জাতীয়

হাসনাত আবদুল্লাহর চোখে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’: ট্রেন নয়, দুঃখে ভরা এক পৃথিবী

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

‘সিনেমাটা দেখার পর “বনলতা এক্সপ্রেস”কে আপনার আর ট্রেন মনে হবে না; মনে হবে জীবন্ত দুঃখের এক বাহন, যার একেকটা বগি একেকটা দুঃখ দিয়ে ভর্তি।’ বনলতা এক্সপ্রেস সিনেমা দেখে এভাবে লিখেছেন তরুণ সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। গত ঈদে মুক্তি পেয়ে আলোচনায় আসে সিনেমাটি। সেই সিনেমা নিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহর লেখাটি পাঠকদের জন্য হুবহু প্রকাশ করা হলো।


অসুস্থ এক মায়ের জন্য হেলিকপ্টার আনার আবদার শুনে মন্ত্রী মহোদয় (চঞ্চল চৌধুরী) অবাক হলেন। বললেন, ‘একটা মামুলি বিষয়কে আপনি এত বড় কেন করছেন?’ গণিতের প্রফেসর রশিদ উদ্দিন (মোশাররফ করিম) উত্তর দিলেন, ‘মন্ত্রী সাহেব, মামুলি বিষয়কে বড় করে তোলাই তো মানুষের কাজ!’


‘বনলতা এক্সপ্রেস’ মুভিতেও আসলে একই কাজ করা হয়েছে। ছোট ছোট গল্প দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে অনেকগুলো মানুষের জীবনকে, তাদের দুঃখকে। সিনেমাটা দেখার পর ‘বনলতা এক্সপ্রেস’কে আপনার আর ট্রেন মনে হবে না; মনে হবে জীবন্ত দুঃখের এক বাহন, যার একেকটা বগি একেকটা দুঃখ দিয়ে ভর্তি। যেমন ডাক্তার আশাবের (শরীফুল রাজ) কথাই ধরুন। ম্যাজিক দেখানো, মায়ের সঙ্গে মজা করা হাসিখুশি ছেলেটাও একটা পর্যায়ে দুই হাঁটু গেড়ে বসে পড়ে বলল, ‘না পারলাম ভালো মানুষ হইতে, না পারলাম ভালো ডাক্তার হইতে।’


সঙ্গে সঙ্গে আশাব হয়ে গেল বাংলাদেশের সমস্ত বড় ছেলে; যাঁদের পেছনে থাকে শৈশবের ট্রমা, বর্তমান জুড়ে থাকে আফসোস, আর হাতে থাকে কিছু অনর্থক ম্যাজিকের কার্ড। দেখতে দেখতে মনে হয়, আমরাও কি অনর্থক কিছু কার্ড আর মুখে ফেক হাসি ঝুলিয়ে বেড়ানো ডাক্তার আশাব নই? নিঃসন্তান কিন্তু ক্ষমতাবান মন্ত্রী আবুল খায়ের, নাকি মাত্র ২৪ বছর বয়সী একমাত্র ছেলের কফিন নিয়ে যাত্রা করা রশিদ উদ্দিন—কার দুঃখ আসলে বেশি?

হাতে মাত্র এক বছরের জীবন নিয়ে আজিজ (শ্যামল মাওলা) যখন স্ত্রী-সন্তানদের ওপর থেকে মায়া কাটাতে ব্যস্ত, ঠিক সেই সময়ে জীবনে নতুন যাত্রা শুরু করতে হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে সদ্য অ্যাডমিশন ক্যান্ডিডেট রুবি। যে ট্রেনে একজন তরুণ কফিনে চড়ে যাচ্ছে, ঠিক একই ট্রেনে একজন তরুণী জীবন নতুনভাবে শুরু করছে। একটি বিদায়ের দিকে, অন্যটি আগমনের দিকে। শেষ আর শুরুকে একই রেখায় বেঁধে।


সেই একই রেললাইনে বসে গণিতের প্রফেসর কান্নায় ভেঙে পড়ে বললেন, ‘হোল ওয়ার্ল্ডে আমি ম্যাথে জায়ান্ট নম্বর এইট, কিন্তু ম্যাথ আমার হাতে নাই, ম্যাথ আমার হাতে নাই।’ ম্যাথ কি আসলে আমাদের কারও হাতেই থাকে? নাকি আমাদের সব ম্যাথের সমাধান নিয়ে ওপরে একজন বসে থাকেন, আর আমাদের হিসাব মেলানোর ছোটাছুটি দেখেন?


