তুরস্কের পূর্বাঞ্চলের মালাতিয়া প্রদেশে শনিবার (১৮ জুলাই) ভোরে ৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। দেশটির দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এএফএডি) এ তথ্য জানিয়েছে।
এএফএডির তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ২০ মিনিটে মালাতিয়ার বাত্তালগাজি জেলায় ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ১৫ দশমিক ৫৯ কিলোমিটার গভীরে। খবর আনাদোলু এজেন্সির।
ভূমিকম্পের কম্পন পাশের এলাজিগ, আদিয়ামান, তুনজেলি ও সানলিউরফা প্রদেশেও অনুভূত হয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত ভূমিকম্পে কোনো হতাহত বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে এএফএডি।
তুরস্কের পরিবেশ, নগরায়ণ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়কমন্ত্রী মুরাত কুরুম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এনসোস্যালে এক বার্তায় বলেন, ‘বাত্তালগাজিতে ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত কোনো নেতিবাচক পরিস্থিতির তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে আমরা সব ধরনের তথ্য ও প্রতিবেদন মূল্যায়ন করছি।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
রোববার দিবাগত রাত ১টায় আমেরিকাতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আর্জেন্টিনা বনাম স্পেনের বিশ্বকাপ ফাইনালটি কেবল একটি ফুটবল ম্যাচ নয়, বরং ইসরাইল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে দেশ দুটির বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে এটি একটি ‘প্রক্সি যুদ্ধ’ বা পরোক্ষ লড়াই হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে । ম্যাচটিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে। খেলোয়াড়দের ভূমিকা ও প্রতীকী অবস্থান: আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি এবং স্পেনের উদীয়মান তারকা লামিন ইয়ামাল এই বিভক্তির প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। মেসির ইসরাইলের সাথে ব্যক্তিগত ও পেশাদার সম্পর্ক রয়েছে এবং অতীতে তিনি বেশ কয়েকবার দেশটি সফর করেছেন। অন্যদিকে, ১৮ বছর বয়সী ইয়ামাল একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জয়ের পর ফিলিস্তিনের পতাকা প্রদর্শন করে আলোচনায় এসেছেন। যাকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সংহতির প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সানচেজ বলেন, লামিন শুধু সেই সংহতিই প্রকাশ করেছে, যা লাখো স্প্যানিশ নাগরিক অনুভব করেন। রাজনৈতিক মেরুকরণ: আর্জেন্টিনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট জাভিয়ের মিলেই ইসরাইলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং তিনি দেশটির পররাষ্ট্রনীতিকে ইসরাইলপন্থী হিসেবে গড়ে তুলেছেন। এর বিপরীতে, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের কড়া সমালোচক। অনলাইন বিতর্ক ও তত্ত্ব: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ম্যাচটিকে ইসরাইল বনাম প্যালেস্টাইন বিশ্বকাপ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। তবে এই আলোচনাকে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরাইল ইহুদিবিদ্বেষী ষড়যন্ত্র তত্ত্বে রূপ নিয়েছে বলে উল্লেখ করেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে কিছু সমালোচকদের মতে, ইহুদিরা ফিফা নিয়ন্ত্রণ করে এবং আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত করার জন্য রেফারির সাহায্য নেওয়া হতে পারে। কন্টেন্ট ক্রিয়েটর রায়ান রোজবিয়ানি- এক্স-এ লিখেছেন, আমরা একটি ইসরাইল বনাম ফিলিস্তিন বিশ্বকাপ পেতে চলেছি । “অংশগ্রহণকারী সকল দলের মধ্যে আর্জেন্টিনাই একমাত্র দল যারা প্রকাশ্যে ও ধারাবাহিকভাবে ইসরাইলপন্থী,” লিখেছেন একজন এক্স ব্যবহারকারী, যার বায়োতে লেখা আছে যে তিনি ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরোধী। “এ কারণেই আমি তাদের সমর্থন করছি।” সাবেক এমএমএ ফাইটার এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকারের সোচ্চার সমর্থক খাবিব নুরমাগোমেদভ তার ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একই ধরনের একটি বার্তা পোস্ট করে লিখেছেন, “আমি জানি আমি কাকে সমর্থন করছি। আমেরিকান সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার এবং লাইভ স্ট্রিমার স্নেকো সপ্তাহ দুয়েক আগে মন্তব্য করেন: ‘আর্জেন্টিনা হলো দক্ষিণ আমেরিকার ইসরাইল।’ স্প্যানিশ অভিনেতা হাভিয়ের বারদেম, যিনি বিশ্বকাপে দলের ম্যাচগুলোতে প্রায়ই ক্যামেরার সামনে উপস্থিত থাকেন, তিনি ফিলিস্তিনিদের অধিকার বিষয়ে একজন সোচ্চার প্রবক্তা। তিনি টুর্নামেন্ট চলাকালীন একাধিক ম্যাচে ফিলিস্তিনি পতাকা তুলে ধরেছেন এবং সাম্প্রতিক সেমিফাইনালের সময় আরেকজন দর্শককে বলেছেন, অস্তিত্বই প্রতিরোধ। ইসরাইলভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা সাইবার ওয়েলের প্রধান তাল-অর কোহেন মন্টেমায়োর অভিযোগ করেন, বিশ্বকাপের বিশাল দর্শকসমাগমকে ব্যবহার করে ইহুদিবিদ্বেষী ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়ানো হচ্ছে। তার ভাষ্য, মেসিকে লক্ষ্য করে করা অনেক পোস্টে সরাসরি ইহুদিদের নাম উল্লেখ না থাকলেও ‘ইহুদিরা ফিফা নিয়ন্ত্রণ করে’ বা ‘গোপনে বিশ্ব নিয়ন্ত্রণ করে’—এ ধরনের পুরোনো ষড়যন্ত্র তত্ত্বের ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে। আর্জেন্টিনার অভ্যন্তরীণ ভিন্নমত: যদিও বর্তমান সরকার ইসরাইলপন্থী, তবে সব আর্জেন্টাইন নাগরিক এই অবস্থান সমর্থন করেন না। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালের পর ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে এক সমর্থক বলেন, সত্যিকারের কোনো আর্জেন্টাইন ইসরাইলকে সমর্থন করে না। আমাদের প্রেসিডেন্টকে বিশ্বাস করবেন না। কেউ কেউ কিংবদন্তি ফুটবলার দিয়েগো মারাদোনার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, তিনি একসময় ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে বলেছিলেন, আমার হৃদয় ফিলিস্তিনের। ফুটবল মাঠের এই লড়াই এখন মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের একটি ছায়া হিসেবে দেখা দিচ্ছে, যেখানে মেসি এবং ইয়ামাল অনিচ্ছাসত্ত্বেও রাজনৈতিক মেরুকরণের কেন্দ্রে চলে এসেছেন ।
