টেলিকম ও প্রযুক্তি

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম: শিশুর সাইবার হয়রানি বাড়ছে

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

শিশুদের সাইবার হয়রানির শিকার হওয়ার ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। ন্যাশনাল চাইল্ড হেল্পলাইনের তথ্য বলছে, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে শিশুদের সাইবার হয়রানির শিকার হওয়ার ঘটনা বেড়েছে ৪২ শতাংশ, যা শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাতে মোবাইল ফোন পেয়ে শিশুরা অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে উঠছে। আবার কখনো কখনো অভিভাবকেরাই পড়াশোনা, যোগাযোগ কিংবা বিনোদনের জন্য বয়স বাড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুর অ্যাকাউন্ট খুলে সাইবার বিপদের ঝুঁকি বাড়াচ্ছেন। এ জন্য অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও তদারকির পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত অপরাধ তদন্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

একটি বহুজাতিক সংস্থার কর্মকর্তা জানান, তিনি করোনাকালে ২০২০ সালে অনলাইন ক্লাসের জন্য বয়স বাড়িয়ে মেয়েকে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে দিয়েছিলেন। তখন মেয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ত। পরে ওই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মেয়ের সঙ্গে সমবয়সী পরিচয় দেওয়া অপরিচিত এক ব্যক্তির বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে কৌশলে ওই ব্যক্তি মেয়ের পাসওয়ার্ড জেনে অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নেয়। আপত্তিকর ছবি, ভিডিও ধারণ করে মেয়েকে ব্ল্যাকমেল করতে শুরু করে সে। ভয়ে-আতঙ্কে মেয়েটি প্রথমে কিছু জানায়নি। মেধাবী মেয়েটি একপর্যায়ে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পড়াশোনা থমকে যায়। পরে দীর্ঘদিন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাউন্সেলিংয়ে থেকে সে স্বাভাবিক হয়েছে। মাধ্যমিক পাস করেছে। কিন্তু এখনো মাঝে মাঝে পুরোনো ট্রমা ফিরে আসে।

 

ওই মেয়ের মতো অসংখ্য শিশু এমন ঘটনার শিকার হয়ে বিভীষিকাময় সময় পার করছে। শিশুদের ক্রমবর্ধমান সাইবার হয়রানির বিষয়টি উঠে এসেছে সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত ন্যাশনাল চাইল্ড হেল্পলাইন ১০৯৮-এর তথ্যেও। এই তথ্য বলছে, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর হেল্পলাইনে শিশুদের সাইবার হয়রানি-সংক্রান্ত কল আসার পরিমাণ ৪২ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৫ সালে এই হেল্পলাইনে মোট ৭ লাখ ৬৯ হাজার ৮৬১টি কল গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে ৫৯৭টি ছিল শিশুদের সাইবার হয়রানি-সংক্রান্ত। এসব কলের মধ্যে ১৭৯টি ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে হেল্পলাইনে আসা ৫ লাখ ২৭ হাজার ৯৫৪টি কলের মধ্যে ৫৬৫টি ছিল সাইবার হয়রানি-সংক্রান্ত। এসব ঘটনায় ১৭০টি ক্ষেত্রে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

 

 

চাইল্ড হেল্পলাইনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর সাইবার হয়রানি বিষয়ে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৫০টি কল এসেছিল। চলতি বছর প্রতি মাসে গড়ে ৭০টির বেশি কল এসেছে।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এগুলো শুধু হেল্পলাইনে আসা ঘটনার হিসাব। এর বাইরেও শিশুদের সাইবার হয়রানির অনেক বেশি ঘটনা ঘটছে, যা হেল্পলাইনে না জানানোয় সামনে আসেনি।

 

