ব্রেন স্ট্রোক ও মিনি-স্ট্রোকের মধ্যে পার্থক্য নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন রয়েছে। ব্রেন স্ট্রোকের ক্ষেত্রে সাধারণত কথা জড়িয়ে যাওয়া, শরীরের একপাশ অবশ হয়ে যাওয়া কিংবা মুখ বেঁকে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়। কখনো শরীরের একপাশ পুরোপুরি পক্ষাঘাতগ্রস্তও হয়ে যেতে পারে। তবে মিনি-স্ট্রোকের ক্ষেত্রে লক্ষণগুলো অনেকটা একই রকম হলেও তা সাধারণত অল্প সময়ের জন্য স্থায়ী হয়।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় মিনি-স্ট্রোককে বলা হয় ‘ট্রানজিয়েন্ট ইসকেমিক অ্যাটাক’ (টিআইএ)। মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হলে এ ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। এর লক্ষণ কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। অনেক সময় লক্ষণ নিজে থেকেই চলে যায়। তবে সাময়িকভাবে সেরে গেলেও এটিকে অবহেলা করার সুযোগ নেই। কারণ, মিনি-স্ট্রোক ভবিষ্যতে বড় ধরনের স্ট্রোকের ঝুঁকির গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত।
হাঁটার সময় হঠাৎ মাথা ঘোরা, চোখে ঝাপসা দেখা, হাত-পা অবশ হয়ে আসা কিংবা কথা বলতে অসুবিধা হওয়া মিনি-স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে। তাই এমন উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
কেন হয় মিনি-স্ট্রোক?
মিনি-স্ট্রোকের অন্যতম কারণ হলো রক্তনালিতে চর্বি ও কোলেস্টেরল জমে যাওয়া। দীর্ঘদিন ধরে রক্তনালির দেয়ালে কোলেস্টেরল, চর্বি ও ক্যালসিয়াম জমে প্লাক তৈরি হতে পারে। এতে ধমনি সরু ও শক্ত হয়ে যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ অবস্থাকে বলা হয় অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস। ফলে মস্তিষ্কে স্বাভাবিক রক্ত চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
এ ছাড়া সরু হয়ে যাওয়া ধমনিতে রক্ত জমাট বেঁধে ছোট ক্লট তৈরি হতে পারে। এই ক্লট রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করলে মিনি-স্ট্রোক দেখা দিতে পারে।
কখনো শরীরের অন্য অংশ, বিশেষ করে হৃৎপিণ্ড থেকে রক্ত জমাটের ছোট টুকরো রক্তপ্রবাহের সঙ্গে মস্তিষ্কে পৌঁছে সরু ধমনিতে আটকে যায়। এর ফলেও মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
মিনি-স্ট্রোকের ব্যতিক্রমী কিছু লক্ষণ
মিনি-স্ট্রোকের লক্ষণ সব সময় পরিচিত উপসর্গের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। কিছু ব্যতিক্রমী লক্ষণও দেখা দিতে পারে। যেমন—
হঠাৎ কোনো ব্যথা ছাড়াই এক চোখের দৃষ্টিশক্তি আংশিক বা পুরোপুরি হারিয়ে যেতে পারে। কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিট এমন সমস্যা স্থায়ী হওয়ার পর আবার দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক হয়ে আসতে পারে।
একইভাবে চোখে দুটি করে দেখা বা ডাবল ভিশনও মিনি-স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে। মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট অংশে রক্ত চলাচল ব্যাহত হলে চোখের নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ুর কার্যক্রমে সমস্যা দেখা দিতে পারে। এতে দৃষ্টি ঝাপসা হওয়া কিংবা দুটি ছবি দেখার মতো উপসর্গ তৈরি হয়।
এ ছাড়া হঠাৎ বিভ্রান্তি, সাময়িক স্মৃতিভ্রংশ, অতিরিক্ত উদ্বেগ কিংবা চিন্তাভাবনায় অসংলগ্নতা দেখা দিতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে আচরণ ও মেজাজেও আকস্মিক পরিবর্তন আসতে পারে।
মাথা না ঘুরলেও সোজা হয়ে দাঁড়াতে অসুবিধা হওয়া, হাঁটার সময় শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা কিংবা চলাফেরায় সমন্বয়হীনতা দেখা দেওয়াও সতর্কসংকেত হতে পারে।
মিনি-স্ট্রোকের ঝুঁকি এড়াতে করণীয়
