অর্থনীতি

১০ জানুয়ারি পর্যন্ত রেমিট্যান্স প্রবাহ ৫৭.২ শতাংশ বৃদ্ধি

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ১১, ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারির প্রথম ১০ দিনে রেমিট্যান্স প্রবাহ ৫৭.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ১২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।

গত বছর একই সময়ে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল ৭১৭ মিলিয়ন ডলার।

চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রবাসীরা ১৭ হাজার ৩৯২ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১৪ হাজার ৪৯৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অর্থনীতি

আরও দেখুন
সিটি গ্রুপকে রক্ষা: ২৬,৬০০ কোটি টাকা ঋণ পুনর্গঠনের উদ্যোগ ৩৬ ব্যাংকের

দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী সিটি গ্রুপকে সচল রাখতে এবং এর ২৬,৬০০ কোটি টাকারও বেশি বকেয়া ঋণ—যৌথভাবে পুনর্গঠনের কথা বিবেচনা করছে দুটি বিদেশি ব্যাংকসহ মোট ৩৬টি ব্যাংক। বর্তমানে বড় ধরনের আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এই শিল্পগোষ্ঠী।     এই সিন্ডিকেটেড পুনর্গঠন কাঠামো চূড়ান্ত করতে ব্যাংকগুলোর আজ হোটেল সোনারগাঁওয়ে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো গ্রুপটির ব্যবসায়িক কার্যক্রম সচল রাখা এবং ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের প্রভিশনিংয়ের (নিরাপত্তা সঞ্চিতি) চাপ এড়ানো। ব্যাংকিং খাতের সূত্রগুলো জানায়, ঋণগুলোকে এখনই খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত না করে—এই প্রস্তাবের আওতায় তা পুনর্গঠন করা হবে এবং ঋণ পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানো হবে।     সিটি গ্রুপের এই ঋণগুলো এখনও শ্রেণীকৃত করা হয়নি। ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তারা আজকের বৈঠকের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছেন। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় আগে প্রতিষ্ঠিত এই শিল্পগোষ্ঠীটির বার্ষিক আয় প্রায় ৩২,০০০ কোটি টাকা এবং এখানে প্রায় ২৫,০০০ কর্মী কর্মরত আছেন।     অর্থ কোথায় যাচ্ছে, কীভাবে খরচ হচ্ছে এবং কী পরিমাণ বিক্রি হচ্ছে—সেসব বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সিটি গ্রুপের পরিচালনা পর্ষদে (বোর্ড) ব্যাংকগুলোর প্রতিনিধিরা থাকবেন। যদি ৩৬টি ব্যাংকই একমত হয়, তবে তারা পর্ষদে বসার জন্য দুই বা তিনজন প্রতিনিধি মনোনীত করবে। এটি মূলত বৈশ্বিক ঋণ পুনর্গঠন মডেল এবং 'ওয়াটারফল মেকানিজম' অনুসরণ করে করা হচ্ছে।     এই প্রক্রিয়ায় ৩৬টি ব্যাংকের যৌথ মালিকানায় একটি কেন্দ্রীয় এসক্রো অ্যাকাউন্ট থাকবে। ওয়াটারফল মেকানিজমের আওতায়, সমস্ত নগদ অর্থ বা ক্যাশ ফ্লো এই অ্যাকাউন্টে জমা হবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি ১০০ টাকার পণ্য বিক্রি হয়, তবে সেই টাকা প্রথমে সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে থাকা এসক্রো অ্যাকাউন্টে জমা হবে। এরপর সেই ১০০ টাকা থেকে ৮০ টাকা সিটি গ্রুপকে চলতি মূলধন হিসেবে ফেরত দেওয়া হবে এবং বাকি ২০ টাকা ঋণ পরিশোধের জন্য বরাদ্দ রাখা হবে।     অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)-এর চেয়ারম্যান এবং সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিনের উদ্যোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানও এই প্রস্তাবিত সমাধানের সাথে একমত পোষণ করেছেন। তবে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মাসরুর আরেফিন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।     এর আগে মে মাসে বৈদেশিক মুদ্রার লোকসান, ব্যাংকিং খাতের সংকটের কারণে চলতি মূলধনের অপ্রাপ্যতা এবং গ্যাস সংযোগে বিলম্বের কারণে ছয়টি প্রকল্প স্থবির হয়ে পড়ায়—তীব্র আর্থিক চাপের মুখে পড়ে সিটি গ্রুপ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে নীতিগত সহায়তা চেয়েছিল। এরপর গ্রুপটিকে সচল রাখার একটি সমাধান বের করতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেন গভর্নর, যাতে ব্যাংকগুলোর ওপর বাড়তি প্রভিশনের বোঝা না চাপে।     উদ্ধার পরিকল্পনার রোডম্যাপ     নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, সুবিধাগুলো চালু রাখতে এবং ব্যাংকগুলোকে ঋণের প্রভিশনের বোঝা থেকে বাঁচাতে চলতি বছরের ডিসেম্বর বা তার পরবর্তী সময় পর্যন্ত ঋণগুলো খেলাপি না করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে বিশেষ অনুমোদন চাওয়া হবে।     প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, একটি স্বতন্ত্র মনিটরিং কমিটি গঠন করা হবে এবং এতে বাইরের পুনর্গঠন বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করা হবে।     কৌশলগত রোডম্যাপের মধ্যে রয়েছে, নন-কোর (মূল ব্যবসার বাইরে) ব্যবসা এবং সম্পদ বিক্রি করা। কারণ এর মধ্যে কিছু সম্পদ ব্যালেন্স শিটের ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এগুলো থেকে কোনো রিটার্ন বা আয় আসছে না। গ্রুপটির অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইকোনমিক জোন) এবং হাই-টেক পার্ক প্রকল্পগুলোও বিক্রি করে দেওয়া হতে পারে। ব্যাংকাররা দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানিয়েছেন, তারা এগুলোর জন্য ক্রেতা খুঁজবেন। ক্রেতারা ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে কিছু বিষয়ে নিশ্চয়তা চাইতে পারে এবং ব্যাংক সেই অনুরোধগুলো মূল্যায়ন করবে।     তারা জানান, বাংলাদেশে এই প্রথম ব্যাংকগুলো একটি সংকটাপন্ন করপোরেট অ্যাকাউন্টকে এসক্রো ব্যবস্থা এবং সমন্বিত তদারকির মাধ্যমে যৌথভাবে পুনর্গঠন করছে।     একটি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী বলেন, "শেষ পর্যন্ত ফলাফল কী হবে আমরা জানি না, তবে আমরা এই পদ্ধতিতেই এগোচ্ছি। কোনো একটি ব্যাংক যদি এককভাবে পদক্ষেপ নেয়, তবে তা ক্ষতির কারণ হতে পারে। কিন্তু সব ব্যাংক একসাথে কাজ করলে সফলতার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।"     