ব্যাবসা-বাণিজ্য

হংকংয়ে বাংলাদেশের পোশাক খাতের সক্ষমতা তুলে ধরল এইচএসবিসি ও বিজিএমইএ

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি নভেম্বর ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের উৎপাদন সক্ষমতা, পণ্যের বৈচিত্র্য ও টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা তুলে ধরতে হংকংয়ে ‘বাংলাদেশ অ্যাপারেল রোডশো-২০২৬’ আয়োজন করেছে এইচএসবিসি বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।

 

২৮ অক্টোবর হংকংয়ের আইল্যান্ড শাংরি-লা হোটেলে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে আন্তর্জাতিক ক্রেতা, পণ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, পোশাক প্রস্তুতকারক ও খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিসহ ১৩০ জনের বেশি প্রতিনিধি অংশ নেন। 

 

হংকংয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের সহযোগিতায় এ আয়োজন করা হয়। 

 

আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

রোডশোতে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা, নতুন বাজার ও পণ্য সংগ্রহের সম্ভাবনা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া পণ্যের বহুমুখীকরণ, উদ্ভাবনী প্রযুক্তির ব্যবহার, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

 

এইচএসবিসির গ্লোবাল নেটওয়ার্ক ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান অলিভার টি জোনসের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে বক্তব্য দেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এবং হংকংয়ে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল ড. শাহ মোহাম্মদ তানভীর মনসুর।

 

অনুষ্ঠানে মোহাম্মদী গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. রুবানা হক ‘হোয়াই বাংলাদেশ: লেগ্যাসি অ্যান্ড দ্য ফিউচার’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এতে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের ধারাবাহিক পরিবর্তন, অর্জন ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।

 

রোডশোতে ‘কেন বাংলাদেশ থেকে পণ্য সংগ্রহ করবেন’ এবং ‘ক্রেতাদের দৃষ্টিকোণ থেকে’ শীর্ষক দু’টি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে এইচএসবিসি, বিজিএমইএ, আন্তর্জাতিক পণ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠান ও শিল্প বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।

 

আলোচনায় বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা, ক্রেতাদের প্রত্যাশা, পরিবেশগত মানদণ্ড, পণ্য সংগ্রহের নতুন প্রবণতা এবং আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে দেশীয় প্রস্তুতকারকদের অংশীদারিত্ব জোরদারের বিষয় উঠে আসে।

 

এ ছাড়া ‘দ্য বাংলাদেশ কালেক্টিভ’ শীর্ষক বিশেষ প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের পোশাকের বৈচিত্র্য, উদ্ভাবন ও আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তি তুলে ধরা হয়। পরে আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি করা হয়।

 

হংকংয়ে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল ড. শাহ মোহাম্মদ তানভীর মনসুর বলেন, উৎপাদন সক্ষমতা, প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ, টেকসই উৎপাদনে অগ্রগতি এবং কৌশলগত বাণিজ্য সুবিধার কারণে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্য। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও বাংলাদেশের পোশাকশিল্প নিজেদের মানিয়ে নেওয়া, উদ্ভাবন ও অগ্রগতির সক্ষমতা প্রমাণ করেছে।

 

এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব উর রহমান বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প এখন শুধু বৃহৎ পরিসরে উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং উচ্চমূল্যের পণ্য, উদ্ভাবন, টেকসই উৎপাদন ও দক্ষতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। পণ্যের বহুমুখীকরণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বৈশ্বিক পোশাকশিল্পে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ।

 

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা এখন আন্তর্জাতিক ক্রেতারা সরাসরি দেখতে ও যাচাই করতে পারছেন। মূল্য সংযোজন, পণ্যের বৈচিত্র্য ও টেকসই উৎপাদনের অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে তিনি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।

 

এইচএসবিসি তার বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং পোশাকশিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের সঙ্গে সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করতে কাজ করছে।

 

আন্তর্জাতিক ক্রেতা, পোশাক প্রস্তুতকারক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো, পণ্য সংগ্রহের উৎস বহুমুখী করা এবং বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির নতুন সুযোগ সৃষ্টিই এ যৌথ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ব্যাবসা-বাণিজ্য

