জাতীয়

গার্মেন্টস শ্রমিকদের ইন্ধন দিয়ে দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মারিয়া রহমান নভেম্বর ০২, ২০২৬
গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

সীমান্তের ওপার থেকে নিরীহ গার্মেন্টস শ্রমিকদের ইন্ধন দিয়ে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

 

 

রোববার (১ নভেম্বর) রাতে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

 

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের কাছে যেসব তথ্য আছে, তাতে আমরা বিশ্লেষণ করে দেখেছি— নিরীহ গার্মেন্টস শ্রমিকদের ব্যবহার করে অনেকেই সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন যোগাচ্ছে, যাতে অস্থিরতার সৃষ্টি করা যায়। যাতে আমাদের রপ্তানি বাণিজ্য ব্যাহত করা যায়, গার্মেন্টসের উৎপাদন ব্যাহত করা যায় এবং দেশে একটি অস্থিরতা সৃষ্টি করা যায়— এই পাঁয়তারা অনেকে করছে। আমরা অত্যন্ত কঠোরভাবে এসব মোকাবিলা করব।

 

 

তিনি বলেন, যারা সহিংস কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত তাদের আমরা আইনের আওতায় নিয়ে এসেছি। পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেকোনো অপতৎপরতা বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে এবং যেকোনো সহিংসতার তৎপরতা তারা আইনের মাধ্যমে মোকাবিলা করবে।

 

 

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি সহিংস আন্দোলনের সঙ্গে কোনো শ্রমিক জড়িত না। কোনো সত্যিকার শ্রমিক সংগঠন এসব অনিয়ম-উচ্ছৃঙ্খল আচরণের সঙ্গে জড়িত না। তারা আলাপ-আলোচনা করবে, তাদের প্রতিনিধির নাম দেয়া হয়েছে, মজুরি বোর্ড গঠিত হয়েছে এবং সেই মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে তাদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ হবে। শ্রমিকদের জীবন-মান যাতে উন্নত হয় এবং তাদের স্বার্থ যাতে রক্ষা হয় সেজন্য প্রধানমন্ত্রী আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন, পরামর্শ দিয়েছেন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
গার্মেন্টস শ্রমিকদের ইন্ধন দিয়ে দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সীমান্তের ওপার থেকে নিরীহ গার্মেন্টস শ্রমিকদের ইন্ধন দিয়ে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।     রোববার (১ নভেম্বর) রাতে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এমন মন্তব্য করেন তিনি।     স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের কাছে যেসব তথ্য আছে, তাতে আমরা বিশ্লেষণ করে দেখেছি— নিরীহ গার্মেন্টস শ্রমিকদের ব্যবহার করে অনেকেই সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন যোগাচ্ছে, যাতে অস্থিরতার সৃষ্টি করা যায়। যাতে আমাদের রপ্তানি বাণিজ্য ব্যাহত করা যায়, গার্মেন্টসের উৎপাদন ব্যাহত করা যায় এবং দেশে একটি অস্থিরতা সৃষ্টি করা যায়— এই পাঁয়তারা অনেকে করছে। আমরা অত্যন্ত কঠোরভাবে এসব মোকাবিলা করব।     তিনি বলেন, যারা সহিংস কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত তাদের আমরা আইনের আওতায় নিয়ে এসেছি। পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেকোনো অপতৎপরতা বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে এবং যেকোনো সহিংসতার তৎপরতা তারা আইনের মাধ্যমে মোকাবিলা করবে।     এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি সহিংস আন্দোলনের সঙ্গে কোনো শ্রমিক জড়িত না। কোনো সত্যিকার শ্রমিক সংগঠন এসব অনিয়ম-উচ্ছৃঙ্খল আচরণের সঙ্গে জড়িত না। তারা আলাপ-আলোচনা করবে, তাদের প্রতিনিধির নাম দেয়া হয়েছে, মজুরি বোর্ড গঠিত হয়েছে এবং সেই মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে তাদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ হবে। শ্রমিকদের জীবন-মান যাতে উন্নত হয় এবং তাদের স্বার্থ যাতে রক্ষা হয় সেজন্য প্রধানমন্ত্রী আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন, পরামর্শ দিয়েছেন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছেন।