যে কারণে আর্থিক সংকটে সিটি গ্রুপ     ২০২৩ সালে সিটি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ফজলুর রহমানের মৃত্যুর পর সমস্যার শুরু হয়। ব্যবস্থাপনায় একক নিয়ন্ত্রণের অভাবে গ্রুপটি কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে।     অন্যদিকে, মূলধন ঘাটতি এবং একীভূতকরণসহ (মার্জার) ব্যাংকিং খাতের চলমান সংকটের কারণে অধিকাংশ ব্যাংক গ্রুপটিকে চলতি মূলধন জোগাতে অপারগতা দেখায়, যা কাঁচামাল আমদানিকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে এবং বিক্রি এক-তৃতীয়াংশের নিচে নামিয়ে আনে। তদুপরি, গ্রুপটি বড় ধরনের বৈদেশিক মুদ্রার লোকসানের সম্মুখীন হয় এবং টাকার অবমূল্যায়নের কারণে তাদের এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) সীমাও কমে যায়।     দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের সাথে আলাপকালে ফজলুর রহমানের ছেলে ও গ্রুপটির বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. হাসান আর্থিক সংকটের জন্য মূলত বৈদেশিক মুদ্রার লোকসান, ব্যাংকের সমর্থন কমে যাওয়া এবং টাকার তীব্র অবমূল্যায়নকে দায়ী করেন, যা তাদের আমদানি সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, "২০২২ সাল থেকে আমরা ২,৫০০ কোটি টাকারও বেশি বৈদেশিক মুদ্রার লোকসান দিয়েছি, যা আমাদের ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।"     তিনি জানান, ব্যাংকিং খাতের সংকট তাদের কার্যক্রমকে আরও সংকুচিত করেছে, কারণ বেশ কয়েকটি ব্যাংক তাদের সহায়তা কমিয়ে দিয়েছে বা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। অন্যদিকে বিদেশি সরবরাহকারীরা কিছু স্থানীয় ব্যাংকের ইস্যু করা এলসি গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। তাঁর মতে, টাকার অবমূল্যায়ন এবং ঋণের সীমা সংকুচিত হওয়ায়, গ্রুপটির ক্রয়ক্ষমতা প্রায় ৯০ কোটি (৯০০ মিলিয়ন) ডলার কমে গেছে। "কার্যত আমরা প্রায় ৯০ কোটি ডলারের আমদানি সক্ষমতা হারিয়েছি" –বলেন তিনি।     তিনি বলেন, যখন ডলারের দাম বেড়ে গেল এবং ব্যাংকগুলো ঋণের সীমা কমিয়ে দিল, তখন গ্রুপের আমদানি সক্ষমতা নাটকীয়ভাবে কমে যায়। "পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় যখন বেশ কয়েকটি ব্যাংক বড় করপোরেট গ্রাহকদের সহায়তা দিতে কার্যত অক্ষম হয়ে পড়ে। এক্সিম ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক এবং আল-আরাফাহ ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের কাছ থেকে বড় অংকের টাকা ফেরত পাওয়ার পরও আগের মতো সহায়তা দেয়নি।"     "যেমন ইসলামী ব্যাংকের সাথে আমাদের প্রায় ১,৪০০ কোটি টাকার একটি রিভলভিং ক্রেডিট লিমিট ছিল। ৫ আগস্টের পর সেই সুবিধা কার্যত ভেঙে পড়ে। বিদেশি সরবরাহকারী এবং আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলো কিছু স্থানীয় ব্যাংকের ইস্যু করা এলসি গ্রহণ করতে রাজি ছিল না, কারণ ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আস্থা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।"     "আমরা এক্সিম ব্যাংককেও প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকা পরিশোধ করেছি, কিন্তু আগে যে সমর্থন পেতাম তা আর পাওয়া যায়নি। অনেক ক্ষেত্রে বিদেশি ব্যাংকগুলো নির্দিষ্ট কিছু বাংলাদেশি ব্যাংকের এলসি কনফার্ম করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। যার ফলে কাগজে-কলমে একটি ঋণ সুবিধা থাকলেও, বাস্তবে তার কোনো কার্যকর মূল্য ছিল না। কারণ আমাদের সাপ্লায়াররা (সরবরাহকারীরা) সেটা গ্রহণ করত না।"     মো. হাসান বলেন, "এক সময় ব্যাংকগুলোতে আমাদের প্রায় ২৫,০০০ কোটি টাকার ঋণ সীমা বা ব্যাংকিং লিমিট ছিল। ডলারের বিনিময় হার যখন ৮৫ টাকা ছিল, তখন এর ক্রয়ক্ষমতা ছিল প্রায় ৩০০ কোটি ডলার। কিন্তু ডলারের দাম ১২৫ টাকা হওয়ায়, সেই ক্রয়ক্ষমতা কমে দাঁড়িয়েছে ২১০ কোটি ডলারে। এর মানে আমরা প্রায় ৯০ কোটি ডলারের আমদানি সক্ষমতা হারিয়েছি।"     তিনি জানান, বর্তমানে মাত্র ১০ থেকে ১২টি ব্যাংক কার্যকর সহায়তা দিতে সক্ষম এবং তাদেরও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।     "আমরা ব্যাংকের অর্থায়নের বিকল্প হিসেবে জিরো-কুপন বন্ড ছাড়ার পথও খুঁজেছিলাম। আমরা প্রায় ১,৩০০ কোটি টাকার একটি বন্ডের জন্য আবেদন করেছিলাম, কিন্তু অনুমোদন পেতেই প্রায় ১৪ মাস সময় লেগে যায়। এই ধরনের বিলম্ব আর্থিক পরিকল্পনাকে অত্যন্ত কঠিন করে তোলে। অনুমোদন যখন আসে ততক্ষণে বাজারের পরিস্থিতি বদলে গেছে এবং সুদের হার অনেক বেড়ে গেছে।"     "শুরুতে আমরা অর্থায়নের খরচ ১০ শতাংশের কাছাকাছি আশা করেছিলাম, কিন্তু বন্ড অনুমোদিত হওয়ার সময় বাজারের সুদের হার ১২ থেকে ১৩ শতাংশে উঠে যায়। যেহেতু সরকারি সিকিউরিটিজগুলোতেই ১২ থেকে সাড়ে ১২ শতাংশ রিটার্ন দেওয়া হচ্ছিল, তাই বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে একটি করপোরেট বন্ডের প্রায় ১৫ শতাংশ রেট অফার করার প্রয়োজন হতো। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যবসা করা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এই ধরনের অর্থায়নের খরচ মোটেও টেকসই নয়। আমাদের এখনকার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো চলতি মূলধন।"     সিটি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, মুন্সীগঞ্জে ছয়টি শিল্প প্রকল্পের গ্যাস সংযোগে বিলম্বের কারণে সিটি গ্রুপের সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। এর ফলে প্রায় ১৪,০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ অলস পড়ে রয়েছে, অথচ এর বিপরীতে অর্থায়নের খরচ বা সুদ ক্রমাগত জমা হচ্ছে। "গ্যাস সংযোগ না পাওয়ায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত কিন্তু চালু করা যাচ্ছে না এমন প্রকল্পগুলোর কারণে সুদ, স্থায়ী খরচ, বেতন এবং অন্যান্য ব্যয় মিলিয়ে আমাদের প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫ কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে।"     "আমরা সিকিউরিটি ডিপোজিট বা জামানত হিসেবে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা জমা দিয়েছি এবং গ্যাস অবকাঠামো তৈরিতে নিজেরাই বিপুল বিনিয়োগ করেছি। আইডিয়ালি সরকারের এই অবকাঠামোর বেশিরভাগ তৈরি করার কথা ছিল। প্রক্রিয়াটিকে দ্রুততর করতে আমরা নিজস্ব খরচে পাইপলাইন ও সংশ্লিষ্ট সুযোগ-সুবিধা নির্মাণ করেছি, কিন্তু তবুও আমরা গ্যাস পাইনি" –তিনি যোগ করেন।     তিনি আরও বলেন, "আমরা যখন এই বিনিয়োগগুলোর পরিকল্পনা করেছিলাম, তখন অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে ট্যাক্স হলিডে বা কর অবকাশসহ সরকারি বিভিন্ন প্রণোদনা চালু ছিল। কিন্তু আমরা বিনিয়োগ করার পর নীতিগত পরিবর্তনের মাধ্যমে চিনি, ভোজ্যতেল, সিমেন্ট এবং স্টিলের মতো খাতগুলোকে সেই সুবিধা থেকে বাদ দেওয়া হয়। এই ধরনের নীতিগত অসঙ্গতি বিনিয়োগকারীদের জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি করে।"     "এই প্রকল্পগুলোতে আমাদের বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও যুক্ত আছেন। যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক একটি অংশীদারের সিমেন্ট ও কাগজ প্রকল্পসহ দুটি যৌথ উদ্যোগে ৪০ শতাংশ অংশীদারিত্ব রয়েছে। এসব বিনিয়োগকারী কিছু প্রতিশ্রুতি এবং প্রত্যাশার ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশে এসেছিলেন। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে কার্যক্রম শুরু না হওয়ায়, তারা স্বাভাবিকভাবেই এখন বিকল্প হিসেবে এখান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার (এক্সিট অপশন) বিষয়ে আলোচনা করছেন।"     হাসান বলেন, গ্রুপটি ব্যাংকগুলোর কাছে ঋণ পুনর্গঠনের আবেদন করেছে, তবে কেবল পুনর্গঠনই কোনো সমাধান নয়। "কারখানাগুলো অবশ্যই চালু হতে হবে। চলতি মূলধন এবং জ্বালানি সরবরাহ ছাড়া— ঋণ পুনর্গঠন করা হলেও টাকা পরিশোধ করা অসম্ভব।"     গ্রুপটি এখন অভ্যন্তরীণভাবে তহবিল সংগ্রহের জন্য শুরুতে তাদের নন-কোর সম্পদ, যেমন জমি এবং অন্যান্য আয়হীন সম্পদ বিক্রির কথা বিবেচনা করছে। "তবে আমাদের ব্যবসাগুলো যেহেতু আমদানিনির্ভর, তাই ব্যাংকের সমর্থন অপরিহার্য" –বলেন তিনি।     "উদ্বেগের বিষয় হলো, যদি বড় বড় শিল্পগোষ্ঠী মারাত্মক সংকটের মুখে পড়ে বা খেলাপি হয়ে যায়, তবে এর প্রভাব কেবল ওই কোম্পানিগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত, আন্তর্জাতিক সুনাম, সার্বভৌম ঝুঁকির ধারণা এবং ভবিষ্যতের অর্থায়নের খরচকে প্রভাবিত করে। দেশের ঝুঁকি বেড়ে গেলে বিদেশি সরবরাহকারী ও ঋণদাতারা উচ্চ প্রিমিয়াম দাবি করে, যার ফলে আমদানি আরও ব্যয়বহুল হয় এবং শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের খরচ বেড়ে যায়।"     "সামগ্রিকভাবে আমাদের বার্তা একদম পরিষ্কার: প্রকল্পগুলো প্রায় সম্পন্ন, কারখানাগুলো তৈরি, বাজারও রয়েছে এবং বিনিয়োগকারীরাও প্রস্তুত। এখন যা প্রয়োজন তা হলো নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ, পর্যাপ্ত চলতি মূলধন সহায়তা এবং নীতিমালার ধারাবাহিক বাস্তবায়ন" —তিনি যোগ করেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করে নতুন নির্দেশনা