হেল্পলাইন ১০৯৮-এর ব্যবস্থাপক চৌধুরী মো. মোহায়মেন গত শনিবার আজকের পত্রিকাকে বলেন, পরিবারগুলো ভেঙে ছোট হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের বদলে শিশুরা অনলাইনে অপরিচিত মানুষের সংস্পর্শে আসছে। অথচ কে প্রকৃত পরিচয়ে যোগাযোগ করছে, আর কে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করছে, তা বোঝার ক্ষমতা তাদের সব সময় থাকে না। অপরাধীরা অনেক সময় শিশুর সমবয়সী পরিচয় দিয়ে বন্ধুত্ব গড়ে তোলে। পরে ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও কিংবা তথ্য সংগ্রহ করে সেগুলো দিয়ে ব্ল্যাকমেল করার চেষ্টা করতে পারে। তাই সন্তানের অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়ার পর কারা তার বন্ধু হচ্ছে, কী ধরনের বার্তা আসছে এবং কেউ ব্যক্তিগত তথ্য চাইছে কি না, তা নিয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকা জরুরি।

 

ফেসবুক, টিকটকসহ কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৩ বছরের কম বয়সে অ্যাকাউন্ট করা যায় না। কিন্তু অনেকে বয়স বাড়িয়ে অ্যাকাউন্ট খোলে। এসব অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ও সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর সূত্র ধরে শিশুদের ঘর ছাড়ার ঘটনা মাঝে মাঝেই গণমাধ্যমে আসছে। সম্প্রতি কুমিল্লার পঞ্চম শ্রেণিপড়ুয়া তিন শিশু তৃতীয় শ্রেণিপড়ুয়া এক শিশুকে নিয়ে ঘর ছেড়েছিল। পরে তাদের হবিগঞ্জ থেকে উদ্ধার করা হয়।

 

কুমিল্লারই সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীর মোবাইল ফোনে এক তরুণের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে কক্সবাজারে যাওয়া এবং বাড়ি ফেরার পথে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হওয়ার ঘটনা ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি করে।

 

বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশে সাইবার নিরাপত্তাব্যবস্থা ব্যবহার করা হয় না। ইন্টারনেট সেবাদাতা (আইএসপি) প্রতিষ্ঠানগুলো প্যারেন্টাল গাইডলাইন মেনে চলে না। ফলে শিশুরা কার্টুন দেখার সময় বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম স্ক্রল করার সময় প্রাপ্তবয়স্কদের কনটেন্ট চলে আসতে পারে। এমন অভিজ্ঞতার শিকার হচ্ছে অনেক শিশু। অনেকে সেগুলোতে আসক্ত হচ্ছে। অনেক সময় এগুলো তাদের বিপদ ডেকে আনছে।

 

২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাসে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ১০০টি পরিবারের ওপর সমীক্ষা চালায় বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন। ওই সমীক্ষায় দেখা যায়, দুই থেকে পাঁচ বছরের শিশুদের মধ্যে ৯৫ শতাংশ মোবাইল ফোনে আসক্ত। তার মধ্যে কার্টুন এবং ভিডিও গেম দেখে প্রায় ৯৫ শতাংশ। টিকটক দেখে প্রায় ৫০ শতাংশ শিশু।

 

২০১৯ সালে ইউনিসেফ বাংলাদেশ ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী ১ হাজার ২৮১ শিশুর ওপর জরিপ করে। এই জরিপে অংশ নেওয়া ৩২ শতাংশ শিশু অনলাইনে সাইবার বুলিং, সহিংসতা বা হয়রানির শিকার হওয়ার কথা জানায়। ২৫ শতাংশ শিশু ১১ বছর বয়সের আগেই ডিজিটাল জগতে প্রবেশের কথা জানিয়েছিল। একই জরিপে ৭০ শতাংশ ছেলে ও ৪৪ শতাংশ মেয়ে অনলাইনে অপরিচিত ব্যক্তির বন্ধুত্বের অনুরোধ গ্রহণ করার কথা জানায়।

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে সাইবার বুলিং, সহিংসতা ও হয়রানির শিকার শিশুর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়েছে। অনেক বাবা-মা সন্তানের জন্মদিন, স্কুলে যাওয়ার ছবি, পুরস্কার গ্রহণ, ঘুরতে যাওয়া কিংবা দৈনন্দিন জীবনের নানা ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। এই প্রবণতাও পরে শিশুটিকে বিপদে ফেলতে পারে। সেই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রসার শিশুর এই ঝুঁকি আরও বাড়াচ্ছে।

 

