জাতীয়

চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমবাগানে ৯২টি ককটেলসহ প্রায় ১২ কেজি গানপাউডার উদ্ধার

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি আমবাগান থেকে ৯২টি ককটেল, ১১ দশমিক ৮ কেজি গানপাউডার সদৃশ পাউডার ও বিস্ফোরক তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

 

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত ২টার দিকে সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব টিকরা গ্রামের একটি আমবাগানে অভিযান চালিয়ে এসব আলামত উদ্ধার করা হয়।

 

গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান

এসআরবি সূত্রে জানা গেছে, গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসআরবি-৫-এর রাজশাহী বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট এবং সিপিসি-১ চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি যৌথ দল অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে ৯২টি ককটেল, ১১ দশমিক ৮ কেজি সাদা রঙের গানপাউডার সদৃশ পাউডার, দুটি হাসুয়া এবং বিস্ফোরক তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থলে কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে পাওয়া যায়নি।

 

নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কি না, তদন্ত

এসআরবির ধারণা, বড় ধরনের নাশকতা ঘটানোর উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা এসব বিস্ফোরক ও অস্ত্র আমবাগানে মজুত করে রেখেছিল। তবে এ বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

এসআরবি-৫-এর ক্যাম্প কমান্ডার সিনিয়র পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম জানান, উদ্ধার করা ককটেল, পাউডার ও অন্যান্য আলামত পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
দুর্নীতির বিরুদ্ধে তরুণদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের

