সারাদেশ

মাগুরার সেই আছিয়াকে ভুলে গেছে সবাই, মামলা ঝুলছে আপিলে

মারিয়া রহমান মে ২০, ২০২৬
মাগুরায় শিশু আছিয়া ধর্ষণ-হত্যার প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। ছবি: সংগৃহীত
মাগুরায় শিশু আছিয়া ধর্ষণ-হত্যার প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

‘মেয়েডা মারা গেছে এক বছরের বেশি হইছে। বিচারে আসামির ফাঁসি হইছে সেও এক বছর হলো।


এখনও অপেক্ষায় আছি, কবে আমার আছিয়ার খুনিদের ফাঁসি হবে। এদিকে আমার স্বামী মানসিক ভারসাম্যহীন। তারে সামলাব, নাকি রায় কার্যকর করার জন্য আদালতের বারান্দায় ঘুরব!’ 
বুকভরা আক্ষেপ নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন মাগুরায় আলোচিত শিশু আছিয়া  ধর্ষণ-হত্যা মামলার বাদী আয়েশা খাতুন। বিচারিক আদালতে মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে এক বছর।


এতে প্রধান আসামি হিটু শেখ পান মৃত্যুদণ্ড। তবে  হাইকোর্টে আপিলের ঘুরপাকে থমকে আছে গতি। 
বুধবার মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার জারিয়া গ্রামে আছিয়াদের বাড়িতে যখন এ প্রতিবেদক পৌঁছান, তখন দুপুর। টিনের ছাউনি ও বেড়া দিয়ে ছোট্ট করে গড়া আছিয়াদের ঘর, যার একটি কক্ষে থাকতো তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া আছিয়া।

বাড়ির ভেতরে ঢুকতেই সেই ঘর থেকে শোনা গেল দুইজনের কথাবার্তা। ঘরের ভেতর থেকে একটু মুখ বাড়িয়ে আছিয়ার মা আয়েশা খাতুন জানতে চাইলেন পরিচয়। সাংবাদিক শুনেই কথা বলতে চাইলেন না। অনেক অনুরোধের পর বারান্দায় এসে বসলেন।
 
আয়েশা খাতুন বললেন, ‘অনেক বলা হইছে, কিন্তু এই এক বছর কেউ আমাদের খোঁজ নেয়নি।


আমরা কেমন আছি, কীভাবে বাঁইচে আছি, কেউ জানতে চায়নি। আমরা যখন অপেক্ষা করতেছি আছিয়ার হত্যাকারীর কবে ফাঁসি হবে, তখন জেলে বসে সরকারি খাবার খাচ্ছে আসামি হিটু শেখ। এই অবস্থা একজন মা কী করে সহ্য করতে পারে।’ 
তিনি বলেন, ‘আছিয়া মারা যাওয়ার পর অনেকে আসছিল, প্রতিশ্রুতি দিছিল। কিন্তু এখন কারো কাছে কোনো সহযোগিতা পাচ্ছি না।’ 

কিছুক্ষণ চুপ থেকে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে আবার কথা বলেন আয়েশা। জানান, একটি সংগঠন থেকে তাদের একটি গাভী দেওয়া হয়েছিল। এখন সেটার দুধ বেচে চলে সংসার।
 
বলেন, ‘আর যা জোটে তাই খাইয়ে বাঁইচে আছি। সরকারের অনেক চাল-ডাল আছে, হিটু শেখকে খাওয়াক।’ 

আয়েশা বলেন, ‘এতদিনেও মামলার রায় কেন কার্যকর হচ্ছে না, আমরা বুঝতে পারছিনে। তার (হিটু শেখ) ফাঁসি দেখতে আমাদের আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে জানিনে। তার দুই ছেলে তো খালাস পেয়ে গেছে। আমার মনে হয় আরো দেরি হলে হিটু শেখও খালাস পেয়ে যাবে।’

আছিয়ার বোন ফাতেমা এখন নতুন সংসারে। তার পুরনো শ্বশুরবাড়িতে গিয়েই ২০২৫ সালের ৫ মার্চ রাতে ধর্ষণ-হত্যার শিকার হয় আট বছরের আছিয়া। দেশজুড়ে আলোচিত সেই ঘটনার পর অচেতন আছিয়াকে ঢাকা আনা হয় উন্নত চিকিৎসার জন্য। এর আট দিনের মাথায় সারা দেশকে কাঁদিয়ে ঢাকার সিএমএইচে মারা যায় শিশুটি।

শিশু আছিয়ার মৃত্যুর পর উত্তাল হয়ে ওঠে দেশ। তোপের মুখে নারী নির্যাতন দমন আইনে সংশোধন এনে দ্রুত বিচার ও রায় কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তখনকার আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তবে বিচারিক আদালতে দ্রুতগতিতে ফাতেমার শ্বশুর হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড হলেও এরপর মামলার আর অগ্রগতি নেই।  

