স্বাস্থ্য

পেট ভরে খেয়েও কমবে ওজন, মানতে হবে যেসব নিয়ম

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৬, ২০২৬
প্রতীকী ছবি।
প্রতীকী ছবি।

পেট ভরে খেয়েও ওজন কমানো এবং শরীরের বাড়তি মেদ ঝরানো পুরোপুরি সম্ভব। তবে এর জন্য না খেয়ে থাকার কোনো প্রয়োজন নেই। বরং সঠিক খাবার নির্বাচন ও লাইফস্টাইলের কিছু সাধারণ পরিবর্তনই যথেষ্ট।

 

সে জন্য খাবারের প্লেটে পুষ্টির ভারসাম্য আনা প্রয়োজন। প্রোটিনের পরিমাণ বাড়াতে হবে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় মাছ, মাংস, ডিম, ডাল বা পনিরের মতো প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার বেশি রাখুন। প্রোটিন হজম হতে সময় নেয়, যা পেট দীর্ঘক্ষণ ভরিয়ে রাখে এবং মেটাবলিজম বাড়িয়ে চর্বি গলাতে সাহায্য করে থাকে। আর সাদা ভাতের বদলে লাল চালের ভাত, ওটস কিংবা ডালিয়া খেতে পারেন। এ ছাড়া প্রতিদিনের খাবারে প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি ও সালাদ রাখুন। এগুলো কম ক্যালরিতে পেট ভরিয়ে দেয়। আর চর্বি কমানোর জন্য চর্বি খাওয়া একেবারে বন্ধ করবেন না। কারণ খাবারে বাদাম, অলিভ অয়েল কিংবা ঘির মতো স্বাস্থ্যকর ফ্যাট রাখুন।

 

মনে রাখবেন, ওজন কমানোর নিয়ে বিভ্রান্তির শেষ নেই। কেউ না খেয়ে থাকেন, কেউ শুধু প্রোটিন খান, কেউ প্রবল কায়িক শ্রম করে দুর্বল হয়ে পড়েন, আবার কেউ বা খাবার ত্যাগ করার ভয়ে শুরুই করেন না। কখনো প্রবল নিয়মে হিতে বিপরীত হয়, কখনো অনিয়মে মেদ জমতেই থাকে। আর তারপর হতাশা ছাড়া কিছুই থাকে না জীবনে।

 

অথচ ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিটি খাবারের ক্যালোরি গুনতে হবে কিংবা পেট ভরে খাওয়া যাবে না— এমন নয়। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং খাবারের পরিমাণ বুঝে খাওয়ার মতো কয়েকটি অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে কাজে আসতে পারে। সম্প্রতি পুষ্টিবিদ কৃতি ঠাকরে ওজন কমানোর এমন পাঁচটি স্বাস্থ্যকর নিয়মের কথা বলেছেন, যা শুনে কঠিন মনে হয় না এবং রোগা হওয়ার তাগিদ তৈরি হয়।

 

স্লিম হয়ে থাকার জন্য পাঁচটি পন্থা অবলম্বন করা উচিত। চলুন জেনে নেওয়া যাক রোগা হওয়ার পাঁচ পন্থা—

 

১. চিনি বাদ

চা ও কফিতে অতিরিক্ত চিনি বা নরম পানীয় থেকে আইসক্রিম খাওয়া বন্ধ করতে হবে। চিনির সিরাপ দেওয়া শরবত হোক কিংবা খাবারে লুকিয়ে থাকা চিনি— এসবের মাধ্যমে শরীরে অনেকটা অতিরিক্ত ক্যালোরি ঢুকে পড়তে পারে। 

 

২. ঠান্ডা পানি বাদ

তরল খাবার বা ঠান্ডা পানীয় থেকে অতিরিক্ত চিনি সেবন করে ফেলেন অনেকেই। কিন্তু সেটা বোঝা যায় না। ধরা যাক— মিষ্টি খাচ্ছেন বেশি করে, তাতে যতটা পেট ভরবে, ঠান্ডা পানীয়ে সেটি হবে না। সেখানে পেট ভরার অনুভূতি তৈরি হয় না বলে অতিরিক্ত পান করা যায়। আর সেখান থেকে প্রচুর ক্যালোরি গ্রহণ করে দেহ। 

 