জানাজার নামাজের কোনো আজান হয় না। কারণ, জন্মের সময়ই আমাদের কানে আজান দিয়ে দেওয়া হয়। জন্মের সময় আজান আর মৃত্যুর সময় তার নামাজ। এর মাঝখানের সময়টুকুই আমাদের জীবন। এ ছাড়া, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ হচ্ছে একটা পৃথিবী। যে পৃথিবীর এক পাশে সন্তানের কফিন, আরেক পাশে নতুন এক শিশুর জন্ম। যে পৃথিবীর এক পাশে ক্ষমতার দম্ভ, আরেক পাশে মানুষের প্রতি ভালোবাসা। এক পাশে নীলাকে হারিয়ে ফেলার কষ্ট, আরেক পাশে চিত্রার (সাবিলা নূর) বাড়িয়ে দেওয়া হাত।


দিন শেষে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ আমার গল্প, আমাদের গল্পই। জন্মের আজান, মৃত্যুর জানাজা, হারানোর দুঃখ কিংবা পাওয়ার আনন্দ—সব নিয়েই আমাদের জীবন। বারবার হাঁটু গেড়ে পড়ে যাওয়ার পরও আবার উঠে দাঁড়িয়ে ছুটে চলাই মানবজাতির নিয়তি। নিয়তি বলেই একটা থেঁতলে যাওয়া ব্যাঙ পর্যন্ত মাটির সঙ্গে অর্ধেক লেপটে থাকা দেহটা নিয়ে শেষনিশ্বাস পর্যন্ত লাফায়, চলে, চলতে থাকে। তাকে থামানো যায় না। এই চলতে থাকাই জীবনের ধর্ম। থেমে গেলেও, কষ্ট পেলেও জীবন কষ্ট পেতে পেতে সূর্যের মতো স্পষ্ট হয়ে সুস্মিত শিশিরের মতো সবার মাঝে বারবার ছড়িয়ে পড়ে। ঠিক ‘বনলতা এক্সপ্রেস’–এর মতো।


এই বনলতা এক্সপ্রেসকে কেউ থামাতে পারে না। কারণ, এই ট্রেন মানবজীবনেরই মতো; যেখানে স্থবিরতা নয়, কেবল রূপান্তরই চূড়ান্ত সত্য। সেই রূপান্তরের ভেতর দিয়েই মানুষ অশ্রুকে অভিজ্ঞতায়, সংগ্রামকে সাফল্যে, দুঃখকে মহাকাব্যে, সম্ভাবনাকে ইতিহাসে পরিণত করে। যে রূপান্তর শিশুকে প্রৌঢ়ে, বীজকে বৃক্ষে, স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করে, সেই রূপান্তরকে বন্ধ করে দেওয়ার সাধ্য কার আছে?

