম্মদ কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার রশিদাবাদ ইউনিয়নের বেরুয়াইল গ্রামের বাসিন্দা।

 

নুর মুহাম্মদের আইনজীবী ফয়সাল আহমেদ বলেন, তার মক্কেলের বয়স ১০৪ বছর। তিনি স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারেন না এবং বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছেন। নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ প্রয়োজন। বয়স ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় মানবিক কারণে তাকে জামিন দেওয়ার আবেদন করা হয়েছিল।

 

আদালতের বেঞ্চ সহকারী মিজানুর রহমান জানান, অসুস্থতার কারণে নিজ খরচে পরিবহনের মাধ্যমে কারাগারে যাওয়ার আবেদনও করেছিলেন নুর মুহাম্মদ। আদালত সেই আবেদনও নামঞ্জুর করেন।

 

নুর মুহাম্মদের ছেলে আবদুল করিম বলেন, বাবা একসময় কিশোরগঞ্জ শহরের বড়বাজার এলাকায় কাপড়ের ব্যবসা করতেন। পরে সন্তানদের নিয়ে নরসিংদীতে চলে যান। সেখানে ছেলেদের সঙ্গে জুট মিলে কাজ করতেন। কিন্তু মামলায় জড়িয়ে পড়ার পর স্বাভাবিক জীবন আর ফিরে পাননি।

 

তিনি বলেন, মামলায় সাজা হওয়ার বিষয়টি প্রথমদিকে বাবা জানতেন না। পরে জানতে পেরে ভয় পেয়ে আত্মগোপনে চলে যান। দীর্ঘদিন পরিবারের কাছ থেকেও দূরে থাকতে হয়েছে তাকে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই আত্মগোপনের জীবন আরও কঠিন হয়ে পড়ে। স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারেন না, নিয়মিত ওষুধ লাগে। যে বাসায় এতদিন লুকিয়ে ছিলেন, সম্প্রতি সেখানেও থাকা তার জন্য কষ্টকর হয়ে ওঠে। তখনই পরিবারের সবাই মিলে তাকে আদালতে আত্মসমর্পণ করানোর সিদ্ধান্ত নেন।

 

করিম বলেন, বাবা আর কয়দিন বাঁচবে। আমাদের সঙ্গে থাকলেও ভয় ছিল, কেউ ষড়যন্ত্র করে তাকে ধরিয়ে দিতে পারে। এ জন্য তিনি আমাদের সঙ্গেও থাকতেন না। এখন আমরা সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। জামিন পেলে জীবনের বাকি সময়টা আমাদের সঙ্গে কাটাবেন—এটাই চেয়েছিলাম।’

 

করিমের দাবি, তার বাবা ডাকাতি ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। পারিবারিক বিরোধের জেরে ষড়যন্ত্র করে তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছিল। তার এক ফুফাতো বোনকে বাজিতপুরের পিরিজপুর এলাকার এক ব্যক্তি জোর করে বিয়ে করেছিলেন। পরে নুর মুহাম্মদ তাকে সেখান থেকে এনে অন্যত্র বিয়ে দেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ ওই ব্যক্তি পরে বড়বাজারের ডাকাতির ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়ে রিমান্ডে নুর মুহাম্মদের নাম জড়িয়ে দেন। তার বাবাকে কয়েক দফা রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছিল। পরে স্বীকার করলে কিছু হবে না—এমন আশ্বাসে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

 

নুর মুহাম্মদের ছোট ভাই জাল মাহমুদও (৮৮) ভাইকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তিনি বলেন, আমার ভাই নির্দোষ। ষড়যন্ত্র করে তাকে ওই মামলায় জড়ানো হয়েছে। এখন তার বয়স ১০৪ বছর। শেষ বয়সে অন্তত সন্তানদের কাছে থাকার সুযোগ দেওয়া হোক।

 