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা গত শনিবার বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে থাকা সাধারণ পারিবারিক ছবিও এআই ব্যবহার করে যৌন নিপীড়নমূলক ছবি বা ভিডিওতে রূপান্তর করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইন্টারনেট ওয়াচ ফাউন্ডেশন (আইডব্লিউএফ) ২০২৫ সালে এমন ৩ হাজার ৪৪০টি ভিডিও শনাক্ত করেছে। যেখানে ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ১৩টি। তিনি বলেন, অভিভাবকদের প্রথমে বুঝতে হবে, শিশু কোনো কনটেন্ট নয়। অপ্রয়োজনে শিশুর নামে প্রকাশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট খোলা উচিত নয়।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের সাইবার হয়রানি থেকে রক্ষা করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট ব্যক্তিগত রাখা, অনুসারীদের তালিকা নিয়মিত যাচাই করা, শক্তিশালী ও আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার এবং দ্বিস্তরীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু রাখা জরুরি। শিশুদেরও অনলাইনে অপরিচিত ব্যক্তির পাঠানো সংযোগ বা লিংকে প্রবেশ, উপহার দেওয়ার প্রলোভন, ভিডিও কলে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব, গোপনে কথোপকথন চালানোর অনুরোধ কিংবা ব্যক্তিগত ছবি চাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করতে হবে। কোনো অনলাইন যোগাযোগে অস্বস্তি বোধ করলে বা কেউ ভয় দেখালে যেন তারা নির্ভয়ে অভিভাবককে জানাতে পারে, সেই পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।

 

শিশু সুরক্ষায় কাজ করা সংগঠন ‘শিশুরাই সব’-এর আহ্বায়ক লায়লা খন্দকার বলেন, সন্তানের মোবাইল ফোন নিয়মিত পরীক্ষা করা কিংবা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ইন্টারনেট বন্ধ রেখে অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় না। শিশুকে অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্যের গুরুত্ব, অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের ঝুঁকি এবং হয়রানির শিকার হলে করণীয় সম্পর্কে শেখানোও জরুরি। অনলাইনে কোনো ছবি বা তথ্যের অপব্যবহার হলে তাড়াহুড়ো করে সব মুছে না ফেলে প্রথমে সংশ্লিষ্ট লিংক, ব্যবহারকারীর নাম, বার্তা, স্ক্রিনশট, ঘটনার সময় এবং মূল ফাইল সংরক্ষণ করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কর্তৃপক্ষ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে জানানো উচিত। অভিভাবকদের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোরও এ বিষয়ে সচেতন হওয়া উচিত।

 

ডিজিটালি রাইট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিরাজ আহমেদ চৌধুরী বলেন, শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাকাউন্ট খোলা নিষিদ্ধ করা কোনো সমাধান নয়। এ জন্য নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজন ব্যাপক জনসচেতনতা। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সচেতনতা ও তদারকির পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত অপরাধ তদন্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে স্কুলপর্যায় থেকে অনলাইন নিরাপত্তাবিষয়ক শিক্ষা পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে। শিশুদের অনলাইন সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পরিবার, সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

টেলিকম ও প্রযুক্তি

আরও দেখুন
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম: শিশুর সাইবার হয়রানি বাড়ছে

