জাতীয়

রাষ্ট্রপতি চাইলে পদত্যাগ করতে পারবেন, সেই সুযোগ আছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

শারীরিক অসুস্থতা বা অন্য কোনও কারণে রাষ্ট্রপতি চাইলে পদত্যাগ করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, সংবিধানে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সুযোগ রয়েছে। রাষ্ট্রপতি ইচ্ছা করলে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারবেন।

 

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

 

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘শারীরিক অসুস্থতা বা অন্য কোনও কারণে রাষ্ট্রপতি চাইলে পদত্যাগ করতে পারবেন। সংবিধানে সেই সুযোগ রয়েছে। তিনি চাইলে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র দিতে পারবেন। এর বেশি কিছু জানা নেই।’

 

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অপসারণের দাবি জানায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল। তাকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তারা এ নিয়ে বঙ্গভবনের সামনে গিয়ে আন্দোলন করেন। তবে অন্তর্বর্তী সরকার সাংবিধানিক কারণে তাকে সরাতে রাজি হয়নি। তাছাড়া দেশের অন্যতম বড় দল বিএনপিও তখন এ বিষয়ে সায় দেয়নি। শেষ পর্যন্ত সেই দাবি স্তিমিত হয়ে যায়। 

 

তবে এখন আবার পদত্যাগের আলোচনা জোরালো হয়েছে। একই সঙ্গে কে হবেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি তা নিয়েও চলছে কানাঘুষা। পরবর্তী রাষ্ট্রপতি বিএনপি থেকে কেউ হচ্ছেন, নাকি দলের বাইরে কাউকে দেওয়া হতে পারে—এ নিয়ে এখনও নানা আলোচনা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে বিএনপি তাদের পছন্দ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নিয়োগের সুযোগ পাবে।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, বিএনপিতেই রাষ্ট্রপতি হওয়ার মতো ক্যারিয়ারসম্পন্ন যোগ্য প্রার্থী আছেন। হয়তো তাদের মধ্য থেকেই বাছাই করা হতে পারে। আর দলের বাইরে কাউকে আনার সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ। দলের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলাপকালে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বর্তমান রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার আগ পর্যন্ত এ নিয়ে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই।

 

আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ক্ষেত্রে তাকে স্পিকারের উদ্দেশে নিজ স্বাক্ষরে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হবে। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
সিভিল সার্জনের বিদায়-যোগদান অনুষ্ঠান, নার্সদের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের (ভিক্টোরিয়া) সদ্যবিদায়ী ও নবাগত সিভিল সার্জনের বিদায় ও যোগদান অনুষ্ঠান আয়োজনকে কেন্দ্র করে নার্সদের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অনুষ্ঠানের উপহার ও খাবারের খরচের জন্য নার্সদের কাছ থেকে জনপ্রতি এক হাজার টাকা করে নেওয়ার উদ্যোগ করা হয়। এ পর্যন্ত নার্সদের কাছ থেকে ৭০ হাজার এবং চিকিৎসকদের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।   