জাল মাহমুদ জানান, ৭০-৮০ বছর আগে তার ভাই নুর মোহাম্মদ তাদের বাড়ি ছাড়েন। এরপর তিনি শহরের কানিকাটা রেললাইনের পাশে শশুরবাড়ি এলাকায় জায়গা কিনে বসবাস শুরু করেন। তার ভাইয়ের সাত ছেলে ও তিন মেয়ে সন্তান রয়েছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দা চাঁন মিয়া ও আক্কাস মিয়াও নুর মুহাম্মদকে ভালো মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। পরিবারের দাবি, ডাকাতির সময় নুর মুহাম্মদ নরসিংদীতে ছিলেন। তবে মামলার নথিতে নুর মুহাম্মদের বিরুদ্ধে দেওয়া সাজা এবং তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির তথ্য রয়েছে।

 

যে মামলায় ২৬ বছর পর কারাগারে মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০০ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাতে কিশোরগঞ্জের বড়বাজার এলাকার ব্যবসায়ী মো. ফেরদৌসের দোকানে ডাকাতি হয়। এ সময় মোশাররফ হোসেন ও আবদুল কবির নিহত হন। ডাকাতেরা দোকানের সিন্দুক থেকে ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ১১০ ভরি স্বর্ণ লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ফেরদৌস কিশোরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০০২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৪ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। পরে মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়।

 

২০০৩ সালের ১৬ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল নুর মোহাম্মদসহ আটজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। বিচার চলাকালে হারিছ মিয়া নামে এক আসামি মারা যান। পরে ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে ২০০৭ সালের ১৯ আগস্ট উচ্চ আদালত আলমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন এবং অন্য আসামিদের সাজা কমিয়ে দেন। ওই রায়ে নুর মুহাম্মদের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। 

 

মামলার নথি অনুযায়ী, রায় ঘোষণার সময়  নুর মুহাম্মদ পলাতক ছিলেন। এর আগে জামিন নিয়ে তিনি আত্মগোপনে চলে গিয়েছিলেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিন ভ্রমণ, ফের অনিশ্চয়তা