আরও দেখুন
হংকংয়ে বাংলাদেশের পোশাক খাতের সক্ষমতা তুলে ধরল এইচএসবিসি ও বিজিএমইএ

আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের উৎপাদন সক্ষমতা, পণ্যের বৈচিত্র্য ও টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা তুলে ধরতে হংকংয়ে ‘বাংলাদেশ অ্যাপারেল রোডশো-২০২৬’ আয়োজন করেছে এইচএসবিসি বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।   ২৮ অক্টোবর হংকংয়ের আইল্যান্ড শাংরি-লা হোটেলে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে আন্তর্জাতিক ক্রেতা, পণ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, পোশাক প্রস্তুতকারক ও খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিসহ ১৩০ জনের বেশি প্রতিনিধি অংশ নেন।    হংকংয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের সহযোগিতায় এ আয়োজন করা হয়।    আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।   রোডশোতে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা, নতুন বাজার ও পণ্য সংগ্রহের সম্ভাবনা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া পণ্যের বহুমুখীকরণ, উদ্ভাবনী প্রযুক্তির ব্যবহার, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।   এইচএসবিসির গ্লোবাল নেটওয়ার্ক ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান অলিভার টি জোনসের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে বক্তব্য দেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এবং হংকংয়ে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল ড. শাহ মোহাম্মদ তানভীর মনসুর।   অনুষ্ঠানে মোহাম্মদী গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. রুবানা হক ‘হোয়াই বাংলাদেশ: লেগ্যাসি অ্যান্ড দ্য ফিউচার’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এতে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের ধারাবাহিক পরিবর্তন, অর্জন ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।   রোডশোতে ‘কেন বাংলাদেশ থেকে পণ্য সংগ্রহ করবেন’ এবং ‘ক্রেতাদের দৃষ্টিকোণ থেকে’ শীর্ষক দু’টি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে এইচএসবিসি, বিজিএমইএ, আন্তর্জাতিক পণ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠান ও শিল্প বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।   আলোচনায় বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা, ক্রেতাদের প্রত্যাশা, পরিবেশগত মানদণ্ড, পণ্য সংগ্রহের নতুন প্রবণতা এবং আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে দেশীয় প্রস্তুতকারকদের অংশীদারিত্ব জোরদারের বিষয় উঠে আসে।   এ ছাড়া ‘দ্য বাংলাদেশ কালেক্টিভ’ শীর্ষক বিশেষ প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের পোশাকের বৈচিত্র্য, উদ্ভাবন ও আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তি তুলে ধরা হয়। পরে আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি করা হয়।   হংকংয়ে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল ড. শাহ মোহাম্মদ তানভীর মনসুর বলেন, উৎপাদন সক্ষমতা, প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ, টেকসই উৎপাদনে অগ্রগতি এবং কৌশলগত বাণিজ্য সুবিধার কারণে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্য। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও বাংলাদেশের পোশাকশিল্প নিজেদের মানিয়ে নেওয়া, উদ্ভাবন ও অগ্রগতির সক্ষমতা প্রমাণ করেছে।   এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব উর রহমান বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প এখন শুধু বৃহৎ পরিসরে উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং উচ্চমূল্যের পণ্য, উদ্ভাবন, টেকসই উৎপাদন ও দক্ষতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। পণ্যের বহুমুখীকরণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বৈশ্বিক পোশাকশিল্পে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ।   বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা এখন আন্তর্জাতিক ক্রেতারা সরাসরি দেখতে ও যাচাই করতে পারছেন। মূল্য সংযোজন, পণ্যের বৈচিত্র্য ও টেকসই উৎপাদনের অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে তিনি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।   এইচএসবিসি তার বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং পোশাকশিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের সঙ্গে সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করতে কাজ করছে।   আন্তর্জাতিক ক্রেতা, পোশাক প্রস্তুতকারক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো, পণ্য সংগ্রহের উৎস বহুমুখী করা এবং বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির নতুন সুযোগ সৃষ্টিই এ যৌথ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি নভেম্বর ০২, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র শর্ত মানলে দুই দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলতে প্রস্তুত ইরান