৩. ৩-২-১ থালা সাজানোর পদ্ধতি

প্রতিবার খাবার খাওয়ার সময়ে কতটা ভাত কিংবা রুটি নেবেন, কতটা সবজি খাবেন, তা নিয়ে দ্বিধায় পড়েন? এ সমস্যা এড়াতে কাজে আসতে পারে ৩-২-১ থালা সাজানোর পদ্ধতি। খাওয়ার থালাকে ছয় ভাগে ভাগ (৩, ২ ও ১) করে নিতে হবে। এর তিনটি ভাগে সবজি রাখতে হবে। তার পরের দুই ভাগে প্রোটিন রেখে বাকি কেবল এক ভাগে কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার রাখতে হবে।

 

৪. ৮০ শতাংশ পেট ভরলে খাওয়া বন্ধ

খাবার সামনে থাকলে অনেকেই পেট ভরে যাওয়ার পরও খেতে থাকেন। কখন থামতে হবে, তা বুঝতে পারেন না। তাই খাওয়ার সময়ে পেট ভরার সংকেতের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। পুষ্টিবিদের মতে, ৮০ শতাংশ পেট ভরে গেলে খাওয়া বন্ধ করে দিতে হবে। জাপানেও এ পদ্ধতি মেনেই খাবার খাওয়া হয়। এর ফলে হুট করে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ হয় না। তাই খাবার খাওয়ার সময়ে মন দিয়ে খেতে হবে, যাতে পেট ভরলে সেটি বোঝা যায়।

 

৫. খাওয়ার পর হাঁটা

পুষ্টিবিদরা বলছেন, খাবার খাওয়ার পর ১৫-২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর ১ হাজার পা হাঁটুন। সঙ্গে ৩০ বার ‘কাফ রেইজিং’ এবং ৩০ বার ‘চেয়ার সিট’ ব্যায়াম করুন। 

সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে পায়ের গোড়ালি মাটির ওপর তোলা এবং পায়ের পাতার সামনের অংশে ভর দিয়ে পুরো শরীরকে উপরের দিকে তুলে ধরাকেই ‘কাফ রেইজিং’ ব্যায়াম বলা হয়। আর ‘চেয়ার সিট’ হলো পোক্ত চেয়ার রেখে তাতে বসা এবং উঠে দাঁড়ানো। হাতে কোনো ভর না দিয়ে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

স্বাস্থ্য

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
দেশে হামের উপসর্গে আরও ৫ মৃত্যু, একদিনে হাসপাতালে ১২১০ রোগী

দেশে হামের সংক্রমণ ও উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে এক হাজার ২১০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।   শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বুলেটিন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এই পাঁচজনের মৃত্যু হয়।   চলতি বছরে মোট মৃত্যু ১১৮৬ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ১০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন এক হাজার ৮২ জন। সব মিলিয়ে নিশ্চিত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ১৮৬ জনে।   সর্বোচ্চ রোগী ঢাকা বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের আট বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। বিভাগটিতে নতুন করে ৪৮০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৭৭ জন ভর্তি হয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগে। এ ছাড়া সিলেট বিভাগে ১৩৬ জন, বরিশালে ১০৮ জন, খুলনায় ১০৭ জন, ময়মনসিংহে ৭০ জন, রাজশাহীতে ২৫ জন এবং রংপুরে সাতজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।   হাসপাতালে ভর্তি ছাড়িয়েছে ১ লাখ ৮৭ হাজার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট এক লাখ ৮৭ হাজার ৬১৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন এক লাখ ৮০ হাজার দুইজন।   একই সময়ের হিসাবে দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ১১ হাজার ৪০ জনে। এর মধ্যে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ২২ হাজার ৯৭২ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই পরিসংখ্যানে নিশ্চিত হাম এবং হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের তথ্য পৃথকভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১৬, ২০২৬
প্রতীকী ছবি।

পেট ভরে খেয়েও কমবে ওজন, মানতে হবে যেসব নিয়ম

ছবি: সংগৃহীত

ডেঙ্গুতে একদিনে ১০ মৃত্যু, সংক্রমণ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

ছবি: সংগৃহীত

বিয়ের কথা শুনলেই ভয়, এর পেছনে কী কারণ?