চিকিৎসক ও নার্সদের উদ্যোগে সোমবার অনুষ্ঠানটি আয়োজনের কথা ছিল। তবে চাঁদা সংগ্রহের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর বিদায়ী সিভিল সার্জন মশিউর রহমান এবং নবাগত সিভিল সার্জন এস এম সাখাওয়াত হোসেন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন না বলে জানিয়েছেন। এ কারণে অনুষ্ঠানটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) নাজমুল হাসান।   হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে প্রায় ১২০ জন নার্স কর্মরত। তাঁদের প্রত্যেকের কাছ থেকে এক হাজার টাকা করে নেওয়ার কথা ছিল। রোববার বিকেল পর্যন্ত ৭০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে।   চাঁদা সংগ্রহের বিষয়ে হাসপাতালের নার্সদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কয়েকজন নার্স নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তাঁদের প্রত্যেককে এক হাজার টাকা করে দিতে বলা হয়েছিল। তবে অনেকেই এ অর্থ দিতে আগ্রহী ছিলেন না। তাঁদের প্রশ্ন, সিভিল সার্জনের বিদায় বা যোগদান অনুষ্ঠান হাসপাতালের নিয়মিত দায়িত্বের অংশ নয়; তাহলে এ আয়োজনের জন্য নার্সদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হবে কেন?   এ বিষয়ে হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার শিখা রাণী মণ্ডল বলেন, চিকিৎসক ও নার্সদের উদ্যোগেই অনুষ্ঠানটি আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। হাসপাতালের সেবায় যাতে কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই ছোট পরিসরে অনুষ্ঠান করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। জনপ্রতি এক হাজার টাকা চাওয়া হলেও সামর্থ্য অনুযায়ী যে কেউ দিতে পারেন বলে দাবি করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে কাউকে জোর করা হয়নি বলেও জানান তিনি।   আরএমও নাজমুল হাসান বলেন, অনুষ্ঠানের উপহার ও খাবারের জন্যই চাঁদা সংগ্রহ করা হচ্ছিল। হাসপাতালের নিজস্ব কোনো ফান্ড না থাকায় চিকিৎসক ও নার্সরা নিজেদের উদ্যোগে আয়োজনটি করছিলেন। তবে চাঁদা নেওয়ার বিষয়টি সামনে আসার পর অনুষ্ঠানটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।   বিদায়ী সিভিল সার্জন মশিউর রহমান বলেন, তিনি কোনো বিদায়ী সংবর্ধনার আয়োজন করতে বলেননি। তাঁর মতে, বিদায় উপলক্ষে এভাবে চাঁদা তোলা অনৈতিক। তাই তিনি অনুষ্ঠানটিতে অংশ নেবেন না বলে জানান। যাঁদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে, তাঁদের অর্থ ফেরত দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।   অন্যদিকে নবাগত সিভিল সার্জন ও হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এস এম সাখাওয়াত হোসেন জানান, নার্সদের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়ার বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। তাঁর ভাষ্য, ঘরোয়া একটি অনুষ্ঠানের কথা হয়েছিল। কিন্তু চাঁদা আদায়ের বিষয়টি জানার পর তিনি বিব্রত হয়েছেন এবং এমন পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া তাঁর জন্য সমীচীন হবে না।   উল্লেখ্য, ২০২২ সালের শুরু থেকে নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জনের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন মশিউর রহমান। গত ২০ আগস্ট তাঁকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়। পরে তাঁর স্থলে নতুন সিভিল সার্জন হিসেবে এস এম সাখাওয়াত হোসেনকে পদায়ন করা হয়।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ট্রাইব্যুনালে হেলমেট-বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরানো নিয়ে প্রশ্ন পলকের

