সারাদেশ

গার্মেন্টস শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান ডিআইজির

মো: দেলোয়ার হোসাইন নভেম্বর ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

তৈরি পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে সাভার ও আশুলিয়ায় চলমান শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান। একই সঙ্গে শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

 

সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে সাভারের উলাইল এলাকায় আল-মুসলিম গ্রুপের কারখানার সামনে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

 

এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) শামীমা পারভীন ও সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলমসহ পুলিশের অন্য কর্মকর্তারা।

 

ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ইতোমধ্যে সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। বোর্ড তার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। শ্রমিক ভাই-বোনদের নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। তাদের নিরাপত্তা দিতে পুলিশ কাজ করছে।’

 

তিনি বলেন, ‘মজুরি বোর্ড গঠনের পরও যারা স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করছে, তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন। যারা এমন পরিস্থিতি তৈরি করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং হবে।’

 

ডিআইজি আরও বলেন, ‘কোনোভাবেই তাদের উদ্দেশ্য সফল হতে দেওয়া হবে না। আইনের মধ্যে থেকে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত যাদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে, তাদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে। অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

এদিকে, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে সাভারের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে কয়েকটি কারখানা কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা করেছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন।

 

তিনি বলেন, ‘গতকাল রোববার কিছুটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে সোমবার সকাল থেকেই ঢাকা জেলা পুলিশ নিরাপত্তা জোরদার করেছে। আজ কোনো গার্মেন্টসে হামলার সুযোগ ছিল না। কঠোরহস্তে ঢাকা জেলা পুলিশ পরিস্থিতি দমন করেছে। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গার্মেন্টস মালিকরা নিজেরা ছুটি ঘোষণা করেছেন অথবা কোনো কারণে কারখানা বন্ধ করেছেন।’

 

এসপি শামীমা পারভীন বলেন, ‘পুলিশ কারখানাগুলোর পাশে রয়েছে। কোনো ধরনের নিরাপত্তার ঘাটতি হবে না। শ্রমিকদের রুটি-রুজি ও দেশের অর্থনীতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কারখানা খোলা রাখা এবং শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানানো হয়েছে।’

 

ভাঙচুরে জড়িত ব্যক্তিরা শ্রমিক নন দাবি করে তিনি বলেন, ‘শ্রমিকদের মধ্যে ঢুকে দুষ্কৃতকারীরা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়। এ বিষয়ে শ্রমিকদের সচেতন থাকতে হবে এবং কোনো কুচক্রী মহলের ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না।’

 

এসপি আরও বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কাজ চলছে। হেলমেট বা মাস্ক পরে যারা ভাঙচুর করছে, তাদের বিষয়ে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। ইতোমধ্যে অনেককে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।’

 

শ্রমিকদের উদ্দেশে শামীমা পারভীন বলেন, ‘আপনারা কোনো ধরনের কুচক্রী মহলের ফাঁদে পা দেবেন না। কাজে ফিরে আসুন। নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের। আপনাদের কেউ কাজে বাধা দিলে সেই তথ্য আমাদের দিয়ে সাহায্য করুন। আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব।’

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
শ্রমিকদের দ্রুত কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান বাবুল আখতারের