মিনি-স্ট্রোকের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে তা সাময়িক ভেবে অবহেলা করা যাবে না। অনেকেই ক্লান্তি, মানসিক চাপ কিংবা সাময়িক শারীরিক দুর্বলতা মনে করে এসব উপসর্গ এড়িয়ে যান। এটি বিপজ্জনক হতে পারে। লক্ষণ কয়েক মিনিটের মধ্যে চলে গেলেও দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
পাশাপাশি স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা জরুরি। ধূমপান পরিহার করতে হবে এবং মদ্যপান থেকে বিরত থাকতে হবে। খাদ্যতালিকায় সুষম ও পুষ্টিকর খাবার রাখতে হবে। অতিরিক্ত চর্বি ও লবণযুক্ত খাবার এবং বাইরের খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমাতে হবে।
বিশেষ করে যাদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস কিংবা হৃদ্রোগ রয়েছে, তাদের বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে। নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো জরুরি।
মনে রাখতে হবে, মিনি-স্ট্রোকের লক্ষণ সাময়িকভাবে সেরে গেলেও বিপদ কেটে গেছে—এমনটা ভাবার সুযোগ নেই। দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই বড় ধরনের স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বাড়ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও গর্ভের শিশুর স্বাস্থ্যে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত গরম ও তাপপ্রবাহের কারণে গর্ভপাত, মৃত সন্তান প্রসব, জন্মগত ত্রুটি এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই সন্তান জন্ম দেওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। এ ঝুঁকি শুধু উষ্ণ বা মরুভূমি অঞ্চলের নারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নাতিশীতোষ্ণ ও শীতল জলবায়ুর দেশেও অন্তঃসত্ত্বা নারীরা একই ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে রয়েছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোনো অঞ্চলের স্বাভাবিক তাপমাত্রার তুলনায় সামান্য বৃদ্ধি ঘটলেও গর্ভাবস্থায় বিভিন্ন জটিলতার আশঙ্কা বেড়ে যেতে পারে। অর্থাৎ তাপমাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছানোর প্রয়োজন নেই। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসকারী ১০০ কোটিরও বেশি নারী এ ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার চিকিৎসক ও গবেষক দর্শনিকা লাখুর অভিজ্ঞতাও বিষয়টির গুরুত্ব তুলে ধরেছে। যদিও তার গর্ভাবস্থায় দেখা দেওয়া জটিলতার পেছনে তাপপ্রবাহের ভূমিকা ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে গবেষকদের পর্যবেক্ষণ বলছে, আগে থেকেই স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিতে থাকা নারীদের ওপর অতিরিক্ত তাপমাত্রার নেতিবাচক প্রভাব আরও বেশি হতে পারে। বাড়ছে হিট স্টর্মের সংখ্যা ও স্থায়িত্ব রয়টার্সের সংজ্ঞা অনুযায়ী, কোনো এলাকায় টানা পাঁচ দিন তাপমাত্রা ঐতিহাসিক সর্বোচ্চ তাপমাত্রার ১০ শতাংশের মধ্যে থাকলে সেটিকে তাপপ্রবাহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আর কোনো তাপপ্রবাহ সর্বোচ্চ বিস্তারের সময় পৃথিবীর অন্তত ১ শতাংশ এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়লে তাকে বলা হয় ‘হিট স্টর্ম’। রয়টার্সের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১৯৬০-এর দশকে বিশ্বজুড়ে এ ধরনের হিট স্টর্মের সংখ্যা ছিল মাত্র ৫০টি। অথচ চলতি দশকেই এ সংখ্যা ৬৬৫ ছাড়িয়েছে। সবচেয়ে বিস্তৃত একটি হিট স্টর্ম প্রায় এক বছর স্থায়ী হয়েছিল এবং পৃথিবীর ৮৫ শতাংশ এলাকা অতিক্রম করেছিল। এর প্রভাবে বিশ্বের প্রায় সব অঞ্চলের মানুষ কোনো না কোনোভাবে প্রভাবিত হয়েছেন। মেক্সিকোতে লাখ লাখ শিশুর জন্মসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে রয়টার্স দেখেছে, গর্ভাবস্থার শেষ মাসে তাপপ্রবাহ বা হিট স্টর্মের সংস্পর্শে এলে অপরিণত সন্তান জন্মের হার সর্বোচ্চ ১৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। গর্ভাবস্থায় বাড়ছে নানা জটিলতা দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের জনবহুল এলাকায় চিকিৎসক হিসেবে কাজ করার সময় থেকেই মাতৃস্বাস্থ্য নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয় দর্শনিকা লাখুর। পরবর্তী সময়ে তিনি ইউনিভার্সিটি অব দ্য উইটওয়াটার্সর্যান্ডের একটি গবেষক দলের সঙ্গে যুক্ত হন। দলটি অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ওপর অতিরিক্ত তাপমাত্রার প্রভাব নিয়ে গবেষণা করছিল। গত দেড় দশকে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা একের পর এক রেকর্ড ভাঙার পাশাপাশি গর্ভাবস্থায় তাপপ্রবাহের প্রভাব নিয়েও গবেষণা বেড়েছে। লাখু ও তার সহকর্মীরা এ বিষয়ে প্রায় ২০০টি বৈজ্ঞানিক গবেষণা পর্যালোচনা করে একটি সমন্বিত গবেষণা প্রকাশ করেন। গর্ভাবস্থায় ঠিক কত ডিগ্রি তাপমাত্রা বিপজ্জনক, তা নিয়ে গবেষকদের মধ্যে এখনো মতপার্থক্য রয়েছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণায় ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে ঝুঁকি বৃদ্ধির একটি সীমা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, ১৪টি দরিদ্র দেশের ওপর পরিচালিত আরেক গবেষণায় দেখা গেছে, এর চেয়েও কম তাপমাত্রায় অপরিণত সন্তান জন্ম এবং মৃত সন্তান প্রসবের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে লাখু ও তার সহকর্মীদের গবেষণায় উঠে এসেছে ভিন্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাদের মতে, নির্দিষ্ট কোনো তাপমাত্রার চেয়ে একজন নারী যে পরিবেশের তাপমাত্রায় অভ্যস্ত, তার তুলনায় তাপমাত্রা কতটা বাড়ছে, সেটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় দেখা গেছে, কোনো এলাকায় গর্ভবতী নারীর বসবাসের স্থানের গড় তাপমাত্রা প্রতি ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে মৃত সন্তান প্রসবের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেতে পারে। এ ছাড়া অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে জন্মগত ত্রুটি, গর্ভপাত এবং প্লাসেন্টা বা গর্ভফুল জরায়ুর দেয়াল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও বাড়তে পারে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে মায়ের উচ্চ রক্তচাপ ও প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়ার ঝুঁকিও বাড়ে। প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া গর্ভাবস্থার একটি গুরুতর জটিলতা। এর ফলে কিডনি বিকল হওয়া, হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের মতো প্রাণঘাতী পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বিশ্বে মাতৃমৃত্যুর সাতটির মধ্যে একটিরও বেশি ঘটনার সঙ্গে এ জটিলতার সম্পর্ক রয়েছে। চীনের ২০ লাখ নারীর ওপর পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, অস্বাভাবিক গরমের কারণে প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়ার ঝুঁকি ১৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। আগে থেকেই স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা নারীরা বেশি বিপদে গবেষকদের মতে, সুস্থ অন্তঃসত্ত্বা নারীরাও অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন। তবে আগে থেকে শারীরিক অসুস্থতা কিংবা সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যে থাকা নারীদের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি আরও বেশি। গবেষণায় দেখা গেছে, দরিদ্র নারী, বেশি বয়সে গর্ভধারণ করা নারী, ধূমপায়ী, নিয়মিত ওষুধ গ্রহণকারী এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত অন্তঃসত্ত্বাদের ক্ষেত্রে তাপপ্রবাহের ক্ষতিকর প্রভাব তুলনামূলক বেশি হতে পারে। দর্শনিকা লাখুর গবেষক দলের প্রধান এবং ইউনিভার্সিটি অব দ্য উইটওয়াটার্সর্যান্ডের মাতৃস্বাস্থ্য ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক গবেষক অধ্যাপক ম্যাথিউ চেরসিচ বিশেষভাবে যমজ সন্তান ধারণের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘যমজ সন্তান ধারণের ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থা তাপমাত্রার প্রভাবের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল।’ মাতৃস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন গবেষকদের আশঙ্কা, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপপ্রবাহের ব্যাপ্তি ও স্থায়িত্ব বাড়তে থাকলে অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং গর্ভের শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকিও আরও বিস্তৃত হবে। এ সমস্যা কেবল প্রচণ্ড গরমের দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। স্বাভাবিক তাপমাত্রার তুলনায় সামান্য বৃদ্ধি পেলেও বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে গর্ভাবস্থায় জটিলতা দেখা দিতে পারে। এ পরিস্থিতিতে মাতৃস্বাস্থ্যসেবায় আবহাওয়া ও তাপমাত্রাজনিত ঝুঁকিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। বিশেষ করে আগে থেকেই স্বাস্থ্যগত জটিলতায় থাকা অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত গরমের প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন গবেষকেরা। সূত্র: রয়টার্স
অনেকেই পেশি শক্তিশালী করতে নিয়মিত শরীরচর্চা করেন। কেউ কেউ নিয়ম করে জিমেও যান। তবে পেশি মজবুত করতে শুধু শরীরচর্চা বা জিমেই যাওয়া যথেষ্ট নয়। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কিছু খাবারও যোগ করা জরুরি। পেশির ক্লান্তি দূর করতে, খিঁচুনি রোধ করতে এবং পেশিকে মজবুত ও শক্তিশালী রাখতে পটাশিয়াম একটি অপরিহার্য খনিজ। এটি আপনার শরীরে তরল ও ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখে এবং স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা সচল রাখে। শরীরে পটাশিয়ামের পরিমাণ কমে গেলে পেশির দুর্বলতা, ক্র্যাম্প বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ কারণে পেশি মজবুত করতে খাদ্যতালিকায় পটাশিয়ামযুক্ত খাবার প্রয়োজন হয়। চলুন জেনে নেওয়া যাক, কোন খাবারগুলো পেশি শক্তিশাল করে— আলু আলুতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে। বিশেষ করে খোসাসহ আলু খেলে এর গুণাগুণ আরও বেড়ে যায়। এতে থাকা কার্বোহাইড্রেট ওয়ার্কআউটের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি জোগায় এবং ব্যায়ামের পর পেশির গ্লাইকোজেন স্টোর রিকভার করতে সাহায্য করে। আর ডিম, মাছ, মুরগির মাংস বা ডালের মতো প্রোটিন যুক্ত খাবারের সঙ্গে সেদ্ধ আলু খেতে পারেন। পালংশাক পালংশাকে পটাশিয়ামের পাশাপাশি ফোলেট, ভিটামিন কে এবং অন্যান্য মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট থাকে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পুষ্টির পরিমাণ বাড়াতে ডাল, সবজির তরকারি, স্যুপ বা অমলেটে পালং শাক মিশিয়ে নিতে পারেন। নিয়মিত ডায়েটে এই ধরনের শাকপাতা রাখলে শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি মেটে। কলা কলা পটাশিয়াম ও কার্বোহাইড্রেটের দারুণ একটি উৎস। এতে থাকা কার্বোহাইড্রেট আপনার শরীরে শক্তি ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। অন্যদিকে পটাশিয়াম পেশি ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কাজ বজায় রাখে। এ কারণে ওয়ার্কআউট শুরু করার আগে একটি কলা খেলে শরীরে ভরপুর শক্তি পাবে। টকদই টকদইয়ে প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামের পাশাপাশি পটাশিয়ামও থাকে। ব্যায়ামের পর ভারি খাবার বা স্ন্যাকস হিসেবে এটি খেতে পারেন। চিনি ছাড়া টকদইয়ের