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

মালদ্বীপের সেরা চিকিৎসক তৈরি হয় বাংলাদেশে: হাইকমিশনার

  মালদ্বীপের অনেক শিক্ষার্থী বাংলাদেশে চিকিৎসা বিষয়ে লেখাপড়া করছেন। ময়মনসিংহ, সিলেট এবং চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে তারা অধ্যয়ন করছেন বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মালদ্বীপের হাইকমিশনার শিউনীন রশিদ। তিনি বলেন, ‘‘মালদ্বীপের সেরা চিকিৎসক বাংলাদেশে তৈরি হয়।’’   মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউন এবং জাতীয় দৈনিক ঢাকা ট্রিবিউন কার্যালয়ে পরিদর্শনে এসে ঢাকা ট্রিবিউন সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ ও বাংলা ট্রিবিউনের নির্বাহী সম্পাদক উদিসা ইসলাম ও সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।     শিউনীন রশিদ বলেন, ‘‘মালদ্বীপ শ্রমিক অভিবাসনের বাইরেও বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্ব সম্প্রসারণ করতে চায়। মালদ্বীপের অবকাঠামো উন্নয়নে বাংলাদেশ থেকে আরও অভিবাসী কর্মী নিয়োগ করার সুযোগ আছে।’’   ঢাকা ট্রিবিউন ও বাংলা ট্রিবিউনের সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘‘দুই দেশের মধ্যে ইতোমধ্যে মানুষে মানুষে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং ব্যবসা, যোগাযোগ, শিক্ষা ও জলবায়ু কূটনীতির মাধ্যমে সহযোগিতা আরও গভীর করার সুযোগ আছে।’’   তিনি বলেন, ‘‘সাম্প্রতিক সময়ে উচ্চ পর্যায়ের বিনিময় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন গতি সঞ্চার করেছে।’’   প্রসঙ্গত, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট আহমেদ মুইজ্জু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এ বছরের শুরুতে ঢাকা সফর করেন এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান আগামী সপ্তাহে মালদ্বীপের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে যোগ দেবেন।   হাইকমিশনার আশা প্রকাশ করেন যে, উচ্চ পর্যায়ের সফর, অব্যাহত বিনিময়, বাণিজ্য, পর্যটন, বিনিয়োগ, কানেক্টিভিটি এবং জলবায়ু কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা আরও জোরদার করবে।   তিনি বলেন, ‘‘প্রায় একলাখ বাংলাদেশি বর্তমানে মালদ্বীপে বসবাস এবং কাজ করেন— যা দ্বীপ রাষ্ট্রটির জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং তাদের দেশের বৃহত্তম প্রবাসী সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে একটি।’’   ‘‘মালদ্বীপ সরকার অনথিভুক্ত অভিবাসী শ্রমিকদের নিয়মিত করতে এবং বিদেশি-কর্মীদের আরও সঠিক ডাটাবেস তৈরি করতে দেশব্যাপী নিবন্ধন অভিযান চালাচ্ছে।’’   বাংলাদেশি শ্রমিকরা ঐতিহ্যগতভাবে নির্মাণ ও আতিথেয়তা খাতে নিয়োজিত থাকলেও হাইকমিশনার বলেন, ‘‘মালদ্বীপের অবকাঠামো ও পর্যটন উন্নয়ন অব্যাহত থাকায় নার্স, হিসাবরক্ষক এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞসহ দক্ষ পেশাদার কর্মীর চাহিদা বাড়ছে।’’   দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান পর্যটনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশ মালদ্বীপের জন্য ক্রমবর্ধমান গুরুত্বপূর্ণ উৎস বাজারে পরিণত হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে আকাশপথে সরাসরি যোগাযোগ চালু হওয়ার পর থেকে উভয় দেশেই পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।’’    অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করার করতে মালদ্বীপ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ওপর বিধিনিষেধ শিথিল, পর্যটন, আতিথেয়তা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং অবকাঠামোতে সুযোগ উন্মুক্ত করে দেশটির বিনিয়োগ কাঠামো সংশোধন করেছে বলেও জানান তিনি।   হাইকমিশনার বলেন, ‘‘বর্তমানে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আকাশ পথের ওপর নির্ভর করতে হয়। বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে সরাসরি শিপিং লিংক নিয়ে উভয় দেশই আলোচনা করছে, যা লজিস্টিক খরচ কমাতে পারে এবং বাণিজ্যের উন্নতি করতে পারে।’’   