রাজধানীতে ৬-৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘৫ম আদিবাসী খাদ্য ও শস্য মেলা’

পার্সেলের ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন শুল্ক কার্যকর

সংগৃহীত ছবি
মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ, বিভক্ত আবুল খায়ের গ্রুপ

বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী আবুল খায়ের গ্রুপে পারিবারিক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও মালিকানা নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে। গ্রুপটির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত আবুল খায়েরের চার ছেলের মধ্যে ব্যবসার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় কার্যত আলাদা পথে হাঁটছেন তারা।     পরিবারের বড় ছেলে ও গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম নিজের উদ্যোগে নতুন ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য গড়ে তুলছেন। অন্যদিকে তার তিন ভাই পরিচালনা করছেন আবুল খায়ের গ্রুপের প্রধান ব্যবসা ও ব্র্যান্ডগুলো।     আবুল খায়ের গ্রুপের বার্ষিক টার্নওভার আনুমানিক ৫০ হাজার কোটি টাকা। তবে এত বড় ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের আনুষ্ঠানিক বিভাজন এখনো হয়নি।     মালিকানা, ব্যবস্থাপনার নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবসা সম্প্রসারণে কার অবদান কতটুকু—এসব বিষয় নিয়ে চার ভাইয়ের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। সমঝোতার সঙ্গে যুক্ত ব্যাংকার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।     প্রতিবেদন অনুযায়ী, আবুল কাশেম স্মাইল ফুড প্রোডাক্টসের মাধ্যমে খাদ্যপণ্যের ব্যবসা সম্প্রসারণ করছেন। সম্প্রতি তিনি আবদুল মোনেম সুগার রিফাইনারি, যা ইগলু সুগার নামে পরিচিত এবং গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালসের ভোজ্যতেলের ব্যবসা অধিগ্রহণ করেছেন।   এ দুটি অধিগ্রহণে মোট প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। অন্যদিকে গ্রুপের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু সাঈদ চৌধুরী ও তার দুই ভাই শাহ সিমেন্ট, একে এস স্টিল, মার্কস ফুল ক্রিম মিল্ক পাউডার, সিলন টি এবং স্টারশিপ কনডেন্সড মিল্কের মতো প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডের ব্যবসা পরিচালনা করছেন।     আবুল কাশেম এখনো গ্রুপের চেয়ারম্যান। তবে ব্যাংকারদের ভাষ্য, গ্রুপের মূল ব্যবসাগুলোর দৈনন্দিন সিদ্ধান্ত গ্রহণে তার ভূমিকা সীমিত হয়ে পড়েছে। তিন ভাই মিলে এখন প্রধান ব্যবসাগুলো পরিচালনা করছেন।   সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, চার ভাই নীতিগতভাবে ব্যবসায় সমান মালিকানা, অর্থাৎ প্রত্যেকের ২৫ শতাংশ করে অংশীদারত্বের বিষয়ে একমত হয়েছেন। কিন্তু কোন ভাই কোন প্রতিষ্ঠান বা সম্পদ পাবেন, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কাশেমের সাম্প্রতিক অধিগ্রহণ করা প্রতিষ্ঠানগুলোও পরিবারের সম্মিলিত ব্যবসার পরিবর্তে তার ব্যক্তিগত অংশের বিপরীতে কেনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন গ্রুপটির সঙ্গে যুক্ত ব্যাংকাররা।     যেভাবে গড়ে ওঠে আবুল খায়ের গ্রুপ ১৯৭৬ সালে আবুল খায়ের মারা যাওয়ার সময় তার বড় ছেলে আবুল কাশেম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের ব্যবসার দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি সাত ছোট ভাইবোনের দেখাশোনার দায়িত্বও তার কাঁধে পড়ে।     উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া ব্যবসার পরিসর খুব বড় ছিল না। চারটি বিড়ি কারখানা, একটি ইটভাটা, একটি সিনেমা হল, চট্টগ্রামের জেল রোডে একটি ট্রেডিং ব্যবসা এবং কিছু জমি ছিল তাদের সম্পদ।     