প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক চলছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) বিকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে বৈঠকটি শুরু হয়।
বৈঠকে সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবরা উপস্থিত রয়েছেন। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি নীতিগত সিদ্ধান্ত ও আইনের খসড়া এ বৈঠকে অনুমোদন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানায়, বৈঠক শেষে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে (তৃতীয় তলায়) সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
সেখানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব সাংবাদিকদের ব্রিফ করবেন এবং বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো বিস্তারিত তুলে ধরবেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
মোটরসাইকেলের সামনের অংশে নম্বরপ্লেট স্থাপন ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধিগত জটিলতা দূর করতে সড়ক পরিবহণ বিধিমালা, ২০২২ সংশোধন করেছে সরকার। সংশোধিত বিধিমালায় মোটরসাইকেলের সামনের নম্বরপ্লেটের নকশা, আকার, অক্ষরের উচ্চতা ও নম্বর লেখার বিন্যাসে পরিবর্তনের সুযোগ রাখা হয়েছে। এর ফলে মোটরসাইকেলের কাঠামো ও নকশা বিবেচনায় সামনে নম্বরপ্লেট স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পথ আরও সুগম হলো। সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের উপসচিব আল-আমীন মো. নূরুল ইসলামের স্বাক্ষরে এ সংক্রান্ত সংশোধিত নীতিমালা জারি করা হয়। ১ নভেম্বর বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রজ্ঞাপনটি প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সংশোধিত বিধান অবিলম্বে কার্যকর হবে। সড়ক পরিবহণ আইন, ২০১৮-এর ১২২ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জারি করা প্রজ্ঞাপনে সড়ক পরিবহণ বিধিমালা, ২০২২-এর ৩৬ বিধির মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেট-সংক্রান্ত বিধানে সংশোধনী আনা হয়েছে। সংশোধিত বিধানে মোটরসাইকেলের সামনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শনের ক্ষেত্রে প্রচলিত বিন্যাসের পাশাপাশি এক লাইনে নম্বর লেখার সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া মোটরসাইকেলের নকশা ও কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সামনের নম্বরপ্লেটের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য নির্ধারণের ক্ষমতা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষকে (বিআরটিএ) দেওয়া হয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষ মোটরসাইকেলের সামনের নম্বরপ্লেটে অক্ষরের উচ্চতা, জেলা বা অঞ্চলের নাম নির্দেশকারী অক্ষরের আকার ও যানবাহনের শ্রেণি নির্দেশকারী অক্ষরের উচ্চতা নির্ধারণ করতে পারবে। একই সঙ্গে নম্বরপ্লেটের উল্লম্ব অংশে ফাঁকা জায়গার পরিমাণ, দুটি সংখ্যার মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থানের দৈর্ঘ্য ও দ্বিতীয় লাইনে সংখ্যাগুলোর মধ্যবর্তী হাইফেনের দৈর্ঘ্যও নির্ধারণ করতে পারবে। এ ছাড়া একই লাইনে রেজিস্ট্রেশন মার্ক লেখার ক্ষেত্রে জেলা বা অঞ্চলের নাম নির্দেশকারী অক্ষর ও যানবাহনের শ্রেণি নির্দেশকারী অক্ষরের পর নির্ধারিত দৈর্ঘ্যের হাইফেন ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ মোটরসাইকেলের সামনের নম্বরপ্লেটের প্রচলিত বিন্যাসের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী বিকল্প বিন্যাস ব্যবহারের বিধিগত সুযোগ তৈরি হয়েছে। সংশোধিত বিধিমালায় মোটরসাইকেলের সামনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শনের ক্ষেত্রে বিপরীতমুখী রেট্রো-রিফ্লেক্টিভ প্লেট ব্যবহারের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে নম্বরপ্লেটের দৃশ্যমানতা ও শনাক্তকরণে সহায়ক প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। প্রজ্ঞাপনে বিধিমালার ৩৬ নম্বর বিধির সংশ্লিষ্ট উপবিধিতে পরিবর্তন আনার পাশাপাশি উপবিধি (১০) থেকে ‘মোটরসাইকেল এবং’ শব্দ দুটি বিলুপ্ত করার কথাও বলা হয়েছে। সংশোধনীর মাধ্যমে মোটরসাইকেলের সামনের নম্বরপ্লেটের নকশা ও বিন্যাসের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ আরও স্পষ্ট করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সড়কে মোটরসাইকেলের চলাচল ও পরিচয় শনাক্তকরণ নিশ্চিত করতে সামনের