কাজে ফিরতে আন্দোলনরত পোশাক শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এ খাতের জন্য গঠিত নিম্নতম মজুরি বোর্ডের সদস্য বাবুল আখতার।   রোববার বিকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি বলেছেন, “শ্রমিক ভাইদেরকে অনুরোধ করছি, আপনারা কাজে ফিরে যান এবং আপনারা আপনাদের নিয়মিত কাজে যোগ দেন। অন্য কারও উস্কানিতে, অন্য কারও ধরনের প্ররোচনায় পা দিয়ে আপনাদের শিল্পকারখানা ধ্বংস আপনারা করবেন না।   “এখানে আপনারা কাজ করেন, এই শিল্পটা আপনাদের জন্যও দরকার, সরকারের জন্য দরকার, মালিকের জন্য দরকার। এবং যেহেতু এই ফেডারেশনগুলো আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ধর্মঘট ডাকিনি বা বলিনি, তার পরও যে সমস্ত শ্রমিকরা যদি কেউ অন্যায়-অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকেন, তাহলে কিন্তু বিপদে পড়লে শ্রমিক ফেডারেশনগুলোকে আপনারা পাশে পাবেন না।”   পোশাকশিল্পের মজুরি বোর্ডের এ শ্রমিক প্রতিনিধি বলেন, “আপনারা কাজে ফিরে যান। এবং আপনাদের যে মজুরির দাবি, আমরা যারা শ্রমিক প্রতিনিধি আছি, তারা একসঙ্গে বসে বোর্ডের মাধ্যমে যা কিছু, সেটা আমরা আদায় করব।”   ২০২৩ সালে তৈরি পোশাক খাতের ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়। এক্ষেত্রে মজুরি বেড়েছিল ৫৬ দশমিক ২৫ শতাংশ।   ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে গত কয়েক দিন ধরেই রাজধানীতে শ্রমিক অসন্তোষ চলছে। সোমবারও ঢাকার আশুলিয়া ও গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে।   চলতি বছর শ্রম আইন সংশোধন করে শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করা হয়েছে।   তৈরি পোশাকশ্রমিকদের সর্বশেষ ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হয়েছিল ২০২৩ সালের নভেম্বরে, যা কার্যকর হয় পরের মাসে। সেই হিসাবে পোশাক খাতের বর্তমান নিম্নতম মজুরি হারের মেয়াদ শেষ হবে আগামী মাসে।   বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার বলেন, “আমরা আশা রাখি যে ৩ বছর পর, ডিসেম্বরের... ২৬ শে ডিসেম্বরে আমাদের ৩ বছর মেয়াদ শেষ হবে। আমরা আশা করি আমরা তার ভেতরেই একটা সমাধানে আসব এবং ডিসেম্বরের মজুরি কার্যকর হবে এবং আশা করি শ্রমিকরা জানুয়ারি মাসের সাথে এটা পাবেন।   “অতএব আপনাদেরকে আবারও অনুরোধ জানাই, আপনারা কাজে ফিরে যান। কাজে ফিরে যেয়ে আপনাদের উৎপাদন সচল রাখার জন্য আমি বিশেষভাবে আহ্বান জানাচ্ছি।”   তিনি বলেন, “মাননীয় মন্ত্রী (সালাহউদ্দিন আহমদ) মহোদয় যেটা বলেছেন, যারা গ্রেপ্তার হয়েছে…তারা কয়েকজন বাদে বাদবাকি সবাই কিন্তু বহিরাগত। যাদেরকে শ্রমিক নেতৃবৃন্দ গ্রেপ্তার করেছে, তারা আসলে এই আন্দোলনের সঙ্গে বা কোনো ধরনের মিছিল-মিটিংয়ে জড়িত ছিল না।   “যারা জড়িত না, আমি মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়কেও বলব যে কয়েকজন শ্রমিক নেতা গ্রেপ্তার হয়েছে, তাদেরকেও মুক্তি দেওয়ার জন্য এবং তাদের যাতে হয়রানি করা না হয়, রিমান্ডে নিয়ে যাতে তাদের টর্চার করা না হয়, এটাও আমরা আজকের আহ্বান জানাচ্ছি।”   আন্দোলন থেকে ফিরে আসার আহ্বান শ্রমিকরা না মানলে সেক্ষেত্রে আপনাদের অবস্থান কী হবে, এমন প্রশ্নে বাবুল আখতার বলেন, “সরকার এবং মালিকপক্ষ যে ব্যবস্থা নেবে, সে ব্যাপারে আমাদের সমর্থন থাকবে।”   ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমাদের আহ্বান থাকবে, আমরা এখন থেকে শিল্পে ফিরে যাব, উৎপাদনে ফিরে যাব, ঘরে ফিরে যাব। আমাদের কর্মস্থলে ফিরে যাব। যারা এখনো মজুরি বোর্ড গঠনের পরবর্তী সময়েও ইচ্ছাকৃতভাবে সড়ক-মহাসড়কে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে, তারা অবশ্যই শ্রমিকের বন্ধু হতে পারে না।   “তাদের ভিন্ন স্বার্থ থাকতে পারে। সেটা আমরা সেভাবেই দেখব। তবে আপনাদেরকে আহ্বান জানাব, আপনারা সবাইকে—আমাদের শ্রমিক ভাই-বোনদেরকে আহ্বান জানাবেন যে, আপনাদের মজুরির বিষয়টি মজুরি বোর্ড দেখছে। আজকেই তারা হয়তো প্রথম মিটিং আহ্বান করতে পারতেন, হয়তো খুব শিগগিরই করবেন, আমরাও আহ্বান জানিয়েছি।   “ওইখানেই আপনাদের প্রতিনিধি আছে, তারা কথা বলবেন, মালিকদের প্রতিনিধি আছে, তারা কথা বলবেন। আমরা সবাই মিলে শান্তি, শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা বজায় রাখব, শিল্পের উৎপাদনশীলতা বজায় রাখব, আমাদের অর্থনৈতিক চাকা চালু থাকবে এবং আমাদের রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে। সবাই মিলে আমরা এগিয়ে যাব।”   এর আগে সকালে পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠনের পরও শ্রমিক আন্দোলনের নামে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে।   “আমরা অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বলে দিতে চাই—যারা শ্রমিক আন্দোলনের নামে শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী কাজে লিপ্ত, আইনশৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত এবং অস্থিরতা সৃষ্টি করার জন্য দেশে একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার জন্য বিভিন্ন রকমের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, তাদেরকে কঠোর হস্তে দমন করা হবে, আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মো: দেলোয়ার হোসাইন নভেম্বর ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বরিশালের অভ্যন্তরীণ ৬ রুটে বাস চলাচল বন্ধ, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা

ছবি: সংগৃহীত

গার্মেন্টস শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান ডিআইজির

ছবি: সংগৃহীত

দীপের বক্তব্যে অসংগতি, দিশার জিজ্ঞাসাবাদে মিলবে কি তাহসিফের মৃত্যুরহস্য

ছবি: সংগৃহীত
টানা ৪ দিন গ্যাস সংকটে ভুগবে ঢাকা সহ সারাদেশ

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানীতে গভীর নলকূপ খননের সময় ভূগর্ভ থেকে গ্যাস নির্গত হয়ে আগুন ধরে যাওয়ার ঘটনায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ কর্পোরেশন (পেট্রোবাংলা) ও বাপেক্স। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, আপাতত গ্যাস উন্মুক্তভাবে নির্গমণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। আনুমানিক ১৫ দিনের মধ্যে আগুনের প্রবাহ কমে আসতে পারে বলে জানিয়েছে পেট্রোবাংলা।   গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ছোট ইনানী সেতু-সংলগ্ন এলাকায় গভীর নলকূপ খননের সময় এ ঘটনা ঘটে। প্রায় ১ হাজার ফুট খননের পর ভূগর্ভ থেকে গ্যাস নির্গত হয়ে আগুন ধরে যায়।   ঘটনার পরপরই বাপেক্সের দুইজন ভূতত্ত্ববিদকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তারা কক্সবাজারে অবস্থান করে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।   পেট্রোবাংলার জনসংযোগ বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগুন ছড়িয়ে পড়া রোধে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী গ্যাস উন্মুক্তভাবে নির্গমণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্যাসের প্রবাহ না কমলে বিশেষজ্ঞ দলের মাধ্যমে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে অগ্নিনির্বাপণসহ গ্যাস প্রবাহ বন্ধের কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।   সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ঘটনাস্থলের ১০০ মিটারের মধ্যে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। পেট্রোবাংলা, বাপেক্স ও স্থানীয় প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।   এ ছাড়া ঘটনাস্থল এলাকায় গ্যাসের সম্ভাব্য মজুদ নিরূপণে ভূতাত্ত্বিক জরিপ ও দ্বিমাত্রিক (২ডি) সাইসমিক জরিপসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানিয়েছে পেট্রোবাংলা।   ৪ নভেম্বর থেকে দেশজুড়ে গ্যাসের স্বল্পচাপ, কমবে সরবরাহ   মহেশখালীর সামিট এলএনজি টার্মিনালে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে আগামী ৪ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ কম থাকবে। এ সময়ে সারাদেশে গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করতে পারে বলে জানিয়েছে পেট্রোবাংলা।   পেট্রোবাংলার জনসংযোগ বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ৪ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে ৭ নভেম্বর বিকাল ৪টা পর্যন্ত সামিট এলএনজি টার্মিনালের রিগ্যাসিফিকেশন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।   এ সময় জাতীয় গ্যাস গ্রিডে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ ৯২০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে কমে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসবে। ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের চাপ কম থাকতে পারে।   বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গত বছরের ডিসেম্বরেও একই ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছিল।   গ্যাস সরবরাহে সাময়িক বিঘ্নের কারণে গ্রাহকদের অসুবিধার জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছে পেট্রোবাংলা।

