আন্তর্জাতিক

পাকিস্তান-সৌদি আরব হজ ব্যবস্থায় ‘ডিজিটাল করিডর’ চালুর উদ্যোগ

আক্তারুজ্জামান মে ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

হজ ব্যবস্থাপনা আরও সহজ ও আধুনিক করতে পাকিস্তান ও সৌদি আরব একটি নতুন ‘ডিজিটাল করিডর’ চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে।

 

পাকিস্তানের সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে হজযাত্রীদের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে সৌদি আরবের হজ ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। ফলে হজযাত্রীদের সেবা, যাতায়াত ও ব্যবস্থাপনা আরও দ্রুত ও সমন্বিত হবে।

 

এই প্রকল্পটি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের নির্দেশনায় নেওয়া হয়েছে। দেশটির তথ্যপ্রযুক্তি বোর্ড এই ডিজিটাল ব্যবস্থাটি বাস্তবায়নে কাজ করছে।

 

নতুন ব্যবস্থায় পাকিস্তানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান যেমন জাতীয় ডাটাবেজ কর্তৃপক্ষ, পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন বিভাগ, ব্যাংক এবং বিমান সংস্থা একই নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকবে। এতে হজযাত্রীদের সব তথ্য এক জায়গা থেকে সহজে পরিচালনা করা যাবে।

 

অন্যদিকে সৌদি আরবের হজ ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে এই তথ্য সরাসরি যুক্ত থাকবে, যা হজ কার্যক্রমকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

দুদেশের সরকার আশা করছে, এই উদ্যোগ হজযাত্রীদের ভোগান্তি কমাবে এবং পুরো প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও আধুনিক করবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
নেপালে বিপর্যয়ের ৫ মাস আগেই মিলেছিল দুর্যোগের পূর্বাভাস