ছবি: সংগৃহীত
সকালে ঘুম ভাঙতেই পিঠে ব্যথা, দায়ী যে ৭ কারণ

সারাদিনের ক্লান্তি দূর করতে রাতে ঘুমাতে যান অনেকেই। কিন্তু সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর যদি পিঠের নিচের অংশে ব্যথা বা শক্তভাব অনুভূত হয়, তাহলে দিনের শুরুতেই অস্বস্তিতে পড়তে হয়। অনেকে বিষয়টিকে ঘুমানোর ভুল ভঙ্গির কারণে হচ্ছে বলে মনে করে এড়িয়ে যান। তবে নিয়মিত এমন সমস্যা দেখা দিলে এর পেছনের কারণ খুঁজে দেখা প্রয়োজন। স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট মেডিকেল নিউজ টুডে-এর এক প্রতিবেদনে সকালে পিঠে ব্যথা হওয়ার সাতটি সম্ভাব্য কারণ, ব্যথা কমানোর উপায় এবং কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি, তা তুলে ধরা হয়েছে। সকালে পিঠে ব্যথা হওয়ার ৭টি সম্ভাব্য কারণ   ১. মেরুদণ্ডের ডিস্কের ক্ষয় বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেরুদণ্ডের হাড়ের মাঝখানে থাকা ডিস্কে ক্ষয় হতে পারে। এর ফলে আশপাশের স্নায়ুর ওপর চাপ পড়লে পিঠ বা কোমরে ব্যথা, শক্তভাব এবং নড়াচড়ায় অসুবিধা দেখা দিতে পারে। সকালে ব্যথা বেশি অনুভূত হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, ঝুঁকে কাজ করা কিংবা ভারী জিনিস তোলার সময়ও ব্যথা বাড়তে পারে।   ২. ফাইব্রোমায়ালজিয়া ফাইব্রোমায়ালজিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যা, যার কারণে শরীরের বিভিন্ন অংশে ব্যথা ও স্পর্শকাতরতা দেখা দেয়। এ সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের সকালে পিঠে ব্যথা ও শরীর শক্ত হয়ে থাকার পাশাপাশি অতিরিক্ত ক্লান্তি, ঘুমের সমস্যা, মাথাব্যথা এবং মনোযোগ ধরে রাখতে অসুবিধা হতে পারে।   ৩. অতিরিক্ত ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রম দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করা, ভারী জিনিস তোলা কিংবা খেলাধুলার সময় পেশিতে অতিরিক্ত চাপ পড়লে পরদিন সকালে পিঠে ব্যথা হতে পারে। এ ধরনের সমস্যা এড়াতে ব্যায়ামের আগে ওয়ার্মআপ করা এবং শেষে কুলডাউন করা উপকারী। শরীরের সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যায়াম করাও গুরুত্বপূর্ণ।        ৪. ভুলভাবে বিছানা থেকে ওঠা ঘুম থেকে উঠেই দ্রুত উঠে বসা কিংবা কোমর অতিরিক্ত বাঁকিয়ে বিছানা ছাড়ার কারণে পিঠের পেশিতে চাপ পড়তে পারে। তাই ঘুম ভাঙার পর ধীরে পাশ ফিরে বসুন। এরপর বিছানার কিনারায় কয়েক সেকেন্ড অপেক্ষা করে পা মেঝেতে রেখে ধীরে দাঁড়ান। এতে হঠাৎ পেশিতে চাপ পড়ার ঝুঁকি কমতে পারে।   ৫. ঘুমানোর ভুল ভঙ্গি ঘুমানোর সময় শরীরের অবস্থান ঠিক না থাকলে মেরুদণ্ড, কোমর ও ঘাড়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে। ফলে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর পিঠে ব্যথা বা শক্তভাব অনুভূত হতে পারে। চিত হয়ে ঘুমালে হাঁটুর নিচে এবং কাত হয়ে ঘুমালে দুই হাঁটুর মাঝে বালিশ রাখতে পারেন। এতে মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক অবস্থান বজায় রাখতে সহায়তা হতে পারে।   ৬. শরীরের সঙ্গে মানানসই নয় এমন তোশক অতিরিক্ত নরম, দেবে যাওয়া কিংবা শরীরকে যথেষ্ট সমর্থন দিতে পারে না—এমন তোশকে ঘুমালে পিঠে ব্যথা হতে পারে। এ কারণে তোশক বেছে নেওয়ার সময় শুধু আরামের দিকে নজর দিলেই হবে না, শরীর ও মেরুদণ্ডকে যথাযথ সমর্থন দেয় কি না, সেটিও বিবেচনা করতে হবে।   ৭. গর্ভাবস্থা গর্ভাবস্থায় কোমর ও পিঠে ব্যথা হওয়া বেশ সাধারণ। এ সময় হরমোনের পরিবর্তনের কারণে পেলভিসের লিগামেন্ট ও জয়েন্ট শিথিল হয়ে যায়। পাশাপাশি গর্ভের শিশুর ওজন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের ভারসাম্যেও পরিবর্তন আসে। এসব কারণে পিঠের ওপর চাপ বাড়ে এবং ব্যথা দেখা দিতে পারে।   পিঠের ব্যথা কমাতে কী করবেন? সকালে পিঠে হালকা ব্যথা হলে আরামদায়ক ভঙ্গিতে বিশ্রাম নেওয়া এবং সামর্থ্য অনুযায়ী হালকা নড়াচড়া করা উপকারী হতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী গরম বা ঠান্ডা সেঁকও আরাম দিতে পারে। তবে সেঁক দেওয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করা ভালো।   পিঠে ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে, বারবার ফিরে এলে কিংবা দৈনন্দিন কাজে বাধা সৃষ্টি করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। আর পিঠে ব্যথার সঙ্গে প্রস্রাব-পায়খানা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা, হাত-পায়ে অসাড়তা বা দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। শ্বাসকষ্টের সঙ্গে পিঠে ব্যথা হলেও জরুরি চিকিৎসাসেবা নেওয়া প্রয়োজন।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