শিশুদের সাইবার হয়রানির শিকার হওয়ার ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। ন্যাশনাল চাইল্ড হেল্পলাইনের তথ্য বলছে, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে শিশুদের সাইবার হয়রানির শিকার হওয়ার ঘটনা বেড়েছে ৪২ শতাংশ, যা শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাতে মোবাইল ফোন পেয়ে শিশুরা অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে উঠছে। আবার কখনো কখনো অভিভাবকেরাই পড়াশোনা, যোগাযোগ কিংবা বিনোদনের জন্য বয়স বাড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুর অ্যাকাউন্ট খুলে সাইবার বিপদের ঝুঁকি বাড়াচ্ছেন। এ জন্য অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও তদারকির পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত অপরাধ তদন্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।   একটি বহুজাতিক সংস্থার কর্মকর্তা জানান, তিনি করোনাকালে ২০২০ সালে অনলাইন ক্লাসের জন্য বয়স বাড়িয়ে মেয়েকে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে দিয়েছিলেন। তখন মেয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ত। পরে ওই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মেয়ের সঙ্গে সমবয়সী পরিচয় দেওয়া অপরিচিত এক ব্যক্তির বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে কৌশলে ওই ব্যক্তি মেয়ের পাসওয়ার্ড জেনে অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নেয়। আপত্তিকর ছবি, ভিডিও ধারণ করে মেয়েকে ব্ল্যাকমেল করতে শুরু করে সে। ভয়ে-আতঙ্কে মেয়েটি প্রথমে কিছু জানায়নি। মেধাবী মেয়েটি একপর্যায়ে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পড়াশোনা থমকে যায়। পরে দীর্ঘদিন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাউন্সেলিংয়ে থেকে সে স্বাভাবিক হয়েছে। মাধ্যমিক পাস করেছে। কিন্তু এখনো মাঝে মাঝে পুরোনো ট্রমা ফিরে আসে।   ওই মেয়ের মতো অসংখ্য শিশু এমন ঘটনার শিকার হয়ে বিভীষিকাময় সময় পার করছে। শিশুদের ক্রমবর্ধমান সাইবার হয়রানির বিষয়টি উঠে এসেছে সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত ন্যাশনাল চাইল্ড হেল্পলাইন ১০৯৮-এর তথ্যেও। এই তথ্য বলছে, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর হেল্পলাইনে শিশুদের সাইবার হয়রানি-সংক্রান্ত কল আসার পরিমাণ ৪২ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৫ সালে এই হেল্পলাইনে মোট ৭ লাখ ৬৯ হাজার ৮৬১টি কল গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে ৫৯৭টি ছিল শিশুদের সাইবার হয়রানি-সংক্রান্ত। এসব কলের মধ্যে ১৭৯টি ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে হেল্পলাইনে আসা ৫ লাখ ২৭ হাজার ৯৫৪টি কলের মধ্যে ৫৬৫টি ছিল সাইবার হয়রানি-সংক্রান্ত। এসব ঘটনায় ১৭০টি ক্ষেত্রে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।     চাইল্ড হেল্পলাইনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর সাইবার হয়রানি বিষয়ে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৫০টি কল এসেছিল। চলতি বছর প্রতি মাসে গড়ে ৭০টির বেশি কল এসেছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এগুলো শুধু হেল্পলাইনে আসা ঘটনার হিসাব। এর বাইরেও শিশুদের সাইবার হয়রানির অনেক বেশি ঘটনা ঘটছে, যা হেল্পলাইনে না জানানোয় সামনে আসেনি।   