পরবর্তী সময়ে ছোট ভাইদের ব্যবসায় যুক্ত করেন কাশেম। তাদের সহযোগিতা করেন এবং ধীরে ধীরে ব্যবসার দায়িত্বও বুঝিয়ে দেন।     ১৯৯৩ সালে ঢেউটিন উৎপাদনের ব্যবসায় প্রবেশের মধ্য দিয়ে আবুল খায়ের গ্রুপের শিল্পগোষ্ঠী হয়ে ওঠার যাত্রা শুরু হয়। ‘গরু মার্কা ঢেউটিন’ বাজারে ব্যাপক পরিচিতি পায়। ২০০২ সালে সিমেন্ট ব্যবসায় প্রবেশ করে গ্রুপটি। এরপর ইস্পাত, দুগ্ধজাত পণ্যসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের ব্যবসায় সম্প্রসারণ ঘটে।     এভাবেই শাহ সিমেন্ট, একে এস স্টিল, মার্কস, সিলন টি ও স্টারশিপের মতো ব্র্যান্ড গড়ে ওঠে।     তবে ২০০৩ সালে কাশেমের এক ভাইয়ের আকস্মিক মৃত্যুর পর পারিবারিক ব্যবসার নেতৃত্বে পরিবর্তন আসে। একপর্যায়ে ব্যবসা থেকে নিজেকে অনেকটা গুটিয়ে নেন কাশেম। দীর্ঘ সময় তিনি ব্যবসায়িক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তেমন সক্রিয় ছিলেন না। এ সময় তার অন্য ভাইয়েরা ব্যবসার দায়িত্ব নিয়ে গ্রুপের সম্প্রসারণ অব্যাহত রাখেন।     বিরোধের শুরু যেভাবে ২০২২ সালের দিকে কাশেম আবার সক্রিয়ভাবে ব্যবসায় যুক্ত হন। এরপর পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মের অংশগ্রহণ ও ব্যবসার ব্যবস্থাপনা নিয়ে মতপার্থক্য দেখা দেয়।     গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত একজন ব্যক্তির দাবি, কাশেম মনে করতেন, তার ছেলেকে পারিবারিক ব্যবসায় যথাযথ দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।     তবে অন্য ভাইদের অবস্থান ভিন্ন। তাদের যুক্তি, কাশেম যখন ব্যবসা থেকে সরে দাঁড়ান, তখন গ্রুপের আকার বর্তমানের তুলনায় অনেক ছোট ছিল। পরবর্তী সময়ে তারা নিজেদের উদ্যোগ ও ঝুঁকিতে ব্যবসার সম্প্রসারণ ঘটিয়েছেন। তাই এই প্রবৃদ্ধিতে তাদের অবদানও যথাযথভাবে বিবেচনা করা উচিত।     সমঝোতার উদ্যোগে যুক্ত এক ব্যাংকার বলেন, অন্য ভাইদের ধারণা, তাদের ব্যবস্থাপনাতেই ব্যবসার সম্প্রসারণ ঘটেছে। তারা দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যবসা শুধু টিকে থাকেনি, বরং আরো বড় হয়েছে।     অন্যদিকে কাশেম মনে করেন, পরিবারের ব্যবসার ভিত্তি গড়ে তোলা, ছোট ভাইদের প্রতিষ্ঠিত করা এবং দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে তার অবদান বর্তমান মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা কাঠামোয় স্বীকৃতি পাওয়া উচিত।     ফলে দুই পক্ষই পারিবারিক ব্যবসার উত্তরাধিকার নিজেদের বলে মনে করলেও মালিকানা, নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবসার প্রবৃদ্ধির কৃতিত্ব বণ্টন নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছে।       সমঝোতার উদ্যোগও থেমে গেছে ব্যবসার বিভাজন নিয়ে সাত থেকে আট বছর ধরে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ২০২৫ সালে কয়েকজন ব্যাংকারের উদ্যোগে আদালতের বাইরে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়।     প্রস্তাব ছিল, গ্রুপের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের সম্পদের মূল্য নির্ধারণ করে চার ভাইয়ের মালিকানার অংশ অনুযায়ী ব্যবসা ভাগ করে দেওয়া হবে। উদাহরণ হিসেবে, ১০০ কোটি টাকা মূল্যের কোনো প্রতিষ্ঠানে একজনের মালিকানা ২৫ শতাংশ হলে তিনি ২৫ কোটি টাকার সমপরিমাণ সম্পদ পাবেন।     প্রথম দিকে এ উদ্যোগে অগ্রগতি হলেও সম্পদ ভাগের পদ্ধতি নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মতৈক্য হয়নি। একপর্যায়ে আলোচনা বন্ধ হয়ে যায়। সমঝোতার উদ্যোগে যুক্ত ব্যাংকাররাও সরে দাঁড়ান।       