আয়েশা খাতুন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আছিয়ারে হত্যার পর মেয়ে ফাতেমারে শ্বশুরবাড়ি থেকে বাড়িতে নিয়ে আসি। স্বামীরে তালাক দেওয়াই। কিন্তু অভাবের তাড়নায় কী করব। আবার বিয়ে দিই। কারণ নিজেদেরই খাওয়া জোটে না। সেখানে মেয়েরে কীভাবে রাখব সংসারে।’

যা বলছে বিবাদী পক্ষ

আছিয়াদের বাড়ি থেকে বের হয়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া হিটু শেখের বাড়িতে যান এ প্রতিবেদক। দেখা যায়, ঘটনার পর এলাকাবাসীর গুঁড়িয়ে দেওয়া ঘরের জায়গায় সিমেন্টের বস্তা, পলিথিন আর পুরনো টিন দিয়ে খুপড়ি ঘর তৈরি করা হয়েছে।  সেখানে হিটু শেখের মা রোকেয়া বেগম তার দুই নাতিসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে থাকছেন। 

রোকেয়া বেগম বলেন, ‘বাড়িঘর ভেঙে দেওয়ার পর কোনরকমে একটি খুপড়ি ঘরে আমরা রয়েছি। রাতুল ও সজিব (হিটু শেখের দুই ছেলে) নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করে।’ 

আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যার পর একটি পক্ষ হিটু শেখ ও তার পরিবারের সদস্যদের নির্দোষ দাবি করেছিল। তবে সে দাবির পক্ষে আদালতে জোরালো তথ্য-প্রমাণ হাজির করতে পারেনি বিবাদী পক্ষ। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রোকেয়া বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে হিটু শেখ নির্দোষ। আমার ছেলে এমন কাজ করতে পারে না।’ 

মামলার বর্তমান অবস্থা

আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী মনিরুল ইসলাম মুকুল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘হিটু শেখের পক্ষে উচ্চ আদালতে আপিল করা হয়েছে। আমরা আশা করছি দ্রুত এ আপিল নিষ্পত্তি হয়ে ফাঁসির রায় কার্যকর হবে।’

অন্যদিকে হিটু শেখের পক্ষে মাগুরায় রাষ্ট্রপক্ষ নিয়োজিত আইনজীবী সোহেল আহমেদ বলেন, ‘এখন আপিলের কার্যক্রম মূলত ঢাকায় চলছে। আমার জানামতে সবশেষ শুনানি হয়েছে গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর। এ বিষয়ে আমার আর কিছু জানা নেই।’

নাগরিক সমাজ ক্ষুব্ধ

মাগুরা জেলা গণকমিটির সদস্যসচিব প্রকৌশলী শস্পা বসু  বলেন, ‘আছিয়ার মতো একটি চাঞ্চল্যকর নির্মম ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় আসামির ফাঁসির রায় এখনও কার্যকর না হওয়ায় আমরা ক্ষুব্ধ। বিচার কার্যক্রমের এমন দীর্ঘসূত্রতা অপরাধীদের অপরাধ প্রবণতা বাড়ায়। এর প্রমাণ সম্প্রতি ঢাকার পল্লবীতে রাইসা নামের একটি শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা। এ ধরনের শিশু নির্যাতন প্রতিনিয়ত ঘটছে। আমরা চাই হিটু শেখের দ্রুত ফাঁসি হোক।’ 

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সারাদেশ

আরও দেখুন
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র।
উৎপাদনে ফিরেছে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তৃতীয় ইউনিট

ছয় মাস ২০ দিন বন্ধ থাকার পর দেশের একমাত্র কয়লাভিত্তিক দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে। বুধবার (২০ মে) বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিট থেকে পুনরায় ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটের উৎপাদিত ৩০ থেকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ শুরু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় মেরামত শেষে তৃতীয় ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে। ধীরে ধীরে বেড়ে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ১৫০-১৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়ে এপর্যায়ে ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত হবে। এরজন্য দৈনিক ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টন কয়লার প্রয়োজন পড়বে। অপরদিকে, প্রথম ইউনিটটি উৎপাদনে রয়েছে, এটি চালু রাখতে দৈনিক ৭০০-৮০০ টন কয়লা লাগছে। বর্তমানে দুটি ইউনিট চালু থাকায় উত্তরাঞ্চলে বিদ্যুতের লোডশেডিং কমে আসবে আশা প্রকাশ করেন। প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক আরও জানান, যাত্রিক ত্রুটির কারণে ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৩ নম্বর ইউনিটটির বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। চীনা হারবিন কোম্পানি তৃতীয় ইউনিট এর মেরামত কাজ শেষে উৎপাদনে ফিরেছে। প্রথম ইউনিটটি অনেক পুরনো, প্রতি ৫ বছর পর পর মেরামত করতে হয়। ইতোমধ্যে ২০ বছর হয়ে গেছে।

