খেলাধুলা

কোমায় যাননি সাইফ, দেখেননি বিশ্বকাপের ম্যাচও

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলছে না বাংলাদেশ দল। মূলত নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানিয়ে ভারতের মাটিতে খেলতে অস্বীকৃতি জানায় বাংলাদেশ। পরে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে তাদের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে আইসিসি। বিশ্বকাপ খেলতে না পারার হতাশাকে ভাষায় প্রকাশ করতে গিয়ে কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেছেন, দুই জন ক্রিকেটার 'কোমাতে' চলে গিয়েছিল।

 

এ প্রসঙ্গে শুক্রবার তিনি বলেন, ‘আমি তো জানি আমার দুইটা খেলোয়াড় প্রায় কোমাতে চলে গেছিল। পাঁচ দিন ধরে কোথায় যেন হারায় গিয়েছিল তারা। আমরা তাদের (অদম্য কাপ) টুর্নামেন্টে মাঠে ফিরিয়ে আনতে পেরেছি ওইটাই বেশি। এটা সবচেয়ে বড় সাফল্য আমার জীবনে। যে সে মাঠে আসছে এবং এসে আবার রান করেছে।’

 

এর একদিন পর আজ শনিবার জাতীয় দলের ক্রিকেটার সাইফ হাসানের কাছে জানতে চাওয়া হয় এ প্রসঙ্গে। তখন সাইফ বলেন, ‘জানি না স্যার কাকে বলেছে। কিন্তু আমি না, আমি কোমায় যাই নাই। দেখেন সবারই কষ্ট লেগেছে যারা টিমে ছিল। এটা অস্বীকার করার কিছু নেই কিন্তু আমার স্ট্যাটাসটা ছিল যে আমি ওখান থেকে যেই অদম্য কাপ যেটা খেলছি। ওখান থেকে একটা শেপে আসছি। তো সেটা একটা স্বস্তিকর বিষয়। তাই আসলে ওই বিষয়টাই আমি শেয়ার করেছি, আমার অনুভূতি শেয়ার করেছি।’

 

বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচ দেখছেন না সাইফ। তার চেয়ে বরং নিজের মনকে স্বান্তনা দিচ্ছেন জাতীয় দলের এই ওপেনার, ‘সত্যি কথা হলো বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচ দেখি নাই। তবে নিজেকে ওভাবে বোঝাচ্ছি যে একটা সুযোগ যেহেতু গিয়েছে, সামনের সিরিজগুলোতে যদি সুযোগ পাই তাহলে নিজেকে মেলে ধরার।’

 

পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে বিশ্বকাপ না খেলার বিষয়টি মেনে নিয়েছেন সাইফ, ‘পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে এসব বিষয় নিয়ে দ্রুত মুভ অন করাটাই শ্রেয়। কষ্ট সবারই ছিল তবে আমরা মুভ অন করতে পেরেছি, বিশ্বকাপ নিয়ে আর পড়ে থাকছি না।’

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

খেলাধুলা

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
নকআউট পর্বে চোখ রেখে মুখোমুখি আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া

