আন্তর্জাতিক

রাশিয়ার হামলা ঠেকাতে নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে জার্মানি

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ড্রোন হামলা, সাইবার আক্রমণ ও রাশিয়ার নাশকতামূলক তৎপরতা মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে বিস্তৃত পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে জার্মানি। গত মাসে একটি বিমানবন্দরে ব্যর্থ ড্রোন হামলার পর এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জার্মান সংবাদমাধ্যম বিল্ড অ্যাম জোনটাগ।

 

জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেক্সান্ডার ডোব্রিন্ট সংবাদপত্রটিকে বলেন, রাশিয়ার হাইব্রিড হামলা এখন দৈনন্দিন বাস্তবতার অংশ হয়ে উঠেছে। এসব হামলা আরও বাড়বে বলেও সতর্ক করেন তিনি। তবে তার দাবি, জার্মানি নিজেদের রক্ষা ও প্রতিরোধ করতে সক্ষম।

 

রাশিয়া পশ্চিম ইউরোপে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে অস্বীকার করে আসছে। জার্মান বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার সঙ্গেও জড়িত থাকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে মস্কো। বরং এ ধরনের অভিযোগকে রাশিয়াবিরোধী কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটি।

 

জার্মান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বিল্ড জানিয়েছে, পরিকল্পনার আওতায় পুলিশের মোবাইল ড্রোন প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়ানো হবে। গুরুত্বপূর্ণ পরিবহনকেন্দ্র ও সরকারি এলাকার আকাশসীমা সুরক্ষায় বিভিন্ন শহরে দ্রুত মোতায়েনযোগ্য কাউন্টার-ড্রোন ইউনিট রাখা হবে। এসব ইউনিট প্রয়োজন হলে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ড্রোন শনাক্ত ও প্রতিরোধে কাজ করবে।

 

বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারকদের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে শুধু ড্রোন শনাক্ত নয়, সেগুলো প্রতিহত করার আইনগত ক্ষমতাও দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

পরিকল্পনায় জাতীয় পর্যায়ে একটি সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথাও বলা হয়েছে, যাকে সাইবারডোম নামে অভিহিত করা হচ্ছে। এর আওতায় ডিজিটাল সেন্সরের একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করা হবে, যা সম্ভাব্য সাইবার হামলা শনাক্ত ও প্রতিহত করতে কাজ করবে।

 

এ ছাড়া নাশকতার প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর প্রযুক্তি, বায়োমেট্রিক মুখ শনাক্তকরণ এবং ভিডিও নজরদারি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে সরকার। রেলস্টেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগমস্থলেও এসব প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা রয়েছে।

 

সূত্র : রয়টার্স

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের ৬ তলা মেসবাড়ি ধস: ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধারের আকুতি