চার মেডিকেল কলেজ টিকিয়ে রাখতে রোগীদের সহায়তা দেবে সরকার

ছবি: সংগৃহীত

দেশে ৩০ শতাংশ মানুষ আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত

ছবি: সংগৃহীত

৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

ফাইল ছবি
গবেষণায় প্রকাশ: বিষণ্নতায় মস্তিষ্কের পাঁচ স্বতন্ত্র স্নায়বিক রূপপট

বিষণ্নতা কোনো জৈবিক অবস্থা নয়; বরং রোগনির্ণয়ের আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে মস্তিষ্কের কার্যকলাপের কয়েকটি স্বতন্ত্র ধরন। সম্প্রতি বিষণ্নতায় আক্রান্ত ২৬৩ জন মানুষের ওপর গবেষণা চালিয়ে বিজ্ঞানীরা মস্তিষ্কের কার্যকলাপের পাঁচটি ভিন্ন ধরন শনাক্ত করেছেন। প্রতিটি ধরনের সঙ্গে মস্তিষ্কের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য এবং উদ্বেগ, মানসিক আঘাত ও মাদকদ্রব্যের অপব্যবহারের মতো উপসর্গের সম্পর্ক পাওয়া গেছে।     বিষণ্নতা আক্রান্ত দুজন মানুষের অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ আলাদা হতে পারে। একজন হয়তো ক্রমাগত উদ্বেগ ও বারবার নেতিবাচক চিন্তায় ভুগছেন, অন্যজনের মধ্যে দেখা দিতে পারে মানসিক আঘাতজনিত উপসর্গ কিংবা মাদকদ্রব্যের অপব্যবহারের প্রবণতা। কিন্তু এই পার্থক্যগুলো কি তাদের মস্তিষ্কের কার্যকলাপেও প্রতিফলিত হয়?       ফিনল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব হেলসিঙ্কির গবেষকেরা এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে একটি চমকপ্রদ বিষয় আবিষ্কার করেছেন। তাদের গবেষণায় দেখা গেছে, একই বিষণ্নতার রোগনির্ণয় থাকা ব্যক্তিদের মস্তিষ্কের কার্যকলাপের ধরন একে অপরের থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে আলাদা হতে পারে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি শক্তিশালী, আবার অন্যদের ক্ষেত্রে তা তুলনামূলকভাবে দুর্বল।     বিষণ্নতার সঙ্গে সম্পর্কিত মস্তিষ্কের পাঁচটি ধরন   গবেষকেরা মস্তিষ্কের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগের শক্তি এবং তাদের কার্যকলাপ কোন কোন কম্পাঙ্কে সমন্বিত হয়, তার ভিত্তিতে বিষণ্নতায় আক্রান্ত অংশগ্রহণকারীদের পাঁচটি দলে ভাগ করেন।     প্রতিটি দলের মস্তিষ্কের সংযোগের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ছিল এবং সেগুলোর সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু উপসর্গের সম্পর্কও পাওয়া গেছে—     গ্রুপ ১: শক্তিশালী সংযোগ ও গুরুতর উপসর্গ এই দলের অংশগ্রহণকারীদের মস্তিষ্কের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী সংযোগ দেখা গেছে। এই ধরনটির সঙ্গে বিষণ্নতা, উদ্বেগ, একই নেতিবাচক চিন্তা বারবার করতে থাকার মতো একাধিক উপসর্গের সম্পর্ক ছিলো।      