খেলাধুলা

লর্ডসে শেষ অধ্যায়ের আগে রোমাঞ্চিত উইলিয়ামসন

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

সংবাদ সম্মেলনে লম্বা সময় ধরে কথা বলছিলেন কেন উইলিয়ামসন। এক পর্যায়ে তিনি বললেন, আপনারা তো আমার লাঞ্চে দেরি করিয়ে দিচ্ছেন… খুব একটা ভালো কাজ হচ্ছে না কিন্তু…!

 

তার রসিকতায় মৃদু হাসির ঢেউ বয়ে গেল সংবাদ সম্মেলন কক্ষে। উইলিয়ামসন কথাটি বলেছিলেন মজা করেই, তবে সত্যি বলতে, লর্ডসের লাঞ্চের প্রতি বাড়াত টান আছে প্রায় সবারই। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের জন্য যেমন এই ভেন্যু বিখ্যাত, তেমনি অনেকে মনে করেন, লর্ডসের লাঞ্চও ক্রিকেট বিশ্বের সেরা ও সবচেয়ে মুখরোচক!

সেই লাঞ্চের স্বাদ উইলিয়ামসন পেয়েছেন বহুবার। তবে আর খুব বেশি পাবেন না। বৃহস্পতিবার শুরু হতে যাওয়া ইংল্যান্ড-নিউ জিল্যন্ড লর্ডস টেস্টই ক্রিকেট তীর্থে তার শেষ টেস্ট ম্যাচ।

বয়স ৩৫ পেরিয়ে গেছে। যদিও খুব বেশি নয়, তবে তিনি নিজেই নানা সময়ে বলেছেন, ক্যারিয়ার গোধূলিতে চলে এসেছেন। এই বছরের পর এখনও পর্যন্ত আইসিসির ভবিষ্যৎ সফর সূচি চূড়ান্ত হয়নি। নিউ জিল্যান্ড আবার কবে ইংল্যান্ড সফরে যাবে, নিশ্চয়তা নেই।

উইলিয়ামসন নিজেও নিউ জিল্যান্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেছেন বেশ আগেই। দেশের হয়ে খেলেন কেবল বেছে বেছেই।

লর্ডসের স্বাদ প্রথম পেয়েছিলেন উইলিয়ামসন ২০১২ সালে। গ্লস্টারশায়ারের হয়ে প্রো৪০ টুর্নামেন্টে খেলেছিলেন মিডলসেক্সের বিপক্ষে। প্রথমবার এখানে টেস্ট খেলেছিলেন তিনি ২০১৩ সালে। তার নিজের সেটি ছিল ২৪তম টেস্ট। এবার খেলবেন ক্যারিয়ারের ১১০তম টেস্ট।

টেস্টের বাইরে এখানে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলেছেন একবারই। ২০১৪ সালে সেই ম্যাচে খেলেছিলেন ইয়র্কশায়ারের হয়ে।

লর্ডসকে তিনি ‘হোম ভেন্যু’ হিসেবেও পেয়েছিলেন গত মৌসুমে। মিডলসেক্স কাউন্টি দলের হয়ে খেলেছেন তিনি, পাশাপাশি দা হান্ড্রেড টুর্নামেন্টে খেলেছেন লন্ডন স্পিরিটের হয়ে। জিম্বাবুয়ে সফরে নিউ জিল্যান্ডের টেস্ট বাদ দিয়ে ওই দুই টুর্নামেন্টে খেলেছিলেন তিনি।

এবার এই ভেন্যুতে নিজের শেষ টেস্টের আগে উইলিয়ামসন তুলে ধরলেন, এখানে খেলতে পারাটা কেন বিশেষ কিছু।

“এটা সবসময়ই স্পেশাল এক টেস্ট। গোটা ক্যারিয়ারে ফিরে তাকালে ... এটা নির্ভর করে আপনি কতদিন ধরে খেলছেন তার উপর... কিন্তু হ্যাঁ, আমি বেশ কিছুদিন ধরে খেলছি এবং লর্ডসে এসে খেলার সুযোগ হাতে গোনা কয়েকটিই পাওয়া যায়।"