দীর্ঘ আট মাসের বেশি সময় পর্যটকশূন্য থাকার পর ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিন ভ্রমণে অনুমতি মিলেছে। তবে শেষ মুহূর্তে দেখা দিয়েছে সংশয়। দৈনিক সাড়ে তিন হাজার পর্যটক যাতায়াত এবং পুরো মৌসুমজুড়ে রাতযাপনের সুসংবাদ মিললেও জাহাজ চলাচলের অনুমতি ও ট্রাভেল পাসের সফটওয়্যার জটিলতা দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে পর্যটন মৌসুমের শুরুর দিন থেকেই ভ্রমণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।   পর্যটন মৌসুম শুরুর একমাস তিনদিন পর পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ সেন্টমার্টিন ভ্রমণ। ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। বেড়েছে গত বছরের চেয়ে যাত্রাকালের সময় এবং পর্যটকের পরিমাণও। আগামী বছরের ১৫ মার্চ পর্যন্ত দ্বীপে আসা-যাওয়া করতে পারবেন ভ্রমণ পিয়াসীরা।   সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দৈনিক দুই হাজারের পরিবর্তে এবার প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক দ্বীপে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। পাশাপাশি শুরুর দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত থাকার সুযোগও পাবেন দ্বীপে ভ্রমণে যাওয়া পর্যটকরা। তবে, দ্বীপের পরিবেশ সংরক্ষণে প্রতি পর্যটক থেকে ১০০ টাকা করে ফি আদায় করা হবে। পাশাপাশি মেনে চলতে হবে দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জারি করা নির্দেশনা। আন্তঃমন্ত্রণালয় সংক্রান্ত কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   এসব ঘোষণা আসার পর দ্বীপবাসী ও পর্যটকদের মাঝে আনন্দ বিরাজ করছে। দীর্ঘ আট মাসের বেশি সময় পর্যটকশূন্য থাকা দ্বীপের আবাসন, রেস্তোরাঁ ও পরিবহন ব্যবসায়ীরা পর্যটন সেবার সব অনুষঙ্গ ধোঁয়া-মোছা, মেরামতে ব্যতিব্যস্ত সময় পার করছেন। কিন্তু সবকিছু প্রস্তুত হলেও ১ নভেম্বর বা এরপর টানা পাঁচদিনের বেশি সময় দ্বীপে পর্যটকবাহী জাহাজ যাতায়াতের সুযোগ পাবে কি-না তা নিয়ে দোলাচল রয়েছে। পর্যটন মন্ত্রণায়লের কিউআরকোডে টিকিট পাওয়া, জাহাজ চলাচলে মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন এবং অন্য সরকারি সংস্থা হতে অনুমতি পেতে বিলম্বের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পর্যটক, জাহাজ মালিক ও দ্বীপের ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, নির্ধারিত সময়ের মাঝে একটি সপ্তাহ চলে যাওয়া মানে সবার ক্ষতি।   সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী এমবি কর্ণফুলি, বার আউলিয়া, এমবি টেকনাফ সেন্টমার্টিন নৌরুটে পর্যটক পরিবহনের ছাড়পত্র পেয়েছে। তিনটি জাহাজের ধারণ ক্ষমতা দুই হাজার ৩০০। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পাওয়া গেলেও নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের ভয়েস লাইসেন্স এখনো হাতে আসেনি। বিআইডব্লিউটিএর রুট পারমিট ও সময় এখনো ঘোষণা হয়নি। কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের স্থানীয় অনুমোদনও হয়নি। ফলে প্রস্তুতি থাকলেও ১ নভেম্বর থেকে আমরা পর্যটক পরিবহনে ব্যর্থ হবো বলে মনে হচ্ছে।   তিনি আরও বলেন, ‘সবচেয়ে বড় বিষয় সেন্টমার্টিনগামী পর্যটকদের টিকিট বুকিং দিতে হবে ট্যুরিজম বোর্ডের সফটওয়্যার থেকে। অথচ এখনো সফটওয়্যার ওপেন হয়নি। তবে আশা করছি, দু-একদিনের মধ্যেই এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠব। হয়তো প্রথম সপ্তাহের শুরুর চার-পাঁচদিন আমাদের একটু বেগ পেতে হবে।’   জাহাজ ছাড়ার অনুমতি প্রসঙ্গে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) তাসনীম জাহান বলেন, ‘সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকবাহী জাহাজ যেতে পর্যটন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকটি বিভাগ থেকে অনুমতি লাগে। জাহাজ কর্তৃপক্ষ সেসব অনুমতি পেলে স্থানীয় অথরিটি হিসেবে জেলা প্রশাসন সবশেষ অনুমতি দিয়ে থাকে। এখনো অনেকেগুলো অনুমতি হয়তো হয়নি, তাই আমরাও অনুমতি দিতে পারিনি। সব অনুমতির ডকুমেন্টস উপস্থাপন হলে আমরা দ্রুতই আমাদের অনুমতি সম্পন্ন করব।’   বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী (সিইও) ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী বলেন, ‘গতবারের মতো এবারও ট্রাভেল পাস নিয়ে পর্যটকদের দ্বীপে যেতে হবে। এ বিষয়ে কারিগরি প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। দু-একদিনের মধ্যে জাহাজ সংশ্লিষ্ট এবং অন্য সহযোগী সংস্থার কর্তাদের সঙ্গে বোর্ড বৈঠক করে সব কিছু সম্পন্ন করা হবে।’   সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত সেন্টমার্টিনে যাতায়াতের পাশাপাশি রাতযাপনের বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত দিয়েছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সাবরীনা রহমান জানিয়েছেন, নভেম্বর ও ফেব্রুয়ারি-মার্চে সেন্টমার্টিন দ্বীপে থাকা নিয়ে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, সেখানে সংশোধন করা হয়েছে। এখন দ্বীপে যাওয়া শুরু হতে বন্ধ হওয়া পর্যন্ত পুরো সময়ই পর্যটকরা দ্বীপে থাকতে পারবেন।   গত ১২ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের যাতায়াত নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হয়। ওই সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ২৫ অক্টোবর মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ-২ শাখা থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা বহাল রাখা হয়েছিল।   ওই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নভেম্বরে পর্যটকরা শুধু দিনের বেলায় সেন্টমার্টিনে গিয়ে একই দিন ফিরে আসার কথা উল্লেখ ছিল। আর ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে দ্বীপে রাতযাপনের সুযোগ রাখা হয়। তাই ২৫ অক্টোবরের সভার সিদ্ধান্তে যাতায়াতের সময়সীমা বাড়লেও রাতযাপনের ক্ষেত্রে গত বছরের নিয়মই বহাল থাকছে বলে ধারণা তৈরি হয়। এ নিয়ে পর্যটক, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও জাহাজ মালিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দেয়। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর রাতযাপনের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়। অবশেষে সে বিষয়ে সংশোধিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   নির্দেশনা অনুযায়ী, আগের মতোই কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়ায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ঘাট থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে।   এবার দ্বীপে দৈনিক পর্যটক যাবেন সাড়ে তিন হাজার। প্রত্যেক পর্যটকের কাছ থেকে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি হিসেবে ১০০ টাকা আদায় করা হবে।   সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়জুল ইসলাম বলেন, ‘পর্যটকদের ভ্রমণের সুযোগ চালুর খবরে দ্বীপে আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে। পর্যটক আসা-যাওয়া শুরু হলে দ্বীপে প্রাণ ফিরবে। হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সচল হবে। স্থানীয় মানুষের আয়-রোজগারের সুযোগ বাড়বে। কিন্তু সময়মতো পর্যটকবাহী জাহাজ না এলে সবাই হতাশই হবেন।’   টেকনাফ উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, ‘সেন্টমার্টিন পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষনীয় গন্তব্য। চলতি বছরে পর্যটকদের সেন্টমার্টিন যাত্রায় নিরাপত্তার নিশ্চিতে কোস্টগার্ড, বিজিবি, নৌবাহিনী, পুলিশ সতর্ক অবস্থান নিশ্চিত করছে। সেন্টমার্টিনে হোটেল-রোস্তারাঁ মালিকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তাদের বলা হয়েছে, যেসব হোটেল-রিসোর্টে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা নেই, পর্যটন সেবা শুরুর আগেই যেন সবকিছু নিশ্চিত হয়। তারাও এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।’   মানতে হবে যেসব নির্দেশনা গত বছরের প্রজ্ঞাপনে দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। সেগুলো হলো রাতে সমুদ্রসৈকত ও তৎসংলগ্ন এলাকায় আলো জ্বালানো যাবে না; শব্দ সৃষ্টি করা ও বারবিকিউ পার্টির আয়োজন করা যাবে না; কেয়াবনে প্রবেশ এবং কেয়া ফল সংগ্রহ, ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ; সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, তারামাছ, রাজকাঁকড়া, সামুদ্রিক ঘাস, শৈবালসহ দ্বীপের জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা যাবে না এবং সমুদ্রসৈকতে মোটরসাইকেল ও সি-বাইকের মতো যানবাহন চালানো নিষিদ্ধ করা হয়। এবারও এসব মেনে চলতে হবে পর্যটকসহ সবাইকে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