মারিয়া রহমান নভেম্বর ০২, ২০২৬
পুলিশ সদর দপ্তর। ছবি: সংগৃহীত

পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশ: ৩৫৭ কর্মকর্তার মামলার তথ্য পাঠাতে হবে মঙ্গলবারে

ছবি: সংগৃহীত

বাহরাইনের চিফ অব স্টাফের সঙ্গে সেনা সিজিএসের সৌজন্য সাক্ষাৎ

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় সভায় বিমানমন্ত্রী মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। ছবি: সংগৃহীত

উড়োজাহাজ ক্রয়ে সরকারের কোনো অর্থ খরচ হচ্ছে না: বিমানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
রাজনীতি এখন প্রাতিষ্ঠানিক ‘বিজনেস মডেল’, দলগুলোতে সুশাসনের ঘাটতি: টিআইবি

সারা দেশে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ সাংগঠনিক কাঠামো থাকা একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয় পরিচালনা ও কর্মসূচি পালনে বছরে ৩০২ থেকে ৩৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রয়োজন হতে পারে।      আর ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত শাখা বিস্তৃত হলে সম্ভাব্য বার্ষিক ব্যয় দাঁড়াতে পারে এক হাজার ৫৩২ থেকে দুই হাজার ১৮৮ কোটি টাকা। অথচ সদস্যদের চাঁদা থেকে এ ব্যয়ের সামান্য অংশই জোগাড় করা সম্ভব। দলগুলোর প্রকাশিত আয়-ব্যয়ের হিসাবের সঙ্গেও সম্ভাব্য ব্যয়ের রয়েছে বড় ব্যবধান।      ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এক গবেষণায় রাজনৈতিক দলগুলোর অর্থায়নের এমন চিত্র তুলে ধরেছে।     রোববার রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। এতে দলগুলোর অর্থায়ন, অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র, নেতৃত্ব নির্বাচন, প্রার্থী মনোনয়ন এবং অনিয়ম-দুর্নীতি প্রতিরোধের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।     ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক অর্থায়নে ব্যক্তিনির্ভরতা এবং অনানুষ্ঠানিক উৎসের প্রাধান্য দলগুলোকে ব্যবসায়ী ও বিত্তশালীদের ওপর নির্ভরশীল করে তুলছে।      এর ফলে দলগুলোর মধ্যে ব্যক্তি ও পরিবারকেন্দ্রিক রাজনীতির বিকাশ ঘটছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, গণতান্ত্রিক চর্চা ও অন্তর্ভুক্তির ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে।     সাংগঠনিক ব্যয় হাজার কোটি ছাড়ায় গবেষণায় রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাংগঠনিক কাঠামো পরিচালনার সম্ভাব্য ব্যয়ের হিসাব করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধনের শর্ত পূরণ করে ন্যূনতম ২২টি জেলা ও ১০১টি উপজেলায় কার্যালয় ও কার্যক্রম পরিচালনা করতেই একটি দলের বছরে প্রায় ১৪ থেকে ২০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।     অন্যদিকে, সব জেলা, মহানগর, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কার্যক্রম বিস্তৃত থাকলে সম্ভাব্য বার্ষিক ব্যয় দাঁড়াবে ৩০২ থেকে ৩৯৩ কোটি টাকা। আর ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত সাংগঠনিক শাখা বিস্তৃত হলে এ ব্যয় বেড়ে এক হাজার ৫৩২ থেকে দুই হাজার ১৮৮ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।   এত বিপুল ব্যয়ের বিপরীতে সদস্যদের চাঁদা থেকে সম্ভাব্য আয় অনেক কম। গবেষণায় বলা হয়েছে, ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত সাংগঠনিক কাঠামোর ক্ষেত্রে সদস্যদের চাঁদা থেকে সম্ভাব্য আয় ১১৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনায় শুধু সদস্যদের চাঁদার ওপর নির্ভর করার সুযোগ নেই। এ অবস্থায় দলগুলোর অর্থের অন্যান্য উৎস ও অর্থ ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।     ব্যবসায়ী ও বিত্তশালীদের পৃষ্ঠপোষকতা টিআইবির গবেষণায় বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন ও কার্যক্রম পরিচালনার বিদ্যমান ব্যবস্থা প্রতিযোগিতামূলক পৃষ্ঠপোষকতা তৈরি করছে। ফলে দলগুলোকে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যবসায়ী ও বিত্তশালীদের পৃষ্ঠপোষকতার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।   গবেষণা প্রতিবেদনে রাজনৈতিক অর্থায়নে ব্যক্তিনির্ভরতা এবং অনানুষ্ঠানিক উৎসের প্রাধান্যকে দলগুলোর অভ্যন্তরীণ সুশাসনের জন্য বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর ফলে প্রভাবশালী দলগুলোতে ক্ষমতার অপব্যবহার, কালো টাকার প্রভাব, দুর্বৃত্তায়ন ও অন্তর্দ্বন্দ্ব বিকশিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।     টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন থেকে শুরু করে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা ও নির্বাচনে অংশগ্রহণ অতিমাত্রায় অর্থনির্ভর হওয়ায় দলগুলো ব্যবসায়ী ও বিত্তশালীদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।     রাজনৈতিক অর্থায়নের এই ব্যক্তিনির্ভরতা ও অনানুষ্ঠানিকতার ফলে প্রভাবশালী দলগুলোতে ক্ষমতার অপব্যবহার, কালো টাকার প্রভাব, দুর্বৃত্তায়ন ও অন্তর্দ্বন্দ্ব বিকশিত হচ্ছে, যা রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতাকেন্দ্রিক বিজনেস মডেলে পরিণত করছে।       