নেপালে প্রলয়ঙ্করী বন্যা ও ভূমিধসের পাঁচ মাস আগেই পূর্বাভাস মিলেছিল যে কী ঘটতে যাচ্ছে সামনে। পরিণতির বিষয়ে সতর্ক করে মার্চে প্রকাশ করা হয়েছিল দু’টি প্রতিবেদন।   আঞ্চলিক একটি আন্তঃদেশীয় জ্ঞান ও গবেষণা কেন্দ্রের সেই প্রতিবেদনে হিন্দুকুশ হিমালয়ে দ্রুতগতিতে হিমবাহ গলে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে বিপর্যয়ের আশঙ্কার কথা বলা হয়েছিল।   হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চলের মানুষের পক্ষে কাজ করা কাঠমাণ্ডু-ভিত্তিক ‘দ্য ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্টের (আইসিআইএমওডি) প্রতিবেদন দু’টিতে বলা হয়, অঞ্চলটিতে হিমবাহ দ্রুত থেকে আরও দ্রুত গতিতে গলছে এবং সহস্রাব্দ শুরুর পর থেকে বরফ হারানোর হার দ্বিগুণ হয়েছে।   ১৯৭৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত হিমবাহের বরফের পুরুত্ব ২৭ মিটার পর্যন্ত কমেছে বলে জানানো হয় প্রতিবেদনে। নেপাল ছাড়াও বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, চীন, ভুটান, আফগানিস্তান ও মিয়ানমার আইসিআইএমওডি- এর সদস্যদেশ।   ‘এশিয়ার ওয়াটার টাওয়ার’ নামে পরিচিত এই অঞ্চলের গলিত পানির ওপর নির্ভরশীল ভাটি অঞ্চলের প্রায় ২০০ কোটি মানুষের জন্য ভবিষ্যতে বিপজ্জনক পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল প্রতিবেদন দু’টিতে।   ওই পূর্বাভাসের পাঁচ মাসের মাথায় দুই দিন আগেই নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৬২৬ জনের। এই ভয়াবহ দুর্যোগের সঠিক কারণ এখনও খুঁজে দেখছেন বিজ্ঞানী ও গবেষকরা।   তাদের অনেকেই মনে করছেন, একাধিক কারণে এই বিপর্যয় ঘটেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ৪ হাজার মিটার বা তার চেয়ে বেশি উচ্চতায় তুষারপাতের পরিবর্তে বৃষ্টিপাত হওয়া।   ভারতের দেহরাদুন ভিত্তিক ‘ওয়াদিয়া ইনস্টিটিউট অব হিমালয়ান জিওলজি’-এর এক বিজ্ঞানী সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-কে বৃহস্পতিবার বলেছেন, ৪ হাজার মিটার বা তার চেয়ে বেশি উুঁচুতে যেখানে তুষারপাত হওয়ার কথা, সেখানে বৃষ্টি হওয়ার কারণে হিমবাহ দ্রুত গলে যাচ্ছে। তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়াই হয়ত উঁচু পার্বত্য এলাকায় তুষারপাতের বদলে বৃষ্টি হওয়ার মূল কারণ।   চলতি বছরের মার্চে প্রকাশিত আইসিআইএমওডি- এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৯০ সাল থেকে ২০২০ সালের মধ্যে হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চলের হিমবাহ মোট আয়তনের প্রায় ১২ শতাংশ এবং আনুমানিক জমে থাকা বরফের ৯ শতাংশ হারিয়েছে।   পর্যবেক্ষণাধীন ৩৮টি হিমবাহের তথ্য বিশ্লেষণ করে আইসিআইএমওডি’র তৈরি করা ‘এইচকেএইচ গ্লেসিয়ার আউটলুক ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০০ সালের পর থেকে বরফ গলার পরিমাণ দ্বিগুণ হয়েছে। এটি হিমালয়ের বরফাবৃত অংশ গলে এমন এক পর্যায়ে চলে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে যেখান থেকে তা আর আগের অবস্থায় ফিরবে না।   আইসিআইএমওডি-এর গবেষকরা বর্তমানে খতিয়ে দেখছেন যে, অতিরিক্ত উচ্চতা থেকে বরফ ও পাথরের ধস বন্যার সূত্রপাত করেছিল কি না। বিপুল বরফ ও পাথরের ধ্বংসস্তূপ লেহন্দে খোলা (ভোটে কোশি নদীর উপনদী) নদীতে পড়ে পানি, পলি ও বিশাল পাথরখণ্ড গড়িয়ে এনে নিম্নাঞ্চলে হড়পা বান সৃষ্টি করতে পারে।   আইসিআইএমওডি-এর জ্যেষ্ঠ ক্রায়োস্ফিয়ার বিশেষজ্ঞ ও ভারতের আইআইটি ইন্দোরের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ ফারুক আজম সংবাদমাধ্যমকে জানান, তুষারাবৃত এলাকা কমে যাওয়া এবং হিমবাহ সংকুচিত হওয়ার সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের যোগ রয়েছে। তুষারের আবরণ কমে নগ্ন হয়ে পড়া পাথুরে এলাকাগুলো বেশি তাপ শোষণ করায় পাহাড়ের ঢাল আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে।   ‘ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্টের’ (আইসিআইএমওডি) তথ্যানুযায়ী, মেরু অঞ্চলের বাইরে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বরফের ভাণ্ডার হল এই হিন্দুকুশ হিমালয়। সেখানে ৬৩ হাজার ৭০০টিরও বেশি হিমবাহ রয়েছে; যা ৫৫ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত।   হিমবাহগুলো এশিয়ার ১০টি প্রধান নদী ব্যবস্থার উৎস; যা শত শত কোটি মানুষের খাবার, পানি, জ্বালানি ও জীবিকার জন্য সহায়ক।   মার্চের আইসিআইএমওডি প্রতিবেদন বলা হয়, ৪,৫০০ থেকে ৬,০০০ মিটার উঁচুতে থাকা হিমবাহের অন্তত ৭৮% অংশ উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আবহাওয়া অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ার চরম ঝুঁকিতে আছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বে পারমাণবিক পরীক্ষা বন্ধের আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিবের

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন নৌ অবরোধের মধ্যেও ৭৫০ কোটি ডলারের তেল বিক্রি ইরানের

