অন্যান্য

জামায়াত–চরমোনাই–এনসিপি জোটে বাড়ছে অবিশ্বাস, টালমাটাল সমীকরণ

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ০২, ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গঠিত ১১ দলীয় নির্বাচনী জোট অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। আসন সমঝোতা নিয়ে দলগুলোর মধ্যে অস্বস্তি দিনদিন স্পষ্ট হচ্ছে। ৩০০ সংসদীয় আসনে এই জোটভুক্ত দলগুলো থেকে ৬০০-এর বেশি মনোনয়নপত্র জমা পড়ায় দলগুলোর মধ্যে দরকষাকষির সমীকরণ আরও জটিল আকার নিয়েছে। প্রতিটি দলই নিজেদের শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে চাইছে, ফলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনিশ্চয়তা কাটছে না। এমন টানাপোড়েনের মধ্যেই জোটের অভ্যন্তরীণ সমঝোতা সংকট ঘিরে নানান জল্পনা ও আলোচনা ছড়িয়েছে। কেউ কেউ এতে ‘তৃতীয় শক্তি’র ইন্ধন জোগানোর আশঙ্কাও করছেন। ফলে ঐক্যের বার্তা থাকলেও বাস্তবে ১১ দলীয় জোট এখনো বিশ্বাস আর অবিশ্বাসের দোলাচলে দাঁড়িয়ে আছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান গত রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ভোটের মাঠে লড়তে ১০ দলীয় জোটের ঘোষণা দেন। জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি আগে থেকেই এই জোটে ছিল। কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন এলডিপি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) নতুন করে জোটে যুক্ত হয়।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে সারা দেশে ৩০০ সংসদীয় আসনে মোট ২ হাজার ৫৮২টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের ৬০০-এর বেশি প্রার্থী ৩০০ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। জোটের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী ২৭৬ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৬৮টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। অন্য দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৯৪টি, খেলাফত মজলিস ৬৮টি, এবি পার্টি ৫৩টি, এনসিপি ৪৪টি এবং এলডিপি ২৪টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে।

জোটভুক্ত কয়েকটি দলের দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আসন সমঝোতা চূড়ান্ত না হওয়ায় দরকষাকষির কৌশল হিসেবে অতিরিক্ত প্রার্থী রাখা হয়েছে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত এই দরকষাকষি চলবে। নেতারা মনে করছেন, আগেই সমঝোতা হয়ে গেলে একই আসনে একাধিক দলের মনোনয়ন জমা দেওয়ার ঘটনা ঘটত না এবং সন্দেহ ও অবিশ্বাস তৈরি হতো না।

সর্বশেষ আলোচনায় জানা গেছে, জামায়াত শরিকদের জন্য প্রায় ১১০টি আসন ছাড়ার চিন্তা করছে। এর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৩০, এনসিপি ৩০, খেলাফত মজলিস ১৫, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ১০, এবি পার্টি ৩, এলডিপি ৩, বিডিপি ২, জাগপা ৩, খেলাফত আন্দোলন ৪ এবং নেজামে ইসলাম পার্টির জন্য ২টি আসনের প্রস্তাব রয়েছে। তবে এখনো এটি চূড়ান্ত হয়নি।

এই সমঝোতা নিয়ে সবচেয়ে বেশি অসন্তোষ রয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মধ্যে। দলটি শুরুতে ১২০-১৫০টি আসনের দাবি করলেও পরে তা কমিয়ে ৭০ আসনের কথা জানায়। জামায়াতের পক্ষ থেকে কম আসনের প্রস্তাব আসায় দলটির মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ইসলামী আন্দোলন সারা দেশে ১৪৩টি আসনকে নিজেদের জন্য শক্ত অবস্থান হিসেবে বিবেচনা করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসলামী আন্দোলনের এক শীর্ষ নেতা বলেন, ঐক্য ভাঙা তাদের লক্ষ্য নয়, তবে আসন সমঝোতা হতে হবে ন্যায্যতার ভিত্তিতে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আলোচনা চলমান রয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
এনসিপির ক্ষেত্রেও আসন সমঝোতা নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। ৩০টি আসনে সমঝোতার কথা বলা হলেও দলটি ৪৪টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়। শীর্ষ কয়েকজন নেতার আসন নিশ্চিত হলেও বাকিরা এখনো অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। এতে দলের ভেতরে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।