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শিক্ষার্থীদের একটি ছয় তলা মেসবাড়ি ধসে পড়ার ঘটনায় বহু মানুষের আটকে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।   ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আটকে পড়া অনেক শিক্ষার্থী ফোন করে বাঁচার আকুতি জানাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও আনন্দবাজার বলছে, রোববার দুপুর দেড়টার দিকে দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় ‘হোস্টেল ডেজ’ নামের ওই ভবনটি হুড়মুড়িয়ে ধসে পড়ে। মূলত দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা ওই ভবনে ভাড়া থাকতেন।   ধ্বংসস্তূপের নিচে ঠিক কতজন আটকে আছেন, তা এখনও নিশ্চিত নয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে অন্তত ১৫ থেকে ৫০ জন আটকে থাকার আশঙ্কার কথা বলছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো।   রোববার ছুটির দিন হওয়ায় ঘটনার সময় বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই ভবনে অবস্থান করছিলেন। আটকে পড়াদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করে দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসের (এইমস) ট্রমা সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।   ঘটনাস্থলে থাকা বিজেপির বিধায়ক অনিল শর্মা সাংবাদিকদের বলেন, “আটকে পড়া বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে ফোন করছেন। ঠিক কতজন ভেতরে আছেন–পাঁচ, দশ নাকি বিশ জন–তা বলা কঠিন। তবে সেখানে যে শিক্ষার্থীরা আটকে আছে, তা নিশ্চিত।”   পুলিশ জানিয়েছে, ৭৫ শয্যার ওই মেসবাড়ির মালিক থাকেন গুরুগ্রামে। ধসে পড়া ভবনের নিচে পার্ক করা বেশ কয়েকটি গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   স্থানীয়রা বলছেন, ভবনটির বেজমেন্টে বা ভূগর্ভস্থ অংশে নির্মাণকাজ চলছিল, যা এই দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হতে পারে।   খবর পেয়ে স্থানীয়দের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও ভারতের জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) সদস্যরা উদ্ধারকাজ শুরু করেন।   অন্তত ১২টি ফায়ার ইঞ্জিন ও এক্সক্যাভেটরসহ ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে। ভিড় সামলাতে দাঙ্গা পুলিশও মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আশপাশের ভবনগুলো খালি করা হয়েছে।   এদিকে, এ দুর্ঘটনার জন্য দুর্নীতিকে দায়ী করেছে আম আদমি পার্টি (এএপি)। দলটির নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ অভিযোগ করেছেন, মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অব দিল্লির (এমসিডি) ভবন নির্মাণ বিভাগে বদলি বাণিজ্যের কারণেই এমন ঘটনা ঘটছে।   তিনি বলেন, "অডিটের নামে কোটি কোটি টাকা লুট করা হবে, কিন্তু বাস্তবে কিছুই বদলাবে না।"   দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত ও লেফটেনেন্ট গভর্নর তরণজিৎ সিং সান্ধু এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। উদ্ধারকাজে সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন তারা।   দিল্লির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশিস সুদ বলেছেন, সরকার নিবিড়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং আটকে পড়াদের নিরাপদে উদ্ধার করাই এখন প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার হামলা ঠেকাতে নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে জার্মানি

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত

ইসরাইলের ভবিষ্যতের স্বার্থে নেতানিয়াহুকে সরানোর দাবি

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সংগৃহীত ছবি

কাতারে হামলা চালানোর কথা দম্ভের সঙ্গে জানালেন নেতানিয়াহু

ছবি: সংগৃহীত
বিমানে হট্টগোল, গালিগালাজ; টেপ দিয়ে বাঁধা হলো যাত্রীকে

টেক্সাস থেকে নিউ জার্সিগামী আমেরিকান এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও সহযাত্রীদের সঙ্গে সহিংস আচরণের অভিযোগে ৬৭ বছর বয়সী এক যাত্রীকে ডাক্ট টেপ ও প্লাস্টিকের জিপ-টাই দিয়ে সিটে বেঁধে রাখেন অন্য যাত্রীরা। পরে বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রের বাল্টিমোর/ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক থারগুড মার্শাল বিমানবন্দরে অবতরণ করলে পুলিশ ওই যাত্রীকে আটক করে।   মেরিল্যান্ড ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটি পুলিশের বরাত দিয়ে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, অভিযুক্ত যাত্রীর নাম আর্থার লানডিন। বৃহস্পতিবার রাতে ডালাস থেকে নেওয়ার্কগামী আমেরিকান এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে এ ঘটনা ঘটে।   কর্তৃপক্ষ ও বিমান সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, উড্ডয়নের প্রায় দুই ঘণ্টা পর লানডিন হঠাৎ অশ্লীল ভাষায় চিৎকার করতে শুরু করেন এবং একপর্যায়ে সহিংস হয়ে ওঠেন। তিনি পাশের এক যাত্রীর ওপর হামলা চালালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অন্য যাত্রীরা এগিয়ে আসেন।   একপর্যায়ে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা জুয়ান মেহিয়াসহ দুই যাত্রী লানডিনকে নিয়ন্ত্রণে নেন। তাঁরা প্লাস্টিকের জিপ-টাই দিয়ে তাঁর হাত বেঁধে দেন এবং ডাক্ট টেপ ব্যবহার করে তাঁকে সিটের সঙ্গে আটকে রাখেন। পরে কর্তৃপক্ষ বিমানে উঠে তাঁকে হেফাজতে নেয়।   ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে মেহিয়া বলেন, মুহূর্তের মধ্যেই বিমানের শান্ত পরিবেশ হট্টগোলে পরিণত হয়। তিনি পেছনে তাকিয়ে এক যাত্রীকে অন্য একজনের গলা চেপে ধরে থাকতে দেখেন। তাঁকে থামানোর পরও ওই ব্যক্তি নারী ও অন্য সহযাত্রীদের উদ্দেশে অপমানজনক ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন।   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় ডালাস থেকে নেওয়ার্কগামী ফ্লাইটটি বাল্টিমোর/ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক থারগুড মার্শাল বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে নেওয়া হয়। সেখানে পুলিশ বিমানে উঠে লানডিনকে হেফাজতে নেয়।   আমেরিকান এয়ারলাইনস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যাত্রী ও কর্মীদের নিরাপত্তা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বিমানে যেকোনো ধরনের সহিংস আচরণের বিরুদ্ধে তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাহসিকতা ও পেশাদারিত্ব দেখানোর জন্য কর্মী ও সহযাত্রীদের ধন্যবাদ জানিয়েছে বিমান সংস্থাটি।   সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
নেতানিয়ায় কিরিয়াত হাশারোন এলাকায় পুলিশের গুলিতে এক ইসরাইলি সেনা নিহত হয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

