আন্তর্জাতিক

ভেনেজুয়েলার সঙ্গে ‘বিশ্বের বৃহত্তম তেল চুক্তি’, ঘোষণা ট্রাম্পের

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের সবচেয়ে বড় জ্বালানি তেলের মজুদ সমৃদ্ধ দেশ ভেনেজুয়েলা। এবার দেশটির সঙ্গে ‘বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় তেল চুক্তি’ করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর ফলে ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়ন (৬ হাজার ৫০০ কোটি) ব্যারেল প্রমাণিত তেল মজুদের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ পেতে চলেছে ওয়াশিংটন।



নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই ‘ঐতিহাসিক চুক্তি’ যুক্তরাষ্ট্রের তেল মজুদ দ্বিগুণেরও বেশি বাড়াবে। এর ফলে মার্কিন নাগরিকদের জন্য জ্বালানির দামও কমবে উল্লেখযোগ্য হারে।



ট্রাম্পের ভাষ্য, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেসের সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে সম্পন্ন করেছেন এ চুক্তি। বেসরকারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অংশীদারত্বে হওয়া এ চুক্তিতে মার্কিন করদাতাদের কোনো অর্থ ব্যয় হবে না বলেও দাবি করেছেন তিনি।



ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ‘অপহরণ’ করার পর দেশটির সঙ্গে এমন চুক্তির ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প।



চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি গভীর রাতে আকস্মিক অভিযানে মাদুরোকে নিজ বাসভবন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে তুলে নেওয়া হয়। তখন ট্রাম্প বলেছিলেন, ভেনেজুয়েলার তেল থেকে পাওয়া অর্থ তার নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এই অর্থ ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহার হবে জনগণের স্বার্থে।

 

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি এ চুক্তিটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, চরম অর্থনৈতিক সংকটে থাকা ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে এই সিদ্ধান্ত রাখবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

 

সিবিএস নিউজকে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ চুক্তির অধীনে ভেনেজুয়েলার একটি অভিজ্ঞ বেসরকারি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একটি যৌথ উদ্যোগ (জয়েন্ট ভেঞ্চার) গঠন করা হবে, যার ৫৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ থাকবে মার্কিন সরকারের হাতে।

 

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই যৌথ উদ্যোগকে সেদেশের তেল ক্ষেত্রগুলোয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ১০০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি ইজারা বা অনুমোদন দিয়েছে।

 

এতে দেশটির সরকারি কোষাগারে প্রায় ২০ হাজার ৯০০ কোটি ডলার আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

চুক্তিটি কয়েক সপ্তাহের আলোচনার পর হয়েছে। এর আওতায় ভেনেজুয়েলার কয়েকটি তেলক্ষেত্রে মার্কিন কোম্পানিগুলো দীর্ঘমেয়াদি প্রবেশাধিকার পাবে। এসব ক্ষেত্র থেকে উৎপাদিত অপরিশোধিত তেলের একটি বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রে সরবরাহ নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও থাকবে।

 

আগামী সপ্তাহে কয়েকটি কোম্পানিকে নতুন তেল অনুসন্ধান ও উৎপাদনের অধিকার দেওয়ার চুক্তি সইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে ভেনেজুয়েলা। এতে বিশেষ গুরুত্ব পাবে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো।

এর আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছিল, ভেনেজুয়েলার তেলক্ষেত্রগুলো লিজ দেওয়ার একটি মডেল নিয়ে আলোচনা চলছে। মার্কিন তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে এসব ক্ষেত্র নিলামের মাধ্যমে দেওয়া হতে পারে।

 

তবে এ ব্যবস্থায় ভেনেজুয়েলা আইন ও সংবিধানগত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। দেশটির গুরুত্বপূর্ণ তেল কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণ এখনো রাষ্ট্রের হাতে।

 

বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেল মজুদ রয়েছে ভেনেজুয়েলার কাছে। দৈনিক প্রায় ১২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন করছে।

 

নতুন চুক্তির মাধ্যমে দেশটির তেল উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের শোধনাগারগুলোর জন্য আরও বেশি অপরিশোধিত তেল নিশ্চিত করতে চায় ট্রাম্প প্রশাসন।

 

তবে চুক্তিটির কাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি ট্রাম্প। কোন কোন তেলক্ষেত্র এর আওতায় থাকবে, কোন কোম্পানিগুলো এতে যুক্ত হবে, কিংবা যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে তেল মজুদের ‘অধিকাংশের নিয়ন্ত্রণ’ নেবে, এসব বিষয় এখনো স্পষ্ট নয়।

 

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, চুক্তিটি দুই দেশের জন্যই লাভজনক। এতে যুক্তরাষ্ট্র স্থিতিশীল ও কম দামে তেল পাবে। চুক্তিটি দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকটে থাকা ভেনেজুয়েলার পুনর্গঠনে সহায়তা করবে।

 

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে মার্কিন বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেশ বেড়েছে। এতে মার্কিন নাগরিকদের বেশি দামে তেলের পাশাপাশি নিত্যপণ্য কিনতে হচ্ছে।