ছবি: সংগৃহীত

‘আসিফ নজরুলের দুই ছাগলই খাওয়া উচিত ছিল’ - নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

ছবি: সংগৃহীত

সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল পুনর্বিবেচনার দাবি হেফাজতের

নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারিতে প্রশাসনিক ও আইনি প্রস্তুতি চলমান

বাংলাদেশের সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণার প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনও প্রজ্ঞাপন (গেজেট) জারি হয়নি। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। অনেকের আশঙ্কা, প্রক্রিয়াটি আবারও কোনো জটিলতায় আটকে গেল কি না।     নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, ‘এক সপ্তাহের মধ্যে গেজেট হওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। এ কারণে সবাই চিন্তিত।’     গত ৩১ আগস্ট নতুন জাতীয় বেতন কাঠামোর অনুমোদন দেয় সরকার। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। তবে এখন পর্যন্ত সেটি প্রকাশ না হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।     তবে সাবেক আমলারা বলছেন, বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদারের মতে, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর গেজেট প্রকাশের আগে একাধিক প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। এসব কাজ শেষ হতে অনেক সময় কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কয়েক মাসও লেগে যেতে পারে।     কেন সময় লাগছে? সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, নতুন বেতন কাঠামোর অনুমোদনের পর অর্থ মন্ত্রণালয়কে বিস্তারিত প্রজ্ঞাপনের খসড়া প্রস্তুত করতে হয়। এতে বিভিন্ন গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা কীভাবে বাস্তবায়ন হবে, তার বিস্তারিত নির্দেশনা যুক্ত করা হয়।     সাবেক সচিব ড. মো. আনোয়ার উল্ল্যাহ বলেন, শুধু জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী নন, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, সরকারি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার কর্মীদের ক্ষেত্রেও নতুন কাঠামো কীভাবে কার্যকর হবে, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হয়। এসব বিষয় প্রস্তুত করতেই অনেক সময় লাগে।     খসড়া প্রস্তুত হওয়ার পর তা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। সেখানে সংবিধান বা বিদ্যমান আইন-কানুনের সঙ্গে কোনো সাংঘর্ষিক বিষয় রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা হয়। পাশাপাশি আইনি ভাষা ও পরিভাষার যথার্থতাও নিশ্চিত করা হয়, যাতে ভবিষ্যতে কোনো জটিলতা না তৈরি হয়।     এখনও আইন মন্ত্রণালয়ে যায়নি খসড়া যদিও বিভিন্ন গণমাধ্যমে খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর খবর প্রকাশিত হয়েছে, সেটি এখনও অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছেই রয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, গত সপ্তাহে দুই-এক দিনের মধ্যে খসড়াটি ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে বলে জানানো হয়েছিল। কিন্তু রোববার পর্যন্ত সেটি তাদের কাছে পৌঁছায়নি।     অন্যদিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, এটি আটকে থাকার বিষয় নয়। গেজেট প্রকাশের আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও কারিগরি কাজ শেষ করতে কিছুটা সময় লাগছে। বর্তমানে বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা বাস্তবায়নের বিস্তারিত নির্দেশনা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। খুব শিগগিরই খসড়াটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।       অতীতে কত সময় লেগেছিল? সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বশেষ জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে। সে সময় ৭ সেপ্টেম্বর অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেলেও চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হতে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল। অর্থাৎ অনুমোদন থেকে গেজেট প্রকাশ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন মাস সময় লেগেছিল।        সাবেক কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতেও একই ধরনের প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হচ্ছে। তাই কিছুটা বিলম্ব অস্বাভাবিক নয়।       কার কত বেতন বাড়ছে? নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।     ১ম থেকে ১১তম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বেড়েছে প্রায় ১৪২ শতাংশ। সর্বনিম্ন মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। সর্বোচ্চ মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।   সরকার জানিয়েছে, নতুন পে-স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে এবং এটি ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হবে। ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জুলাই মাস থেকেই বর্ধিত বেতনের সুবিধা পাবেন। প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে।       এর আগে জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫ সরকারি কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। সেই সুপারিশ এবং পরবর্তী পর্যালোচনা কমিটির মতামতের ভিত্তিতেই বর্তমান সরকার নতুন বেতন কাঠামোর অনুমোদন দিয়েছে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

গ্যাস মিললেও যান্ত্রিক ত্রুটিতে আটকে আছে সিইউএফএলের সার উৎপাদন

ছবি: সংগৃহীত

গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি: একনেকে উঠছে নতুন মেট্রোরেল প্রকল্প

ছবি: সংগৃহীত

ডিপিডিসিতে আউটসোর্সিং নিয়োগ বাতিলসহ প্রকৌশলীদের ৬ দফা দাবি

বাগেরহাটের রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র। ছবি: সংগৃহীত
রামপালের ইউনিট বন্ধে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে নেমেছে অর্ধেকের নিচে

কারিগরি ত্রুটির কারণে বাগেরহাটের রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কেন্দ্রটির উৎপাদন কমে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।     রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কেন্দ্রটির একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায় বলে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম জানান।        তিনি বলেন, বিভ্রাটের আগে কেন্দ্রটি থেকে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছিল। তবে একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর উৎপাদন ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে আসে। ভারতের আদানি থেকে বিদ্যুৎ আসা শুরু হয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য রামপালের দুই নম্বর ইউনিটটি বন্ধ করা হয়েছে।         ইউনিটটি কতদিন পর চালু করা যাবে জানতে চাইলে জহুরুল ইসলাম বলেন, ইউনিট বন্ধের পর শীতলীকরণ করতে হয়। ভারত থেকে দুজন প্রকৌশলী আসার কথা রয়েছে। তারা আসার পর কাজ শুরু হবে। পুনরায় চালু হতে তিন থেকে চার দিন সময় লেগে যাবে বলে ধারণা করছি।       রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যালয় থেকে জানা যায়, দুটি ইউনিট মিলিয়ে মোট উৎপাদন সক্ষমতা ১৩০০ মেগাওয়াট। কিন্তু দুটি ইউনিট একসঙ্গে চালু থাকলে সর্বোচ্চ ১১০০ থেকে ১২০০ মেগাওয়ার্ট পর্যন্ত উৎপাদন হয়। একটি ইউনিট চালু থাকলে ৫৫০ থেকে ৬০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ পাওয়া যায়।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬

গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে: রাষ্ট্রপতি

ছবি: সংগৃহীত

আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে কৃষি ও খাদ্যপণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত

দুই-এক দিনের মধ্যেই সার সংকট কেটে যাবে: কৃষিমন্ত্রী

0 Comments