এবি পার্টির পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, প্রাথমিকভাবে তিনটি আসনের কথা বলা হলেও বাকি আসনগুলো নিয়ে আলোচনা চলছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর জোটে থাকা বা না থাকার বিষয়ে অবস্থান জানানো হবে।

জামায়াতের নেতারা বলছেন, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগেই সবকিছু চূড়ান্ত হবে এবং বড় কোনো সংকট নেই। আলোচনার মাধ্যমেই সব সমস্যার সমাধান হবে বলে তারা আশাবাদী।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বড় জোটে আসনকেন্দ্রিক বিরোধ স্বাভাবিক ঘটনা। তবে এসব অস্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হলে নির্বাচনের মাঠে তার প্রভাব পড়তে পারে। নির্বাচনী জোট মূলত আদর্শের চেয়ে বাস্তব কৌশলের ওপর দাঁড়িয়ে গড়ে ওঠে এবং মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এই দরকষাকষি চলতে পারে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অন্যান্য

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ছাড়া সব বিষয়ে দক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী : জামায়াত এমপি

সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সব দিক দিয়ে দক্ষ। উনি সব মন্ত্রণালয়ে প্রক্সি দেন। কিন্তু উনি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ।’ শনিবার সংসদে বাজটে আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি।   লক্ষ্মীপুরের একই পরিবারের চারজন হত্যা এবং বিভিন্নস্থানে ধর্ষণের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানমালের কতটুকু নিরাপত্তা দিতে পারছে, তা বুঝতে পারছি না।   বাজেট বাস্তবায়নে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, সরকারের প্রথম ১০০ দিনে খুন হওয়া ৬০৫ জনের মধ্যে ২৮৮ জনই সরকার দলের। সরকার দলের লোক খুন করল কারা? খুন হলো কারা? এর অর্থ নিজের দলের লোকদের নিজেরাই মেরেছে। যে সরকারের কাছে নিজের দলের লোকেদের নিরাপত্তা নেই, তাদের কাছে দেশের মানুষের কি নিরাপত্তা আশা করতে পারে?   মাদকের বিষয়ে রফিকুল ইসলাম বলেন, মাদক সরবরাহকারীদের আগে চিহ্নিত করা, দেশে মাদক ঢোকা বন্ধ করতে হবে। এটাও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। দেশে আইনশৃঙ্খলা নেই।    রফিকুল ইসলাম খান বলেন, সরকার দলীয় এমপি বলেছেন, ‘ব্যাংকিং খাত বেহাল’। ব্যাংকিং খাতের বেহাল দশার অন্যতম কারিগর হচ্ছে ব্যাংক লুটেরা এস আলম। শুধু ইসলামী ব্যাংক থেকে তারা ৮৬ হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে। দুর্ভাগ্য, এ টাকা ফেরত আনতে সরকার ব্যবস্থা নেয়নি। আরও বড় দুর্ভাগ্য একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী এ ব্যাংক ডাকাত এস আলমের অবৈধভাবে নিয়োগ ১১ হাজারের বেশি কর্মচারীকে চাকরি ফেরত চেয়ে বক্তব্য দিয়েছিলেন। এতে বোঝা যায়, ব্যাংক ডাকাতের সঙ্গে ওই মন্ত্রীর যোগসূত্র থাকতে পারে।    গণভোটের রায় অনুযায়ী জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ বাস্তবায়নের দাবি জানান রফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, দেশের মানুষ গণভোটের পক্ষে রায় দিয়েছে।    পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব জামায়াতের সমালোচনা করে বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটের বিষয়ে সুশীল সমাজসহ বিভিন্ন সংগঠন কোন সমালোচনা না করলেও, একটি দল ক্ষুদ্র একটি ব্যানার হাতে নিয়ে প্রতিবাদ মিছিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছি। সেখানে মাদক, সিগারেট ও মদের ট্যাক্স বাড়ানোর প্রতিবাদে তারা রাস্তায় দাঁড়িয়েছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক, ইসলামে মদ ও মাদক নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২৮, ২০২৬
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া

আওয়ামী লীগের পথেই হাঁটছে সরকার: আসিফ মাহমুদ

ছবি: সংগৃহীত

মেট্রোরেলে ৫০ শতাংশ ভাড়া ছাড়ের সুবিধা পাবেন যারা, জানালেন প্রতিমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