মো: দেলোয়ার হোসাইন নভেম্বর ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

শ্রমিকদের বিক্ষোভে অবরুদ্ধ ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড

ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরে পুলিশের তিন গাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন, আহত সাংবাদিক-বিজিবি সদস্য

মিরপুরে ফের সড়কে নামার চেষ্টা শ্রমিকদের, ধাওয়া পুলিশের

ছবি: সংগৃহীত
গাজীপুরে মহাসড়ক অবরোধ করে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ, ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ অব্যাহত রয়েছে। সোমবার সকাল থেকেই কোনাবাড়ী, সফিপুর, মৌচাক ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিল্পাঞ্চলে ১০ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।   সোমবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নূরুল করিম ভূঁইয়া। তিনি বলেন, শিল্পাঞ্চলে চলমান শ্রমিক অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন। আন্দোলনের নামে রাষ্ট্রীয় সম্পদ, সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষতি যাতে না হয়, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক রয়েছে। অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরাও প্রস্তুত রয়েছেন।   শ্রমিকদের অভিযোগ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির কারণে বর্তমান মজুরিতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। একটি গ্যাসের সিলিন্ডার কিনতেই প্রায় আড়াই হাজার টাকা খরচ করতে হচ্ছে। তাই শুধু নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করলেই হবে না, দ্রুত মজুরি নির্ধারণ করে ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের দাবি, ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করতে হবে। শ্রমিকদের দাবি, তারা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছেন। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বহিরাগতরা জড়িত এবং তারা শ্রমিকদের মধ্যে ঢুকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করছে।   শ্রমিক অসন্তোষের কারণে সোমবার সকাল ৮টা থেকে কোনাবাড়ী, সফিপুর, মৌচাক ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার বিভিন্ন কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে এদিন মোট কতটি কারখানা বন্ধ রাখা হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি শিল্প পুলিশ।   গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন জানান, শ্রমিক আন্দোলনের কারণে রোববার গাজীপুরের শতাধিক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। সোমবারও বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিক বিক্ষোভ চলছে। তবে এদিন কতটি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, সেই সংখ্যা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   এর আগে রোববার সকাল থেকে কোনাবাড়ী, কাশিমপুর, মৌচাক, সফিপুর, চন্দ্রা ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিভিন্ন স্থানে মহাসড়ক অবরোধ করা হলে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। কোথাও কোথাও শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় কোনাবাড়ী এলাকায় একটি পুলিশ বক্স এবং পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ভাঙচুর করা হয় যানবাহনও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। পরে নিরাপত্তা জোরদারে বিজিবি মোতায়েন করা হয়।   এদিকে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় শ্রমিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় কয়েকজনকে আটকও করা হয়েছে বলে জানা গেছে।   শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক বিক্ষোভ অব্যাহত থাকায় কারখানা, মহাসড়ক ও আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন নভেম্বর ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

কাস্টমস গোয়েন্দার অভিযান: ৪ কোটি ৯১ লাখ টাকার স্বর্ণের ডিম উদ্ধার

তাহসিফ সাউরি

তাহসিফ হত্যা মামলা: সিসিটিভি ফুটেজে বান্ধবী দিশা ৪ দিনের রিমান্ডে

ছবি: সংগৃহীত

ইনানীতে গ্যাস নির্গমন ও আগুন: সম্ভাব্য মজুদ নিরূপণে ভূতাত্ত্বিক জরিপ

0 Comments