নম্বরপ্লেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহর ও মহাসড়কে মোটরসাইকেলের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যানবাহন শনাক্তকরণ, ট্রাফিক আইন প্রয়োগ ও সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের মোটরসাইকেলের সামনের অংশের নকশা ও কাঠামো এক রকম নয়। কোনো কোনো মোটরসাইকেলের সামনে প্রচলিত আকারের নম্বরপ্লেট স্থাপন করা কঠিন। আবার সব মডেলের ক্ষেত্রে একই মাপ ও বিন্যাসের নম্বরপ্লেট ব্যবহার করাও বাস্তবসম্মত নাও হতে পারে। এ কারণে মোটরসাইকেলের কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নম্বরপ্লেটের আকার ও বিন্যাস নির্ধারণের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট বিধানের ব্যাখ্যা থেকে ধারণা পাওয়া যায়। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় সিসিটিভি ও স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে যানবাহন পর্যবেক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হলে মোটরসাইকেলের সামনের নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণে সহায়ক হতে পারে। এ ক্ষেত্রে নম্বরপ্লেটের অক্ষর, সংখ্যা ও বিন্যাস নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে সংশোধিত বিধিমালা প্রকাশের ফলে মোটরসাইকেলের সামনের নম্বরপ্লেট স্থাপনের বিষয়ে বিআরটিএর প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও বাস্তবায়ন কার্যক্রম গ্রহণের বিধিগত ভিত্তি তৈরি হয়েছে। তবে কোন ধরনের মোটরসাইকেলে কী আকারের নম্বরপ্লেট স্থাপন করা হবে, নম্বরের বিন্যাস কেমন হবে ও তা বাস্তবায়নের পদ্ধতি কী হবে, সেসব বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ হবে। সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের প্রজ্ঞাপনে সংশোধিত বিধান অবিলম্বে কার্যকর হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে মোটরসাইকেলের সামনের নম্বরপ্লেটের নকশা ও বিন্যাস নির্ধারণে বিআরটিএ এখন সংশোধিত বিধিমালার আলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারবে। সড়ক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বাসসকে জানান, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে অন্যান্য যানবাহনের পাশাপাশি মোটরসাইকেলকেও ক্যামেরার আওতা নিয়ে আসা জরুরি হয়ে পড়েছিল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে সুন্দর দেশ গড়তে কাজ করছে সরকার। আমরা অতীতের সরকারের ধারাবাহিকতা পরিহার করে দেশকে এগিয়ে নিতে চাই। তিনি বলেন, দেশ ও জনগণের উন্নয়নে রাজনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিকসহ সব বিষয়ে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে ছাত্র-জনতাকে এগিয়ে আসতে হবে। আজ রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী (জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস, ২০২৬) উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, বিএনপি প্রতিশ্রুতি দিলে তা বাস্তবায়ন করে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক ব্যবস্থা করা হবে। সরকারের সামর্থ অনুযায়ী ধীরে ধীরে মানুষের সব চাহিদা পুরণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, একটি জাতির উন্নয়নের জন্য সে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি করতে হয়। বর্তমান সরকার সেটি করছে, কিন্তু বিগত আওয়ামী লীগ সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে রেখে গেছে। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা শিক্ষা ব্যবস্থার আরও উন্নয়নে কাজ করছি। দেশের বেকারত্ব দূর করতে কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যেসব শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ হবে না, তারা কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে। এ সময় প্রযুক্তিভিত্তিক, মেধানির্ভর ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। মন্ত্রী বলেন, একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে চিরাচরিত শিক্ষার বাইরে গিয়ে প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও মেধার বিকাশ ঘটানো জরুরি। এ লক্ষ্যে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উদ্ভাবনী গবেষণা, আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির চর্চা ও মেধাভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসতে হবে। মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের স্বার্থে ও জনগণের কল্যাণে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও জনকল্যাণমূলক কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা উচিত। তিনি বলেন, আমাদের মূল নীতি হওয়া উচিত ‘সবার আগে বাংলাদেশ, সবার আগে জনগণ’। দেশ মানে শুধু ভূখণ্ড বা পতাকা নয়, এর পেছনে রয়েছে জনগণের স্বাধিকার ও মালিকানার মেলবন্ধন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাস স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, শহীদ নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টুসহ অন্যান্য ছাত্রনেতাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ঐকান্তিক ইচ্ছায় ১৯৯৫ সালে এই প্রতিষ্ঠানের বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরবর্তীতে বিএনপি সরকারের মেয়াদে ২০০৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় সংসদে আইন পাশের মাধ্যমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করা হয়। বর্তমান ক্যাম্পাস ছাড়াও কেরানীগঞ্জে ২০০ একর জমির ওপর স্বতন্ত্র ও আধুনিক আবাসিক সুবিধা সংবলিত নতুন ক্যাম্পাস নির্মাণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিদাওয়া পূরণের বিষয়ে সরকারের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কথা জানান। শিক্ষাব্যবস্থা ও উচ্চশিক্ষা প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শুধু সনদ বা জিপিএ-৫ অর্জনের মাধ্যমে একটি জাতি উন্নত হতে পারে না। এর জন্য গুণগত পরিবর্তন ও গবেষণামুখী শিক্ষা অপরিহার্য। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কেবল কর্মসংস্থানের জন্য নয়, বরং মুক্তবুদ্ধির চর্চা ও উচ্চতর গবেষণার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠা উচিত। কারিগরি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, সবাইকে কেবল সাধারণ শিক্ষায় উচ্চ ডিগ্রি অর্জন করে বেকার না থেকে, আধুনিক বিশ্বের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনশক্তিতে রূপান্তর করতে হবে। সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও প্রযুক্তি-নির্ভর আধুনিক অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে মন্ত্রী বলেন, আগামী দিনের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে সনাতনী ব্যবস্থার পাশাপাশি ইনোভেটিভ আইডিয়া, প্রযুক্তি-নির্ভর জ্ঞান ও মেধানির্ভর জনবল সৃষ্টির কোনো বিকল্প নেই। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও দেশপ্রেমকে ধারণ করে জাতীয় ঐক্য বজায় রেখে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু ও মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস, ২০২৬ উপলক্ষ্যে দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্যে ছিল জাতীয় পতাকা উত্তোলন, আনন্দ র্যালি, চারুকলা প্রদর্শনী, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কনসার্ট।
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় একটি প্রাইভেটকার দুমড়েমুচড়ে গেছে। এ ঘটনায় গাড়িটির চালক আহত হয়েছেন। তবে প্রাইভেটকারে থাকা এক দম্পতি ও তাঁদের চার-পাঁচ মাস বয়সী শিশু অক্ষত রয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার সারোয়াতলী ইউনিয়নের বেঙ্গুরা স্টেশনের দক্ষিণে খিতাপচর মল্লার ঘাটা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি ওই এলাকা অতিক্রম করার সময় একটি প্রাইভেটকার রেললাইনে উঠে পড়ে। এ সময় ট্রেনের ধাক্কায় গাড়িটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং চালক আহত হন। জানা গেছে, চালক ছাড়াও গাড়িটিতে এক দম্পতি ও তাঁদের চার-পাঁচ মাস বয়সী একটি শিশু ছিল। তাঁরা খিতাপচর মাজার জিয়ারত শেষে শ্রীপুর বুড়া মসজিদে যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনায় চালক আহত হলেও দম্পতি ও শিশুটি অক্ষত রয়েছেন। বোয়ালখালী থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মতিন জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। চালক আহত হলেও গাড়ির অন্য যাত্রীরা সুস্থ রয়েছেন। তাঁরা চট্টগ্রাম নগরী থেকে খিতাপচর মাজার জিয়ারতে এসেছিলেন বলে জানা গেছে। তবে তাঁদের নাম-ঠিকানা পাওয়া যায়নি। গোমদণ্ডী স্টেশন মাস্টার কাঞ্চন ভট্টাচার্য বলেন, বেঙ্গুরা খিতাপচর এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গোমদণ্ডী স্টেশন ত্যাগ করে।