আর্থিক নীতিমালা নেই, প্রকাশ হয় না হিসাব গবেষণায় দেখা গেছে, কোনো কোনো রাজনৈতিক দলের আর্থিক নীতিমালা ও কার্যপ্রণালি বিধি নেই। দলগুলোর গঠনতন্ত্রে সদস্যদের পদভেদে চাঁদার হার, অনুদান গ্রহণের শর্ত, মনোনয়ন ফরমের ফি, হিসাব সংরক্ষণ, আর্থিক লেনদেন, ক্রয়, নিরীক্ষা ও আর্থিক জবাবদিহি বিষয়ে নির্দেশনা অস্পষ্ট।     এ ছাড়া দলগুলো নিয়মিত বার্ষিক বাজেট প্রণয়ন করে না। দলগুলোর প্রকৃত বার্ষিক আয়-ব্যয়ের নিরীক্ষিত প্রতিবেদনও দল বা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয় না। ফলে রাজনৈতিক দলগুলোর অর্থের প্রকৃত উৎস, সংগ্রহের পদ্ধতি এবং ব্যয়ের খাত সম্পর্কে সাধারণ মানুষের জানার সুযোগ সীমিত।       কণ্ঠভোটে নেতা নির্বাচন দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র চর্চার ক্ষেত্রেও ঘাটতি রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, অধিকাংশ দল জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে দলীয় প্রধান নির্বাচন করলেও গোপন ব্যালটে ভোটের পরিবর্তে কণ্ঠভোটে নির্বাচন করে। দলীয় প্রধান পদে একাধিক ব্যক্তির মনোনয়ন গ্রহণের চর্চা নেই বললেই চলে। মাত্র দুটি দলে একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী পাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।     গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ১০টি রাজনৈতিক দলে পরিবারকেন্দ্রিক নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত রয়েছে। ১২টি দলের প্রধান ১০ বছর বা তার বেশি সময় ধরে একই পদে দায়িত্ব পালন করছেন। অধিকাংশ দলের গঠনতন্ত্রে একজন ব্যক্তি কতবার বা কত মেয়াদে দলীয় প্রধান থাকতে পারবেন, তা নির্দিষ্ট করা নেই। দলগুলোর আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামো থাকলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ব্যক্তিনির্ভর।     এ ছাড়া তিনটি দলের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ এবং একটি দলের কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া গঠনতন্ত্রে উল্লেখ নেই। ১৬টি দলের জাতীয় কাউন্সিল অনিয়মিত। এসব কাউন্সিলে সাধারণত আগে থেকে নির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়।       মনোনয়নেও অর্থ-প্রতিপত্তির প্রভাব নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতার ঘাটতি পেয়েছে টিআইবি। অধিকাংশ দলের গঠনতন্ত্রে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা ও অযোগ্যতার শর্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই। ছয়টি দলের গঠনতন্ত্রে জনপ্রিয়তা, সততা ও দলের প্রতি আনুগত্যের মতো বিষয় উল্লেখ থাকলেও সেগুলোর সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা নেই।     গবেষণায় প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনি প্রার্থী মনোনয়নে অর্থ-প্রতিপত্তি ও ব্যবসায়ীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। তিনটি প্রভাবশালী দলে প্রার্থী বাছাইয়ে মনোনয়ন-বাণিজ্যের অভিযোগও পাওয়া গেছে। বিগত পাঁচটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যবসায়ী প্রার্থী ও ব্যবসায়ী সংসদ সদস্যের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি লক্ষ্য করেছে গবেষক দল।       ১২ দফা সুপারিশ রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে সুশাসন নিশ্চিত করতে গবেষণা প্রতিবেদনে ১২ দফা সুপারিশ করেছে টিআইবি। এর মধ্যে রয়েছে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা, ২০০৮-এর প্রয়োজনীয় সংশোধন; রাজনৈতিক দলগুলোকে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আনা; নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে দলগুলোর আর্থিক হিসাব যাচাই ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের তদারকি বাড়ানো।     এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনের তালিকাভুক্ত চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফার্মের মাধ্যমে দলগুলোর আর্থিক লেনদেন নিরীক্ষা, নিয়মিত কাউন্সিল আয়োজন, প্রতিটি পর্যায়ের নেতৃত্ব গোপন ভোটে নির্বাচন এবং দলীয় প্রধানসহ নেতৃত্বস্থানীয় পদে একই ব্যক্তির দায়িত্ব পালনের মেয়াদ নির্দিষ্ট করার সুপারিশ করা হয়েছে। দলীয় নেতৃত্ব ও নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে নারী এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে।       ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে সুশাসন নিশ্চিত করতে অভ্যন্তরীণ সংস্কার অপরিহার্য। এ সংস্কারের দায়িত্ব রাজনৈতিক দলগুলোকেই নিতে হবে। গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ ও জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য দলগুলোকে নিজেদের মৌলিক সংস্কারের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।     গবেষণার আওতায় ৪২টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এর মধ্যে ৩৭টি নিবন্ধিত ও পাঁচটি অনিবন্ধিত দল। ৩২টি দল গবেষকদের তথ্য দিয়েছে। গবেষণার তথ্যের সময়সীমা ২০০৮ সালে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন কার্যক্রম শুরুর পর থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। ক্ষেত্রবিশেষে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্যও ব্যবহার করা হয়েছে।