এ ছাড়া পরিবারটি আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করেছে এবং আইনি পদক্ষেপের বিষয়টিও বিবেচনা করেছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকারদের তথ্য অনুযায়ী, সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময় পর্যন্ত কোনো মামলা করা হয়নি।     ব্যাংকগুলোকে চিঠি চেয়ারম্যানের মালিকানা নিয়ে বিরোধের মধ্যেও আবুল কাশেম গ্রুপের চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন। তবে ব্যাংকারদের দাবি, গ্রুপের মূল ব্যবসাগুলোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তার তিন ভাই।     একজন ব্যাংকার জানিয়েছেন, কয়েক মাস আগে কাশেম ব্যাংকগুলোকে চিঠি দিয়ে তার সম্পৃক্ততা ছাড়া পরিচালনা পর্ষদের কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করার অনুরোধ জানান।     তবে ব্যাংকগুলো আগের মতোই লেনদেন চালিয়ে যাচ্ছে। ব্যাংকারদের ভাষ্য, দুজন পরিচালকের স্বাক্ষর করা বোর্ডের সিদ্ধান্তকে লেনদেনের জন্য যথেষ্ট বিবেচনা করা হচ্ছে।     সংশ্লিষ্ট ব্যাংকাররা আরো জানিয়েছেন, পারিবারিক বিরোধ থাকলেও গ্রুপের প্রধান ব্যবসাগুলো স্বাভাবিকভাবে চলছে। ব্যাংকের পাওনা পরিশোধেও বড় কোনো সমস্যা দেখা যায়নি।     এ বিষয়ে আবুল খায়ের গ্রুপের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানতে চাইলে গ্রুপের কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি।     নতুন ব্যবসায় বড় বিনিয়োগ কাশেমের একদিকে পারিবারিক ব্যবসার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে আলোচনা চলছে, অন্যদিকে নিজের ব্যবসার পরিসর বাড়াচ্ছেন আবুল কাশেম।     শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য অনুযায়ী, আবদুল মোনেম সুগার রিফাইনারি কিনতে তিনি অন্তত ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা এবং গ্লোব এডিবল অয়েলের ব্যবসা অধিগ্রহণে ২ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় করেছেন। এ অধিগ্রহণের সঙ্গে ঢাকার তেজগাঁও শিল্প এলাকায় কয়েক একর জমিও যুক্ত হয়েছে।     খাদ্য, পানীয় ও বিস্কুট খাতের আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণের বিষয়ে আলোচনা করছেন তিনি। এ ছাড়া মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ার হোসেন্দী অর্থনৈতিক অঞ্চলে সিটি গ্রুপের কয়েকটি প্রকল্প কেনার আগ্রহও দেখিয়েছেন কাশেম।     সিটি গ্রুপ ওই অর্থনৈতিক অঞ্চলে কাগজ, সিমেন্ট, সিরামিক, রাসায়নিক ও জাহাজ নির্মাণ খাতের ছয়টি বড় শিল্প ও অবকাঠামো প্রকল্প গড়ে তুলেছে। আর্থিক সংকটের কারণে প্রতিষ্ঠানটি কিছু সম্পদ বিক্রির চেষ্টা করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।     সংশ্লিষ্ট এক ব্যাংকারের ভাষ্য, আনুষ্ঠানিকভাবে পারিবারিক ব্যবসার বিভাজন না হলেও বাস্তবে আলাদা হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কাশেম স্মাইল ফুডসহ নিজের নতুন ব্যবসাগুলো পরিচালনা করছেন। অন্যদিকে তার তিন ভাই আবুল খায়ের গ্রুপের প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ড ও ব্যবসাগুলোর দায়িত্ব পালন করছেন।     ওই ব্যাংকার আরো বলেন, গ্রুপের মূল ব্যবসাগুলো ভালো করছে এবং ব্যাংকের দায় নিয়মিত পরিশোধ করছে। অন্যদিকে আবুল কাশেম নতুন কারখানা অধিগ্রহণ ও ব্যবসায়িক লেনদেনের মাধ্যমে নিজের ব্যবসার পরিধি বাড়াচ্ছেন।     সব মিলিয়ে দেশের অন্যতম বৃহৎ পারিবারিক শিল্পগোষ্ঠী আবুল খায়ের গ্রুপে আনুষ্ঠানিক বিভাজন না হলেও দুই ধারায় ব্যবসা পরিচালনার বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। তবে ৫০ হাজার কোটি টাকার এই ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের চূড়ান্ত মালিকানা কীভাবে নির্ধারিত হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। তথ্য সূত্র : দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

