সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আগামীকাল বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) থেকে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে সরকার। এ সময়ে কয়েকটি নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিএমপি জানায়, বেগম খালেদা জিয়া রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার এই মহাপ্রয়াণে ডিএমপি গভীরভাবে শোকাহত।
বেগম জিয়ার মৃত্যুতে আগামী বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালন করা হবে। এ অবস্থায় তিনটি নির্দেশনা জারি করেছে ডিএমপি।
যেসব নির্দেশনা
০১. শোকের সময়ে ঢাকা মহানগর এলাকায় সব ধরনের আতশবাজি, পটকা ফোটানো, ফানুস ও গ্যাস বেলুন উড়ানো নিষিদ্ধ করা হলো।
০২. উন্মুক্ত স্থানে কোনো ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ডিজে পার্টি, র্যালি বা শোভাযাত্রা করা যাবে না।
০৩. উচ্চ শব্দে গাড়ির হর্ন বাজানো বা গণ-উপদ্রব সৃষ্টি করে এমন কোন কর্মকাণ্ড করা যাবে না।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজধানীর বনানীতে টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারভিন বেগম নামে এক নারীর হাতে প্রথম ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআনসহ বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়। পরে পরিবেশন করা হয় বিএনপির দলীয় সংগীত ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা সংগীতের সঙ্গে হাততালি দিয়ে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আবু ইউসুফ। ফ্যামিলি কার্ড গ্রহণের পর উপকারভোগী এক নারী জানান, এই কার্ড পেয়ে তারা অত্যন্ত আনন্দিত এবং সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞ। সরকারি এই কর্মসূচির আওতায় নিবন্ধিত নারীরা প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন বলে জানানো হয়েছে।
অনেক চমকে ভরা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনের আর মাত্র একদিন বাকি। ১২ মার্চ বেলা ১১টায় শুরু হচ্ছে সংসদের প্রথম অধিবেশন। অনেক দিক দিয়েই ব্যতিক্রম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ। প্রথম দিনই অধিবেশনকক্ষে চিরাচরিত রেওয়াজের বিপরীত চিত্র দেখা যাবে। অধিবেশনের শুরুতে স্পিকারের আসন থাকবে শূন্য। অন্যদিকে এমপিদের আসনগুলো প্রায় ভরা। যথারীতি পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের পর অধিবেশন শুরু হলে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অনুরোধে একজন সিনিয়র এমপি স্পিকারের আসনে বসবেন। এরপর তাঁর পরিচালনায় নির্বাচন করা হবে নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার। নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার সংসদ সচিবালয়ের শপথকক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিনের কাছে শপথ গ্রহণ করবেন। প্রথমবার সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়েই সংসদ নেতার আসনে বসবেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিপরীতে বিরোধীদলীয় নেতার আসনে বসবেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। স্বাধীনতার পর এই প্রথমবারের মতো দলটি সংসদের প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে যাচ্ছে। বিরোধীদলীয় নেতার আসনের পেছনে বসবেন জুলাই গণ অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারীদের অন্যতম নাহিদ ইসলাম, যিনি এবার সংসদে পরিচয় পাবেন বিরোধীদলীয় চীফ হুইপ হিসেবে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে পাস হওয়া গণভোট বাস্তবায়ন করা হলে প্রথমবারের মতো চমক থাকছে ডেপুটি স্পিকারের পদ নিয়ে। ওই চেয়ারে এবার বসতে পারেন প্রধান বিরোধী দল জামায়াত মনোনীত কোনো এমপি। সরকারি দলের স্পিকার ও বিরোধী দলের ডেপুটি স্পিকার—এই নতুন আদলের সংসদ কেমন হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহল ও জনগণের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক কৌতূহল। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রশ্ন ও উত্তরপর্ব, পয়েন্ট অব অর্ডারের বিষয় থেকে শুরু করে ওয়াকআউট ও আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে ভিন্ন মাত্রা দেখা যেতে পারে। এত দিন সংসদে যেসব চিরাচরিত বিষয় দেখা গেছে এবারের সংসদে তার ব্যতিক্রম হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য এটা কতটা যুগোপযোগী হবে, তা সময় বলে দেবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার পদ নিয়ে চলছে ব্যাপক জল্পনা। বিএনপির হাইকমান্ড থেকে কয়েকজনের নাম আলোচনায় থাকলেও শেষ মুহূর্তে বড় কোনো ‘চমক’ আসার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না সংশ্লিষ্টরা। একইভাবে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ডেপুটি স্পিকার দেওয়া হবে কি না তা চূড়ান্ত হয়নি। সরকারি দল বিএনপির পক্ষ থেকে বিরোধী দলকে ডেপুটি স্পিকারের জন্য এমপি মনোনয়ন দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। সম্প্রতি সরকারি দলের চিফ হুইপ ও ছয়জন হুইপ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। চিফ হুইপ নিযুক্ত হয়েছেন নুরুল ইসলাম মনি (বরগুনা-২)। নিয়োগ পাওয়া ছয়জন হুইপ হলেন জি কে গউস (হবিগঞ্জ-৩), রকিবুল ইসলাম (খুলনা-৩), মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু (শরীয়তপুর-৩), অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু (নাটোর-২), মো. আখতারুজ্জামান মিয়া (দিনাজপুর-৪) ও এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (লক্ষ্মীপুর-৪)। এবারের সংসদে যেমন রাজপথের লড়াকু তরুণ নেতাদের অভিষেক হচ্ছে, তেমনি অনেক হেভিওয়েট প্রার্থীর পরাজয় ও নতুন দলের আবির্ভাব রাজনীতিতে এক বড় চমক হিসেবে দেখা দিয়েছে। ত্রয়োদশ সংসদের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সদস্যই এবারই প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছয়জন তরুণ প্রতিনিধিও সংসদ সদস্য হয়েছেন। ব্যক্তিগত পর্যায়ে বড় চমক দেখিয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিএনপির লুৎফুজ্জামান বাবর ও জামায়াতে ইসলামীর এ টি এম আজহারুল ইসলাম। দীর্ঘ দেড় দশক কারাগারে থাকার পর মুক্তি পেয়েই তাঁরা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। নতুন সংসদের কাছে কী ধরনের প্রত্যাশা রয়েছে, জানতে চাইলে সংসদ নিয়ে নিয়মিত কাজ করা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সংসদ কার্যকর হবে এটাই প্রত্যাশা। পাশাপাশি সংসদ তার ভূমিকা পালন করবে। তিনটা মৌলিক ভূমিকা যেমন আইন প্রণয়ন, জনস্বার্থে সংসদ সদস্যদের ভূমিকা পালন ও সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, গণভোটে পাস হওয়া জুলাই জাতীয় সনদ কতটা বাস্তবায়ন করা হতে পারে তা নির্ভর করছে সংসদের সদিচ্ছার ওপর। গণভোটের অনেক প্রস্তাব রয়েছে যেগুলোতে সব দলের শতভাগ ঐকমত্য রয়েছে। নোট অব ডিসেন্টও নেই। যেমন জুলাই সনদের ৭৪ নম্বর ধারায় উল্লেখ আছে, সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার তিন মাসের মধ্যে এমপি ও পরিবারের সদস্যদের আয়-ব্যায়ের হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে এবং প্রতি বছর তা নবায়ন করতে হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সংসদ দেশের সংসদীয় ইতিহাসে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে। ত্রয়োদশ সংসদকে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ পাসের মাধ্যমে আইনি বৈধতা দিতে হবে। একই সঙ্গে দেশের সংবিধান ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির আমূল সংস্কারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। নতুন নির্বাচনে নিবন্ধিত ৫৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫১টি অংশগ্রহণ করলেও শেষ পর্যন্ত সংসদে ৯টি দলের প্রতিনিধিত্ব দেখা যাচ্ছে। বিএনপির ২০৯ জন বিজয়ী সদস্যের মধ্যে ১৩২ জনই নতুন মুখ, এবং জামায়াতে ইসলামীর ৫৯ জনই প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। প্রথমবারের মতো ৪টি ইসলামি দল সংসদে আসন লাভ করে বড় চমক দেখিয়েছে। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী রাজনৈতিক আবহে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গণ অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার নিষিদ্ধ করায় ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দলটি অংশ নিতে পারেনি।
বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার ও ঐতিহ্য তুলে ধরতে এবং বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে ‘সফট পাওয়ার’ বা সাংস্কৃতিক কূটনীতিকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে সোমবার (৯ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক বিশেষ আন্তমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিদেশে বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের কার্যকর উপায়গুলো নিয়ে আলোচনা করাই ছিল এই সভার মূল লক্ষ্য। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের বিশেষ উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খাইয়াম এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আল সিয়াম। এ ছাড়া সভায় সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ উভয় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত এ ধরনের সভা এটিই প্রথম। সভায় বক্তারা বলেন, বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন সম্ভব। বিশেষ করে সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি ও বিদেশে উৎসব আয়োজনের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের জনগণের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) প্রক্রিয়াকে পুনরুজ্জীবিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা, শিল্প প্রদর্শনী, বইমেলা, লোকসংগীত অনুষ্ঠান, রন্ধনশৈলী প্রদর্শনী এবং ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান পরিদর্শনের মতো বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক উৎসব আয়োজনের বিষয়ে প্রাথমিক পরিকল্পনা করা হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ ও শতাধিক দেশের মধ্যে বিদ্যমান ও স্থগিত থাকা বিভিন্ন চুক্তি, সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি (সিইপি) পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হয়। সভায় বর্তমান চুক্তিগুলো দ্রুত কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি অপেক্ষমাণ চুক্তিগুলো চূড়ান্ত করার বিষয়ে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মনে করে, কার্যকর সাংস্কৃতিক কূটনীতি বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইতিবাচক ভাবমূর্তি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।