মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার কিউবাকে সতর্ক করে বলেছেন, তারা যেন অবিলম্বে চুক্তির আওতায় আসে, অন্যথায় তাদের অনির্দিষ্ট পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এখন থেকে হাভানায় ভেনেজুয়েলার তেল ও অর্থের প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাবে।
ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, কিউবার জন্য আর কোনো তেল বা অর্থ যাবে না— শূন্য! আমি জোরালোভাবে পরামর্শ দিচ্ছি, তারা যেন অবিলম্বে একটি চুক্তি করে।
মার্কিন বাহিনী কারাকাসে অভিযান চালিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়ার এক সপ্তাহ পর ট্রাম্প এ মন্তব্য করলেন। ভেনেজুয়েলায় মার্কিন বাহিনীর অভিযানের সময় ডজনখানেক ভেনেজুয়েলান ও কিউবান নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হন।
রোববার সকালে ট্রাম্প একটি বার্তা পুনঃপ্রচার করেন। এতে বলা হয়, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এখন কমিউনিস্ট-শাসিত কিউবার প্রেসিডেন্ট হতে পারেন। ট্রাম্প সেই পোস্টে বলেন, এটা আমার কাছে ভালোই শোনাচ্ছে!
এর কিছুক্ষণ পর নিজের পোস্টে ট্রাম্প বলেন, কিউবা বহু বছর ধরে ভেনেজুয়েলা থেকে বিপুল পরিমাণ তেল ও অর্থ পেয়েছে। এর বিনিময়ে কিউবা ভেনেজুয়েলার বিগত দু’জন একনায়কের ‘নিরাপত্তা সেবা’ দিয়েছে, কিন্তু আর নয়!
তিনি আরো বলেন, গত সপ্তাহের মার্কিন হামলায় অধিকাংশ কিউবান (মাদুরোর নিরাপত্তা রক্ষী) মারা গেছে। সেই গুণ্ডা ও চাঁদাবাজদের কাছ থেকে ভেনেজুয়েলার আর কোনো সুরক্ষার প্রয়োজন নেই। তারা বহু বছর ধরে তাদের জিম্মি করে রেখেছিল।
মার্কিন বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার আওতায় হাভানা ২০০০ সাল থেকে ক্রমশ ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর নির্ভরশীল হয়ে ওঠে, যা মাদুরোর পূর্বসূরি হুগো শাভেজের সঙ্গে করা এক চুক্তির অংশ হিসেবে সরবরাহ করা হতো।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ভারতের এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটের পাইলটের গাঁজা সেবনের পরীক্ষায় পজিটিভ ফল আসার পর এবার সংস্থাটির সব পাইলটের বাধ্যতামূলক ডোপ টেস্ট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়া ও এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস দুই সংস্থার পাইলটদেরই এই পরীক্ষার আওতায় আনা হচ্ছে। আজ থেকেই শুরু হচ্ছে এ পরীক্ষা। খবর এনডিটিভির। এয়ার ইন্ডিয়ার কর্মীদের পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রচলিত বিমান চলাচলবিধির বাইরে গিয়ে নিরাপত্তা ও পেশাদারিত্বের সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, তারা ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (ডিজিসিএ) সব ধরনের নিয়মকানুন আগে থেকেই মেনে চলছে। এসব নিয়ম ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো প্রধান বিমান চলাচল ব্যবস্থার বিধির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সব পাইলটের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছে সংস্থাটি। চিঠিতে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ কোনো মাদক বা বিধিবহির্ভূত ওষুধ পাইলটরা ব্যবহার করছেন কি না, তা শনাক্ত করতে সব পাইলটের পূর্ণাঙ্গ স্ক্রিনিং করা হবে। গুরগাঁওয়ের এয়ার ইন্ডিয়া একাডেমিতে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি, ফ্লাইট শেষে এয়ার ইন্ডিয়ার ব্রিফিং সেন্টার ও অফিসগুলোতেও ডোপ টেস্ট করা হবে। এয়ার ইন্ডিয়া জানায়, এ উদ্যোগের মাধ্যমে যাত্রী, অংশীদার ও সাধারণ মানুষের কাছে বিমান নিরাপত্তা ও পাইলটদের পেশাদারিত্বের বিষয়ে আস্থা আরও শক্তিশালী করতে চায় তারা। এয়ার ইন্ডিয়ার ফুকেট-দিল্লি ফ্লাইটের পাইলটের ডোপ টেস্ট পজিটিভ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই নতুন করে সব পাইলটের পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত এসেছে। গত ৪ আগস্ট ১৩৭ যাত্রী ও আটজন ক্রু