ইরানে টানা সাত দিন ধরে হামলা চালিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির এ হামলায় সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি বেসামরিক স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এরই মধ্যে ইরানের একটি পানি শোধনাগারেও হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে অন্তত ২০টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার বাসিন্দার সুপেয় পানির সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ জুলাই) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হরমোজগান ওয়াটার অ্যান্ড ওয়েস্টওয়াটার কোম্পানির সিইও হামজেহ পুর বলেন, ইরানের জাস্ক কাউন্টির উপকূলীয় বুঞ্জি গ্রামে একটি পানি পরিশোধন পাম্পে মার্কিন বাহিনী হামলা চালিয়েছে। এতে প্রায় ১০ হাজার জনসংখ্যার ২০টি গ্রামে সুপেয় পানির সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়েছে। পুর এই মার্কিন হামলাকে ‘ধারাবাহিক অপরাধ ও সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এ হামলার ফলে সমুদ্র থেকে পানি তোলার একটি পাম্পিং স্টেশন এবং বুঞ্জি পানি পরিশোধন কেন্দ্রের একটি বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমার সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। ইরানের এ কর্মকর্তা বলেন, এসব গ্রামের বাসিন্দারা তীব্র পানি সংকটের সম্মুখীন হচ্ছেন। এদিকে মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। কুয়েতের বিদ্যুৎ, পানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের সাম্প্রতিক হামলার পর একটি বিদ্যুৎ ও পানি পরিশোধন কেন্দ্রের একটি অংশে আগুন লেগেছে। মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, এর ফলে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এজন্য কেন্দ্র ও এর কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বিদ্যুৎ গ্রিডের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কয়েকটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিটের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, হামলার সঙ্গে সঙ্গেই সব কার্যক্রম ও জরুরি পরিকল্পনা সক্রিয় করা হয়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ ও পানি উভয় নেটওয়ার্কের ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। এ পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিষেবার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব সীমিত রাখা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে সার্বক্ষণিক প্রযুক্তিগত ও কার্যক্রমগত পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় সেন্টকমের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরানে টানা ৭ রাত ধরে অভিযান পরিচালনা করছে সেন্টকম। মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কমান্ডার ইন চিফের (প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প) নির্দেশনা মেনে ইরানের সামরিক সক্ষমতা হ্রাস করতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে অবিলম্বে বিমান অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে ইরান। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মার্কিন বাহিনী যদি হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে ‘ইরান পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধে নামতে বাধ্য হবে। শুক্রবার রাতের হামলার পর তাৎক্ষণিক এক বার্তায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি এমন হামলা অব্যাহত রাখে, সেক্ষেত্রে ইরান নিজেকে শুধু পাল্টা হামলার মধ্যেই সীমিত রাখবে না; পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধে নামবে এবং সেক্ষেত্রে (মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের) কোনো রাজনৈতিক সীমান্ত সুরক্ষিত থাকবে না। সূত্র: আল জাজিরা
তুরস্কের পূর্বাঞ্চলের মালাতিয়া প্রদেশে শনিবার (১৮ জুলাই) ভোরে ৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। দেশটির দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির। দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ২০ মিনিটে মালাতিয়ার বাটালগাজি জেলাকে কেন্দ্র করে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১৫.৫৯ কিলোমিটার গভীরে। কম্পনটি পাশের এলাজিগ, আদিয়ামান, তুনসেলি এবং শানলিউরফা প্রদেশেও অনুভূত হয়েছে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে তুরস্কের পরিবেশ, নগরায়ণ ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মুরাত কুরুম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, বাটালগাজির ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত কোনো নেতিবাচক পরিস্থিতির তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সব ধরনের তথ্য ও প্রতিবেদন মূল্যায়ন করছে।