 

ভেনেজুয়েলার জন্য প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ আসবে বলেও দাবি করেছেন রুবিও।

 

সূত্র: আল জাজিরা

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
মোজতবা খামেনি
মোজতবা খামেনির প্রকাশ্যে না আসার কারণ জানালেন ইরানি কূটনীতিক

নিরাপত্তাজনিত কারণেই লোকচক্ষুর আড়ালে রয়েছেন ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। তবে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং স্বাভাবিকভাবে নিজের দাপ্তরিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।   ভারতে আয়োজিত ‘এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড সামিট ২০২৬’-এ অংশ নিয়ে ইরানের জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক আবদুল মজিদ হাকিম এলাহি এসব তথ্য জানিয়েছেন।   মোজতবা খামেনিকে বিশ্ববাসী কেবল ‘শুনেছে’, কিন্তু দেখেনি—এমন এক প্রশ্নের জবাবে এলাহি বলেন, নিরাপত্তার কারণে তিনি গণমাধ্যমের সামনে আসছেন না। তবে গত সপ্তাহে ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সর্বোচ্চ নেতার সাত ঘণ্টার দীর্ঘ বৈঠক হয়েছে। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকারও তার সঙ্গে দেখা করেছেন।   সংবাদমাধ্যমে মোজতবা খামেনির জনসমক্ষে না আসার খবর ছড়ালেও এলাহি দাবি করেন, সর্বোচ্চ নেতা তার বাবার জানাজায় অংশ নিয়েছিলেন। এমনকি মাঝে মাঝে রাতে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভেও যোগ দেন তিনি।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এক হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হন। ওই হামলায় তার ছেলে মোজতবা খামেনিও আহত হয়েছিলেন বলে জানা যায়। এরপর মার্চে তিনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মূলত তখন থেকেই তিনি লোকচক্ষুর আড়ালে রয়েছেন। সম্মেলনে ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলার প্রসঙ্গ টেনে ইরানি কূটনীতিক বলেন, ওই দিন মিনাব শহরের একটি স্কুলে দুবার হামলা চালানো হয়েছিল, যাতে ১৬৮ জন নিরীহ শিশু প্রাণ হারায়। যুক্তরাষ্ট্র এখনো এর জন্য ক্ষমা চায়নি। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধে তাদের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। ওয়াশিংটন ইরানে সরকার পরিবর্তন, দেশটিকে পাঁচ টুকরো করা এবং এর তেলসম্পদ দখলের পাঁয়তারা করলেও তারা কিছুই অর্জন করতে পারেনি। উল্টো নেতৃত্ব পরিবর্তনের পর ইরান আরও শক্তিশালী হয়েছে।   হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে এলাহি বলেন, এটি হাজার হাজার বছর ধরে উন্মুক্ত ছিল, কিন্তু ‘তারা’ এসে এটি বন্ধ করে দিয়েছে। এ ছাড়া ভারত ও ইরানের সম্পর্ককে ‘একই বইয়ের একটি পৃষ্ঠার দুই পিঠ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, ব্রিকসের সভাপতি হিসেবে মধ্যপ্রাচ্য ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভারত বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপজুড়ে তীব্র গরমে প্রাণ গেল ৫০ হাজারের বেশি মানুষের

ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপে রেকর্ড দাবদাহে ৫০ হাজারের বেশি প্রাণহানির আশঙ্কা, জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করছেন বিজ্ঞানীরা

ছবি: সংগৃহীত

জীবিকার তাগিদে জরায়ু অপসারণের পথে ভারতের আখশ্রমিক নারীরা

ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহত ৩

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশের গোয়াদর এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে তিন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) একটি নির্মাণপ্রতিষ্ঠানের জনশূন্য ক্যাম্পে হামলার চেষ্টা নস্যাৎ করতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটে। পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম রেডিও পাকিস্তানের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযানে আরও তিনজন সশস্ত্র জঙ্গিকে ঘিরে ফেলেছে নিরাপত্তা বাহিনী। তাদের আটক করতে অভিযান চলছে।   এদিকে, গোয়াদর মহাসড়কের কাছে একটি হোটেলে অবস্থানরত সশস্ত্র ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও পৃথক অভিযান চালাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোটেলটির ভেতরে চার হামলাকারীকে ঘিরে রাখা হয়েছে।   পাকিস্তানে সাম্প্রতিক সময়ে জঙ্গি হামলার ঘটনা বেড়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত সেপ্টেম্বর মাসে দেশটিতে গত ১২ বছরের মধ্যে এক মাসে সর্বোচ্চসংখ্যক জঙ্গি হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।   তবে গোয়াদরের চলমান অভিযানগুলোর বিস্তারিত এবং হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যায়নি।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে ৭ জাহাজে হামলা ও মাইন বিস্ফোরণের দাবি ইরানের

ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ আফ্রিকায় বিক্ষোভের মধ্যে গণপিটুনিতে প্রাণ হারালেন এক বিদেশি

ছবি: সংগৃহীত

চীনের তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে

ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন নির্ভরতা কমাতে তুরস্কের সঙ্গে নতুন জোটে কানাডা