“আমার মনে হয়, তারা যেভাবে ঐতিহ্যটা ধরে রেখেছে, তা বেশ স্পেশাল। এটা লর্ডসের নিজস্বতা। একে ঘিরে থাকা ইতিহাস, এর পেছনে যে প্রচেষ্টা, এই সবকিছুর জন্যই খানে এসে অন্য সব মাঠের সঙ্গে পার্থক্যগুলো লক্ষ্য করা যায়।

উইলিয়ামসন বললেন, এখানে প্রথমবার খেলতে এলে সবাই অনুভব করতে পারে বিশেষত্বগুলো এবং এরপর থেকে এখানে খেলতে মুখিয়ে থাকে।

“লং রুম দিয়ে হেঁটে মাঠে যাওয়া, সদস্যের কয়েকজনের সঙ্গে হঠাৎ দেখা হয়ে যাওয়া, আর অবশ্যই দুপুরের খাবার তো অসাধারণ। এখানে স্মরণীয় অনেক কিছুই আছে। তবে খেলার জন্য এটা একটা বিশেষ জায়গা এবং আমার মনে হয়, প্রথমবার এসে প্রত্যেকেই তা অনুভব করে এবং পরের প্রতিটি সুযোগকেই মূল্য দেয়।”

“এখানে যে অভিজ্ঞতাটা হয়, তা অসাধারণ। আমি জানি ড্রেসিং রুমের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের জন্য এটা প্রথমবার এবং তারা এই সম্ভাবনা নিয়ে বেশ রোমাঞ্চিত।”

লর্ডসে উইলিয়ামসনের টেস্ট রেকর্ড অবশ্য খুব সমৃদ্ধ নয়। তার ক্যারিয়ার গড় যেখানে ৫৪.৫৯, এখানে চার টেস্টের আট ইনিংসে তার গড় ৩২।

তবে লর্ডসের বিখ্যাত অনার্স বোর্ডে তার নাম উঠেছে। ২০১৫ সালে এখানে তিনি করেছিলেন সেঞ্চুরি। সাচিন টেন্ডুলকার, ব্রায়ান লারা, রিকি পন্টিংয়ের মতো কিংবদন্তিরা যে স্বাদ পাননি।

ওই ম্যাচটিতে অবশ্য শেষ দিনের ব্যাটিং ব্যর্থতায় হেরে গিয়েছিল নিউ জিল্যান্ড। তবে সেই স্মৃতি এখনও দোলা দেয় উইলিয়ামসনকে।

“অনার্স বোর্ড এমন একটা কিছু, যা নিয়ে সবাই অনেক কথা বলে। সত্যি বলতে, এটা একটা অসাধারণ ক্রিকেট ম্যাচও ছিল। আমরা শেষ পর্যন্ত হেরে গেলেও ৭০০ রান করেছিলাম এবং ২০টি উইকেট নিয়েছিলাম - অন্য কোনো দিন হলে আমরা এতেই বেশ খুশি থাকতাম।”

“এটা ছিল এক অনন্য অভিজ্ঞতা, কারণ পিচটা বেশ ভালো ছিল, কিন্তু তারপর এক পর্যায়ে আকাশ মেঘলা হলো, (কৃত্রিম) আলো জ্বলে উঠল এবং হঠাৎ করেই পরিস্থিতিটা সত্যিই খুব কঠিন হয়ে গেল। বিশেষ করে ইংল্যান্ডে ডিউক বলের ক্ষেত্রে এই ধরনের কিছু বৈশিষ্ট্যই দেখা যায়। যদিও বেশ আগের কথা, তবে বেশ স্মরণীয় ছিল এবং এখনও তা হৃদয়ে লালন করি যত্নে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