নিয়ে ফুকেট থেকে দিল্লি যাচ্ছিল এয়ার ইন্ডিয়ার এআই-২৩৭৯ ফ্লাইটটি। ওড়িশার আকাশসীমায় থাকা অবস্থায় হঠাৎ প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায় বিমানটি। এতে অন্তত ২০ যাত্রী ও চারজন ক্রু সদস্য আহত হন। ঘটনার পর বিমানের প্রধান পাইলট সুদীপ বশিষ্ঠের মাদক পরীক্ষা করা হয়। গাঁজা বা মারিজুয়ানা শনাক্তের পরীক্ষায় তিনি দুবার পজিটিভ হয়েছেন। ঘটনা তদন্তের জন্য পাওয়া একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানটি হঠাৎ উচ্চতা হারানোর সময় পাইলট নিজের আসনে ছিলেন না। তখন কো-পাইলট বিমানটির নিয়ন্ত্রণে ছিলেন। পরে পাইলট কেবিনে গিয়ে আহত যাত্রীদের খোঁজ নেন। এ সময় তিনি যাত্রীদের তাকে বা বিমানটির ভিডিও ধারণ না করতে বলেছিলেন বলে সূত্রের বরাতে জানিয়েছে এনডিটিভি। দিল্লিতে বিমান অবতরণের পর পাইলটকে অস্থির অবস্থায় দেখা যায় এবং তাকে বসতে সহায়তা করতে হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি প্রস্রাবের নমুনা দেওয়ার সময়ও তদন্ত কর্মকর্তার সহায়তা নিতে হয়েছিল বলে জানা গেছে। এয়ার ইন্ডিয়ার অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট সেফটি রিপোর্টে পাইলট জানিয়েছেন, তিনি ঘুমের সমস্যার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ সেবন করছিলেন। ব্যক্তিগত কিছু পরিস্থিতির কারণে আগের কয়েক দিন ধরেই তার ঘুমের সমস্যা হচ্ছিল। ফ্লাইটের আগে লেওভারের সময়ও সহজে ঘুম আসছিল না। তাই ঘুমের মান ভালো করার জন্য হাঁটার মতো হালকা শারীরিক কর্মকাণ্ড করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। পাইলট আরও অভিযোগ করেন, তার দায়িত্বের সময়সূচি আইন অনুযায়ী নির্ধারিত বিশ্রামের সীমার মধ্যে থাকলেও দিনের বেলায় বিশ্রামের সুযোগ অনেক সময় এমনভাবে কমে যাচ্ছিল, যা পর্যাপ্ত পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ের তুলনায় কম। তবে এই ঘটনার পরই এয়ার ইন্ডিয়া সব পাইলটের জন্য বাধ্যতামূলক ডোপ টেস্ট চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংস্থাটির দাবি, এর মাধ্যমে বিমান নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ঝুঁকি বা সন্দেহের সুযোগ রাখতে চায় না তারা। সূত্র : এনডিটিভি
ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় শস্য রপ্তানি বন্দর ইজমাইলে রাতভর হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে বন্দরের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সেখানে আগুনও ছড়িয়ে পড়ে। এমন হামলার মধ্যেই রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র চেয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ইজমাইলের আঞ্চলিক প্রশাসন জানায়, রুশ হামলায় বন্দর অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং শহরের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। রোমানিয়া সীমান্তের কাছে দক্ষিণাঞ্চলীয় ওদেসা অঞ্চলে অবস্থিত ইজমাইল ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ শস্য ও অন্যান্য পণ্য রপ্তানি বন্দর। যুদ্ধের কারণে কৃষ্ণসাগর দিয়ে রপ্তানিতে বাধা তৈরি হওয়ার পর দানিউবের এই বন্দরটি ইউক্রেনের বাণিজ্যের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইজমাইলের কাছে হামলার ঘটনায় প্রতিবেশী ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রোমানিয়া সতর্কতামূলকভাবে দুটি যুদ্ধবিমান পাঠায়। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একটি আকাশযান প্রায় ১০ মিনিট রোমানিয়ার আকাশসীমায় অবস্থান করার পর ইউক্রেনের দিকে চলে যায়। রুশ হামলা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র চেয়ে জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার বাড়তে থাকা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান মজুতের অন্তত ৫ শতাংশ ইউক্রেনকে দেওয়া প্রয়োজন। সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মজুতের ১০ শতাংশ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র পেলে রাশিয়ার সব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকানো সম্ভব হবে। জেলেনস্কি বলেন, আমাদের কাছে ৫ শতাংশ বিক্রি করুন, আমরা শীত পার করতে পারব এবং মানুষের জীবন বাঁচাতে পারব। তারা যদি ১০ শতাংশ দিতে পারে, তাহলে আমরা রাশিয়ার সব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে পারব। আমার কাছে আছে ১ শতাংশ। ইউক্রেন বর্তমানে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বাধুনিক সংস্করণ পিএসি-৩ পাওয়ার জন্য চাপ দিয়ে আসছে। এই ক্ষেপণাস্ত্র রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম। তবে ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ায় ইউক্রেনে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহ কমে গেছে। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ড্রোন বা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় অনেক দ্রুতগতির এবং খাড়া গতিপথে লক্ষ্যবস্তুর দিকে এগিয়ে যায়। ফলে এগুলো প্রতিহত করা তুলনামূলকভাবে কঠিন। ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনীর মুখপাত্র ইউরি ইহনত জানিয়েছেন, শুধু জুলাই মাসেই রাশিয়া ইউক্রেনের দিকে ৪৫০টির বেশি বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এর অর্ধেকেরও বেশি ছিল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। তিনি আরও জানান, ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনী এখন থেকে প্রতিদিন কতগুলো রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত বা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে, সে তথ্য প্রকাশ করবে না। এর পরিবর্তে মাসভিত্তিক তথ্য প্রকাশ করা হবে। সূত্র : রয়টার্স
তুরস্ক সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গোপনে বিমান বদলের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে মার্কিন প্রেসিডেন্টদের অতীতের গোপন সফরগুলোর কথা সামনে এনেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রেসিডেন্টদের গোপন সফর নতুন কোনো বিষয় নয়। নিরাপত্তার কারণে এসব সফরের কথা আগে থেকে খুব সীমিতসংখ্যক কর্মকর্তা ও সাংবাদিককে জানানো হয়। তাদেরও তথ্য গোপন রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে ৮ জুলাই তুরস্ক থেকে ফেরার সময় ট্রাম্পের বিমান বদলের ঘটনা ছিল ব্যতিক্রম। নিরাপত্তা হুমকির কারণে ট্রাম্পকে নিয়মিত এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে গোপনে অন্য একটি সরকারি বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়। একটি ক্যাটারিং ট্রাক ব্যবহার করে এই বিমান বদলের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ট্রাম্পের সঙ্গে থাকা মন্ত্রিসভার সদস্য ও সাংবাদিকদের বেশির ভাগই বিষয়টি জানতেন না। তারা যে বিমানে ছিলেন, সেটি মূলত একটি বিভ্রান্তিমূলক বা ‘ডিকয়’ বিমান হিসেবে রাখা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশও ২০০৩ সালে গোপনে ইরাক সফর করেছিলেন। সেবার থ্যাংকসগিভিংয়ের দিন তিনি ইরাকের বাগদাদে মার্কিন সেনাদের সঙ্গে দেখা করতে যান। নিরাপত্তার কারণে বিমানের জানালার পর্দা বন্ধ রাখা হয় এবং সাংবাদিকদের ইলেকট্রনিক ডিভাইস সাময়িকভাবে নিয়ে নেওয়া হয়েছিল। ২০০০ সালে প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনও নিরাপত্তার কারণে ভারত থেকে পাকিস্তান যাওয়ার সময় নির্ধারিত বিমানের পরিবর্তে একটি ছোট সামরিক বিমানে গোপনে ইসলামাবাদে যান। ২০১৪ সালে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আফগানিস্তানের বাগরাম বিমানঘাঁটিতে আকস্মিক সফর করেন। সফরটি কয়েক সপ্তাহ ধরে গোপনে প্রস্তুত করা হয়েছিল এবং তিনি সেখানে পৌঁছানোর পর বিষয়টি প্রকাশ করা হয়। ২০১৮ সালের বড়দিনেও ট্রাম্প ও তার স্ত্রী মেলানিয়া ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের সঙ্গে দেখা করতে আকস্মিক সফর করেছিলেন। এটি ছিল ট্রাম্পের প্রথম সংঘাতপূর্ণ এলাকায় প্রেসিডেন্ট হিসেবে সফর।