ছবি: সংগৃহীত

অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণে নতুন মডেলের আহ্বান তিতুমীরের

ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষার্থী ব্যাংক হিসাব বাড়ছে দ্রুত: শীর্ষে ইসলামী ব্যাংক, দ্বিতীয় ডাচ্–বাংলা ব্যাংক

ছবি: সংগৃহীত
ইসলামী ব্যাংককে আরও ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

তারল্য সংকট মোকাবিলা এবং গ্রাহকদের স্বাভাবিক ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে আরও ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে গত তিন দিনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ব্যাংকটির মোট প্রাপ্ত সহায়তার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।   দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির তারল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ধারাবাহিক আর্থিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বুধবার (১৭ জুন) ব্যাংকটিকে আরও ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে।   সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে তারল্য সংকটের কারণে গ্রাহকদের লেনদেন কার্যক্রমে চাপ তৈরি হওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সহায়তা দিয়েছে। নতুন এ অর্থসহায়তাসহ গত তিন দিনে ইসলামী ব্যাংক মোট ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পেয়েছে।   ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ঋণ অনিয়ম, খেলাপি ঋণের উচ্চ হার এবং আমানতকারীদের আস্থাহীনতার কারণে ইসলামী ব্যাংক তারল্য সংকটে পড়ে। এর ফলে অর্থ উত্তোলনসহ বিভিন্ন ব্যাংকিং সেবায় চাপ সৃষ্টি হয়।   এদিকে ব্যাংকটির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করেছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। বৈঠক শেষে সংগঠনটি সাত দফা দাবি উত্থাপন করে। তাদের দাবির মধ্যে অন্যতম ছিল মালিকানা কাঠামোয় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বিতর্কিত শেয়ার মালিকানার বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।   গ্রাহক ফোরামের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, ব্যাংকটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানের বিষয়ে ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নতুন পরিচালনা পর্ষদ আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করে নেবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে।   এ ছাড়া ব্যাংক পরিচালনায় রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেও দাবি করেছে সংগঠনটি।   উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মালিকানা ও পরিচালনায় বড় পরিবর্তনের পর ইসলামী ব্যাংক বিভিন্ন বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসে। পরবর্তী সময়ে ঋণ বিতরণ, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে ব্যাংকটি ব্যাপক আলোচনায় আসে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন এবং আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও দীর্ঘদিনের সংকট কাটিয়ে উঠতে এখনও চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।   বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংকটির আর্থিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে শুধু তারল্য সহায়তা নয়, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং আমানতকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

আক্তারুজ্জামান জুন ১৮, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

বেসরকারির চেয়ে সরকারি ব্যাংকে আমানত বাড়ছে বেশি, কারণ কী?

ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী ব্যাংক সংস্কারে ৭ দাবিতে গভর্নরের সমর্থন

শেয়ারবাজারে লেনদেনের সময় দশ মিনিট বাড়লো

ছবি: সংগৃহীত
ইসলামী ব্যাংক নিয়ে ৭ দফা দাবিতে গভর্নরের ইতিবাচক সাড়া: সচেতন গ্রাহক ফোরাম

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে ঘিরে উত্থাপিত সাত দফা দাবির বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন বলে দাবি করেছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম।   বুধবার (১৭ জুন) সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকে গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে ফোরামের নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সংগঠনের আহ্বায়ক নুর উন নবী সাংবাদিকদের জানান, তাদের উত্থাপিত সাত দফা দাবির বিষয়ে গভর্নর ইতিবাচক অবস্থান ব্যক্ত করেছেন।   পরে সংগঠনের সদস্যসচিব মোতাছিম বিল্লাহ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ইসলামী ব্যাংকের ভুক্তভোগী গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের পক্ষ থেকে সম্প্রতি গভর্নরের কাছে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়। সেই স্মারকলিপির প্রেক্ষিতেই এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে।   নুর উন নবী বলেন, ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও পরিচালনা পর্ষদে এমন ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে হবে, যাদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম বা নৈতিক প্রশ্ন নেই। একই সঙ্গে পরিচালনা পর্ষদকে পেশাদার, সৎ, দক্ষ এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।   সংগঠনটির মতে, তাদের সাত দফা দাবি বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য ও স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হলে গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধার হবে এবং ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।   গ্রাহক ফোরামের সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—অবিলম্বে একটি স্বাধীন ও পেশাদার পরিচালনা পর্ষদ গঠন, ব্যাংকের প্রকৃত মালিকদের কাছে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া, অতীতের আর্থিক অনিয়ম ও অর্থ লুটের ঘটনার বিচার নিশ্চিত করা, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার, ব্যাংকিং খাতের বিতর্কিত ব্যক্তিদের পরিচালক হওয়ার সুযোগ বন্ধে আইন সংশোধন এবং ব্যাংককে ঘিরে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।   ফোরামের নেতারা আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের প্রস্তাবগুলো বিবেচনায় নিয়ে ইসলামী ব্যাংকের সুশাসন ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

আক্তারুজ্জামান জুন ১৭, ২০২৬

৪ লাখ কোটি টাকার খেলাপি ঋণে পুনঃতফসিল সুবিধা

৭০৪ কোটি টাকার সার ও কাঁচামাল কিনছে সরকার

ছবি: সংগৃহীত

জুনে আরও চার কার্গো এলএনজি আমদানি করবে সরকার

0 Comments