সারাদেশ

২০ মে ‘চা শ্রমিক দিবস’ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবিতে সমাবেশ

মারিয়া রহমান মে ২০, ২০২৬
চা শ্রমিকদের মুল্লুক চলো আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলী।
চা শ্রমিকদের মুল্লুক চলো আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলী।

ঐতিহাসিক ২০ মে চা শ্রমিক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশন সিলেট জেলা শাখার উদ্যোগে সমাবেশ ও শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়েছে। বুধবার সকালে লাক্কাতুড়া চা বাগানে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে তারাপুর, খাদিম ও দলদলীসহ বিভিন্ন চা বাগানেও দিবসটি উপলক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন ও সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশন সিলেট জেলা শাখার আহ্বায়ক হৃদয় লোহার। এতে বক্তব্য দেন বাসদ সিলেট জেলা আহ্বায়ক আবু জাফর, ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা প্রণব জ্যোতি পাল, জরিনা বেগম, শান্ত লোহার, আয়েশা বেগম, রত্না, দুর্জয় লোহার এবং সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের দপ্তর সম্পাদক মাহফুজ আহমদ প্রমুখ।


বক্তারা বলেন, ‘১৯২১ সালের ২০ মে ব্রিটিশ বাগান মালিকদের প্রতারণা ও শোষণের বিরুদ্ধে চা শ্রমিকরা ‘‘মুল্লুক চলো’’ আন্দোলন গড়ে তোলেন। প্রায় ৩০ হাজার শ্রমিক করিমগঞ্জ রেলস্টেশনে সমবেত হয়ে চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দিলে আসাম রাইফেলসের গোর্খা বাহিনী তাদের উপর নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালায়। এ আন্দোলন সর্বভারতীয় শ্রমিক আন্দোলনের পটভূমি রচনা করে।’ 

বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও চা শ্রমিকরা শিক্ষা, চিকিৎসা ও ভূমির মালিকানা থেকে বঞ্চিত। দৈনিক মজুরি মাত্র ১৮৭ টাকা, যা মাসে ৫,৬১০ টাকা— অন্য শিল্পের শ্রমিকদের তুলনায় অতি সামান্য। সরকারি শিল্পকারখানার শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি ১৮ হাজার টাকা এবং ব্যাংকের পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মজুরি ২৪ হাজার টাকা হলেও চা শ্রমিকরা চরম বৈষম্যের শিকার।’

বক্তারা অবিলম্বে ২০ মে কে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘চা শ্রমিক দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে স্ববেতনে ছুটি ঘোষণা, দৈনিক মজুরি ৬০০ টাকা নির্ধারণ, প্রতিটি বাগানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন এবং চিকিৎসা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
মাস শেষ হওয়ার আগেই ফুরায় বেতন, ধারদেনায় দিন কাটে অনেক চাকরিজীবীদের