সঙ্গে ফল, ওটস বা বাদাম মিশিয়ে খেলে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির দারুণ ভারসাম্য তৈরি হয়। ডাল ডাল, ছোলাসহ অন্যান্য শস্যদানায় পটাশিয়াম, উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, ফাইবার এবং কার্বোহাইড্রেট পাওয়া যায়। যারা নিরামিষ খান, তাদের পুষ্টির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি পেশি ঠিক রাখতে এ খাবারগুলো ভালো কাজ করে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ডাল কিংবা ছোলার মতো খাবার রাখলে শরীর পর্যাপ্ত পটাশিয়াম ও প্রোটিন পায়। ডাবের পানি ডাবের পানিতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম ও তরল থাকে। ব্যায়ামের পর আপনার শরীরে পানির ঘাটতি থাকে। সেই ঘাটতি মেটাতে ও ক্লান্ত পেশিকে আরাম দিতে ডাবের পানি খুব ভালো কাজ করে। অ্যাভোকাডো অ্যাভোকাডোতে পটাশিয়াম, ফাইবার ও আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে। সালাদ, স্যান্ডউইচ বা অন্য যেকোনো সুষম খাবোরের সঙ্গে অ্যাভোকাডো খেতে পারেন।
বাংলাদেশে আবারও শুরু হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের নতুন সংকট। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা শহরে একটানা লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, এমনকি হাসপাতালের রোগীরাও অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তীব্র গরম ও অসহনীয় তাপদাহের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই ভুগছেন। শহরাঞ্চলে ফ্যান, এসি ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গরমে হাঁসফাঁস করছেন মানুষ। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে পানির পাম্প চলতে না পারায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, দিনে প্রায় ৬-৮ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর ফিরে আসছে না। বিশেষ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ছোট কারখানাগুলো এই বিদ্যুৎ সংকটে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ছোট দোকানদাররা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় ফ্রিজ বন্ধ থাকায় খাবারদাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আইটি ও অনলাইনভিত্তিক কাজেও সমস্যা হচ্ছে, কারণ ইন্টারনেট রাউটার, কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি চালাতে বিদ্যুৎ অপরিহার্য। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং আয়-রোজগারে বড় ধাক্কা লাগছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, গ্রীষ্ম মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে জেনারেশন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস সংকটের কারণে পুরো উৎপাদন করতে পারছে না। অন্যদিকে আমদানি নির্ভর কয়লা ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সাময়িক এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে লোডশেডিং কমে আসবে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কতদিন এমন দুর্ভোগ চলবে? বিশেষ করে যেসব এলাকায় দিনে ৮-১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, তাদের জন্য এ আশ্বাস কতটা কার্যকর হবে — তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এবং এর সমাধানে স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিকল্প জ্বালানি উৎস যেমন সৌর ও নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে গুরুত্ব না দিলে প্রতি বছরই এ ধরনের সংকটের পুনরাবৃত্তি হবে। এ অবস্থায় মানুষ চায় বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও দ্রুত সমাধান। বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন আর এক নিত্যকার দুর্ভোগে পরিণত না হয় — সেই প্রত্যাশাই করছে সারাদেশ।