শনিবার টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকবে যেসব এলাকা

ছবি: সংগৃহীত

নিষেধাজ্ঞা উঠে যেতেই চাঁদপুরের আড়তে ইলিশের ছড়াছড়ি

ছবি: সংগৃহীত

তাহসিফ সাউরির রহস্যজনক মৃত্যু: উদ্ধারকৃত বাইক ও ছোট ভাই ঘিরে ধোঁয়াশা

ছবি: সংগৃহীত
রেলওয়ের বহরে যুক্ত হচ্ছে ২০০ নতুন কোচ, চালু হবে নতুন ট্রেন

বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে পর্যায়ক্রমে যুক্ত হতে যাচ্ছে প্রায় ২০০টি নতুন কোচ। এসব কোচ দিয়ে নতুন ট্রেন চালুর পাশাপাশি পুরোনো ও জরাজীর্ণ কোচ প্রতিস্থাপন করা হবে।     শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন শেষে এ তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন। এ সময় রেলওয়ের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং যাত্রীসেবার মান বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে কথা বলেন তিনি।     মহাপরিচালক জানান, নতুন কোচের একটি অংশ ইতোমধ্যে দেশে এসে রেলবহরে যুক্ত হয়েছে। এসব কোচ দিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে একটি নতুন ট্রেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।     পরবর্তী সময়ে আরো কোচ দেশে আসার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রী চাহিদা ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নতুন ট্রেন চালু এবং পুরনো কোচ প্রতিস্থাপনের কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। পঞ্চগড় থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত সরাসরি ট্রেন চালুর সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বিষয়। দেশের সব রেলপথ এখনো ব্রডগেজে রূপান্তরিত না হওয়ায় আপাতত এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। রেলপথগুলো ব্রডগেজে রূপান্তরের পাশাপাশি দীর্ঘ এই রুটে পর্যাপ্ত যাত্রী পাওয়া যাবে কি না, সেটিও যাচাই করতে হবে।     পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর পর্যন্ত রেলপথ সম্প্রসারণের বিষয়ে মহাপরিচালক বলেন, আঞ্চলিক যোগাযোগ নিশ্চিত করতে হলে ভারতের অংশেও রেলপথের সংযোগ প্রয়োজন। শুধু বাংলাদেশের অংশে রেললাইন নির্মাণ করা হলে প্রত্যাশিত আঞ্চলিক যোগাযোগের সুবিধা পাওয়া যাবে না। দুই দেশের সম্মতি থাকলেই এ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব। বর্তমানে বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে এবং কার্যক্রম স্থগিত আছে।     এ সময় রেলওয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ৩০, ২০২৬

সেবা ও রাজনীতিতে স্বচ্ছতা আনতে আসছে গ্রাম সরকার

ভোলায় শুরু হয়েছে ৩ দিনব্যাপী কবি গানের আসর

দলীয় কর্মসূচিতে অনুপস্থিত, শ্রীমঙ্গল উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক বহিষ্কার

টহল গাড়ির সামনে যুবলীগের মিছিল: সিরাজগঞ্জে চার পুলিশকে ক্লোজড

সিরাজগঞ্জে পুলিশের টহল গাড়ির সামনে নিষিদ্ধ যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল ও পুলিশ সদস্যদের হুমকি দেওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় যমুনা সেতু পশ্চিম থানার চার পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করা হয়েছে।     বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত ১১টার বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) সাইফুল ইসলাম সানতু ও যমুনা সেতু পশ্চিম থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুল ইসলাম।       ক্লোজড হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন— যমুনা সেতু পশ্চিম থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আরিফুর রহমান, কনস্টেবল নাসিমুজ্জামান, মোরশেদুল ইসলাম ও চালক আব্দুল গফুর।       বিশেষ সূত্রে পাওয়া চারজনের নাম পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতুকে পাঠানোর পর তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, চার পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করা হয়েছে। আপনি নামগুলো দিয়েছেন, আমি নিশ্চিত করতে পারবো না। নাম মুখস্থ করে রাখিনি। আমি সারাদিন বাইরে ছিলাম। ড্রাইভার ঠিক আছে, তিনি ক্লোজড হয়েছেন।     অন্যদিকে, যমুনা সেতু পশ্চিম থানা পুলিশের ওসি আমিরুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে ক্ষুদে বার্তায় চার জনের নাম পাঠানো হলে তিনি ক্লোজড করার বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেন।     এর চারজনের বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে সিরাজগঞ্জ মহাসড়কের একটি এলাকায় জেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. একরামুল হকের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।       ভিডিওতে একরামুল হককে মিছিলে সরাসরি উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। মিছিলের সামনে ছিল পুলিশের একটি টহল গাড়ি। গাড়িতে পুলিশ সদস্যরাও ছিলেন। এ সময় মিছিল থেকে লোকজনকে ‘একবারে মাইরা ফালামু’ বলতে শোনা যায়। একপর্যায়ে গাড়ির দরজা খোলা হলেও পরে দরজা বন্ধ করে চলে যায় পুলিশের টহল গাড়িটি।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

চলন্ত ট্রেন থেকে ছুরিকাঘাতের পর যুবককে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ

রুহুল কবির রিজভী। ছবি: সংগৃহীত

কেন্দ্র দখল বা জালিয়াতি ছাড়াই ভোট সম্পন্ন হয়েছে: রিজভী

ছবি: সংগৃহীত

ঝিনাইদহে ঘুস নিতে গিয়ে দুদকের হাতে ধরা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মচারী

0 Comments