নেদারল্যান্ডসে আতশবাজির কারণে সৃষ্ট দুর্ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া একটি পৃথক ঘটনায় আমস্টারডামের কেন্দ্রস্থলে একটি ঐতিহাসিক গির্জা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) আল জাজিরার খবরে বলা হয়, নেদারল্যান্ডস ঐতিহ্যগতভাবে নববর্ষ উদযাপন করে, এ সময় বিপুল সংখ্যক আতশবাজি পোড়ানো হয় যার ফলে প্রতি বছর শত শত মানুষ আহত হন এবং লাখ লাখ ইউরোর ক্ষতি হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, এই বছর নববর্ষের প্রাক্কালে প্রায় ২৫০ জনকে গ্রেফতার করা হয় এবং বেশ কয়েকটি শহরে দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে পুলিশ জানায়, ‘এই নববর্ষের শুরুতে কিছু এলাকায় ভারী আতশবাজি এবং অগ্নিসংযোগের প্রভাব ছিল মারাত্মক ধ্বংসাত্মক। জরুরি পরিষেবা এবং পুলিশের বিরুদ্ধে সহিংসতা আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে।’
পুলিশ জানিয়েছে, আতশবাজি দুর্ঘটনায় আমস্টারডামের কাছে ৩৮ বছর বয়সি এক ব্যক্তি এবং দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর নিজমেগেনের একটি ছেলে নিহত হয়েছেন।
এছাড়া আমস্টারডামে, শহরের কেন্দ্রীয় ভন্ডেলপার্কের কাছে অবস্থিত একটি গির্জায় মধ্যরাতের কিছু পরেই শুরু হওয়া আগুনে ধ্বংস হয়ে যায়।
এদিকে, আমস্টারডাম পুলিশ এবং দমকল বিভাগ জানিয়েছে যে তারা ঘটনার তদন্ত করছে এবং ১৮৭২ সালে নির্মিত গির্জায় আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে এখনও কোনো মন্তব্য করেনি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
আফ্রিকায় ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মুখে বিমানবন্দরগুলোতে নজরদারি জোরদার করেছে ভারত সরকার। এর অংশ হিসেবে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় ‘এয়ার সুবিধা ২.০’ নামে একটি নতুন কন্ট্যাক্টলেস ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে। গত ২৫ জুন থেকে কার্যকর হওয়া এই নিয়মের অধীনে এখন থেকে যেকোনো দেশ থেকে ভারতে আসা সমস্ত আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য ফ্লাইটে ওঠার আগে অনলাইনে একটি স্বাস্থ্য ঘোষণাপত্র পূরণ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মধ্য আফ্রিকার এই ইবোলা প্রাদুর্ভাবকে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করার পর ভারত এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিল। নতুন এই নিয়মটি সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সহ বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে ভারতে আসা সকল যাত্রীদের জন্য প্রযোজ্য হবে। যাত্রীরা তাদের যাত্রা শুরুর ২৪ ঘণ্টা আগে airsuvidha.civilaviation.gov.in পোর্টালে গিয়ে এই ফর্মটি পূরণ করতে পারবেন। বিমানবন্দরে নেমে বাড়তি ঝামেলা এড়াতে যাত্রীদের ওয়েব চেক-ইনের সময়ই এই ফর্মটি পূরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই ফর্মে মূলত যাত্রীর বিগত ২১ দিনের ভ্রমণ ইতিহাস, এবোলা আক্রান্ত কোনো অঞ্চলে যাওয়ার রেকর্ড আছে কিনা এবং শরীরে জ্বর, গায়ে ব্যথা বা রক্তপাতের মতো কোনো উপসর্গ রয়েছে কিনা—সেসব তথ্য দিতে হবে। ভারতে পৌঁছানোর পর যাত্রীদের বিমানবন্দরে কোনো কাগজের ফর্ম পূরণ করতে হবে না; কেবল ডাউনলোড করা এই অনলাইন ফর্মটি ইমিগ্রেশন কাউন্টারে দেখালেই চলবে। এই ডিজিটাল পোর্টালের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রীদের তথ্য রিয়েল-টাইমে বিমানবন্দর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও ইমিগ্রেশন টিমের কাছে পৌঁছে যাবে। ভারত সরকারের এই জরুরি পদক্ষেপের মূল কারণ হলো গত ১৭ মে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া একটি ঘোষণা। ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআরসি) এবং উগান্ডায় ছড়িয়ে পড়া এবোলা প্রাদুর্ভাবকে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করে সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করে ডব্লিউএইচও। এবারের প্রাদুর্ভাবটি মূলত ইবোলার একটি বিরল রূপ ‘বুন্দিবুগিও ভাইরাস ডিজিজ’ দ্বারা সৃষ্ট, যার জন্য বর্তমানে অনুমোদিত কোনো ভ্যাকসিন বা সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। ডিআরসি ও উগান্ডার সীমান্তবর্তী দক্ষিণ সুদানের মতো দেশগুলোও এখন চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ভারত সফরকারী বা ট্রানজিট নেওয়া যাত্রীদের এই সমস্ত দেশে ভ্রমণের ইতিহাস থাকলে বিমানবন্দরে তাদের অতিরিক্ত স্ক্রিনিংয়ের মুখোমুখি হতে হবে। বিগত পাঁচ দশকে আফ্রিকায় এবোলা ভাইরাসের সংক্রমণে ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। মূলত আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরল পদার্থের সংস্পর্শে আসার মাধ্যমে এই মারাত্মক ভাইরাসটি ছড়ায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস পরিস্থিতিটিকে উদ্বেগজনক কিন্তু নিয়ন্ত্রণযোগ্য বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিয়ে বলেন, এই প্রাদুর্ভাবটি খুব দ্রুত ছড়াচ্ছে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে। এই মহামারি মোকাবিলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং আফ্রিকান সিডিসি আগামী ছয় মাসের জন্য যৌথভাবে ৫১৮ মিলিয়ন ডলারের তহবিল ঘোষণা করেছে। এই বৈশ্বিক সংকটের মধ্যে ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং দিল্লি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লিমিটেড জানিয়েছে, যাত্রী ও বিমানবন্দর কর্মীদের সুরক্ষায় সম্পূর্ণ কন্ট্যাক্টলেস বা স্পর্শহীন উপায়ে এই ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, আগামী বছরের শুরুর দিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারত সফর আয়োজনের জন্য কাজ করছে ওয়াশিংটন। ভারতীয় বার্তা সংস্থা আইএএনএসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে একটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই ট্রাম্পের সফর হতে পারে। তিনি জানান, সফরের প্রস্তুতি নিতে তিনি নিজেও চলতি বছর ভারত সফর করতে পারেন। রুবিও বলেন, আগামী বছরের প্রথমদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ভারতে আনার জন্য আমরা কাজ করছি। গত সপ্তাহে ফ্রান্সে জি৭ সম্মেলনের ফাঁকে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও ট্রাম্পের বৈঠক হয়। বৈঠকের পর ট্রাম্প জানান, তাদের মধ্যে “খুব ভালো আলোচনা” হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত কয়েক মাস ধরেই ট্রাম্পের সফরের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছে। সম্ভাব্য সফরটি জাপান ও অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে একটি আঞ্চলিক বৈঠকের সঙ্গেও যুক্ত হতে পারে। গত এক বছরে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে ওয়াশিংটন ভারতীয় পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কও জোরদার করে। তবে এখন দুই দেশই সম্পর্ক উন্নয়ন ও বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার বিষয়ে আশাবাদী। রুবিও বলেন, আমরা চুক্তির একেবারে শেষ পর্যায়ে আছি এবং অগ্রগতি খুবই ইতিবাচক।
ইউক্রেনের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরবরাহে যুক্তরাজ্যের পরিকল্পনাকে ‘সন্দেহজনক রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছে রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, এই সিদ্ধান্তের পেছনে বাণিজ্যিক স্বার্থের চেয়ে কিয়েভ সরকারকে সমর্থনের রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার উদ্দেশ্যই বেশি কাজ করছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাখারোভা বলেন, পরিকল্পনাটি সম্ভবত ইউক্রেনের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি তৈরিতে ব্যবহৃত নিম্ন-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরবরাহের সঙ্গে সম্পর্কিত। বর্তমানে ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান ইউরেনকো এ ধরনের পণ্যের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী। তিনি জানান, ইউক্রেনের নিজস্বভাবে পারমাণবিক জ্বালানি উৎপাদনের শিল্প সক্ষমতা রয়েছে বলে রাশিয়ার জানা নেই। তাই তার ধারণা, ইউরেনিয়াম সরাসরি ইউক্রেনে নয়, বরং তৃতীয় কোনো দেশের পারমাণবিক জ্বালানি উৎপাদনকারী কারখানায়—সম্ভবত ওয়েস্টিংহাউস-এ পাঠানো হবে। জাখারোভা বলেন, লন্ডনের বক্তব্য অনুযায়ী এই চুক্তির সঙ্গে তথাকথিত ‘ডার্টি বোমা’ বা তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়িয়ে দেওয়ার মতো অস্ত্র তৈরির কোনো সম্পর্ক নেই। তবে রপ্তানিকারক দেশকে নিশ্চিত করতে হবে যে ইউক্রেন পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) অনুযায়ী তাদের দায়বদ্ধতা কঠোরভাবে পালন করবে এবং সরবরাহ করা উপাদান নির্ধারিত উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করবে। তিনি আরও বলেন, এসব শর্ত পূরণ হলে এই সরবরাহ আন্তর্জাতিক পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ ব্যবস্থাকে দুর্বল করবে না। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পারমাণবিক উপাদানকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তত্ত্বাবধানে রাখতে হবে। তবে জাখারোভার দাবি, যুক্তরাজ্যের এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য বাণিজ্যিক নয়, বরং প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সরকারকে সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজনৈতিক সুবিধা অর্জন করা। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ব্রিটিশ সরকারের এই অবস্থান এমন সময় এসেছে, যখন ইউক্রেনীয় বাহিনী জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং এর কর্মীদের আবাসস্থল এনারহোদার শহরে সরাসরি হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে রাশিয়ার দাবি। এ বিষয়ে লন্ডনের পক্ষ থেকে কোনো নিন্দা বা উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জাখারোভা বলেন, এই নীরবতাই পারমাণবিক নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাজ্যের অবস্থানকে স্পষ্ট করে। তাই ইউক্রেনকে দেয়া ব্রিটিশ সহায়তার প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে রাশিয়ার কোনো বিভ্রম নেই।