ছবি: সংগৃহীত

হিমবাহ গলে বাড়ছে পানির পরিমাণ, তলিয়ে যেতে পারে বিশাল শহর

ছবি: সংগৃহীত
৬,৭০০ কিলোমিটার পাল্লার নতুন মোবাইল আইসিবিএম পরীক্ষা রাশিয়ার

নতুন একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (আইসিবিএম) সফল পরীক্ষা চালিয়েছে রাশিয়া। শুক্রবার দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আরখাঙেলস্ক অঞ্চলের প্লেসেতস্ক কসমোড্রোম থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়।   রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, উৎক্ষেপণের পর ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ৬ হাজার ৭০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে পূর্বাঞ্চলের কামচাটকা উপদ্বীপের কুরা পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে আঘাত হানে। পরীক্ষার মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্রটির দীর্ঘপাল্লার সক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে।   নতুন আইসিবিএমটি কঠিন জ্বালানিচালিত বলে জানিয়েছে রাশিয়া। তবে এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হিসেবে উঠে এসেছে মোবাইল লঞ্চার থেকে উৎক্ষেপণের সক্ষমতা।   সাধারণত কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের কিছু ব্যবস্থা নির্দিষ্ট স্থাপনা বা উৎক্ষেপণকেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু মোবাইল লঞ্চার ব্যবহারের ফলে এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রকে বিভিন্ন স্থান থেকে সরিয়ে নিয়ে উৎক্ষেপণ করা সম্ভব। এতে এর অবস্থান শনাক্ত করা প্রতিপক্ষের জন্য তুলনামূলকভাবে কঠিন হতে পারে।   রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রকাশিত একটি ভিডিওতে বনাঞ্চলের ভেতর থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের দৃশ্য দেখা গেছে। সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরীক্ষাটির মূল উদ্দেশ্য ছিল নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার কৌশলগত, কারিগরি ও উড্ডয়ন সক্ষমতা যাচাই করা।   রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, পরীক্ষার সব নির্ধারিত লক্ষ্য সফলভাবে পূরণ হয়েছে। উৎক্ষেপণের পর ক্ষেপণাস্ত্রটি নির্ধারিত গতিপথ অনুসরণ করেছে এবং পরীক্ষাটি প্রত্যাশিত ফল দিয়েছে।   তবে পরীক্ষায় ব্যবহৃত নতুন ক্ষেপণাস্ত্রটির নাম প্রকাশ করেনি মস্কো। এর আগে চলতি বছরের মে মাসে রাশিয়া একটি আরএস-২৪ ইয়ার্স আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছিল।   নতুন এই ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা রাশিয়ার কৌশলগত পারমাণবিক সক্ষমতা আধুনিকায়নের প্রচেষ্টার অংশ কি না, সে বিষয়ে মস্কো বিস্তারিত কিছু জানায়নি।   সূত্র: মস্কো টাইমস

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২৯, ২০২৬
ছোট ছেলে ব্যারন ট্রাম্পের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

নিরাপত্তার শঙ্কায় জনসম্মুখ এড়িয়ে চলেন ট্রাম্পের ছোট ছেলে

সংগৃহীত ছবি

নেপালে বন্যার স্রোতে ভেসে গেল ব্যাংকের সিন্দুক, টাকা নেওয়ার অভিযোগে আটক ২৯

ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলার সঙ্গে ‘বিশ্বের বৃহত্তম তেল চুক্তি’, ঘোষণা ট্রাম্পের

ওমানে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা, নিহত ৬

ওমানের সামাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ছয় জন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও ১৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে আটজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাতে এ ঘটনা ঘটে।   রয়্যাল ওমান পুলিশ জানিয়েছে, সামাইলের ওয়াদি বানি রাওয়াহা এলাকায় মাস্কাটগামী সুলতান থুওয়াইনি বিন সাঈদ সড়কে একটি ট্রাক ও বেশ কয়েকটি গাড়ির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।   পুলিশ শুরুতে ওই এলাকার দিকে আসা গাড়িচালকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানালেও তখন হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি। তবে শনিবার সকালে দেওয়া পরবর্তী এক হালনাগাদ তথ্যে পুলিশ ছয়জনের মৃত্যু ও ১৮ জনের আহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে। আহতদের মধ্যে আটজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়।   পরবর্তী বিবৃতিতে দুর্ঘটনার স্থানটি সামাইলের আল মাহাল এলাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে রয়্যাল ওমান পুলিশ এখন পর্যন্ত সংঘর্ষের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। সাউথ আল বাতিনাহ গভর্নরেট নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করে এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে।   সূত্র: গাল্ফ নিউজ।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেন যুদ্ধে প্রতি মাসে ৬ হাজার সেনার ঘাটতি রাশিয়ার

ছবি: সংগৃহীত

হড়কা বানে ধ্বংস চীনের সীমান্তবন্দর, ধ্বংসস্তূপে চলছে প্রাণের সন্ধান

সংগৃহীত ছবি

নেপালে বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি

0 Comments