মারিয়া রহমান মে ২০, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে স্মারক তুলে দিচ্ছেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া

প্রধানমন্ত্রীর হাতে ৪৭ বছর আগের স্মারক তুলে দিলেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক

মাগুরায় শিশু আছিয়া ধর্ষণ-হত্যার প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

মাগুরার সেই আছিয়াকে ভুলে গেছে সবাই, মামলা ঝুলছে আপিলে

চা শ্রমিকদের মুল্লুক চলো আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলী।

২০ মে ‘চা শ্রমিক দিবস’ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবিতে সমাবেশ

ছবি : সংগৃহীত
দেশের ৪৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামের সঙ্গে যুক্ত হলো ‌‘সরকারি’

ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসহ দেশের ৪৯টি পলিটেকনিক ও মনোটেকনিক ইনস্টিটিউটের নামের সঙ্গে ‘সরকারি’ শব্দটি যুক্ত করা হয়েছে। এ শব্দটি সংযোজন করে প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম পুনরায় নির্ধারণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের এক চিঠি থেকে এ তথ্য জানা যায়। চিঠিটির সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের গত ১১ মের এ সংক্রান্ত পরিপত্রটি সংযুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে নির্মাণাধীন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলোর নামেও ‘সরকারি’ শব্দটি অনুরূপভাবে সংযোজন করতে হবে।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

লোহালিয়া নদীর সেতু পরিদর্শনে সেতুমন্ত্রীর গাড়ি অবরুদ্ধ, বিএনপি–জামায়াতের উত্তেজনা

ছবি : সংগৃহীত

বিএনপি সরকার গোপালগঞ্জে চালু করছে ২টি নতুন ট্রেন

ছবি : সংগৃহীত

সাবেক এমপি-বিমান কর্মকর্তাদের যোগসাজশে অযোগ্যরাও পাইলট!

সংগৃহীত ছবি
সোনারগাঁয়ের সাবেক ইউএনও এবার ঢাকার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক

নিজের সততা, মেধা, দক্ষতা ও দূরদর্শিতার মাধ্যমে একের পর এক ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা রহমান। তার নতুন কর্মস্থল ঢাকা জেলা।   গত রোববার (১০ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. ইসমাইল হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে ফারজানা রহমানের পদোন্নতির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। ফারজানা রহমান নরসিংদী জেলার সদর উপজেলার সন্তান। তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি প্রকৌশলে লেখাপড়া করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে দ্বিতীয় মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। তিনি ৩৪তম বিসিএস ক্যাডারের একজন চৌকস কর্মকর্তা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিসিএস ৩৪তম ব্যাচের কর্মকর্তা ফারজানা রহমান ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগদান করে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি কক্সবাজার সদরে সততার সঙ্গে নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সোনারগাঁয়ে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনকালে তাকে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব পদমর্যাদায় পদোন্নতি দেওয়া হয়। সোনারগাঁয়ে ইউএনও হিসেবে যোগদানের পর তিনি প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি মানুষের জন্য মানবিক কর্মকাণ্ডেও নিরলসভাবে কাজ করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন বাধা উপেক্ষা করে সাহসিকতার সঙ্গে ব্যতিক্রমধর্মী কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমে উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেন তিনি। এ কারণে অল্প সময়েই সর্বমহলে প্রশংসিত হন ফারজানা রহমান। সোনারগাঁয়ে দায়িত্ব পালনকালে উপজেলার মানুষের কল্যাণে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। ফারজানা রহমান বলেন, “পদোন্নতি হলো কাজ করার আরও বড় সুযোগ। তবে সোনারগাঁয়ে দায়িত্ব পালনকালে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা পেয়েছি। নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ থেকে সোনারগাঁবাসীর জন্য সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছি। যেখানেই দায়িত্ব পালন করি না কেন, সোনারগাঁবাসীর কথা চিরকাল মনে থাকবে আমার।”

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

ছেলেকে দিয়ে পাঠদান করানোয় সেই শিক্ষিকা বরখাস্ত

পিচ্চি রাজা। ছবি : সংগৃহীত

মাদকের গডফাদার পিচ্চি রাজা আটক

ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার, চট্টগ্রাম। ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের প্রটোকল অফিসারের মরদেহ উদ্ধার

0 Comments