উড়ন্ত শুরু পাওয়া আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়া মুখোমুখি হওয়ার অপেক্ষায়। দুই দলের সামনে, উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠার হাতছানি। এই ম্যাচটি আবার হয়ে উঠতে পারে, ‘জে’ গ্রুপে সেরা হওয়ার লড়াইও। অনুমিতভাবে এগিয়ে তিনবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ছেড়ে কথা বলবে না অস্ট্রিয়াও। ডালাসের ম্যাচ ঘিরে তাই বাজছে ‘যুদ্ধে’র ডামাডোল।   আক্রমণভাগে মহাতারকা লিওনেল মেসির উপস্থিতি এগিয়ে রাখছে আর্জেন্টিনাকে। আলজেরিয়া ম্যাচে দারুণ এক হ্যাটট্রিক উপহার দিয়ে এই ফরোয়ার্ড দেখিয়ে দিয়েছেন, ৩৮ বছর বয়স তার কাছে স্রেফ সংখ্যা। ওই হ্যাটট্রিকে রেকর্ডের অনেক পাতা ওলট-পালট করে দেওয়া মেসির সামনে এখন আরও তিনটি চূড়ায় পা রাখার সুযোগ।   জার্মান গ্রেট মিরোস্লাভ ক্লোসার বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১৬ গোলের, সর্বোচ্চ ১৬ ম্যাচ জয়ের এবং ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রিভেলিনোর বক্সের বাইরে থেকে করা সর্বোচ্চ ৫ গোলের রেকর্ড- এই তিন কীর্তি গড়ার দুয়ারে মেসি। আর্জেন্টিনার দৃষ্টি অবশ্য, গ্রুপের বৈতরণী পেরিয়ে নকআউটে ওঠা।   গ্রুপ সেরা হয়ে, শেষ বত্রিশে উঠতে জিততে হবে আর্জেন্টিনাকে। গ্রুপের অন্য ম্যাচে, জর্ডান যদি আলজেরিয়াকে হারাতে না পারে, তাহলে সমীকরণ মিলে যাবে লিওনেল স্কালোনির দলের।   একই সম্ভাবনা আছে অস্ট্রিয়ারও। রালফ রাংনিকের দল যদি আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দেয়, আর আলজেরিয়া হারাতে ব্যর্থ হয় জর্ডানকে, তাহলে ছয় আসর পর বিশ্বকাপে ফেরা দলটি উঠবে গ্রুপের শীর্ষে।   অস্ট্রিয়ার হিসাব ওলট-পালট মেসি করে দিতে পারেন একাই। দলটির অধিনায়ক ডাভিড আলাবা কথাটি বলেছিলেন, জর্ডানের বিপক্ষে ৩-১ গোলে জেতা ম্যাচের শেষে। ওই দিনই, আগের ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে আর্জেন্টিনা হারিয়েছিল মেসির হ্যাটট্রিকে সওয়ার হয়ে।   আমরা যাওয়ার আগে, ওদের ম্যাচটা নিশ্চিতভাবেই দেখেছিলাম। হ্যাটট্রিক দিয়ে এমন একটি টুর্নামেন্ট মেসির শুরু করাটা অবিশ্বাস্য। পাগলাটে ব্যাপার…আশা করুন, আগামী সপ্তাহে যেন সে এটা করতে না পারে।”   আমরা জানি, কী ধরণের দলের বিপক্ষে আমরা খেলতে যাচ্ছি, কি মানের খেলোয়াড় তাদের আছে; এমনকি, মেসি ছাড়াও, দলীয়ভাবে তারা কী করতে সক্ষম।   অস্ট্রিয়ার আশা, দলীয় প্রচেষ্টায় চাপ দিয়ে আর্জেন্টিনার ছন্দ কেটে দেওয়ার। আলবেসিলেস্তাদের সহকারী কোচ পাবলো আইমারও আগেভাগে সতর্ক করে দিয়েছেন দলকে। আলজেরিয়ার চেয়ে অস্ট্রিয়া ম্যাচে যে, ভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে, বলেছেন এই সাবেক আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার।   “অস্ট্রিয়া খুবই কঠিন একটা দল; যেমনটা আমরা এই বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া প্রতিটি দলের ক্ষেত্রেই দেখছি।   এই দুই দলের লড়াইয়ের ফাঁকে শিরোনামে, আলজেরিয়া ম্যাচে মেসির করা সেই ফাউলের কাণ্ডও। আলজেরিয়া অধিনায়ক আইসা মান্দিকে পেছন থেকে ফাউল করেছিলেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক, কিন্তু রেফারি কোনো কার্ড দেখাননি। এ নিয়ে ফিফার কাছে নালিশ করেছে আলজেরিয়া। এই ইস্যুতে আর্জেন্টিনা অবশ্য প্রকাশ্যে এখনও বলেনি কিছু। শিরোপাধারীদের দৃষ্টি যে, এ মুহূর্তে শেষ বত্রিশের মঞ্চে ওঠা নিশ্চিত করার দিকে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

ইরান দলের জন্য ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে না যুক্তরাষ্ট্র

ছবি : সংগৃহীত

আর্জেন্টিনাকে এড়িয়ে নয়, হারিয়েই এগোতে হবে: লামিন ইয়ামাল

ছবি : সংগৃহীত

মাত্র ১১ বলে ফিফটি! ২১ বছরের পুরোনো বিশ্বরেকর্ড ভেঙে ফাইনালে সুরিয়াভানশির টর্নেডো

ছবি : সংগৃহীত
ব্যাটিং বিপর্যয়ে বাংলাদেশ: লজ্জার রেকর্ড এড়িয়ে তাওহীদ হৃদয়ের ফিফটিতে সংগ্রহ ১০৯