গ্রুপ ২: দুর্বল সংযোগ ও তুলনামূলকভাবে মৃদু বিষণ্নতা এই দলের বৈশিষ্ট্য ছিল মস্তিষ্কের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে তুলনামূলকভাবে দুর্বল যোগাযোগ। অন্য দলগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে, এই দলের অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সাধারণত বিষণ্নতার উপসর্গগুলো কম তীব্র ছিল।     গ্রুপ ৩: মস্তিষ্কজুড়ে দুর্বল সংযোগ ও মানসিক আঘাতজনিত উপসর্গ এই দলের মানুষের মস্তিষ্কের বিস্তৃত অংশজুড়ে সংযোগের দুর্বলতা দেখা গেছে। বিশেষ করে, পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার বা পিটিএসডি— অর্থাৎ গুরুতর মানসিক আঘাতের পর দেখা দিতে পারে এমন মানসিক সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত উপসর্গগুলো এই দলে বেশি স্পষ্ট ছিল।     গ্রুপ ৪: কোথাও শক্তিশালী, কোথাও দুর্বল সংযোগ এবং একাধিক সমস্যা এই দলের মস্তিষ্কে কিছু অঞ্চলের মধ্যে অস্বাভাবিকভাবে শক্তিশালী সংযোগ দেখা গেছে, আবার অন্য কিছু অঞ্চলের মধ্যে সংযোগ ছিল দুর্বল। এই ধরনের সঙ্গে তুলনামূলকভাবে গুরুতর বিষণ্নতা, মাদকদ্রব্যের অপব্যবহারের বেশি সমস্যা এবং সামগ্রিক সুস্থতার নিম্নমানের সম্পর্ক পাওয়া গেছে।      গ্রুপ ৫: সবচেয়ে শক্তিশালী সংযোগ ও মাদকদ্রব্যের অপব্যবহারজনিত উপসর্গ গবেষণায় শনাক্ত পাঁচটি দলের মধ্যে এই দলের অংশগ্রহণকারীদের মস্তিষ্কের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে সংযোগ ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী।     এই দলে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল। অন্যদিকে, মানসিক আঘাত-সম্পর্কিত উপসর্গগুলো এই দলের তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম প্রকট ছিল।       গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পাঁচটি দলের মস্তিষ্কের কার্যকলাপই সুস্থ অংশগ্রহণকারীদের মস্তিষ্কের কার্যকলাপ থেকে আলাদা ছিল। এই পার্থক্য শুধু সংযোগ শক্তিশালী না দুর্বল—তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। মস্তিষ্কের কোন কোন অঞ্চল এতে যুক্ত ছিল এবং কী কী কম্পাঙ্কে তাদের কার্যকলাপ সমন্বিত হচ্ছিল, সেসব ক্ষেত্রেও দলগুলোর মধ্যে পার্থক্য দেখা গেছে।       সব মিলিয়ে, এই ফলাফলগুলো ইঙ্গিত দেয় যে বিষণ্নতা নির্ণয় করা হলেও বিভিন্ন মানুষের মস্তিষ্কের স্নায়বিক নেটওয়ার্ক কার্যপ্রণালিতে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকতে পারে।   সূত্র: সাইন্স ডেইলি

মারিয়া রহমান অক্টোবর ১০, ২০২৬
ফাইল ছবি

দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ২৯৯, ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি ১৬৩১ জন

সংগৃহীত ছবি

স্বাস্থ্য খাতে পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার

সংগৃহীত ছবি

নীরবে বাড়ছে থাইরয়েডের সমস্যা, আক্রান্ত ৫ কোটি

0 Comments