মারিয়া রহমান নভেম্বর ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মজুরির দাবিতে কর্মবিরতি: গাজীপুর ও সাভারে ৩১৮ পোশাক কারখানা বন্ধ

ছবি: সংগৃহীত

পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন, প্রকাশ হলো গেজেট

ফাইল ছবি

এলডিসি উত্তরণ পেছানো বাংলাদেশের বড় কূটনৈতিক অর্জন: হুমায়ুন কবির

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান -ফাইল ছবি
কারখানা সচল রাখতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ, জানমালের নিরাপত্তায় জোর

তৈরি পোশাক কারখানার উৎপাদন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রবিবার রাতে সচিবালয়ে সরকারপ্রধানের সঙ্গে মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের জরুরি বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।   তিনি বলেন, ডিসেম্বরকে সামনে রেখে পোশাক খাতকে অস্থির করার চেষ্টা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করবে সরকার। সেই সঙ্গে তৈরি পোশাক কারখানার উৎপাদন অব্যাহত রাখা ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।   এর আগে, শ্রমিক অসন্তোষ মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে রবিবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে শ্রমিক অসন্তোষের বর্তমান পরিস্থিতি, এর কারণ এবং উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়।   এদিকে গার্মেন্টস শ্রমিকদের নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠন করে গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। রবিবার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মজুরি বোর্ড শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

৭ নভেম্বর জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নির্দেশ, মানতে হবে যেসব প্রতিষ্ঠানকে

ছবি: সংগৃহীত

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিজ্ঞানভিত্তিক নীতির ওপর জোর দিলেন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

শ্রমিক আন্দোলনের প্রভাব, ৮০ কারখানায় ছুটি ঘোষণা

0 Comments