হাইকমিশনার আরও বলেন, ‘‘জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দুটি দেশ বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ শক্তিশালী বৈশ্বিক জলবায়ু কর্মকাণ্ড এবং জলবায়ু অর্থায়ন বৃদ্ধির জন্য আন্তর্জাতিক ফোরামে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’’   তিনি বলেন, ‘‘সমুদ্রের ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা ইতোমধ্যে মাছকে গভীর জলে ঠেলে দিয়ে টুনা মৎস্যকে প্রভাবিত করছে, যা জেলেদের জন্য চ্যালেঞ্জ বাড়িয়ে তুলছে।’’   মালদ্বীপ নবায়নযোগ্য জ্বালানি রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করছে, সৌর শক্তিকে দেশের দীর্ঘমেয়াদী শক্তি সমাধান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যেহেতু দেশটির দ্বীপগুলো ভারত মহাসাগর জড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এবং গভীর সমুদ্রের চ্যানেল দ্বারা পৃথক করা হয়েছে, বেশিরভাগ জনবহুল দ্বীপগুলো স্বাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে পরিচালনা করে— যা দেশব্যাপী বিদ্যুৎ সংযোগকে প্রযুক্তিগতভাবে চ্যালেঞ্জিং করে তোলে বলে উল্লেখ করেন তিনি।   অভ্যন্তরীণ সংস্কারের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘‘দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বাড়াতে মালদ্বীপ ওয়ার্ক ও বিজনেস ভিসা আবেদনসহ অনেক সরকারি সেবা ডিজিটালাইজড করেছে।’’   তামাক পণ্যের বিষয়ে মালদ্বীপ সরকারের কঠোর পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন তিনি। তিনি বলেন, ‘‘২০০৭ সালের ১ জানুয়ারির পর যাদের জন্ম তাদের কাছে সিগারেট কিংবা তামাক পণ্য বিক্রি করা নিষিদ্ধ।’’    হাইকমিশনার জানান, দুই দেশের মধ্যে অগ্রাধিকারভিত্তিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। পাশাপাশি সাজাপ্রাপ্ত বন্দি বিনিময় চুক্তি নিয়ে কাজ প্রায় শেষের দিকে।   তিনি আরও বলেন, ‘‘মালদ্বীপ বাংলাদেশের পর্যটন খাতের উন্নয়নে কারিগরি ও বিশেষজ্ঞ সহায়তা দিতে আগ্রহী।’’   প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানিয়ে ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক রিয়াজ আহমদ বলেন, ‘‘সাংবাদিকতা আজ জাতীয় সীমানা ছাড়িয়ে বিস্তৃত। পাঠকদের দক্ষিণ এশিয়া এবং বৃহত্তর বিশ্বের উন্নয়নের প্রতি ক্রমবর্ধমান আগ্রহ রয়েছে।’’   তিনি বলেন, ‘‘ঢাকা ট্রিবিউন ও বাংলা ট্রিবিউন পাঠকদের অভ্যাসের পরিবর্তনকে গুরুত্ব দিয়ে আন্তর্জাতিক কভারেজ সম্প্রসারণ করেছে। পর্যটন, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং আঞ্চলিক বোঝাপড়ার বিষয়টি প্রচারে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের গণমাধ্যমের মধ্যে বৃহত্তর সহযোগিতার আশা প্রকাশ করেছে।’’   রিয়াজ আহমেদ আরও বলেন, ‘‘বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন, ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা এবং শক্তিশালী আঞ্চলিক কণ্ঠস্বরকে ক্রমবর্ধমান গুরুত্বপূর্ণ করে তুলছে।’’   বাংলা ট্রিবিউনের নির্বাহী সম্পাদক উদিসা ইসলাম বলেন, ‘‘দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি দুই দেশের গণমাধ্যম নিজেদের মধ্যে সহযোগিতা সম্প্রসারিত করতে পারে।’’     পরিদর্শনের অংশ হিসেবে হাইকমিশনার ঢাকা ট্রিবিউন ও বাংলা ট্রিবিউনের নিউজ রুম ঘুরে দেখেন। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির সমন্বিত প্রিন্ট ও ডিজিটাল নিউজ কার্যক্রমের বিষয়ে রাষ্ট্রদূত অবহিত করেন ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক এবং বাংলা ট্রিবিউনের নির্বাহী সম্পাদক। প্রতিকা দুটির কনটেন্ট তৈরিতে সাংবাদিক, সম্পাদক ও মাল্টিমিডিয়া টিম কীভাবে একযোগে কাজ করে, তা ব্যাখ্যা করেন তারা।    এ সময় মালদ্বীপ হাইকমিশনের দ্বিতীয় সচিব আহমেদ মাইশান, হাইকমিশনারের ব্যক্তিগত সহকারী ইকবাল জাহান নীলা এবং ঢাকা ট্রিবিউন ও বাংলা ট্রিবিউনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ২১, ২০২৬