ভারতের মেডিকেল কলেজে শিক্ষকতা করছেন সাবেক এমপি প্রাণ গোপাল দত্ত

ছবি: সংগৃহীত
বিএনপি সার্বভৌমত্বের পক্ষে থাকলে এনসিপি পাশে থাকবে: সারজিস আলম

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার দত্তগ্রাম সীমান্তে সম্প্রতি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত মুজিব আলীর বাড়ি পরিদর্শন করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।   শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে তারা নিহত মুজিব আলীর কবর জিয়ারত করেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে গভীর সমবেদনা জানান। পরে সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন এনসিপির দুই নেতা।   সাংবাদিকদের দেওয়া এক প্রশ্নের জবাবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সীমান্তে যারা নিহত হচ্ছেন, তাদের একমাত্র পরিচয় তারা বাংলাদেশের নাগরিক। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বাংলাদেশি হওয়ার কারণেই সীমান্তে নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে। এসব ঘটনার বিচার নিশ্চিত করতে ভারতকে আন্তর্জাতিক আদালতে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।   নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, ‘সরকার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ নিলেও শুধু বেড়া নির্মাণ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। সীমান্ত এলাকায় হাসপাতাল, স্কুল-কলেজ, কর্মসংস্থানসহ মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। এসব বিষয় উপেক্ষা করে শুধু অবকাঠামোগত ব্যবস্থা নিলে সীমান্তবাসীর দুর্ভোগ কমবে না।’   তিনি আরও বলেন, ভারতের সঙ্গে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি নয়, বরং শক্তিশালী ও মর্যাদাপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি প্রয়োজন। একই সঙ্গে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবিকে আধুনিক অস্ত্র, টহল যান, অবকাঠামোগত সুবিধা এবং উন্নত বেতন কাঠামোর মাধ্যমে আরও শক্তিশালী করার দাবি জানান তিনি।    তিনি বলেন, এনসিপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে সীমান্তে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। সীমান্তে যে অন্যায় ও হত্যাকাণ্ড ঘটছে, ভবিষ্যতের বাংলাদেশে তা আর হতে দেওয়া হবে না। সীমান্ত এলাকার মানুষকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে প্রত্যেক সীমান্তবাসীকেই দেশের নিরাপত্তায় একজন সৈনিকের মতো দায়িত্ব পালন করতে হবে।   তিনি বলেন, সীমান্তে পুশইন ঠেকাতে বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও সহযোগিতা করতে হবে।   এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম সাংবাদিকদের বলেন, যদি বিএনপি জনগণের স্বার্থ ও দেশের সার্বভৌমত্বের পক্ষে অবস্থান নেয় এবং ভারতের সঙ্গে সমমর্যাদার ভিত্তিতে কথা বলতে পারে, তাহলে এনসিপি শুধু বিরোধীদল হিসেবেই নয়, দেশের ছাত্রজনতাও তাদের পাশে থাকবে। এ সময় এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মী এবং নিহত মুজিব আলীর পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক ভারসাম্যের অভাব: ছাত্রশিবির ছাড়লেন ডা. সাব্বির

ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধের নির্দেশ

ছবি : সংগৃহীত

শিক্ষা ও সংস্কৃতির সঠিক মিলন না হলে সভ্যতা গড়ে উঠবে না: বিএনপি এমপি ফজলুর রহমান

ছবি : সংগৃহীত
ট্রাইব্যুনালে সাক্ষীকে নিজেই জেরা করার অনুমতি চাইলেন জুনাইদ আহমেদ পলক