হেল্পলাইন ১০৯৮-এর ব্যবস্থাপক চৌধুরী মো. মোহায়মেন গত শনিবার আজকের পত্রিকাকে বলেন, পরিবারগুলো ভেঙে ছোট হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের বদলে শিশুরা অনলাইনে অপরিচিত মানুষের সংস্পর্শে আসছে। অথচ কে প্রকৃত পরিচয়ে যোগাযোগ করছে, আর কে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করছে, তা বোঝার ক্ষমতা তাদের সব সময় থাকে না। অপরাধীরা অনেক সময় শিশুর সমবয়সী পরিচয় দিয়ে বন্ধুত্ব গড়ে তোলে। পরে ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও কিংবা তথ্য সংগ্রহ করে সেগুলো দিয়ে ব্ল্যাকমেল করার চেষ্টা করতে পারে। তাই সন্তানের অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়ার পর কারা তার বন্ধু হচ্ছে, কী ধরনের বার্তা আসছে এবং কেউ ব্যক্তিগত তথ্য চাইছে কি না, তা নিয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকা জরুরি।   ফেসবুক, টিকটকসহ কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৩ বছরের কম বয়সে অ্যাকাউন্ট করা যায় না। কিন্তু অনেকে বয়স বাড়িয়ে অ্যাকাউন্ট খোলে। এসব অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ও সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর সূত্র ধরে শিশুদের ঘর ছাড়ার ঘটনা মাঝে মাঝেই গণমাধ্যমে আসছে। সম্প্রতি কুমিল্লার পঞ্চম শ্রেণিপড়ুয়া তিন শিশু তৃতীয় শ্রেণিপড়ুয়া এক শিশুকে নিয়ে ঘর ছেড়েছিল। পরে তাদের হবিগঞ্জ থেকে উদ্ধার করা হয়।   কুমিল্লারই সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীর মোবাইল ফোনে এক তরুণের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে কক্সবাজারে যাওয়া এবং বাড়ি ফেরার পথে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হওয়ার ঘটনা ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি করে।   বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশে সাইবার নিরাপত্তাব্যবস্থা ব্যবহার করা হয় না। ইন্টারনেট সেবাদাতা (আইএসপি) প্রতিষ্ঠানগুলো প্যারেন্টাল গাইডলাইন মেনে চলে না। ফলে শিশুরা কার্টুন দেখার সময় বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম স্ক্রল করার সময় প্রাপ্তবয়স্কদের কনটেন্ট চলে আসতে পারে। এমন অভিজ্ঞতার শিকার হচ্ছে অনেক শিশু। অনেকে সেগুলোতে আসক্ত হচ্ছে। অনেক সময় এগুলো তাদের বিপদ ডেকে আনছে।   ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাসে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ১০০টি পরিবারের ওপর সমীক্ষা চালায় বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন। ওই সমীক্ষায় দেখা যায়, দুই থেকে পাঁচ বছরের শিশুদের মধ্যে ৯৫ শতাংশ মোবাইল ফোনে আসক্ত। তার মধ্যে কার্টুন এবং ভিডিও গেম দেখে প্রায় ৯৫ শতাংশ। টিকটক দেখে প্রায় ৫০ শতাংশ শিশু।   ২০১৯ সালে ইউনিসেফ বাংলাদেশ ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী ১ হাজার ২৮১ শিশুর ওপর জরিপ করে। এই জরিপে অংশ নেওয়া ৩২ শতাংশ শিশু অনলাইনে সাইবার বুলিং, সহিংসতা বা হয়রানির শিকার হওয়ার কথা জানায়। ২৫ শতাংশ শিশু ১১ বছর বয়সের আগেই ডিজিটাল জগতে প্রবেশের কথা জানিয়েছিল। একই জরিপে ৭০ শতাংশ ছেলে ও ৪৪ শতাংশ মেয়ে অনলাইনে অপরিচিত ব্যক্তির বন্ধুত্বের অনুরোধ গ্রহণ করার কথা জানায়।   সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে সাইবার বুলিং, সহিংসতা ও হয়রানির শিকার শিশুর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়েছে। অনেক বাবা-মা সন্তানের জন্মদিন, স্কুলে যাওয়ার ছবি, পুরস্কার গ্রহণ, ঘুরতে যাওয়া কিংবা দৈনন্দিন জীবনের নানা ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। এই প্রবণতাও পরে শিশুটিকে বিপদে ফেলতে পারে। সেই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রসার শিশুর এই ঝুঁকি আরও বাড়াচ্ছে।   সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা গত শনিবার বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে থাকা সাধারণ পারিবারিক ছবিও এআই ব্যবহার করে যৌন নিপীড়নমূলক ছবি বা ভিডিওতে রূপান্তর করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইন্টারনেট ওয়াচ ফাউন্ডেশন (আইডব্লিউএফ) ২০২৫ সালে এমন ৩ হাজার ৪৪০টি ভিডিও শনাক্ত করেছে। যেখানে ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ১৩টি। তিনি বলেন, অভিভাবকদের প্রথমে বুঝতে হবে, শিশু কোনো কনটেন্ট নয়। অপ্রয়োজনে শিশুর নামে প্রকাশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট খোলা উচিত নয়।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের সাইবার হয়রানি থেকে রক্ষা করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট ব্যক্তিগত রাখা, অনুসারীদের তালিকা নিয়মিত যাচাই করা, শক্তিশালী ও আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার এবং দ্বিস্তরীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু রাখা জরুরি। শিশুদেরও অনলাইনে অপরিচিত ব্যক্তির পাঠানো সংযোগ বা লিংকে প্রবেশ, উপহার দেওয়ার প্রলোভন, ভিডিও কলে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব, গোপনে কথোপকথন চালানোর অনুরোধ কিংবা ব্যক্তিগত ছবি চাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করতে হবে। কোনো অনলাইন যোগাযোগে অস্বস্তি বোধ করলে বা কেউ ভয় দেখালে যেন তারা নির্ভয়ে অভিভাবককে জানাতে পারে, সেই পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।   শিশু সুরক্ষায় কাজ করা সংগঠন ‘শিশুরাই সব’-এর আহ্বায়ক লায়লা খন্দকার বলেন, সন্তানের মোবাইল ফোন নিয়মিত পরীক্ষা করা কিংবা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ইন্টারনেট বন্ধ রেখে অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় না। শিশুকে অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্যের গুরুত্ব, অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের ঝুঁকি এবং হয়রানির শিকার হলে করণীয় সম্পর্কে শেখানোও জরুরি। অনলাইনে কোনো ছবি বা তথ্যের অপব্যবহার হলে তাড়াহুড়ো করে সব মুছে না ফেলে প্রথমে সংশ্লিষ্ট লিংক, ব্যবহারকারীর নাম, বার্তা, স্ক্রিনশট, ঘটনার সময় এবং মূল ফাইল সংরক্ষণ করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কর্তৃপক্ষ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে জানানো উচিত। অভিভাবকদের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোরও এ বিষয়ে সচেতন হওয়া উচিত।   ডিজিটালি রাইট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিরাজ আহমেদ চৌধুরী বলেন, শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাকাউন্ট খোলা নিষিদ্ধ করা কোনো সমাধান নয়। এ জন্য নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজন ব্যাপক জনসচেতনতা। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সচেতনতা ও তদারকির পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত অপরাধ তদন্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে স্কুলপর্যায় থেকে অনলাইন নিরাপত্তাবিষয়ক শিক্ষা পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে। শিশুদের অনলাইন সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পরিবার, সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মোবাইল হারিয়ে গেলে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ফিরে পাবেন যেভাবে