ব্যাটিং বিপর্যয়ে সিরিজের প্রথম ম্যাচ হেরেছিল বাংলাদেশ। তৃতীয় ম্যাচেও দেখা গেল একই দশা। মাত্র ৩৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে সর্বনিম্ন রানে অলআউট হওয়ার শঙ্কায় পড়েছিল টাইগাররা। তবে অধিনায়কের ফিফটিতে লজ্জার রেকর্ড থেকে মুক্তি পেয়েছে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১০৯ রান করেছে লাল-সবুজের দল।   চট্টগ্রামে হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর ম্যাচে টসে জিতে শুরুতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়। তবে রানবন্যার সাগরিকায় ডট বল আর উইকেট হারানোর মহড়া দিয়েছে টাইগার ব্যাটাররা। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ সর্বনিম্ন সংগ্রহ ৭০ রান। চট্টগ্রামে সেই রেকর্ড পেরিয়ে কোনোমতে শতরান পূর্ণ করেছে বাংলাদেশ।   ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারেই ২ উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। জনসনের বল সোজা খেলেছিলেন সাইফ। কিন্তু সেটা বোলারের হাতে লেগে আঘাত করে স্টাম্পে। নন স্ট্রাইকে থাকা তামিম তখন ক্রিজ থেকে সামান্য বাইরে। বলের গতিবিধি দেখে ব্যাটকে ক্রিজের ভিতরেও নিতে চেয়েছিলেন তামিম। কিন্তু সামান্য বিলম্বে রান আউটের শিকার হয়ে ফিরেন তিনি।   এরপর বাংলাদেশি ব্যাটাররা যা করেছেন, তা রীতিমতো ছেলেখেলা যেন। ডটের পর ডট খেলে জনসনের ওভারের পঞ্চম বলে মিড অফে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন সাইফ হাসান। মার্শের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে ৯ বলে করেছেন মাত্র এক রান। এশিয়া কাপ ও আফগানিস্তান সিরিজের পর ব্যাট হাতে টানা ব্যর্থ এই ওপেনার।   পাওয়ার প্লেতে ডট বলের মহড়া দিয়ে ফিরেছেন তিনে নামা পারভেজ হোসেন ইমন। নাথান এলিসের বলে ক্যাচ তুলে দেওয়ার আগে ১৩ বলে করেছেন মাত্র এক রান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টিকে থাকতে স্ট্রাইক রোটেশনের দক্ষতা যে কত কার্যকরী বিষয়, সেটাই টের পেয়েছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।   ১৩ বলে এক রান করে লজ্জার রেকর্ডেও নাম লিখিয়েছেন ইমন। বাংলাদেশের হয়ে অন্তত ১০ বলের ইনিংস খেলা ব্যাটারদের মধ্যে সর্বনিম্ন স্ট্রাইকরেট তার। এর আগে ২০২১ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মিরপুরে ১১ বল খেলে ২ রানে আউট হয়েছিল সৌম্য। এতদিন এটাই ছিল বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের এক ইনিংসের সর্বনিম্ন স্ট্রাইকরেট।   এদিকে পঞ্চম ওভার শেষে তিন উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ মাত্র ১১ রান তুলছিল! টাইগারদের মন্থর গতির ব্যাটিং দেখে যে কেউই এটাকে টেস্ট ম্যাচ মনে করতে পারেন। তবে পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে সোহান-হৃদয় বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেন। যদিও অস্ট্রেলিয়ান বোলিং তোপে বেশিক্ষণ টিকেনি এই জুটি।   ইনিংসের অষ্টম ওভারে অ্যাডাম জাম্পার নিচু হওয়া বলে বোল্ড হয়েছেন নুরুল হাসান সোহান। লম্বা সময় পর টি-টোয়েন্টি একাদশে ফিরেও ম্যাচটা স্মরণীয় করে রাখতে পারলেন না এই ব্যাটার। মাত্র ৮ বলে ৬ রান করে ফিরেন তিনি। তাতে দলীয় ৩৪ রানের মাথায় চতুর্থ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।   সোহানের বিদায়ের পর মাঠে নামেন শামীম পাটোয়ারী। কালেভদ্রে ভালো ইনিংস খেলা এই ব্যাটার আজও দলের হাল ধরতে পারেননি। উল্টো লেগ সাইড দিয়ে বেরিয়া যাওয়া বলকে খোঁচা মেরে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি। বাঁহাতি এই ব্যাটারের সবশেষ চার ইনিংস যথাক্রমে ০, ৭, ১, ৩।   ৩৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বসা বাংলাদেশকে আশার আলো দেখান হৃদয়-রিশাদ জুটি। তবে নিখিল চৌধুরীর বলে অদ্ভুত শট খেলে বিদায় নেন রিশাদ হোসেন। এক চার ও এক ছক্কায় ১৪ বলে ১৬ রান করেন তিনি। টি-টোয়েন্টিতে ১৩ ম্যাচ পর ১৫ রানের ইনিংস দেখলেন এই অলরাউন্ডার।

মারিয়া রহমান জুন ২১, ২০২৬
উন্দাভ একসময় কারখানায় কাজ করতেন। সংগৃহীত ছবি

৮ ঘণ্টা কারখানায় কাজ করা ছেলেই এখন জার্মানির বিশ্বকাপ হিরো!