দুর্নীতি প্রতিরোধে তরুণদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।   তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে শুধু নিজেদের দক্ষতা ও যোগ্যতা বাড়ালেই চলবে না, বরং রাষ্ট্র ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায়ও তরুণদের ভূমিকা রাখতে হবে।   আজ শুক্রবার বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের এলডি হলে ফিউচার বাংলাদেশ আয়োজিত বাংলাদেশ ইয়ুথ মডেল ইউনাইটেড নেশনস ২০২৬ (বিওয়াইএমইউএন) সম্মেলনের উদ্বোধনী সেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডেপুটি স্পিকার এসব কথা বলেন।   তরুণদের মেধা, উদ্ভাবনী চিন্তাশক্তি ও নেতৃত্বের বিকাশের মধ্য দিয়েই একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও বিশ্বমানের বাংলাদেশ গড়ে উঠবে উল্লেখ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, শুধু জিপিএ-৫ অর্জনের প্রতিযোগিতায় সীমাবদ্ধ না থেকে তরুণদের ইতিবাচক চিন্তা, সৃজনশীলতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গি কাজে লাগাতে হবে। একই সঙ্গে আইনের শাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণদের নেতৃত্ব দিতে হবে।   ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে মানুষ সুশিক্ষায় শিক্ষিত হবে, নাগরিকদের মধ্যে মানবিক গুণাবলির বিকাশ ঘটবে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সুরক্ষিত থাকবে। তরুণদের মেধা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতাকে ইতিবাচক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে কাজে লাগানো গেলে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণ সম্ভব হবে।   দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন-সংগ্রামে তরুণদের নেতৃত্বের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশে যত বড় বড় আন্দোলন হয়েছে, সেগুলোর নেতৃত্বে ছিলেন তরুণরা। সামাজিক মর্যাদা, সমতা ও সমান সুযোগ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা থেকেই তরুণেরা বারবার আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন।   জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের (ওএইচসিএইচআর) প্রকাশিত চূড়ান্ত তথ্য-অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে নিহত ব্যক্তিদের অনেকেই ছিলেন তরুণ। এ প্রসঙ্গে তিনি তরুণদের আকাঙ্ক্ষা, অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরেন।   তিনি বলেন, তরুণদের এই শক্তি ও সম্ভাবনাকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। অতীতের অর্জন থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশকে নতুন করে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব তরুণ প্রজন্মকেই নিতে হবে।   তিনি তরুণদের উদ্দেশে বলেন, উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য বিদেশে গেলেও দেশে ফিরে এসে আগামীর বাংলাদেশের নেতৃত্বের হাল ধরতে হবে। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে নিজেদের অর্জিত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা কাজে লাগানোর ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।   তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে একটি বিশ্বমানের রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে তরুণদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। দেশকে পিছিয়ে পড়ার অবস্থা থেকে এগিয়ে নিতে সম্মিলিত উদ্যোগ, দায়িত্বশীল নেতৃত্ব এবং ইতিবাচক চিন্তার বিকল্প নেই।   নেতৃত্বের গুণাবলি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ডেপুটি স্পিকার বলেন, মতভিন্নতা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ। কোনো বিষয়ে দ্বিমত থাকলে শুধু নিজের মত প্রতিষ্ঠার চেষ্টা না করে অন্যের যুক্তি বোঝার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।   তিনি বলেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কেউ দ্বিমত পোষণ করলে তার যুক্তি বোঝার চেষ্টা করতে হবে। যোগ্য নেতৃত্বের অর্থ শুধু নিজে নেতৃত্ব দেওয়া নয়, বরং অন্যদেরও কাজ করার ও মত প্রকাশের সুযোগ করে দেওয়া। এর মাধ্যমে পারস্পরিক আস্থা সুদৃঢ় হয় এবং অর্থপূর্ণ সহযোগিতার পথ তৈরি হয়।   নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া, বিতর্ক ও যুক্তিনির্ভর আলোচনার বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য তরুণদের জাতীয় সংসদের অধিবেশন পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেন তিনি। সংসদীয় কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করার মধ্য দিয়ে তরুণেরা গণতান্ত্রিক চর্চা ও রাষ্ট্র পরিচালনার প্রক্রিয়া সম্পর্কে বাস্তব ধারণা লাভ করতে পারবেন বলে তিনি মনে করেন।   দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ ইয়ুথ মডেল ইউনাইটেড নেশনস ২০২৬ সম্মেলনের প্রথম দিনে দেশের ৬৪টি জেলা থেকে আসা দুই শতাধিক স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৫০০ তরুণ প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করছেন।   সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ও তাৎপর্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তরুণদের নেতৃত্বের সক্ষমতা, যুক্তিনির্ভর বিতর্ক, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং নীতিনির্ধারণী বিষয়ে চিন্তাভাবনার বিকাশে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   অনুষ্ঠানের এ সেশনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল-আওয়াল এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডোলান্ড।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমবাগানে ৯২টি ককটেলসহ প্রায় ১২ কেজি গানপাউডার উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা সীমান্তে দুই পুলিশ সদস্য বিএসএফের হেফাজতে, ফেরাতে যোগাযোগ করছে বিজিবি

ছবি: সংগৃহীত

কমলনগরে নিষেধাজ্ঞা ভেঙে ইলিশ পরিবহন, আটক ৪; জব্দ ৩ মণ মাছ

ছবি: সংগৃহীত
তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: ডেপুটি স্পিকার