খেলাধুলা

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
১৯ বছরেই হ্যাটট্রিক, মেসির রেকর্ড ভাঙলেন আর্জেন্টিনার তরুণ তারকা

স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ধারে ইতালিয়ান ক্লাব ফিওরেন্তিনায় যোগ দিয়েছেন আর্জেন্টাইন তরুণ তারকা ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুনো। সেখানে যোগ দিয়েই চমক দেখিয়েছেন তিনি। ভেনেজিয়ার বিপক্ষে ফিওরেন্তিনার ৪-২ গোলের জয়ে ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছেন মাস্তানতুনো। এতে ভেঙে দিয়েছেন লিওনেল মেসির একটি রেকর্ড।    মাস্তানতুনোর অসাধারণ হ্যাটট্রিকে ভর করেই চলতি মৌসুমে নিজেদের প্রথম জয়ের দেখা পেলো ফিওরেন্তিনা। ভেনেজিয়ার বিপক্ষে ৪-২ গোলের রোমাঞ্চকর ম্যাচে একাই তিন গোল করে রেকর্ড বইয়ে নাম লিখিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ধারে আসা ১৯ বছর বয়সী এই ফুটবলার।    ১৯ বছর ২৮ দিন বয়সে ফিওরেন্তিনার জার্সি গায়ে এই অবিশ্বাস্য হ্যাটট্রিক পেলেন মাস্তানতুনো। ক্লাবের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে হ্যাটট্রিকের রেকর্ড গড়েছেন তিনি।   মাস্তানতুনো ভেঙেছেন মেসির একটি রেকর্ডও। ২০০৭ সালের ১০ মার্চ ১৯ বছর ২৫৯ দিন বয়সে বার্সার হয়ে প্রথম হ্যাটট্রিক পেয়েছিলেন মেসি। ইউরোপের শীর্ষ লিগে তিনিই ছিলেন সবচেয়ে কম বয়সে হ্যাটট্রিক করা ফুটবলার। তার চেয়ে ২৩১ দিন কম বয়সেই এবার হ্যাটট্রিক পেলেন আর্জেন্টিনার মাস্তানতুনো।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে দেম্বেলের পছন্দ খভিচা, কেইন ও এমবাপে

দুই সাবেক কর্মকর্তাকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করলো ফিফা

প্রতীকী ছবি

লাল-হলুদ কার্ডের পর ফুটবলে নতুন চমক ‘ব্ল্যাক কার্ড’

ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল বাংলাদেশ

জয় দিয়ে জুনিয়র এশিয়া কাপ হকির মিশন শেষ করলো বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ নারী দল। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) পঞ্চম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মালয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়েছে লাল-সবুজের মেয়েরা। চীনের মোকি ট্রেনিং গ্রাউন্ডে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক হকি খেলেছে বাংলাদেশ। তবে প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি কোন দল।  তৃতীয় কোয়ার্টারে গোলের সুযোগ কাজে লাগায় বাংলাদেশ। পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক সারিকা রিমন। এরপর চতুর্থ কোয়ার্টারে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কনা আক্তার। দারুণ এক ফিল্ড গোলে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেন। তবে ম্যাচের শেষ দিকে ৫৯ মিনিটে একটি গোল শোধ করে মালয়েশিয়া। তাতে অবশ্য বাংলাদেশের জয় আটকাতে পারেনি তারা। ২-১ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ কোয়ার্টার ফাইনালে জাপানের কাছে ২-০ গোলে হেরে যায়। সেই হারে আগামী বছরের জুনিয়র বিশ্বকাপে খেলার সরাসরি সুযোগও শেষ হয়ে যায়। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের টিকিট পেতে হলে অন্তত সেমিফাইনালে উঠতে হতো বাংলাদেশকে। তবে মালয়েশিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রেখেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। যদি আগামী বছর মেয়েদের জুনিয়র বিশ্বকাপ ভারতে হয়, তাহলে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পাবে। নিয়ম অনুযায়ী, আয়োজক দেশ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করলে সংশ্লিষ্ট মহাদেশ থেকে আরেকটি দেশ সুযোগ পায়। যেহেতু বাংলাদেশ পঞ্চম হলো, তাই সুযোগটা বাংলাদেশই তখন পাবে। 