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান দুই দেশের মধ্যে নতুন কৌশলগত অংশীদারত্বের ঘোষণা দিয়েছেন। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, জ্বালানি এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার- এই চারটি প্রধান ক্ষেত্রকে সামনে রেখে তিন বছর মেয়াদি একটি কর্মপরিকল্পনাও গ্রহণ করেছেন তারা।   বৃহস্পতিবার দুই নেতার যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, জটিল বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং পরিবর্তনশীল মানবিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে কানাডা ও তুরস্কের শক্তিশালী ও স্থিতিশীল অংশীদারত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে অভিন্ন হুমকি মোকাবিলা এবং নতুন সুযোগ কাজে লাগানোর ভিত্তি তৈরি হবে।   কানাডার প্রধানমন্ত্রী কার্নির দুই দিনের তুরস্ক সফরের মধ্যেই এ ঘোষণা এল। যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমিয়ে বাণিজ্যিক ও কৌশলগত অংশীদারত্বের পরিসর বাড়ানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে নতুন এই উদ্যোগ নিয়েছে অটোয়া।   বাণিজ্য ১০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য আঙ্কারায় কার্নির সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এরদোয়ান বলেন, বর্তমানে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার। পর্যায়ক্রমে তা প্রথমে ৫ বিলিয়ন এবং পরে ১০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে চায় দুই দেশ।   তিনি জানান, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে চলতি বছরের শেষ নাগাদ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরুর বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়েছে। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আগামী মাসে আঙ্কারায় দুই দেশের প্রতিনিধিরা বাণিজ্য আলোচনার প্রথম পর্বে বসবেন।   এরদোয়ান বলেন, কানাডা ও তুরস্কের সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারত্বের পর্যায়ে উন্নীত করা কেবল কাগজে-কলমে প্রতীকী কোনও পদক্ষেপ হবে না।   তিনি বলেন, “আজ আমরা তুরস্ক ও কানাডার মধ্যে বহু বছর ধরে চলে আসা দূরত্ব কাটিয়ে উঠেছি। এখন দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমরা একটি নতুন যুগের সূচনা করছি।”   নতুন কর্মপরিকল্পনায় জ্বালানি সরবরাহ, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন, মহাকাশ ও উড়োজাহাজশিল্প এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ (এআই) অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তায় সহযোগিতা বাড়বে নতুন অংশীদারত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা। যৌথ বিবৃতিতে দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় পর্যায়ে সহযোগিতা গভীর করার অভিপ্রায় পুনর্ব্যক্ত করেছেন।   ইউরো-আটলান্টিক অঞ্চলসহ এর বাইরেও শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন তারা। এক্ষেত্রে ইউক্রেন, দক্ষিণ ককেশাস এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে গাজার নিরাপত্তা ও পরিস্থিতির বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।   প্রতিরক্ষা উৎপাদন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে দুই দেশের। এতে সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন, প্রযুক্তি বিনিময় এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প খাতে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে।   জ্বালানি সহযোগিতার ক্ষেত্রে দুই দেশের জ্বালানিমন্ত্রীরা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), পারমাণবিক জ্বালানি এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজসম্পদ নিয়ে কাজ করবেন। জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৌশলগত খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণও এ উদ্যোগের অংশ।   যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা কানাডার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের মধ্যে কানাডা তার আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব বহুমুখী করার চেষ্টা করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের আরোপ করা শুল্ক, এর প্রতিক্রিয়ায় কানাডার পাল্টা ব্যবস্থা এবং কানাডার সার্বভৌমত্ব নিয়ে ট্রাম্পের বিভিন্ন বক্তব্য দুই দেশের সম্পর্কে চাপ তৈরি করেছে।   এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে নতুন বাজার, বিনিয়োগের সুযোগ এবং কৌশলগত অংশীদার খুঁজছে অটোয়া। তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার সেই প্রচেষ্টারই অংশ।   কার্নির এ সফর কানাডার কোনও প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দ্বিপক্ষীয় তুরস্ক সফর। যদিও এর আগে গত জুলাইয়ে ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে তিনি আঙ্কারা সফর করেছিলেন।   তুরস্ক সফরে এরদোয়ান ও দেশটির অন্যান্য কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি ইস্তাম্বুলে তুর্কি ব্যবসায়ী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গেও আলোচনার কথা রয়েছে তার। এসব আলোচনায় দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজে বের করার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।   নতুন কৌশলগত অংশীদারত্বের মাধ্যমে কানাডা ও তুরস্কের সম্পর্ক বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও জ্বালানির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য অর্জন এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করতে আগামী দিনের আলোচনা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াই হবে গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: আল-জাজিরা

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সৌদির দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলায় নিহত ২, আহত ৮

ছবি: সংগৃহীত

ইরান সীমান্তের কাছে পৌঁছে ফিরে গেল ইসরায়েলের কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান

ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্সের আন্দোলনে ‘বিসমিল্লাহ’ স্লোগান, যেভাবে হলো এর উৎপত্তি

0 Comments