আগামী দিনের সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তরুণদের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যেখানে আইনের শাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে এবং মানুষের মৌলিক মানবাধিকার সুরক্ষিত থাকবে।   শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের এলডি হলে ফিউচার বাংলাদেশ আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইয়ুথ মডেল ইউনাইটেড নেশনস ২০২৬’ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   জিপিএ-৫ নয়, গুরুত্ব দিতে হবে মেধা ও উদ্ভাবনী চিন্তায় ডেপুটি স্পিকার বলেন, শুধু জিপিএ-৫ অর্জনের প্রতিযোগিতায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। তরুণদের নিজেদের মেধা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তাকে ইতিবাচক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক কাজে ব্যবহার করতে হবে। এর মাধ্যমেই কাঙ্ক্ষিত ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি এমন একটি রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, যেখানে মানুষ মানসম্মত শিক্ষায় শিক্ষিত হবে, মানবিক মূল্যবোধের চর্চা করবে এবং গণতান্ত্রিক আদর্শ সমুন্নত থাকবে। তাঁর ভাষ্য, বাংলাদেশের বড় বড় আন্দোলনে তরুণেরাই নেতৃত্ব দিয়েছেন।   জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে তরুণদের ভূমিকা ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে কায়সার কামাল জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের চূড়ান্ত ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং প্রতিবেদনের উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ওই আন্দোলনে নিহত ব্যক্তিদের অনেকেই ছিলেন তরুণ। তাঁর মতে, সামাজিক মর্যাদা ও সমান সুযোগ প্রতিষ্ঠার দাবিতে তরুণেরা বরাবরই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশের পিছিয়ে পড়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি দেশকে নতুন করে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশকে বিশ্বমানের রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার আশাবাদও প্রকাশ করেন তিনি।   দুর্নীতির বিরুদ্ধে তরুণদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে গেলেও তরুণদের দেশে ফিরে এসে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের নেতৃত্ব গ্রহণের আহ্বান জানান ডেপুটি স্পিকার। একই সঙ্গে দুর্নীতি প্রতিরোধে তরুণদের সোচ্চার হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পেতে তরুণদের জাতীয় সংসদের অধিবেশন পর্যবেক্ষণ করার কথাও বলেন তিনি। কায়সার কামাল বলেন, মতপার্থক্য থাকতেই পারে। তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় ভিন্নমত প্রকাশকারীর যুক্তি বোঝার চেষ্টা করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, যোগ্য নেতৃত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো অন্যদের জন্যও কাজের সুযোগ তৈরি করা। এতে পারস্পরিক আস্থা বাড়ে এবং অর্থবহ সহযোগিতার পথ সুগম হয়।   সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন প্রায় ৫০০ তরুণ প্রতিনিধি দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ইয়ুথ মডেল ইউনাইটেড নেশনস ২০২৬’ সম্মেলনের প্রথম দিনে দেশের ৬৪টি জেলা থেকে আসা দুই শতাধিক স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৫০০ তরুণ প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনের এই পর্বে আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহ্দী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল-আওয়াল এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডোলান্ড।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বরিশালে বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২৬ বছর বয়সী যুবক

ছবি: সংগৃহীত

দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা জোরদার: সীমান্তের পাশাপাশি গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও মাদারীপুরে বিজিবি

ড. ইউনূসকে ‘হিলারি ক্লিনটন অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান, দাঁড়িয়ে সম্মান জানালেন ৪০০ অতিথি

নেত্রকোণায় গুলি করে সাংবাদিক হত্যায় জামায়াতের নিন্দা

নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলায় সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতিতে এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।   বিবৃতিতে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, দুর্গাপুর উপজেলায় কলমাকান্দা পৌরসভার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের তেলনজিয়া বাজারে দোকানে বসে থাকা সাংবাদিক বেসরকারি আইপিটিভি (ইন্টারনেট প্রটোকল টেলিভিশন) চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গত ১৫ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে একদল দুর্বৃত্ত গুলি করে হত্যা করেছে। আমি এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।   জুবায়ের বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির কারণে এমন হত্যাকাণ্ড প্রায়ই ঘটছে এবং নাগরিকেরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। সাংবাদিক লুৎফুজ্জামানের হত্যাকাণ্ডকে পরিকল্পিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালন যে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে, তা প্রতীয়মান।     তিনি আরও বলেন, লুৎফুজ্জামানের হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনতে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। আমি নিহতের মাগফিরাত কামনা, পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা ও শোক প্রকাশ করছি।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ১৬, ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর আগমনে রাজশাহীবাসীর মধ্যে নতুন করে প্রাণের সঞ্চার হবে : ভূমিমন্ত্রী মিনু

ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহে ৬ লাখ ১০ হাজার টাকার জাল নোটসহ গ্রেপ্তার ৪

ছবি: সংগৃহীত

ফেনীতে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় মাঠে বিজিবির ৫ প্লাটুন

0 Comments