মারিয়া রহমান অক্টোবর ৩০, ২০২৬

খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন-লাইসেন্স বাধ্যতামূলক: স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের অনুমোদন

রেমিট্যান্স ও ডিজিটাল আর্থিক সেবা সম্প্রসারণে ওয়ান ব্যাংক ও নগদের চুক্তি

সয়াবিন তেল। ছবি: সংগৃহীত
সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১৪ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব, এক লিটার হতে পারে ২১৮ টাকা

বাজারে বোতলজাত ও খোলা সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ১৪ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে দেশের ভোজ্যতেল উৎপাদন ও পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলো। প্রস্তাব অনুযায়ী, এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ২০৪ টাকা থেকে বেড়ে ২১৮ টাকা এবং পাঁচ লিটারের বোতলের দাম ১ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৭০ টাকা হতে পারে। একই সঙ্গে খোলা সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটার ১৮৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা করার আবেদন জানিয়েছে তারা।   আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, দেশে জ্বালানি খরচ ও পরিবহন ভাড়া বেড়ে যাওয়াকে দাম বাড়ানোর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে কোম্পানিগুলো। তবে তাদের প্রস্তাবে এখনো সম্মতি দেয়নি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।   সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে নতুন দাম নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে ভোজ্যতেল উৎপাদন ও পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। গত ১৩ অক্টোবর পাঠানো ওই চিঠিতে ২৫ অক্টোবর থেকে নতুন দাম কার্যকরের কথা জানানো হয়েছিল।   চিঠিতে সংগঠনটির নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম মোল্লা উল্লেখ করেন, গত ছয় মাস ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী। প্রতি টন ভোজ্যতেলের দাম ১ হাজার ৩০০ ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ৩২৫ ডলারে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক বাজারের বর্তমান দর অনুযায়ী উৎপাদন ও অন্যান্য খরচ হিসাব করলে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রায় ২৩৩ টাকা হওয়ার কথা বলেও দাবি করেছে সংগঠনটি। এর সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।   ভোজ্যতেল পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলোর দাবি, গত ২ সেপ্টেম্বর সর্বশেষ দাম সমন্বয়ের সময় সরকার দ্রুত আবারও মূল্য পুনর্বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু এরপর দীর্ঘ সময় দাম না বাড়ানোয় লোকসানের মুখে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হচ্ছে তাদের।   সংগঠনটির আশঙ্কা, দ্রুত দাম সমন্বয় করা না হলে বাজারে ভোজ্যতেলের সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হতে পারে। এতে আসন্ন রমজান মাসে বাজারে তেলের সরবরাহ ও প্রাপ্যতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।   উল্লেখ্য, গত ২ সেপ্টেম্বর দেশের বাজারে সর্বশেষ সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। তখন এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এবার কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব কার্যকর হলে বোতলজাত ও খোলা- উভয় ধরনের সয়াবিন তেলের দাম আরও বাড়বে। তবে এ বিষয়ে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২৮, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

অদরকারি টিন সার্টিফিকেট বাতিলের সহজ উপায় ও নিয়মাবলি

ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রায়ত্ত তিন ব্যাংকে নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ

0 Comments