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ। আগস্টে এই হার ছিল ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ।   আনাস আহমেদ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তার মাসিক বেতন ৫৪ হাজার টাকা। তিনি পরিবারের সঙ্গে থাকেন। বাসাভাড়া বাবদ তাকে মাসে ২০ হাজার টাকা দিতে হয়। গ্যাসের সিলিন্ডার, পানি ও বিদ্যুতের বিল বাবদ আরও ৫ হাজার টাকা খরচ হয়। ছয় মাস আগে কেনা একটি আইফোনের কিস্তি পরিশোধ করতে হয় মাসে ৫ হাজার ৫০০ টাকা।   কর্মস্থলে যাওয়ার পথে মেট্রোরেল না থাকায় আনাস সাধারণত মোটরসাইকেলে যাতায়াত করেন। জ্বালানি ও যাতায়াত বাবদ তার মাসে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা খরচ হয়। এ ছাড়া বাজারের জন্য আরও ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা ব্যয় করতে হয়।   শুধু এসব খাতেই তার মাসিক বেতনের সর্বোচ্চ ৪৫ হাজার টাকা খরচ হয়ে যায়। ফলে পরিবারের অন্যান্য প্রয়োজন মেটানো এবং হঠাৎ কোনো খরচের জন্য তার হাতে খুব বেশি টাকা থাকে না।   আনাস প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা সঞ্চয়ের চেষ্টা করেন। কিন্তু নিয়মিত খরচ মেটাতে গিয়ে প্রায়ই সেই সঞ্চয়ের টাকা খরচ করতে হয়। মাসের ২৫ তারিখ আসতে না আসতেই অনেক সময় তার পকেট খালি হয়ে যায়। মাসের বাকি দিনগুলো চালাতে তিনি কখনো কখনো মুঠোফোনভিত্তিক আর্থিক সেবার মাধ্যমে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা ঋণ নেন। এসব ঋণের মেয়াদ তিন মাস। এর সঙ্গে সুদও দিতে হয়। পরের মাসে বেতন পাওয়ার পর ঋণ শোধ করতে গিয়ে তার বাজেটের ওপর আরও চাপ পড়ে।   আনাস বলেন, 'প্রতিদিনই খরচ বাড়ছে, কিন্তু বেতন বাড়ছে না। প্রতিষ্ঠান থেকে বছরে হয়তো ২ থেকে ৪ হাজার টাকা বেতন বাড়ানো হয়। কিন্তু তাতে বাড়তি খরচ সামাল দেওয়া যায় না।'   একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছেন আরেক বেসরকারি চাকরিজীবী নিলয়। তিনি বলেন, 'খরচ এত দ্রুত বাড়ছে যে চাকরির পাশাপাশি বাড়তি আয়ের কথাও ভাবতে হচ্ছে। কিন্তু বাড়তি কাজ করার মতো সময় বা সুযোগ খুঁজে পেতে হিমশিম খেতে হয়।'   আনাস ও নিলয় একা নন। ঢাকায় অনেক বেতনভোগী মানুষ একই ধরনের সমস্যার মুখে পড়ছেন। জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়তে থাকায় তাদের পক্ষে সঞ্চয় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সংসারের খরচ মেটাতে কেউ কেউ ঋণ নিতেও বাধ্য হচ্ছেন।   দেশের মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যানেও পণ্যের দাম বেড়ে চলার চিত্র উঠে এসেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ। আগস্টে এই হার ছিল ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ। একই সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ০২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭ দশমিক ২২ শতাংশ হয়েছে। অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি সামান্য কমে ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ থেকে ৯ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।   ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আগের ১২ মাসে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এর আগের ১২ মাসে এই হার ছিল ৯ দশমিক ৪৫ শতাংশ।   তবে মূল্যস্ফীতির হার কমে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে পণ্যের দাম কমছে। এর অর্থ হলো, আগের তুলনায় দাম বাড়ার গতি কিছুটা কমেছে। ফলে পরিবারগুলোকে আগের চেয়ে বেশি দাম দিয়েই পণ্য ও সেবা কিনতে হচ্ছে।   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং দক্ষিণ এশীয় অর্থনৈতিক মডেলিং নেটওয়ার্কের সম্মানসূচক গবেষণা পরিচালক মাহতাব উদ্দিন মনে করেন, বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতির সমস্যা বুঝতে হলে দেশের মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির সিদ্ধান্তগুলো বিবেচনায় নিতে হবে।   তিনি বলেন, 'যুক্তরাজ্য ও ভারতের মতো দেশগুলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়িয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশ যথেষ্ট কঠোরভাবে বা সঠিক সময়ে মুদ্রানীতি নিয়ন্ত্রণ করেনি। সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোকে ধারাবাহিকভাবে তারল্য সহায়তা দেওয়া এবং সম্প্রসারণমূলক রাজস্বনীতি মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়িয়েছে।'   