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

৪ উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষকে ধসিয়ে ম্যাচসেরা মিরাজ

সংগৃহীত

রিজওয়ান-ইমামের মোবাইল জব্দ, ঘরোয়া ক্রিকেটেও নিষেধাজ্ঞা

ছবি: সংগৃহীত

ছক্কার ঝড়ে পাকিস্তানকে বাঁচালেন রাজাউল্লাহ, ম্যাচ গড়াল চতুর্থ দিনে

ছবি: সংগৃহীত
তিন মাসের চুক্তিতে সান্তোসে কুতিনহো

তিন মাসের জন্য সান্তোসে যোগ দিয়েছেন ফিলিপে কুতিনহো। বন্ধু নেইমারের সঙ্গে খেলতে ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটির সঙ্গে চুক্তি সেরেছেন তিনি।    গত ফেব্রুয়ারিতে ভাস্কো দা গামা ছাড়ার পর থেকে কোনো ক্লাবে খেলেননি কুতিনহো। ঘরেই ফিটনেস ধরে রাখার চেষ্টা করছিলেন তিনি। এবার সান্তোসে স্বল্পমেয়াদি চুক্তিতে মাঠে ফেরার সুযোগ পাচ্ছেন সাবেক এই বার্সেলোনা ও লিভারপুল তারকা।   ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম গ্লোবো ডটকম জানিয়েছে, কার্যত এটি কুতিনহোর জন্য একটি পরীক্ষামূলক সময়। তিন মাসে নিজের শারীরিক অবস্থা, ছন্দ এবং ফুটবলের প্রতি আগ্রহ যাচাই করার সুযোগ পাবেন তিনি।   কুতিনহোর জন্য সান্তোসে যোগ দেওয়ার বিষয়টি শুধু ফুটবলে ফেরার সুযোগ নয়, ব্যক্তিগতভাবেও বিশেষ। ক্লাবটিতে তাঁর বন্ধু ও ব্রাজিলের আরেক তারকা নেইমারের সঙ্গে খেলতে পারবেন তিনি। তবে ২০২৭ সাল পর্যন্ত চুক্তি বাড়ানোর কোনো বাধ্যবাধকতা থাকছে না। ফলে আগামী তিন মাসের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তিনি নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।   এই সময়ে সান্তোসকে দুটি প্রতিযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে অংশ নিতে হবে। ব্রাজিলিয়ান লিগ ব্রাসিলেইরাওয়ের শেষ রাউন্ড অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ২ ডিসেম্বর। পাশাপাশি কোপা সুদামেরিকানার ফাইনাল হবে ২১ নভেম্বর। সান্তোস ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টটির কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ আতলেতিকো মিনেইরো।   তিন মাসের এই অধ্যায় তাই কুতিনহোর ক্যারিয়ারে হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ এক মোড়। মাঠে নিজেকে আবার প্রমাণ করতে পারলে হয়তো নতুন করে ক্যারিয়ার পুনরুজ্জীবনের পথ খুলে যাবে তার সামনে। আর যদি আগের ছন্দে ফিরতে না পারেন, তাহলে ফুটবলকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্তও আসতে পারে এই সময়ের পর।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

এস্তেহেইজেনের সেঞ্চুরিতে সিরিজ জয় দক্ষিণ আফ্রিকার

ছবি: সংগৃহীত

ক্ষমা চাইতে হবে না, গোল করুক আলভারেস

সংগৃহীত ছবি

মেসি-রোনালদোকে ঘিরে লা লিগায় নতুন চমক, বড় ইঙ্গিত সভাপতির

0 Comments