রোনালদোর পাশে দাঁড়িয়ে পর্তুগালের সমালোচকদের একহাত নিলেন দালোত

ব্যাটিংয়ের পর বোলিংয়েও ঝলক দেখালেন হাসান মাহমুদ

ছবি: সংগৃহীত
ইতিহাসের ম্যাচে নতুন রেকর্ড গড়ে জিতল জাপান

প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে রুখে দিয়েছিল জাপান। দ্বিতীয় ম্যাচে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে মাঠে নেমে সেই ফর্মের ধারাবাহিকতাই দেখাল এশিয়ার এই পরাশক্তি। ৪-০ গোলের বড় জয় তুলে নিয়ে গ্রুপের শীর্ষ দুইয়ে উঠে এলো জাপান। অন্যদিকে এই হারে বিশ্বকাপ থেকেই বিদায় নিতে হলো তিউনিসিয়াকে।   ম্যাচটা এমনিতেই স্পেশাল ছিল। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি ছিল ১০০০তম ম্যাচ। এই ম্যাচে দলটি করেছে ৪টি গোল, বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে কোনো এশিয়ান দল কখনো ৪টি গোল করতে পারেনি, জাপানই প্রথম দল যারা এ কীর্তি গড়ল।   এই ইতিহাস গড়ার পথে শুরু থেকেই দুর্দমনীয় ফুটবল খেলেছে জাপান। তিন মিনিটের মধ্যেই এগিয়ে যায় ব্লু সামুরাইরা। বাঁ পাশ থেকে আক্রমণে উঠে কেইতো নাকামুরার পাস বক্সের জটলার মধ্যে খুঁজে নেয় দাইচি কামাদাকে। তার পা ছুঁয়ে বল চলে যায় তিউনিসিয়ার জালে।   প্রথম গোল করার পরও থেমে থাকেনি জাপান। দ্বিতীয় গোলের জন্য একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে যায় তারা। নবম মিনিটের আক্রমণে ফল না এলেও দশম মিনিটে আবারও সুযোগ তৈরি হয়। কর্নার থেকে আসা বল তিউনিসিয়ার গোলরক্ষক ডাহমেন বিপজ্জনক এলাকা থেকে সরিয়ে দিলেও পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে পারেননি। এরপর তোমিয়াসুর জোরালো শট প্রায় গোললাইন পেরিয়েই গিয়েছিল, তবে দারুণ গোলকিপিংয়ে সেটা ঠেকিয়ে দেন ডাহমেন।   ৩১ মিনিটে অবশেষে দ্বিতীয় গোলের দেখা পায় জাপান। তিউনিসিয়ার রক্ষণের ভুলের সুযোগ নিয়ে গোল করেন আয়াসে উয়েদা। এই গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে জাপান। দুই গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় দলটি।   দ্বিতীয়ার্ধে আরও দুটি গোল যোগ করে জাপান। হাইড্রেশন ব্রেকের একটু আগে মাঝমাঠ থেকে আসা রক্ষণচেরা পাসে বল পেয়ে যান জুনইয়া ইতো। ডিফেন্ডারদের পেছনে ফেলে গোলরক্ষককে ফাঁকি দিতে কোনো সমস্যা হয়নি তার। এতে তৃতীয় গোলের দেখা পায় জাপান।   ৮৪ মিনিটে চতুর্থ গোলটি করেন উয়েদা নিজেই। ডান পাশ থেকে কাইশু সানোর ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে দুই তিউনিসিয়ান ডিফেন্ডার আর গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে পাঠান তিনি। নিজের ম্যাচে দ্বিতীয় গোলের পাশাপাশি দলকে এনে দেন চতুর্থ গোল।   ৪-০ গোলের দারুণ এক জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে জাপান। এই জয়ে গ্রুপের শীর্ষ দুইয়ে উঠে গিয়ে শেষ বত্রিশের আশা বাঁচিয়ে রাখল দলটি।   অন্যদিকে দুই ম্যাচে এক গোল আর দুই হার নিয়ে তিউনিসিয়ার বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হয়ে গেল এখানেই। দ্বিতীয় ম্যাচ শেষ হতেই নিশ্চিত হয়ে যায়, কোনোভাবেই আর তৃতীয় স্থানেও উঠতে পারবে না দলটি।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ২১, ২০২৬

২১ ঘণ্টার মধ্যে আবারও ব্রাজিলকে ধরে ফেললো জার্মানি

ছবি : সংগৃহীত

ফুটবলের দেশ ব্রাজিলে যেভাবে ছড়িয়ে পড়ছে ইসলাম

ছবি : সংগৃহীত

গোল বাতিলের পর যা বললেন এনদ্রিক, ছুঁয়ে গেল ভক্তদের মন

0 Comments