মাহতাবের মতে, বাংলাদেশের দুর্বল কর আদায়ব্যবস্থা এবং বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পে বিপুল ব্যয়ও সরকারের আর্থিক চাপ বাড়িয়েছে। এসব কাঠামোগত কারণে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এর মধ্যেই সাধারণ মানুষকে বাড়তি দামে পণ্য কিনে সংসার চালাতে হচ্ছে।   সংসারের খরচ কমাতে বাধ্য হচ্ছেন মানুষ মূল্যস্ফীতির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর ওপর। কারণ, তাদের আয়ের বড় অংশই খাবার ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার পেছনে ব্যয় হয়।   মাহতাব বলেন, 'পণ্যের দাম বাড়লে এবং প্রকৃত মজুরি সেই হারে না বাড়লে মানুষকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। পরিবারগুলো মাছ, মাংস বা ফল কেনা বন্ধ করে দিতে পারে। তারা কম পুষ্টিকর খাবার খেতে পারে। এমনকি সন্তানের শিক্ষার খরচও কমিয়ে দিতে পারে।'   এ ধরনের সিদ্ধান্তের প্রভাব শুধু মাসিক বাজেটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এর ফলে মানুষের পুষ্টি, শিক্ষা এবং দীর্ঘ মেয়াদে আর্থিক অবস্থার উন্নতির সুযোগও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যেসব পরিবার আগে থেকেই নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে, তাদের হাতে কমানোর মতো বাড়তি খরচ খুব একটা থাকে না।   একটি পরিবারের আর্থিক চাপ কতটা হবে, তা নির্ভর করে খাবার, বাসাভাড়া ও যাতায়াতের মতো প্রয়োজনীয় খাতে তাদের কত টাকা খরচ হয়, তার ওপরও। এসব খাতে আয়ের বেশির ভাগ অর্থ চলে গেলে সঞ্চয় বা হঠাৎ তৈরি হওয়া বাড়তি খরচ মেটানোর জন্য খুব কম টাকা অবশিষ্ট থাকে।   পণ্যের দামের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মজুরিও বাড়েনি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মজুরি হার সূচক অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে জাতীয় পর্যায়ে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৭ দশমিক ৯ শতাংশ। অথচ ওই মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ। অর্থাৎ, মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির চেয়ে ০ দশমিক ৪৪ শতাংশীয় পয়েন্ট কম ছিল।   তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রত্যেক কর্মীর ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। কারণ, ব্যক্তিভেদে বেতন বৃদ্ধির হার এবং পরিবারের খরচের ধরন আলাদা। কিন্তু এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, গড়ে মজুরি বৃদ্ধির হার পণ্যের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি। ফলে অনেক পরিবারের পক্ষে আর্থিক অবস্থার উন্নতি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ঋণের দুষ্টচক্রে আটকে পড়ছেন অনেকে এই সমস্যা শুধু বেতনভোগী কর্মীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পরিবারের আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল শিক্ষার্থীরাও যাতায়াত ও দৈনন্দিন খরচের চাপে রয়েছেন। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মাহমুদ মোটরসাইকেলে যাতায়াতের জন্য প্রতিদিন অন্তত ২০০ টাকার জ্বালানি খরচ করেন। অন্যদিকে, মেট্রোরেলে যাওয়া-আসায় তার ২৪০ টাকা লাগে। ফলে যাতায়াতের মাধ্যম বেছে নেওয়ার আগে তাকে খরচের হিসাব করতে হয়। মাহমুদ প্রায়ই বন্ধুদের কাছ থেকে শোনেন, মাসের শেষ দিকে তাদের টাকা ধার করতে হয়। বেতন পাওয়ার পর সেই টাকা শোধ করেন তারা। এতে পরের মাসের শুরুতেই আবার টাকার সংকট তৈরি হয়। তখন নতুন করে ঋণ নিতে হয়। এভাবে তারা বারবার ঋণের চক্রে আটকে পড়েন। মাহতাবের মতে, শ্রমিকদের সম্মিলিতভাবে দর-কষাকষির ক্ষমতা দুর্বল হওয়ায় বেতন বাড়ানোর দাবি জানানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, 'যুক্তরাজ্যে শিক্ষক, চিকিৎসক ও রেলকর্মীরা সংগঠিতভাবে আন্দোলন করে বেতন বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। বাংলাদেশে অনেক কর্মী, এমনকি দাপ্তরিক কাজ করা কর্মীদেরও একই ধরনের দর-কষাকষির ক্ষমতা নেই। শ্রমিকের চাহিদার তুলনায় শ্রমের জোগান বেশি হলে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বেতন বাড়ানোর দাবি আদায় করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।' তবে পরিবারের বাজেটে ঘাটতি তৈরি হওয়ার পেছনে শুধু বাসাভাড়া বা বড় অঙ্কের বিল দায়ী নয়। রেস্তোরাঁয় আড্ডা দেওয়া, নিয়মিত ঘোরাঘুরি, অনলাইনে কেনাকাটা এবং ছোটখাটো শখের পেছনে খরচ করলেও মাস শেষে বড় অঙ্কের টাকা ব্যয় হয়ে যেতে পারে। প্রতিদিন মাত্র ১০০ টাকা খরচ করলেও হিসাব না রাখলে মাস শেষে সেই ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ হাজার টাকা। তবে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানোই এই সমস্যার একমাত্র সমাধান নয়। অনেক মানুষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো আয় বাড়ানোর পথ খুঁজে বের করা। কারণ, উপযুক্ত চাকরির সুযোগ এখনো সীমিত। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে প্রকাশিত এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের প্রায় ২৯ শতাংশ বেকার। প্রতিবেদনে আরও সতর্ক করা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে বাংলাদেশে মোট শ্রমের চাহিদা ২ শতাংশের সমপরিমাণ চাপের মুখে পড়তে পারে। এসব চ্যালেঞ্জ দেশের আরও বড় একটি সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, সীমিত কর্মসংস্থান এবং শ্রমের চাহিদায় সম্ভাব্য পরিবর্তনের কারণে মানুষের পক্ষে আর্থিক অবস্থার উন্নতি করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। বাজেট তৈরি সমাধানের একটি অংশমাত্র ঢাকার সাংবাদিক মুমিতুল মিম্মা বলেন, নিজের খরচের হিসাব লিখে রাখার অভ্যাস তাকে বুঝতে সাহায্য করেছে, তার টাকা কোথায় ব্যয় হচ্ছে। তিনি বলেন, 'আগে আমি হিসাব না করেই খরচ করতাম। মাসের মাঝামাঝি সময়েই টাকার সংকটে পড়তাম। তাই খরচের একটি ডায়েরি রাখা শুরু করি। যাতায়াতের ভাড়া থেকে শুরু করে এক কাপ চায়ের খরচও সেখানে লিখে রাখতাম। এতে বুঝতে পেরেছি, আমার টাকা কোথায় যাচ্ছে। একই সঙ্গে খরচের পরিকল্পনা করাও সহজ হয়েছে।' খরচের হিসাব রাখলে মানুষ অপ্রয়োজনীয় ব্যয় চিহ্নিত করতে পারেন। পাশাপাশি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী বাস্তবসম্মত বাজেটও তৈরি করতে পারেন। তবে শুধু হিসাব রাখলেই দেশের অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান হবে না। যাদের আয়ের প্রায় পুরোটাই খাবার, বাসস্থান, চিকিৎসা ও পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে ব্যয় হয়ে যায়, তাদের পক্ষে খরচ কমানোর সুযোগ খুবই সীমিত। এখানেই অর্থ ব্যবস্থাপনা বা ব্যক্তিগত আর্থিক পরিকল্পনার গুরুত্ব সামনে আসে। বেতন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কিছু টাকা আলাদা করে রাখলে সঞ্চয় করা সহজ হয়। মাসের শেষে টাকা বেঁচে থাকলে সঞ্চয় করবেন—এমন চিন্তার বদলে শুরুতেই সঞ্চয়ের পরিকল্পনা করা বেশি কার্যকর। আলাদা সঞ্চয়ী হিসাব খোলা, স্বয়ংক্রিয়ভাবে টাকা জমা রাখার ব্যবস্থা করা অথবা প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমা দেওয়ার কোনো প্রকল্পে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে এই অভ্যাস গড়ে তোলা যায়। নিয়মিত খরচের হিসাব রাখা এবং জরুরি প্রয়োজনের জন্য আলাদা তহবিল গড়ে তুললেও ঋণের প্রয়োজন কমতে পারে। মোহাম্মদপুর সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক মঞ্জুরা আক্তার বলেন, 'জীবনযাত্রার ব্যয় যেমনই হোক, নিজের আয়ের মধ্যে খরচ সামলানোও একটি দক্ষতা। বর্তমানের উচ্চমূল্যের মধ্যেও অনেক মানুষ আপনার আয়ের চেয়ে অনেক কম আয় করে সংসার চালাচ্ছেন।' তিনি মাসের শুরু থেকেই সঞ্চয় করার এবং প্রয়োজনীয় খাতগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে খরচের পরিকল্পনা করার পরামর্শ দেন। তার মতে, মাসিক সঞ্চয় প্রকল্প বা পেনশনভিত্তিক আমানত প্রকল্পের মতো ব্যবস্থায় টাকা জমা রাখলে নিয়মিত সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য আলাদা তহবিল থাকলে হঠাৎ কোনো খরচের সময় আর্থিক চাপ কমানো সম্ভব। তবে বাজেট তৈরিরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আয় দিয়ে মৌলিক প্রয়োজন মেটানোই সম্ভব না হলে সঞ্চয় করাও অসম্ভব হয়ে পড়ে। যেসব পরিবারকে বাসাভাড়া, খাবার ও যাতায়াতের খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হয়, তাদের জন্য সমস্যা শুধু টাকা কীভাবে ব্যবস্থাপনা করতে হবে, তা নয়। বরং তাদের আয় জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে কি না, সেটিও বড় প্রশ্ন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন নভেম্বর ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরে মহাসড়ক অবরোধ করে আগুন জ্বালান শ্রমিকরা, সরিয়ে দিল পুলিশ

ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরে নিরাপত্তা জোরদার, মোতায়েন ১১ প্লাটুন বিজিবি

ছবি: সংগৃহীত

মিরপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, বন্ধ মেট্রোরেল স্টেশন

ছবি: সংগৃহীত
পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনে অচল ৬৮১ কারখানার উৎপাদন

পোশাক শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনের প্রভাব পড়েছে দেশের শিল্পাঞ্চলগুলোতে। শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও কর্মবিরতির কারণে সোমবার বিভিন্ন শিল্প এলাকার অন্তত ৬৮১টি কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে।   এর মধ্যে ৬৭৯টি তৈরি পোশাক কারখানা। রবিবার উৎপাদন ব্যাহত হয়েছিল ৫২৯টি পোশাক কারখানায়।   মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে গত সপ্তাহ থেকে সাভার, গাজীপুরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে আন্দোলন করছেন শ্রমিকরা। রবিবার পোশাকশ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে শ্রম মন্ত্রণালয়।   তবে বোর্ড গঠনের পরও শ্রমিক অসন্তোষ কমেনি। সোমবার গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। কোথাও কোথাও পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনাও ঘটে।   তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, আজ ৬৭৯টি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা কাজ না করে বেরিয়ে যান।   এর মধ্যে মিরপুরের ৬৫টি, গাজীপুরের ৩৮২টি এবং সাভার, আশুলিয়া ও জিরানি এলাকার ৯টি কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা ১৬ লাখ ৯২ হাজার ৭৮২ জন।   এ ছাড়া গাজীপুরের কালিয়াকৈরে একটি দেশীয় জুতার কারখানায় উৎপাদন শুরু হলেও সকাল ৯টার দিকে আন্দোলনকারীদের চাপে শ্রমিকদের ছুটি দিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। আশুলিয়ার পিকার্ড বাংলাদেশের উৎপাদনও ব্যাহত হয়েছে।   শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সোমবার সকালে সচিবালয়ে মালিকপক্ষের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।   বিকেলে শ্রমিকনেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।   বিষয়ে বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, কারখানা বন্ধ রাখার ইচ্ছা তাঁদের নেই, তবে পরিস্থিতির কারণে উৎপাদন চালানো সম্ভব হচ্ছে না। মঙ্গলবার কারখানা চালু রাখার চেষ্টা করবেন তারা। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শ্রমিকনেতাসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রচেষ্টায় পরিস্থিতির উন্নতি হবে।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন নভেম্বর ০৩, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

