খেলাধুলা

নেতৃত্ব হারিয়ে দল থেকে বাদ, কারণ খুঁজছেন সূর্যকুমার

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতকে শিরোপা এনে দেওয়ার নেতৃত্ব দেওয়ার পরও দল থেকে বাদ পড়েন সূর্যকুমার যাদব।নির্বাচক প্যানেল ভিন্ন কোনো পরিকল্পনার অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্য সফরের জন্য শ্রেয়াস আইয়ারকে টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে নিয়োগ দেয়। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নিশ্চুপ থাকলেও, অবশেষে মুখে খুলেছেন এই ক্রিকেটার।

 

সূর্যকুমারের বাদ পড়ার পেছনে প্রধান কারণ ছিল তার ব্যাটিং ফর্ম। বিশেষ করে আইপিএলের শেষ মৌসুমে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সে তিনি ছন্দে ছিলেন না। এই ডানহাতি ব্যাটার গত বছরে ভারতের হয়ে কোনো অর্ধশতক (ফিফটি) করতে পারেননি এবং বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে তার একমাত্র উল্লেখযোগ্য ইনিংসটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে।

 

তবে অধিনায়ক হিসেবে তিনি ছিলেন দুর্দান্ত। তার নেতৃত্বে ভারত কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ হারেনি এবং ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ট্রফিও জয় করেছিল। দল থেকে বাদ পড়ার বিষয়ে তার প্রতিক্রিয়া ছিল বেশ সংযত। তিনি নির্বাচকদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকেও বিষয়টি বিবেচনা করেছেন এবং সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে কেন তাকে ছাড়া অন্য কাউকে ভাবা হচ্ছে, তা তিনি বুঝতে পেরেছিলেন।

 

আকাশ চোপড়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সূর্যকুমার যাদব বলেন, দলের তালিকায় নিজের নাম না দেখে আমি হেসেছিলাম। দলে থাকার সময় সবসময়ই একটা চাপ কাজ করত, কারণ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সহজ নয়। পরিস্থিতি যখন আমার অনুকূলে ছিল না, তখনও আমি হাসিমুখেই তা গ্রহণ করেছি। আবার এমন সময়ও গেছে যখন আমি দলের জন্য ভালো খেলেছি, তাই আমার কৃতজ্ঞ থাকা উচিত।

 

বিশ্বকাপ জয়ের পর আমি আরও দুই বছর দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবছিলাম। বিশেষ করে অলিম্পিক এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কথা মাথায় ছিল। কিন্তু একজনের চিন্তাভাবনা যে অন্যজনের চিন্তার সঙ্গে মিলবেই, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। আমি মনে করি একে অপরের চিন্তাধারাকে সম্মান জানানো জরুরি। তারা আমাকে ছাড়াই এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। আমি কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাইনি। এটা তাদের সিদ্ধান্ত ছিল; তারা যদি মনে করে অন্য কারো অধীনে দল ভালো খেলবে, তবে আমার কোনো আপত্তি নেই। তবে সূর্যকুমার স্বীকার করেছেন, দলের ধারাবাহিকতা রক্ষার পরও তাকে বাদ দেওয়ায় তিনি অবাক হয়েছেন।

 

এই ক্রিকেটার বলেন, আমি শ্রেয়াস আইয়ারকে চিনি। সে একজন ভালো খেলোয়াড়, ভালো মানুষ এবং ভালো অধিনায়ক। তাকে দায়িত্ব দেওয়াতে আমার খারাপ লাগেনি। তবে আমি কিছুটা হতাশ হয়েছিলাম, কারণ গত দুই বছরে আমি কোনো সিরিজ হারিনি। আমি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপও জিতেছিলাম। সবকিছু যখন ভালো চলছে, তখন ধারাবাহিকতা বজায় থাকুক, এমনটাই চাওয়া হয়। এই পরিবর্তনের কারণ বা উদ্দেশ্য কী? বিষয়টি আমাকে বেশ ভাবিয়েছিল এবং আমি দেড় মাস বাড়িতেই ছিলাম।

 

ভারতের টি-টোয়েন্টি দলের সাবেক এই অধিনায়ক বলেন, আমি আমার বাদ পড়ার বিষয়টি নিয়ে ভাবছিলাম। এটা কীভাবে সম্ভব? আমরা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছিলাম। আইপিএলটা আমার জন্য ভালো যায়নি। আমি বাড়িতে ছিলাম, সবাই বলছিল ঠিক আছে, এসব জীবনেরই অংশ। কিন্তু যখন সবাই চলে গেল, তখন বাড়িতে আমি একা ছিলাম।

 

