মার্কিন হামলার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তিনি বলেছেন, তেহরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের হাতে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অবিস্মরণীয় শিক্ষা’ পেতে হবে। তিনি দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বারবার লঙ্ঘনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করেছেন।
শনিবার (১৮ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক লিখিত বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি বলেন, গত মাসের সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের মাধ্যমে ওয়াশিংটন প্রমাণ করেছে যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষর ‘সম্পূর্ণ মূল্যহীন ও অকার্যকর’।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী ‘মহা শয়তান’ কর্তৃক বারবার চুক্তিভঙ্গ আবারও সবার কাছে প্রমাণ করেছে যে আমেরিকার প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর এখন সম্পূর্ণ মূল্যহীন ও অকার্যকর। চাপ, আধিপত্যবাদ ও বর্বরতা আমেরিকান আদর্শ ও মতবাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
এতে আরও বলা হয়েছে, এখন যেহেতু আমেরিকা যুদ্ধ উসকে দিয়ে আরও বড় মূল্য ও অপমানের শিকার হতে চাইছে, তাই তাদের জানা উচিত যে ইরান এবং প্রতিরোধ ফ্রন্ট তাদের জন্য অবিস্মরণীয় শিক্ষা প্রস্তুত রেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্র চলতি সপ্তাহে সেতু, রেললাইন ও পানি পরিশোধনকেন্দ্রসহ বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে ইরানের ওপর হামলা নাটকীয়ভাবে বাড়িয়েছে। এর জবাবে তেহরান কুয়েতের বেসামরিক অবকাঠামোতে সফলভাবে হামলা চালিয়েছে। এর প্রভাবে দেশটির কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে ইসলামাবাদ চুক্তির পরও ইরানে দফায় দফায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া হামলায় ইরানের মিনাবের একটি স্কুলকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এতে শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ইরানের পরমাণু প্রকল্পও লক্ষ্যবস্তু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সেন্টকম জানিয়েছে, তারা ইরানে টানা সাত রাত ধরে অভিযান পরিচালনা করছে। মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা হ্রাসে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে আজ এ অভিযান অষ্টম দিনে গড়িয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রকে অবিলম্বে বিমান অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে ইরান। দেশটির কর্মকর্তারা বলেছেন, মার্কিন বাহিনী যদি হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে ইরান পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে নামতে বাধ্য হবে।
শুক্রবার রাতের হামলার পর তাৎক্ষণিক এক বার্তায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি এমন হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে ইরান নিজেকে শুধু পাল্টা হামলার মধ্যেই সীমিত রাখবে না; পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে নামবে। সে ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের কোনো রাজনৈতিক সীমান্তই সুরক্ষিত থাকবে না।’
সূত্র: আল জাজিরা
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
পারস্য উপসাগরের কৌশলগত হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমাতে বসরা থেকে কিরকুক হয়ে তুরস্কের সিহান বন্দর এবং সিরিয়ার বানিয়াস পর্যন্ত নতুন তেল পাইপলাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করছে ইরাক। দেশটির তেলমন্ত্রী বাসিম মোহাম্মদ খুদাইর এ তথ্য জানিয়েছেন। গত শনিবার ওয়াশিংটন থেকে ইরাকি নিউজ এজেন্সিকে (আইএনএ) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খুদাইর বলেন, ইরাকের তেল রপ্তানি রুটে বৈচিত্র্য আনা এবং শুধু হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল না থাকার জন্য সরকার একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশল গ্রহণ করেছে। তিনি জানান, এ প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মার্কিন কোম্পানি শেভরন ও টিই ক্যাপিটাল এবং কাতারের ইউসিসিকে নিয়ে গঠিত একটি আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করা হয়েছে। খুদাইর বলেন, বর্তমানে বসরা থেকে কিরকুক এবং সেখান থেকে তুরস্কের সিহান বন্দর পর্যন্ত একটি কৌশলগত পাইপলাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পাইপলাইনটির একটি শাখা সিরিয়ার ভূমধ্যসাগরীয় বন্দরনগরী বানিয়াস পর্যন্ত সম্প্রসারণের বিষয়েও সমীক্ষা চলছে। সিরিয়ার অন্যতম প্রধান তেল পরিশোধনাগার ও তেল রপ্তানি টার্মিনাল বানিয়াসে অবস্থিত। অতীতে কিরকুক থেকে এই রুটে অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হলেও দীর্ঘদিনের যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে পাইপলাইনটি বর্তমানে অকার্যকর। ওপেকের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদক দেশ ইরাক বহু বছর ধরে হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করে আসছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে বারবার নৌচলাচল ব্যাহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে বিকল্প রপ্তানি পথ গড়ে তোলার উদ্যোগ জোরদার করেছে বাগদাদ।