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় সাক্ষীকে নিজেই জেরা করার অনুমতি চেয়েছেন সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে তিনি এ অনুমতি চান।   এ মামলার আরেক আসামি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় পলাতক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে সপ্তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়া কবির হোসেন মৃধার জেরার নির্ধারিত দিন ছিল আজ। তবে আরও কিছু সময় দেওয়ার প্রার্থনা করেন পলকের আইনজীবী লিটন আহমেদ।   তিনি ট্রাইব্যুনালকে বলেন, আইনজীবী আমিনুল গণি টিটোর মৃত্যুর পর মুনসুরুল হক চৌধুরীকে এ মামলায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ব্যক্তিগত কারণে তিনি আজ আসতে পারেননি। এজন্য আমরা সময় চাই। কিন্তু তার আবেদনটি মঞ্জুর করেননি ট্রাইব্যুনাল।   কার্যতালিকায় থাকা আরেকটির কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর এ মামলার সাক্ষীর জেরা শুরু করতে বলা হয়। সেই অনুযায়ী দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে জয়-পলকের মামলার জেরার কাজ শুরু হয়।    এ সময় পলককে ট্রাইব্যুনালের এজলাসকক্ষে থাকা আসামির কাঠগড়ায় তোলা হয়। কাঠগড়ায় উঠেই সাক্ষীকে নিজে জেরা করার অনুমতি চান তিনি।   ট্রাইব্যুনালের উদ্দেশে পলক বলেন, মাননীয় আদালত, আমি জেরা করার অনুমতি চাই। এ পর্যায়ে পলকের আইনজীবী লিটনও জানান, তার মক্কেল ১৫ মিনিট জেরা করতে চান। কিন্তু এতে আপত্তি জানান প্রসিকিউশন।    প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান বলেন, আইনে এ সুযোগ নেই। শুধুমাত্র আসামির আইনজীবীই জেরা করতে পারেন।   তখন আইনজীবী লিটন বলেন, পলক নিজেও একজন আইনজীবী। তিনি আইন সম্পর্কে ভালো জানেন।    এরপরও অনুমতি না মেলায় কবির হোসেনকে জেরা শুরু করেন লিটন আহমেদ।   জেরায় আইনজীবীর প্রশ্নে কবির বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর আমি বিজয় মিছিলে অংশ নেইনি। ওই দিন রাতে হাসপাতালে পৌঁছে আমার ছেলেসহ আরও আটজনের লাশ দেখতে পাই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাকে একটি কাগজ দিয়েছিল।   এ সময় সাক্ষীর উদ্দেশে আইনজীবী লিটন বলেন, বিজয় মিছিলে আনন্দ প্রকাশের কারণে গোলাগুলি হয়। সেই গুলিতেই আপনার ছেলে মারা গেছেন।   প্রশ্নটি পুরোপুরি বুঝতে না পেরে সাক্ষী প্রথমে হ্যাঁ জবাব দেন। তখন প্রসিকিউশন থেকে পুনরায় জিজ্ঞেস করতে বলা হয়। কিন্তু কাঠগড়ায় বসে আপত্তি জানিয়ে পলক বলেন, প্রসিকিউশন নিজে সাক্ষ্য দিলে কীভাবে সম্ভব।   এরপর সাক্ষী কবির বলেন, ৫ আগস্ট আমার ছেলে পুলিশ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়। এ পর্যায়ে জেরার কার্যক্রম অসম্পন্ন রাখেন আইনজীবী লিটন আহমেদ।     ঠিক তখনই ট্রাইব্যুনালের উদ্দেশে পলক বলেন, মাননীয় আদালত, আমি বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করতে চাই যে, সর্বশেষ সংশোধিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের বি থেকে ই পর্যন্ত পড়েছি। এখানে আসামি নিজেই মামলা পরিচালনা করতে পারেন। আমরা ন্যায়বিচারের স্বার্থে সহায়তা করতে চাই। আইনি সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি। তবে আমাদের আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো মারা গেছেন। তাকে হারিয়ে নাবিকবিহীন নৌকার মতো চলছি। এজন্য কিছু অধিকার দিলে মামলায় আমিও কাজ করতে চাই। একইসঙ্গে প্রিভিলেজ কমিউনিকেশনের জন্য সহায়তা চাই।   পরে পলকের সঙ্গে ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় কথা বলার জন্য মৌখিক আবেদন করেন আইনজীবী লিটন আহমেদ। একপর্যায়ে তাকে আধাঘণ্টা সময় দেন ট্রাইব্যুনাল।   এর আগে, ১৫ জুন সাক্ষ্য দেন কবির হোসেন। তিনি শহীদ সানজিদ হোসেন মৃধার বাবা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট উত্তরার বিএনএস এলাকায় বিজয় মিছিলে অংশ নিয়ে প্রাণ হারান তার ছেলে।   ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর মার্জিনা রায়হান, মামুনুর রশিদসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

মারিয়া রহমান জুন ২৬, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর জামিন আবেদন ‘আউট অব লিস্ট’ করল হাইকোর্ট

ছবি : সংগৃহীত

বিএনপি এমপির অভিযোগের জবাবে সংসদে পদত্যাগের চ্যালেঞ্জ হাসনাতের

ছবি : সংগৃহীত

বসুন্ধরার সঙ্গে ‘আন্ডারটেবিল’ সমঝোতা হয়েছে কি না, সংসদে প্রশ্ন হাসনাতের

0 Comments