যাদব জানান, দল ঘোষণার তিন দিন আগে নির্বাচক কমিটি তার সঙ্গে কথা বলেছিল। ওই সময় তাকে ইংল্যান্ড সফরের জন্য তাকে বিবেচনা করা হবে না বলে নিশ্চিত করেছিল। তিনি বলেন, দল ঘোষণার আগেই তারা আমাকে ফোন করেছিল। তারা বলেছিল, এখন নতুন কিছুর দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময়। আমি কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাইনি কারণ আমি কোনো ভুল করিনি। বছরের পর বছর ধরে আমি এভাবেই চলেছি। তারা নিশ্চয়ই ভেবেছিল দলের জন্য এটাই ভালো। তারা সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাকে জানিয়েছিল। এতে কোনো সমস্যা নেই।

 

সাক্ষাৎকারে শেষ দিকে যাদব বলেন, আমি খেলার জন্য প্রস্তুত, আপনারা যেকোনো সময় আমাকে ডাকতে পারেন। আমি ক্রিকেট খেলছি এবং খেলা চালিয়ে যাব। যখনই আপনারা মনে করবেন সময়টা সঠিক এবং পরিস্থিতি অনুকূল, আমি ফিরে আসার জন্য প্রস্তুত।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

খেলাধুলা

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
বায়ার্নের জার্সিতে ৬০০ ম্যাচ, বুন্দেসলিগায় ২১তম মৌসুম নয়ারের

নতুন বুন্দেসলিগা মৌসুমের শুরুতেই অনন্য দুটি মাইলফলক স্পর্শ করেছেন বায়ার্ন মিউনিখের কিংবদন্তি গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়ার। বয়স ৪০ পেরিয়ে গেলেও জার্মান ক্লাবটির গোলবারের নিচে এখনও আস্থার প্রতীক হয়ে আছেন তিনি।   নতুন মৌসুমের উদ্বোধনী ম্যাচে মাঠে নামার মধ্য দিয়ে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৬০০ ম্যাচ পূর্ণ করেছেন নয়ার। একই ম্যাচে বুন্দেসলিগায় নিজের ২১তম মৌসুমও শুরু করেছেন তিনি।   ২০১১ সালে শালকে-০৪ থেকে বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেন নয়ার। এরপর দীর্ঘ দেড় দশকে ক্লাবটির অন্যতম সফল ও গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ে পরিণত হয়েছেন জার্মান এই গোলরক্ষক।   বায়ার্নের হয়ে ক্যারিয়ারে অসংখ্য শিরোপা জিতেছেন নয়ার। তার ট্রফি ক্যাবিনেটে রয়েছে একাধিক বুন্দেসলিগা ও জার্মান কাপের শিরোপা। এছাড়া দুবার চ্যাম্পিয়নস লিগও জিতেছেন তিনি।   দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বয়স তার জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়ালেও পারফরম্যান্স ও খেলার প্রতি আগ্রহ ধরে রেখেছেন নয়ার। নতুন মৌসুমের প্রথম ম্যাচেই দুটি ব্যক্তিগত রেকর্ড স্পর্শ করে আবারও নিজের দীর্ঘস্থায়ী ধারাবাহিকতার প্রমাণ দিলেন তিনি।   বায়ার্নের হয়ে ৬০০ ম্যাচ এবং বুন্দেসলিগায় ২১ মৌসুম—দুটি মাইলফলকই জার্মান ফুটবলে নয়ারের দীর্ঘ ও সফল অধ্যায়ের অনন্য স্বাক্ষর হয়ে থাকল।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

নেতৃত্ব হারিয়ে দল থেকে বাদ, কারণ খুঁজছেন সূর্যকুমার

ছবি: সংগৃহীত

১১০ রানে অলআউট পাকিস্তান, লর্ডস টেস্টে বড় লিডে ইংল্যান্ড

ছবি: সংগৃহীত

চেরকি-হালান্ডের জোড়া গোলে প্যালেসকে উড়িয়ে দিল ম্যানসিটি

ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানের ব্যাটিং গুঁড়িয়ে বড় লিডের পথে ইংল্যান্ড