পুলিশের গুলিতে ইসরাইলি সেনার করুণ মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেনে সরকারি বাহিনী-হুথি সংঘর্ষ, নিহত ৬০

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ দুই দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। ছবি: সংগৃহীত

পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের দুই প্রতিনিধির বৈঠক

ওমান উপসাগরে ইরানের তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফাইল ছবি
মার্কিন হামলায় ওমান উপসাগরে ডুবে গেল ইরানি ট্যাংকার

যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ওমান উপসাগরে  ইরানের তেলবাহী ট্যাংকার ‘এম/টি কায়লো’ ডুবে গেছে। ট্যাংকারটি ডুবে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক ইউনিট সেন্টকম।   এক প্রতিবেদনে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ‘কায়লো’সহ তিনটি ট্যাংকারে হামলা চালায় মার্কিন সেনারা। তারা জানায়, ইরানের বিপ্লবী গার্ড তাদের যুদ্ধজাহাজে হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইরানিদের তেলবাহী ট্যাংকারকে টার্গেট করা হয়েছে।   আজ রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রকাশিত এ ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, হামলার পর ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ট্যাংকারটি ধীরে ধীরে ডুবে যাচ্ছে।   এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সেন্টকম বলেছে, ‘মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেনাদের পেশাদারিত্ব ও নিখুঁততার কারণে (ইরানের) এম/টি কায়লো ওমান উপসাগরে ডুবে গেছে। সমুদ্রের নিচে থাকা ইরানের নৌবাহিনীর সঙ্গে যোগ দিয়েছে এটি।’   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইরানের নৌবাহিনীকে পুরোপুরি ধ্বংস ও তাদের বেশিরভাগ জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার দাবি করে আসছে ওয়াশিংটন।    সেন্টকম মূলত আবারও সেই দাবিটি পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, তারা আগে ইরানের নৌবাহিনীর যেসব জাহাজকে ডুবিয়ে দিয়েছিল, সেগুলোর সঙ্গে নতুন করে এ ট্যাংকারটি যুক্ত হয়েছে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে তাদের তিনটি যুদ্ধজাহাজ ও অনুমতিবিহীন রুটে চলায় হরমুজ প্রণালিতে আরও তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড।   ইরানের নতুন হামলার ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি যুক্তরাষ্ট্র।   সূত্র: আল জাজিরা

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
ইরানে সড়ক দুর্ঘটনার হার বিশ্বের গড়ের তুলনায় প্রায় ২০ গুণ বেশি। ছবি: সংগৃহীত

ইরানে জ্বালানি ট্যাংকারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ১০

ছবি: সংগৃহীত

জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে বিধ্বংসী ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা ইরানের

ছবি: সংগৃহীত

একাই নদী পরিষ্কার করে বিদেশে লোভনীয় চাকরির প্রস্তাব পেলেন ২১ বছরের তরুণ

0 Comments