বিয়ের ৫ দিন পরের বায়োডাটায় মরিয়ম ‘অবিবাহিত’

মোজাফফর হোসেনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ

খেলাধুলাই পারে জাতিকে এক সুতায় গাঁথতে: আমিনুল হক

শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না: সরোয়ার তুষার

  জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার বলেছেন, শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না। শেখ হাসিনা কখনোই আর বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন না। তাকে দিল্লির ওই অন্ধকার প্রকোষ্ঠেই মৃত্যুবরণ করতে হবে। তার লাশ ভারতও দিল্লির পানিতে ভাসিয়ে দেবে।   সোমবার (২০ জুলাই) বিকাল ৫টার দিকে পিরোজপুর শহরে এনসিপি আয়োজিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ ও পথসভায় পিরোজপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   সরোয়ার তুষার বলেন, এই বাংলাদেশে শেখ হাসিনার আর আসা হবে না, তার জানাজা হবে না, তার কবর হবে না। একজন মুসলমানের সন্তান হিসেবে এর চেয়ে বড় কলঙ্ক আর কিছু হতে পারে না।   এ সময় তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সমালোচনা করে বলেন, নির্বাচনের আগে তিনি বলেছিলেন, গণভোট নাকি তারাই আবিষ্কার করেছেন। এখন গণভোটের পক্ষে থাকা জনগণের ভোট নিজেদের দিকে নেওয়ার পর তিনি বলছেন, গণভোট অবৈধ।   তিনি বলেন, গণভোট যদি অবৈধ হয়, তাহলে বিএনপি নামক দলটির গঠনও অবৈধ ছিল। গণভোট যদি অবৈধ হয়, তাহলে আপনারা যে সরকার গঠন করেছেন এবং ক্ষমতায় এসেছেন, সেটিও অবৈধ। সুতরাং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত বাংলাদেশের জনগণ আপনাদের ছাড় দেবে না।   সরোয়ার তুষার আরও বলেন, জুলাই সনদ যেহেতু বাস্তবায়ন হচ্ছে না, বাংলাদেশের জনগণ বিএনপি সরকারকে ভণ্ড ও প্রতারক সরকার হিসেবে চিহ্নিত করেছে।   পথসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক আলী হাসান জুনায়েদ এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ড. শামীম হামিদী।   অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিরোজপুর জেলা এনসিপির সভাপতি হুমায়ুন কবির। সঞ্চালনা করেন জেলা সদস্যসচিব মাইনুল আহসান মুন্না।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ২১, ২০২৬

মাইলস্টোনের ক্ষতিপূরণ না পাওয়া সরকারেরও ব্যর্থতা: ডা. জাহেদ

প্রতারণার মামলায়ও তৌহিদ আফ্রিদির জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই

তীব্র গ্যাস সংকট, কী বলছে তিতাস

নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
১৮০ দিনেই রদবদল কি না অনিশ্চিত, তবে সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর হাতে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রয়োজন মনে করলে মন্ত্রিসভার সদস্যদের দপ্তর পুনর্বণ্টন কিংবা নতুন কাউকে দায়িত্ব দিতে পারেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তবে এমন সিদ্ধান্ত সরকারের ১৮০ দিন পূর্তির পরই হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও তিনি জানান।   মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সচিবালয়ে সরকারের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তুলে ধরতে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।   জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী একটি মন্ত্রিসভা তৈরি করেছেন। একটি উপদেষ্টা পরিষদ তৈরি করেছেন। যেটুকু ওনার (প্রধানমন্ত্রী) সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে আমি বুঝি, ওনার (প্রধানমন্ত্রী) যদি কখনো মনে হয়, কেউ ভালো পারফর্ম করতে পারছেন না, তার জায়গায় দপ্তর পুনর্বণ্টন অথবা নতুন কাউকে দেওয়া, এগুলো যদি প্রয়োজন হয়, সেটা তিনি করবেন।’     তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে জনগণের কল্যাণ। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার কোনো চয়েস বা সিদ্ধান্ত আরও বেটার করার সুযোগ যদি থাকে, তিনি সেটা করবেন। তার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলে এটা মনে হয়েছে।’     তবে সরকারের ১৮০ দিন পূর্ণ হওয়ার পরপরই মন্ত্রিসভায় রদবদল হবে কি না—এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেন তথ্য উপদেষ্টা।     বর্তমান সরকার গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দায়িত্ব গ্রহণ করে। বর্তমানে মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও ২৪ জন পূর্ণমন্ত্রী, ২৩ জন প্রতিমন্ত্রী এবং মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় ১০ জন উপদেষ্টা রয়েছেন। প্রচলিত কার্যবিধি অনুযায়ী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টনের ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে রয়েছে।     সাইবার বুলিং ও অপতথ্য রোধে আইনগত বিষয় দেখভালের জন্য একটি আইনজীবী প্যানেল গঠন করা হচ্ছে বলে জানান তথ্য উপদেষ্টা। এ বিষয়ে চলতি সপ্তাহের মধ্যেই প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।     এ সময় তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমেদও উপস্থিত ছিলেন।

মারিয়া রহমান জুলাই ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ডেঙ্গু মোকাবিলায় টাস্কফোর্সের সভা: নির্মাণাধীন ভবনে অভিযান ও সচেতনতায় গুরুত্ব

ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) পদে সচিব পদমর্যাদায় যোগ দিলেন রাশেদ খান

ছবি: সংগৃহীত

‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ প্রণয়ন চেয়ে হাইকোর্টে রিট

0 Comments