দিন জুড়েই ভুগল পাকিস্তান- প্রথমে বোলিংয়ে, পরে ব্যাটিংয়ে। অলি রবিনসন ও জফ্রা আর্চারের দুর্দান্ত বোলিংয়ে বাবর আজমের দল গুটিয়ে গেল একশ পেরিয়েই। প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ড পেল দুইশর কাছাকাছি লিড।   লর্ডস টেস্টের লাগাম মুঠোয় নিয়েছে স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় দিন শেষে ৭ উইকেট হাতে নিয়ে জো রুটের দল এগিয়ে আছে ২৬১ রানে।   প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ডের ২৯০ রানের জবাবে পাকিস্তান এ দিন অলআউট হয় ১১০ রানে। ১৮০ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস নেমে ইংল্যান্ড দিন শেষ করে ৩ উইকেটে ৮১ রানে।   উইকেট পড়ে এ দিন মোট ১৩টি, রবিনসন ও আর্চার মিলে নেন সাতটি।   নিখুঁত লাইন-লেংথ আর সিম মুভমেন্টে পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদের নাভিশ্বাস তুলে ছাড়েন রবিনসন। ১১ রানে তিনি নেন ৪ উইকেট। তার ১৩ ওভারের মধ্যে ছয়টিই ছিল মেডেন।   অন্যদিকে আর্চার বিধ্বংসী গতি আর বাউন্স দিয়ে নাজেহাল করেন প্রতিপক্ষকে। তার বলের নিয়মিত গতি ছিল ঘণ্টায় ১৪৮ কিলোমিটার, মাঝে মাঝে তা পৌঁছে যায় ১৫১ কিলোমিটারে। ১১.২ ওভারে ২৬ রান দিয়ে তার শিকার তিনটি।   প্রথম দিন সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল পাকিস্তান। ৯ উইকেটে ২৪৮ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের ব্যাটিং শুরু করে ইংল্যান্ড। শেষ উইকেট জুটিতে গাস অ্যাটকিনসন ও জশ টাং প্রায় এক ঘণ্টা ব্যাটিং করে যোগ করেন মূল্যবান ৪২ রান, তাদের জুটি থামে ৪৭ রানে।   ছয়টি চারে ৪৬ বলে ৪৫ রান করে আউট হন অ্যাটকিনসন। টাং অপরাজিত থাকেন ৪৮ বলে ৩০ রান করে।   প্রথম দিনে ফিল্ডিং করার সময় পায়ের মাংসপেশিতে টান লাগায় ইমাম-উল-হাক ব্যাটিংয়ে নামতে পারেননি। তার জায়গায় ওপেন করতে নামা শান মাসুদ টিকতে পারেন ১১ বল। আর্চারের ১৪৬ কিলোমিটার গতির ফুল লেংথ ডেলিভারিতে ব্যাটের কানায় লেগে কিপারের হাতে ধরা পড়েন তিনি।   আরেক ওপেনার আজান আওয়াইস আউট হতে পারতেন ৮ রানে, কিন্তু অ্যাটকিনসনের বলে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ ফেলেন হ্যারি ব্রুক। পরের ওভারেই টাং ফিরিয়ে দেন আবদুল্লাহ শাফিককে। ২ উইকেটে ১৬ রান নিয়ে লাঞ্চ বিরতিতে যায় পাকিস্তান।   হাতের চোটের কারণে প্রথম টেস্টে খেলতে না পারা বাবর আজম বিরতির পর ব্যাটিংয়ে নেমে দুটি চার মারলেও দুই অঙ্কে যেতে পারেননি। টাংয়ের বলে তৃতীয় স্লিপে জর্ডান কক্সের দারুণ ক্যাচে বিদায় নেন পাকিস্তান অধিনায়ক।   বৃষ্টির কারণে কিছুক্ষণের জন্য খেলা বন্ধ হওয়ার আগে-পরে সাউদ শাকিল ও মোহাম্মাদ রিজওয়ানকে এলবিডব্লিউ করেন রবিনসন। দুটি উইকেটই রিভিউ নিয়ে পায় ইংল্যান্ড।   পাকিস্তানের ওপর চাপ ধরে রাখার পুরস্কার পান আর্চার। তার বলে প্লেড অন হন আলি উসমান।   এক প্রান্তে পাকিস্তানকে টানছিলেন আওয়াইস। ১০২ বলে ৪৬ রান করা ওপেনারকে বাউন্সারে থামান রবিনসন।   ৬ রানের মধ্যে শেষ ৪ উইকেট হারায় পাকিস্তান। ইমাম শেষ পর্যন্ত ব্যাটিংয়ে নামতে পারেননি।   দ্বিতীয় ইনিংসে ইংল্যান্ড দ্বিতীয় ওভারেই হারায় বেন ডাকেটকে। মোহাম্মাদ শাহজাদের বলে মিড-অফ ফিল্ডারের হাতে ক্যাচ তুলে দেন তিনি।   মোহাম্মাদ আব্বাসের তিন বলে দুটি চার মারার পর, পরের ওভারে শাহজাদের বলে এলবিডব্লিউ হন প্রথম ইনিংসে ফিফটি করা কক্স।   ১৩ রানে ২ উইকেট হারানোর পর প্রতিরোধ গড়েন এমিলিও গে ও জো রুট। তৃতীয় উইকেট জুটিতে দুজন যোগ করেন ৪৭ রান। অধিনায়ক রুট আরেকবার এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়ে বিদায় নেন ২৪ রান করে।   টেস্টে সবশেষ ১২ ইনিংসে এটি রুটের নবম এলবিডব্লিউ!   আলোকসল্পতায় আগেভাগে দিনের খেলা শেষ হওয়ার সময় গে ৩০ ও ব্রুক ৭ রানে অপরাজিত থাকেন।   সংক্ষিপ্ত স্কোর: ইংল‍্যান্ড ১ম ইনিংস: ৬৬.৪ ওভারে ২৯০ (আগের দিন ২৪৮/৯) (অ্যাটকিনসন ৪৫, টাং ২৪*; আব্বাস ২০-৩-৭৩-৪, শাহজাদ ১৫-০-৭৯-১, আলি ২২-২-৮৬-৩, উসমান ৯.৪-১-৩৯-১)   পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ৩৭.২ ওভারে ১১০ (মাসুদ ১, আওয়াইস ৪৬, শাফিক ৫, বাবর ৮, শাকিল ১৬, রিজওয়ান ৭, উসমান ১, শাহজাদ ১, আব্বাস ২, আলি ৩*; রবিনসন ১৩-৬-১১-৪, আর্চার ১১.২-১-২৬-৩, অ‍্যাটকিনসন ৬-২-২৭-২, টাং ৭-১-৩৩-০)   ইংল‍্যান্ড ২য় ইনিংস: ২২ ওভারে ৮১/৩ (ডাকেট ১, গে ৩০*, কক্স ১১, রুট ২৪, ব্রুক ৭*; আব্বাস ৮-০-২৭-০, শাহজাদ ৮-১-২৬-২, আলি ৬-১-২৭-১)