সেনাবাহিনীর সহায়তায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে বম নারীর কন্যাসন্তান প্রসব

সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে আকস্মিক ককটেল বিস্ফোরণ

ছবি: সংগৃহীত

যানজট নিরসনে ঢাকার দক্ষিণে ব্যাটারিচালিত রিকশার নিবন্ধন শুরু

ছবি: সংগৃহীত
শ্রমিকদের দ্রুত কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান বাবুল আখতারের

কাজে ফিরতে আন্দোলনরত পোশাক শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এ খাতের জন্য গঠিত নিম্নতম মজুরি বোর্ডের সদস্য বাবুল আখতার।   রোববার বিকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি বলেছেন, “শ্রমিক ভাইদেরকে অনুরোধ করছি, আপনারা কাজে ফিরে যান এবং আপনারা আপনাদের নিয়মিত কাজে যোগ দেন। অন্য কারও উস্কানিতে, অন্য কারও ধরনের প্ররোচনায় পা দিয়ে আপনাদের শিল্পকারখানা ধ্বংস আপনারা করবেন না।   “এখানে আপনারা কাজ করেন, এই শিল্পটা আপনাদের জন্যও দরকার, সরকারের জন্য দরকার, মালিকের জন্য দরকার। এবং যেহেতু এই ফেডারেশনগুলো আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ধর্মঘট ডাকিনি বা বলিনি, তার পরও যে সমস্ত শ্রমিকরা যদি কেউ অন্যায়-অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকেন, তাহলে কিন্তু বিপদে পড়লে শ্রমিক ফেডারেশনগুলোকে আপনারা পাশে পাবেন না।”   পোশাকশিল্পের মজুরি বোর্ডের এ শ্রমিক প্রতিনিধি বলেন, “আপনারা কাজে ফিরে যান। এবং আপনাদের যে মজুরির দাবি, আমরা যারা শ্রমিক প্রতিনিধি আছি, তারা একসঙ্গে বসে বোর্ডের মাধ্যমে যা কিছু, সেটা আমরা আদায় করব।”   ২০২৩ সালে তৈরি পোশাক খাতের ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়। এক্ষেত্রে মজুরি বেড়েছিল ৫৬ দশমিক ২৫ শতাংশ।   ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে গত কয়েক দিন ধরেই রাজধানীতে শ্রমিক অসন্তোষ চলছে। সোমবারও ঢাকার আশুলিয়া ও গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে।   চলতি বছর শ্রম আইন সংশোধন করে শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করা হয়েছে।   তৈরি পোশাকশ্রমিকদের সর্বশেষ ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হয়েছিল ২০২৩ সালের নভেম্বরে, যা কার্যকর হয় পরের মাসে। সেই হিসাবে পোশাক খাতের বর্তমান নিম্নতম মজুরি হারের মেয়াদ শেষ হবে আগামী মাসে।   বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার বলেন, “আমরা আশা রাখি যে ৩ বছর পর, ডিসেম্বরের... ২৬ শে ডিসেম্বরে আমাদের ৩ বছর মেয়াদ শেষ হবে। আমরা আশা করি আমরা তার ভেতরেই একটা সমাধানে আসব এবং ডিসেম্বরের মজুরি কার্যকর হবে এবং আশা করি শ্রমিকরা জানুয়ারি মাসের সাথে এটা পাবেন।   “অতএব আপনাদেরকে আবারও অনুরোধ জানাই, আপনারা কাজে ফিরে যান। কাজে ফিরে যেয়ে আপনাদের উৎপাদন সচল রাখার জন্য আমি বিশেষভাবে আহ্বান জানাচ্ছি।”   তিনি বলেন, “মাননীয় মন্ত্রী (সালাহউদ্দিন আহমদ) মহোদয় যেটা বলেছেন, যারা গ্রেপ্তার হয়েছে…তারা কয়েকজন বাদে বাদবাকি সবাই কিন্তু বহিরাগত। যাদেরকে শ্রমিক নেতৃবৃন্দ গ্রেপ্তার করেছে, তারা আসলে এই আন্দোলনের সঙ্গে বা কোনো ধরনের মিছিল-মিটিংয়ে জড়িত ছিল না।   “যারা জড়িত না, আমি মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়কেও বলব যে কয়েকজন শ্রমিক নেতা গ্রেপ্তার হয়েছে, তাদেরকেও মুক্তি দেওয়ার জন্য এবং তাদের যাতে হয়রানি করা না হয়, রিমান্ডে নিয়ে যাতে তাদের টর্চার করা না হয়, এটাও আমরা আজকের আহ্বান জানাচ্ছি।”   আন্দোলন থেকে ফিরে আসার আহ্বান শ্রমিকরা না মানলে সেক্ষেত্রে আপনাদের অবস্থান কী হবে, এমন প্রশ্নে বাবুল আখতার বলেন, “সরকার এবং মালিকপক্ষ যে ব্যবস্থা নেবে, সে ব্যাপারে আমাদের সমর্থন থাকবে।”   ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমাদের আহ্বান থাকবে, আমরা এখন থেকে শিল্পে ফিরে যাব, উৎপাদনে ফিরে যাব, ঘরে ফিরে যাব। আমাদের কর্মস্থলে ফিরে যাব। যারা এখনো মজুরি বোর্ড গঠনের পরবর্তী সময়েও ইচ্ছাকৃতভাবে সড়ক-মহাসড়কে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে, তারা অবশ্যই শ্রমিকের বন্ধু হতে পারে না।   “তাদের ভিন্ন স্বার্থ থাকতে পারে। সেটা আমরা সেভাবেই দেখব। তবে আপনাদেরকে আহ্বান জানাব, আপনারা সবাইকে—আমাদের শ্রমিক ভাই-বোনদেরকে আহ্বান জানাবেন যে, আপনাদের মজুরির বিষয়টি মজুরি বোর্ড দেখছে। আজকেই তারা হয়তো প্রথম মিটিং আহ্বান করতে পারতেন, হয়তো খুব শিগগিরই করবেন, আমরাও আহ্বান জানিয়েছি।   “ওইখানেই আপনাদের প্রতিনিধি আছে, তারা কথা বলবেন, মালিকদের প্রতিনিধি আছে, তারা কথা বলবেন। আমরা সবাই মিলে শান্তি, শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা বজায় রাখব, শিল্পের উৎপাদনশীলতা বজায় রাখব, আমাদের অর্থনৈতিক চাকা চালু থাকবে এবং আমাদের রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে। সবাই মিলে আমরা এগিয়ে যাব।”   এর আগে সকালে পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠনের পরও শ্রমিক আন্দোলনের নামে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে।   “আমরা অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বলে দিতে চাই—যারা শ্রমিক আন্দোলনের নামে শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী কাজে লিপ্ত, আইনশৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত এবং অস্থিরতা সৃষ্টি করার জন্য দেশে একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার জন্য বিভিন্ন রকমের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, তাদেরকে কঠোর হস্তে দমন করা হবে, আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মো: দেলোয়ার হোসাইন নভেম্বর ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বরিশালের অভ্যন্তরীণ ৬ রুটে বাস চলাচল বন্ধ, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা

ছবি: সংগৃহীত

গার্মেন্টস শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান ডিআইজির

ছবি: সংগৃহীত

দীপের বক্তব্যে অসংগতি, দিশার জিজ্ঞাসাবাদে মিলবে কি তাহসিফের মৃত্যুরহস্য

0 Comments