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলা অব্যাহত থাকলে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি, পানি পরিশোধন ও লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ স্থাপনাগুলোতে হামলার পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করেছে ইরান। শনিবার মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট স্পেকটেটরের বরাতে এক ইরানি সামরিক সূত্র এ দাবি করেছে। সূত্রটির দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা অব্যাহত থাকলে কুয়েতসহ উপসাগরীয় কয়েকটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। একই সূত্রের ভাষ্য, ইরান এখন তুলনামূলক বেশি নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম মধ্যপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার শুরু করেছে। তাদের দাবি, আগের কম নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। এদিকে কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন জানিয়েছে, ইরানের একাধিক হামলায় দেশটির গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন। ইরানি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা কুয়েতের আরিফজান গ্রাউন্ড ফোর্সেস সাপোর্ট সেন্টার, আলি আল সালেম বিমানঘাঁটির রাডার, রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র ও ড্রোন স্থাপনা এবং আল-আহমাদি বন্দরে মার্কিন নৌবাহিনীর জ্বালানি সরবরাহ কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসির আরও দাবি, বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটি এবং মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত ‘বাটেলকো’ স্থাপনাতেও হামলা হয়েছে। অন্যদিকে জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা তিনটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। ইরানি গণমাধ্যমের দাবি, আল-আজরাকের কাছে অবস্থিত মুয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে সেখানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এদিকে ইরানের এক সামরিক কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালায়, তাহলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ও আবুধাবি বিমানবন্দর এবং ফুজাইরাহ ও জেবেল আলি বন্দরও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। তিনি ওই চারটি স্থাপনা দ্রুত খালি করার আহ্বান জানান। অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা ইরানের নজরদারি কেন্দ্র, সামরিক রসদ সরবরাহ নেটওয়ার্ক, ভূগর্ভস্থ অস্ত্রভান্ডার ও সামুদ্রিক সামরিক সক্ষমতা লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়েছে। ইরানের কর্মকর্তাদের দাবি, রাতভর মার্কিন হামলায় হরমোজগান প্রদেশের টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ১১৬টি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার অচল হয়ে পড়েছে এবং কয়েকটি এলাকায় মোবাইল, ইন্টারনেট ও ল্যান্ডফোন সেবা ব্যাহত হয়েছে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেইন কারমানপুর জানিয়েছেন, গত তিন সপ্তাহে মার্কিন হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত এবং ৫০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন নারী, দুই শিশু ও দুই কিশোর রয়েছে। আহতদের মধ্যেও নারী ও শিশুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। এদিকে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ক্লেপলারের তথ্য অনুযায়ী, টানা তৃতীয় দিনের মতো হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো তেলবাহী ট্যাংকার বের হয়নি। বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়।
ভারতের গুজরাটের আহমেদাবাদে একটি অবৈধ আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ৯ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার (১৮ জুলাই) শহরের বাস্ত্রাল এলাকায় অবস্থিত ‘ট্যালেন্ট ফায়ারওয়ার্কস’ নামের ওই কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছিল। বিস্ফোরণের পর আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য আহমেদাবাদের সিভিল হাসপাতাল ও মণিনগরের এলজি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অগ্নিনির্বাপণ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিস্ফোরণের খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে দমকল বাহিনী ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করে। ঘটনার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিহতদের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল (পিএমএনআরএফ) থেকে ২ লাখ রুপি করে দেওয়া হবে। এছাড়া আহতদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার রুপি করে সহায়তা দেওয়া হবে। এক বিবৃতিতে মোদি বলেন, আহমেদাবাদের আতশবাজি কারখানায় দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় তিনি গভীরভাবে শোকাহত। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্তদের সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।