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ আফ্রিকাকে আবার হারিয়ে দিল নামিবিয়া

ছবি: সংগৃহীত

নতুন মিডফিল্ডারকে তিন সপ্তাহ পাচ্ছে না ইউনাইটেড

ছবি: সংগৃহীত

দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাবে যোগ দিলেন মোরাতা

ছবি: সংগৃহীত
আর্জেন্টিনার আবেদনে নিষেধাজ্ঞার নিয়ম শিথিল করল ফিফা

বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের খেলোয়াড়দের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় নিষেধাজ্ঞা পাওয়া আর্জেন্টিনার তিন ফুটবলার ও কোচিং স্টাফের এক সদস্যের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর এসেছে। আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) আবেদনের পর নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের নিয়মে পরিবর্তন এনেছে ফিফা। লিয়ান্দ্রো পারেদেস, নাহুয়েল মোলিনা ও থিয়াগো আলমাদাকে যথাক্রমে ১০, ৭ ও ১ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কোচিং স্টাফের সদস্য রবার্তো আয়ালাকেও দেওয়া হয় তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা। শাস্তির মেয়াদ দ্রুত শেষ করার সুযোগ চেয়ে ফিফার কাছে আবেদন করেছিল এএফএ। তাদের অনুরোধ ছিল, নিষেধাজ্ঞার ম্যাচগুলো যেন ‘এ’ শ্রেণির আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচেও গণনা করা হয়। ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি সেই আবেদন অনুমোদন করেছে। আগের নিয়মে আন্তর্জাতিক উইন্ডোর সব ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা কাটানোর ক্ষেত্রে বিবেচিত হতো না। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচেও শাস্তির মেয়াদ পূরণ করতে পারবেন নিষিদ্ধ খেলোয়াড়েরা। এতে চলতি বছরের শেষ দিক ও ২০২৭ সালের শুরুতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে পারেদেস ও মোলিনাদের নিষেধাজ্ঞা দ্রুত শেষ হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এএফএ অবশ্য এখানেই থামছে না। নিষেধাজ্ঞার মাত্রা কমানোর লক্ষ্যে ফিফার আপিল কমিটির কাছে আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। রায়ের পূর্ণাঙ্গ নথি হাতে পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে সেই প্রক্রিয়া শুরু হবে। এএফএর আইনি উপদেষ্টা আন্দ্রেস পাতন এরই মধ্যে নিষেধাজ্ঞাকে মাত্রাতিরিক্ত বলে মন্তব্য করেছেন। ফিফার আপিল প্রক্রিয়ায় সুরাহা না হলে কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টসের (সিএএস) দ্বারস্থ হওয়ার পথও খোলা রাখছে আর্জেন্টিনা।

মারিয়া রহমান আগস্ট ২৮, ২০২৬
ছবি : বিসিবি

রুবেলের ঘূর্ণিতে নর্দান বধ, শীর্ষে থেকে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ক্রিকেটে আবারও চোটের ধাক্কা

ছবি: সংগৃহীত

ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে যা জানালেন দুই ছেলে

0 Comments