সংগৃহীত ছবি

নতুন ডিজাইনে নতুন তিন সংস্করণের কিন্ডল আনল অ্যামাজন

সবচেয়ে শক্তিশালী এআই মডেল কি জেমিনাই ৪ আর্গন?

শিশুদের আসক্ত করার অভিযোগে মামলা: ১০০ মিলিয়ন ডলারে সমঝোতা করলো টিকটক

শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্ত করে তুলতে টিকটককে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, এমন অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যের করা মামলা নিষ্পত্তিতে অন্তত ১০০ মিলিয়ন ডলার দিতে রাজি হয়েছে টিকটক। আগামী সপ্তাহেই মামলাটির বিচার শুরু হওয়ার কথা ছিল।   রয়টার্স জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি নিয়ে কোনো অঙ্গরাজ্যের করা মামলায় টিকটকের এটি প্রথম সমঝোতা। গত বছর টিকটক ও এর মালিক প্রতিষ্ঠান চীনা কোম্পানি বাইটড্যান্সের বিরুদ্ধে মামলা করে আলাবামা। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি নিয়ে টিকটকের বিরুদ্ধে এটিই একমাত্র মামলা নয়। ২০২৪ সালে আরও এক ডজনের বেশি অঙ্গরাজ্য টিকটকের বিরুদ্ধে মামলা করে। এসব মামলায় অভিযোগ করা হয়, কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্ত করে তুলতে ইচ্ছাকৃতভাবে অ্যাপটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে।   অর্থ দেওয়ার পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার জন্য বেশ কিছু পরিবর্তন আনতেও রাজি হয়েছে টিকটক। এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের মামলায় ওঠা উদ্বেগের সমাধান করা। টিকটকের নেওয়া নিরাপত্তাব্যবস্থাগুলো অনেকটা মেটার সঙ্গে ৪৭টি অঙ্গরাজ্যের করা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তির অভিযোগের মামলার সমঝোতার মতো। মেটা ওই মামলাগুলো নিষ্পত্তিতে ১৮ বিলিয়ন ডলারে সমঝোতা করেছিল।   নতুন ব্যবস্থার আওতায় অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের জন্য প্রতিদিন টিকটক ব্যবহারের সময়সীমা দুই ঘণ্টা নির্ধারণ করা হবে। অভিভাবকদের জন্য অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের সুবিধাও দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে তারা এই সময়সীমা আরও কমিয়ে দিতে পারবেন।   এ ছাড়া টিকটকে সীমাহীন স্ক্রলিং এবং রাতের বেলায় অ্যাপ ব্যবহারের ওপরও বিধিনিষেধ দেওয়া হবে। তরুণ ব্যবহারকারীদের জন্য সৌন্দর্যবর্ধক ফিল্টার নিষিদ্ধ করা হবে। পাশাপাশি তাদের জন্য ব্যক্তিগত পছন্দের ওপর ভিত্তি করে তৈরি নয়, এমন কনটেন্ট ফিডের সুবিধাও দেওয়া হবে। টিকটক এসব পরিবর্তন বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে সর্বোচ্চ ৩০০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত অর্থ দিতে হতে পারে।   এর আগে আগস্টে শিশুদের গোপনীয়তা আইন ভঙ্গের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের করা মামলা নিষ্পত্তিতেও টিকটক ৪০০ মিলিয়ন ডলার দিতে রাজি হয়। ওই সময় বিচার বিভাগ স্বীকার করেছিল, মামলা করার পর থেকে টিকটকের নীতিমালা ও মালিকানায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   এর আগে জানুয়ারিতে টিকটক যুক্তরাষ্ট্রে একটি নতুন প্রতিষ্ঠানও গঠন করেছিল। এর মাধ্যমে অ্যাপটির নিয়ন্ত্রণ চীনের বাইরে থাকা বিনিয়োগকারীদের হাতে দেওয়া হয়।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬

প্রাইভেসি সংক্রান্ত বিতর্কের মুখে ক্যামেরাবিহীন এআই চশমা আনছে মেটা

সংগৃহীত ছবি

হোয়াটসঅ্যাপে থার্ড-পার্টি এআই এজেন্ট চালুর উদ্যোগ মেটার

সংগৃহীত ছবি

কাজের জন্য সেরা ৫টি হেডফোনের সুবিধা-অসুবিধা

বিরল রোগের ওষুধ আবিষ্কারে এআই, নতুন গবেষণাগার চালু করলো অ্যানথ্রপিক

  কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ওষুধ গবেষণার পরিধি বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়ায় নিজস্ব ‘ওয়েট ল্যাব’ বা জীববিজ্ঞান গবেষণাগার স্থাপন করেছে অ্যানথ্রপিক। গত ১৫ সেপ্টেম্বর ল্যাবটির অস্তিত্ব নিশ্চিত করেন প্রতিষ্ঠানটির লাইফ সায়েন্সেস বিভাগের প্রধান এরিক কডারার-আব্রামস। এত দিন কম্পিউটারভিত্তিক গবেষণায় বেশি গুরুত্ব দেওয়া অ্যানথ্রপিক এখন নিজস্ব স্থাপনায় বাস্তব জীববৈজ্ঞানিক পরীক্ষাও চালাচ্ছে। তবে ল্যাবটির কার্যক্রম নির্দিষ্টভাবে ষুধ আবিষ্কারে সীমাবদ্ধ নয় বলে জানা যায়। একই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী বাইরের অংশীদারদের দিয়েও পরীক্ষা করানো হবে।   চলতি বছর জুনে সান ফ্রান্সিসকোর এক অনুষ্ঠানে অ্যানথ্রপিক প্রথমবারের মতো ওষুধ গবেষণা কার্যক্রমের পরিকল্পনা জানায়। প্রতিষ্ঠানটি এমন রোগ নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ের গবেষণায় মনোযোগ দিচ্ছে, যেগুলো প্রচলিত ওষুধ কোম্পানিগুলোর জন্য তুলনামূলকভাবে কম লাভজনক হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত গবেষণার আওতায় আসেনি। বিশেষ করে বিরল এবং প্রচলিত পদ্ধতিতে চিকিৎসার ওষুধ তৈরি করা কঠিন, এমন রোগের ক্ষেত্রে এআই ব্যবহার করে গবেষণার সময় কমানো এবং সম্ভাব্য ওষুধ শনাক্ত করার প্রক্রিয়া দ্রুত করাই এর অন্যতম লক্ষ্য। আর এ লক্ষ্যকে সামনে রেখেই জীবনবিজ্ঞান গবেষণায় বিনিয়োগ ও জনবল বাড়াচ্ছে অ্যানথ্রপিক।   গবেষণাগারের পরীক্ষাগুলোও এআই-এর সমন্বয়ে স্বয়ংক্রিয় করার সক্ষমতা যাচাই করছে অ্যানথ্রপিক। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব এআই ক্লডকে রোবোটিক যন্ত্রপাতির সঙ্গে যুক্ত করার মাধ্যমে মানব হস্তক্ষেপ কমিয়ে এনে বিভিন্ন পরীক্ষা পরিচালনা করা সম্ভব কি না, তা পরীক্ষা করছে। তবে পরীক্ষার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো প্রক্রিয়ায় মানব তদারকি রাখা হচ্ছে। এ ছাড়া গত আগস্ট মাসে ‘মডেল হার্ডওয়্যার স্ট্যান্ডার্ড’ চালু করে গবেষণাগারে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতির সঙ্গে এআই মডেলের কাজ করার জন্য একটি সাধারণ প্রযুক্তিগত কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেয় অ্যানথ্রপিক। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ল্যাবরেটরি সরঞ্জামের সঙ্গে এআই মডেলের সমন্বয় সহজ করার লক্ষ্য রয়েছে।   জীববিজ্ঞান গবেষণায় ক্লড এআই-এর ব্যবহার বাড়াতে ৬০টির বেশি বৈজ্ঞানিক ডেটাবেসের সঙ্গে যুক্ত ‘ক্লড সাইন্স’ প্ল্যাটফর্মও চালু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। প্ল্যাটফর্মটিতে জিনোমিকস, প্রোটিওমিকস ও স্ট্রাকচারাল বায়োলজিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও সরঞ্জাম ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে। এর পাশাপাশি প্রায় ৪০ কোটি ডলারের শেয়ারের বিনিময়ে ক-ইফিশিয়েন্ট বায়ো অধিগ্রহণ করেছে অ্যানথ্রপিক। এছাড়াও বিভিন্ন বড় ফার্মাসিউটিক্যাল ও বায়োটেক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। এসব অংশীদারত্বের মাধ্যমে গবেষণা, ওষুধ উন্নয়ন এবং সম্ভাব্য ওষুধ শনাক্তকরণে ক্লডের সক্ষমতা কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ব্রিস্টল মায়ার্স স্কুইব ও রোশের জেনেনটেকের কর্মীরাও গবেষণা ও ওষুধ উন্নয়নের কাজে ক্লড ব্যবহার করতে পারছেন। এর ধারাবাহিকতায় গত ১৬ সেপ্টেম্বর ডেনমার্কভিত্তিক ওষুধ কোম্পানি নোভো নরডিস্কের সঙ্গে অংশীদারত্বের ঘোষণা দেয় অ্যানথ্রপিক।    তবে আপাতত নিজস্বভাবে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিচালনার পরিকল্পনা নেই অ্যানথ্রপিকের। ওষুধ বাজারজাত করার চূড়ান্ত ধাপ পর্যন্ত যাওয়ার পরিবর্তে ফার্মাসিউটিক্যাল ও বায়োটেক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করে প্রাথমিক ও প্রি-ক্লিনিক্যাল গবেষণায় এআই ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করাই তাদের বর্তমান লক্ষ্য।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ল্যাপটপের ব্যাটারি দীর্ঘস্থায়ী করার কিছু গুরুত্বপূর্ণ টেকনিক ও টিপস

পৃথিবী-চাঁদ কক্ষপথে সংঘাতের ঝুঁকি, কৌশলগত পথের ওপর নজর গবেষকদের

একাধিক ভাষা ও বক্তার কথাকে লাইভ টেক্সটে রূপান্তর করবে মেটার নতুন এআই

0 Comments