সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা নবম জাতীয় বেতন কাঠামো নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা। পে কমিশন গঠন থেকে শুরু করে সুপারিশের সময়সীমা নির্ধারণ–সব প্রস্তুতি থাকলেও বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই ইঙ্গিত মিলছে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে। ফলে বহুল আলোচিত এই বেতন কাঠামোর সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
গত জুলাই মাসে নবম জাতীয় বেতন কাঠামো প্রণয়নের লক্ষ্যে জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়। কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে সুপারিশ জমা দেয়ার নির্দেশনা থাকলেও নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও এখনও চূড়ান্ত প্রস্তাব আসেনি।
কমিশন সূত্র জানায়, বেতন কাঠামোর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্য না হওয়ায় সুপারিশ চূড়ান্ত করতে সময় লাগছে।
এর মধ্যেই অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, নবম পে-স্কেল কার্যকরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে পরবর্তী নির্বাচিত সরকার। তার মতে, নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা একটি জটিল ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। এতে রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতা, প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং কাঠামোগত সংস্কারের বিষয়গুলো গভীরভাবে যুক্ত। স্বল্প সময়ের মধ্যে এসব যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করে গেজেট প্রকাশ বাস্তবসম্মত নয় বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত খসড়ায় বর্তমান ২০টি গ্রেড কমিয়ে ১৩টি গ্রেডে আনার চিন্তাভাবনা রয়েছে। তবে গ্রেড কাঠামোর এই বড় পরিবর্তন নিয়ে কমিশনের ভেতরেই আরও আলোচনা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে এখনও অন্তত তিনটি বৈঠক বাকি রয়েছে।
সব মিলিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রত্যাশিত নবম পে-স্কেল বর্তমান সরকারের আমলে কার্যকর হচ্ছে না–এমন ধারণাই এখন জোরালো হচ্ছে। পে-স্কেল ঘোষণার সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব যে পরবর্তী সরকারের ওপরই যাচ্ছে, সে ইঙ্গিত ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
এদিকে নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২২ জানুয়ারি থেকে জাতীয় নির্বাচনের প্রচারণা শুরু হবে। অথচ বেতন কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশ আসতে পারে জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে। এই অল্প সময়ের ব্যবধানে সুপারিশ পর্যালোচনা, অনুমোদন ও গেজেট প্রকাশ করা প্রায় অসম্ভব বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পে-স্কেল বাস্তবায়নে বিলম্ব হওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। কর্মচারী সংগঠনগুলো এর আগে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে কমিশনের সুপারিশ জমার আলটিমেটাম দিয়েছিল। সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ায় এবং বাস্তবায়ন অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় তারা আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।
সবশেষ পরিস্থিতিতে নবম জাতীয় বেতন কাঠামো নিয়ে অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হচ্ছে–এটাই এখন সরকারি চাকরিজীবীদের বড় উদ্বেগ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
পোল্যান্ডে প্রথমবারের মতো হাইড্রোজেনচালিত যাত্রীবাহী ট্রেন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশটির রেলগাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান পেসা বিদগোশ্চ এসএ এই ট্রেন তৈরির কাজ শুরু করবে। দেশটির পরিবেশ সুরক্ষা ও পানি ব্যবস্থাপনা তহবিল প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আর্থিক সহায়তা দেবে। জাতীয় পুনরুদ্ধার ও সহনশীলতা পরিকল্পনার আওতায় এ অর্থায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১০৮ মিলিয়ন পোলিশ জ্লোটি। এর মধ্যে প্রায় ৩৬ মিলিয়ন জ্লোটি সরকারি সহায়তা হিসেবে দেওয়া হবে। এই প্রকল্পের আওতায় একটি হাইড্রোজেন ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট ধরনের যাত্রীবাহী ট্রেন তৈরি করা হবে। ট্রেনটিতে তিন ধরনের শক্তির উৎস থাকবে ওভারহেড বৈদ্যুতিক লাইন, হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল ও ব্যাটারি। ফলে এটি বিদ্যুতায়িত ও অবিদ্যুতায়িত দুই ধরনের রেলপথেই চলতে পারবে। পোল্যান্ডের জলবায়ু ও পরিবেশমন্ত্রী পাউলিনা হেনিগ-ক্লোস্কা বলেন, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিবহন খাতে বড় পরিবর্তন আনতে এ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রকল্পের অংশ হিসেবে ট্রেনটির প্রযুক্তিগত নকশা তৈরি করা হবে এবং একটি পরীক্ষামূলক ট্রেন নির্মাণ করা হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পোল্যান্ডের প্রায় ৪০ শতাংশ রেলপথ এখনো বিদ্যুতায়িত নয়। তাই কম দূষণকারী হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন ভবিষ্যতে ডিজেলচালিত ট্রেনের কার্যকর বিকল্প হতে পারে। এ ছাড়া ভবিষ্যতে ২৫টি হাইড্রোজেনচালিত লোকোমোটিভ উৎপাদনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব ট্রেন চালু হলে বছরে প্রায় সাত হাজার ছয়শ টনের বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিকভাবে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে গেছে। এতে দেশেও জ্বালানি তেলের সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ফিলিং স্টেশনে ভিড় করছে এবং বেশি বেশি তেল কিনছে। তাই ফিলিং স্টেশন থেকে তেল সরবরাহের সীমা বেঁধে দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে একটি মোটরসাইকেল দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন সংগ্রহ করতে পারবে। ব্যক্তিগত গাড়ির (কার) ক্ষেত্রে এই সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ ১০ লিটার। এছাড়া এসইউভি বা জিপ এবং মাইক্রোবাসের জন্য প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ লিটারের বেশি তেল দেওয়া হবে না। বাণিজ্যিক ও গণপরিবহনের ক্ষেত্রেও কঠোরতা অবলম্বন করা হয়েছে; যেখানে একটি লোকাল বাস বা পিকআপ দিনে ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল পাবে। অন্যদিকে দূরপাল্লার বড় বাস, ট্রাক বা কাভার্ডভ্যান দৈনিক ২০০ থেকে ২২০ লিটারের বেশি জ্বালানি নিতে পারবে না। বিপিসি আরও জানায়, ফিলিং স্টেশন থেকে তেল নেওয়ার সময় প্রত্যেক ভোক্তাকে অবশ্যই রসিদ গ্রহণ করতে হবে। পরবর্তী সময় যখনই কেউ তেল কিনতে আসবেন, তাকে আগের রসিদটি দেখাতে হবে। ডিলারদের ক্ষেত্রেও নিয়ম কড়াকড়ি করা হয়েছে। এখন থেকে ডিলাররা তাদের বর্তমান মজুত এবং বিক্রির সঠিক তথ্য প্রদান সাপেক্ষে ডিপো থেকে তেল সংগ্রহ করতে পারবেন। কোনো অবস্থাতেই নির্ধারিত বরাদ্দের অতিরিক্ত জ্বালানি কোনো ডিলারকে প্রদান করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ আইন সমিতির ২০২৬ সালের নির্বাহী কমিটি গঠিত হয়েছে। এতে সভাপতি পদে এ. কে. এম. আফজাল উল মুনীর এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান খান নির্বাচিত হয়েছেন। শুক্রবার (৬ মার্চ) সমিতির প্রাঙ্গণে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নবনির্বাচিত কমিটির দপ্তর সম্পাদক বেল্লাল হোসাইন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন। কমিটির সহসভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি, হাসিনা মমতাজ মিষ্টি, সুপ্রিয়া দাস, নূরনাহার (লিপি), আফরোজা বেগম মিতা, তানিয়া কামাল ও আলী নাছের খান। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মো. মামুনুর রশিদ ও নুসরাত ইয়াসমিন সুমাইয়া। সহসাধারণ সম্পাদক পদে আছেন মোহাম্মদ ছফওয়ান ও নিশাত ফারজানা নিপা। সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন সালেহ আকরাম সম্রাট ও মো. কামরুল হাসান। সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবদুল্লাহ আল মাসুদ। অর্থ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মো. আরমান হোসাইন। দপ্তর সম্পাদক বেল্লাল হোসাইন এবং সহদপ্তর সম্পাদক মল্লিক ওয়াসি উদ্দিন তামী। এনরোলমেন্ট সম্পাদক মো. আহসান হাবিব। শিক্ষা, সাহিত্য ও গবেষণা সম্পাদক হয়েছেন তৌহিদুর রহমান এবং সহসম্পাদক আল ফারহাদ বিন কাসেম (আলফ্রেড আরিব)। প্রচার ও জনসংযোগ সম্পাদক আব্দুস সাত্তার রনি এবং সহসম্পাদক মো. জিয়াউল ইসলাম (জিকু)। আইনগত সহায়তা ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক শেখ মো. মুহিব্বুল্লাহ এবং সহসম্পাদক সাব্বির হোসেন সিফাত। ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক কাজী মেহেদী আল আমিন (শুভ) এবং সহসম্পাদক এম. ওবায়দুল তালুকদার। এ ছাড়া আপ্যায়ন সম্পাদক সাগর তপাদার ও সহআপ্যায়ন সম্পাদক মো. ফারিদুর রহমান। গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক মোহাম্মদ শোয়াইব। পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও কর্মসূচি সম্পাদক মো. শামসুল হক সোহাগ এবং সহসম্পাদক মো. জুয়েল ইসলাম। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি সম্পাদক মেহেদুল হাসান ও সহসম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক (তিতাস)। আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসাইন এবং সহসম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান। কার্যকরী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন হাফিজুল হক, মো. এমরান খান (রনি), শফিউল আলম, মো. হালিম হোসেন, রাশেদুজ্জামান মজুমদার, খান মো. মইনুল হাসান, জাহাঙ্গীর আলম, মোর্শেদ আল মামুন ভূঁইয়া, মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, সালাহ উদ্দিন আহমেদ ও মোহাম্মদ মাসুম মিয়া। নির্বাচন শেষে সমিতির সদস্যদের সম্মানে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, অধস্তন আদালতের বিচারক ও আইনজীবীরা অংশ নেন। শপথ গ্রহণ শেষে নবনির্বাচিত নেতারা সমিতির সদস্যদের কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, দেশে আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠা, গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ আইন সমিতি সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।